আপডেট : বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ৮:৪৬ am

ইরানে বিক্ষোভে ৫ মৃত্যু

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
ইরানে বিক্ষোভে ৫ মৃত্যু
তেহরানে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ। ছবি: আল জাজিরা

ইরানে পুলিশি হেফাজতে তরুণীর মৃত্যুর জেরে কুর্দি অঞ্চলে বিক্ষোভে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। স্থানীয় কুর্দি অধিকার সংস্থা দাবি করেছে, নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু হয়েছে। হেনগাও মানবাধিকার সংস্থা এক টুইট বার্তায় জানায় জানিয়েছে, আমিনির নিজ শহর সাকেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালালে দুজন নিহত হন। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে দিভান্ডারেহ শহরে আরও দুজন এবং দেহগোলানে পঞ্চমজন নিহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গুলিতে অন্তত আটজন আহত হন।

 ইসলামি আইন অনুযায়ী ‘সঠিক নিয়মে’ হিজাব না পরায় নৈতিক পুলিশ বা মোরালিটি পুলিশের হাতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর মৃত্যু হয় ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাজধানী তেহরানে গত মঙ্গলবার মাহসাকে গ্রেপ্তার করে তুলে নেয়ার সময় পুলিশ ভ্যানের ভেতর তাকে নির্যাতন করা হয়। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসার হার্ট অ্যাটাক হয়; এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করা হয়েছে।

মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গত কয়েক দিনে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে এই বিক্ষোভে নারীদের পাশাপাশি ইরানি পুরুষও যোগ দিয়েছেন। রাস্তায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক নারী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরার ঘোষণা দিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ-বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। রাজধানী তেহরানে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়, শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন।

মাহসার মৃত্যুর প্রতিবাদে ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মাহসা আমিনির মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির নৈতিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্নেল আহমেদ মিরজাইকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরই নারীদের জন্য হিজাব বাধ্যতামূলক করা হয়। ইরানের ধর্মীয় শাসকদের কাছে নারীদের জন্য এটি ‘অতিক্রম-অযোগ্য সীমারেখা’। বাধ্যতামূলক এই পোশাকবিধি মুসলিম নারীসহ ইরানের সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের নারীদের জন্য প্রযোজ্য। তবে এই নিয়মের বিরুদ্ধে গত দুই দশক ধরেই বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও নারীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। আর এ কারণে তাদের ওপর নির্যাতনের খড়্গও নেমে এসেছে অনেকবার। তবে এবার মাহসার মৃত্যুতে বারুদের মতো বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছে নারী-পুরুষনির্বিশেষে ইরানের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।

এ বিষয়ে ইরানি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদ তার অফিশিয়াল টুইটারে প্রতিবাদী নারীদের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সাত বছর বয়স থেকে আমরা আমাদের চুল ঢেকে রাখতে বাধ্য। তা না হলে আমরা স্কুলে যেতে পারব না, চাকরি পাব না। আমরা এই লিঙ্গ-বৈষম্যভিত্তিক শাসনের অবসান চাই।’