বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ২৩ জন, বাকি ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। বিএনপি ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দলটির চার নেতা ভোট করছেন এই নির্বাচনে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ছয়টি আসনে একযোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। ছয় আসনের ৮৬৭ কেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে। গতকাল মঙ্গলবার আসনগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম। নিজেদের প্রথম সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যবহার করলেও এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবহার করছে না ইসি।
সংসদীয় আসনগুলোতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হবে আশাবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি আছে। কেবল সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করিনি। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার, আমরা সব করেছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
ছয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা ধরনের চমক দেখাচ্ছে এই আসনটি। বিএনপির যে সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়েছে, সেই উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াই আবার দল থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি, শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দেয়নি। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পক্ষে জনসভা করেছেন।
এদিকে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গত শুক্রবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের আগের দিন গতকাল দুপুরে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে আবু আসিফ আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও নির্বাচন কমিশন মনে করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঁচজন। আব্দুস সাত্তার ও আবু আসিফ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (আপেল)। জিয়াউল হক অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এই আসনে পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের ১০টি টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন। এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আবু আসিফকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও-৩
এই আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩১ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যদিও নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী (হাতুড়ি), জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এমদাদুল হক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপালচন্দ্র রায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোট করছেন এই আসনে।
এ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারী পুলিশ, দুজন নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬
বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ জন। এই আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৭৯টি। কেবল কাহালুতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৬টি।
এই আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনকে (মশাল)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল (ডাব) ও জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন মো. ইলিয়াস আলী, (কলার ছড়ি), মো. গোলাম মোস্তফা, (দালান) ও আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম, (একতারা)।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ জন। এই আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ।
এই আসনে দলীয় প্রার্থী ছয়জন হলেন- আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু (নৌকা), জাসদের মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ (মশাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (বটগাছ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়লাস বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ও গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন (মাছ)। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল মান্নান (ট্রাক) ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সরকার বাদল (কুড়াল)। এ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এ ছাড়া মাছুদার রহমান হেলাল (আপেল) ও রাকিব হাসান (কুমির) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২।
নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)। এ আসনে স্বতন্ত্র দুজনই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজা ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।
এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি]
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য ছয়জন আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য ট্রাইব্যুনাল এর আগেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত বা স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে আদালতের সামনে তুলে ধরে। বিশেষ করে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন দমনে আসামিরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তারা আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানিতে দাবি করেন যে তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো শক্ত ভিত্তি বা তথ্যপ্রমাণ নেই। তারা আসামিদের এই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। তবে দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে দেন এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষকে যারা বিভ্রান্ত করতে চায় তাদেরকে রুখে দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি দল বিএনপিকে নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে, এরা বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। এরা নতুন করে বলতে শুরু করেছে বাংলাদেশকে তৈরি করবে। যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লড়াইয়ে জয় লাভ করতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক সুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল, আমরা পেছনের দিকে তাকাই না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম হয়েছেন। কিন্তু মাথা নত করেনি। তারেক রহমানের আজকের যাত্রা নতুন বাংলাদেশের