ভোলার চরফ্যাশনে ভূমিহীন নারী বকুল বেগম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক। অপরাধীদের হাতে বকুলের পরিবারের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বিবৃতিদাতারা বলেন, হত্যার ঘটনায় বকুলের স্বামী আলম বাচ্চু মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের নাম বলতেও নিষেধ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবারের এ বিবৃতিতে বলা হয়, ভোলার চর মুজিবনগরের ভূমিহীনদের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন ক্রমাগত বাড়ছে। অপরাধীচক্র এক শ্রেণির পুলিশের সহায়তায় এই অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে গত ৩০ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ১৪/১৫ জন সন্ত্রাসী ভূমিহীন নেতা আলম বাচ্চুর বাড়িতে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী বকুলকে কুপিয়ে হত্যা করে। বকুল মারা যাওয়ার আগে হত্যাকারীদের নাম বলে যান।
এ ঘটনায় বকুলের স্বামী আলম বাচ্চু মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলে। পরে ভোলার তজিমুদ্দিন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহর উপস্থিতিতে এলাকার অলিল চৌকিদারকে বাদী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলম বাচ্চু বাদী হয়ে ভোলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (পিটিশন কেস) করেছেন। যার নম্বর ৭৩৭/২০২২। আদালত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দুলার হাট থানাকে সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে সোপর্দ করার আদেশ দেন।
বিবৃতিদাতারা অভিযোগ করেন, হত্যা মামলা হলেও অভিযুক্তরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। গত ১৪ ডিসেম্বর র্যাব মামলার অন্যতম আসামি আসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে যারা ভূমিহীন নেতা আলম বাচ্চুর সঙ্গে ভূমিহীন আন্দোলনে যুক্ত তাদের পুলিশ গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ২২ ডিসেম্বর আলম বাচ্চুর সঙ্গে ভূমিহীনদের আন্দোলনের সহযোগী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. আব্দুল মালেক ও চরের ভূমিহীন কর্মী মান্নানকে পুলিশ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন বা এলাকার কাউকে দেখা করতে দেয়া হয়নি।
আব্দুল মালেকের ছেলে মো. সোহাগ অভিযোগ করেছেন, তার বাবাকে হত্যা মামলার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে দেখাতে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য পুলিশ অকথ্য নির্যাতন করছে। সেই সঙ্গে যারা আলম বাচ্চুর স্ত্রী বকুল বেগমের হত্যার বিচার দাবি করছেন তারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন। গত ২৪ ডিসেম্বর ভোলা এস পি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মালেক চরের জমি দখলের জন্য বকুল বেগমকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছেন এবং তারা এর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মারা যাওয়ার আগে বকুল বেগম বারবার খুনিদের নাম উল্লেখ করলেও অভিযুক্ত আসলাম পেয়াদা, বশির ও শাহজাহান সরদারের ছেলেদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না।
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে তজিমুদ্দিন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লাহ এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে প্রত্যাহার ও বকুলের স্বজনদের হয়রানি বন্ধে এসপি সাইফুল ইসলামের অপসারণ দাবি করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন-
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট তবারক হোসেইন, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টর সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. নূর খান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ড. স্বপন আদনান, আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলম, লেখক রেহনুমা আহমেদ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, সমাজকর্মী শিরীন হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, গবেষক ও অধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট হানা শামস আহমেদ, সামাজিক সংগঠন ‘সাংগাত’র কোর মেম্বার মুক্তাশ্রী চাকমা, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, বাংলাদেশ কৃষাণী সভার সভাপতি ড. শামসুন্নাহার খান ডলি, বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতির সভাপতি অমলিক কিসকু, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভীন হাসান।
পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশের দাবিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
৯ম পে-স্কেল ও ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।
৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান।
সমাবেশে উপস্থিত জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরেও সরকার কর্মচারীদের দাবি আমলে নিচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর তারিখে লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি।
২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট প্রদানের পর অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের নামে কালক্ষেপণ করছেন। এছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টা তার এক মন্তব্যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।’
বক্তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘কর্মচারীরা বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই অবিলম্বে বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে ১৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।
একইসাথে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ব্লক পোস্টে কর্মরতদের ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, কারিগরি কাজে নিয়োজিতদের টেকনিক্যাল মর্যাদা দান, চাকরির শেষ ধাপে উন্নীতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকুরীকাল গণনার বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল, রেশন পদ্ধতি চালু এবং সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তরে এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন।’
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ জোটভুক্ত ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, শুধুমাত্র আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে তদন্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে বলেছেন। পিআরবির বিধি ২৮৩ অনুযায়ী মামলার আসামিকে আদালত চলাকালীন সময়ে উপস্থাপন করা এবং আসামিকে শনাক্ত করার জন্য টিআই প্যারেডের আয়োজন করারও নির্দেশনা দেন।
