বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ইশরাক

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ইশরাকের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরি ও তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ।

মহিউদ্দিন চৌধুরি জানান, ইশরাক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।

গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপি নেতা ইশরাকসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আতাউর রহমান ভূইয়া।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচন ‘বানচাল করার লক্ষ্যে’ আসামিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

গত বছরের ৬ এপ্রিল মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে ইশরাক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শ্রমিক দলের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। গ্রেপ্তারের পরই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ইশরাকের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে ওইদিনই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) তামান্না ফারহার আদালত।

১২ এপ্রিল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ মামলায় ইশরাক জামিনে ছিলেন। গত ৫ ডিসেম্বর তিনি আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিষয়:

জ্বালানি খাতে দুর্নীতি রোধে তদন্ত কমিশন গঠন করুন: ড. কামাল

ড. কামাল হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে এ খাতের দুর্নীতি ও অপচয় রোধে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকার গণশুনানি ছাড়াই এক মাসের মধ্যে দুবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। এর সঙ্গে সরকারের জ্বালানি খাতে সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।

যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়।


দুর্নীতির সূচকে দেশকে এক ধাপ নামানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:০৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অনেকের মতেই নির্বাচনের বছর বলে বিশ্ব বেনিয়াদের প্রেসক্রিপশনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশকে এক ধাপ নামানো হয়েছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্ব দুর্নীতি সূচক ২০২২ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এক ধাপ পিছিয়ে পড়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলছেন, এটা তো নির্বাচনের বছর, এ জন্য বিশ্ব বেনিয়াদের প্রেসক্রিপশনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক পয়েন্ট কমিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে তো আর কোনো প্রতিবেদন হবে না। আগামী বছর আবার জানুয়ারিতে বা ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রতিবেদন হবে তখন নির্বাচন হয়ে যাবে।’

‘ইদানীংকালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রম অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে যখন মিথ্যা অভিযোগ উপস্থাপন করা হলো, তখন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল আগ বাড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে দুর্নীতি হয়েছে বলে। পরে দেখা গেল যে দুর্নীতি তো হয়ইনি, বরং কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংক হেরে গেছে। বিশ্বব্যাংক আবার এসে প্রস্তাব করেছে যে তারা অর্থায়ন করতে চায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নেননি। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চায়নি। এভাবে করোনার টিকা নিয়েও এবং আরও নানা বিষয়ের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নানা বক্তব্য ছিল, যেগুলো অনেকটাই মনে হয়েছে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতো সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন থাকা এবং তাদের কার্যক্রমকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু তাদের কার্যক্রম যদি বিশ্ব বেনিয়াদের প্রেসক্রিপশনে হয় বা তাদের কারও কারও সহায়ক হিসেবে হয় কিংবা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আগে বিএনপির সময় পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, চারবার এককভাবে, একবার যুগ্মভাবে আফ্রিকার একটি দেশের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি দমন করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছেন। বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেছে।’

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিএনপির সমালোচনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব তো শিক্ষক ছিলেন, ঢাকা কলেজে পড়াতেন। তাকে বলব, আগে পড়াতেন এখন সম্ভব হলে পড়তে হবে। কারণ ইউরোপের সব দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে জ্বালানির মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি। আমেরিকাসহ সব উন্নত দেশে বিদ্যুতের মূল্য বেড়েছে, কারণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরও বাংলাদেশ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কত ভর্তুকি দেয়া যায়! ভর্তুকিরও তো একটা মাত্রা আছে। আমাদের অর্থনীতিকে তো টিকিয়ে রাখতে হবে। সে জন্য মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।’


বিএনপি নীরব থাকলেও আ.লীগ ভয় পায়: মির্জা আব্বাস

রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনে পদযাত্রার আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চিৎকার করলেও আওয়ামী লীগ ভয় পায়, আবার নীরব থাকলেও ভয় পায়। বিএনপির পদযাত্রায় রাস্তা প্রকম্পিত হচ্ছে। সেই কারণে আওয়ামী লীগ ভয় পেয়ে গেছে।’

রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনে বুধবার বিকেলে বিএনপির পদযাত্রার আগে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ পদযাত্রা কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা বলিনি, আমাদের মন্ত্রিত্ব দেন, বিএনপির জন্য গদি ছেড়ে দেন। আমরা জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলছি। আজকে আমাদের এই পদযাত্রা জনগণের দাবি নিয়ে। তারা (আওয়ামী লীগ) টের পেয়ে গেছে বেশি দিন আর ক্ষমতায় নেই। তাই এ মুহূর্তে দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা (আওয়ামী লীগ) আমাদের বলে, বিএনপি-জামায়াত। আমি বলি আওয়ামী জামায়াত।’

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে সরকারের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হঠাৎ করে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেয়া হলো। বিদ্যুৎ মন্ত্রী বললেন মাসে-মাসে সমন্বয় করা হবে। ভাবটা এরকম যেন এটা কারও রাজত্ব। রাজার হুকুম মতো দেশ চলবে।’

আওয়ামী লীগ সরকারকে মানুষ বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এ দেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু প্রয়োজনে তারা এমন শক্ত হয়, তখন তাদের মতো আর কেউ নেই। এই সরকারকে এখন মানুষ বিশ্বাস করে না। শেখ হাসিনার সরকার আগে বলেছে ঘরে ঘরে চাকরি। এখন তারা উপদেশ দিচ্ছে, ব্যবসা করেন।’

বর্তমান সরকার অবৈধ সরকার মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘এখন তো দেশে কোনো সরকার নেই। একটা অবৈধ দানব আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এই দানবকে ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’

বিএনপির পদত্যাগে শূন্য হওয়া ছয় আসনে উপনির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে কুকুর ঘুমিয়ে আছে। সেখানে ভোটার নেই। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের আসতে পুলিশ আজ মাইকিং করছে। এটাই এই সরকারের চিত্র।’

বিএনপির পদযাত্রাকে আওয়ামী লীগের পতনযাত্রা মন্তব্য করে আব্বাস আরও বলেন, ‘এই পদযাত্রা আওয়ামী লীগের পতনযাত্রা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষায়। আজকে আমি মুগদা থেকে হেঁটে এলাম। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতির কারণে সুঁই ফেলারও জায়গা নেই।’

কমলাপুর স্টেডিয়ামের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ২টায়। তবে তা শুরু হয় বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে। এর আগে বেলা ১টা থেকেই কমলাপুর স্টেডিয়াম এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। মালিবাগ বাজারের সামনে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু। পদযাত্রা ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, মীরা সরাফত আলী সপু, ইশরাক হোসেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে রামপুরা হয়ে মালিবাগ হোটেল পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। এরপর গত সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত পদযাত্রা করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। গত মঙ্গলবার গাবতলী থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।


বিএনপির ছেড়ে দেয়া ৬ আসনে ভোট আজ

বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হবে বুধবার। আগের দিন মঙ্গলবার বগুড়া শহরের পৌর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ২৩ জন, বাকি ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। বিএনপি ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দলটির চার নেতা ভোট করছেন এই নির্বাচনে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ছয়টি আসনে একযোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। ছয় আসনের ৮৬৭ কেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে। গতকাল মঙ্গলবার আসনগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম। নিজেদের প্রথম সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যবহার করলেও এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবহার করছে না ইসি।

সংসদীয় আসনগুলোতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হবে আশাবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি আছে। কেবল সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করিনি। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার, আমরা সব করেছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২

ছয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা ধরনের চমক দেখাচ্ছে এই আসনটি। বিএনপির যে সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়েছে, সেই উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াই আবার দল থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি, শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দেয়নি। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পক্ষে জনসভা করেছেন।

এদিকে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গত শুক্রবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের আগের দিন গতকাল দুপুরে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে আবু আসিফ আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও নির্বাচন কমিশন মনে করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঁচজন। আব্দুস সাত্তার ও আবু আসিফ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (আপেল)। জিয়াউল হক অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এই আসনে পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ১০টি টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন। এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আবু আসিফকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও-৩

এই আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩১ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যদিও নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী (হাতুড়ি), জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এমদাদুল হক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপালচন্দ্র রায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোট করছেন এই আসনে।

