আপডেট : বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ৮:৪৯ am

মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
মিয়ানমারে স্কুলে গুলি, ১১ শিশু নিহত
সেনাবাহিনীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের শ্রেণিকক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় একটি গ্রামের স্কুলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ১১ শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা- ইউনিসেফ। 

বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি সাগাইং অঞ্চলের লেট ইয়েট কোনি গ্রামে গত শুক্রবার একটি বৌদ্ধবিহারের পাশে থাকা স্কুলে এ হামলা হয়। দেশটির জান্তা সরকারের দাবি, স্কুলে বিদ্রোহীদের লুকানোর খবর পেয়ে তারা সেখানে হামলা চালায়। বিবিসি জানায়, বেশির ভাগ শিশুর মরদেহ সামরিক বাহিনী নিয়ে গেছে। একই দিন গ্রামটিতে সামরিক বাহিনীর হামলায় ৬ ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের  মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও একজন নারী।   

ইউনিসেফ জানায়, হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি অবিলম্বে নিখোঁজ ১৫ শিশুকে ফিরিয়ে দিতে সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায়। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি গুলিবর্ষণে নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘সেনাবাহিনীর এক ঘণ্টা ধরে স্কুল কম্পাউন্ডে গুলি চালিয়েছে। এক মিনিটের জন্যও থামেনি।’ হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ শেষে প্রায় ৮০ জন সেনা স্কুলে ঢুকে বলে জানান ওই শিক্ষক।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে স্কুল ভবনে বুলেটের গর্ত এবং রক্তের দাগ দেখা যায়। দুজন স্থানীয় বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী মরদেহগুলোকে ১১ কিলোমিটার (৭ মাইল) দূরে একটি শহরে নিয়ে যায় এবং কবর দেয়। 

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। এর পর থেকে দেশটিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জান্তা সরকারের দমনপীড়নে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, গত বছর ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে জান্তা সরকার মিয়ানমারে স্কুল ও শিক্ষাকর্মীদের লক্ষ্য করে প্রায় ২৬০টি হামলা চালিয়েছে। তবে গত শুক্রবার স্কুলে হামলার ঘটনাতেই সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।