আপডেট : বুধবার, মে ১৮, ২০২২, ১২:০০ am

বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার মনসুর আহমেদ ও মহসিন চৌধুরী

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ২ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৩। তারা হলো-চাঁদপুর সদরের মনসুর আহমেদ (৩৩) ও সিদ্ধিরগঞ্জের মো. মহসিন চৌধুরী (৫৫)। গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে পল্টন থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আল মইন এসব তথ্য জানান। আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি এনএসআই জানায়, প্রতারক ও জালিয়াত চক্র বঙ্গবন্ধু এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা করছে। তারা সরকারী বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতারকরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এনএসআইয়ের এসব তথ্যে মাঠে নামে র‌্যাব। পরে পল্টন থেকে চক্রের মূলহোতা মনসুর আহমেদ ও সদস্য মহসিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট উদ্ধার করা হয়।

কমান্ডার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছ। তারা গত ৩/৪ বছর যাবৎ বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করেছে। কৌশল হিসেবে নতুন মোবাইল ফোনের সিম কিনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি ও নামে সেভ করত। পরে ওই পরিচয়ে মামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারদের সঙ্গে চ্যাট করত। এসব চ্যাটিংয়ের এক পর্যায়ে ওই সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকারে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করত। প্রতারকরা এমনভাবে কথা বলত যে তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ঘুবই ঘনিষ্ট। নিজেদের বড় কোম্পানির মালিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। কেউ প্রলুব্ধ হয়ে মিটিং করতে চাইলে, দামি গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে মিটিংয়ে আসত। তারা বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বন্ধু ও যোগাযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রলুব্ধ করত। এমনকি চক্রের আরব আমীরাতে থাকা এক সদস্য নিজেকে আরব আমীরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিত। সে বঙ্গবন্ধু পরিবারের খুব ঘনিষ্ট বন্ধু বলে জানাত।       

গ্রেফতারকৃত মনসুর প্রথমে নিজ এলাকায় জমির দালালি করত। আর মহসিন প্রথমে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ব্যবসা করত। পের লোকসানের কারণে ফ্যাক্টরি বিক্রি করে দিয়ে মনসুরের সঙ্গে প্রতারণা কাজে জড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।