এ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারী পুলিশ, দুজন নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬

বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ জন। এই আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৭৯টি। কেবল কাহালুতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৬টি।

এই আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনকে (মশাল)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল (ডাব) ও জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন মো. ইলিয়াস আলী, (কলার ছড়ি), মো. গোলাম মোস্তফা, (দালান) ও আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম, (একতারা)।

এদিকে বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ জন। এই আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ।

এই আসনে দলীয় প্রার্থী ছয়জন হলেন- আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু (নৌকা), জাসদের মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ (মশাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (বটগাছ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়লাস বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ও গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন (মাছ)। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল মান্নান (ট্রাক) ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সরকার বাদল (কুড়াল)। এ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এ ছাড়া মাছুদার রহমান হেলাল (আপেল) ও রাকিব হাসান (কুমির) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২।

নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)। এ আসনে স্বতন্ত্র দুজনই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজা ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।

এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি]


পদযাত্রা দিয়ে সরকার পতনের স্বপ্ন ভুয়া

তেজগাঁওয়ের তিব্বত কলোনি বাজারসংলগ্ন রাস্তায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:৪১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

কেউ মারা গেলে যেমন নীরব পদযাত্রা হয়, বিএনপির পদযাত্রাটা অনেকটা একই রকম বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তার মুখের বিষ তখন উগরে ওঠে। বিএনপির নেতাদের শক্তি কমে আসছে, দম ফুরিয়ে আসছে। দম ফুরিয়ে গেছে বলে লাফালাফি বন্ধ করে এখন নীরব পদযাত্রা। এ দিয়ে সরকার পতনের স্বপ্ন ভুয়া।

রাজধানীর তেজগাঁও তিব্বত কলোনি বাজারসংলগ্ন রাস্তায় দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও অগ্নি-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনাদের আন্দোলনের কী খবর? কী খবর? সবাই বলে ভুয়া। সরকার পতন, ১০ তারিখের লাল কার্ড, বিএনপির ৫৪ দল, বিএনপির ২৭ দফা, ১০ দফা, ১৪ দফা, অবশেষে পদযাত্রা, সবই ভুয়া।’

তিনি বলেন, ‘খেলা তো হবে, রেডি আছেন? আসেন খেলা আগামী জানুয়ারি, ফাইনাল খেলা আগামী নির্বাচন। খেলা হবে। নৌকা চলছে, চলবে নৌকা। তৈয়ার হয়ে যান, অন্ধকারে আর ফিরে যাব না।’

কাদের বলেন, ‘তারেক রহমান রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পালিয়ে গিয়ে হুংকার দিচ্ছেন টেক ব্যাক বাংলাদেশ। কোথায় টেকব্যাক? আলো থেকে অন্ধকারে? আলো থেকে অন্ধকারে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না। বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সব রঙিন খোয়াব অচিরেই কর্পূরের মতো উড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা বাংলা ভাই, শায়েখ রহমান সৃষ্টি করেছে, যারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, যারা সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটিয়েছে আমার এই জন্মভূমিতে, সেই অন্ধকার যুগে বাংলাদেশ আর ফিরে যাবে না।’

তারেক রহমানকে কাপুরুষ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সৎসাহস থাকলে আসুন, লন্ডন থেকে হুংকার দেয়া ছাড়ুন, দেশে আসুন। সৎসাহস থাকলে এখানে এসে রাজনীতি করুন। আপনি তো কাপুরুষ। কাপুরুষ কেন? রাজনীতি আর করব না জরুরি সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০০৭ থেকে ১৫-১৬ বছর। তিনি আর ফিরে আসেন না। এখন ফখরুল করছে তার রিমোট কন্ট্রোল নেতৃত্বে আন্দোলন। বাংলাদেশে রিমোট কন্ট্রোলের আন্দোলন হবে না।’

তিনি বলেন, ‘মাগুরা মার্কা ফি স্টাইলে নির্বাচন আর হবে না। নির্বাচন নির্বাচনই হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। মির্জা ফখরুল নির্বাচন দেখুন।’

কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ভীষণ খেপে গেছেন, মির্জা ফখরুল গোসসা হয়ে গেছেন।’ তিনি বলছেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাচন নাকি মাগুরার উপনির্বাচনের দাদা, নির্বাচন কিন্তু এখনো হয়নি। মাগুরার উপনির্বাচন হোন্ডা-গুন্ডা, সকাল ১০টার মধ্যে ভোট শেষ। ১০টার পরে আর ভোট নেই। সেই নির্বাচন হবে না। মাগুরা মার্কা ফি স্টাইল নির্বাচন আগামীতে আর হবে না। ফখরুল সাহেব, মাগুরা স্টাইলের নির্বাচন হবে না। মাগুরার দাদাও হবে না, নানাও হবে না।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকদের অধিকার আছে কাউকে সমর্থনের, আমাদের পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। আমরা সেখানে একজনকে সমর্থন দিয়েছি। তার অর্থ এই নয়, আমরা নির্বাচনের নিয়ম লঙ্ঘন করছি। ফখরুল সাহেব সকাল থেকে সারা দিন নির্বাচন দেখেন। আওয়ামী লীগ সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না।’

বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে দেশে এসে মামলা ফেস করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো দিন পালাননি। আমাদের নেত্রী পালাননি। আপনি (তারেক রহমান) ইংল্যান্ডে বসে ষড়যন্ত্র না করে দেশে আসুন, সাহস থাকলে দেশে আসুন। দেশে এসে মামলা ফেস করুন। এ দেশের মানুষ দেখতে পারবে কী করেছিলেন আপনি।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এম মান্নান কচি।


ইংল্যান্ডে ষড়যন্ত্র না করে সাহস থাকলে দেশে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ২১:৫৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আপনি ইংল্যান্ড বসে ষড়যন্ত্র না করে দেশে আসুন, সাহস থাকলে দেশে এসে মামলা মোকাবিলা করুন। এদেশের মানুষ দেখতে পারবে কী করেছিলেন আপনি।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিএনপি ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৈরি হয়েছিল, যারা জাতির পিতার হত্যার দিনে জন্মদিনে কেক কাটে, হত্যাকারীদের নিয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করে। সেই দল আবার নাকি ভোট চায়। জনগণের কাছে ভোট চান ভালো কথা। জনগণ যদি ভোট দেয় আপনারা আবার ক্ষমতায় আসবেন। এতো ফালাফালির কী দরকার?’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ করে যদি জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেন, ভাঙচুর করেন বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীর দরকার হবে না, আমাদের নেতাকর্মীরাই জবাব দিয়ে দেবে।’

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যানজট নিরসনে কাজ করবেন বলেছিলেন। তিনি মেট্রোরেল তৈরি করেছেন, হাতিরঝিল তৈরি করেছেন। (জরুরি সেবার) ৯৯৯ আজকে সারা বাংলাদেশের জনপ্রিয় নম্বর।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য হাবিব হাসান প্রমুখ।


বিএনপির পদযাত্রায় আ.লীগ ভীত: মোশাররফ

মঙ্গলবার রাজধানীর গাবতলীতে বিএনপির পদযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৪৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে বর্তমান সরকারের বিদায়ের শোভাযাত্রা বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি, রাস্তায় আছি। আওয়ামী লীগ ভয়ে ভীত হয়ে আমাদের পদযাত্রাকে নানা নামে সমালোচনা করছে।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলীতে বিএনপির পদযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে খন্দকার মোশাররফ এসব কথা বলেন। সরকারের পদত্যাগ, নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এ পদযাত্রার আয়োজন করে।

সরকারের উদ্দেশে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আপনাদের সময় শেষ। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের। অতএব, প্রস্তুতি নিন। আমরা কিন্তু আপনাদের অগ্রিম বিদায়ের শোভাযাত্রা করছি এই পদযাত্রায়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান দুর্নীতিবাজ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানোর জন্য, দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব বিএনপির। কারণ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আর খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো যারা ধ্বংস করে দিয়েছে, তারা এ দেশে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সে জন্যই এ সরকারকে বিদায় করতে হবে।’

দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবনমনের কথা উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত লেখালেখি, বিদেশিরা এত চাপ দিচ্ছে, এরপরও কী পরিমাণ দুর্নীতি বেড়েছে বাংলাদেশে। দুর্নীতি দমন তো দূরের কথা, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ১৩ থেকে ১২–তে নেমে এসেছে। এই দুর্নীতি করেছে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সিন্ডিকেট। সুতরাং তাদের পক্ষে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়।’

গাবতলী থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনা করেন মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক।

সমাবেশ ও পদযাত্রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাইফুল আলম, আবদুল মোনায়েম, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।


বিএনপি পথ হারিয়ে এখন পদযাত্রা করছে: কাদের

সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পথ হারিয়ে বিএনপি এখন পদযাত্রা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির রাজনীতি ভুলের চোরাগলিতে আটকে গেছে। পদযাত্রা করে উদ্ধার করা যাবে না।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে কাদের এ কথা বলেন।

‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অব্যাহত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ এ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো পালিয়ে যায়নি। ওয়ান-ইলেভেনে পালানোর গল্প শুধু বিএনপির আছে। রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে আছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রিমোট কন্ট্রোলে অদৃশ্য নির্দেশে চলা আন্দোলন করে বাংলাদেশে জেতা যাবে না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত সহিংস রাজনীতির উসকানি দিচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এদের প্রতিহত করতে হবে।


পদযাত্রার মাধ্যমেই সরকারের পতন ঘটাব: গয়েশ্বর

সোমবার পদযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের জনগণ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তবে পদযাত্রার মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পদযাত্রা করার আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্যে গয়েশ্বর এ কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ ১০ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে এ পদযাত্রা হয়।

গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশের জনগণের একটাই দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই মুদ্রা পাচারকারী, শিশু হত্যাকারী সরকারকে এ দেশের জনগণ আর দেখতে চায় না। কিন্তু এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।’

বিএনপির পদযাত্রাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘মরণযাত্রা’ বলার পরিপ্রেক্ষিতে গয়েশ্বর বলেন, ‘এটা মরণযাত্রা না। এই যাত্রা আপনাদের জন্য আগাম শোকযাত্রা। এই যাত্রার মধ্য দিয়েই অবৈধ সরকারের পতন ঘটাব। এই মাফিয়া সরকারের হাত থেকে দেশকে জনগণের হাতে তুলে দেব।’

সরকার সব ব্যাংক খালি করে দেশকে দেউলিয়াত্বের পথে ঠেলে দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে। এই পদযাত্রার মাধ্যমেই রাজপথ দখল করা হবে এবং এই স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানো হবে।’

পদযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।


বিএনপির পদযাত্রা গণতন্ত্রের জয়যাত্রা: ফখরুল

সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিএনপির পদযাত্রা শুরুর আগে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা বলে অভিহিত করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, এখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পদযাত্রা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ ১০ দফা দাবিতে এ পদযাত্রার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমাদের পদযাত্রা, গণতন্ত্রের জয়যাত্রা। আমাদের এই পদযাত্রা মানুষের অধিকার আদায়ের পদযাত্রা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জয়যাত্রা।’

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সময় আছে আমাদের ১০ দফা দাবি মানে মানে মেনে নিয়ে পদত্যাগ করুন। সংসদ বাতিল করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আসুন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিন।’

‘আপনারা ১৪-১৫ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছেন, সেই অত্যাচারে এখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন প্রহর গুনছে। তাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। প্রতিদিন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আজকে চালের দাম কোথায় গেছে? ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়াবে বলেছিল তারা। এখন কত টাকায় চাল খাচ্ছেন আপনারা?’

জনগণের পকেটের টাকা কেড়ে নেয়া হচ্ছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘এই পুরান ঢাকায় গ্যাস নেই। শুধু পুরান ঢাকা নয়, গোটা বাংলাদেশে এখন গ্যাস নেই। ওরা গ্যাসও খেয়ে ফেলেছে। আবার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। প্রত্যেকটি পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে। জনগণের পকেট থেকে টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। আর সেই টাকা তারা বিদেশে পাচার করছে।’

বক্তব্য শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে যাত্রাবাড়ী থেকে জুরাইন রেলগেটের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।


