সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আওয়ামী লীগকে রাজপথে দেখে বিএনপি ভীত: তথ্যমন্ত্রী

মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৫৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৪৬

আওয়ামী লীগের রাজপথের কর্মসূচি দেখে বিএনপি ভীত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য শুনে মনে হয়, আওয়ামী লীগকে রাজপথে দেখে তারা ভীত হয়ে পড়েছে। আর পুরনো গাড়ি যেমন মাঝে মাঝে স্টার্ট না দিলে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, বিএনপির কদিন পরপর দেয়া কর্মসূচিগুলো সেরকম।’

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক আর না থাকুক, আমরা রাজপথের দল। আজ সারাদেশে লাখে লাখে আওয়ামী লীগ কর্মীরা রাজপথে নেমেছে দেখে মির্জা ফখরুল সাহেবদের বক্তব্য শুনে মনে হয় তারা ভীত হয়ে পড়েছেন।’

বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিই দেশে গণতন্ত্র হত্যাকারী। তাদের জন্মটাই অগণতান্ত্রিকভাবে। বঙ্গবন্ধুর লাশের ওপর, মানুষের লাশের ওপর পাড়া দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনাবিচারে হত্যা করেছে, ২২ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে।’

বিএনপি আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন করতে চায় উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে তারেক রহমানের নির্দেশনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ২৪ জনকে হত্যা ও পাঁচ শরও বেশি মানুষকে আহত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জনসভায় বোমা মেরে, হামলা করে নেতা-কর্মী ও নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়েছে।’

এ সময় জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল ২০২৩ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দেশকে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মতো জনকল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতেই এই বিল পাস করেছে।’

দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি যাই বলুক, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আজ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং সারাবিশ্বে প্রশংসিত। আমাদের মাথাপিছু আয় বহু আগেই পাকিস্তানকে এবং করোনার মধ্যে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। ১৪ বছর আগে দেশ বিশ্বে ৬০তম অর্থনীতির দেশ ছিল, এখন আমরা ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।’

এর আগে সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনে সদ্য আত্মপ্রকাশকারী ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের (ফ্যাব) প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেন। চলচ্চিত্রকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, তারিক আনাম খান, গাউসুল আলম শাওন, পিপলু আর খান, নূর সাফা জুলহাস, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'দেশের চলচ্চিত্র শিল্প এবং সাংস্কৃতিক জাগরণকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফিল্ম অ্যালায়েন্স প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার স্বল্পসুদে এক হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা চালু করেছে, চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করেছে, অনুদানের অর্থ ও সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।'

হাছান মাহমুদ বলেন, 'আগে গ্রামে-গঞ্জে, শহরের পাড়ায় পাড়ায় সংস্কৃতিচর্চা হতো, নাটক-যাত্রাপালা হতো, সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার। কারণ সংস্কৃতিচর্চা মানুষ ও সমাজকে মৌলবাদ ও পশ্চাতমুখিতা থেকে দূরে রাখে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।'


নির্বাচিত

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর নাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। সোমবার দলটির পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এদিন বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা মাঠপর্যায়ের সব ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পর্যায়ে এসে গেছি। অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে আমরা আভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছি।’

জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘ঢাকার ২ সিটি করপোরেশনেও আমরা ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব এবং সাংগঠনিকভাবে এখানেও আমরা আমাদের প্রার্থী মনোনীত করেছি। অফিসিয়ালি সময়মতো আমরা প্রার্থী ঘোষণা করব। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমেও এসেছে, ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি।’

দলটি জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী হবেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির তিনি।

পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম।

জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের আগে তাদের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম। পরবর্তীতে গত বছরের সেপ্টেম্বরের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) নির্বাচিত হন।

পাশাপাশি ২০২৪ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


নির্বাচিত

চোরের মায়ের বড় গলা, আসিফের অবস্থাও সে রকম: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক এমপিদের ‘প্রটেকশন’ ও পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।

একই সঙ্গে আসিফের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব দাবি করেন রাশেদ।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী ব্যবসায়ী ও ডামি এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে! অন্তত একজন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ও ব্যবসায়ীকে সে পুনর্বাসন করেছে, সেটা আমি জানি। এই বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আসিফ মাহমুদকে আমি সরাসরি কয়েকবার সতর্ক করেছি। কিন্তু সে তোয়াক্কা করেনি!’

