শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২

বিএনপির ছেড়ে দেয়া ৬ আসনে ভোট আজ

বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হবে বুধবার। আগের দিন মঙ্গলবার বগুড়া শহরের পৌর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৩

বিএনপির সংসদ সদস্যদের ছেড়ে দেয়া ছয় সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন আজ বুধবার। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ২৩ জন, বাকি ১৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। বিএনপি ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দলটির চার নেতা ভোট করছেন এই নির্বাচনে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ছয়টি আসনে একযোগে আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। ছয় আসনের ৮৬৭ কেন্দ্রের সবগুলোতে ভোট নেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে। গতকাল মঙ্গলবার আসনগুলোতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ইভিএম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্বাচনী সরঞ্জাম। নিজেদের প্রথম সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ব্যবহার করলেও এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ব্যবহার করছে না ইসি।

সংসদীয় আসনগুলোতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট হবে আশাবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি আছে। কেবল সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করিনি। বাকি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করার জন্য যা যা দরকার, আমরা সব করেছি। ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য ভোটার এডুকেশন যথেষ্ট করা হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২

ছয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানা ধরনের চমক দেখাচ্ছে এই আসনটি। বিএনপির যে সংসদ সদস্যের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হয়েছে, সেই উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াই আবার দল থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। পরে দল তাকে বহিষ্কার করে। এদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি, শরিক দলগুলোর কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দেয়নি। বরং প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও তার পক্ষে জনসভা করেছেন।

এদিকে নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে গত শুক্রবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু আসিফ আহমেদ নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তার পরিবার। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফোনালাপে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটের আগের দিন গতকাল দুপুরে আবু আসিফের স্ত্রী মেহেরুন্নিছা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণে আবু আসিফ আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও নির্বাচন কমিশন মনে করছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩২টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পাঁচজন। আব্দুস সাত্তার ও আবু আসিফ ছাড়া বাকি প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী জহিরুল হক (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (আপেল)। জিয়াউল হক অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এই আসনে পুলিশ, আনসার সদস্য ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি চার প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ১০টি টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একজন করে মোট ১৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ করবেন। এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, ‘আবু আসিফকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও-৩

এই আসনে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৪১ জন ভোটার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩১ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৮টি। এর মধ্যে ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যদিও নির্বাচন কমিশন এই কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করছে।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীরা হলেন ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী (হাতুড়ি), জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (লাঙ্গল), জাকের পার্টির এমদাদুল হক (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিভিশন)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। একতারা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোপালচন্দ্র রায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে ভোট করছেন এই আসনে।

এ আসনে প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারী পুলিশ, দুজন নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া সাত প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা নজরদারিতে রাখবেন। আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্তসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬

বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫ জন। এই আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৭৯টি। কেবল কাহালুতেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৬টি।

এই আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। এ আসনে আওয়ামী লীগ নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম তানসেনকে (মশাল)। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. তাজ উদ্দীন মণ্ডল (ডাব) ও জাকের পার্টির মো. আব্দুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে কুড়াল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক বিএনপি নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোশফিকুর রহমান কাজল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন মো. ইলিয়াস আলী, (কলার ছড়ি), মো. গোলাম মোস্তফা, (দালান) ও আলোচিত আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম, (একতারা)।

এদিকে বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২৫৯ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৪৮৪ জন। এই আসনের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ।

এই আসনে দলীয় প্রার্থী ছয়জন হলেন- আওয়ামী লীগের রাগেবুল আহসান রিপু (নৌকা), জাসদের মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ (মশাল), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (বটগাছ), জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মোহাম্মদ ফয়লাস বিন শফিক (গোলাপ ফুল) ও গণফ্রন্টের মো. আফজাল হোসেন (মাছ)। পাঁচ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ আব্দুল মান্নান (ট্রাক) ও বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সরকার বাদল (কুড়াল)। এ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন হিরো আলম। এ ছাড়া মাছুদার রহমান হেলাল (আপেল) ও রাকিব হাসান (কুমির) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনে তিনজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ১৬ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাড়ে ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন। আসনটির ১৮০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২২।

নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে দলীয় প্রার্থী চারজন, স্বতন্ত্র দুজন। দলীয় প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মু. জিয়াউর রহমান (নৌকা), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নবীউল ইসলাম (টেলিভিশন)। এ আসনে স্বতন্ত্র দুজনই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। তারা হলেন- মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল) ও খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল)।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজা ৪৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন। আসনটির ১৭২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৭টি।

এই আসনে প্রার্থী মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল ওদুদ (নৌকা), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন) এবং আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সামিউল হক লিটন (আপেল)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খান জানান, ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দৈনিক বাংলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি]


ফরিদপুরে তরুণ ভোটারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা

আপডেটেড ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৯
ফরিদপুর প্রতিনিধি

তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক — এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নিয়ে ফরিদপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাট ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভা শেষে মমিনখার হাট বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সাক্ষাৎ করে মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপি'র সংসদ সদস্য প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কনিষ্ঠ পুত্র আরশিয়ান আহমেদ।

জাতীয়তাবাদী প্রবাসীদল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও মমিন খারহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা প্রিন্স আলীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এলাকার তরুণ যুবসমাজের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিয়ান আহমেদ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণ প্রজন্মের সচেতন ও সাহসী সিদ্ধান্তের ওপর। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হলো।

মত বিনিময় সভায় চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি প্রবাসী দল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা প্রিন্স আলি, মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বেপারি, জেলা ছাত্রদলের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সমাজসেবক চৌধুরী ফারদাদ ইউসুফ, কাউছার মিয়া, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মিজানুর রহমান বেপারি সহ তরুণ ভোটরগন উপস্থিত ছিলেন।


খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী রাষ্ট্রনায়ক: ড. মঈন খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। তার চিন্তা, কাজ, দক্ষতা এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।’

রাজধানীতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় আব্দুল মঈন খান এ কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, ‘আজকে আপনারা আমাকে যার সম্পর্কে বলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তার বিষয়ে বলার যোগ্যতা আমার আছে কি না—তা নিয়েই আমি ভাবছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসার কথা বলতে গেলে দিনের পর দিন কথা বলেও শেষ করা যাবে না।’

আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে অনেক সময় আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। তার শূন্যতা ও অবদান স্মরণ করলে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আজ আমরা কীভাবে আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করব, সেটাই যেন জানি না।’

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ৯০-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৬-৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় অনেকেই সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়, তার সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘তিনবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। একটি দিনও তিনি আমাকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশ দেননি। সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তার গণতন্ত্রচর্চার প্রকৃত উদাহরণ।’

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার উদারতা ও সহনশীলতার একটি ঘটনার উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, ‘একজন সিনিয়র সচিবকে মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার আগে তিনি মন্ত্রীর মতামত জানতে চেয়েছিলেন, যা তার নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।’

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল মঈন খান আরও বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। একবার আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি কেন এসব মামলায় কোর্টে যান? তিনি বলেছিলেন—ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি আইনের বাইরে যেতে পারি না। এই কথার মধ্যেই প্রকাশ পায় আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়কসুলভ মানসিকতা। এই কারণেই আমি দৃঢ়ভাবে বলি—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন- প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এই শোক সভায় এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


এলডিসি উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বিষয়ক জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে এই সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে তা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, “জাতিসংঘ এ দফায় আসছে না মানে পরে আসবে। তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটা আমরা পেয়ে যাব। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোবে।” উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ-সহ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠনের আশঙ্কা, উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানোয় দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়ে বিদ্যমান সংকটগুলো তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, “যে স্তরে বাংলাদেশ যেতে চায়, সেখানে অন্যান্য দেশের ব্যাংকঋণের সুদ ৫ শতাংশের নিচে, অথচ দেশে তা প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা থাকলেও এখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুশাসন ও অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে। এসব সমস্যা রেখে কেবল নামমাত্র এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের লাভ কী?” ব্যবসায়ীদের এই দাবির কথা সরকার জাতিসংঘকে জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি, যদিও নেপাল বা লাওসের মতো দেশগুলো তাদের উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ এখনও নেয়নি।


