ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আজ, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কাঠামোয় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এর তিন দিন আগে, ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তৎকালীন চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়।
৭ নভেম্বর সৈনিকদের বিদ্রোহ ও সাধারণ জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা-
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সূচনালগ্নে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে জেড ফোর্সের অধিনায়কত্ব করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। সামরিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা তার পরবর্তী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ছিল অত্যন্ত কঠিন। প্রশাসনিক পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যাভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য নবীন রাষ্ট্রকে চাপে ফেলে। একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দেখা দেয় গভীর অনিশ্চয়তা।
৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একাংশের বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হন। সৈনিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ঘটনাটি রাজনৈতিক তাৎপর্য লাভ করে।
জাতীয়তাবাদ ও ঐক্যের নতুন দর্শন-
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটি বৃহত্তর জাতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তার প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণায় দেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের পরিচয়, অধিকার ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যকে ধারণ করে রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, সম্প্রদায় ও অঞ্চলের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনকে সাংগঠনিক রূপ দেন। দলটির ঘোষিত আদর্শে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও ধারার মানুষকে একটি রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগও ছিল তার দল গঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার শাসনামলে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ পর্যায়ক্রমে শিথিল করা হয়। বিভিন্ন দল নিজস্ব পরিচয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ উন্নয়নে কর্মসূচি-
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল গ্রামবাংলা। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের কর্মসংস্থান এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি তার উন্নয়ন উদ্যোগের একটি পরিচিত অধ্যায়। সেচের পানি সংরক্ষণ, কৃষিজমিতে পানির প্রবাহ বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মাছ চাষের সুযোগ সম্প্রসারণ ছিল এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য। কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি কৃষির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগকে উৎসাহিত করেন। গ্রাম সরকার, গ্রাম প্রতিরক্ষা দল এবং গণশিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা চলে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল গ্রামের মানুষকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি খাতের সম্প্রসারণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন আলোচনায় স্থান পায়।
অর্থনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
স্বাধীনতার পর দেশের অর্থনীতি ছিল যুদ্ধের ক্ষতি, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, খাদ্যসংকট ও সীমিত বিনিয়োগের চাপে। শিল্প উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা ছিল রাষ্ট্রের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বেসরকারি উদ্যোগের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় করার মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
কৃষির পাশাপাশি শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের ফলে পরবর্তী সময়ে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশের জন্য একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং বৈদেশিক সহায়তা কাজে লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বিস্তারের ক্ষেত্রেও তার শাসনামলে সুযোগ তৈরি হয়। গ্রামীণ উন্নয়ন, ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মসূচিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত হয়। অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে আঞ্চলিক সহযোগিতা
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও সহযোগিতা ছাড়া এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা কঠিন। এই চিন্তা থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি। ১৯৮০ সালের মে মাসে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ, আলোচনা ও ধারাবাহিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে প্রথম শীর্ষ সম্মেলন ছিল আঞ্চলিক সহযোগিতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। যদিও সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক বিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস সংস্থাটির কার্যক্রমকে বিভিন্ন সময়ে বাধাগ্রস্ত করেছে, তবু আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণাটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে। সার্ক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জিয়াউর রহমানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
গণতন্ত্রের পথে প্রত্যাবর্তন ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস
সামরিক পটভূমি থেকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও একদলীয় শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যখন নতুন রাজনৈতিক কাঠামো খুঁজছিল, তখন তার শাসনামলে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের পরিসর সম্প্রসারিত হয়।
১৯৭৮ সালের জুনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি ২০৭টি আসন লাভ করে । নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আবারও সক্রিয় হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পায়।
জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য-
জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুদৃঢ় করা। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতিসংঘ, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিসরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা ছিল তার পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার যে ধারণা তিনি সামনে এনেছিলেন, তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিচিতি ও আঞ্চলিক ভূমিকা বিস্তারে নতুন মাত্রা যোগ করে।
অকালপ্রয়াণ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার-
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টার সময় জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তার জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের একজন সামরিক অধিনায়ক থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার ঘটনাপ্রবাহ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ী আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
