বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ২৩ জন, বাকি ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। বিএনপি ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দলটির চার নেতা ভোট করছেন এই নির্বাচনে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ছয়টি আসনে একযোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। ছয় আসনের ৮৬৭ কেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে। গতকাল মঙ্গলবার আসনগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম। নিজেদের প্রথম সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যবহার করলেও এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবহার করছে না ইসি।
সংসদীয় আসনগুলোতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হবে আশাবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি আছে। কেবল সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করিনি। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার, আমরা সব করেছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
ছয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা ধরনের চমক দেখাচ্ছে এই আসনটি। বিএনপির যে সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়েছে, সেই উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াই আবার দল থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি, শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দেয়নি। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পক্ষে জনসভা করেছেন।
এদিকে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গত শুক্রবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের আগের দিন গতকাল দুপুরে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে আবু আসিফ আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও নির্বাচন কমিশন মনে করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঁচজন। আব্দুস সাত্তার ও আবু আসিফ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (আপেল)। জিয়াউল হক অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এই আসনে পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের ১০টি টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন। এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আবু আসিফকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও-৩
এই আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩১ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যদিও নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী (হাতুড়ি), জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এমদাদুল হক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপালচন্দ্র রায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোট করছেন এই আসনে।
এ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারী পুলিশ, দুজন নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬
বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ জন। এই আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৭৯টি। কেবল কাহালুতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৬টি।
এই আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনকে (মশাল)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল (ডাব) ও জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন মো. ইলিয়াস আলী, (কলার ছড়ি), মো. গোলাম মোস্তফা, (দালান) ও আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম, (একতারা)।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ জন। এই আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ।
এই আসনে দলীয় প্রার্থী ছয়জন হলেন- আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু (নৌকা), জাসদের মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ (মশাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (বটগাছ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়লাস বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ও গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন (মাছ)। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল মান্নান (ট্রাক) ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সরকার বাদল (কুড়াল)। এ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এ ছাড়া মাছুদার রহমান হেলাল (আপেল) ও রাকিব হাসান (কুমির) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২।
নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)। এ আসনে স্বতন্ত্র দুজনই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজা ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।
এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি]
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি। শনিবার (১৮ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় পাট (জুট) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করেছে বিএনপি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।’
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও এ সময় অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের কোনো বিভ্রান্তি অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফায়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সকল দল আমরা আন্দোলন করেছি একসঙ্গে, তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়িত করব…এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
গণভোটের একটি অংশ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সে সময় আমি নিজে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের কনসেন্ট ছাড়াই কথাগুলো সেদিন নিয়ে এসেছে। জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন...সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফাতে যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক তেমনভাবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে আমরা বলছি।’ এখানে বিরোধীদল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।
‘সংস্কার বিএনপিই এনেছে’: ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে।’
বিরোধীদলের অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি...জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি?’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না জুলাই ক্ষমতার যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।’
জুলাই আন্দোলনের বিএনপি ত্যাগ সবচেয়ে বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এ জন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।’
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারা সব সময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিজেই পানিতে পড়ে যায়। সীমান্ত হত্যা, পুশইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে, জনগণ তা মেনে নেবে না। শুক্রবার (১৭ জুলাই) যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের যে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?’
রিজভী বলেন, ‘টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।’
গাজীপুরে ভাওয়াল রাজাদের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মানিক্য মাধবের রথযাত্রা ও রথমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শহরের রথখোলায় গাজীপুর প্রেসক্লাবের বটমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম.মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, বিএনপি সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে আছে এবং থাকবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রথমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদউজ্জামান, আহম্মদ আলী রুশদী, হাসান আজমল ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রো সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব খান জাহিদুল ইসলাম নিপু, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহাজ বিন ফয়েজ প্রবাল, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, এডিসি জেনারেল শাহরিয়ার নজির, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন প্রমূখ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার ও বিএনপি নিজ নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার্থে হাওরের ওপর সড়ক নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।
পাশাপাশি উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে।
তিনি আরো বলেন, দখলদার যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।
পাশাপাশি সারাদেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী ফোরকান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাবনা জেলা শাখা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পাবনা শহরের লাহিড়ীপাড়া বিএনপি কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন ও নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ মান্নান মাস্টার, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ তৌফিক হাবিব, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম মুসা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবির হাসান বাচ্চু, সদর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল এবং সদর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লালু। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মুসাব্বির হোসেন সঞ্জু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেরুন্নেছা শাজাহান, সহ-সভানেত্রী লুৎফুন্নাহার হাজারী, ফারহানা পারভীন, মোহছিনা খান সেতু, জিনিয়া আফরোজ রিমা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান এবং ছাত্রদলের নেতা সম্রাটসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনকালে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের পল্লী নিবাসে আয়োজিত এক শোক সভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে এখনো পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থান বলা যায় না। তাঁর মতে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বিদ্যমান চিত্র দেখে মনে হচ্ছে দেশ এখনো বৈষম্যমুক্ত হতে পারেনি।
