আপডেট : মঙ্গলবার, মে ৩১, ২০২২, ১২:০০ am

৩ মাস পর শিশু উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মাস পর শিশু উদ্ধার,  অপহরণকারী গ্রেপ্তার
উদ্ধার করা শিশু আঁখি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে অপহরণের ৩ মাস পর দেড় বছরের শিশু ’আঁখি’কে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৪। এসময় ২ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের নাম- রাশেদুল ইসলাম (৩০) ও তার ফুপু রোকসানা (৩৫)।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মোজাম্মেল হক।

অধিনায়ক বলেন, গত ৩১ মার্চ ঢাকার আশুলীয়া থেকে আঁখি নামে এক দেড় বছরের শিশুকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ১ এপ্রিল শিশুটির দাদা আশুলীয়া থানায় একটি মামলা করে। মামলার পর ছায়া তদন্তে মাঠে নামে র‌্যাব। দীর্ঘ ৩ মাস গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব জানতে পারে অপহরণকারী রংপুরে নিজ এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যে গতকাল সোমবার দিনগত রাতে রংপুরে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে কালিয়াকৈরের রতনপুর গ্রামের রোকসানা নামে এক নারীর কাছ থেকে অপহৃত আঁখিকে উদ্ধার করা হয়। এসময় রোকসানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে গ্রেপ্তার রাশেদুল জানিয়েছে,  তার স্ত্রী নুরজাহান ও অপহৃত শিশুটির মা মিরা আক্তার আশুলিয়ায় একই গামেন্টসে চাকরি করতো। দুজনের মধ্যে সু-সম্পর্ক ছিলো। একপর্যায়ে রাশেদের স্ত্রী তাদের ৭ বছরের শিশু সন্তানকে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে চলে যায়। মাকে ছাড়া ৭ বছরের শিশুটিকে নিয়ে রাশেদ বিপদে পরে যায়। একপর্যায়ে তার মনে হয় আঁখির মা মিরা তার স্ত্রী কোথায় আছে তা জানে। সে মিরাকে বেশ কয়েকদিন এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করে। কিন্তু মিরা বরাবরই জানিয়েছে তার স্ত্রী নুরজাহানের ঠিকানা জানা নেই তার। রাশেদ বিশ্বাস করেনি। এক পর্যায়ে সে শিশু আঁখিকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে। শিশুকে জিম্মি করলে মা মিরা তাকে তার স্ত্রীর ঠিকানা বলবে।

রাশেদুল আরো জানায়, পরিকল্পনা মতে গত ৩১ মার্চ সকালে বাসা ভাড়ার ছলে মিরারদের বাসায় গিয়ে মিরার মায়ের সঙ্গে কথা বলে সে। এসময় আঁখি ও তার ভাই মিরাজ (০৫) গেটের বাইরে খেলা করছিল। আঁখির নানির সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে মিরাজকে ৫টাকা দিয়ে চকলেট কিনতে পাঠায় রাশেদুল। কিছুক্ষণ পর কথার মাঝে সে বের হয়ে দোকানের পাশে থেকে আঁখিকে নিয়ে চলে যায়। ওই দিনই কালিয়াকৈরের রতনপুরে তার নি:সন্তান ফুপু রোকসানার কাছে শিশুটিকে রেখে সে রংপুরে চলে যায়। ঘটনার এক সপ্তাহ পর রাশেদ শিশুটির বাব-মাকে ফোন করে জানায়, শিশুটি তার কাছে আছে। তার স্ত্রীর সঠিক ঠিকানা জানালে শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু আঁখির বাবা-মা তা জানাতে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে তোদের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করে রাশেদ। মোবাইল ব্যাঙ্কিয়ের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠায় আঁখির বাবা-মা। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পরার ভয়ে সে টাকাও তুলেনি রাশেদুল। মোবাইল ফোনটিও বন্ধ করে রাখে।    

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।