শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৫ মাঘ ১৪৩২

বিএনপির ছেড়ে দেয়া ৬ আসনে ভোট আজ

বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হবে বুধবার। আগের দিন মঙ্গলবার বগুড়া শহরের পৌর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৩

বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ২৩ জন, বাকি ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। বিএনপি ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দলটির চার নেতা ভোট করছেন এই নির্বাচনে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ছয়টি আসনে একযোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। ছয় আসনের ৮৬৭ কেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে। গতকাল মঙ্গলবার আসনগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম। নিজেদের প্রথম সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যবহার করলেও এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবহার করছে না ইসি।

সংসদীয় আসনগুলোতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হবে আশাবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি আছে। কেবল সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করিনি। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার, আমরা সব করেছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২

ছয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা ধরনের চমক দেখাচ্ছে এই আসনটি। বিএনপির যে সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়েছে, সেই উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াই আবার দল থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি, শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দেয়নি। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পক্ষে জনসভা করেছেন।

এদিকে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গত শুক্রবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের আগের দিন গতকাল দুপুরে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে আবু আসিফ আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও নির্বাচন কমিশন মনে করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঁচজন। আব্দুস সাত্তার ও আবু আসিফ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (আপেল)। জিয়াউল হক অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এই আসনে পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ১০টি টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন। এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আবু আসিফকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও-৩

এই আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩১ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যদিও নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী (হাতুড়ি), জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এমদাদুল হক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপালচন্দ্র রায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোট করছেন এই আসনে।

এ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারী পুলিশ, দুজন নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬

বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ জন। এই আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৭৯টি। কেবল কাহালুতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৬টি।

এই আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনকে (মশাল)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল (ডাব) ও জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন মো. ইলিয়াস আলী, (কলার ছড়ি), মো. গোলাম মোস্তফা, (দালান) ও আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম, (একতারা)।

এদিকে বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ জন। এই আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ।

এই আসনে দলীয় প্রার্থী ছয়জন হলেন- আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু (নৌকা), জাসদের মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ (মশাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (বটগাছ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়লাস বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ও গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন (মাছ)। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল মান্নান (ট্রাক) ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সরকার বাদল (কুড়াল)। এ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এ ছাড়া মাছুদার রহমান হেলাল (আপেল) ও রাকিব হাসান (কুমির) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২।

নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)। এ আসনে স্বতন্ত্র দুজনই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজা ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।

এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি]


উন্নয়নের স্বার্থে, আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষে ভোট দিন: নূরুল ইসলাম মনি

পাথরঘাটার ৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুক চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতাকালে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনি | ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:৫২
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। বিএনপি আপামর জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। তাই আপনারা উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দিন। দেশকে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করুন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটার ৭ নং কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুক চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।

নিজ এলাকার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে অন্যদের চেয়ে যদি আমি বেশি উন্নয়ন করে থাকি, তাহলে আমাকে ধানের শীষে ভোট দেবেন। যতজন এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের চেয়ে যদি আমি বেশি চাকরি দিয়ে থাকি, তাহলে ধানের শীষে ভোট দেবেন। আমি এলাকার উন্নয়নের জন্য জীবন ও যৌবন বিলিয়ে দিয়েছি। এখনো দিতে প্রস্তুত আছি।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের জন্য একটি পরিষ্কার বক্তব্য আছে। প্রথমত, তারা চায় জীবনের নিরাপত্তা। এরপর তারা জানমাল এবং ধর্মের নিরাপত্তা চায়। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আমি যদি এমপি হই, তাহলে বরগুনা-২ আসনে সব হিন্দুদের জীবনের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আপনারা গত ১৭ বছর আপনাদের মূল্যবান ভোট দিতে পারেননি। তারা দিনের ভোট রাতেই দিয়ে দিত। তারা মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে এক দলীয় স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। আমরা সেই স্বৈরতন্ত্র হতে মুক্ত হয়ে মুক্ত স্বাধীন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে চলছি। তাই আপনাদের হাতে যে একটি শক্তিশালী ভোট প্রদানের শক্তি রয়েছে তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োগ করবেন। ধানের শীষে ভোট দেবেন।

