সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা

সমাবেশে অংশ নিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৩:৪৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বুধবার দুপুর ২টায় এ সমাবেশ শুরু হবে। সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি ও তার যুগপৎ আন্দোলনের সমমনা দল ও সংগঠনগুলো।

বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেলা ১২টার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। এ ছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পৃথক পৃথক ব্যানার নিয়ে নয়াপল্টনের সামনের সড়কে মিছিল করছেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে চারটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানানো হয়েছে। এ সমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা বলে জানা গেছে।

এদিকে সমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস ও সেলিমা রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম। সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ সারা দেশে মহানগর ও জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি সমমনা দলগুলো। গত ১৬ জানুয়ারি সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বিষয়:

লুটপাটের মাধ্যমে কোষাগার শূন্যের কোটায় নিয়েছে সরকার: আমির খসরু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মেগা প্রকল্পের নামে সরকার লুটপাট করে দেশের তহবিল খালি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘সরকার চরম দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের কোষাগার শূন্যের কোটায় নিয়ে গেছে। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়েছে, ৫০ হাজার কোটি টাকার নোট ছাপিয়েছে। সরকার কীভাবে দেশ চালাচ্ছে এটা মানুষের জানার দরকার।’

রাজধানীর বনানীতে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘সরকার মেগা প্রকল্প, উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের টাকা লুটপাট করে তহবিল শুধু খালি করেনি, তারা এ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ডলারের অভাবে এলসি খোলা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় লুটপাটের কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

বর্তমান সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই সরকার আগুন সন্ত্রাসের কথা বলে। অথচ তারা বিরোধী দলে থাকতে আগুন সন্ত্রাস করেছে, সরকারি দলে থাকতেও আগুন সন্ত্রাস করেছে। কিন্তু, দেশের মানুষ সহিংসতা চাচ্ছে না।’

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, জনগণের ওপর কোন শক্তি থাকতে পারে না। জনশক্তির বিরুদ্ধে কোন অপশক্তি থাকতে পারে না। এটা দেশের মানুষ স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রমাণ করেছে, ভাষার জন্য প্রমাণ করেছে।

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে মন্তব্য করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির প্রথম ধাপের আন্দোলনের সব বাধা বিপত্তি মামলা, হামলা, সরকারের গণপরিবহন বন্ধের পরেও সফল হয়েছে। তারা (আওয়ামী লীগ) রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। যত বেশি রাজনৈতিকভাবে তারা পরাজিত হচ্ছে তত বেশি তারা শক্তি, সহিংসতার কথা বলছে। তারা আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করছে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগকে বিদায় দেয়ার জন্য।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই অবৈধ দখলদার সরকারকে বিদায় করবে। জনগণকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ একটি নির্বাচিত সংসদ দেখতে চায়। এই মডেলের বিপরীতে অন্য কোন মডেলের কাজ করার কোন সুযোগ নেই।’

রাষ্ট্রপতি কে হবেন-এ নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কে হল এ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বাংলাদেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে তার নিজের ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়। যে সরকারের জবাবদিহিতা থাকবে। এর বাইরে মানুষের কোন আগ্রহ নেই।’

বিষয়:

নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ শুরু

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৫৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল ও ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সমাবেশ থেকে সরকার পতনে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগেও বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বিএনপি ও তার সমমনা রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গীরা।

শনিবার সকাল ১০টা থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির রাজধানী ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিট ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে থাকে। পরে সেখানে জড়ো হয়ে তারা বিদ্যুতের দাম কমানোসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সমাবেশ করেছে। এ ছাড়া একই সময়ে ১২ দলীয় জোট রাজধানীর বিজয় নগর পানির ট্যাংকর পাম্প সংলগ্ন এলাকায়, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পুরানা পল্টন আলরাজী কমপ্লেক্স প্রিতম ভবনের উল্টো দিকে সমাবেশ করে।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য জাতীয়।