জি এম কাদের তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।’ ভবিষ্যতে দেশে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে জনগণ আবারও রাস্তায় নামতে পারে। বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে একতরফা নির্বাচন উপহার দিয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ বা নিরপেক্ষ হয়নি এবং এখনো ‘মব’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতির মাধ্যমে বিরোধী মতের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে।
জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি সকল প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মাধ্যমেই উত্তরবঙ্গের মানুষের কাঙ্ক্ষিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। শোক সভায় এরশাদের স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আসন্ন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দল গোছানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় নেমেছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে এবং আগামী দিনে বিরোধী দলের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ পুনর্গঠন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত হচ্ছে।
একই সঙ্গে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গসহযোগী সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই তোড়জোড়। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
তারেক রহমানের বৈঠক ও দিকনির্দেশনা: দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের শনিবার রাতে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা, তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর কঠোর নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গেও তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমও সমানতালে চলমান রয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হয়েছে। এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল গোছানো হবে। তবে জাতীয় কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নির্ধারণ হয়নি।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেছেন, ‘বিএনপি একটি সুবিশাল রাজনৈতিক দল। তৃণমূলের কর্মীরাই আমাদের প্রাণ। দল গোছানোর কাজ চলমান প্রক্রিয়া। বিএনপিসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে।’
যে কোনো সময় বড় রদবদল অঙ্গসহযোগী সংগঠনে: বিএনপির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো ফ্রন্ট অর্গানাইজেশনগুলোর শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। যে কোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে এসব সংগঠনের ‘সুপার ফাইভ’ বা আংশিক কমিটি। এ ছাড়াও নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, মহিলা দল এবং জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলও—যা আগামী কাউন্সিলের আগে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
এর মধ্যে কমিটিতে পদ পেতে মহানগরের নেতারা নানা জায়গায় দৌড়ঝাঁপ ও লবিং-তদবির শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে: ছাত্রদল: নিয়মিত ও মেধাবী ছাত্রদের নেতৃত্বে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজপথের ত্যাগী ও তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল: বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং যাদের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে, তাদের শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মহিলা দল ও শ্রমিক দল: নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং তৃণমূলের শ্রমিকদের সংগঠিত করতে এই দুই সহযোগী সংগঠনকেও নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে বেশির ভাগ কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ ধরে একই কমিটি বহাল রয়েছে। সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ অনেক নেতা সরকারের এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন কর্মীরা।
এই স্থবিরতা ভাঙতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। যারা বিগত দিনে রাজপথে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বা সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে না।
বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, দল এখন কোনো আপসের নীতিতে নেই। যারা প্রতিকূল সময়েও দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন, তারাই আগামী দিনে বিএনপির চালকের আসনে বসবেন।
এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেছেন, ‘অঙ্গসংগঠনের পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক যখন উপযুক্ত সময় মনে করবেন, তখনই নতুন কমিটি দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার অভাবে সমাজে অধঃপতন ও মাদকের প্রসার ঘটছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নেই বলে টেকসই শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না। শিক্ষকদের থেকে ডেডিকেশন হারিয়ে যাচ্ছে বলে শিক্ষাব্যবস্থা নিম্নগামী। শিক্ষকরা প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ না হলে শিক্ষার্থীরা আলোকিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় শিক্ষার উৎকর্ষতা সাধন সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসাধু ঠিকাদাররা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে। যারা স্কুল ফিডিংয়ে নিম্নমানের খাবার দিচ্ছে তাদের মানবতার শত্রু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক, দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তার মতে, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিশেষ কমিটির সভাপতি ম. হামিদুর হক মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বুকে ব্যথা নিয়ে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল (ইউনাইটেড) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে বগুড়ায় নিজ বাসায় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত বগুড়ার টিএমএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এনে গুলশানের কন্টিনেন্টাল (ইউনাইটেড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার আশু আরোগ্য লাভের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় উপদ্রুত অঞ্চলের দুর্গত মানুষকে দ্রুত উদ্ধার, তাঁদের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বন্যাদুর্গত বিভিন্ন জেলার বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রদলের এই জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়, গত কয়েকদিনের টানা অতিভারী বর্ষণ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ধেয়ে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন জনপদ প্লাবিত হয়ে এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গৌরবময় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বিপাক কিংবা মানবিক সংকটে একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল ও দায়িত্বশীল ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সবসময় সবার আগে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও উপদ্রুত অঞ্চলের বন্যাদুর্গত সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায়, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এবং সুষম ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নসহ সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের অনতিবিলম্বে মাঠে নেমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে গবাদিপশুকেও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।
৩. স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।
৪. যারা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবেন, তাদের ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।
৬. সব ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৭. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।
৮. বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
৯. বন্যার পর টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এ জন্য ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নিতে হবে।
১০. ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির পুরো বিষয়টি সমন্বয় করবেন। বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর যাবতীয় তথ্য ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে, তিনি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নেওয়া এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। সেখানে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।” উল্লেখ্য যে, গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি এবং তার দলের সদস্যবৃন্দ নিজ উদ্যোগেই ফিরে যেতে চান। আদালতের কাছে নিজেদের সোপর্দ করার মাধ্যমে তারা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন যখন স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে। নির্বাসিত হওয়ার পর এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করলেন।
নিজের ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির সাথে পরামর্শ করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।” আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তবে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া রয়টার্স সংগ্রহ করতে পারেনি।
উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ শাহকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুকে দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার সই করা এক বহিষ্কারাদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আতাউল্লাহ শাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, ‘আতাউল্লাহ শাহর বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী তাকে এনসিপির গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদসহ দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।
গত ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মিনি কক্সবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের জন্য সমবেত হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।