তিনি আরো বলেন, এই সংসদীয় আসনে আমার আমলে কোনো চাঁদাবাজি ছিল না এবং কোনো চাঁদাবাজের স্থান বরগুনা-২ আসনে হয়নি। এই এলাকার সব উন্নয়নে আমার অবদান রয়েছে। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সবই করেছি। জেলেদের জন্য চালের কার্ডের ব্যবস্থা করেছি, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ আমার সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আমি যদি কাজ করে থাকি আপনাদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে থাকি তাহলে আমার কর্মের জন্যই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের সকল মৌলিক সেবাগ্রহণ করতে পারবেন। অথচ একটি দল এখন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে; কিন্তু তারা নিজেরা জান্নাতে যাবে কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জনগণ এখন আর মিষ্টি কথায় ভুলবে না। যারা এই বাংলাদেশই চায়নি তারা দেশের মালিকানা চাচ্ছে। তারা বেফাঁস কথাবার্তা বলে মা-বোনদের বেইজ্জতি করছে। আমাদের ইসলাম ধর্মকে নিয়ে তারা ভণ্ডামি করছে। তাদের সমগ্র দেশের মানুষ বয়কট করবে আপনারা দেখবেন।’

জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ।


দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বলরুমে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান | ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শ থেকে বঞ্চিত হয়নি বিএনপি। তলাবিহীন ঝুড়ির দুর্নাম ঘুচিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তিতে খালেদা জিয়াও সেই পথ ধরে এগিয়ে নিয়েছেন। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে— যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তার পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। পরবর্তীতে সরকার গঠিত রিফর্ম কমিশনের সঙ্গে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে, কিন্তু এই প্রস্তাবটি সর্বপ্রথম বিএনপি দিয়েছিল। এটি নথিবদ্ধ (ডকুমেন্টেড)। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার সরকার তৎকালীন ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’কে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন সংস্থা হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ গঠন করে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের কারণে প্রথম বছর থেকেই দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করতে শুরু করে। ফলে ২০০২ সালে প্রকাশিত টিআইবি রিপোর্টে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪ থেকে উন্নীত হয়ে ১.২ হয়। ২০০৩ সালে ১.৩, ২০০৪ সালে ১.৪, ২০০৫ সালে ১.৫ এবং ২০০৬ সালে ২.০। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমতে থাকে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির ফলে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের স্কোর আবারও কমতে থাকে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার। বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোনো আপস করবে না।

তারেক রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের অনেক বিষয় আছে। আমাদের অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন। একটি বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিনের আলোচনা ছিল— সেটি হচ্ছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ও বিতর্ক ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি, সেখানে আমরা বলেছিলাম যে, অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি যৌক্তিক অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই-একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা উন্মুক্ত করে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে যদি গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ ভোটাধিকার বা ভোটের বিষয়টি আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। অবশ্যই তা হতে হবে নিরপেক্ষ ভোট— যে ব্যবস্থার ওপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা থাকবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে করার কারণ আছে যে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা একমাত্র অরাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দিতে পারে। সেজন্যই আমরা ৩১ দফা উপস্থাপনের সময় বলেছি যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাই। পরবর্তীতে বিষয়টি অনেকেই বলেছেন এবং বর্তমান সরকারের সংস্কার কমিশনেও এটি আলোচিত হয়েছে। দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই কৃতিত্ব নিতেই চাইব যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আমরাই এই কথাটি বলেছি। অর্থাৎ, স্বৈরাচারের সময়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে যখন আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করি, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি— বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে এবং সংসদে প্রয়োজনীয় শক্তি থাকলে আমরা অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব।

প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যের শেষে আবারও দুর্নীতি ও সুশাসন নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার দলের পক্ষ হয়ে আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে চাই যে—আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইনশাআল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে, আমাদের সর্বাধিক আর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করা— দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা। যে কোনো মূল্যে আমরা এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।


ভোটাররাই ব্যালটের মাধ্যমে সকল অনাচার ও মিথ্যাচারের মোক্ষম জবাব দেবে: মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নোংরা ও নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররাই ব্যালটের মাধ্যমে সকল অনাচার ও মিথ্যাচারের মোক্ষম জবাব দেবেন।

রাজধানীর পশ্চিম শান্তিবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এসব কথা বলেন। নিজ এলাকার মানুষের প্রতি গভীর আস্থা ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জনগণ অনেক সচেতন। তারা ভালোভাবেই বুঝে কাকে দিয়ে এলাকার কাজে লাগবে। আমি জয়লাভ করলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে আছি, আর না করলেও আমি তাদের সঙ্গে আছি। আমি এলাকার সন্তান। আমার বাবা-মাসহ পরিবার কবর এলাকাতেই।’

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘রাজনীতি করতে গিয়ে ফেরারি জীবন কাটিয়েছি। শত বিপদেও এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার দ্বারা কারও অনিষ্ট হয়নি, বরং আমার কাছে এসে ফিরে গেছে এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