অন্যদিকে কারওয়ান বাজার এফডিসি সংলগ্ন দলীয় অফিসের সামনে বিকেল ৩টায় সমাবেশ করার কথা রয়েছে এলডিপির। এ ছাড়া ৪টার দিকে গণফোরাম ও পিপলস পার্টি মতিঝিল নটরডেম কলেজের উল্টো দিকে সমাবেশ করবে।

বিষয়:

উপনির্বাচনে ৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি: মির্জা ফখরুল

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৩৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া ৬টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি বলে দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশের সমস্ত অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে গণতন্ত্রের। নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। গতকাল তারা যে তথাকথিত নির্বাচন অনুষ্ঠান করল তাতে ভোট প্রদানের হার তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। তবে আমাদের হিসাবমতে এটা ৫ শতাংশের বেশি না। আজ পত্র-পত্রিকায় ছবিগুলো দেখলে বুঝতে পারবেন একেবারে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হয়েছে। গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে তারা ধ্বংস করে ফেলেছে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে এই যৌথ সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, 'এই সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা যখনই কর্মসূচি দিচ্ছি, একই সময় তারা পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। তারা যে ভাষা ব্যবহার করছে সেটা সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস করছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশের সন্ত্রাস ব্যবহার করে আন্দোলনকে দমন করতে চায়। এর প্রতিবাদে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ করবে বিএনপি ’

২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবেকে ফখরুল চিঠি দিয়েছিলেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের এরকম মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা তো বহু লোককে চিঠি দিয়েছি, বহু দেশকে চিঠি দিয়েছি। অবশ্যই দিয়েছি। এটা তো অস্বীকার করিনি। দেশের চলমান যে শাসন ব্যবস্থা, আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে, মানুষের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে, দুর্নীতি-লুটপাটের মধ্যে দিয়ে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গুম করছে, খুন করছে, প্রতিমুহূর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, এগুলা আমরা সারা পৃথিবীকে জানিয়েছি।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার এ জেড এম এ জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা মীর শরাফত আলী সপু, রফিকুল আলম মজনু ও আমিনুল হক প্রমুখ।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর পরদিন তারা স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে এসব শূন্য আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়। উপনির্বাচনের ছয়টি আসন হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪ বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২।


সরকার মুরগির ডিমকে ঘোড়ার ডিম বলছে: ফখরুল

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:২৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পাঠ্যবইয়ে ভুলের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার দিনকে রাত আর রাতকে দিন বলছে। মুরগির ডিমকে অশ্বডিম্ব বলছে। আমরা যেন কেউ বেঁচে নেই। ঘা দিয়েও বাঁচানো যাচ্ছে না। আমাদের তো জেগে উঠতেই হবে। আমার স্বকীয়তা ও ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার জন্য জেগে উঠতেই হবে। ভুলে ভরা পাঠ্যবই অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।’

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘অপরিণামদর্শী কারিকুলাম ও মানহীন পাঠ্যপুস্তক: দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধ্বংসের নীল নকশা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বিএনপি। সহযোগিতায় ছিল ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার একটি নতজানু ও ব্যর্থ জাতি তৈরির জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আমাদের শেকড়ে টান দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ব্যর্থ করতে শিক্ষাব্যবস্থায় হাত দিয়েছে। কেউ কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করছে না।’

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের তো আলাদা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং পরিচয় আছে। কেন, সত্যকে সত্য ও মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে ভয় কেন? আজকে শিশুদের ভ্রান্ত ধারণা ও ইতিহাস শিক্ষা দিচ্ছে। আজকে আমাদের পরিচয় ভুলিয়ে দিতে চায়। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে। এটা জাতির অস্তিত্বের লড়াই।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার আমাদের খোলনলচে পাল্টে দিতে চায়। যার প্রমাণ এই পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি ও ভুল তথ্য সংযোজন। প্রাথমিকের শিক্ষা, সারাজীবনের জন্য থেকে যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো শিক্ষার মূল। দুর্ভাগ্যবশত এখনো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যদিও পাকিস্তান আমলেও এ ধরনের পরীক্ষা ও বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। শুধু বারবার পরীক্ষা ও শিক্ষানীতি হচ্ছে। এখনো সেটা চলছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে পাঠ্যপুস্তকে ভুল ইতিহাস ও তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। আর সেগুলোই নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের শেখানো হচ্ছে। যারা কারিকুলাম তৈরি করে কেউ কিন্তু ভাবে না যে ছেলেমেয়েরা কী শিখছে? জাতির মূল জায়গা হলো শিক্ষা। আর সেখানেই হাত দিয়েছে সরকার।’