‘এই বিষয়টা এনসিপির প্রত্যেক নেতা জানে। আমি তখন আসিফ মাহমুদের এই বিষয়টা তাদের জানালে তারা বলতো, ভাই, আসিফ তো আমাদের কেউ না! তার সাথে এনসিপির কোনো যোগাযোগ ও সম্পর্ক নাই! দুর্নীতি ও বিতর্কের দায় না নিতে নাহিদ ইসলাম তো বহুবার গণমাধ্যম বলেছে, দু’জন ছাত্র উপদেষ্টার সাথে এনসিপির কোন সম্পর্ক নাই!’

তিনি আরও লেখেন, ‘আসিফ মাহমুদ একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলো। যে তথ্য আমি নিজে জানি। এছাড়া সে সময় আসিফের এপিএস মোয়াজ্জেম বেশকিছু তথ্য আমার কাছে আসে। এই দুজনের বিষয়ে আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরেকজন উপদেষ্টাকে অবহিত করেছিলাম।’

‘‘তিনি আমার দেওয়া তথ্য পেয়ে উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমরা যে বেতন পায়, সেটা দিয়ে চলতে পারি না, আর ওরা মানুষকে লাখ লাখ টাকা দেয়! স্বাভাবিক বেতন থেকে এটা দেওয়া যায়?’’
রাশেদ খাঁন পোস্টে লেখেন, ‘দেখেন, নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা কেন আসিফ মাহমুদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ায় না? কারণ তারা সবাই এসব তথ্য জানে! চোরের মায়ের বড় গলা, আসিফ মাহমুদের অবস্থাও সে রকম হয়েছে!’


নির্বাচিত

আসিফ নজরুলের গ্রেপ্তার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৯
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তিনি সরকারের মধ্যে নানা জটিলতা তৈরি করেছেন এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেননি।

সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আসিফ নজরুল দুই নম্বর লোক, ভণ্ড, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। তবে শিক্ষক হিসেবে তাকে সম্মান করি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আসিফ নজরুল আশ্বস্ত করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি রাখেননি।

আমি আসিফ নজরুলকে এ জন্য দেখতে পারি না। তিনি আমাকে বলেছিলেন, সরকার গঠন হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতিকে সরাবেন।’

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে সরকার গঠনের সময় বিভিন্ন বিষয়ে ‘ভেতরে ভেতরে ঘুঁটি খেলার’ অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, ঘোষণাপত্র, জুলাই সনদসহ বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ নজরুল নানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিলেন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আসিফ নজরুল বিভিন্ন জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। সেনানিবাসে যাওয়ার সময় আসিফ নজরুল নিজেকে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বঙ্গভবনে যাওয়ার সময় তাকে ভেতরে নেওয়া হয়নি এবং বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি ভিড়তে গেলে সেদিন সরকারই গঠন হতো না।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুলের গবাদি পশু পালনের প্রসঙ্গ টেনে তার সমালোচনা করেন বক্তা।

তিনি বলেন, ‘তিনি ইন্টেরিমের টাইমে ছাগল পালতে যাবেন কেন, গরু পালতে যাবেন কেন?’


