আপডেট : বুধবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২, ৮:৫২ am

সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
সমুদ্রতলে বিস্ময়কর ভাস্কর্য উদ্যান
গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের নিচে মানুষের অবয়বে তৈরি মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রের নীল জলরাশির নিচে হঠাৎ করে কোনো মানব মূর্তি দেখলে কিছুটা ভড়কে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ মূর্তিগুলোর কারণে সমুদ্রের তলদেশটা হয়ে উঠেছে অদ্ভুত সুন্দর। নানা ভঙ্গিমায় থাকা লাইফ সাইজ মূর্তিগুলো যেন সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর সঙ্গে মিশে সমুদ্রের জীবনটাকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত।

ব্রিটিশ ভাস্কর জেসন ডিকেয়ার্স টেইলর শুধু একজন শিল্পীই নন, একজন গভীর সমুদ্রের ডুবুরি ও আন্ডার ওয়াটার ফটোগ্রাফার। কোনো বিশিষ্ট কিংবা জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি নন, সাধারণ মানুষের আদলেই মূর্তি তৈরি করেন জেসন টেইলর। তার বেশির ভাগ মূর্তিই লাইফ সাইজ অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতা ও আকারের। বিভিন্ন মডেলের ছবি নেয়ার পর তাদের সিলিকনের অবয়ব তৈরি করে সিমেন্ট দিয়ে পুরো মূর্তিটি তৈরি করেন তিনি।

তবে শুধু মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই নয়, জেসনের তৈরি এসব মূর্তি সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার্থেও কাজে লাগছে। সমুদ্রে বসানোর এক বছরের মধ্যেই এগুলো রূপান্তরিত হচ্ছে প্রবাল প্রাচীরে। জেসন বলেন, ‘এসব মূর্তি সমুদ্রের কোনো ক্ষতিই করবে না। উল্টো মাছ ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক জীবের কাছে এগুলো তাদের মতো করে নিজস্ব পরিবেশ তৈরি করবে।’

এর আগে ২০১৬ সালে টেইলর ইউরোপের স্প্যানিশ দ্বীপের উপকূলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে আসা শরণার্থীদের অবয়বে তৈরি মূর্তি, যা ইউরোপের প্রথম সমুদ্র তলদেশে ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া প্রায় ৪০০-এরও বেশি মূর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে আরেক বিস্বয়কর ম্যাক্সিকোর কানকুন ভাস্কর্য উদ্যান। এগুলো শুধু পাথুরে মূর্তিই নয়, প্রবাল প্রাচীরের কাজও করছে। ম্যাক্সিকোর কানকুন উপকূলীয় এলাকায় বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হতে বসেছিল। তাই কানকুন কর্তৃপক্ষ জেসন টেইলরকে এই ভাস্কর্য উদ্যান তৈরির অনুরোধ জানান। যাতে করে এখানকার প্রবাল প্রাচীর রক্ষা পায়। এই জাদুঘরটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র তলের ভাস্কর্য উদ্যান।

এ ছাড়া টেইলর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের কাছে গ্রানাডার উপকূলে সমুদ্রের পানির নিচে তৈরি করেছেন আরেকটি অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান। তার এই ভাস্কর্য উদ্যানটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে বিশ্বের ২৫টি বিস্ময়কর বিষয়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত।

জেসন টেইলর সবচেয়ে বড় মূর্তিটি তৈরি করেছেন বাহামাতে। যার ওজন প্রায় ৬০ টন। মূর্তিটি বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে তিনি সমুদ্রে স্থাপন করে আরেক বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই ভাস্কর্য উদ্যানগুলো পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমন অদ্ভুত সুন্দর উদ্যান সমুদ্র তলের পরিবেশকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।