সভাপতির বক্তব্যে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এখনকার শিক্ষাব্যবস্থা খুবই উদ্বেগের। এটা একটি জাতি ধ্বংসের নীল নকশা। অসত্য ও ভুলে ভরা পাঠ্যবই। জাতিকে মুর্খ এবং জ্ঞানহীন করে তোলার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এটা করা হয়েছে। অবিলম্বে ভুলে ভরা পাঠ্যবই বাতিল এবং যারা দায়ী তাদের বিচারের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করার দাবি জানান তিনি।

ইউট্যাব মহাসচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ও হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ও অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ। তারা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ের কার্বন ডাই-অক্সাইড, মানুষের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্কিত তত্ত্বসহ বেশ কিছু বইয়ের ‘ভুল এবং অসত্য তথ্য’ তুলে ধরেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক নূরুল আমিন ব্যাপারী, অধ্যাপক আব্দুল করিম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান।


খুলনায় বিএনপির সমাবেশ: ‘শক্তি মহড়ায়’ অনুমতি নিয়ে শঙ্কা

সমাবেশ সফল করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল খুলনার রূপসায়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৩২
খুলনা ব্যুরো

খুলনায় ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে বেশ শোডাউন করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। বিভাগের অধিকাংশ শীর্ষ নেতারা কারাগারবন্দি থাকলেও জেলায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতারা বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ঘটিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দিতে চান।

দলীয় সূত্র জানায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ১৪টি উপকমিটি। বিএনপির চাওয়া নগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বর অথবা হাদিস পার্কে সমাবেশ হোক।

এই দুটি স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে দলটি এরই মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনারকেও অবহিত করা হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত সমাবেশের স্থান বা অনুমতির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কেসিসি ও কেএমপি।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে পুলিশ গিয়ে তাদের দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। তাই আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না, তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।

খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান বলেন, চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। আন্দোলনে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

আমীর এজাজ বলেন, হামলা হলে পাল্টা হামলার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে রাজপথ দখলে রাখার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত আছেন।

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম বলেন, সোনালী ব্যাংক চত্বর অথবা শহীদ হাদিস পার্কে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এ সমাবেশে নেতা-কর্মীদের আসতে যাতে বাধা দেয়া না হয় সে বিষয়ে কেএমপি কমিশনারকে জানিয়েছেন।

শফিকুল আলম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের আশ্বাস দিয়েছেন। কেএমপি বলেছে, আলোচনা করে পরে জানাবে। এ ছাড়া আগের বিভাগীয় গণসমাবেশের সময় গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এবার সমাবেশে যারা আসবে তাদের যেন বাধা না দেয়া হয় সে অনুরোধও করা হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল বলেন, ‘খুলনার সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মহাসমাবেশ করতে চাই। আমরা চাই না এই সমাবেশের আগে সরকার বা আওয়ামী লীগ বাধা সৃষ্টি করুক বা কোনো ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করুক।’

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হেলাল আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এ জন্যই বিএনপির আন্দোলনের প্রতি তারা সাড়া দিচ্ছেন।’

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, গত ২২ অক্টোবর খুলনায় গণসমাবেশে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ঘটায় দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হন। এবারের সমাবেশেও লোক সমাগম হবে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এ পর্যন্ত চলমান যুগপৎ আন্দোলনের চার দফা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর এবং ঢাকার বাইরে ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিল হয়। দ্বিতীয় কর্মসূচি ছিল ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয় শহরে ১১ জানুয়ারি গণঅবস্থান। গত ১৬ জানুয়ারি বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয় তৃতীয় দফার কর্মসূচি। চতুর্থ কর্মসূচি হিসেবে ২৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে সমাবেশ করে বিএনপি। পঞ্চম দফায় আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের বিভাগীয় সদরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।