নির্বাচিত

‘১০ শতাংশ পেলেই চলবে, কষ্ট হচ্ছে’: আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, নতুন অভিযোগগুলোতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার থেকে কমিশন নেওয়া এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদক সূত্র আরও জানায়, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সত্যতা, অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের ধরন খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, নিয়োগ ও পদায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, প্রকল্প ব্যয় এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে দুদকের নতুন অনুসন্ধানের খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যকে অনেকে দুদকের অভিযোগের বিষয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তবে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

এর আগে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা হয়েছে। এবার তার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে অনুসন্ধানেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে।


নির্বাচিত

আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে পোষা ছাগল চুরির পুরোনো ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসিফ নজরুলের ছাগল একটা খাওয়া হয়েছে, দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল। একটা না খাওয়াতে আমি তাদেরকে ধিক্কার জানাচ্ছি, তারা আরেকটি খায়নি কেন। আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ না। গতকাল দেখলাম ইন্ট্রিম গভমেন্ট ছিল এক থেকে দেড় বছর এর মধ্যে উনি (আসিফ নজরুল) গরু ছাগল মুরগী পালা শুরু করেছেন এবং যেখানে পালতো সেখানে পুলিশের সিকিউরিটি ও দাড় করিয়েছেন। তো আসিফ নজরুলের যারা এটা (ছাগল) খেয়েছে আমি মনে করি তাদের আরেকটা খাওয়া উচিত ছিল। আমাকে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, কিন্তু আমার দোষ নাই এটাতে। যারা খেয়েছে তাদেরকে বলেছি সামনে সুযোগ পেলে আরেকটা খেতে।’

এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ শীর্ষক একটি টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের মেয়ের পোষা প্রাণী চুরির ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ড. আসিফ নজরুল। ঘটনাটিকে জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে নিঃসঙ্গতা দূর করতে তাঁর সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি এনে দেওয়া হয়েছিল। প্রাণীটির সঙ্গে তাঁর কন্যার গভীর আবেগীয় বন্ধন তৈরি হয়েছিল, যেখানে ছাগলটি নিয়মিত মেয়েটির স্কুল থেকে ফেরার প্রতীক্ষায় থাকত এবং শিশুটিও তার মুঠোফোনের পর্দায় ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করত।

পোষা প্রাণীটি চুরির পর তাঁর শিশুকন্যা মারাত্মক মানসিক আঘাত পায় বলে জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। তীব্র কান্নাকাটির কারণে সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দেড় দিন খাবার গ্রহণ করেনি। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না বললেও একটি অবুঝ শিশুর প্রিয় পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার এই কর্মকাণ্ডকে তিনি চূড়ান্ত নির্দয় ও অমানবিক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ ভাগে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে হেয়ার রোডের বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।


নির্বাচিত

লংমার্চের নামে লংড্রাইভ করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লংমার্চের নামে মূলত ‘লংড্রাইভ’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রবিবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেঁতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯৬ সালে যেভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হয়েছিল, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে জামায়াত ঠিক একইভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজপথে নামার অপচেষ্টায় সাহস জোগাচ্ছে। এ সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজপথে বিভ্রান্তিকর কর্মসূচি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থায়ীভাবে বর্জন করেছে এবং দলটির নেতাকর্মীরা সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। ফলে তাদের পুনর্বাসনের কোনো রাজনৈতিক সুযোগ অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত বট বাহিনী ও সাইবার সেল ব্যবহারের মাধ্যমে জামায়াত নেতারা পরিকল্পিতভাবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা কিংবা প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর তোয়াক্কা না করে তারা কেবল এই অপপ্রচারমূলক সাইবার বাহিনীর ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করতে চাচ্ছেন।

দেশের কৃষকদের উদ্দেশ্যে সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী স্পষ্ট করেন, দেশে কোনো বাস্তব সারের ঘাটতি নেই। বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের একটি অংশ অবৈধ মজুতদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। সরকার খুব দ্রুত এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং সার বিতরণ ব্যবস্থাকে একটি স্বচ্ছ কাঠামোর আওতায় পুনর্বিন্যাস করার কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন এবং প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীনসহ স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জামায়াতের কারণে আ.লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে: রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গোপন যোগাযোগ ও আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার সকালে ঝিনাইদহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ যৌথভাবে আন্দোলন পরিচালনা করেছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ঠিক একইভাবে জামায়াতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে আওয়ামী লীগ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সাহস পাচ্ছে। জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার ক্ষেত্রে আপত্তি না থাকার কথা জানালেও বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এই ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনীতি আর কখনো মেনে নেবে না।

এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক র‍্যালিতে সরাসরি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী। কর্মসূচি চলাকালে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু ও আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবে মহিলা দল: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজ থেকে ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন চিরতরে নির্মূল করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিপূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, নারীদের সার্বিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে তাঁদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা অপরিহার্য। দীর্ঘ ত্যাগ ও প্রতিকূল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মহিলা দলের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্র পরিচালনায়ও পুরুষদের মতোই সমান পারদর্শী বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রত্যেকে সরাসরি মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য না হলেও তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাই প্রতিটি নেতাকর্মীই এই জাতীয় নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, নারীদের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। সরকারের এসব জনকল্যাণমূলক ও নারীবান্ধব উদ্যোগের বার্তা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অতীতের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মহিলা দলের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নারীবান্ধব রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।


নির্বাচিত

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল,ঢেলে সাজছে বিএনপি

#আজ স্থায়ী কমিটির বৈঠক #আলোচনায় থাকছে—জাতীয় কাউন্সিল, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন ও স্থানীয় নির্বাচন # বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই অন্যতম অগ্রাধিকার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দলকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও জনমুখী করতে বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। দীর্ঘদিন পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন বিএনপির অন্যতম অগ্রাধিকার।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সঙ্গে বিএনপির সামনে নতুন ধরনের সাংগঠনিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দলের অনেক নেতা মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দায়িত্বে থাকায় সাংগঠনিক কাজে আগের মতো সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন কাউন্সিল ও নিয়মিত কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের নবায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই বাস্তবতায় জাতীয় কাউন্সিলকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে নয়, বরং নেতৃত্ব নবায়ন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং সংগঠনকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
কাউন্সিলের পথে বিএনপি: দলের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আজ শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা, গ্রেপ্তার ও সাংগঠনিক নানা সীমাবদ্ধতায় দীর্ঘ সময় তা সম্ভব হয়নি।
দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, কাউন্সিল আয়োজনের একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় কাউন্সিল করা গেলে তা দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে করেন তিনি।
৭২ জেলা-মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ: কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পুনর্গঠনের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কোথাও আংশিক কমিটি রয়েছে, কোথাও সম্মেলনও বাকি।
এসব কমিটি পুনর্গঠন, অসম্পূর্ণ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং জেলা পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। দলের নেতারা মনে করছেন, তৃণমূলই রাজনৈতিক সংগঠনের মূল শক্তি। দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না হলে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
তাই কাউন্সিলের আগে তৃণমূলকে সক্রিয় করার উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঙ্গসংগঠনেও নেতৃত্বের নবায়ন: মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রের হিসাবে, ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টির কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যেও তৎপরতা বেড়েছে। অনেক তরুণ নেতা নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের ভূমিকার তথ্য দলের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরছেন। তবে নতুন নেতৃত্ব আনার অর্থ অভিজ্ঞদের বাদ দেওয়া নয়। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে সংগঠনকে আরও কার্যকর করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন নেতারা।
ঢাকা দক্ষিণে তিন সম্ভাব্য নাম: সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই মহানগরেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
আলোচনায় রয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
তিনজনের রাজনৈতিক শক্তির জায়গাও আলাদা। ইশরাক হোসেনের বড় শক্তি পুরান ঢাকার সঙ্গে পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ, তরুণদের মধ্যে পরিচিতি এবং আগের সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। আব্দুস সালামের শক্তি নগর প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে হাবিব উন নবী খান সোহেলের রয়েছে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত যোগাযোগ।
তবে এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটভিত্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
আট বিশেষ টিমে ঢাকা দক্ষিণের প্রস্তুতি: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ইতিমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে আটটি বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে।
এসব টিমের মাধ্যমে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা, জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, দল সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ টিমগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