আন্দোলনের সুফল কোনো নির্দিষ্ট দল একাই ঘরে তুলবে, তা হতে দেওয়া হবে না: ডা. জাহিদ হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সুফল কৌশলে কোনো একটি নির্দিষ্ট দল তাদের নিজেদের ঘরে তোলার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের কোনো কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জেলার হাকিমপুর উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

ডা. জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ও সরকার পতনের আন্দোলন সফল হওয়ার পেছনে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা দেশবাসী ভালোভাবেই অবগত আছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের ফসলকে কেউ যদি একা ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে এ দেশের মানুষ কখনোই তা মেনে নেবে না বা হতে দেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওই দিন স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুরুতে এটি ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থাকলেও পরবর্তীতে সাধারণ জনতার অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাই এই আন্দোলন এবং বিজয় সবার। তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম জানান এবং যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তাকে ততটুকু সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

পলাতক স্বৈরাচারী সরকারের বিচার দাবি করে ডা. জাহিদ বলেন, বিগত সময়ে তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, বিশেষ করে গুম, খুন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হতে হবে। এছাড়া যারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, সেই অর্থ ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে লাগানোর দাবি জানান তিনি। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।

হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, উপদেষ্টা আকরাম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হকসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন এবং কার্যক্রমে অংশ নেন।


শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী: বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এদিন দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিনব্যাপী পালিত হবে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামী ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এই আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।


খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনোই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন গতানুগতিক রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং তার ব্যক্তিত্বে নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। তার রাজনৈতিক পরিচালনায় যেমন ছিল ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা, তেমনি তার আচরণের মধ্যে ছিল মাতৃসুলভ শাসন ও স্নেহের এক অপূর্ব ভারসাম্য। এই দুই গুণের সংমিশ্রণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক। আলাল উল্লেখ করেন, চরম অসুস্থতা এবং নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েও বেগম জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সবসময় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এত অবহেলার পরেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের কথা স্মরণ করে আলাল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে বেগম জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি অভিযোগ করেন, যারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, তারা অনেকেই যা করতে পারেননি, বেগম জিয়া তা করে দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সেই চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে বিএনপি সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়েই দেশে প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু হয়, যা আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছিল। সে সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ।

শাসনামলের সততা ও কঠোরতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে আলাল আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন আপসহীন নেত্রী, যিনি অনিয়মের অভিযোগে নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীদেরও ছাড় দেননি। দলের ভেতরে থেকেও কেউ অপরাধ করলে বা অনিয়মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।


জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নেত্রকোণা জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী তাদের দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে নেত্রকোণা-২ (সদর–বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

নেত্রকোণা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠী বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারী অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, সহসভাপতি শাজাহান মিয়া এবং দপ্তর সম্পাদক জুলহাস মিয়াসহ আরও অনেকে। এ সময় নবাগত নেতাকর্মীদের হাতে ফুল দিয়ে তাদের দলে উষ্ণভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা জানান, তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ এবং স্থানীয় নেতা অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপির হাত ধরেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।

উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেত্রকোণা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেরুল আলম রাজু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তিনি ২৪-এর গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল কৌশলে নির্বাচন থেকে সরতে চায়: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল কৌশলে আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পায়তারা করছে। তবে বিএনপি তাদের সেই সুযোগ দেবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমতা বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যারা গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই সফল হবে না এবং দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবেই। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো দল যদি কৌশলে নির্বাচন বর্জন বা সরে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে তাদের সেই সুযোগ দেবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থে তারা দলীয় কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশন এবং কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপির এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ও ভদ্রতাকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করেছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিএনপির এই ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক হবে না, কারণ দলটি গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই এমন সহনশীল আচরণ করছে।

মায়ের ডাক ও আমরা বিএনপি পরিবার-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সভায় বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে হওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয় এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।