শনিবার চট্টগ্রামে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে এসব নির্দেশনা দেন। সিএমএম আদালতের সম্মেলন কক্ষে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মো. সোয়েব খান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক, মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, ডিসি (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরীসহ ১৬ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলা হতে অব্যাহতির লক্ষ্যে সংশোধিত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩-বি ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্রোকি পরোয়ানামূলে জব্দকৃত মালামাল রাখার পর্যাপ্ত স্থান নেই মর্মে জানান।
‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ’র খসড়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের, যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের অধিক সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ শীর্ষক যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তার প্রতি গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতের অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিনদিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মনে করে টিআইবি। একই সঙ্গে, শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থি অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেকক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল।
তিনি বলেন, মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।
বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছে, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি উল্লেখ করে ড. জামান পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের অপরিনামদর্শী উদ্যোগের পরিবর্তে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব করছেন।
উল্লিখিত খসড়া দুটিকে তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের শিকার ও ভুক্তভোগী হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় জোড়ালো অঙ্গীকার করছেন, তাদের প্রতি টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা, নতুন সংসদ গঠনের পর অনতিবিলম্বে এক্ষেত্রে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অঙ্গীকার ও জনপ্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবেন এবং একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করবেন। যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, জেতার জন্য দুই নম্বরি কোনো পদ্ধতি নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
শনিবার সকালে ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, যা পক্ষপাতমূলক। ভবিষ্যতেও এমন কিছু করা হবে না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং নিরপেক্ষতা হারান, তবে তার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ‘ভয়ানক কঠিন’ হবে।’
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের বা গণতান্ত্রিক ধারা সুসংগঠিত করার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের অবস্থান, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জড়িত। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা সবকিছুর সঙ্গেই এই নির্বাচন সম্পৃক্ত। তাই এটি কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়, সবাইকে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভয়ভীতি, ত্রাস কিংবা মব ইত্যাদি কিছুই যেন আমাদের কাজ থেকে দূরে রাখতে না পারে।’
এসময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গুমকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘গুম আসলে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করতে পারেন এবং দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হলে পরিবার জানতেই পারে না সে কোথায় আছে।’
শনিবার ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মঈনুল আরো বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করে। আশা ও হতাশার মাঝামাঝি এক স্থগিত অবস্থায় তারা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক সঙ্কট ও একঘরে হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
বিলিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাজ্জাদ হোসেন ও নূর খান লিটন; অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা; বিলিয়ার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ একরামুল হক এবং বিলিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান।
দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (৬৬০ মেগাওয়াট) আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক (তদন্ত) শাহ মনি জিকো গতকাল শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রথম ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দুইজন মার্কিন সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত করতে মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।
গত মঙ্গলবার লিখিত এ চিঠিতে তারা বলেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবার ভোট হতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না-বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নাজুক অবস্থা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সদস্যরা। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপট লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তারা উল্লেখ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে তা সহায়ক হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং দেয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
শনিবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে নাশকতামূলক কার্যক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে রেলের যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নাশকতা, কিংবা রেল যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনে দায়িত্বরত কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে কল করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শনিবার স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসবভাতা ও বেতন সংক্রান্ত এক জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর তথ্যের ত্রুটিজনিত কারণে যেসব শিক্ষকের ঈদ বা নববর্ষের উৎসবভাতা বকেয়া রয়ে গিয়েছিল, তাদের বিল সাবমিটের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ইএফটি বিল সাবমিট অপশন ব্যবহার করে বকেয়া ভাতার আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইএফটি প্রক্রিয়ায় জটিলতার ফলে যদি কোনো শিক্ষকের এক বা একাধিক মাসের নিয়মিত বেতনও বকেয়া থেকে থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও মাসভিত্তিক বকেয়া বিল দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তথ্যের সঠিকতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুত এই পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আয়োজিত ১৪তম যাকাত ফেয়ারে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশের আর্থ-সামাজিক সংকট উত্তরণে যাকাত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের এক শ্রেণির মানুষের যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, যাকাত ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ থাকলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
সামাজিক এই দুঃখজনক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দেশে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নেওয়া একটি দুঃখজনক বিষয়। যাকাত যদি সঠিকভাবে আদায় করা হতো তাহলে এই পেশা তাঁদের বেছে নিতে হতো না বা এ ধরনের সমস্যাও হতো না।’ উপদেষ্টা আরও জানান যে, ইসলামে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায়ের বিধান থাকলেও ব্রিটিশ ও মুঘল আমলে তা ব্যক্তি পর্যায়ে চলে আসায় এর কার্যকারিতা ও গুরুত্ব বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর অবদান অনেক। ইসলামে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো। ব্রিটিশ এবং মুঘল আমলে এসে সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে পরিণত হয়। এতে যাকাতের গুরুত্ব অনেক কমে যায়।’
যাকাত প্রদানকে নিছক করুণা নয় বরং ধর্মীয় অলঙ্ঘনীয় বিধান হিসেবে উল্লেখ করে খালিদ হোসেন বিত্তবানদের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা যাকাত দেয় না তাদের ঈমান নেই। আমাদের দেশে অনেক ধনী সঠিকভাবে যাকাত দেন না। যাকাত কোনো ধরনের দান-দক্ষিণা নয় বরং এটা গরিবের হক। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সমাজে উপেক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’ উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বর্তমান বিশ্বের সামগ্রিক দার্শনিক সংকট ও যাকাতের বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।
বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে আমরা গভীর এক দার্শনিক সংকটে পড়েছি। এই সংকট বিশ্বব্যাপী। এর তিনটি দিক আছে। প্রথমত- আমরা কোথায় যেতে চাই। এটা নিয়ে চিন্তার আরও প্রয়োজন রয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত- গন্তব্যে যাওয়ার পথ নিয়েও সংকট রয়ে গেছে। এই বিষয়টাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পথটা সঠিক না হলে সবকিছুই বৃথা যায়। তৃতীয় দার্শনিক সংকটের আরেকটা বিষয় হচ্ছে ইনস্ট্রুমেন্ট। জাতিসংঘও এই গন্তব্য নিয়ে গভীর সংকটে আছে।’
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান যাকাতকে কেবল আর্থিক লেনদেন হিসেবে না দেখে একে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, যাকাত প্রদানের পরবর্তী তদারকিও দাতার দায়িত্বের অংশ। সিজেডএম-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সিজেডএম (সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট) যে উদ্যোগ নিয়েছে এটার একটা বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে। যাকাতের যে বিষয়টো আজ সামনে এসেছে এটার একটি আর্থিক দিক আছে। অবশ্যই এটা আরও সঠিকভাবে দেওয়া দরকার। আমার কাছে যাকাত একই সঙ্গে আর্থিক দায়িত্বের সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে- যাকাত দিয়েই আমার দায়িত্ব শেষ নয়। কারণ এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে সেটা তদারকি করাও প্রয়োজন।’
সর্বশেষে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ‘সুতরাং যাকাত দেওয়ার শুরু থেকে অর্থ ব্যবহারের সবকিছুই দায়িত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’
পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের শেষ দিন হিসেবে পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী টানা নয় মাসের জন্য দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। প্রতিবছর সাধারণত ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম চললেও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবার সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, শনিবারই শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং রোববার থেকে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তিনি আরও জানান, সরকার পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান অনেক ব্যবসায়ীর বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে আনতে না পারা এবং লোকসানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জনদুর্ভোগের আশঙ্কা ব্যক্ত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই পর্যটননির্ভর। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শনিবার সকালে ভোলা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের জটলা সহ্য করা হবে না।’ তিনি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, ‘ভোট হবে উৎসবমুখর। কোনটা ভোটের উৎসব আর কোনটা ভোট ঠেকানোর জটলা—তা আপনাদের বুঝতে হবে। তা বুঝেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইসি বলেন, ‘নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য ভোটকেন্দ্রে শতভাগ সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে। এতে করে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে। কেন্দ্রে কেউ অসৎ কাজ করার সুযোগ পাবে না।’ জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা সবার সাধ্যমতো চেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালনকারী সকল সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি বাস্তবায়িত হলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এক নতুন আইনি কাঠামোর সৃষ্টি হবে। একই সভায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পায়। এ ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণে ‘বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।
কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও বৈঠকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতিসংঘের ‘নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশন’-এর ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক অতীতে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করবে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত এবং নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০’ কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদিত হয়।
অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের দিকে নজর রেখে উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫-২৮ সময়কালের জন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের লক্ষ্যে পৃথক দুটি অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে জাতীয়ভাবে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাবটিও সরকার অনুমোদন করেছে। উপদেষ্টা পরিষদের এসব সিদ্ধান্ত দেশের মানবাধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নারীদের সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত অধ্যাদেশ ও প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।