আপডেট : শনিবার, জুলাই ২, ২০২২, ১২:০০ am

টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা
সমুদ্রে অসুস্থ হয়ে পড়া নুরুল হাসান সোহানের শুশ্রূষায় মেহেদি হাসান মিরাজ। ছবি: সংগৃহীত

সিরিজ শুরুর আগে দলকে খোশ মেজাজে রাখতে বিভিন্ন বোর্ড কত কী করে! ভেন্যু শহরের সাফারি পার্ক, জাতীয় উদ্যান কিংবা দর্শনীয় স্থানগুলো দেখিয়ে নিয়ে আসে ক্রিকেটারদের। মন ভালো না থাকলে ক্রিকেটাররা তাদের সেরাটা দেবেন কী করে!

কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্ষেত্রে দেখা গেল উল্টোটা! আজ শনিবার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শুরু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মুখোমুখি হলেন ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার! সেটা এমনই যে, সিরিজ শুরুর আগে কেউ অসুস্থ, কারও মাঝে কাজ করছে আতঙ্ক!

সেন্ট লুসিয়া থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ভেন্যু ডমিনিকায় আসতে লম্বা সময় ধরে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। ফেরি করে এত দীর্ঘ সময় সমুদ্র ভবনের অভিজ্ঞতা ছিল না বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারেরই। তাই সমুদ্র যাত্রা শুরুর ঘণ্টা দেড়েক পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। পেসার শরীফুল ইসলাম, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান এবং ম্যানেজার নাফিস ইকবালের অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে পড়ে। তাদের অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সফরের অন্যরাও।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় খুব ভোরে ক্রিকেটারদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফেরি। সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার পথে বিরতি ছিল মার্টিনেক দ্বীপে। যাত্রার শুরুতে ক্রিকেটারা আনন্দেই ছিলেন। অনেকেরই যে এটাই প্রথম সমুদ্র ভ্রমণ! কিন্তু ফেরি মূল সমুদ্র প্রবেশ করলে বড় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুলতে থাকে ফেরি। মধ্য সমুদ্রে এমনিতেই ঢেউ বেশি। এদিন ঢেউয়ের তোড় আরও বেশি ছিল দুই দিন আগের সাইক্লোনের কারণে। তাই ফেরি ঢেউয়ে বেশি দোল খাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। আতঙ্ক থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। অসুস্থ হয়ে পড়াদের মধ্য ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, পেসার শরিফুল ইসলাম, উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এবং সাপোর্ট স্টাফের এক সদস্য। সেন্ট লুসিয়া থেকে মার্টিনেক- এই দেড় ঘণ্টার যাত্রাতেই একাধিকবার বমিও করেন কেউ কেউ। ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া এক ভিডিওতে ক্রিকেটারদের বমি করতে দেখা যায়। দেখা যায় অসুস্থ হয়ে ফেরির মেঝেতে শুরু আছেন তারা।

৪০ মিনিটের যাত্রা বিরতি ছিল মার্টিনেকে। ওই বিরতিতে মাটির দেখা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পান ক্রিকেটাররা। তাদের অবস্থা যাতে আরও খারাপ না হয়ে উঠে সে জন্য তারা মার্টিনেক থেকে বিমানে যাওয়ার দাবি তোলেন। দলের পক্ষ থেকে টিম ম্যানেজের নাফিস ইকবাল যোগাযোগ করেন বিসিবির সঙ্গে। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল না। সুযোগ ছিল না ফ্রেঞ্চ কলোনি মার্টিনেকের তাৎক্ষণিক ভিসা পাওয়াটাও, যাতে তারা মার্টিনেকে থেকে যেতে পারেন। অগত্যা ডমিনিকার উদ্দেশ্য আবার ফেরিতে ওঠা। আবার দুলতে থাকা ফেরিতে উত্থাল পাথাল ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেয়া! সাত সকালে শুরু হওয়া সমুদ্রযাত্রা শেষমেশ স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে শেষ হয়। আতঙ্ক নিয়ে ফেরি থেকে নামেন ক্রিকেটাররা।

আজ প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে মাঠে নামার আগে সেই আতঙ্ক ক্রিকেটাররা কাটিয়ে উঠতে পারেন কি না এখন এটাই দেখার!

তবে ক্রিকেটারদের এই ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণ বিসিবি দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দলীয় ক্রিকেটারদের যেখানে সমুদ্র ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার পথে কেন ফেরিতে তুলে দেয়া হলো ক্রিকেটারদের?

স্বাগতিক দলের ক্রিকেট বোর্ডই সাধারণত দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সফর পরিকল্পনা করে থাকে। সফরকারী অনুমোদন দিলেই তা চূড়ান্ত হয়। তো ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা আর সাচ্ছন্দের কথা ভেবে  বিসিবির উচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের ফেরিযাত্রার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিমানে ডমিনিকা যাওয়ার প্রস্তাব দেয়ার। তখন কী ব্যাপারটা মাথায় ছিল না বিসিবির? থাকলে অন্তত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডকে বিমানে যাওয়ার প্রস্তাব দিত তারা। ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ড সে প্রস্তাবে রাজি না হলে খবর হতো সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা মাথাতেই আসেনি বিসিবির। আর লম্বা সমুদ্রযাত্রা যে ক্রিকেটারদের অসুস্থতার কারণ হতে পারে সেটা তো নয়ই!

আজ থেকে শুরু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল কী করবে, সেটি এখন গৌন বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দলের সব সদস্যের সুস্থ হওয়া আর ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণের আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠা।