আপডেট : শনিবার, জুলাই ১৬, ২০২২, ১২:০০ am

ট্র্যাক থেকে ফেলিক্সের বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্র্যাক থেকে ফেলিক্সের বিদায়
নিজের শেষ টুর্নামেন্টে পাওয়া পদক মেয়ের হাতে তুলে দিলেন ফেলিক্স। ছবি: সংগৃহীত

শুরু আছে যার, শেষ আছে তার। কিন্তু শুরু আর শেষের মাঝে সবাই নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলতে পারেন না! যেমনটা নিজেকে তুলেছেন অ্যালিসন ফেলিক্স। যুক্তরাষ্ট্রের এই ট্র্যাক তারকা অলিম্পিক ও বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে জিতেছেন ৩০টি পদক, যার ২০টিই সোনার। সেই অ্যালিসন ফেলিক্স পরশু বিদায় বলে দিলেন অ্যাথলেটিকসকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউজিনিতে অনুষ্ঠানরত বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার রিলেতে দৌড়েছেন ফেলিক্স। আমেরিকার কিংবদন্তি এই অ্যাথলেটের এটাই ছিল শেষ দৌড়। সোনায় মোড়ানো ক্যারিয়ারের শেষটা সোনা দিয়ে শেষ হয়নি ৩৬ বছর বয়সী ফেলিক্সের। তাতে কী, ব্রোঞ্জ জিতে যখন বিজয় মঞ্চে উঠেছেন, তখন গ্যালারির দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে ঠিকই অভিবাদন জানিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই অ্যাথলেটকে। করতালিরত ওই সব দর্শকের অভিব্যক্তিই বলছিল-বিদায় ফেলিক্স!

এবারের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে এই একটি ইভেন্টেই দৌঁড়েছেন তিনি। আরও ভালো করে বললে শুরু রিলেতে দৌড়ানোর জন্যই নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট, শেষ দৌড়ও।

২০০৩ বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে শুরু করেছিলেন ক্যারিয়ার। আর পরশু যখন শেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপটিতে দৌড়ালেন দুই টুর্নামেন্টের মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ১৮ বছরেরও বেশি সময়! গত শুক্রবারের দৌড় শেষে ফেলিক্স বললেন, এ দিন ভিন্ন অনুভূতি হয়েছিল আমার। এই প্রথমবারের মতো দৌড়ানোর সময় শুনতে পেয়েছি দর্শকদের। তারা আমার জন্য চিৎকার দিচ্ছে।

সবশেষ পদকটি নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তার পদক সংখ্যা দাঁড়াল ১৯টি। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে এতগুলো পদক নেই আর কারোরই!

পরশু ট্র্যাকে যখন তিনি দৌড়েছেন, তখন দর্শক সারিতে ছিল তার তিন বছর বয়সী মেয়ে ক্যামেরিনও। পদক জয়ের পর সেই পদক তিনি পরিয়ে দিয়েছেন মেয়ের গলায়। স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার আগে বললেন, ‘ঘরের দর্শকদের সামনে নিজের শেষ দৌড়টা দৌড়াতে পারা বিশেষ কিছু। আমার মেয়েও গ্যালারিতে ছিল। এই রাতটা আমি মনে রাখব। অসাধারণ এক অভিযাত্রা! অনেক উত্থান-পতন ছিল, কিন্তু খেলাটা সব সময় ভালোবেসেছি। ঘরের দর্শকদের সামনে শেষ করতে পারাটা অনেকটাই বৃত্তপূরণের মতো।’

এত দিন ট্র্যাকে থাকায় ইচ্ছেমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেননি। ইচ্ছে থাকলেও ক্যামেরিনের সঙ্গে একটা আইসক্রিম ভাগাভাগি করতে পারেননি। এবার করবেন। মেয়েকে সময় দেবেন। নিয়ম ধরে ফুটবল অনুশীলনে নিয়ে যাবেন ক্যামেরিনকে।