যাত্রা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই পাঁচটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের নীতিনির্ধারণে দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন। সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। এই প্রচারের অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের মতামত ও পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নীতিনির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাহদী আমিন জানান, প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ‘তারেক রহমানকে পরামর্শ দিন’ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় সারাদেশে পোস্টার ও ড্যাংলারে মাধ্যমে একটি কিউআর কোড ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে যে কেউ নিজের মতামত, চিন্তা ও পরামর্শ সরাসরি তারেক রহমানের কাছে পাঠাতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দ্বিতীয় কর্মসূচি ‘লেটার টু তারেক রহমান’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকেরা চিঠি, ই–মেইল ও অনলাইনে মতামত পাঠিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশা ও প্রস্তাব জানাতে পারবেন। চিঠি পাঠানোর জন্য গুলশান–২–এর একটি নির্ধারিত ঠিকানা, ই–মেইল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ নামে একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপের কথা। তিনি জানান, সহজ ও ব্যবহারবান্ধব এই অ্যাপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিন লক্ষাধিক মানুষ বিএনপির বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন। নতুন বাংলাদেশে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নীতিভিত্তিক আলোচনাকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ কর্মসূচি ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’। এ কর্মসূচির আওতায় সিলেটে স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২৭ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চম কর্মসূচি হিসেবে মাহদী আমিন বিএনপির আটটি লিফলেটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে বিএনপির নীতি ও তারেক রহমানের ভিশন তুলে ধরে এসব লিফলেট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে কূটনৈতিক মহলেও আলোচিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও বলেন, বিএনপি ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, পরে ২৭ দফা ও সর্বশেষ ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছে। আন্দোলন–সংগ্রামের পাশাপাশি নীতিনির্ভর রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বিএনপি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ উল্লেখ করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যেমন দিল্লি নয়, তেমন পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ। এবং যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।’
সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রথম নির্বাচনী জনসভায় দেশবাসীর সাহায্য ও দোয়া কামনা করে তারেক রহমান ধানের শীষকে জয়যুক্ত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। কিন্তু নির্বাচনের আগে একটি দল আল্লাহর নামে বেহেস্ত ও দোজখের টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। তারা ক্ষমতায় আসার আগেই মানুষকে ঠকানো শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘কেউ কেউ বলে, অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি। এবার একে দেখেন। প্রিয় ভাইবোনেরা, ১৯৭১ সালে যে যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি, সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার জন্য এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনদের সম্মানহানি হয়েছে। তাদের তো বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।’
বিএনপি দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না, মানুষকে সাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি মাঠভর্তি মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘কাবা শরিফের মালিক কে? এই দিনদুনিয়া, আমরা যে পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? এই সূর্য–নক্ষত্র যা দেখি, এর মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? দোজখের মালিক কে?’ তারেক রহমানের প্রশ্নের উত্তরে সবাই ‘আল্লাহ’ বলে সমস্বরে উচ্চারণ করলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই সাক্ষ্য দিলেন, পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কী অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেব, ওই দেব বলছে, টিকিট দেব, বলছে না? যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে সেটা শিরক করা হচ্ছে না? যেটার মালিক আল্লাহ একমাত্র। সবকিছুর ওপরে আল্লাহর অধিকার। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর কেমন ঠকানো ঠকাবে, আপনারা বুঝেন এবার।’
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে আমি–ডামি নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে। এই তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।’
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান আসেন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এবং প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন। তিনি আসার আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে সমাবেশস্থল।
তারেক রহমান জনসভায় আসার পর নেতা-কর্মীরা ‘দুলা ভাই, দুলা ভাই’—স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তোলেন। মঞ্চে উঠে বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি শহরতলীর বিমানবন্দর এলাকায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রায় শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে সিলেট বিভাগের চার জেলার সংসদীয় আসনের বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় অনেক নেতা বক্তব্য দেন।
এর আগে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীরা আজ সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। তারা ধানের শীষ, বিএনপি, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগান দেন। অনেকে মাথায় ধানের শীষের ছবিসংবলিত টুপি আর কপালে দলীয় পতাকা বেঁধে সভায় হাজির হন। বাইরে থাকা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের ধানের শীষ কিনেও অনেকে সভায় আসেন।
ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গও এসেছে: আজকের জনসভায় ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগানে বারবার উঠে এসেছে ‘গুম হওয়া’ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নাম। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ঢাকার বনানী থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ‘গুম’ হন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ইলিয়াস আলীসহ সিলেট অঞ্চলের গুমের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্যে ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।
এদিকে মাঠের এক পাশে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য নির্ধারিত জায়গাও রাখা ছিল।
আরও ছয় স্থানে জনসভা: সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন ছয় জেলার আরও ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেন। এর মধ্যে প্রথমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেন।
পরে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর পার্কে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। এসব জনসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
সাতক্ষীরা-৩ সংসদীয় আসন (আশাশুনি–কালিগঞ্জ) এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের আশাশুনি উপজেলার খায়রুল আলম ও মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ১২ জন নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
এক যোগদান অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সাবেক এসপি মাওলানা রিয়াছাতের পুত্র নুরুল আফসারের উপস্থিতিতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হন। এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা নেতাকর্মীদের যোগদানে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। তারা আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জামায়াতে ইসলামীর আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মধ্যে একটি নৈতিক ও গণমুখী মিল রয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন যোগদানকারীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদে রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে তারা গণমানুষের অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে জামায়াতে ইসলামীকে উপর্যুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভৈরবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তার জ্বর আসে এবং তিনি বমি করেন। পরে তাকে দ্রুত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরীক্ষায় তার শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বর্তমানে তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৩ শতাংশ থাকলেও অক্সিজেন সাপোর্টে তা ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।
তিনি আশঙ্কামুক্ত কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।’
মৌলভীবাজারের (শেরপুর) আইনপুরে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সমাবেশ চলাকালীন মাগরিবের আজানের সময় হলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সমাবেশ মঞ্চেই নামাজ আদায় করেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে বিকেল থেকেই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন।
জনসভা উপলক্ষে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হন। এই সমাবেশ থেকেই মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রার্থীরা হলেন— মৌলভীবাজার-১ আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব। মাগরিবের নামাজের পর পুনরায় সমাবেশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিক বরাদ্দের পর উৎসব মুখর পরিবেশে যশোরের সীমান্ত―বর্তী উপজেলা শার্শায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের নির্বাচনী এক মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে বেনাপোল বল্ড ফিল্ড থেকে চেকপোষ্ট পর্যন্ত বড় একটি মিছিল অনুষ্টিত হয়।
মছিলে বেনাপোল পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিএনপি যুবদল ছাত্রদল মহিলাদল সহ সহযোগিদলের হাজার হাজার নেতা কমী মিছিলে অংশ গ্রহন করেন। নির্বাচনী মিছিলে নেতাকর্মীরা ব্যানার প্লেকার্ড নিযে যোগদেন ।
এসময উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষ প্রতিকের বিএনপির এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন.পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দীন ও সাধারন সম্পাদক আবু তাহের ভারতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
যশোর ৮৫ শার্শা ১ আসনে বিএনপি. জামাত জাতীয় পাটি ও ইসলামি শাসন তন্ত্রের ৪ জন প্রার্থী প্রতিন্দিতা করছেন।
৮৫ যশোর-১ (শার্শা উপজেলা)মোঃ নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি), মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান(জামায়াতে ইসলামী), মোঃ বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন),জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি জিএম কাদের)। এ আসনে বিএনপি ও জামাত ইসলামি বাংলাদেশ এর কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নাই।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার প্রথম দিনেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, সরকারের ভেতরে থাকা একটি বিশেষ মহল সুনির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজধানীর শান্তিবাগ স্কুল এবং পুরাতন রমনা থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, যখন রাষ্ট্রের কোনো প্রধান নির্দিষ্ট কাউকে ইঙ্গিত করে তার বিজয়ের আগাম বার্তা দেন, তখন বুঝতে হবে তাদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় জয়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে অনেক কিছু না বললেও তিনি অনেক কিছুই জানেন এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণ করতে পারবেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষ যেভাবে শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় কথা বলছেন, নিজের বয়স এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি তার প্রত্যুত্তর দিতে পারছেন না। তবে প্রতিপক্ষ যা-ই বলুক, তাতে নিজের কোনো রাজনৈতিক ক্ষতি দেখছেন না মির্জা আব্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণকে তিনি তার নিজের সন্তানের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ওই প্রার্থী এমন সব জায়গায় আঘাত করে কথা বলছেন যাতে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া দেখানোর বয়স পার হয়ে গেছে। তিনি প্রতিপক্ষকে তার ছেলের চেয়েও কম বয়সী উল্লেখ করে বলেন, নিজের ছেলে যেমন বাসায় দুষ্টুমি করে, তিনিও ধরে নিয়েছেন ওই প্রার্থী ছেলের মতোই দুষ্টুমি করছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা ও ফলাফল নিয়ে নিজের শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী। তিনি সরাসরি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা নির্বাচন প্রভাবিত করার আশঙ্কার কথা জানান। তার মতে, সরকারের একটি মহল বিশেষ কিছু প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য সক্রিয় হতে পারে এবং সেখানে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে অপচেষ্টা যে হবে তা তিনি নিশ্চিত। তবুও সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন এবং এবারও যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে ইনশাআল্লাহ তিনি জয়লাভ করবেন। দলীয় কর্মীদের মনোবল দেখে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আল মদিনা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই দলবদল সম্পন্ন করেন। এলডিপি থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে বরণ করে নেন উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী। দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম জাহেদ চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী নুরুল আলম নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন যে তিনি অতীতেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে তিনি বিএনপির রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান। তিনি বিএনপিকে এ দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়টি দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আগামী নির্বাচনে এই আসনটি তাকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিএনপিতে যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের আগেই একটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে এবং মুসলমানদের দিয়ে শিরক করাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে এভাবে প্রতারিত করছে, তারা নির্বাচনের পরে কী ধরনের আচরণ করবে তা সহজেই অনুমেয়। এই হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তারেক রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই করা হয়েছে। তিনি বিগত নির্বাচনগুলোকে আমি-ডামি নির্বাচন এবং নিশিরাতের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, এই তথাকথিত নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সময় এসেছে মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠার।
দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শুধু ভোট বা কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিলেই হবে না, মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবসমাজকে কাজে লাগানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেটের এই বিশাল জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরার পথে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন ছয়টি জেলার আরও ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্যে প্রথমেই তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরবর্তীতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত ১৬ বছরের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ কেবল ব্যালট ছিনতাই, আমি-ডামি প্রার্থী আর নিশিরাতের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত দিনে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক এবং ভোটাধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গত দেড় দশকে বিএনপিকে অনেক নেতাকর্মী হারাতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এই দেশকে কার্যত অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে রাখা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্লোগান তোলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, এমনকি অন্য কোনো দেশও নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বিগত সরকারের উন্নয়নের বয়ানকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি দেশের এই লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সার্বিক অবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বক্তব্যে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়েছে এবং জনগণের অধিকার হরণ করেছে, তারাই সিলেটের সন্তান ইলিয়াস আলীর মতো হাজার হাজার মানুষকে গুম ও হত্যা করেছে। নেতাকর্মীদের গুম ও খুনের মিথ্যা মামলা দিয়ে জর্জরিত করে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের আজকের এই সমাবেশ সম্ভব হয়েছে চব্বিশের আন্দোলনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। তার মতে, একাত্তরের অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী জনতা পুনরায় রক্ষা করেছে।
তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশ বা দেশ পুনরুদ্ধারের মিশনের অর্ধেক পূর্ণ হয়েছে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এখন ধানের শীষকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে মূল যাত্রা শুরু হবে। নারীদের উন্নয়নে বিএনপির অতীত অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দল আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবারের প্রধান নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য পৃথক কৃষক কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি হন এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, সত্যিকারের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলেই কেবল নাগরিকরা তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে পারে। এমনকি শহরের উন্নয়ন বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো কাজগুলোর জন্যও একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার দলের নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনাগুলো তরুণদের সামনে তুলে ধরেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে ইচ্ছুক, তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের বা পিপিপি মডেলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের নানা প্রান্তের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দেশকে নিয়ে নিরন্তর ভাবনার ফসল হিসেবেই তিনি এসব পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের সঙ্গে এই কথোপকথন নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপিকে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।