তার মৃত্যুর পরও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, ১৯ দফা কর্মসূচি, গ্রামীণ উন্নয়ন, বেসরকারি উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রাখে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দলটির রাজনীতিতেও তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তাই একাধিক মাত্রায় মূল্যায়নের দাবি রাখে। মুক্তিযুদ্ধে তার অংশগ্রহণ, রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃষি ও অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া, বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর বিকাশ এবং সার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে তিনি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত।
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মূল তাৎপর্যও এখানেই—জাতীয় ঐক্য, মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন করে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করা। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হতে পারে ৭ নভেম্বরের ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা।
অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ আজ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্সেস-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ ১৯৯৮ সালে বিসিএস ১৭তম ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী থেকে এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ চাকুরি জীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফারুক আহমেদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রি লাভ করেন। সূত্র: বাসস
পূর্ববর্তী প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনর্থক চর্চা করাকে সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সরকারের বিগত দিনের আলোচনায় যেতে চাই না, এটি ওয়েস্ট অব টাইম।’ রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রের সার্বিক উত্তরণে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক রূপ দেওয়া সম্ভব না হলে রাজনীতিতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায্যতা অনুপস্থিত থাকলে রাজনীতিতে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা প্রকারান্তরে দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকেও শ্লথ করে দেয়। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নির্ভুল তথ্যপ্রবাহ না থাকলে কোনো খাতেই স্বচ্ছতা আনা যায় না। এ কারণেই সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রের বাস্তব তথ্য নিয়ে যেকোনো সরকারের জালিয়াতি মূলত নিজের সঙ্গেই নিজে প্রতারণা করার শামিল।
আলোচনা সভায় পরিসংখ্যানের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার ওপর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ধরনের তথ্য বিকৃত করতে চায় না। পরিসংখ্যান তৈরিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মানুষ যেন নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।’
একই অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিগত সময়ের কাঠামোগত দুর্বলতার দিকটি চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন, আর যোগ্য ব্যক্তিরা ছিলেন সুবিধার বাইরে। এতে বাংলাদেশের সীমিত সম্পদের বড় একটি অংশ অপচয় হয়েছে।’ এছাড়া দেশের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বলেও তিনি অবহিত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার পরিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, বরং রাষ্ট্রীয় আইনের কঠোর বাস্তবায়নই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বের সমাপ্তিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের এ দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবাসনে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা বিরোধে জড়ানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান যে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় উদ্যোগ বিধিবদ্ধ ও যথাযথ প্রক্রিয়ার (ডিউ প্রসেস) মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ আইনি নীতিমালার আলোকে। সেখানে যেকোনো কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনকে সমুন্নত ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করাই মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি অবহিত করেন।
ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি একান্তই সে দেশের নিজস্ব বিচারিক এখতিয়ার। তবে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তির শর্তাবলি মেনে ইতিমধ্যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে হস্তান্তর করামাত্রই বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে আদালতের মুখোমুখি করা হবে।
ভারত শেখ হাসিনাকে বন্দি বিবেচনা না করে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে গণ্য করছে—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ভারত কী বলছে, তারা বললেই তো আর বাস্তবতা বদলে যাবে না! আমার রাষ্ট্রে উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার হয়েছে। আমাদের কাছে তিনি একজন অপরাধী—দেশের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী, এটাই হলো আমাদের কাছে তার চূড়ান্ত পরিচয়।’
দেশে গত অক্টোবর মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। এক মাসে মাছের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জ্বালানি তেল, চিনি ও ভোজ্য তেলের দামও বেড়েছে। তবে সাত ধরনের পণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং দুটি পণ্যের দাম কমেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) কনজুমারস ফোরাম (সিএফ) প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পরিস্থিতি–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির সরেজমিনে সংগ্রহ করা বাজারদরের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
পণ্যভেদে দামের হিসাবে দেখা যায়, অক্টোবরে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরাসহ বিভিন্ন মসলার দাম গড়ে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনির ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্য তেল ও ডালডার ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, আটার দাম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চালের দাম ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডিমের দাম ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, মাংসের দাম শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং চায়ের দাম শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবরে সাত ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ ও টুথপেস্ট, চানাচুর ও বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং খাতা-কলম। এ সময়ে শাকসবজির দাম গড়ে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালীন শাকসবজি বাজারে আসতে শুরু করায় সবজির দাম কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকার বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও রংপুরে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা এবং লাউ ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে কলার হালি পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকায়। তবে একই পণ্য ঢাকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে। রাজধানীতে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ও মূলা ৩০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। সবজির দাম কমলেও এতে উৎপাদকেরা লাভবান হতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাজারে কম দামে সবজি বিক্রি করতে গিয়ে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তাঁরা। ফলে একদিকে ভোক্তারা ঢাকার বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সবজি কিনছেন, অন্যদিকে উৎপাদকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।