ঢাকা উত্তরে নেতৃত্বের নতুন সমীকরণ: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তবে আসন্ন সিটি নির্বাচন এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে আমিনুল হক, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং এবিএম আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে আমিনুল হকের নামকে এগিয়ে রাখছেন মহানগর উত্তরের একটি অংশের নেতাকর্মী। এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও তাকে আলোচনায় রেখেছে। আর মামুন হাসানের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, নেতৃত্ব নির্ধারণে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

স্থানীয় নির্বাচন হবে তৃণমূলের পরীক্ষা: ঢাকার বাইরে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বিএনপির মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
তবে একাধিক প্রার্থী মাঠে নামার কারণে ভোট বিভক্তির সম্ভাবনা ঠেকাতে আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দল সমর্থিত প্রার্থী একজন থাকবে এবং সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে—এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের আগেই সতর্ক করা হচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দলীয় শৃঙ্খলা এবং একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূল সংগঠনের সক্ষমতা যাচাইয়ের বড় সুযোগ। তাই প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ: জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মহাসচিব পদটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কঠিন সময়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার নাম স্থায়ী মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল ও মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সংগঠন: বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি শক্তিশালী দলীয় সংগঠন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সাফল্য ধরে রাখা কঠিন। এ কারণে জাতীয় কাউন্সিল, জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গসংগঠনে নতুন নেতৃত্ব এবং স্থানীয় নির্বাচন—সবগুলো উদ্যোগকে একই সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়মিত কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নবায়নের মাধ্যমে তৃণমূলে নতুন প্রাণসঞ্চার করতে চায় দলটি। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে সুযোগ দিলে সংগঠনে নতুন চিন্তা, কর্মপদ্ধতি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করছেন নেতারা। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির সামনে এখন বড় লক্ষ্য—রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে আরও কার্যকর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনমুখী করা। জাতীয় কাউন্সিল সেই পুনর্গঠনের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে নতুন সাংগঠনিক শক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নবায়ন থেকে জেলা-মহানগর কমিটি পুনর্গঠন, অঙ্গসংগঠনে তরুণদের সুযোগ সৃষ্টি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বিএনপি এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের আরও সুসংগঠিত করার পথে এগোচ্ছে।


নির্বাচিত

নিরপেক্ষ তদন্তে প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার নামে শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে: নুরুল হক নুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের তীব্র সমালোচনা করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক কর্মীসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দাবি করেন, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা হলে পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিটি ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উন্মোচিত হবে।

নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, উপদেষ্টা পরিষদ ও বিশেষত ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকার কারণে সেই জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিপ্লবের নাম ভাঙিয়ে জনসমক্ষে আসা এসব ছাত্র উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকীর্ণ দলীয় ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। তাঁরা ফ্যাসিবাদী মানসিকতা বজায় রেখে সুবিধাবাদী নানা মহলের সঙ্গে আঁতাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে তরুণ সমাজের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জনআকাঙ্ক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

বর্তমান সরকারে নিজের ছয় মাসের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেউ কোনো সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবে না এবং যেদিন এমন অভিযোগের সত্যতা মিলবে, সেদিনই তিনি নিজ দায়িত্বে পদ ছাড়বেন। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাধারণ মানুষের দেওয়া করের টাকায় রাষ্ট্রের সব স্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়; তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত জবাবদিহির জায়গা থেকে জনগণের প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।


নির্বাচিত

আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গোপনে ভারত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে যাননি; পলাতক শেখ হাসিনা এবং শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কোনো অবস্থাতেই ভারত সফর করবেন না।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিকে একটি সামগ্রিক জাতীয় সংকট আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাম্য ছিল। অথচ জামায়াতসহ বিরোধী শিবির বাস্তব সমাধানের পথ না খুঁজে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অজুহাতে ধারাবাহিক লংমার্চের ডাক দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্মসূচি পালনের পর রংপুরে পুনরায় লংমার্চের ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে লংমার্চ করে কি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার নিরসন সম্ভব।

