সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আওয়ামী লীগকে রাজপথে দেখে বিএনপি ভীত: তথ্যমন্ত্রী

মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৫৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগের রাজপথের কর্মসূচি দেখে বিএনপি ভীত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য শুনে মনে হয়, আওয়ামী লীগকে রাজপথে দেখে তারা ভীত হয়ে পড়েছে। আর পুরনো গাড়ি যেমন মাঝে মাঝে স্টার্ট না দিলে একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, বিএনপির কদিন পরপর দেয়া কর্মসূচিগুলো সেরকম।’

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক আর না থাকুক, আমরা রাজপথের দল। আজ সারাদেশে লাখে লাখে আওয়ামী লীগ কর্মীরা রাজপথে নেমেছে দেখে মির্জা ফখরুল সাহেবদের বক্তব্য শুনে মনে হয় তারা ভীত হয়ে পড়েছেন।’

বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিই দেশে গণতন্ত্র হত্যাকারী। তাদের জন্মটাই অগণতান্ত্রিকভাবে। বঙ্গবন্ধুর লাশের ওপর, মানুষের লাশের ওপর পাড়া দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, হাজার হাজার সেনাসদস্যকে বিনাবিচারে হত্যা করেছে, ২২ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে।’

বিএনপি আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন করতে চায় উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে তারেক রহমানের নির্দেশনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে ২৪ জনকে হত্যা ও পাঁচ শরও বেশি মানুষকে আহত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জনসভায় বোমা মেরে, হামলা করে নেতা-কর্মী ও নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়েছে।’

এ সময় জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল ২০২৩ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দেশকে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মতো জনকল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতেই এই বিল পাস করেছে।’

দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি যাই বলুক, দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আজ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং সারাবিশ্বে প্রশংসিত। আমাদের মাথাপিছু আয় বহু আগেই পাকিস্তানকে এবং করোনার মধ্যে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। ১৪ বছর আগে দেশ বিশ্বে ৬০তম অর্থনীতির দেশ ছিল, এখন আমরা ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।’

এর আগে সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনে সদ্য আত্মপ্রকাশকারী ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের (ফ্যাব) প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেন। চলচ্চিত্রকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, তারিক আনাম খান, গাউসুল আলম শাওন, পিপলু আর খান, নূর সাফা জুলহাস, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'দেশের চলচ্চিত্র শিল্প এবং সাংস্কৃতিক জাগরণকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফিল্ম অ্যালায়েন্স প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার স্বল্পসুদে এক হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা চালু করেছে, চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করেছে, অনুদানের অর্থ ও সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে।'

হাছান মাহমুদ বলেন, 'আগে গ্রামে-গঞ্জে, শহরের পাড়ায় পাড়ায় সংস্কৃতিচর্চা হতো, নাটক-যাত্রাপালা হতো, সেগুলো আবার ফিরিয়ে আনতে সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার। কারণ সংস্কৃতিচর্চা মানুষ ও সমাজকে মৌলবাদ ও পশ্চাতমুখিতা থেকে দূরে রাখে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।'


মোসলেম উদ্দিন নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আনুগত্যের দৃষ্টান্ত: তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:০১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমেদকে কর্মী থেকে নেতা হওয়া ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থাকার অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত আখ্যা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘এক-এগারোর পট পরিবর্তের পর যে প্রান্তিক নেতৃবৃন্দ জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার মধ্যে মোসলেম উদ্দিনও ছিলেন, আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মোসলেম উদ্দিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এমন একজন নেতা হারিয়েছি, যার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ কয়েক দশকের সম্পর্ক। কীভাবে কর্মী থেকে নেতা হওয়া যায়, কর্মীদের সঙ্গে কীভাবে সার্বক্ষণিক থাকা যায় ও নেত্রী এবং নেতৃত্বের প্রতি কীভাবে অবিচল থাকা যায়, সেটি তার কাছ থেকে শেখার আছে।’

প্রয়াত সংসদ সদস্যের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মোসলেম উদ্দিন আহমেদ আমাদের দলের একজন পোড়খাওয়া কর্মী ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। তিনি এবং এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এক সঙ্গে পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়েছিলেন। পরে পাগলের অভিনয় করে মুক্তি লাভ করেন।’