সিএফের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছিল। অক্টোবরে বেড়েছে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সংগঠনটি দুই মাসে মোট দাম বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। পণ্যমূল্য এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন ব্যয়ও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা জরুরি। বাজারে অতিমুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএফ। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে গ্রামপর্যায়ে কৃষিপণ্যের উৎপাদনমূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে ব্যবধান কমাতে বাজার তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সিএফ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপারশপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি যশোর, বগুড়া ও রংপুরের বাজার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির গ্রাসে দেশের বিপুলসংখ্যক সমবায় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ খাতের সার্বিক কার্যক্রমে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নিরসন এবং নড়বড়ে অর্থনীতির গতি ফেরাতে সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বিষয়ে বক্তব্য দেন।
গ্রামীণ জনপদের অর্থনৈতিক ভিত মজবুতকরণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমবায়ের তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমবায় শুধু পণ্য উৎপাদন কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায়কে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধের অভিঘাতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে বহুমুখী প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
সমবায় ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে অনেক সমিতি তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সমবায় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’ পরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ নভেম্বর সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বাসস
আর্থিক অনিয়মের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি দেশের বিচার বিভাগকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিচারিক শুদ্ধাচার কর্মশালায় (জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপ) অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মশালায় বক্তব্য প্রদানকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফসল হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগে অর্থনৈতিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি।’ এ সময় বিচারকদের নৈতিক মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘জজের নামের সঙ্গে সৎ জজ কথাটি অতিরঞ্জন। জজের কাজটাই সততা রক্ষা করা।’ একইসঙ্গে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখা ও স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অবলম্বন করবে।
অতীতের সংকটময় মুহূর্তে বিচারালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হলেন, বিচার বিভাগ তার পাশে দাঁড়ায়নি।’ এছাড়া ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করা দরকার, তা করা হয়েছে।’ এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে আগামী ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার হওয়া জরুরি, তেমনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে প্রাণ হারানো শহীদ জাফর, জয়নাল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রউফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডা. মিলনসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ এক হাজার চার শতাধিক মানুষের আত্মত্যাগ এবং প্রায় তিন শতাধিক মানুষের পঙ্গুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার সংস্কৃতি তৈরির আহ্বান জানান।
বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যকার বিভক্তি ও জুলাইয়ের হতাহতের ঘটনায় একটি অংশের নীরবতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যখন বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার পর্যালোচনা করে, তখন কেবল আর্থিক দিকটিই প্রাধান্য পায়। কিন্তু সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতির বড় সংকটটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, যা মূলত দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা সুসংহত রাখা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার বিজিবির জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইলে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। একই সঙ্গে গাজীপুরের প্রধান শিল্প বলয় চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনাসহ বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির অংশ হিসেবে বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল থেকে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ও সরাসরি ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি।
বিজিবি জানিয়েছে, সর্বসাধারণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুকূল কর্মপরিবেশ রক্ষা এবং মহাসড়কসহ স্থানীয় জনপদে যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। ২০১৫ সালে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির ধারায় বাংলাদেশেও বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।
বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছে ঋণ বেশি: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের উৎসকে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয়—এই দুই ভাগে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বিদেশি অর্থায়নের সবচেয়ে বড় উৎস বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলো।
বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) এসব সংস্থার কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২ হাজার ২৬৩ কোটি এবং এডিবির কাছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।
ঋণের স্থিতি হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মোট অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ। অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া ঋণ থেকে যতটুকু পরিশোধ করা হয়েছে, তা বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ বকেয়া থাকে, সেটিই ঋণের স্থিতি।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো দেশ এক বছরে ১০০ কোটি ডলার এবং পরের বছর আরও ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিল। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করলে দ্বিতীয় বছরের শেষে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ১২০ কোটি ডলার।
ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায় ইতিবাচক চিত্র: বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এ অনুপাত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ঋণ পরিশোধের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
অর্থাৎ রপ্তানি আয় থেকে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে মোট রপ্তানি আয়ের ১৬ শতাংশ। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৪ বছরে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে চার গুণের বেশি: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছিল ১১০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
সর্বশেষ বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণের বেশি।
সামনে বাড়তে পারে ঋণ পরিশোধের চাপ: আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, বড় কয়েকটি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হচ্ছে বা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিগগির শুরু হওয়ার কথা। এসব ঋণের অর্থ জাপানকে পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
