জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচারিক আদালতের আদেশ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
জি এম কাদেরের রিভিশন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আব্দুল হাফিজের একক বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে জিএম কাদেরের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুল জারি করেছেন আদালত। এ আদেশের ফলে আপাতত তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই।’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টিতে বিভেদ দেখা দেয়। এরশাদের স্ত্রী ও দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের বিরোধ অনেকটাই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকালে রওশন দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আহ্বান করলে উভয়পক্ষের তরফ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসে। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশনকে সরাতে সচেষ্ট হন কাদেরপন্থিরা। যদিও পরে রওশন সম্মেলন স্থগিত করলে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার পথ খোলে। পরে দুজন একসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে বলেন তারা ঐক্যবদ্ধ।
ওই বিরোধ চলাকালে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টি থেকে জিয়াউল হক মৃধাকে জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তে বহিষ্কার করা হয়। তার তিন দিন আগে বহিষ্কার করা হয় রওশনপন্থি আরেক নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।
মৃধা এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ না করে চ্যালেঞ্জ করেন জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান হওয়ার সিদ্ধান্তকেই। তিনি চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়েই মামলা করেন।
মৃধার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর জি এম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অস্থায়ী আদেশ দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন জি এম কাদের। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোট বিচারিক আদালতের আদেশ স্থগিত করেন।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন জিয়াউল হক মৃধা। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ বিচারিক আদালতের আদেশই বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তির ভার দেন নিম্ন আদালতকেই।
পরে গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালত জি এম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার আদেশই বহাল রাখেন।
ওই আদেশের রিভিশন চেয়ে হাইকোর্টে ফের আবেদন করেন জি এম কাদের। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আজ এ আদেশ দিলেন।
মামলার বাদী ও জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধাকে আট সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।
ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি করে জামায়াত ইসলামী নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, তাদের দমন করতে না পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
নুর অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী তরুণদের ওপর ভর করে বিজেপির মতো পদ্ধতিতে দেশকে উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
তিনি জামায়াতের কোল থেকে নেমে প্রগতিশীল রাজনীতি করতে এনসিপিকে পরামর্শ দেন। জুলাই-পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারে থাকলেও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে পিছপা হবেন না। তিনি আরও জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ এককভাবে অংশ নেবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করলে কেউই লাভবান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্যই এসব করা হচ্ছে। পলাতক শক্তিও আত্মগোপনে থেকে নানা কাজ করছে।’ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দলের সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাদের গোপন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন রিজভী। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দলীয় কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীসহ সারা দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা (র্যালি) হবে। সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তার দাবি, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এসব ঘটনায় উসকানি দিয়ে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকরাও এই অরাজকতার সঙ্গে জড়িত।’ প্রতিবেশী দেশ থেকেও উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়াামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সংক্ষিপ্ত সফরে উপজেলা কেন্দ্রীয়া জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়া শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শেখ হাসিনা দেশের কোনো কাজই করে নাই। শুধু ব্রিজ আর ফ্লাইওভার করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকের টাকা খালি করে দিয়েছে । বলছে নিজস্ব টাকা দিয়ে করছে। ঢাকা থেকে ময়ামনসিংহ বিদ্যুৎ লাইন এটাও করে নাই। আমরা এসে ১০ মাসে করলাম এখন ময়ামনসিংহে লোডশেডিং কমে গেছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ভোটেইতো আমরা নির্বাচিত হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। এখন এই যে সরকার আপনারা বসাইছেন, এ সরকার তো আপনাদের সরকার। কড্ডা থেকে জামতৈল পর্যন্ত রাস্তাটি প্রশস্ত করা হবে এটা টেন্ডার হয়ে গেছে টেন্ডার ড্রপ হলেই দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাবে।
জ্বালানি তেলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনাদেরকে বুঝতে হবে আজকে দেশের কি পরিস্থিতি। যে জায়াগা থেকে জ্বালানি নিয়ে আসে তেল-গ্যাস পেট্রোল যেখান থেকে আসে সেখানে যুদ্ধ লিপ্ত হয়েছে। ফলে সারা বিশ্বে আজকে জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে এই জ্বালানি ক্রাইসিস এর মধ্যেও আমরা দেশের যাতে বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ ঠিক থাকে আমরা বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এভাবে যদি দিতে থাকি তাহলে যে সামাজিক প্রকল্পগুলো আছে যেমন রাস্তাঘাট করা, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়াা স্কুল উন্নত করা, টাকা যদি আমরা সব এখানে খরচ করি তাহলে এই যে কাজগুলো কিভাবে হবে, আপনার যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি কিভাবে পার করব।
বিদ্যুতের বিষয়ে টুকু আরো বলেন, আমরা একটা সহজ পদ্ধতি পেয়েছি আল্লাহর দেওয়া সূর্য। সে সূর্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করব। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সোলার বসান। বিদ্যুতের বিলও কম থাকবে প্রিপেইড মিটার নিয়ে জ্ঞান জ্ঞান করা লাগবে না। কিছুই করা লাগবেনা। আপনার বিদ্যুৎ আপনি উৎপাদন করবেন আপনি ব্যবহার করবেন তার জন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।