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘তার জীবন কর্মী থেকে নেতা হওয়ার জীবন। তখন চট্টগ্রাম শহর ছাত্রলীগ ছিলো, মোসলেম উদ্দিন চট্টগ্রাম শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, এরপর তিনি যুবলীগের সভাপতি হন। তারপর তাকে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘ দুই দশক তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন এবং শেষে এক দশকের বেশি সময় তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।’

মোসলেম উদ্দিন আহমেদের জানায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যরা।


প্রতিমা ভাঙচুরে ওবায়দুল কাদেরের তীব্র নিন্দা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বালিয়াডাঙ্গীতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার কার্যকর করা হবে।’

গত শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সময়ে বালিয়াডাঙ্গীর ধনতলা, চাড়োল ও পাড়িয়া ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা।

প্রতিমাগুলোর হাত-পা, মাথা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলা হয়েছে। আবার কিছু প্রতিমা ভেঙে পুকুরের পানিতে ফেলে রেখেছে।

সড়ক পরিবাহনও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলাদেশের মৌলিক আদর্শ ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত হেনেছে। সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের সংগ্রামকে ব্যাহত করতেই একটি চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। এই আঘাত বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সংবিধান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলে আঘাত।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশ উদার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদের কোনো স্থান নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটন করতে বদ্ধপরিকর।’


লুটপাটের মাধ্যমে কোষাগার শূন্যের কোটায় নিয়েছে সরকার: আমির খসরু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মেগা প্রকল্পের নামে সরকার লুটপাট করে দেশের তহবিল খালি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘সরকার চরম দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের কোষাগার শূন্যের কোটায় নিয়ে গেছে। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়েছে, ৫০ হাজার কোটি টাকার নোট ছাপিয়েছে। সরকার কীভাবে দেশ চালাচ্ছে এটা মানুষের জানার দরকার।’

রাজধানীর বনানীতে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, ‘সরকার মেগা প্রকল্প, উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের টাকা লুটপাট করে তহবিল শুধু খালি করেনি, তারা এ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ডলারের অভাবে এলসি খোলা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিটি জায়গায় লুটপাটের কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

বর্তমান সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই সরকার আগুন সন্ত্রাসের কথা বলে। অথচ তারা বিরোধী দলে থাকতে আগুন সন্ত্রাস করেছে, সরকারি দলে থাকতেও আগুন সন্ত্রাস করেছে। কিন্তু, দেশের মানুষ সহিংসতা চাচ্ছে না।’

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, জনগণের ওপর কোন শক্তি থাকতে পারে না। জনশক্তির বিরুদ্ধে কোন অপশক্তি থাকতে পারে না। এটা দেশের মানুষ স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রমাণ করেছে, ভাষার জন্য প্রমাণ করেছে।

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে মন্তব্য করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির প্রথম ধাপের আন্দোলনের সব বাধা বিপত্তি মামলা, হামলা, সরকারের গণপরিবহন বন্ধের পরেও সফল হয়েছে। তারা (আওয়ামী লীগ) রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। যত বেশি রাজনৈতিকভাবে তারা পরাজিত হচ্ছে তত বেশি তারা শক্তি, সহিংসতার কথা বলছে। তারা আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করছে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগকে বিদায় দেয়ার জন্য।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই অবৈধ দখলদার সরকারকে বিদায় করবে। জনগণকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ একটি নির্বাচিত সংসদ দেখতে চায়। এই মডেলের বিপরীতে অন্য কোন মডেলের কাজ করার কোন সুযোগ নেই।’

রাষ্ট্রপতি কে হবেন-এ নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কে হল এ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বাংলাদেশের মানুষ আগামী নির্বাচনে তার নিজের ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়। যে সরকারের জবাবদিহিতা থাকবে। এর বাইরে মানুষের কোন আগ্রহ নেই।’

বিষয়:

আ.লীগ নেতা এমদাদুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এমদাদুল হক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এমদাদুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, চৌধুরী এমদাদুল হক ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্মঠ নেতা। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদকে হারালো।

আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এমদাদুল হক সকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি ৩ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও।


হিরো আলমকে নিয়ে কিছুই বলিনি: কাদের

সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দাবি করেছেন, তিনি সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে নিয়ে কিছুই বলেননি। তিনি কেবল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন।

সোমবার চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের জানাজার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ জানাজা সম্পন্ন হয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দুটি আসনে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা হিরো আলম। এর মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনে ফলাফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ করেন হিরো আলম। এই প্রার্থীকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্র’ ব্যবহার করে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচনের ভোট পুনঃগণনা করতে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন জমা দিয়ে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের স্যার আমাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। একজন মন্ত্রী দেশের নাগরিককে তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে পারেন না।’ কাদেরকে বগুড়া-৪ আসনে ভোটে লড়ারও চ্যালেঞ্জ দেন হিরো আলম।

তার এ চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তাকে (হিরো আলম) কিছুই বলিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাব দিয়েছি। সে (হিরো আলম) প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে (নির্বাচন) করেছে। ভালো ভোটও পেয়েছে। তার সম্পর্কে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আমি যা বলেছি সেটা মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের জবাব।’

প্রয়াত সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিনকে স্মরণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মোছলেম উদ্দিন নেতা থেকে কর্মী হয়েছেন, দলের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর চেতনার সৈনিক ছিলেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আওয়ামী লীগকেই লালন করেন তিনি। তার জীবনে এমপি হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা শেখ হাসিনা পূরণ করেছেন। তার মনে কোনো না পাওয়ার বেদনা ছিল না।’


‘শান্তি সমাবেশ’ সফলে ৪০ জেলায় যাচ্ছেন আ. লীগের ৫৩ নেতা

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:২২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘শান্তি সমাবেশ’ কর্মসূচি পালন করে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবার আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নতুন কর্মসূচির দিনে সারা দেশে ‘শান্তি সমাবেশ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। এ উপলক্ষে দেশের ৪০ জেলায় যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের ৫৩ জন কেন্দ্রীয় নেতা।

গত রোববার আওয়ামী লীড়ের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের প্রতিটি জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে একযোগে ‘বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য ও সহিংসতার প্রতিবাদে’ শান্তি সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। দেশের ৪০টি জেলায় দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে ৫৩ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে।

শান্তি সমাবেশ উপলক্ষে লালমনিরহাটের দায়িত্ব পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি। রংপুর যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।

জয়পুরহাটে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

বগুড়ায় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা। নওগাঁয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাখাওয়াত হোসেন শফিক।

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান।

সিরাজগঞ্জে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান, পাবনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, ঝিনাইদহে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পারভিন জামান কল্পনা, যশোরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মাগুরায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জী।

নড়াইলের আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি-বিন-মর্তুজা, বাগেরহাটে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল ইসলাম মিলন, খুলনায় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা।

বরগুনায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান, পটুয়াখালীতে সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, বরিশালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান।

পিরোজপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম কবির রব্বানী চিনু, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার, মানিকগঞ্জে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, মুন্সীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, গাজীপুরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, নরসিংদীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম।

রাজবাড়ীতে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান।

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ফারুক খান এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আওয়াল শামীম।

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাহজাহান খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং শাহাবুদ্দিন ফরাজী।

শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, জামালপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শেরপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, নেত্রকোনায় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও কেন্দ্রীয় সদস্য উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং যাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরুকে। কুমিল্লা উত্তরে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সবুর, চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. দীপু মনি এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ যাচ্ছেন।

লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছেন কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

চট্টগ্রাম উত্তরে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

কক্সবাজারে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, রাঙ্গামাটিতে কেন্দ্রীয় সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার এবং বান্দরবানে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যেসব জেলার নাম উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোতে স্থানীয় নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন পর্যায়ের শান্তি সমাবেশ আয়োজন করতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহী নই, প্রস্তাবও পাইনি: কাদের

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৬:০৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দল ও মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ বাকি থাকায় রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর কেউ তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের পদের জন্য প্রস্তাবও দেয়নি বলে জানান তিনি।

সমসাময়িক বিষয় নিয়ে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ এই পদটিতে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের নামও বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আমার মতামত আগেই বলে ফেলেছি। এটা বার বার বলতে ভালো লাগে না। আমার যদি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থাকত আমি প্রকাশ্যে বলতাম। এখানে হাইড অ্যান্ড সিকের কী প্রয়োজন?’

কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদের যে যোগ্যতা দরকার, এ যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে হয় না। এ পদে বসার যোগ্যতা আমার নেই, এ কথা আমি বলেছি। আলোচনা হয়তো হতে পারে। কিন্তু আমি আগ্রহী নই বা আমাকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাবও কেউ দেননি। আমি নিজে কাজের মানুষ। দৌড়াদৌড়ি, ছুটাছুটি করি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক (আওয়ামী লীগের) হয়েছি, দলের অনেক কাজ আমার বাকি আছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়েও অনেক কাজ বাকি আছে। দায়িত্ব অসম্পূর্ণ রেখে এত বড় পদে যেতে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো আগ্রহ নেই।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেগুলো পালন করাই আমার কর্তব্য। এটাই আমার কমিটমেন্ট, নতুন করে কোনো কমিটমেন্ট দিতে চাই না।’

‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে তোড়জোড় নেই কেন?’— এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কখনো তোড়জোড় হয় নাকি? তোড়জোড়ের ব্যাপার নয়, সময়মতো আমরা আমাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করব। এটা নিয়ম অনুযায়ী হবে। সংসদীয় দলের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন, তিনিই এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। সময়মতো জানতে পারবেন।’

রাজনীতিবিদদের মধ্যে থেকে, নাকি অরাজনৈতিক কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হবে? প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘বাইরে না, পলিটিশিয়ান— সেটা তো আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। এটা কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’


জাপা চেয়ারম্যান পদে জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই

আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:০৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জাতীয় পা‌র্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের দা‌য়িত্ব পাল‌নে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচারিক আদালতের আদেশ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থ‌গিত ক‌রেছেন হাই‌কোর্ট। একই সঙ্গে ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

জি এম কাদেরের রিভিশন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আব্দুল হাফিজের একক বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে জিএম কাদেরের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুল জারি করেছেন আদালত। এ আদেশের ফলে আপাতত তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ‍মৃত্যুর পর থেকেই তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টিতে বিভেদ দেখা দেয়। এরশাদের স্ত্রী ও দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের বিরোধ অনেকটাই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকালে রওশন দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আহ্বান করলে উভয়পক্ষের তরফ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসে। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশনকে সরাতে সচেষ্ট হন কাদেরপন্থিরা। যদিও পরে রওশন সম্মেলন স্থগিত করলে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার পথ খোলে। পরে দুজন একসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে বলেন তারা ঐক্যবদ্ধ।

ওই বিরোধ চলাকালে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টি থেকে জিয়াউল হক মৃধাকে জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তে বহিষ্কার করা হয়। তার তিন দিন আগে বহিষ্কার করা হয় রওশনপন্থি আরেক নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।

মৃধা এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ না করে চ্যালেঞ্জ করেন জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান হওয়ার সিদ্ধান্তকেই। তিনি চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়েই মামলা করেন।

মৃধার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর জি এম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অস্থায়ী আদেশ দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন জি এম কাদের। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোট বিচারিক আদালতের আদেশ স্থগিত করেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন জিয়াউল হক মৃধা। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ বিচারিক আদালতের আদেশই বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তির ভার দেন নিম্ন আদালতকেই।

পরে গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালত জি এম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার আদেশই বহাল রাখেন।

ওই আদেশের রিভিশন চেয়ে হাইকোর্টে ফের আবেদন করেন জি এম কাদের। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আজ এ আদেশ দিলেন।

মামলার বাদী ও জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধাকে আট সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।


বগুড়ায় বিএনপির উদ্দেশ্য সফল হয়নি: কাদের

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স‌ঙ্গে মতবিনিময় করেন ওবায়দুল কা‌দের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বগুড়ায় উপনির্বাচনে বিএনপির উদ্দেশ্য সফল হয়নি ব‌লে মন্তব্য করে‌ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক প‌রিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি পথ হারিয়ে এখন নীরব পদযাত্রা কর্মসূচিতে নেমেছে।

সমসাময়িক বিষ‌য়ে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স‌ঙ্গে মতবিনিময়কা‌লে এসব কথা ব‌লেন ওবায়দুল কা‌দের।

বগুড়ায় উপনির্বাচনের প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হি‌রো আলম বিষয়ে এক প্র‌শ্নের জবাবে কা‌দের ব‌লেন, ‘যার কথা বলছেন, এ নাম নিয়ে অহেতুক আমি আর বিতর্কে যেতে চাই না। বিএনপি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে যা করেছে, সে উদ্দেশ্যটা সফল হয়নি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশেই উপনির্বাচনে মানুষের আগ্রহ কম থাকে। কেননা এটা দিয়ে তো সরকারের বা এটা দিয়ে খুব বেশি লাভ-ক্ষতি কেউ খুঁজে পায় না।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দুটি আসনে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম। এর মধ্যে বগুড়া-৪ আসনে মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। নির্বাচনে ফলাফল পাল্টে দেয়ার অভিযোগ করেন হিরো আলম। এই প্রার্থীকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্র’ ব্যবহার করে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

বিএন‌পি‌কে উদ্দেশ ক‌রে কা‌দের ব‌লেন, ‘তাদের বলব নির্বাচন ছাড়া কোনো দল বড়, আর কোনো দল ছোট সেটি নিরূপণ করা যাবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের টার্গেট ফেল করেছে। তারা ডিসেম্বরের ১০ তারিখে সরকার পতনের টার্গেট নিয়ে নেমেছিল। কত কিছু দেখলাম, লাল কার্ড, গণ-অভ্যুত্থান। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ, এরপর ১১ জানুয়ারি, সবশেষে আমরা ৪ ফেব্রুয়ারিও দেখলাম।’

‘তারা (বিএনপি) যে টার্গেট নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন, গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া গণ-বিস্ফোরণ কী করে হয়, যেখানে জনগণই নেই। যে আন্দোলন সেটা তাদের নেতা-কর্মীদের আন্দোলন। তাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা ঘটেনি বলে তারা পথ হারিয়ে নীরব পদযাত্রায় নেমে এসেছে।’

কা‌দের ব‌লেন, ‘এ দেশে আন্দোলনে হেরে গেলে নির্বাচনে তাদের জেতার সম্ভাবনা থাকে না। আমাদের দেশে যে দল আন্দোলনে বিজয়ী হয়, নির্বাচনেও তারা বিজয়ী হয়। এখন আন্দোলনে তাদের পরাজয় ঘটেছে। কাজেই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চায়, যাতে অনির্বাচিত সরকার আসে। আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন আসে।’

‘হাসিনাকে হটাতে অন্য যে কেউ ক্ষমতায় আসুক তাতে বিএনপির আপত্তি নেই, এটা হলো তাদের মনোভাব। তাদের আজকের গোপন অভিসন্ধি, তাদের গোপন কর্মকাণ্ডের ধরন, তা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’

নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে জা‌নি‌য়ে দল‌টির সাধারণ সম্পাদক ব‌লেন, ‘এটা আমাদের কর্মসূচি, আমাদের এজেন্ডা। আমরা এটা থেকে সরে দাঁড়াব না। কারণ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।’


বিজয় ছিনিয়ে আনা ছাড়া কেউ ফিরবে না: তথ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ রাজপথের দল। দিয়াশলাইয়ের কাঠিতে যেমন খোঁচা দিলে জ্বলে ওঠে, তেমনি আমাদের নেতা-কর্মীদের একটা গুণ হলো খোঁচা দিলে জ্বলে ওঠেন। আমরা রাজপথে নেমেছি। আগামী নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনা ছাড়া নেতা-কর্মীরা আর ঘরে ফিরে যাবে না।’