টানা ৫ দিনের দীর্ঘ শ্রমিক আন্দোলন ও উত্তেজনার পর সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বন্ধের দিনও বেশ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সাভার হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মৌর এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর,বাইপাইল, জিরাবো, পুকুরপাড় এলাকায় শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে কারখানায় যোগ দেন। এ সময় সিকিউরিটি গার্ড তাদের আইডি কার্ড চেক করে। পাশাপাশি পুলিশও শ্রমিদের নজরদারিতে ছিল। কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে বিভিন্ন কারখানার এইচআর ডিপার্টমেন্ট সূত্র জানা যায়, ৮০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগদান করেছেন। তারা বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় এ উপস্থিত। শনিবার (৬ নভেম্বর) থেকে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়। উপস্থিতিও প্রায় শতভাগ। সকালে ঢাকা-আরিচা ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশ কিছু পোশাক কারখানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল–আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিগত কয়কদিন যা ঘটেছে তা শ্রমিক আন্দোলন নয় বরং ফ্যাসিস্টরা তাদের ব্যর্থ শক্তি প্রদর্শন করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অতীতেও তারা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এবং পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর শিল্পাঞ্চল এখন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় নিরব পরিবেশ বিরাজ করছে আশুলিয়া ও সাভারে।
একজন গার্মেন্টস মালিক জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছিল। পতিত সরকারের দোসরা আত্মগোপনে থেকে এ সব ষড়যন্ত্র করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা তত্ত্বে উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসেই নতুন বেতন পাবেন শ্রমিকরা। মজুরি কমিশন বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার থেকেই অনেক গামের্ন্টসের উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ধাওয়া পালটা ধাওয়া ফলে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল থমথমে।
গত ৫ দিনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় ৭টি মামলায় কয়েক হাজার দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তাররা কেউ শ্রমিক নন বলে জানান সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন শিল্পী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় মজুরি কমিশন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির টাকা পাবেন।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে প্রায় চার দিন পর পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটিতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।
পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ায় মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আগের মতো জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় সহযোগিতার জন্য গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
এর আগে সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্যাস রূপান্তরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি।
ওই সময় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
রক্ষণাবেক্ষণ শুরুর আগে চার দিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটিকে গুজব আখ্যা দেয় পেট্রোবাংলা।
সংস্থাটি জানিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।
সামিটের টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
গণহত্যাকারী ও সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারীদের বিচার এই মাটিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আপনি বাংলাদেশে আসবেন বলছেন, আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, এখনই আসুন। প্রয়োজনে আমরাই টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন।’
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে যখনই বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে তখনি জিয়া পরিবারের আবির্ভাব হয়েছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিভাজনের রাজনীতি করে দেশটাকেও বিভাজনে পরিণত করেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় রাজনীতি দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আর এখন আবার ওই জিয়া পরিবারের কারণেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপির জন্য আজ আমরা গর্বিত। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সব সময় অরাজকতা করে যাচ্ছে।’ শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে গণহত্যা চালিয়ে লাখ-কোটি টাকা লুটপাট করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
শিশু হত্যা, নারী হত্যা ও গণহত্যার বিচার এই মাটিতেই হবে। আপনারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দেন, বাস্তবে কিছুই হবে না। পালিয়েছেন, এবার হাইটা হাইটা হ্যান্ডকাফ পইরা আসতে হবে এবং বিচারের আওতায় আসতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৭ বছর আপনারা যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, মানুষ তা ভুলে যায়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে এবং এই স্বাধীনতা লুণ্ঠিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা দেশের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না।’
জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আজ তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি উন্নয়ন শুরু করেছেন। সেই উন্নয়নের ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আপনাদের আশপাশে যারাই এই উন্নয়নে বাধা দেবে বা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। লুটপাটের রাজনীতি যারা করেছে, তাদের আর আসতে দেওয়া হবে না।’
নান্দাইলের নিজস্ব আসনের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নান্দাইলের উন্নয়নে হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে এখানে ১৮৬টি রাস্তার ইটের সলিং করা হয়েছে এবং আরো ১০৪টি রাস্তা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া আরো সাড়ে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে রাস্তা পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গৃহহীনদের জন্য ৩৬টি ঘর করে দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরো ১০৪টি ঘর করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পারুখি ব্রিজসহ আরো অনেক ব্রিজের অনুদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার বাবা যেভাবে সংসদ সদস্য হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করেছিলেন, আমিও আপনাদের কর্মী হয়ে সেভাবেই কাজ করতে চাই।’
নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, নজরুল ইসলাম ফকির, রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, এডভোকেট আবদুস সালাম এবং আবুল খায়ের বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
চব্বিশের আন্দোলনকে কেউ যদি শুধু নিজেদের একক অর্জন বা দাবি বলে মনে করেন, তবে তার সুফল বা জুলাইয়ের চেতনা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, নতুন রাজনীতিতে আসা নবীনরা যদি বারবার 'চব্বিশ আমাদের' বলে এর মালিকানা দাবি করতে থাকেন, তবে পরিশেষে এটি কারও জন্যই টিকবে না এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতারা 'জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি' গঠন করে ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান।