আপডেট : বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২, ১২:০০ am

স্টার্টআপ সূচকে বাংলাদেশকে এগোনোর সুপারিশ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্টার্টআপ সূচকে বাংলাদেশকে এগোনোর সুপারিশ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে
বাংলাদেশে স্টার্টআপের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে স্টার্টআপের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের এশিয়া প্রশান্তমহাসগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কমিশন (স্ক্যাপ)। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সংস্থাটির সঙ্গে যৌথভাবে ‘স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বাংলাদেশের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।

২৪ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি এর উন্নয়নে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে স্টার্টআপ সংক্রান্ত সূচকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

স্ক্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো ৪৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে, যার সিংহভাগ এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। বাংলাদেশে স্টার্টআপের সংস্কৃতি বিকাশের জন্য উপযুক্ত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনগণের ৬২ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, যারা সহজে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে। তা ছাড়া বাংলাদেশে বছরের পাঁচ হাজারের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ২০০৯ সালে গৃহীত জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নীতিমালার প্রশংসা করা হয়েছে।

যে যে খাতে উন্নয়নের সুযোগ আছে, প্রতিবেদনে তার শুরুতেই বলা হয়েছে, তরুণদের উদ্যোক্তা করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য করণীয় ঠিক করতে হবে। বিশেষ করে প্রচলিত শিক্ষায় স্টার্টআপ সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে হবে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের স্টার্টআপ র‍্যাঙ্কিং এগিয়ে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্ক্যাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে ১৩২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬ নম্বরে। অন্যদিকে স্টার্টআপ ব্লিঙ্কের তৈরি গ্লোবাল স্টার্টআপ র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ জায়গা পেয়েছে ঠিকই, তবে ৯৩ নম্বরে।

নারী স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জের ওপর আলোকপাত করার অপরিহার্যতা তুলে ধরে তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং ব্যবসায়িক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশ হলে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে অন্তত পাঁচটি ইউনিকর্ন (১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের স্টার্টআপ) দেখা যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। প্রতিবেদনটি সম্পর্কে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ আয়ের ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের উদ্যোক্তারা ইকোসিস্টেমে দেশেই উদ্ভাবনী সমাধান এবং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাজার হাজার স্টার্টআপ গড়ে তুলবে।