আপডেট : শনিবার, জুন ৪, ২০২২, ১২:০০ am

ডাকাতি প্রস্তুতির সময় গ্রেপ্তার ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডাকাতি প্রস্তুতির সময় গ্রেপ্তার ১১
গ্রেপ্তার ডাকাদ চক্রের ১১ সদস্য

ঢাকার সাভারের বলিয়ারপুর মহসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার সময় আন্তঃজেলা ডাকাতচক্র ঠান্ডা-শামীম বাহিনীর সরদারসহ ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৩ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শামিম ওরফে সব্দুল (৩০), আনিসুর রহমান ওরফে ঠান্ডা (৪৫), সালাউদ্দিন (২৩), ইখতিয়ার উদ্দিন (৩১), সাইফুল ইসলাম (৩৫), জাহাঙ্গীর সরকার (৪০), সজিব ইসলাম (২৫), জীবন সরকার (৩৪), স্বপন চন্দ্র রায় (২১), মিনহাজুর ইসলাম (২০) ও মাধব চন্দ্র সরকার (২৬)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আজ

উদ্ধার করা অস্ত্রসহ ডাকাতির সরঞ্জাম

শনিবার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঠান্ডা-শামীম বাহিনীর প্রধান শামীম ওরফে সব্দুল। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আনিসুর ওরফে ঠান্ডা। ঠান্ডা ২০০৪ সাল থেকে ডাকাতি করে আসছে। ২০১৬ সালে শামীম এর সাথে তার পরিচয়ের হলে তখন থেকে তারা এক সঙ্গে ডাকাতি শুরু করে। এজন্যেই বাহিনীর নাম হয় ঠান্ডা-শা্মীম বাহিনী। আর গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ডাকাতির পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কখন কোথায় ডাকাতি করা হবে, তথ্য সংগ্রহে কাকে নিয়োগ করা হবে, ডাকাতি শেষে কার কাছে মালামাল বিক্রি করা হবে, এসব বিষয়ে সে ঠান্ডা ও শামীমকে পরিকল্পনায় বিশেষভাবে সহায়তা করত। ডাকাতির আগেই সে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে তথ্য সংগ্রহের কাজ করত। এই বাহিনী গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ডাকাতি করেছে। ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত মালামালের অর্ধেক আনিসুর ওরফে ঠান্ডা ও শামীম ভাগ করে নিত। বাকী অর্ধেক মালামাল অন্যদের কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী ভাগ করে দেয়া হত।

জিজ্ঞাসবাদে জানা যায়, দীর্ঘদিন এ বাহিনী দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি, সড়কে গাছ ফেলে যাত্রীবাহী বাস, গরুবাহী ট্রাক, মালবাহী ট্রাক ও বিভিন্ন মালামালের গুদামে ডাকাতি করে আসছে। যেখানে গাছ কাটার সুযোগ থাকেনা সেখানে তারা চালকের চোখে আলো ফেলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডাকাতি করত। শামীম ও আনিসুর ওরফে ঠান্ডাকে আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার গ্রেফতার করেছে। জেলে থাকার সময় তাদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে ডাকাত বাহিনী গড়ে তোলে। তাদের বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২৫ জন। মূলহোতা শামীমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৭ টি ডাকাতি মামলা ও আনিসুর ওরফে ঠান্ডার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধের ৫ টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ১টি  বিদেশি পিস্তল, ১টি পাইপগান, ২টি ওয়ান শুটারগান , ৬ রাউন্ড গুলি, ১ টি ম্যাগাজিন, ১টি শাবল , ৩ টি রশি, ১ টি লোহার রড, ১ টি চাপাতি, ২ টি রামদা, ১ টি চাইনিজ কুড়াল, ১ টি করাত, ১ টি হাউজ কাটার, ২ টি ছুরি, ২ টি টর্চ লাইট, ১১ টি ব্যাগ, ২ টি হ্যাক্সো ব্লেড, ১ টি দা, ২ টি লেজার লাইট, ২ টি প্লাস, ১ টি দেশি কুড়াল ও ১ টি হাতুরী উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।