বিএনপির দ্বিতীয় দিনের পদযাত্রা শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে রাজধানীতে বিএনপির পদযাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী জামিআ ইসলামিয়া বাইতুন নূর মাদ্রাসার সামনে থেকে দ্বিতীয় দিনের এ কর্মসূচি শুরু করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পদযাত্রাটি শ্যামপুরে গিয়ে শেষ হবে। পদযাত্রা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর সঞ্চালনায় এ সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে আগামী ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা হবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে রামপুরা হয়ে মালিবাগেরর আবুল হোটেল পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

বিষয়:

পদযাত্রার পরবর্তী সময় ও স্থান জানাল বিএনপি

বিএনপির দলীয় লোগো।
আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৬:৩৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে রাজধানীতে পদযাত্রা করছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পদযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত শনিবার রাজধানীতে পদযাত্রা করে বিএনপি। বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়ে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

বিএনপি নেতারা জানান, সোমবার দুপুর ২টায় যাত্রাবাড়ী থেকে পদযাত্রা শুরু হবে। পদযাত্রার আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ও সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

এ ছাড়া মঙ্গলবার দুপুর ২টায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হবে পদযাত্রা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান। পদযাত্রাটি সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব আমিনুল হক।

পদযাত্রার তৃতীয় দিন বুধবার দুপুর ২টায় মুগদা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। আর সঞ্চালনায় থাকবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু।

বিষয়:

বাড্ডা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত বিএনপির পদযাত্রা দুপুরে

বিএনপির দলীয় প্রতীক।
আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৩:৫৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ১০ দফা দাবি আদায়ে’ শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করার কথা রয়েছে দলটির।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপি নেতারা জানান, ২৮ জানুয়ারি মহানগর উত্তর বিএনপি রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে মালিবাগের আবুল হোটেল পর্যন্ত এবং ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ৩০ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত এবং ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এদিকে ‘বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা’ দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গত বুধবার নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


ঢাকায় পদযাত্রা করবে বিএনপি

বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৪:৪০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিএনপি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ কর্মসূচি পালন করবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী ২৮ জানুয়ারি মহানগর উত্তর বিএনপি ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে মালিবাগের আবুল হোটেল পর্যন্ত এবং ৩১ জানুয়ারি গাবতলী থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। একইভাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ৩০ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত এবং ১ ফেব্রুয়ারি মুগদা থেকে মালিবাগ পর্যন্ত পদযাত্রা করবে। প্রতিটি পদযাত্রা বেলা ২টায় শুরু হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো, সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব বিভাগীয় সদরে সমাবেশ করবে বিএনপি। গত বুধবার নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হবে এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।’

এ কর্মসূচিতে যুগপতের সঙ্গীরাও থাকবে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অন্য দলগুলোকেও বলব। এখনো আলাপ করা হয়নি। যদি তারা থাকতে চান, অংশ নেবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর সালাম আজাদ ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন।


৪ ফেব্রয়ারি বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সরকারের দমন-পীড়ন-নির্যাতন, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার বিকেলে সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সন্ত্রাসের ইতিহাস। সন্ত্রাস কায়েম করে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। আজ ৫০ বছর পরও চিৎকার করে বলতে হচ্ছে, গণতন্ত্র চাই, ভোটাধিকার চাই।’

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যখনই কর্মসূচি দেই, তখনই আওয়ামী লীগ একটা পাল্টা কর্মসূচি দেয়। তাদের পার্টি অফিসের সামনে এখনো সমাবেশ চলছে। তাদের মধ্যে এত আস্থার অভাব আছে। এত ভয়, বিএনপির প্রোগ্রাম করলে না জানি কী হয়ে যায়। এই ভয়ে তারা পাল্টা কর্মসূচি দেয়।’