শনিবার বিকেলে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘বিএনপি জানে নির্বাচনে তাদের কোনো সম্ভাবনা নাই, তাই তারা অনেক ষড়যন্ত্র এঁকেছে, তারা নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা করার ষড়যন্ত্র করেছে। তারা এখন যদিওবা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বাহানা করছে, সুযোগ পেলেই তারা আবার নাশকতা করবে, জনগণকে ছোবল মারবে। তাই নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানাব, সতর্ক থাকতে হবে। রাজপথে নেমেছি, নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথে থাকব।’

এদিন পৃথকভাবে আওয়ামী লীগের সমাবেশ হয়েছে সিলেট, খুলনা ও বরিশালে।

চট্টগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

সমাবেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলে যাওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস সাহেবরা বক্তব্য দিয়েছেন সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেব। আওয়ামী লীগের ভিত বহু গভীরে প্রোথিত, আওয়ামী লীগকে কেউ ধাক্কা দিলে সে নিজে পড়ে যায়। সুতরাং তারা ধাক্কা দিতে গিয়ে কোমর ভেঙে পড়ে গেছে।’

এদিকে সিলেটে দলটির সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সরকারের ওপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তবে কোনো রক্তচক্ষু দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে দমানো যাবে না।’

বিএনপি নেতাবিহীন উল্লেখ করে নানক বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিএনপি বারবার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তাদের নৈরাজ্য আর অগ্নিসন্ত্রাসের কথা মানুষ ভোলেনি। জনসমর্থন হারিয়ে বিএনপি নেতারা আজ আবোলতাবোল বকছেন।’

সিলেটে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করে। নগরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় দুই দলের সমাবেশ।

খুলনায় আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ হয় নগরীর শিববাড়ী মোড়ের পাবলিক হল চত্বরে। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের সব ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফিরিয়ে এনে জনগণের হাতে তুলে দিয়েছে। বিএনপি দেশে উন্নয়ন বিশ্বাস করে না, তাই বিদেশের মাটিতে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।’

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সমাবেশে সম্মানিত অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনর রশীদ।

সমাবেশ সফল করতে বেলা ২টার পর থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা মিছিলসহকারে সমাবেশে যোগদান করেন।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা ব্যুরো]


মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের ঘরে আগুন দিয়েছে সরকার: সুব্রত চৌধুরী

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখছেন সুব্রত চৌধুরী।
আপডেটেড ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:৩৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের ঘরে ঘরে সরকার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী।

শনিবার বিকেলে আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে গণফোরাম-বাংলাদেশ পিপলস পার্টি। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন সুব্রত চৌধুরী।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই অবৈধ সরকার লুটপাট করে সবকিছু ধ্বংস করছে আর জনগণকে শুধু উন্নয়নের গল্প শোনাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণের ঘরে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিচার বিভাগ; সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে।’

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেন সুব্রত চৌধুরী। যার প্রতিবাদে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ পদযাত্রা পালন করবে গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বাবুল সর্দার চাখারী বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখল করলেও সম্মান হারিয়েছে এই সরকার। জনগণ আজ দ্রব্যমূল্যের যাতাকলে পিষ্ট। কিন্তু এই সরকার তার নিয়ন্ত্রণে বেখেয়ালি। কারণ লুটপাটের ভাগ তারাও পায়।’

এ সময় দলমত নির্বিশেষে দেশকে বাঁচাতে এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে জনগণকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বানও জানান বাবুল সর্দার চাখারী।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এ.কে.এম. জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহিউদ্দিন আবদুল কাদের।


রক্তচক্ষু দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে দমানো যাবে না: নানক

সিলেটে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:১২
সিলেট ব্যুরো

সরকারের ওপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেছেন, ‘এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তবে কোনো রক্তচক্ষু দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে দমানো যাবে না।’

শনিবার বিকেলে সিলেটে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন।

বিএনপির উদ্দেশে নানক বলেন, ‘বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। এখন তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। দেশে গণতন্ত্র আছে কিন্তু বিএনপির জনসমর্থন নেই। জনগণের সমর্থন হারিয়ে তারা (বিএনপি নেতারা) আবোল তাবোল বলছে।’

