আপডেট : রবিবার, জুলাই ৩, ২০২২, ১২:০০ am

শুধু আশার কথাই শোনালেন ডমিঙ্গো

ক্রীড়া প্রতিবেদক
শুধু আশার কথাই শোনালেন ডমিঙ্গো
রাসেল ডমিঙ্গো

প্রকৃতির বৈরিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হতে পারেনি প্রথম টি-টোয়েন্টি। তবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি বাতিল হওয়ার আগে যথারীতি হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে যে পর্যন্ত খেলা হয়েছে, তাতে সাকিব আল হাসান আর নুরুল হাসান সোহান ছাড়া বলার মতো কেউ কিছু করতে পারেননি। প্রথমে ১৬ ওভার, পরে ১৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৩ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৫ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর বৃষ্টি মাঠের দখল নিলে বাতিল হয়ে যায় ম্যাচ।

বাংলাদেশ দল সম্পর্কে একটা কথা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, টেস্টে টি-টোয়েন্টির ব্যাটিং করেন খেলোয়াড়রা, আর টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিংটা হয় টেস্টের। তবে এদিন ব্যতিক্রম ছিলেন সাকিব-সোহানরা। ২টি চার ও ২টি ছয়ে ১৫ বলে ২৯ করেন সাকিব। আর ১ চার ও ২ ছয়ে ১৬ বলে ২৫ করেন সোহান। ব্যক্তিগত রানকে দুই অঙ্কে নিতে পারা বাকি ব্যাটসম্যান হলেন এনামুল হক বিজয়। ১০ বলে ১৬ রান করেছেন তিনি। রোমারিও শেফার্ড ৩টি ও হেইডেন ওয়ালশ ২টি উইকেট লাভ করেন।

ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্য চাইলে তিনি ভয়ংকর সমুদ্র ভ্রমণের ক্লান্তির অজুহাত দিতে পারতেন, অজুহাত দিতে পারতেন ডমিনিকায় এসে কোনো অনুশীলন না করেই ম্যাচে নেমে পড়ার। কিন্তু কোনো অজুহাতই এদিন দেখালেন না ডমিঙ্গো। উল্টো ম্যাচ বাতিল হওয়ার আগে ব্যাটাররা যে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলেন, এতেই স্বস্তি কোচের। রাসেল ডমিঙ্গোর ভাষায়, ‘লম্বা নৌ ভ্রমণ করে এখানে এসেছে ছেলেরা, আগের দিন (শুক্রবার) কোনো অনুশীলনও করা যায়নি। তবে কোনো অজুহাত নেই। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও একই অভিজ্ঞতা ছিল। ওরাও একই ফেরিতে ছিল, ওরাও অনুশীলন করতে পারেনি। আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটারের একটু জড়তা ছিল কয়েক সপ্তাহ ধরে খেলার মধ্যে না থাকায়। এদিন তাদের কিছুটা ম্যাচ অনুশীলন হয়েছে।’

লম্বা একটা সময় আফিফ-রিয়াদ ম্যাচে ছিলেন না। সেটি মনে আছে ডমিঙ্গোর। বললেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে রিয়াদ-আফিফের সবশেষ ম্যাচ ছিল সম্ভবত দক্ষিণ আফ্রিকায়, সেটা মাস দুয়েক আগে। সিরিজ যত এগোবে, তারা আরও ভালো হয়ে উঠবে। এদিন অন্তত কিছুটা খেলার সুযোগ পেয়েছি, ১২-১৩ ওভারের মতো অনুশীলন করতে পেরেছি এবং টি-টোয়েন্টির আবহে ফিরেছি। আমি নিশ্চিত, দ্বিতীয় ম্যাচে উন্নতি দেখবেন।’

ব্যাটিংয়ের শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না দলের। প্রথম ওভারেই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ফিরে গেলেও সাকিবের মারমুখী ব্যাটিংয়ে একপর্যায়ে ৩.২ ওভারেই বাংলাদেশ তুলে ফেলেছিল ৩৬ রান, ৫ ওভারে ৪৫! কিন্তু ভালোটা ধরে রাখতে না পারার সেই পুরোনো রোগ পেয়ে বসে দলকে। ৭ থেকে ১১ ওভারের মধ্যে ২১ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে পরের ম্যাচগুলোয় আরও ভালো ব্যাটিংয়ের আশা কোচ ডমিঙ্গোর, ‘আজকে (শনিবার) আগে বোলিং করতে পারলে ভালো হতো। তবে টস হেরে যাই আমরা। এটা খেলারই অংশ। ২ উইকেটে ৪৫ রান ছিল, শুরুটা ভালো করেছিলাম আমরা। এরপর সত্যিই বাজে ক্রিকেট খেলেছি। তবে আমি নিশ্চিত যে পরের ম্যাচে ভালো করব।’