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘সময় শেষ। সময় আর নাই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষ এই সরকারকে বলতে চায়, আপনারা (সরকার) জনগণকে প্রতারিত করছেন। কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির নাকি গণতন্ত্রের কথা বলার অধিকার নেই। অথচ আওয়ামী লীগই গণতন্ত্র হত্যা করেছে। সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ৬০০ গুম, ১ হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে। সরকার শুধু চাপাবাজি করে। যেখানে আওয়ামী লীগ, সেখানে তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী, যেখানে বিএনপি সেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী। সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। নয়তো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ জানে এই অবৈধ সরকরের বৈশিষ্ট্য কী। তাদের চরিত্র হলো, একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসন কায়েম করা। কিন্তু, দেশের মানুষ এই একদলীয় ও একনায়কতান্ত্রিক শাসন আর চায় না।’


কারাগারে অসুস্থ রিজভী, হাসপাতালে নেয়ার দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ জানিয়ে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার জানিয়েছে দলটি। দলের নেতারা বলছেন, কারাগারে রিজভীর রক্তবমি হচ্ছে, কিছুই খেতে পারছেন না।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ কথা বলেন।

কোনো অঘটন ঘটলে সরকারকে এর দায় নিতে হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেন বিএনপি নেতারা।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত দুদিন আগে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা জানতে পেরেছি, তিনি বর্তমানে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং মুখে কোনো খাবার খেতে পারছেন না। তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা জানিয়েছেন, কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তিনি সর্বশেষ তথ্য জানতে পারছেন না।’

বিনপির এই নেতা বলেন, ‘রিজভী আহমেদ আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজশাহীতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে তার শরীরে বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়। গত দুবছরে তিনি হৃদরোগ এবং তিনবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু জটিল রোগে আক্রান্ত।’

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এর আগেও যখন কারাগারে তিনি (রিজভী) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তখন বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এবারও কারাগারে রিজভী আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে হস্তান্তর ও নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে। সেইসঙ্গে কারাগারে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রিন্স বলেন, ‘আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে কারাগারে খবর নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট ধারণা পাইনি। গতকাল এবং আজ তাকে আদালতে আনার কথা ছিল কিন্তু আনা হয়নি। আমাদের ধারণা তিনি গুরুতর অসুস্থ, যে কারণে তাকে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি হচ্ছে এবং অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে তার বমির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে। আমার তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা জানানো জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতালে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি।’ কোনো অঘটন ঘটে গেলে এই সরকারকে দায়ী থাকতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপির এ নেতা।

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে গড়া ওঠে আন্দোলনে ভীত হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বেসামাল আচরণ করছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় কথা বলছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।

বিষয়:

আন্দোলনের রোডম্যাপ চায় সঙ্গীরা, বিএনপির না

আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ১০:১৭
আহমেদ দীপ্ত

সরকারের পতনসহ ১০ দফা নিয়ে সুনির্দিষ্ট গতিপথ জানতে চায় বিএনপির সঙ্গে থাকা যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা। তাদের মতে, বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে আন্দোলন শুরু করেছে। তবে এই আন্দোলনের গতিপথ কোন দিকে, সে সম্পর্কে সঙ্গীরা স্পষ্ট জানেন না। তারা আন্দোলনের চূড়ান্ত গতিপথ জানতে চান।

অবশ্য বিএনপি নেতারা বলছেন, সঙ্গীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে তারা এগোতে চান। যুগপৎ আন্দোলনের গতিপথ হচ্ছে যেকোনোভাবে এই সরকারের পতন ঘটানো। এরপর ধীরে ধীরে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও ২৭ দফার আলোকে ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্রের মেরামত করা। এ জন্য এই আন্দোলনের পুরো কর্মসূচি বিএনপি আগেই ঘোষণা করতে অনাগ্রহী। ক্ষমতাসীনরা যাতে যুগপৎ আন্দোলন সম্পর্কে ধোঁয়াশায় থাকে, সে জন্যই এই রাজনৈতিক কৌশল নেয়া।