বিএনপিকে নেতাবিহীন দল আখ্যা দিয়ে নানক বলেন, ‘তারেক রহমানের লন্ডনে রাজকীয় জীবনের টাকা কোথা থেকে আসে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জামায়াত ইসলামের সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিএনপি বারবার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তাদের নৈরাজ্য আর অগ্নিসন্ত্রাসের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। আর তাই দেশের রাজনীতি থেকে এই দুটি দলকে মানুষ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, আব্দুল খালিক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক আনোরুজ্জামান চৌধুরীসহ অন্যরা।

এদিকে বিকেল ৪টায় সমাবেশ শুরু হলেও তিনটার পর থেকেই সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে উপস্থিত হতে থাকেন নেতাকর্মীরা।


এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির কর্মসূচি

রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার বিকেলে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি : সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

এবার দেশজুড়ে গণপদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দিল বিএনপি। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের সব ইউনিয়নে পদযাত্রা করবে দলটি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার বিকেলে দলের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ থেকে নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের ‘দমন-পীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে’, বিরোধী দলীয় সব নেতা-কর্মীর মুক্তি, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ দফা দাবিতে সমাবেশ করে দলটি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি শুরু করে পর্যায়ক্রমে উপজেলা-জেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করা হবে। তারপরে চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগরেও এ পদযাত্রা কর্মসূচি হবে। ঢাকার পদযাত্রার সময়সূচি পরে জানিয়ে দেয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এবার আমাদের কর্মসূচি হবে ইউনিয়ন পর্যায়ে। এরপর উপজেলা, জেলা, মহানগর, সর্বশেষ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে নিয়ে তাদের ক্ষমতার মসনদ দখল করে নেব।’

ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের সমাবেশে মাধ্যমে জনগণ আবারও প্রমাণ করেছে তারা এখন একটি দাবিতে আন্দোলন করছে, সেটা হলো এই সরকারের পদত্যাগ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ হিরো আলমের কাছেও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে না। তারা সেখানেও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। হিরো আলম প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু চাপার জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা বারবার মিথ্যা কথা বলে মানুষকে প্রতারিত করতে চায়।

বিএনপির আন্দোলনকে ‘জাতির স্বাধীনতা রক্ষার’ আন্দোলন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ এখন এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে। সেটি হচ্ছে গণতন্ত্র এবং গণবিরোধী সরকারের পদত্যাগের দাবি। এই ভোটাধিকার হরণকারীদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তা উপনির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে।

সংসার চালাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গরিবদের অবস্থা আরও খারাপ। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এই মুহূর্তে মানুষ এই সরকারের পতন দেখতে চায়। এই সরকার গরিব সাধারণ মানুষের দিকে তাকায় না। তারা উল্টো দিনে দিনে ফুলে ফেঁপে উঠেছে।

সরকারের উন্নয়ন ইস্যুর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক ঋণ লাগে, ঠিক আছে। কিন্তু তারা উন্নয়নের নামে ঋণ নিয়ে বিদেশে টাকা পাচার করছে, কানাডার বেগম পাড়ায় বাড়ি করছে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, ‘এই সরকার চোরের সরকার। তারা বিএনপি অফিসের টাকা-ফাইল চুরি করেছে। এই সরকার ভোটচোর, চোরের দল আওয়ামী লীগ। দিনের ভোট যারা রাতে করে আওয়ামী লীগ আবার বড় বড় কথা বলে। হিরো আলমকে হারাতে ভোট চুরি করতে হয় এই আওয়ামী লীগকে। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আবার ক্ষমতায় যাবে। জনগণ আর অত্যাচার সহ্য করবে না।’

রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করে বিএনপি। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীরাও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়ো হতে থাকেন। বিএনপির রাজধানী ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের ছোট ছোট মিছিল নয়াপল্টনে আসতে থাকে। এ সময় তারা জড়ো হয়ে বিদ্যুতের দাম কমানোসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুপুর দুইটায় অনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাস।


banner close