নির্বাচনী পরিবেশকে সুস্থ ও উৎসবমুখর রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কারও সম্পর্কে সমালোচনা করি না। চরিত্রহনন রাজনৈতিক কালচারের মধ্যে পড়ে না। তাই বলছি অপরের বিরুদ্ধে নোংরামি না করে এলাকাবাসীর জন্য অতীতে কি করেছেন এবং আগামীতে কি করবেন তা বলে জনগণের কাছে ভোট চান। নির্বাচনকে কুলসিত না করে উৎসবমুখর করে তোলেন।’


গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষের বিকল্প নেই: চৌধুরী নায়াব ইউসুফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর সদর–৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিরামহীনভাবে জোরদার নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী উঠান-বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড পূর্ব বিল মাহমুদপুর জুলহাস মাতুব্বরের ডাংগি গ্রামে উঠান-বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে পরিবর্তন অনিবার্য। ফরিদপুর সদর–৩ আসনের সার্বিক উন্নয়নে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি।

এলাকার সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উঠান-বৈঠকে আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার মৃধা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আমদান হোসেন অনু, ইডেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দা সুমাইয়া, আলিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আদিল উদ্দিন মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, যুবদল নেতা আলী আহসান তুষার, ভিপি বাবু, আকরাম মৃধা, ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত হলে যমুনা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করব: জিন্নাহ কবির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-ঘিওর- শিবালয়) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এস.এ জিন্নাহ কবির বলেছেন, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী প্রতারণা করে মিথ্যা কথা বলে ভোট দেওয়ার পায়তারা করছে। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে তালেবান রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়ন করব। যমুনা নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করব, রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব। যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পাকা রাস্তা, বিমানবন্দর, মিল কলকারখানা গড়ে তোলা হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড আলোকদিয়ার বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে যমুনা নদীর চরে ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জিন্নাহ কবির কথাগুলো বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্ত ও ৩ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এ দেশীয় রাজাকার জামায়াতে ইসলামী দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।

স্বাধীনতাবিরোধী মিথ্যাবাদী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশবিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলামী ষড়যন্ত্র করছে। দেশবিরোধীদের সাথে জাতীয়তাবাদী দলের কিছু বিশ্বাসঘাতক যোগ দিয়েছে। বিএনপির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারী জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হলে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করব। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির, সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের ভোট চাইতে হবে। আমরা সবাই ধানের শীষের কর্মী সকল বেদাভেদ ভুলে তারেক রহমানের ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

তেওতা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. করিম শেখ এর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাক হোসেন দিপু, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাকসুদুল হক মুকুল, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, জেলা আরাফাত রহমান কোকো প্রজন্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, শিবালয় উপজেলা বিএনপির রহমত আলী লাভলু বেপারী, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মিজানুর রহমান লিটন, জেলা কৃষকদলের সাবেক জামিলুর রহমান মনি, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, উলাইল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, তেওতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আক্তার হোসেন আনন্দ, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সাবেক ভাই চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইউপি সদস্য মো. মিন্টু মোল্লা, জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ রাজা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ, জেলা শ্রমিক দল নেতা মোহাম্মদ আলীয়ার হোসেন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদল সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন আলী, জেলা যুবদলের সদস্য মোসলেম উদ্দিন, মানিকগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, মানিকগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা ছাত্রদলের সভাপতি সিনবাদ খান প্রমুখ।


সমৃদ্ধ কক্সবাজার বিনির্মাণে বিএনপির বহুমুখী উন্নয়ন অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের অফুরন্ত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এই পর্যটন নগরীকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিশেষ করে জেলার সমুদ্রসম্পদ নির্ভর অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমিকে শক্তিশালী করতে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সবচাইতে ধন সম্পদে পরিপূর্ণ একটা জেলা। এ জেলায় রাব্বুল আলামিন আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর যেখানে নির্মিত হচ্ছে, এই সমুদ্রবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক দ্বার হিসেবে পরিণত করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়াও আমার ভাই কাজল ব্লু-ইকোনমির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলেছেন। ইনশআল্লাহ সেই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।’

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার ভূমিহীন মানুষের অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি, খাস, পিএফ জায়গায় যারা ঘূর্ণিঝড়সহ নানা কারণে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের উচ্ছেদ করা হবে না। দলিল থেকে শুরু করে সবার সাথে আলোচনা করে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয় আমরা তা করব। লবণ চাষিরা সবসময় অবহেলিত, কিন্তু বিএনপি তাদের পাশে থাকে। নায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ এই শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

