বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ২৩ জন, বাকি ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। বিএনপি ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দলটির চার নেতা ভোট করছেন এই নির্বাচনে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ছয়টি আসনে একযোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। ছয় আসনের ৮৬৭ কেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে। গতকাল মঙ্গলবার আসনগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম। নিজেদের প্রথম সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যবহার করলেও এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবহার করছে না ইসি।
সংসদীয় আসনগুলোতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হবে আশাবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি আছে। কেবল সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করিনি। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার, আমরা সব করেছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
ছয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা ধরনের চমক দেখাচ্ছে এই আসনটি। বিএনপির যে সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়েছে, সেই উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াই আবার দল থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি, শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দেয়নি। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পক্ষে জনসভা করেছেন।
এদিকে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গত শুক্রবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের আগের দিন গতকাল দুপুরে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে আবু আসিফ আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও নির্বাচন কমিশন মনে করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঁচজন। আব্দুস সাত্তার ও আবু আসিফ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (আপেল)। জিয়াউল হক অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এই আসনে পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের ১০টি টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন। এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আবু আসিফকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও-৩
এই আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩১ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যদিও নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী (হাতুড়ি), জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এমদাদুল হক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপালচন্দ্র রায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোট করছেন এই আসনে।
এ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারী পুলিশ, দুজন নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬
বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ জন। এই আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৭৯টি। কেবল কাহালুতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৬টি।
এই আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনকে (মশাল)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল (ডাব) ও জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন মো. ইলিয়াস আলী, (কলার ছড়ি), মো. গোলাম মোস্তফা, (দালান) ও আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম, (একতারা)।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ জন। এই আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ।
এই আসনে দলীয় প্রার্থী ছয়জন হলেন- আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু (নৌকা), জাসদের মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ (মশাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (বটগাছ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়লাস বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ও গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন (মাছ)। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল মান্নান (ট্রাক) ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সরকার বাদল (কুড়াল)। এ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এ ছাড়া মাছুদার রহমান হেলাল (আপেল) ও রাকিব হাসান (কুমির) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২।
নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)। এ আসনে স্বতন্ত্র দুজনই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজা ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।
এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি]
আমরা জনগণের কল্যাণের কথা বলি, স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলি, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা-চলাফেরার পথ দেখাই। আপনারা আমাকে বিশ্বাস করেছিলেন, আপনাদের বিশ্বাসের পথেই হেঁটেছি পথ দেখিয়েছি সেই বিশ্বাস নিয়েই আবারো চলতে চাই।
গতকাল পাথরঘাটার কালমেগা সোনালী মাদ্রাসা কমপ্লেক্স ময়দানে আয়োজিত বরগুনা-২ (পাথরঘাটা- বামনা-বেতাগী) আসনে নির্বাচনী জনসভায় ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে সব কথা বলেন।
জনসমুদ্রের রূপ নেওয়া জনসভায় মনি আরো বলেন, মা-বোন থেকে শুরু করে আপনারা কয়েক হাজার মানুষ এখানে এসেছেন। আমাকে ভালোবেসে বিশ্বাস করে এসেছেন। যে বিশ্বাস আপনারা আমার ওপর অনেক আগে করেই আমাকে এমপি বানিয়েছিলেন। আপনাদের বিশ্বাসেই আমি পথে হেঁটেছিলাম ইনশাল্লাহ আবারো আপনাদের বিশ্বাস নিয়ে পথে হাঁটতে চাই। অর্থনৈতিক মুক্তিকামী খেটে খাওয়া কৃষক শ্রমিক মৎসজিবী ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
তিনি বলেন, আমি প্রথম এমপি হয়েই আপনাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করেছি। স্কুল- কলেজ, রাস্তা-ঘাট, মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির সব করেছি। আমার হাত দিয়ে আপনাদের করা বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছি। এখন একটি দল আপনাদের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে ভোট চায়। যারা দেশ চায়নি তারা মালিকানা চায় তাও আবার ধর্মের নামে ভণ্ডামি করে। তারা যেমন শিরক করছে আপনাদের দিয়েও শিরক করানোর চেষ্টা করছে। ধর্মের নামে তারা ভণ্ডামিতে নেমেছে। তাদের থেকে দূরে থাকবেন।
জনসভায় তিনি সকল ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় কালমেঘা ইউনিয়নের কয়েক হাজার ভোটার এবং পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপি ও সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১নং সদস্য মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর-শিবালয়) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এস.এ জিন্নাহ কবির বলেছেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী প্রতারণা করে মিথ্যা কথা বলে ভোট দেওয়ার পায়তারা করছে। স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করব। যমুনা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করব। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব। চরাঞ্চলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বিমানবন্দর, মিল, কল-কারখানা গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের ভোট চাইতে হবে। আমরা সবাই ধানের শীষের কর্মী সকল বেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে কল্যাণপুর হাই স্কুল মাঠে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জিন্নাহ কবির বক্তব্যে কথাগুলো বলেছেন।
বাচামারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস আলী শেখ এর সভাপতিত্বে ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো আনিসুর রহমান আনিস সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো লোকমান হোসেন, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল সরকার, ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক প্রমুখ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে ঈগল মার্কার সমর্থনে গণসংযোগ করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের আবুপুর, উওর আবুপুর, দক্ষিণ আবুপুর এলাহীগঞ্জ সড়ক, নতুন খানে বাড়ি, বাসকর, জাহানপুর, ফতেহপুর ও শর্শদি বাজার এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি। এছাড়াও বিকালে সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মরুয়ারচর, সুন্দরপুর বাজারে গণসংযোগ করেন তিনি।
গণসংযোগে অংশ নেন নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আ.ন.ম আবদুর রহীম, এবিপার্টির জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহছান উল্যাহ, সদস্য সচিব মু. ফজলুল হক, সিনিয়ার সহসভাপতি আফলাতুন বাকী, খেলাফতে মজলিসের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুল্লাহ আহমদী, এনসিপির সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, জামায়াতের সদর নায়েবে আমীর মাওলানা হারুনুর রশিদ, শর্শদি ইউনিয়নের আমির মাওলানা ফয়জুল্লাহ, বালিগাঁও ইউনিয়নের আমীর মাওলানা সানা উল্ল্যাহ প্রমুখ।
মজিবুর রহমান মঞ্জু ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, দলমতের উর্ধ্বে গিয়ে আমরা দেশের মানুষের সাথে থাকব। ১০ দলীয় জোট করা হয়েছে বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করার জন্য। আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও সমাজ ব্যবস্থা উন্নতি হয়নি। চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি এখনও রয়েছে। আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এর কথা বললেও সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি, পাশাপাশি ৫৫ বছরে রাষ্ট্রের চেহারা পাল্টালেও সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন দেখেনি দেশের মানুষের। এখনও মেয়েদের নিয়ে মা বাবার চিন্তা করতে হয়, আমরা এসব পরিবর্তন করতে চাই।
তিনি বলেন, নির্বাচন আসলে বড়লোক, ঋণ খেলাপিদের ভোট দিলে তারা মানুষের উন্নয়ন করার পরিবর্তে ব্যাংকের টাকা দিতে ব্যস্ত থাকবে। রাষ্ট্র বদলাতে হলে ভালো লোকদের সুযোগ দিতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের শোষক নয়, সেবক হতে চাই। দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
ময়মনসিংহের ভালুকায় জাতীয় পার্টির তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তারা ভালুকা পাইলট স্কুল সংলগ্ন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে এই যোগদান সম্পন্ন করেন। জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য আবু জাফর ও এবি সিদ্দিক এবং ভালুকা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হকের নেতৃত্বে এই বিশাল কর্মীদলটি বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ এবং ভালুকা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাসেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপিই জনগণের একমাত্র আস্থার জায়গা এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারে দলটির বিকল্প নেই।
নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে দল ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ভালুকা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, “বিএনপিকে ভালোবেসে, তারেক রহমানের নেতৃত্বকে ভালোবেসে আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছি।” জাতীয় পার্টির এই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে স্বাগত জানিয়ে ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আগামী দিনে সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ভালুকা গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে দলীয় নেতাকর্মীদের অত্যন্ত ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ব্রাদার্স ক্লাব মাঠে ধানের শীষের সমর্থনে আয়োজিত এক গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে শান্ত থাকবেন। বিজয় আমাদের প্রান্তে, ইনশাআল্লাহ। কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন এবং কোনো চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবেন না।” গণমিছিলটি ব্রাদার্স ক্লাব মাঠ থেকে শুরু হয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
সমাবেশে মির্জা আব্বাস দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক অধিকার বহু ত্যাগ ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে বলেন, “আপনাদের মনে রাখতে হবে, বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম করেছেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের জন্য লড়াই করেছেন। সেই কথা স্মরণ করেই আমাদের আগামী দিনের পথ চলতে হবে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, একটি গোষ্ঠী বর্তমান নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানামুখী চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে এবং জনগণকে নির্বাচন থেকে বিমুখ করার চেষ্টা করছে। তবে বিএনপি সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে বিশ্বাসী এবং কখনো প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়নি উল্লেখ করে তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশ দেন।