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থে দলটি যেকোনো পক্ষের সঙ্গেই সমঝোতা করতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের গোপন চক্রান্তের অংশ হিসেবেই জামায়াত ভারতের সঙ্গে যোগসাজশ করে দেশকে অশান্ত করতে মাঠে নেমেছে এবং বর্তমানে জামায়াত আমিরের রাজনৈতিক ভাষা ও আওয়ামী লীগের বক্তব্য কার্যত একই সূত্রে গাঁথা। এই ষড়যন্ত্র রুখতে জামায়াতের অতীত ও বর্তমান চরিত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে পূর্ণ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ঝিনাইদহসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসন এবং জনস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই সহকারী। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় তরুণ ও কিশোরদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেন। এ কর্মসূচিতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সমীনুজ্জামান সমীন এবং জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ইমরান হোসেনসহ দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

 দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ মেলার বিষয়ে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এই নোটিশ পাঠান।

গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। নোটিশে দাবি করা হয়, আনুষ্ঠানিক তদন্ত কিংবা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়ার ফলে আসিফ মাহমুদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের একটি বার্তা আদান-প্রদান গ্রুপে দুদক কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যটিকে ‘ভুলবশত’ আখ্যা দিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’র অংশটুকু বাদ দিতে অনুরোধ জানালেও, প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।

আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসংগতি তুলে ধরে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারিক আদেশ কার্যকরের অংশ হিসেবে ১১২ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে সম্পূর্ণ অবান্তর উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন, অথচ উক্ত পদোন্নতির ঘটনাটি ঘটে তাঁর পদত্যাগের পাঁচ মাস পর ২০২৬ সালের ১১ মে, অর্থাৎ পরবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায়।

নোটিশে উক্ত দুদক কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যম-এ প্রচারিত বক্তব্যটি নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার এবং ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্যটি প্রত্যাহার করা না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানিসহ দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নির্লজ্জ দলীয়করণের ইঙ্গিত: পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার নম্বরে পরিবর্তন এনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে বর্তমান বিএনপি সরকারের ‘নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ক্ষমতাসীনরা ব্যাপক মাত্রায় দলীয়করণের চর্চা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সচিবালয়ের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন এক নতুন নিয়মের প্রচলন করতে যাচ্ছে, যার ফলে প্রকৃত মেধাবীদের অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিস্তর সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উল্লিখিত গ্রেডগুলোর নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও ভাইভাতে সমান ৫০ নম্বর বরাদ্দের বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই জামায়াত নেতা। তার মতে, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে যেকোনো চাকরিপ্রার্থীর মেধা, প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়। উপরন্তু, এসব খাতা পুনরায় মূল্যায়ন বা সংরক্ষণের সুযোগ থাকে। পক্ষান্তরে, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অনেকাংশেই পরীক্ষকের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি করা হলে তা কৃত্রিমভাবে প্রার্থীদের মেধার পার্থক্য তৈরি করবে, যা লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা যোগ্য প্রার্থীদের তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে।

নিম্ন গ্রেডের এসব চাকরিতে দেশের অসংখ্য বেকার তরুণ-তরুণী অংশ নেন, যাদের বেশিরভাগই অত্যন্ত কষ্টে ও সীমিত খরচে নিজেদের প্রস্তুত করেন। তাই কেবল ভাইভাতে বেশি নম্বর রেখে তাদের লিখিত পরীক্ষার ফল উল্টে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে জানান গোলাম পরওয়ার। জালিয়াতি বা প্রক্সি ঠেকানোর খোঁড়া যুক্তিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর বদলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, কড়া ডিজিটাল নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে এসব অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।

অতীতে দেশের প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের যে অপসংস্কৃতি ছিল, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মানুষ তার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে। পুনরায় নতুন কোনো মোড়কে সেই পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা অনুচিত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রশাসন চাই, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় হবে তার মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতা, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়’।

সবশেষে সরকারের প্রতি বিতর্কিত এই নিয়োগ বিধিমালা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ঘুস বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির মতো অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই নতুন বাংলাদেশে অতীত বৈষম্য ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি দেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।


নির্বাচিত

banner close