সমাবেশে উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় কক্সবাজারের পরীক্ষিত এই নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামীর সরকার হবে বিএনপির সরকার। সভার প্রধান বক্তা লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘অপার সম্ভাবনাময় কক্সবাজারে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে, ১২ তারিখ এই সমুদ্র জনপদ ধানের শীষের জয়ে ধন্য হয়ে উঠবে। আপনারা পাশে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে নিয়ে সমৃদ্ধ কক্সবাজার গড়ব।’ সদর, রামু ও ঈদগাঁও এলাকা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য যে, নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে এসে সালাহউদ্দিন আহমদ দ্বিতীয়বারের মতো ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিলেন। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি উখিয়ায় কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।


কুড়িগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী-রাজিবপুর-চিলমারী) বিএনপি মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ মো. আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদুরচর নতুনগ্রামের নিজ বাড়িতে মতবিনিময় সভা করেন। কুড়িগ্রাম -৪ বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে ভোটারদের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে মত প্রকাশ করেন। এমপি নির্বাচিত হলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদীভাঙন, বেকার সমস্যা সমাধান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মোকাবেলায় সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলার বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, ড. মোহাম্মদ আলী, যুবদল সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী-রাজিবপুর উপজেলার সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকরা।


দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: চরমোনাই পীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, বিভিন্ন দল ক্ষমতায় গিয়ে সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা কিংবা ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দেয়। আমি অত প্রতিশ্রুতি দেব না। আল্লাহ যদি কামিয়াব করেন, আমি ১৮ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবো। দুর্নীতি যখন থাকবে না, তখন সকল মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে আমতলী পৌরসভার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, হিন্দু ভাইদের বলবো, চরমোনাইয়ে হিন্দুরা কতটা নিরাপদ, খোঁজ নিয়ে দেখেন। মায়ের কোল যেমন নিরাপদ, তারাও তেমনি চরমোনাইতে নিরাপদ। ইনশাআল্লাহ আপনারাও নিরাপদে থাকবেন।

চরমোনাই পীর অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি দল সারাদেশে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। অথচ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা সংখ্যালঘুদের জান-মালের হেফাজত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করেছে।

অন্য দলের প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ভদ্র ও সভ্য। আমাদের টালবেন না, বিরক্ত করবেন না। করলে এমনভাবে গর্জন শুরু হবে, যা আর প্রতিহত করতে পারবেন না।

তিনি বরগুনা-১ আসনকে একটি মডেল আসনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্য কোনো আসনে জয় না হলেও ইনশাআল্লাহ বরগুনা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জয়লাভ করবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আসমত আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বরগুনা-২ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক কেএম শরিয়ত উল্লাহ, মুফতি হাবিবুর রহমান, আমতলী উপজেলা সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী ও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. বায়েজিদসহ অন্যান্য নেতারা।


বিজয়ী হলে সবার বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে: শাহ রিয়াজুল হান্নান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এর পক্ষে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ খেয়াঘাট বালির মাঠে নির্বাচনী জনসভা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শাহ রিয়াজুল হান্নান।

তিনি বলেন, বিজয়ী হলে সবার জন্য বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। সেইসাথে চাঁদাবাজিমুক্ত ঐক্যবদ্ধ কাপাসিয়া গড়ে তোলা হবে। তিনি সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি- মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি সোলায়মান মোল্লা। সাধারণ সম্পাদক মাসুম সরকার প্রাণবন্ত পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হাশেম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার রাহাত রহমান টুকু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবু মোঃ আব্দুল্লাহ আল কাকন, মোঃ কবির আহমেদ সরকার, মোঃ মাসুদ মোল্লা, সাহাদাত উল্যাহ মুন্না, শহীদুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন শেখ, আব্দুল করিম বেপারী, রুহুল আমিন মোল্লা, খালেদ হোসেন খান, আবুল হোসেন মোড়ল, মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, গোলাম, মোস্তফা ভুইয়া, দুর্গাপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, মিজানুর রহমান, সাহাদাত হোসেন, শিবলু আলম সোহেল প্রমুখ।

এসময় আরো ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন শেখ, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট মোঃ মীর সেলিম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান মোড়ল, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আনোয়ার হোসেন সোহেল প্রমুখ।

এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত ছিলেন।


বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না: রাগিব রউফ চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করে না। নিরীহ ও সাধারণ মানুষকে নাজেহাল ও হয়রানী না করতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ভেড়ামারার বাহাদুরপুর রায়টা নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নির্বাচনি পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

বুলবুল আহমেদ বুলুর সভাপতিত্বে ও শিহাবুল ইসলামের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাগিব রউফ চৌধুরী।

স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশ্য রাগিব চৌধুরী বলেন, এ আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছে। আপনারা যোগ্য দেখে পক্ষ নেবেন। তিনি বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি জনসম্মুখে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আসলাম উদ্দিন, জানবার হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি বুলবুল আবু সাঈদ শামীম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইন্দোনেশিয়া সিটু, বাহাদুরপুর ইউপি বিএনপির সভাপতি বকুল হোসেন, সম্পাদক আসলাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান জামাল প্রমুখ ছিলেন।


দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের স্থান বিএনপিতে হবে না: কায়কোবাদ

আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২১
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও সমাজে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনীতি করবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী, পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা হাইস্কুল মাঠে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

কায়কোবাদ বলেন, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা চাঁদাবাজ, যারা সমাজে খারাপ হিসেবে চিহ্নিত তাদের দলে কোনো স্থান হবে না। তাদের সঙ্গে আমি রাজনীতি করবো না এবং তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কও থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, এক সময় কেউ ভাবেনি এই জালিম সরকার এভাবে বিতাড়িত হবে। আমিও কখনো ভাবিনি সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে এসে নির্বাচন করার সুযোগ পাব। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের দোয়ার বরকতেই আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে আল্লাহ আমাকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আল্লাহর দয়ায় এবং আপনাদের সমর্থনে আবার এমপি হলে মুরাদনগর আর নেতাদের কথায় চলবে না। মুরাদনগর চলবে জনগণের কথায়। জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেই সব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, সৎ, নিষ্ঠাবান, দেশপ্রেমিক ও ভালো মানুষদের নিয়েই আমি রাজনীতি করবো এবং তাদেরই নেতৃত্বে নিয়ে আসবো। অসৎ ও চাঁদাবাজদের দলে কোনো জায়গা হবে না।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপনের সভাপতিত্বে জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও তোফাজ্জল হোসেন লিটনের যৌথ সঞ্চালনায় পথসভায় উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলামসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


বিএনপিকে বিজয়ী করলে শ্রীমঙ্গলে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে: হুমায়ুন কবির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, দেখবেন শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের উন্নয়ন কীভাবে করা হয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে চা-শ্রমিকদের কল্যাণ এবং কৃষকদের উন্নয়নে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজারে আয়োজিত বিএনপির এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, চাশ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার মাধ্যমে কৃষিখাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৪ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, লন্ডন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খছরুজ্জামান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন এবং সদস্য মিজানুর রহমান। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শের আলী হেলালসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকার ব্যবহার হচ্ছে: শহিদুল ইসলাম বাবুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করে বলেছেন, নিক্সন চৌধুরীর কালো টাকা ব্যবহার হচ্ছে ফরিদপুর ৪ আসনের নির্বাচনে। এছাড়া আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা, সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী নির্বাচনে নাশকতার চেষ্টা করছেন। তার দুই এপিএস এলাকায় গিয়ে মানুষকে টাকা পয়সা দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে। বিদেশে বসে নিক্সন চৌধুরী এই এলাকার মানুষকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন।

তিনি বলেন বাড়ি বাড়ি মহিলা পাঠিয়ে বিভিন্নভাবে টাকা দিচ্ছেন সেই ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। এরা বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে‌ এই গোষ্ঠী। প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই মহড়া দিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কিছু হলে এর দায় তাঁর দল নিবেনা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সদরপুরের কাঠপট্টিস্থ তার বাড়িতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এ আসনে নিক্সন চৌধুরী একাধিকবার এমপি ছিলেন। তার অনেক লোকও রয়েছেন। তাদের নিয়ে নির্বাচন বানচাল করার জন্য তিনি একাধিকবার জুম মিটিং, গ্রুপ মিটিং করেছেন। তাঁর কাছে প্রচুর কালো টাকা। এই কালো টাকা ব্যবহার করে নির্বাচন ম্যানিপুলেট করছেন। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ এবং তার সমর্থকরা প্রকাশ্যে নিক্সন চৌধুরীর সহযোগী নজরুল সহ কয়েকজনের সহযোগিতায় লুটের কালো টাকা দিয়ে রাতের অন্ধকারে গাড়ি বহর নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। নিক্সন চৌধুরী যেই টাকা ছড়াচ্ছে এবং তাঁর লোকগুলো যেই তৎপরতা চালাচ্ছে তাতে পরিবেশ নষ্ট করছে।

এসময় সদরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুজ্জামান, চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল আমীন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম খন্দকার, জেলা কৃষকদের সেক্রেটারি মুরাদ হোসেন, মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মামুন অর রশীদ মামুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


banner close