আপডেট : রবিবার, আগস্ট ৭, ২০২২, ১:৪৬ pm

২০ বছর ধরে বাড়ি ফেরার আশায় হামিদা বানু

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
২০ বছর ধরে বাড়ি ফেরার আশায় হামিদা বানু
২০ বছর ধরে বাড়ি ফেরার আশায় হামিদা বানু

কথা ছিলো আরব আমিরাতের দুবাইতে যাবেন রান্নার কাজ নিয়ে। সে অনুযায়ী ভারতের মুম্বাইয়ের এক স্থানীয় এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাবার ব্যবস্থা করেন চার সন্তানের মা ও বিধবা হামিদা বানু। সন্তানদের কথা চিন্তা করে অনিশ্চিত আরেক জীবনের ঝুকি নেন তিনি। রান্নার কাজ পাইয়ে দেবার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে। কিন্তু আশাহত হয়ে সেখানেই আটকে পড়েন হামিনা। রোববার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দুঃখী এই নারীর গল্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে প্রকাশ্যে এসেছে হামিদা বানুর জীবনের নির্মম গল্প। এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি। তবে স্বজনদের কাছে যেতে উদগ্রীব হলেও কাগজপত্রের জটিলতায় দ্রুতই হয়তো তার ফেরা হচ্ছে না তার।

২০০২ সালে রাঁধুনির চাকরি নিয়ে দুবাইয়ে যেতে একটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ২০ হাজার রুপি দেন হামিদা। চুক্তি অনুযায়ী দুবাইতে রান্নার চাকরি করতে যাচ্ছিলেন তিনি। তবে অবৈধভাবে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। হতভাগ্য এই নারী জানান, দুবাইয়ে নেয়ার কথা বলে পাকিস্তানের হায়দরাবাদের একটি ঘরে তিন মাস আটকে রাখা হয় তাকে। এর কয়েক বছর পর করাচির এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় হামিদার। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে স্বামীর মৃত্যু হয়। এখন তার সৎ ছেলের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি।

এসবই তিনি জানান প্রতিবেশি ওয়ালিউল্লাহ মারুফ নামের পাকিস্তানের এক ব্যক্তির কাছে। গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামিদার সাক্ষাতকারের এই ভিডিও আপলোড দেয়ার পরই আলোচনায় উঠে আসে তিনি।

ওই ভিডিও শেয়ার করেন মুম্বাইয়ে বাস করা ভারতের সাংবাদিক খালফান শেখ। এরপর খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শেষ পর্যন্ত এর মাধ্যমেই হামিদার পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। ভিডিওটি হামিদা নাতি অর্থাৎ ইয়াসমিনের ছেলে আমানের চোখে পড়ে। সে তার মাকে জানালে, তারা উদ্যোগী হয় মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

ভারতের খালফান আর পাকিস্তানের ওয়ালিউল্লাহ মিলে আয়োজন করেন ভিডিওকলের। ২০ বছর পর ভুার্চুয়ালি নিজের মেয়ে ইয়াসমিন শেখকে দেখতে ও কথার বলার সুযোগ পান হামিদা বানু। আবেগঘন ভিডিওকলে ইয়াসমিনকে তার মাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কেমন আছ? তুমি কি আমাকে চিনতে পারছ? এত বছর কোথায় ছিলে?’ কিন্তু হামিদা বানু এসবের উত্তরে শুধু এটুকুই বলছিলেন, ‘জানতে চেয়ো না, কোথায় ছিলাম, কোথায় আছি। তোমাদের খুব মনে পড়ে। ইচ্ছা করে আমি এখানে আসিনি। আমার কোনো বিকল্প ছিল না।’

হামিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই দশক ধরে তাকে খুঁজছিলেন তারা। তবে কোনোভাবেই সন্ধান মিলছিল না। ইয়াসমিন জানান, আগে যখন তার মা অন্য দেশে ছিলেন, তখন মাঝেমধ্যেই ফোন করতেন। তবে শেষবার দেশ ছাড়ার পর আর ফোন করেননি। খবর না পেয়ে একপর্যায়ে তারা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মা ভালো আছেন একটু জানাতো। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান না বলে রিক্রুটিং এজেন্সির লোকেরা বলতো। কিন্তু কিছুদিন পর ওই এজেন্সিকেও আর তারা খুঁজে পায়নি বলে জানায় ইয়াসমিন।

হামিদার কথা শুনে তার প্রতি সহানুভূতি আসে ওয়ালিউল্লাহর। তবে দমে যান ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের কথা চিন্তা করে। সাক্ষাৎকারে হামিদা তার মুম্বাইয়ের ঠিকানা এবং সন্তানের নাম বলেন। এতে তার স্বজনদের খুঁজে পাওয়াটা একটু সহজ হয়। ওয়ালিউল্লাহ জানিয়েছেন, ভিডিও দেখে পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে হামিদা বানুর বিস্তারিত জানিয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে কবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ আসবে তা এখনও অজানা।