অভিজ্ঞতাহীন রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনায় মির্জা আব্বাস বলেন যে, যারা দেশের জনগণের জন্য কখনো কাজ করেনি, তারা আজ বিএনপিকে অপদস্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের স্বার্থকে উপেক্ষা করে নেতিবাচক রাজনীতি করা। শান্তি ও স্বস্তির রাজনীতি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “কোনো উসকানিমূলক কথাবার্তা বা কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না। বিজয় আমাদের, ইনশাআল্লাহ। কয়েক দিন ধৈর্য ধরুন। নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের শান্তি বজায় রাখতে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি দেশের শান্তি বজায় রাখতে চায়। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের মুখে শান্তি ও হাসি ফিরিয়ে দেওয়া।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি কোনো ধরনের সংঘাত বা ঝগড়ায় জড়াতে চায় না, বরং ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা আব্বাস তরুণ প্রজন্মের প্রতি নৈতিক উপদেশ প্রদান করেন এবং শিষ্টাচার বজায় রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্বখ্যাত কবি শেখ সাদীর বিখ্যাত পঙ্ক্তি “বে-আদব বে-নসিব, বা-আদব বা-নসিব” উল্লেখ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা ও আদব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি ছোটবেলা থেকেই সব দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার উদাহরণ টেনে নেতাকর্মীদের পুনরায় সুশৃঙ্খল থাকার তাগিদ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, দেশের মানুষকে প্রকৃত শান্তি ও স্বস্তি দিতে হলে বিএনপি কর্মীদের চক্রান্তমুক্ত ও সজাগ থেকে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের ‘দুর্নীতির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ নামক মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বয়ান নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এই দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ খণ্ডন করে মাহদী আমীন বলেন, “জাতীয়ভাবে প্রমাণিত সত্য হলো বিএনপি ক্ষমতাকালে দেশে দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।” তিনি তথ্য দেন যে, ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় দুর্নীতির স্কোর ০.৪ থাকলেও সুশাসনের ফলে ২০০৬ সালে তা ২.০-এ উন্নীত হয়েছিল।
বর্তমান বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে মাহদী আমীন বলেন, যারা এখন দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তারা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারের অংশীদার থেকেও তখন কোনো আপত্তি জানায়নি। তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে এসে একই দল ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতার শামিল।” নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটারদের এনআইডি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে জারিকৃত সতর্কতাকে ইতিবাচক অভিহিত করে তিনি বলেন, “আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এনআইডি সংগ্রহ, চাঁদা বা উপহার দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” বিএনপি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা অব্যাহত রাখারও জোর আহ্বান জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী মাঠে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার এবং প্রলোভন দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। মাহদী আমীনের ভাষায়, যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে, তারাই আবার দুর্নীতির গল্প শোনাচ্ছে—এটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার মতো পূর্বঘোষিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এছাড়া নওগাঁর সাপাহারে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ায় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।
সবশেষে সিলেটে জনৈক প্রার্থীর আইনবহির্ভূত বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহদী আমীন বলেন, “সংসদ সদস্য প্রার্থীর অনুমতি ছাড়া পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে না, এ ধরনের বক্তব্য অসাংবিধানিক ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।” তিনি মনে করেন, এ ধরনের মন্তব্য দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসন নিয়ে এবারও সহজ অঙ্ক কষছেন ভোটাররা। এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী একজনই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী। তবে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আরও ৩ প্রার্থী। তাদের সবাই নতুন মুখ। ফলে এবারও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী।
এ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত অধ্যক্ষ ইলিয়াস নুরী (মোমবাতি), জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী শাহাজান মনজু (দাঁড়িপাল্লা) ও গণসংহতির নাছির উদ্দীন। ১৪ ইউনিয়ন, পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী।
এতে উৎসবমুখর নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি হয়েছে। গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী হাট-বাজার, বাড়ি বাড়ি ও ঘরে ঘরে ছুটে যাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। অন্যদিকে ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত অধ্যক্ষ ইলিয়াস নুরী (মোমবাতি), জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী শাহাজান মনজু (দাঁড়িপাল্লা) ও গণসংহতির নাছির উদ্দীন নিয়মিত গণসংযোগ চোখে পড়ে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আমি জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী তাই বিগত দিনের ন্যায় রাউজানবাসীর মূল্যবান ভোট পেয়ে আবারও সংসদ সদস্য হয়ে আমার প্রিয় রাউজানের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস নির্মূল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে একটি সুন্দর শান্তি নীড় হিসেবে উন্নতমানের এবং মাদকমুক্ত রাউজান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কর্ম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
১৯৭৩ সালের পর সংসদীয় এ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আসনটি অধিকাংশ সময় শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দখলে ছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে ফজলে করিমের হাত ধরে আসনটি পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে রাউজান উপজেলার আয়তন ২৪৩ বর্গকিলোমিটার তার মধ্যে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭ জন নারী ভোটার মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮ জন। ৯৫টি ভোটকেন্দ্রের ভোটকক্ষ রয়েছে ৬৩৯টি।
রাউজানে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাউজান থানার অফিসার ইনসার্জ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় মোট ৯৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমানেও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আমার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিশেষ মহড়া চলমান আছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী প্রচারণায় শীর্ষে রয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত থেকে নোয়াখালী সোনাইমুড়ী ও চাটখিলের বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম সিআইপি নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নৈতিক সমাজ গঠনে হাতপাখা প্রতীকের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গণসংযোগকালে হাতপাখার প্রার্থী জহিরুল ইসলাম সিআইপি স্থানীয় বাজার, সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাধারণ ভোটার, শ্রমজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোটপ্রদানের আহ্বান জানান।
জনগণের ভোট ও দোয়ার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ নোয়াখালী-১ আসন একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
ভোটাররা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। অতীতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাতপাখার প্রার্থী ও তার পরিবার এই এলাকার দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এলাকার গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। আগামী নির্বাচনে এই আসনে এমন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে এমপি হিসেবে দেখতে চান ভোটাররা।
হাতপাখার নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, এই আসন বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তাদের প্রার্থী অন্যান্যের চেয়ে সৎ ও যোগ্য হওয়ায় তারা আশাবাদী রয়েছেন। এলাকার অলিগলি ও চায়ের দোকানে নির্বাচনের আমেজ বইছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের উঠান বৈঠকে আঞ্চলিক ভাষায় নারীদের কাছে ভোট চাইছেন কিশোরগঞ্জ- ৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী, মেন্দিপুর, সাদেকপুর ও রসুলপুর গ্রামে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে করেন।
এসময় তিনি তারেক রহমান ঘোষিত কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বেতন-ভাতাদির প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া ভোটারদের ফজরের নাযাজ আদায় শেষ করেই যার যার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, দল আমাকে ৫ম বারের মত এই আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আপনারা আমাকে চিনেন জানেন আমার বাবাও এই অঞ্চলের মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে সহযোগিতা করেছেন। আমাকে একটা বার সুযোগ দিয়ে দেখেন আমি আপনাদের উন্নয়ন করতে পারি কিনা আমার নিজস্ব কোন চাওয়া পাওয়া নেই। আমার একটায় চাওয়া আপনারা যদি আমাকে ভোটে জয়ী করে সংসদে পাঠাতে পারেন তাহলে ভৈরব-কুলিয়ারচরের মানুষের উন্নয়নের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবো। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনার গুরুত্বপূর্ণ আমানত ভোট ধানের শীষ মার্কায় প্রদান করবেন সেই প্রত্যাশা করছি।
সাদেকপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ওই উঠান বৈঠকে স্থানীয় নেতারা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হক, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি সাইফুল হক, সাদেকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসমত আলী প্রমুখ।
ভোলা-৪ আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, 'একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তারা বাসাবাড়িতে গিয়ে তালিমের কথা বলে, নামাজ রোজার কথা বলে; কাজগুলো চমৎকার কিন্তু উদ্দেশ্যটা হয়তো ভালো না।
তিনি বলেন, ৭১ সালে ওদের কাছে মা-বোনদের কোন মূল্য ছিলো না। এরা কম বয়সি নারীদেরকে পাক বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এখন তারা হাঠাৎ করে অনুভব করলো আমাদের মা-বোনদের নাকি ওদের কাছে মূল্য আছে। আমরা শুনলাম ভোটের আগে বিকাশে কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে মা-বোনদের মূল্য নির্ধারণ করতে চায় খুচরা টাকা দিয়ে।'
বুধবার (২৮ জানুয়ারী) ভোলা-৪ নির্বাচনী আসনে আবুবকর ইউনিয়নে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, 'বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং নারীর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। এমনকি সন্তানদের নামের পাশে বাবার নাম ছিলো, বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম যুক্ত করেছেন তিনি। ইনশাআল্লাহ বিএনপি ক্ষমতায় আসলে নারীদের প্রতিটি অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হবে।'
তিনি নারীদের উদ্দেশ্য বলেন, 'আপনারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। নারীদের ইভটিজিংকারী এবং মাদক কারবারিদের যদি পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারেন, তাহলে আমি আপনাদের পাশে থাকবো।'
এসময় চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি ও আবুবকর ইউনিয়ন বিএনপি'র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারী ৩৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভোটারদের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান যে, তার প্রচার কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং ভোটাররা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমস্যার কথা অকপটে তুলে ধরছেন। জনসমর্থনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রচার কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে এবং ভোটাররা তাদের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরছেন। তাই নাগরিক সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি আমার।”
নির্বাচনী এলাকার জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে ইশরাক হোসেন জানান যে, বড় একটি অংশ নতুন ভোটার এবং অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। বিশেষ করে নারী ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রচারণায় অংশ নিতে সাধারণ মানুষ নিজেরাই নেমে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি বলে তারা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বড় একটি সংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। এই আসনে প্রায় ৫২ শতাংশ নারী ভোটার রয়েছেন।” ভোটারদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, “প্রচারণার সময় ভোটাররা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা তাকে ভোট দেবেন এবং ধানের শীষে ভোট দিয়ে এই আসনটি জয়যুক্ত করবেন। এ সময় ভোটাররা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরছেন এবং সেগুলোর সমাধানে প্রতিশ্রুতি চাইছেন।”
ইশরাক হোসেনের মতে, বর্তমানে এই এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকটই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই মানুষ এই অভিযোগটি করছেন। এই সমস্যা নিরসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে গ্যাসের সংকট সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে সামনে আসছে। যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই এ বিষয়ে অভিযোগ পাচ্ছি। ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, নির্বাচিত হলে গ্যাসের সংকট নিরসনে কাজ করে যাবো।” এছাড়া জলাবদ্ধতা, যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়েও তিনি নিজের পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। জনকল্যাণমূলক এই অঙ্গীকারগুলো পুনব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এছাড়া জলাবদ্ধতা, যানজট, পরিবেশ দূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আমার রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নিয়ে যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়গুলো নিয়েও আমি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছি।”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনে গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত ‘ট্রাক’ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে তাকে দলীয়ভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ গত মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই ঘোষণা প্রদান করে। একই সঙ্গে রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ডাংধরা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মামুন মিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব দুলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রফিকুল ইসলাম কেন্দ্রীয় সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে তার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বা কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে গণ অধিকার পরিষদের কোনো স্তরের নেতা-কর্মী অংশ নেবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব দুলাল হোসেন এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রফিকুল ইসলাম মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি চরম অনাস্থা প্রদর্শন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাকে দলের প্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে তৃণমূলের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তাকে অবাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রফিকুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে সরাতে এই ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি এই ঘোষণা মানেন না উল্লেখ করে বলেন, তিনি আইন অনুযায়ী বৈধ প্রার্থী এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার এবং জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে ট্রাক প্রতীকের প্রচারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর একই আসনের জামায়াত প্রার্থীর কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের তিন কর্মী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
এই ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারী) সকাল ৯টায় চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামি আন্দোলনের মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনিত হাতা পাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল ও তার দুইভাইসহ কয়েকজন নারী কর্মীদের নিয়ে পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ৯টার দিকে তার বাবার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এ সময় জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামালের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দেন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে সোহেল ও আলাউদ্দিন দলবদ্ধ হয়ে হাত পাখার কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি তার দুই ভাই ফয়সাল আহমেদ ও তাহজিবসহ ৭ থেকে ৮ জন নারী কর্মীকে নিয়ে সকাল ৯টায় পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এসময় জামায়াত ইসলামীর কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের প্রচারণায় বাঁধা দেন এবং এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেন। এনিয়ে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে প্রথামিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিন জানান, জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে আমার নির্বাচনী প্রচারণা বানচাল করতে চায়। আমার এতে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করছে।
ঘটনার পর পরই জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন ও সোহেল তাদের মোঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত ইসলামির আমীর অধ্যক্ষ মীর মোঃ শরিফ জানান, যদি আমাদের কর্মী এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, উভয় পক্ষ মৌখিকভাবে আমাকে ঘটনাটি অবগত করেছেন। তবে তারা নিজেরাই সমঝোতা করবে বলেও জানিয়েছেন।