আর যুগপৎ আন্দোলনের নেতারা বলছেন, সরকারের পতন ঘটাতে চাইলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সেটি এক দফাও হতে পারে। এর জন্য আন্দোলনের সঙ্গীদের মতামত নিয়ে সেই আলোকে আগামীতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, সঙ্গীদের যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চায় বিএনপি। পুরো কর্মসূচি আগেই ঘোষণা করবে না দলটি। বরং পরিস্থিতি বুঝে বাস্তবতার আলোকে সরকার পতনের এই আন্দোলন যুগপৎভাবে এগিয়ে নেয়া হবে। একটি কর্মসূচির দিন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত ৩০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরা। সেদিন রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল করেন বিএনপির পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে এই যুগপৎ আন্দোলনে আছে ৫৪টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

গত বছরের ৮ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চ। এই জোটে আছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এই জোট ১৪ দফা নিয়ে আন্দোলনের মাঠে সক্রিয় আছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যুগপৎ আন্দোলন কখন যে গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হবে তা বলে দেয়া যায় না। তবে রাজনীতির অভিজ্ঞতায় আমি মনে করি, এ বছরই এই গণ-অভ্যুত্থানটি হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে তারা আশাবাদী। তবে এই আন্দোলনের রোডম্যাপের কথা এখনো বিএনপি বলেনি। আন্দোলনের সঙ্গীদের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি। এই আন্দোলন সমন্বয় করতে একটি লিয়াজোঁ কমিটি করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। তবে তা কার্যকর নয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার পতনের যে আন্দোলন চলছে তা শান্তিপূর্ণ। সরকার চাইবে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে। আর আমরা চাইব, সরকারকে সরাতে। এর জন্য কর্মসূচির পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হতে হবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপিকে বলা হয়েছে এই যুগপৎ আন্দোলনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে। খুব দ্রুতই তা হয়ে যাবে। এক দফা নিয়ে এই আন্দোলন হতে পারে। রোডম্যাপ হলে সে আলোকে আন্দোলনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

২০-দলীয় জোট ভেঙে গত ১২ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করে ১২-দলীয় জোট। এই জোটে আছেন তাসমিয়া প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একটি অংশ। জাগপার এই অংশের সভাপতি তাসমিয়া প্রধান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীর পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরাও গ্রেপ্তার হচ্ছেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের জানার অধিকার আছে, এই আন্দোলন কোন পথে এগোচ্ছে। কী উপায়ে এই আন্দোলন এগোবে, তা একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

এদিকে বিএনপির নেতারা বলছেন, আন্দোলনের রোডম্যাপ প্রকাশ করা নিয়ে তাদের আগ্রহ কম। এই আন্দোলনের টার্গেট হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার ফেরত দেয়া, সরকারের পতনসহ এ রাষ্ট্রের কাঠামো মেরামত করা। সেই লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় আছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই কর্তৃত্ববাদী সরকার যদি আগেই জেনে যায় যুগপৎ আন্দোলন কোন দিকে, কীভাবে এগোচ্ছে, তারা তো আর বসে থাকবে না। এ জন্যই আন্দোলনের পুরো কর্মসূচি আমরা একেবারেই প্রকাশ করছি না। তবে প্রত্যেক কর্মসূচিই সঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হচ্ছে।’

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত চারটি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। প্রথম দুটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ কর্মসূচি পালনের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি চতুর্থ কর্মসূচি পালন করে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিএনপি ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গীরা। সেদিন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব কি না- জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান গতকাল রাতে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার বলছে ধাক্কা দিয়ে তাদের ফেলে দেয়া সম্ভব না। এর মানে তারা লড়াই ছাড়া সরবে না। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠোর কর্মসূচি ছাড়া তো এই সরকারের পতন সম্ভব না। সেদিকেই যেতে হবে।


banner close