বিএনপির দ্বিতীয় দিনের পদযাত্রা শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে রাজধানীতে বিএনপির পদযাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী জামিআ ইসলামিয়া বাইতুন নূর মাদ্রাসার সামনে থেকে দ্বিতীয় দিনের এ কর্মসূচি শুরু করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পদযাত্রাটি শ্যামপুরে গিয়ে শেষ হবে। পদযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় এ সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আগামী ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা হবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে রামপুরা হয়ে মালিবাগেরর আবুল হোটেল পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

বিষয়:

বিএনপির চেয়ে ১৪ গুণ বড় সমাবেশ করেছে আ.লীগ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগ রাজশাহীতে বিএনপির চেয়ে ১৪ গুণ বড় সমাবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

গত রোববার রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের জনসভা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল একটা অসাধারণ সভা হয়েছে। পুরো রাজশাহী শহরই জনসভাস্থলে পরিণত হয়েছিল। মাদ্রাসা মাঠের বাইরে কমপক্ষে আরও ১০-১২ গুণ মানুষ ছিল।’

বিএনপিও রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশের চেয়ে কতগুণ বড় সমাবেশ হয়েছে সেটা অনুমান করা কঠিন। তবে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৪ গুণ বড় তো বটেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আকাশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সমাবেশটি দেখেছেন। এটি অভাবনীয়, আমাদের ধারণার বাইরে সমাবেশটি হয়েছে। পুরো শহরজুড়ে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা, সমাবেশে যাওয়ার জন্য আগ্রহ আমি দেখেছি শুরু থেকে। এতেই প্রমাণিত হয় শেখ হাসিনা ও তার দলের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। গতকালের জনসভা সেটিই প্রমাণ করে।’

‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মানুষকে ভোট এবং ভাতের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান জন্য সংগ্রাম-লড়াই করতে হচ্ছে’ বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে আমি সবিনয়ে অনুরোধ জানাব আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখার জন্য। নিজের দলের চেহারাটাও দেখার জন্য।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করে কারা ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করেছিল, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। সেখানে ন্যায়বিচার নয়, বিচারটাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।’

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘কারাগারের অভ্যন্তরে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়। সেই বিচারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আর ভোটের অধিকার? জিয়াউর রহমানের সময় সাত্তার সাহেবের সময়, খালেদা জিয়ার সময়, এরশাদ সাহেবের সময় স্লোগান ছিল ‘১০টা হোন্ডা, ২০টি গুন্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা।’ এখন মানুষ সেই স্লোগান দেয় না। ওই সংস্কৃতি তারাই চালু করেছে।’

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন বিএনপিই করেছিল। তারা এক মাসের বেশি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আয়নার নিজের চেহারাটা দেখলেই উনি (ফখরুল) উত্তরটা পেয়ে যাবেন। এদেশে মানবাধিকারের লঙ্ঘন শুরু করেছেন জিয়াউর রহমান।’


বিএনপি ক্ষমতায় গেলেই ‘বাংলা ভাই’ সৃষ্টি করবে: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩২
রাজশাহী ব্যুরো

বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবারো ‘বাংলা ভাই’ সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহীতে বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছিল। যে বাংলা ভাই হত্যা, সন্ত্রাস করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। বিএনপি আবারো ক্ষমতায় গেলে একটি নয়, ১০টি বাংলা ভাই সৃষ্টি করবে।

রোববার বেলা ১২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

বিএনপি সমাবেশের নামে পিকনিক করেছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের আট বিভাগে তারা সমাবেশের নামে মশারি ও কয়েল নিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খেয়েছে। এটি তাদের সমাবেশ না পিকনিক। তারা পিকনিক করেছে আর জারি গান শুনেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহীর এই মাদ্রাসা মাঠেও সমাবেশ করেছে বিএনপি। কিন্তু গুটি কয়েক লোক পিকনিক করে চলে গেছে। আজ আমাদের জনসভা মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে পুরো শহরে চলে গেছে। রাজশাহী জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।’

‌সমাবেশে ‘আওয়ামী লীগ পালাবার সুযোগ পাবে না’- বিএনপির এমন মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) নেতা তারেকই দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন। এ দেশের জনগণ বিএনপিকেই পালাবার সুযোগ দেবে না।’


banner close