আপডেট : সোমবার, জুলাই ১৮, ২০২২, ১২:০০ am

জাল ভিসা ও বিএমইটি কার্ড দিয়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাল ভিসা ও  বিএমইটি কার্ড  দিয়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণা
গ্রেপ্তার আসামি আবুল কালাম

রাজধানীর পল্টন থেকে সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৩। তার নাম- আবুল কালাম (৪১) । গত রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪টি পাসপোর্ট, ৬টি নকল বিএমইটি কার্ড, আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন লেজার, রেজিস্টার এবং ডায়েরি উদ্ধার করা হয়।

আজ সোমবার কারওয়ান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আবুল কালাম সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের মূল হোতা। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে প্রতারণা করে সে জাল ভিসা ও বিএমইটি কার্ড দিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তথ্যে তাকে পল্টন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, সরকারের নিয়ম মেনে জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিএমইটি কার্ড দেয়া হয়। একে বিএমইটি স্মার্ট কার্ডও বলা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান কালামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কালামের জনশক্তি রপ্তানির কোনো লাইসেন্স নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ সে জনশক্তি রপ্তানির নামে অবৈধভাবে ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে লোক পাঠায়। এছাড়াও চক্রটি মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে জনশক্তি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে থেকে লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা এবং নকল বিএমইটি কার্ড ভুক্তভোগীদের সরবরাহ করত।

অধিনায়ক আরও বলেন, গ্রেপ্তার আবুল কালাম ২০০৪ সালে ফ্রি ভিসায় দুবাই গিয়ে দর্জি হিসেবে কাজ শুরু করে। মালিকের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় ২০১১ সালে সে দেশে ফিরে আসে। তারপর সে তার এলাকায় দর্জি ব্যবসা করার চেষ্টা করে সফল না হয়ে জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারনা শুরু করে। সে প্রথমে ভুক্তভোগীদের ইউরোপে উচ্চ বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট প্রাথমিক খরচ হিসেবে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নেয়। পরে ভিসা, টিকেট, মেডিকেল, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্সের খরচ দেখিয়ে ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের আস্থা অর্জনের জন্য দুই একজনকে ভ্রমন ভিসায় দুবাই পাঠায়। এছাড়া, ভুক্তভোগীদের স্থায়ী ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মসংস্থান জনশক্তি অফিসে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধন করতে বলে। এই নিবন্ধন বিএমইটিকার্ড পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা বহন করে না। কিন্তু ভুক্তভোগীরা না জেনে এই নিবন্ধনকেই বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার চূড়ান্ত ধাপ মনে করে। তারপর সে ভূয়া ভিসা নকল বিএমইটিকার্ড ধরিয়ে দিয়ে ফ্লাইটের জন্য ভুক্তভোগীদের কাছে টাকা দাবি করে। পরে ভুক্তভোগীরা এসব ভিসা নকল বিএমইটিকার্ড নিয়ে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা বিএমইটিকার্ড নকল হওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়। এভাবে ধৃত আসামী প্রতারনার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে। এ চক্রের অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছে র‌্যাব।