কেউ ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমাতে পারবে না: তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করে আর বিএনপিকে দমন করে রাখা যাবে না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ নামক দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তিনি বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাকে বহু বছর ধরে দেশ, স্বজন এবং দেশের সাধারণ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। তবে ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও মানসিকভাবে তিনি সবসময় দেশের মানুষের পাশেই ছিলেন। তিনি জানান, দলের নেতাকর্মীদের বাইরেও সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা স্বজনহারা মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ভুক্তভোগীদের জন্য তিনি কতটুকু করতে পেরেছেন বা পারেননি, সেই হিসাব ভিন্ন হতে পারে। তবে তার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। হয়তো পরিস্থিতির কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করেন।

বক্তৃতায় তারেক রহমান বিগত সরকারের আমলে দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, যাদের অনেকের পরিবার আজ এই সভায় উপস্থিত। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক মামলার বোঝা প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে বহন করতে হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব মামলার কারণে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে এবং অমানবিক জীবনযাপন করতে হয়েছে। তবুও বিএনপি সব বাধা উপেক্ষা করে জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।


গুম ও খুনের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম, খুন এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। গুম ও খুনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আর্তনাদ ও বঞ্চনার কথা শুনতেই মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যারা নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


ইসলামের পথ থেকে সরে গেছে জামায়াত, তাই আমরা জোট থেকে বেরিয়ে গেছি

আপডেটেড ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামের পথ থেকে সরে যাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন এই ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাথে বৈঠকে দলটি প্রচলিত আইনে দেশ পরিচালনা করার ওয়াদা করেছেন। তবে শরিয়াহ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার উদ্দেশ্যই ইসলামী আন্দোলন কাজ করছে। ফলে এটা আমাদের সাথে সাংঘর্ষিক।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত আমির তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এর অর্থ, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তারা। দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করছি না।’

জোট ভাঙার নেপথ্যে ভোটব্যাংক ইস্যুতে জামায়াতের কটাক্ষও দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ৯ ডিসেম্বর জামায়াত আমির ও পীর সাহেব একান্তে আলোচনায় বসেছিলেন। সেই আলোচনায় প্রথম আলোর জরিপের কথা টেনে বলা হয় ইসলামী আন্দোলনের ভোট জিরো দশমিক সামথিং। এটা পীর সাহেব এক প্রকার সরাসরি অপমান করা। এই ঘটনার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বিকল্প চিন্তা করা শুরু করে।’

এসময় ইসলামপন্থিদের কেউ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসতে চাইলে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।


হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে মাহমুদুর রহমান মান্না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না পুনরায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করার পর তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই তথ্য নিশ্চিত করে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আ. রাজ্জাক তালুকদার সজীব এক ক্ষুদে বার্তায় বলেন, ‘নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হার্ট অ্যাটাক করেছেন। পিজিতে (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) নিয়ে যাচ্ছি।’ মান্নার সুস্থতা কামনায় তাঁর দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, মাহমুদুর রহমান মান্না ইতিপূর্বেও কয়েকবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন; সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি একই কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি প্রথমবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং সে সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর হার্টে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছিল। বর্তমানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) রাখা হয়েছে।


দেশের কয়লা-গ্যাস কুক্ষিগত করতে আঞ্চলিক মহাশক্তি ষড়যন্ত্র করছে: রুহুল কবির রিজভী

আপডেটেড ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও যে কয়লা এবং গ্যাস রয়েছে সেগুলো কুক্ষিগত করার জন্য আঞ্চলিক মহাশক্তি ও বৈশ্বিক মহাশক্তি ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, ঢাকা আয়োজন করেছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসছে সেই বিদ্যুৎ প্লান্টটি খোদ ভারত সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সময় প্রকল্পটি বাংলাদেশের রামপালেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই ধরনের দেশবিরোধী প্রকল্প বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে কখনোই করানো সম্ভব হয়নি বলেই তাকে জেলে ঢোকানো হয়েছে। চিকিৎসা না দিয়ে তিলে তিলে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


banner close