আপডেট : শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ৮:৫৫ am

রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩০০

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ১৩০০
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ছবি: টুইটার থেকে সংগৃহীত

রাশিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে অন্তত ১৩০০ যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করার খবর মিলেছে। ইউক্রেনে নতুন করে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গত বুধবার ভার্চুয়ালি দেয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের দায়ে রাশিয়ার শাস্তি দাবি করেছেন।

ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে রিজার্ভ সেনা তলবের খবরে রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হতে পারে তা আগেই আঁচ করেছিল রুশ প্রশাসন। সে জন্য গত বুধবার মস্কোর প্রসিকিউটর কার্যালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ইন্টারনেটে কেউ গণবিক্ষোভের ডাক দিলে কিংবা বিক্ষোভে অংশ নিলে তার ১৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।  

এবিসি নিউজ জানায়, রুশ মানবাধিকার সংস্থা ওভিডি-ইনফোর হিসাবে রাশিয়ার ৩৮ শহর থেকে প্রায় ১৩০০ জনকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী মস্কো থেকে ৫০২ জন এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ৫২৪ জনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ছাড়া ইরকুতস্ক এবং অন্য সাইবেরিয়ান শহরগুলোয় অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভুল বার্তা ছড়ালে কড়া শাস্তির হুমকি এবং পুতিনবিরোধীদের ওপর পুলিশি হয়রানির কারণে রাশিয়ায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ তেমন একটা হতে পারে না। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী ভেসনা দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। গোষ্ঠীটি টেলিগ্রাম বার্তায় রাশিয়াজুড়ে বহু মানুষকে আটক করার খবর দেয়। একটি ভিডিও ফুটেজে ইয়েকাটেরিনবার্গ শহরে পুলিশকে জোর করে বিক্ষোভকারীদের একটি বাসে তুলতে দেখা যায়।  

এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, রিজার্ভ সেনা তলবের খবরের পর রাশিয়ায় বিমানের টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেছে। মস্কো থেকে তুরস্ক কিংবা দুবাই যাওয়ার বিমান টিকিটের দাম বেড়ে গেছে।

রাশিয়ার শাস্তি চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশে হামলা চালানোর দায়ে বিশ্বের কাছে রাশিয়ার শাস্তি দাবি করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গত বুধবার তিনি ভিডিও ভাষণ দেন। এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একমাত্র তাকেই ভার্চুয়ালি ভাষণ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। জেলেনস্কি তার পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভিডিও ভাষণটিতে ১৫ বার ‘শাস্তি’ কথাটি উল্লেখ করেন।  জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন তার ভূখণ্ড চুরি করার চেষ্টার দায়ে রাশিয়ার শাস্তি দাবি করছে। হাজার মানুষ হত্যার জন্য রাশিয়াকে শাস্তি দিতে হবে। ইউক্রেনের নারী-পুরুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানোর দায়ে রাশিয়াকে শাস্তি দিতে হবে।’ ভাষণের একপর্যায়ে অধিবেশনে থাকা বিশ্বনেতারা দাঁড়িয়ে জেলেনস্কিকে অভিবাদন জানান। এমন দৃশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিরল। জেলেনস্কি রাশিয়াকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য জাতিসংঘের কাছে আহ্বান জানান।

নিষেধাজ্ঞা চাপাতে রাজি ইইউ

রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‍ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত বুধবার এক বৈঠকে রাশিয়ার বিভিন্ন খাত ও ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে রাজি হন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সেনাসমাবেশের ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানায় ইইউ জোট। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাছে ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল জানান, ২৭ দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখতেও একমত হয়েছেন।

 ৩০০ বন্দিবিনিময়

রণাঙ্গনে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেও সবাইকে চমকে দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন প্রায় ৩০০ বন্দিবিনিময় করেছে। আল-জাজিরা জানায়, সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধে প্রথমবারের মতো এত বেশিসংখ্যক বন্দিবিনিময় হলো। সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই বন্দিবিনিময় হয়।  মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মরক্কোর নাগরিকও রয়েছে। এরা ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে রাশিয়ার হাতে ধরা পড়েছিল।

রাশিয়া পাঁচজন কমান্ডারসহ ২১৫ ইউক্রেনীয়কে মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে ইউক্রেন ৫৫ জন রুশ ও মস্কোপন্থি ইউক্রেনীয়কে মুক্তি দেয়। এর মধ্যে ইউক্রেনের নিষিদ্ধ রুশপন্থি দলের নেতা ভিক্টোর মেদভেদচুকও রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার চলছিল।

সৌদি আরব জানায়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যস্থতায় ১০ বিদেশিকে মুক্তি দেয় রাশিয়া। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন ব্রিটিশ, দুজন মার্কিন, একজন ক্রোয়েশিয়ান, একজন মরোক্কান এবং একজন সুইডিশ নাগরিক রয়েছেন।

রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের খবর অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার খবর উত্তর কোরিয়া অস্বীকার করেছে। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, পিয়ংইয়ং এ-সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে ভুয়া বলে দাবি করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এক  প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানায়, তারা কখনোই রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রি করেনি, এমনকি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। উত্তর কোরিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে যুত্তরাষ্ট্র এসব অপপ্রচার চালিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ গতকাল বৃহস্পতিবার এ খবর প্রকাশ করে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মার্কিন প্রশাসন  জানায়, উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়া বিপুল অস্ত্রশস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে লাখ লাখ রকেট ও কামানের গোলা রয়েছে। মস্কো অবশ্য এ ধরনের খবর অস্বীকার করে। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া অস্ত্র লেনদেন করলে তা হবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন।