শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩
GFL সয়েল সেন্সর

স্মার্ট কৃষির পথে মিরপুর, কুষ্টিয়া

মিরপুরের উদ্যোগটি কেবল একটি সেন্সর বিতরণ বা প্রযুক্তি প্রদর্শন নয়; এটি মাঠপর্যায়ে তথ্যনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ তরুণদের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় মডেল।
ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৯

বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন খরচ কমানো। দীর্ঘদিন ধরে অনেক কৃষক মাটির প্রকৃত পুষ্টি অবস্থা না জেনেই প্রচলিত ধারণা, অভিজ্ঞতা কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে আসছেন। ফলে কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার হচ্ছে, আবার কোথাও ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচ, মাটির উর্বরতা, পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উৎপাদনশীলতার ওপর। এই বাস্তবতায় কৃষিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি। বিশেষ করে মাটির তাৎক্ষণিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ফসলভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়ার প্রযুক্তি কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে GFL Soil Sensor Pro প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে এমনই একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ: একটি ইতিবাচক উদ্যোগ : গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল মাঠে ডিজিটাল স্মার্ট GFL Soil Sensor Pro ব্যবহারের ওপর বাস্তব প্রশিক্ষণ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া। প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে কারিগরি আলোচনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য মোট ১৫টি GFL Soil Sensor Pro ডিভাইস উপজেলা কৃষি অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সামনে প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক প্রদর্শন ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ উদ্যোগের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, প্রযুক্তিকে শুধু প্রদর্শনী বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি কৃষকের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কৃষক নিজে মাটি পরীক্ষা, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং ফসলভিত্তিক সার সুপারিশ পাওয়ার প্রক্রিয়া দেখতে ও বুঝতে পারছেন। প্রযুক্তির প্রতি কৃষকের আস্থা তৈরিতে এ ধরনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় IoT প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনা: GFL Soil Sensor Pro একটি IoT-ভিত্তিক স্মার্ট প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মাটির আটটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও বৈশিষ্ট্য তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মাটির অবস্থান এবং নির্দিষ্ট ফসলের পুষ্টি চাহিদা বিবেচনায় সার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া যায়। বিশেষ করে নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P) ও পটাশিয়াম (K), এই তিনটি প্রধান পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগে প্রযুক্তিটি কৃষককে সহায়তা করতে পারে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বাংলা ভাষায়, দেশীয় ডাটায়, ফসলভিত্তিক সার সুপারিশ বা প্রেসক্রিপশন প্রিন্ট করার সুবিধা। অর্থাৎ, কৃষককে আর সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর পদ্ধতিতে সার প্রয়োগের ওপর নির্ভর করতে হবে না। মাটির পরীক্ষার ফলাফল ও ফসলের চাহিদা বিবেচনায় সার ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ কমানো, উৎপাদন খরচ সাশ্রয়, মাটির পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রযুক্তির ফলাফলকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে প্রচলিত পরীক্ষাগারের ফলাফলের সঙ্গে নিয়মিত তুলনামূলক যাচাই এবং স্থানীয় মাটির ধরন অনুযায়ী ক্যালিব্রেশন নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়: বাংলাদেশের কৃষিতে অনেক সময় নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার সম্প্রসারণ সীমিত থাকে। এর অন্যতম কারণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব, প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগে পর্যাপ্ত উদ্যোগের ঘাটতি। মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখানে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিনিয়াস ফার্মস লি: এর সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণের একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রচলিত প্রকল্পনির্ভর কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব উদ্যোগে কৃষকের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। এ ধরনের উদ্যোগ অন্য উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির নতুন ক্ষেত্র: আগামী দিনের কৃষি শুধু প্রচলিত চাষাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি হবে তথ্য, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), ড্রোন এবং ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থাপনা নির্ভর একটি আধুনিক অর্থনৈতিক খাত। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষিত তরুণদের জন্য কৃষিতে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডিজিটাল সার ব্যবস্থাপনা, কৃষি পরামর্শ, প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা এবং কৃষি উপকরণ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

মিরপুরের এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নভিত্তিক ডিজিটাল কৃষিসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। প্রশিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা কৃষকের জমিতে গিয়ে মাটি পরীক্ষা, ফলাফল ব্যাখ্যা এবং ফসলভিত্তিক সার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিতে পারেন। এতে একদিকে কৃষকের সেবা সহজলভ্য হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা ও মাননিয়ন্ত্রণ: একটি ভালো উদ্যোগকে সফল ও টেকসই করতে হলে এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সেন্সরের ফলাফল প্রচলিত মাটি পরীক্ষাগারের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করে নির্ভুলতা যাচাই করতে হবে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন মৌসুম ও ফসলভিত্তিক সার সুপারিশের কার্যকারিতা মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চতুর্থত, কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার ফলাফল, সার ব্যবহারের পরিমাণ, উৎপাদন খরচ ও ফলনের পরিবর্তন সংরক্ষণ করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে উপজেলা ও জেলাভিত্তিক মাটির পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, ফসল পরিকল্পনা এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও তথ্যনির্ভর করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের কৃষিকে টেকসই, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব করতে হলে মাটির স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, মাটির প্রকৃত অবস্থা বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোই হওয়া উচিত আধুনিক কৃষির অন্যতম লক্ষ্য। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে GFL Soil Sensor Pro প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ে ব্যবহার ও কৃষক প্রশিক্ষণ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। এটি শুধু একটি প্রযুক্তির ব্যবহার নয়; বরং কৃষিকে অনুমাননির্ভরতা থেকে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনায় নিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনাময় সূচনা।

আমাদের প্রত্যাশা, মিরপুরের এ উদ্যোগ একটি উপজেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য উপজেলাতেও সম্প্রসারিত হবে। প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে একটি কার্যকর স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা। মাটি বুঝে সার প্রয়োগ, কৃষকের খরচ সাশ্রয়; প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির প্রসার, সুরক্ষিত হোক মাটির স্বাস্থ্য। মাটি বুঝে সার প্রয়োগ, কৃষকের সাশ্রয় ও টেকসই কৃষির নতুন সম্ভাবনা।


নির্বাচিত

ফেসবুকে বন্ধ হচ্ছে ‘রিচ’, চালু হচ্ছে নতুন ‘ভিউয়ারস’

আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে ‘রিচ’ মেট্রিকের পরিবর্তে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের নোটিশ দেখা গেছে মেটার বিজনেস স্যুটে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে ‘রিচ’ মেট্রিকের পরিবর্তে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের নোটিশ দেখা গেছে মেটার বিজনেস স্যুটে। এ পরিবর্তনের ফলে ফেসবুক পেজের কনটেন্ট কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা বিশ্লেষণে নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে কনটেন্ট নির্মাতা, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল বিপণনকর্মীদের।

ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কেশন ল্যাবের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণে মেটা বিজনেস স্যুটের ‘পোস্ট ও রিলস’ ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুকের ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হওয়ার নোটিশ দেখা গেছে। ওই নোটিশে কনটেন্ট কতটি অ্যাকাউন্ট দেখেছে, তা পরিমাপের প্রধান সূচক হিসেবে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা মেটার প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই আপাতত বিজনেস স্যুটে প্রদর্শিত নোটিশের ভিত্তিতেই এ তারিখসংক্রান্ত তথ্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

এত দিন ফেসবুক পেজের কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ‘রিচ’ একটি বহুল ব্যবহৃত সূচক হিসেবে পরিচিত ছিল। এর মাধ্যমে কোনো পোস্ট বা কনটেন্ট কতজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে, তার হিসাব পাওয়া যায়। নতুন ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিকের মাধ্যমে কনটেন্ট দেখেছেন এমন স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা তুলে ধরার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘ভিউস’ বলতে কোনো কনটেন্ট মোট কতবার দেখা হয়েছে, সেই হিসাব বোঝায়। একজন ব্যবহারকারী একই কনটেন্ট একাধিকবার দেখলে প্রতিবারের দেখা ভিউসের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ কারণে ‘ভিউয়ারস’ ও ‘ভিউস’ দুটি আলাদা পরিমাপক। একটি দিয়ে স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বোঝানো হয়, অন্যটি দিয়ে কনটেন্ট দেখার মোট সংখ্যা হিসাব করা হয়।

মেটার এপিআই এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণী সেবার নথিতেও ২০২৬ সালে ফেসবুকের পুরোনো রিচ ও ইমপ্রেশন-সংক্রান্ত কিছু সূচকে পরিবর্তন এবং নতুন মিডিয়া ভিউ ও ভিউয়ারসভিত্তিক হিসাব চালুর তথ্য উঠে এসেছে। তবে এ পরিবর্তন ফেসবুকের সব মেট্রিক, সব সেবা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

নতুন হিসাবপদ্ধতি চালু হলে কনটেন্ট নির্মাতা ও পেজ পরিচালকদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। রিচ ও ভিউয়ারসের গণনার ভিত্তি আলাদা হলে আগের প্রতিবেদন এবং নতুন প্রতিবেদনের সংখ্যার মধ্যে সরাসরি তুলনা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কোনো পেজের ভিউয়ারসের সংখ্যা বাড়া বা কমার অর্থ সব সময় কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস নয়। এ ক্ষেত্রে পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল বিপণন সংস্থার মাসিক ও বার্ষিক পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির সময় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পুরোনো রিচের তথ্যের সঙ্গে নতুন ভিউয়ারসের হিসাব তুলনা করার ক্ষেত্রে মেট্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তি কমবে।

এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে রিচের ভিত্তিতে হিসাব করা এনগেজমেন্ট রেটসহ কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নের বিভিন্ন সূচকেও। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের বিশ্লেষণী টুল ব্যবহারকারীদের নতুন মেট্রিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রতিবেদন ও ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।

ডিজিটাল বিপণন বিশ্লেষকেরা পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ, নতুন মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই এবং প্রতিবেদনে পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার তারিখ উল্লেখ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সময়ের তথ্য তুলনা করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

তবে ‘রিচ’ মেট্রিকে পরিবর্তন আসার অর্থ ফেসবুকের কনটেন্ট বিতরণ অ্যালগরিদম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। বিষয়টি মূলত দর্শকসংখ্যা পরিমাপ ও পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। একইভাবে, ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সব রিচ সূচক বন্ধ হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত নিশ্চিত তথ্যও এখনো পাওয়া যায়নি।

এ পরিস্থিতিতে ফেসবুক পেজ পরিচালকদের নিজেদের মেটা বিজনেস স্যুটে প্রদর্শিত নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ ও নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়ন আরও নির্ভরযোগ্যভাবে করা সম্ভব হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

নিজের ছবিকে ৮০-এর দশকের মতো বানাবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্মার্টফোনে তোলা বর্তমান সময়ের সাধারণ ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই আশির দশকের পুরোনো ছবির আবহে রূপান্তর করা যাচ্ছে। আধুনিক এআই টুলের মাধ্যমে ছবিতে সে সময়ের ফ্যাশন অনুযায়ী পোশাক, চুলের বিশেষ কাট, মেকআপ, আলো এবং অ্যানালগ ফিল্মের দানাদার টেক্সচার নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন পুরোনো দিনের নান্দনিক আবহে নিজের ছবি তৈরির এই রেট্রো ধারা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মূলত আশির দশকের ফ্যাশনে প্রাধান্য পেত ভলিউমযুক্ত বা কিছুটা ফোলা চুল, উজ্জ্বল রঙের মেকআপ, বড় আকারের গয়না এবং কনট্রাস্ট বা উজ্জ্বল রঙের পোশাক। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব উপাদান যুক্ত করে বর্তমানের ছবিকে কয়েক দশক আগের কোনো ফটো স্টুডিওর ফ্রেমে রূপ দেওয়া যায়। এতে শুধু ছবির রঙের পরিবর্তনই ঘটে না, বরং সে সময়কার ৩৫ মিলিমিটার ফিল্মের সূক্ষ্ম দানা, উষ্ণ রং এবং স্টুডিওর সফট ফ্ল্যাশ লাইটিংয়ের মতো বিষয়গুলোও সুনির্দিষ্টভাবে ছবিতে যুক্ত করা সম্ভব হয়।

নিজের ছবিকে এই রেট্রো রূপ দিতে প্রথমে যেকোনো আধুনিক এআই ইমেজ প্ল্যাটফর্মে একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হয়। এরপর প্রম্পট বা নির্দেশনায় বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে যে ব্যক্তির মুখের মূল অবয়ব, বয়স, পরিচয় ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অক্ষুণ্ণ রেখে ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তর করতে হবে। দেশীয় আবহ ফুটিয়ে তুলতে চাইলে নির্দেশনায় তৎকালীন বাংলাদেশের পোশাক, পুরোনো ঢাকার রাস্তাঘাট, কাঠের ভিন্টেজ আসবাব কিংবা ডায়াল ঘোরানো পুরোনো টেলিফোনের মতো বিষয়গুলোও উল্লেখ করা যেতে পারে।

ছবিটিকে বাস্তবসম্মত ও স্বাভাবিক রাখতে একসঙ্গে অতিরিক্ত উপাদানের নির্দেশনা না দিয়ে নির্দিষ্ট একটি রেট্রো স্টাইলের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। চুল ও পোশাকের ধরন সুনির্দিষ্ট করে দিলে এআই তুলনামূলক নিখুঁত ফলাফল দিতে পারে। এআইয়ের সহায়তায় আলো, ছায়া ও অতীতের পরিবেশকে সঠিকভাবে অনুকরণ করার এই সুবিধা সাধারণ ব্যবহারকারীদের সহজেই এক ভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করছে।


নির্বাচিত

হঠাৎ বন্ধ ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এর বার্তা আদান-প্রদানকারী অ্যাপ মেসেঞ্জারের ওয়েব ভার্সন ব্যবহারে আকস্মিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। রোববার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের পর হতে অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে, ডেস্কটপ ব্রাউজার থেকে ফেসবুকে প্রবেশ করতে গিয়ে তাঁরা অচল অবস্থার মুখে পড়ছেন। তবে স্মার্টফোনের মোবাইল অ্যাপে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার স্বাভাবিকভাবে চললেও ব্রাউজারে নিউজফিড লোড না হওয়া এবং বার্তা প্রেরণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবহারকারীদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটারের ব্রাউজার হতে ফেসবুক ব্যবহার করতে গেলে নতুন কোনো পোস্ট দেখা যাচ্ছে না এবং মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তাগুলো দীর্ঘক্ষণ ধরে ‘সেন্ডিং’ অবস্থায় আটকে থাকছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সারদের দাপ্তরিক কাজও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাঁদের জন্য এই সাময়িক যান্ত্রিক গোলযোগ বড় ধরণের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকের মতো বিশাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরণের কারিগরি সমস্যা কেবল বিনোদন নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমানে অনেক উদ্যোক্তা ও সংবাদমাধ্যম তাঁদের প্রচারের জন্য ফেসবুকের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। যদিও মেটা কর্তৃপক্ষের পক্ষ হতে এখন পর্যন্ত এই সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ বা সমাধানের সময়সীমা সম্পর্কে কোনো দাপ্তরিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে ব্যবহারকারীরা আশা করছেন দ্রুতই এই সেবা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।


নির্বাচিত

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ শুরু, ফিনিক্স সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা ও ডিজিটাল রিজাইলেন্স জোরদারের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার সিকিউরিটি কনভারজেন্স প্ল্যাটফর্ম ফিনিক্স সামিট ২০২৬। ‘ক্লোজিং দ্য সাইবার গ্যাপ ইন ইমার্জিং ইকোনোমিস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এই সামিটের মূল কনফারেন্স আজ শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সরকারি নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের শীর্ষ নির্বাহী, একাডেমিক প্রতিনিধি, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তি গবেষক, শিক্ষার্থী এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের অন্যতম শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা উদ্যোগ দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ (টিটিপিজি), পাওয়ার্ড বাই ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, এই আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ১০ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হবেন। সম্মেলনের প্রথম দিনে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল রিজাইলেন্স, জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সাইবার হুমকি মোকাবিলা নিয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আলোচনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরছেন।

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “প্রথম যখন আয়োজকদের কাছ থেকে এই সামিটের পরিকল্পনার কথা শুনি, তখন বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগের কথা আমি প্রথমবারের মতো শুনলাম এবং খুবই অভিভূত হয়েছিলাম। এগুলো মূলত আমার মনের কথাই ছিল। আয়োজকদের ধারণা শোনার পর আমি দেখলাম, এখানে অনেকেই আইটি সম্পর্কে জানেন এবং বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করতে চান। এজন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। এখানে যারা অংশীদার হয়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই যে তারা বাংলাদেশে আইটি খাতে কিছু করার জন্য এগিয়ে এসেছেন।”

তিনি বলেন, “এই সামিটের প্রধান বিষয় হচ্ছে সাইবার সিকিউরিটি। এখানে স্টলগুলো ঘুরে দেখলাম, খুবই অসাধারণ সব উদ্যোগ ও ধারণা রয়েছে। আমিও কিছু আইডিয়া শেয়ার করেছি। আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আমাদের সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা মাত্র ১০০ বা ১৫০ দিন হলো সরকারে এসেছি, তবে আমরা এসব পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করব।”

এ বিষয়ে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের ফাউন্ডার ও চিফ অব রিসার্চ এএসএম শামীম রেজা বলেন, “সাইবার সিকিউরিটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার, শিল্পখাত, একাডেমিয়া এবং সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবীদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে আমরা দেশের সাইবার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চাই।”

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া সামিটের প্রথম তিন দিনে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ ছিল ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির (এনসিএসএ) সহযোগিতায় আয়োজিত ‘প্র্যাক্টিক্যাল সাইবার ইনভেস্টিগেশন’ কর্মশালা। এছাড়া ‘ডেভসেকঅপস ফর প্র্যাকটিশনার্স’, ‘মাস্টার অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি: ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং’ এবং ‘র‍্যানসামওয়্যার মেকানিক্স’ শীর্ষক কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সাইবার ইনভেস্টিগেশন, ডেভসেকঅপস, অ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটি, ভালনারেবিলিটি ম্যানেজমেন্ট এবং র‍্যানসামওয়্যার প্রতিরোধ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া, সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠান আগামীকাল ২৭ জুন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

সামিটটি সফল হতে সহযোগিতা করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ)। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও ইন অ্যাসোসিয়েশন উইথ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এক্সেনটেক পিএলসি। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল), ম্যাগনাস কর্পোরেশন, সান্স ইনস্টিটিউট, এমজিএইচ, মোহাম্মদ অ্যান্ড সন্স ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি ও ম্যাক্সক্রিট। এছাড়াও, ব্রোঞ্জ স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এগ্রোশিফট, গোল্ড কিনেন, এপনিক, বিজিআই, সাইহাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সিটিজেনস ব্যাংক, বেঙ্গল ইনফোসেক লিমিটেড ও অরেঞ্জ সল্যুশন লিমিটেড। সাইবার সিকিউরিটি নলেজ পার্টনার হিসেবে রয়েছে এপনিক, সান্স ইনস্টিটিউট ও রিসিকিউরিটি। পাশাপাশি, ফেলোশিপ পার্টনার হিসেবে ফ্ল্যাক্সঅপ্টিক্স জিএমবিএইচ ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে এসসিআইটিপি ও আইএসপিএবি রয়েছে।


নির্বাচিত

বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারের সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৬ ২০:০৮
অনলাইন ডেস্ক

মেটা-র মালিকানাধীন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা থেকেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহারে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন জটিলতার কথা জানাচ্ছেন। ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট ‘ডাউন ডিটেক্টর’ সহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই বিভ্রাটের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, তারা নিজেদের ফেসবুক আইডিতে লগ-ইন করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন। এর পাশাপাশি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট লোড হতে দীর্ঘ সময় নেওয়া এবং নিউজফিড স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট না হওয়ার মতো বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।

ফেসবুকের এই আকস্মিক জটিলতা নিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে এই ত্রুটির সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই সাময়িক অচলাবস্থার ফলে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের আকাশে বিরল ব্লু মুনের দেখা মিলবে আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আজ রাতের আকাশে এক অনন্য ও বিরল মহাজাগতিক আভা ছড়াতে আসছে ‘ব্লু মাইক্রোমুন’। একই পঞ্জিকাবর্ষের এক মাসে দুইবার পূর্ণিমা হওয়ায় একে ‘ব্লু মুন’ এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথের দূরত্ব সবথেকে বেশি হওয়ায় একে ‘মাইক্রোমুন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিশেষ পূর্ণিমায় চাঁদকে সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রায় ৬ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র এবং ১০ শতাংশের মতো অনুজ্জ্বল মনে হতে পারে। তবে নীল নাম থাকলেও বাস্তবিকভাবে চাঁদটি তার চিরচেনা সাদা বা মৃদু হলদেটে আভা নিয়েই উদিত হবে।

একটি গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে জানায় যে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকরা আজ রাতের পূর্ব আকাশে এই দৃশ্যের দেখা পাবেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, সাধারণ পূর্ণিমার সাথে খালি চোখে এই আকারের পার্থক্য খুব একটা স্পষ্ট না হলেও দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের সূক্ষ্ম কারুকার্য ও ম্লান ভাবটি পরিষ্কার ধরা পড়বে। মূলত চাঁদের ২৯.৫ দিনের চক্র আমাদের ক্যালেন্ডার মাসের সাথে হুবহু না মেলার কারণেই প্রতি দুই বা তিন বছর অন্তর একই মাসে দুবার পূর্ণিমার দেখা মেলে।

এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুসারে, পশ্চিমা দেশগুলোতে ৩০ মে এই দৃশ্যের দেখা মিললেও এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে অর্থাৎ বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের আকাশে রোববার (৩১ মে) রাতভর চাঁদটি তার পূর্ণ অবয়ব নিয়ে উপস্থিত থাকবে। আকাশপ্রেমীদের জন্য এটি এক বিশেষ সুযোগ, কারণ কোনো বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম বা চশমা ছাড়াই খালি চোখে মহাকাশের এই মনোরম পরিবর্তন সরাসরি উপভোগ করা সম্ভব হবে। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই পূর্ব দিগন্তে এই বিশেষ চাঁদের দেখা মিলবে যা রাত বাড়ার সাথে সাথে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


নির্বাচিত

উদ্ভাবনী কৌশলে এগিয়ে যেতে বিজ্ঞান গবেষণার বিকল্প নেই: হুইপ বকুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনায় বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রিয় করতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং মেলা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলা উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।

হুইপ বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে আজকের বিশ্বের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ হচ্ছে। জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী কৌশলে এগিয়ে থাকতে বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল ফোনকে শুধু যোগাযোগ ও বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, দেশ গড়ার কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।’

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান ও জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) সিফাত মেহনাজ।

তিন দিনব্যাপী মেলায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ৬০টি স্টলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী ও আইডিয়া প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


নির্বাচিত

ইনস্টাগ্রামে আসছে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আয়ের পথ খুঁজছে মেটা। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি দেশে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যার নাম ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবেন কিছু বিশেষ ফিচার। যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ নামের এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় ব্যবহারকারীরা স্টোরি দেখলেও সেটি পোস্টদাতার কাছে ধরা পড়বে না। অর্থাৎ গোপনে স্টোরি দেখার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি নিজের স্টোরি কতজন একাধিকবার দেখেছেন সেই তথ্যও জানা যাবে।

এছাড়া স্টোরি শেয়ারের ক্ষেত্রে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পাবেন গ্রাহকেরা। এখন পর্যন্ত ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ তালিকার বাইরে আলাদা করে দর্শক নির্ধারণের সুযোগ সীমিত ছিল। নতুন এই ফিচারে একাধিক অডিয়েন্স তালিকা তৈরি করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট গ্রুপ বেছে নিয়ে স্টোরি শেয়ার করতে পারবেন।

স্টোরির সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পর স্টোরি মুছে যায়। তবে সাবস্ক্রিপশন নিলে এটি আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার স্টোরিকে ‘স্পটলাইট’ করার সুযোগ থাকবে। যা অনুসারীদের স্টোরি তালিকার শুরুতে প্রদর্শিত হবে।

ইনস্টাগ্রাম প্লাসে আরও যুক্ত হয়েছে ‘সুপারলাইক’ নামের একটি অ্যানিমেটেড প্রতিক্রিয়া। এছাড়া স্টোরি ভিউয়ার তালিকায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যবহারকারীকে দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও থাকছে।

যদিও মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কোন দেশে এই পরীক্ষা চলছে তা জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মেক্সিকো, জাপান এবং ফিলিপাইন-এ এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশভেদে সাবস্ক্রিপশনের মূল্য ভিন্ন। মেক্সিকোতে এর মাসিক খরচ প্রায় ২ ডলার, জাপানে প্রায় একই আর ফিলিপাইনে এর চেয়েও কম।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ মেটার আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ‘সাবস্ক্রিপশন ক্লান্তি’ বা অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন সেবার কারণে ব্যবহারকারীদের অনাগ্রহও তৈরি হতে পারে।

প্রিমিয়াম ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই করছে মেটা। এখন দেখার বিষয়, পরীক্ষার পর এই সেবা কতটা বিস্তৃতভাবে চালু করা হয়।


নির্বাচিত

নিউ মেক্সিকোর আদালতে মেটাকে বড় অঙ্কের জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং শিশুদের অনলাইন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার দায়ে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি জুরি বোর্ড দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের শুনানি শেষে এই রায় প্রদান করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই টেক জায়ান্ট তাদের প্ল্যাটফর্মে বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে শিশু যৌন শোষণ ও মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধের পথ প্রশস্ত করেছে।

নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, মেটা জেনেশুনে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন পরিবেশ বজায় রেখেছে যেখানে শিশুদের ওপর লালসাগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা 'প্রিডেটরদের' অবাধ বিচরণ ছিল। জুরি বোর্ড তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে যে, মেটা নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন মোট ৭৫ হাজার বার লঙ্ঘন করেছে। প্রতিটি লঙ্ঘনের বিপরীতে ৫ হাজার ডলার করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে জরিমানার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারে। আদালতের এই রায়কে শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য একটি 'ঐতিহাসিক জয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল তোরেজ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, কোনো বড় কোম্পানিই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং জননিরাপত্তার বিষয়ে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

এই মামলার মূল ভিত্তি ছিল ২০২৩ সালের একটি অত্যন্ত গোপন ও সংবেদনশীল তদন্ত। সেই সময় তদন্তকারীরা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিচয়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট খোলেন। অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে দেখা যায় যে, অ্যাকাউন্ট খোলার পরপরই সেই ছদ্মবেশী শিশুদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন বার্তা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আপত্তিকর যোগাযোগের অনুরোধ আসতে শুরু করে। আদালত মনে করে, মেটা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে বরং এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে এক প্রকার প্রশ্রয় দিয়েছে, যা বাস্তব জীবনেও শিশুদের জন্য মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আদালতের এই রায়ের সঙ্গে মেটা কর্তৃপক্ষ একমত হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। মেটার দাবি, প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং তাঁরা নিয়মিতভাবে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, মেটা ব্যবহারকারীদের কাছে ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি। যদিও জুরি বোর্ড মেটার এই আত্মপক্ষ সমর্থনকে পর্যাপ্ত মনে করেনি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বজুড়ে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মেটার বিরুদ্ধে আরও হাজার হাজার মামলা চলমান রয়েছে, যেখানে প্ল্যাটফর্মের ডিজাইন এমনভাবে করার অভিযোগ আনা হয়েছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে। আগামী মে মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত মেটাকে তাদের প্ল্যাটফর্মের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রায় মূলত ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


নির্বাচিত

গাইবান্ধার তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ বাড়ছে ফ্রিল্যান্সিংয়ে

* স্মার্টফোনে স্বপ্ন বুননে স্বাবলম্বী রিয়াদ-শাকিলা দম্পতি * ৭ বছরে রিয়াদের প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার * প্রশিক্ষণে স্বাবলম্বী হয়েছে ৮০০-এর অধিক তরুণ * মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিংয়ের আলোকবর্তিকা গাইবান্ধার রিয়াদ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উত্তরের দরিদ্র জনপদ গাইবান্ধা- যেখানে শিল্পকারখানা নেই, নেই পর্যাপ্ত পার্টটাইম চাকরির সুযোগ। সেখানকার প্রত্যন্ত গ্রামের এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান মো. রিয়াদ হোসেন, স্থানীয়ভাবে তিনি ‘রুবান হাসান রিয়াদ’ নামে পরিচিত। জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর সীমিত সম্পদের মধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ-‘মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিং’।

মাত্র একটি স্মার্টফোন বা স্বল্প ক্ষমতার কম্পিউটার দিয়েই প্রযুক্তি দক্ষতা অর্জন ও অনলাইনে আয় সম্ভব- এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন হাজারও তরুণের জীবন। যারা এখন আয় করছেন হাজার থেকে লাখ টাকাও।

জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের তালুক-জামিরা গ্রামের কৃষক সেলিম বেপারির ছেলে রিয়াদ হাসান। পরিবারের আর্থিক টানাপোড়নের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি দেড় বছর ঢাকার একটি গার্মেন্ট কারখানায় পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু করোনা মহামারিতে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। জীবনের সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান সহধর্মিণী সাবিয়া সুলতানা শাকিলা। তার উৎসাহে রিয়াদ অনলাইনে আয় করার পথ খুঁজতে শুরু করেন। ইউটিউব SEO ও কনটেন্ট SEO কোর্স করে ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন জীবনের যাত্রা। নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতা এবং পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা-চেষ্টায় যে পরিবর্তন সম্ভব সেটির বিস্তার লাভের প্রথম স্বপ্ন দেখেন গ্রামের দারিদ্র্য আর অবহেলিত পরিবারের যুবকদের নিয়ে। যেখানে প্রথম যাত্রায় রিয়াদ সফল হন।

‘মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিং’-একটি উদ্ভাবনী ধারণা:

২০১৯ সাল থেকেই রিয়াদ উপলব্ধি করেন- গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে দামি ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ নেই। ফলে তারা প্রযুক্তি শিক্ষা ও ফ্রিল্যান্সিং থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতা থেকেই তিনি শুরু করেন ‘মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিং’ উদ্যোগ।

তার উদ্ভাবনী ধারণা ছিল- ‘স্মার্টফোন দিয়েও ফ্রিল্যান্সিং শেখা সম্ভব, যদি সঠিক গাইডলাইন ও লো-ডিভাইসবান্ধব কারিকুলাম থাকে।’

নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেন একটি সহজ ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু স্মার্টফোন বা সেকেন্ড-হ্যান্ড ডিভাইস দিয়েই ডিজিটাল স্কিল শিখতে পারে।

