পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় রাস্তায় হঠাৎ কুকুর এসে পড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার মাধপুর-সাঁথিয়াসড়কের বোয়াইলমারী মোড় নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন সাঁথিয়া উপজেলার গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের বন্দিরাম চর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রুবেল হোসেন (২২) ও একই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে যুবরাজ (১৬)। রুবেল পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী। আর যুবরাজ এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১২টার দিকে পাবনা শহর থেকে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাঁথিয়া বাজারের বোয়াইলমারী মোড় পার হলে হঠাৎ সামনে একটি কুকুর এসে পড়ে। তখন মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের স’ মিলের কাঠের গুলের স্তূপে পড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলটিতে থাকা তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজন মারা যান। অপরজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ পরিবারের লোকজন নিয়ে গেছেন। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোয় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
সব নাগরিককে সমানভাবে দেখার পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ‘শিশু অধিকার দিবস-২০২৬’ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সব নাগরিককে আমরা সমানভাবে দেখতে চাই। ছেলে ও মেয়েদেরকে সমানভাবে দেখতে চাই। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে একটি খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সবাইকে নিয়ে যে বাংলাদেশ গড়ার চিন্তা করা হচ্ছে, সেখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের স্বার্থে আগামীর পথনির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভূমিকার কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, যেকোনো সভ্য সমাজে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধার বিকাশের জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশুদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে মা-বাবার যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সন্তানরা বেশি প্রশ্ন করলে মা-বাবা উত্তর দিতে চান না। এটি ঠিক নয়। শিশু যত প্রশ্ন করবে, তার উত্তর দিতে হবে। কারণ, প্রশ্নের মাধ্যমে শিশুকে শিখতে ও জানতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে সঠিক শিক্ষা দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে শুধু লেখাপড়ায় ভালো করলেই হবে না। শিশুদের খেলাধুলা, অঙ্কন, সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। গান শেখা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে বাংলাদেশের সংস্কৃতির ভিত গড়ে তুলতে হবে।
শিশুদের মধ্যে ছেলে-মেয়ের কোনো বিভেদ না রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পরিবারের মধ্য থেকেই ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার এবং উচ্চশিক্ষাসহ বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমান সুযোগের বিষয়টি শেখাতে হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এমপি।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বানও জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় তারা বিগত সরকারের আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি, নিজস্ব বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত এবং রাজনীতিকে দূষিত করার অভিযোগ করেন।
একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথা জানান প্রতিনিধিরা।
রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)সহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৯৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. তারিখ ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচায় তাঁর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপির) বর্তমান মহাপরিচালক খালেদা বেগম গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁর মৃত্যুতে ডিএফপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
উল্লেখ্য, সনৎ কুমার বিশ্বাস ১৯৫১ সালে নড়াইলের চারিখাদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন একক কোনো দেশের নয় বরং সমগ্র বিশ্বের সমস্যা হওয়ায় এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি) নলেজ কনফারেন্স ২০২৬’-এর একটি অধিবেশনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ ধরনের সেমিনার ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা কেবল সম্মেলন কক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ দূষণ, পানিসম্পদ রক্ষা ও জলবায়ুর মতো জরুরি বিষয়গুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ পানি ও পরিবেশ সচেতনতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন যে প্রতিদিন সকালে কতজন নাগরিক বিশুদ্ধ পানি পান করে দিন শুরু করতে পারছেন এবং জলবায়ুর অভিঘাত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কতটা স্পষ্ট। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে সরকার এখন ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ‘প্রকৃতিনির্ভর সমাধান’ বা নেচার-বেসড সলিউশনসকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। নদীভাঙন ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে প্রচলিত জিওব্যাগ ও ব্লকের পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহারের মতো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের বড় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো পরিকল্পনা শুধু কাগজে-কলমে রাখলে চলবে না, তা মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ গবেষক, বেসরকারি খাত এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
‘ওয়াটার রিসোর্সেস: ক্লাইমেট রিস্কস অ্যান্ড অ্যাডাপ্টিভ ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এই অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইডব্লিউএফএম-এর অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম। সমাপনী দিনে জলবায়ু ঝুঁকি, সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় লবণাক্ততা মোকাবিলা ও ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ, সিইজিআইএস, বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, জলবায়ু সহনশীল ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আলোচকরা।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি ০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) জনাব এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) জনাব মোঃ আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) জনাব মোঃ মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জনাব মোঃ সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান জনাব মোঃ ইকবাল হোসেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) জনাব মোঃ হুমায়ুন কবীর।
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
বৈঠকে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণপরিবহনের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা নিরসনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ভিসা ও ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তা।
আজ সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংযোগ সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতে গ্যাস ও তেল সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশেষত, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণ করা বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সুযোগ, সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে আরও বেশি ইন্দোনেশীয় কোম্পানির কাজের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা এবং বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশে ইন্দোনেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া তৈরি পোশাক, পাট, কৃষি এবং পাম অয়েলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি হালাল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একইসাথে বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদার ও অভিন্ন মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওওয়াতী এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবুল হাসান মৃধা উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগে গতি এসেছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে দ্রুত গতিতে ৩২টি কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
২০৩১ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতার চাপও কমানো সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ৩২টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৪টি হলো— বিয়ানীবাজার-১, বিয়ানীবাজার-২, কৈলাশটিলা-১, কৈলাশটিলা-২, কৈলাশটিলা-৭, কৈলাশটিলা-৮, রশিদপুর-৩, রশিদপুর-৫, রশিদপুর-১১, সিলেট-৭, সিলেট-১০, সিলেট-১১, সিলেট-১০ এক্স ও রশিদপুর-২।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১১টি কূপ হলো— টবগি-১, শ্রীকাইল নর্থ-১, শরীয়তপুর-১, ভোলা নর্থ-২, ইলিশা-১, সুন্দলপুর-৩, বেগমগঞ্জ-৪ ওয়েস্ট, জামালপুর-১, শ্রীকাইল-৫, সেমুতাং-৬ ও রূপগঞ্জ-১।
অপরদিকে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাতটি কূপ হলো—তিতাস-১৪, তিতাস-১৬, তিতাস-২৪, তিতাস-২৮, হবিগঞ্জ-৫, বাখরাবাদ-৭ ও কামতা-২।
পেট্রোবাংলা জানায়, সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে দৈনিক ১৩৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাব্যতা ছিল। কিন্তু হবিগঞ্জ-৫ কূপে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গ্যাস পাওয়ায় বর্তমানে ৩২টি কূপ থেকে প্রায় ১৪৭ দশমিক ৯ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার রিজার্ভার এন্ড ডাটা ম্যানেজমেন্ট বিভাগ জানিয়েছে, কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও এর পুরোটা এখনও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সম্পন্ন হওয়া কূপগুলো থেকে আরও প্রায় ৬০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সঞ্চালন অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরও সাতটি কূপের খননকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এগুলো হলো—রশিদপুর-১৩, সুন্দলপুর-১ ও ৪, তিতাস-২৯ ও ৩১, ভোলা নর্থ এবং বাখরাবাদ-৬। পেট্রোবাংলার হিসাবে, জানুয়ারি নাগাদ এসব কূপের খননকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
খননকাজ শেষ হলে এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৯৬ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইপলাইন ও প্রসেসিং প্ল্যান্টের সক্ষমতার ভিত্তিতেই এ গ্যাসের পুরোটা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বর্তমানে ১৯টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার বোর্ডের মাধ্যমে আরও চারটি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, সরকারের দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতে আমদানি করা এলএনজির ওপর দেশের নির্ভরতা কমানোর একটি উদ্যোগ। একদিকে যেমন দ্রুত দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন, অন্যদিকে নতুন গ্যাস যাতে সময়মতো জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, নতুন করে গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার পর তা গ্রিডে সরবরাহের অবকাঠামোর অভাবে যেন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে না থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিষয়টি জরুরি, কারণ বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ইতোমধ্যে প্রতিদিন ১ হাজার এমএমসিএফেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকার স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। এজন্য বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছে মোট ২৬টি অফশোর ব্লক উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করেছে। একইসঙ্গে নতুন কূপের সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণে সার্ভে কার্যক্রম চলছে। প্রকল্প গ্রহণের আগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্থানে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফ। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফ দেশীয় উৎস থেকে এবং ৯০০ থেকে ১ হাজার এমএমসিএফ এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
দেশীয় উৎসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫৬৬ এমএমসিএফ থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৭০০ এমএমসিএফে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) থেকে দৈনিক প্রায় ৯০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বাসসকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩২টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। তবে পাইপলাইন-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আরও সাতটি কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি প্রকল্প চলমান এবং আরও নয়টি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩১টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং পরবর্তী ২০৩১-৩৫ মেয়াদে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো, রেল যোগাযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সড়ক, সেতু, নৌপরিবহন ও নারীদের উদ্যোক্তা তৈরিসহ বিভিন্ন খাতে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প।
সভায় উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে নিজস্ব দক্ষ জনবল কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, রামপালে নির্মাণ হতে যাওয়া সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি যুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হলেও দ্রুত সংশোধন করে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারির ব্যবস্থা করতে হবে। বন্ড ছেড়ে এ প্রকল্পের খরচ তোলার কথাও বলা হয়েছে। এতে ব্যয় কিছুটা বাড়লেও তা করা হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৭ টাকার কম।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. কামরুন্নাহার, ড. মঞ্জুর হোসেন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসএম মোছাদ্দেক।
নগর অবকাঠামোয় ৭ হাজার কোটি: একনেকে অনুমোদিত সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধন। নগরবাসীর অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে প্রকল্পটির পরিধি ও বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৪ হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৫ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা করা হয়। এবার আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। একনেকের অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৩ শতাংশ এ প্রকল্পে বরাদ্দ হচ্ছে।
গ্রামীণ অবকাঠামোয় ৩,৭৬৭ কোটি: সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এতে গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনসেবার পরিধি বাড়বে।
৩০ লোকোমোটিভে ২,৭৬৯ কোটি: বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। নতুন লোকোমোটিভ যুক্ত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে রেলের সক্ষমতা বাড়বে।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ: রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ব্যয় হবে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ।
গাজীপুর, ঢাকা ও রংপুরে অবকাঠামো উন্নয়ন: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার এবং নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে রংপুরে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহনে ২,১৬৮ কোটি: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্যারিসে চ্যান্সারি ভবন, করতোয়া সেতু: ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করতে সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন।
পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর পুরো অর্থও সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।
পার্বত্য সড়কে ব্যয় বাড়ল: থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন হয়েছে। এতে ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছিল। এবার ব্যয় আরও বাড়ানোর পাশাপাশি মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
নারীদের উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি: সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর। এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়পুরহাটের নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল ও খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নদীভাঙন রোধে বারবার অর্থ ব্যয় করে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প নেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। একই সঙ্গে নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো, পলি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতেও বেশ কিছু সুপারিশ করেছে কমিটি। সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানো, ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পানির পুনঃব্যবহার নীতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে। ওয়ারপোর চলমান সমীক্ষা দ্রুত শেষ করা এবং সংস্থাটির গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। পৃথকভাবে খাল খননের পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের পাঁচ হাজারের বেশি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং পাউবোর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিটির আলোচনায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। দেশব্যাপী নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন।
এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় স্ব-শাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জারিকৃত গেজেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগ। বুধবার (৭ অক্টোবর) উপসচিব সারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পত্রে বলা হয়েছে, সংযুক্তির বর্ণনা অনুযায়ী গেজেটের দুই কপি পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এস, আর, ও নং ৩৪৮-আইন/২০২৬-এর গেজেটের কপি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী গ্রেডভেদে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন কাঠামো তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে এবং চাকরিজীবীরা তাদের বকেয়া বেতনও পাবেন।
রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ব্র্যাকের সঙ্গে ১৮ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি নতুন বহুবর্ষী সহায়তা চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, চুক্তির আওতায় কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের অংশীদার সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংকট। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইনও উপস্থিত ছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ। এ লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং আঞ্চলিক ও মাঝারি পাল্লার রুটের জন্য ছয়টি এ৩২১নিও সিঙ্গেল-আইল উড়োজাহাজ কেনা হবে।
বিমান জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির হওয়ায় দীর্ঘপাল্লা ও আঞ্চলিক রুটে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন রুট চালু, বিদ্যমান রুট নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও এসব উড়োজাহাজ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশীদুজ্জামান মিয়াজ্জাত বলেন, এই উদ্যোগ শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশকে আধুনিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিমানের বহর, রুট নেটওয়ার্ক ও পরিচালন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ মাহমুদ বলেন, দেশের বড় জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশির সঙ্গে শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগাযোগ প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
এয়ারবাসের নির্বাহী সহসভাপতি মনোয়া দ্য সাঁ-এক্সুপেরি বলেন, এ৩৫০ ও এ৩২১নিও-এর সমন্বয়ে বিমানের জন্য কার্যকর একটি বহর কৌশল তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সম্প্রসারণ এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা পূরণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো সহায়তা করবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, এয়ারবাস কেনার চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কের দিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তার মতে, এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
চুক্তির মাধ্যমে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি উড়োজাহাজ সংগ্রহ পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত হলো। এর আগে বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এয়ারবাসের ১০টি যুক্ত হলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রহ পরিকল্পনায় মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।