৭ বছরে তার শিক্ষার্থী ৫ হাজার, স্বাবলম্বী ৮০০-এর অধিক তরুণ:

রিয়াদের দাবি, গত সাত বছরে তার এই উদ্যোগে খণ্ডকালীনভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছে প্রায় ৫,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি এখন নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং করে কমবেশি আয় করছে।

রিয়াদের ভাষায়, আমি দেখেছি, দারিদ্র্য নয়-সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবই বড় সমস্যা। সঠিক পথ দেখালে গ্রাম থেকেই বিশ্ববাজারে কাজ করা সম্ভব।

এদিকে রিয়াদের প্রশিক্ষণ নিয়ে বদলে গেছে অনেকের জীবন। এর মধ্যে পলাশবাড়ীর সুজন সরকার অন্যতম। স্বল্প বেতনের চাকরি ছেড়ে তিনি রিয়াদের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। পরে স্ত্রী ইতিমনিকে সঙ্গে নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েশনে কাজ শুরু করেন।

শুরুটা ছিল একটি স্মার্টফোন দিয়ে। আজ তারা অনলাইন আয়ের মাধ্যমে মোটরবাইক, আইফোন এমনকি জমিজমাও কিনেছেন।

তাদের সফলতা দেখে এলাকার আরও অনেক তরুণ-তরুণী এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহী হচ্ছেন।

মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এক তরুণ উদ্যোক্তা:

শুধু ডিজিটাল দক্ষতা নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্ব দেন রিয়াদ। ব্যক্তিগত আয়ের একটি অংশ দিয়ে তিনি গাইবান্ধার দরিদ্র, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান।

তিনি বিশ্বাস করেন, দক্ষতা শেখানোর পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা জরুরি। তাহলেই সমাজ সত্যিকারের উন্নত হবে।

নিজেদের জীবনেও এসেছে সফলতার আলো। বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে লাখ টাকা আয় করছেন তারা। সংগ্রামমুখর শুরু হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমে আজ তারা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

শুধু তাই না কর্মদক্ষতায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫ সালের ফ্রিল্যান্সিং কোর্স উপজেলা সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন রিয়াদ, যা এখনো অব্যহত রয়েছে।

একই সাথে একই বছরের (আগস্ট-নভেম্বর) তিন মাসব্যাপী পলাশবাড়ী উপজেলায় কোর্স সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেছেন তিনি।

এ ছাড়া গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় ও সদর পৌরসভাসহ আটটি ভেনুতে পরিচালিত ফ্রিল্যান্সিং কোর্সেও দায়িত্বপালন করেছেন একজন দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে।

শূন্য থেকে সাত বছরে এই সফলতার পেছনের মূলমন্ত্র হিসেবে রিয়াদ জানান, আমি কখনো এটাকে পেশা হিসেবে দেখিনি! এটি ছিল আমার আবেগ ও দায়িত্ববোধ।

রিয়াদ বলেন, ‘আমার মূল পরিকল্পনায় ছিল ফ্রিল্যান্সিংয়ে, সব চেয়ে বড় বাধা আধুনিক ও দামি ডিভাইস যেখান থেকে সহজলভ্যতা বা সহজীকরণ। শিক্ষার্থীরা যেন শুধু একটি স্মার্টফোন বা স্বল্প মূল্যে কেনা ডিভাইস ব্যবহার করেই—বেসিক গ্রাফিক্স ডিজাইন (Canva, PixelLab), ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও কপিরাইটিং, ভিডিও, এডিটিং (CapCut, Kinemaster, Insot, vn), অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, অনলাইন আয়ের বেসিক ধারণা ও মার্কেটপ্লেস পরিচিতি শিখতে পারে। এমন একটি সম্পূর্ণ কারিকুলাম তৈরি করা। যেটাতে আমি বলা যায় সফল।’

সহধর্মিণী সাবিয়া সুলতানা শাকিলা বলেন, ‘আত্মবিশ্বাস, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সঠিক গাইডলাইনেই মেলে সফলতা। যা আমি অনেক কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছি। শুরুটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তরুণদের প্রযুক্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান ছিল তার।’

পলাশবাড়ির বরিশাল ইউনিয়নের পাপুল সরকার বলেন, ‘আমি রিয়াদ স্যারের কাছে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন সফলভাবে কাজ করচ্ছি। ফাইবারে আয় শুরু হয়েছে আমার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন গল্পের অঙ্গীকারে যাত্রা শুরু করা ইউটিউব চ্যানেল ‘moyna documentary’ রিয়াদের হাতেই আবিষ্কৃত।’

চ্যানেলটির পরিচালনা পর্ষদের প্রধান কর্মকর্তা নূর আলম আকন্দ বলেন, ‘রিয়াদ সরাসরি প্রশিক্ষক ও মেন্টর, একই সাথে মোটিভেশনার। ফলে তার এত দ্রুত সফলতা। আমি বিশ্বাস করি তার সরলতা, সততা ও অন্যকে জ্ঞান বিলানোর এই প্রবণতা অব্যহত থাকলে সে সফলতার সর্বোচ্চ চূরায় পৌঁছাবেই।’


নির্বাচিত

ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে ডি-রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক: নিয়ম জানাল বিটিআরসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এখন থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি, অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা নিজের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড পরিবর্তন করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে হ্যান্ডসেটটির নিবন্ধন বাতিল বা ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করতে হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মঙ্গলবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানিয়েছে। কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ বা এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকা প্রতিটি হ্যান্ডসেট বর্তমানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে নিবন্ধিত হয়ে আছে। ফলে মোবাইলটি অন্য কোনো মালিকানায় হস্তান্তর করতে হলে দাপ্তরিকভাবে এর পূর্বের নিবন্ধন বাতিল করা জরুরি।

বিটিআরসি জানিয়েছে, নিবন্ধিত মোবাইল ফোন ডি-রেজিস্ট্রেশন করার জন্য প্রধানত দুটি সহজ মাধ্যম ব্যবহার করা যাবে। প্রথমত, সিটিজেন পোর্টালের (neir.btrc.gov.bd) মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। ব্যবহারকারীকে পোর্টালে লগ-ইন করে তার ড্যাশবোর্ডে গিয়ে তালিকায় থাকা ডিভাইসগুলোর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট হ্যান্ডসেটটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘ডি-রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ হবে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিম কেনার সময় ব্যবহৃত এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রদান করতে হবে।

দ্বিতীয় মাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ইউএসএসডি (USSD) কোড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। গ্রাহক তার মোবাইল ফোনের কল অপশনে গিয়ে *১৬১৬১# ডায়াল করে সরাসরি এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কোডটি ডায়াল করার পর স্ক্রিনে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী ডি-রেজিস্ট্রেশন অপশনটি নির্বাচন করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলো অনুসরণ করে হ্যান্ডসেটটি অবমুক্ত করা যাবে। তবে কমিশন সতর্ক করে দিয়েছে যে, ডি-রেজিস্ট্রেশনের সময় গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন, সেটি অবশ্যই তার নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। তা না হলে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন বাতিল করা সম্ভব হবে না।

বিশেষ ক্ষেত্রে অর্থাৎ ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন হবে। এই ধরণের হ্যান্ডসেট অবমুক্ত করার সময় অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য সিম নম্বরটি প্রদান করতে হতে পারে। মূলত হ্যান্ডসেট চুরি বা অবৈধ ব্যবহার রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বিটিআরসি এই কঠোর ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য গ্রাহকদের বিটিআরসি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো ধরণের যান্ত্রিক জটিলতা বা সহায়তার জন্য বিটিআরসি’র কল সেন্টার ‘১০০’ অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। এই নতুন নিয়মের ফলে সেকেন্ড হ্যান্ড মোবাইল কেনা-বেচার বাজারে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়াতে ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশের প্রযুক্তিখাতের উন্নয়নে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু করেছে। ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার (এনডিসি)-এর ক্লাউড ফ্যাসিলিটির আওতাধীন ভৌত অবকাঠামো, স্টোরেজ, মেমোরি ও প্রসেসিং পাওয়ার, সিকিউরিটি এবং মনিটরিং—এই পাঁচটি মূল কম্পোনেন্টের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন এসব কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে জাতীয় ডেটা সেন্টারের ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসেসিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার ভার্চুয়াল কোর এবং মেমোরি সক্ষমতা ১৭০ টেরাবাইটে উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ৪০ পেটাফ্লপ এআই সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) উন্নয়নের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া ডেটা স্টোরেজ সক্ষমতা প্রায় ৮ পেটাবাইট সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সুরক্ষায় ফিজিক্যাল আইসোলেশন সুবিধাসহ এন্টি-র্যানসমওয়্যার স্টোরেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এনভিডিয়া ভোল্টা আর্কিটেকচার টেনসর কোর জিপিইউ ভিত্তিক ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্মও স্থাপন করা হয়েছে।

সরকারের ছয় শতাধিক সংস্থার ই-মেইল সিস্টেম এবং ক্লাউড স্টোরেজ হোস্টিং সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো হিসেবে ‘নিউটানিক্স প্রাইভেট ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক জিপিইউ সেবাযুক্ত এই অবকাঠামোর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের এআই ওয়ার্কলোড পরিচালনার পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ভিত্তিক উদ্ভাবনী সেবা চালু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনগুলোর আধুনিকায়ন এবং সফটওয়্যার জীবনচক্র ব্যবস্থাপনায় ডেভওপস ও ডেভসেকওপস প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বর্তমান ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টারের সীমাবদ্ধতা ও অপ্রতুলতা কাটিয়ে উঠতে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে একটি তিনতলা বিশিষ্ট টায়ার-৩ সার্টিফায়েড পূর্ণাঙ্গ ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। নতুন এই সেন্টারে উচ্চ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন দুই শতাধিক আইটি কেবিনেট ও রেক স্থাপনের ব্যবস্থা থাকছে, যেখানে সাধারণ কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি এআই ওয়ার্কলোডও হোস্ট করা যাবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে এই সক্ষমতা মাত্র ১৬টি সাধারণ রেকে সীমাবদ্ধ। ২০১৯ সালে জাতীয় ডেটা সেন্টারে প্রথমবারের মতো সরকারি ক্লাউড সেবা চালু হলেও তখন মাত্র ১১টি ক্যাটাগরিতে সেবা পাওয়া যেত। ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ অগ্রাধিকারমূলক খাত বিবেচনায় বর্তমানে সেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close