নারী অধিকার ও দলীয় গণতন্ত্র, জামায়াতের সঙ্গে জোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেছেন তবে এটি দলকে খুব বেশি বেকায়দায় ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেছেন, পদত্যাগের আগে দীর্ঘ সময় ধরে সামান্তা দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তার পদত্যাগ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের পেছনে প্রধান চারটি কারণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ১১ মাস ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।
সামান্তা বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শাসক পরিবর্তনের বদলে শাসনকাঠামোর পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক পক্ষগুলো এক হয়ে নির্বাচনকে আবারও ক্ষমতা বদলের নির্বাচনে পরিণত করার চেষ্টা করেছে।’
তার মতে, এনসিপি জোট গঠনের মধ্যদিয়ে সেই প্রচেষ্টার অংশ হয়েছে। পদত্যাগের বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘নির্বাচনের সময় জোট গঠনের সিদ্ধান্তে সামান্তার দ্বিমত ছিল। তবে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তিনি দলে ছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে।’ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তুষার আরও বলেন, ‘সামান্তা ও রাজনৈতিক পরিষদের কয়েকজন সদস্য দল পুনর্গঠনের সময় পরিষদে থাকতে চাননি।’ পুনর্গঠনের পর তিনি দলীয় সভায় অংশ নেননি বা বক্তব্য দেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সামান্তা ব্যক্তিগতভাবে দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে তাতে সমর্থন পাননি।
তুষার আরও বলেন, ‘নতুন পুনর্গঠন কমিটি গঠনের সময় সামান্তাকে আবারও দলে থাকতে চান কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি আপত্তি জানাননি। এখন পদত্যাগ করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এ সিদ্ধান্ত ঠেকানোর কিছু নেই।’
উল্লেখ্য, এনসিপির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন সামান্তা শারমিন। গত ২৩ অক্টোবর কমিটি পুনর্গঠনের পর তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে মানুষের আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে অবিলম্বে বাজারে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মিছিলে শত শত নারী হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি ন্যায্য। তাদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ করতে হবে। যথাসময়ে বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায্য আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় অগ্নিসংযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন স্বার্থ হাসিলের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত ও আতাউর রহমান সরকার। এ সময় জামাল উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি বাড্ডার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলটি বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম এমপি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে এ মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করছে এনসিপি।’ নাহিদ ইসলাম এমপি আরও বলেন, ‘বিএনপি সারা দেশে দমন নিপীড়ন চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’
গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে দমন নিপীড়নের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলন দমানো যাবে না। পুলিশ শ্রমিক কলোনিতে গিয়ে শ্রমিকদের ধরপাকড় করছে গ্রেপ্তার করছে নির্যাতন চালাচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনকে দমাতে বিএনপি তাদের গুণ্ডাবাহিনী মাঠে নামিয়েছে। একই কায়দায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের সহিংসতা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে বিএনপিও দমন নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।’
বিএনপি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণেও ব্যর্থ হয়েছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি একক প্রার্থী দেবে বলে জানান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম এমপি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্ত শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
লিখিত পোস্টে তিনি জানান, দীর্ঘ ১১ মাস ধরে দলের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রাম ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরও এনসিপি তার প্রারম্ভিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে আসায় তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনকে তিনি দলের অন্যতম প্রধান বিচ্যুতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংস্কারের প্রকৃত পরিপন্থী এবং তাদের সঙ্গে জোট করার কারণে এনসিপি উদার গণতান্ত্রিক জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি পরিবর্তনকামী রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ না দিয়ে বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলটি অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও সম্মুখসারির লড়াইয়ের স্বীকৃতি না দিয়ে, বরং দলীয় কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ন্যায্য হিস্যা ও মর্যাদা অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে এনসিপি একটি নারীবিরোধী ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চতুর্থত, নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন না করে এবং পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটি পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা এড়িয়ে চলার পথ বেছে নিয়েছে।
বর্তমান বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তোলার নতুন প্রচেষ্টায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সামান্ত শারমিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমান এনসিপির আহ্বায়কের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, নাহিদ ইসলাম তাঁর দেওয়া ‘চাঁদাবাজি ও লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন, দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—এই বক্তব্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
আইনি নোটিশে নাহিদ ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ অক্টোবর গণমাধ্যমে সন্ধ্যার পর প্রচারিত আপনার বক্তব্য ‘চাঁদাবাজি, লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন। দেশ পরিচালনায় তার কোনো পরিকল্পনা নাই’—দৃষ্টিগোচর হওয়ায় নোটিশদাতা চরম বিব্রত, ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নোটিশে আরও অভিযোগ আনা হয় যে, এ জাতীয় অমার্জনীয় ও ভিত্তিহীন মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ; অবাস্তব ও কাল্পনিক কথা বলে তিনি নিজেকে একজন অপরিপক্ব ও প্রজ্ঞাহীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এনসিপির শীর্ষ নেতা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের মতো সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তির মুখ থেকে এ ধরনের কাল্পনিক, অজ্ঞতাপূর্ণ ও রাজনৈতিক অপ্রজ্ঞার বক্তব্য জাতি কখনো আশা করেনি। এহেন দায়িত্বহীন আচরণের জন্য জাতির কাছে তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
উক্ত নোটিশ হস্তগত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলে দেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে চরমপত্র দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের অসংগতি, তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে আবেদন করেছেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ভোটার।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাব, নগদ অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, স্ত্রীর সম্পদের বিবরণ, বাড়িভাড়া থেকে আয়, গাড়ির মূল্য, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে তার আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য নথির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ব্যালেন্স ও নগদ অর্থের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তার দাবি, আয়কর রিটার্নে ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকার তথ্য রয়েছে। একইভাবে হলফনামায় উল্লেখ করা নগদ অর্থের সঙ্গে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত অর্থেরও পার্থক্য রয়েছে।
এ ছাড়া সংসদ সদস্যের স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন, তার নামে থাকা কৃষি ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ এবং কুষ্টিয়া শহরে আমির হামজার নামে থাকা একটি আবাসিক প্লটের তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য, বাড়িভাড়া থেকে আয়, পারিবারিক ব্যয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয়ের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। পাশাপাশি হলফনামায় উল্লেখ করা স্বর্ণের পরিমাণ ও অন্যান্য সম্পদের বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১(৫) ধারা অনুযায়ী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে একই আদেশের ৯১(২) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা, নির্বাচন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন, স্ত্রীর আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র, নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সম্পত্তির দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কুষ্টিয়া-৩ আসনের একজন ভোটার ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এ অভিযোগ করেছি। আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামায় বেশ কিছু বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। এসব তথ্য সবার সামনে উন্মুক্ত হওয়া এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত বা কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো আবেদনের বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান দাবি করেছেন, শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের লোকজন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে গণমাধ্যমের একটি নিউজকার্ড শেয়ার করে ক্যাপশানে তিনি এ দাবি করেন।
সেখানে রাশেদ খান লিখেন, ‘হেলমেট পরে শ্রমিক নেমেছে? বডি ফিটনেস, ড্রেসআপ দেখে মনে হয় এরা শ্রমিক? শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ।’
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার করার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী মিরপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকরা।
গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলায় আহত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৌফিক মিয়া (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, কোনো সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না।
সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেতরে এবার তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। জমি দখল, প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, আর্থিক অনিয়ম এবং দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রসহ তার বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। এসব ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি খোদ দলের ভেতরেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দখলদারিত্ব ও আর্থিক কেলেঙ্কারি
জেলা আমিরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে শহরের মসজিদ রোডের ঐতিহ্যবাহী চেম্বার অব কমার্স ভবন এবং এর আশপাশের জমি দখল ঘিরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি তৎকালীন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে আদালতের রায় নিজেদের অনুকূলে নেন। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের নামমাত্র নোটিশে ঐতিহ্যবাহী চেম্বার ভবনসহ প্রায় ৩০টি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পথে বসেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
অভিযোগ রয়েছে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে বিনা পুঁজিতে শতকোটি টাকার সম্পত্তির বড় অংশের মালিকানা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে জেলা জামে মসজিদের পাশেই বিল্ডিং কোড না মেনে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণাধীন এই ভবনের কেয়ারটেকার কাম ম্যানেজার জয়নাল এক অডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ভবনের ফ্ল্যাট বা দোকান বিক্রির সঙ্গে জেলা আমির সরাসরি সম্পৃক্ত।
এছাড়া মসজিদ রোডের ‘তিতাস টাওয়ার’ নির্মাণ ঘিরেও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতার প্রমাণ মিলেছে। চার বছর আগে টাওয়ারের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত তিনি অংশীদারদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বুঝিয়ে দেননি। এই প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগীরা এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় জামায়াতের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নির্বাচনী ষড়যন্ত্র
জামায়াতের মতো সুশৃঙ্খল দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বিগত নির্বাচনগুলোতে তার ভূমিকা ছিল চরম বিতর্কিত ও দলীয় স্বার্থের পরিপন্থী। প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অডিও রেকর্ড এসব তথ্য মিলেছে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নেছার আহমেদকে ‘দুষ্কৃতিকারী’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেন মোবারক হোসাইন। এছাড়া, দলীয় জোটের প্রার্থী আশরাফ মেহেদীকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে উল্টো দলীয় নেতা-কর্মীদের বিএনপির রুমিন ফারহানাকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে নিজ দলের প্রার্থী জুনায়েদ হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য এনসিপির প্রার্থী আতাউল্লাহকে উৎসাহমূলক পরামর্শ দেন জেলা আমির। আতাউল্লাহর নিজের স্বীকারোক্তি এবং সংগঠনের স্থানীয় জনশক্তিদের সাক্ষ্য থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত ও কর্মীদের ক্ষোভ
সংগঠনের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বিগত ১৫ বছরের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা যখন প্রতিনিয়ত হামলা, মামলা ও কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তখন জেলা আমির মোবারক হোসাইন প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিশ্চিন্তে ব্যক্তিগত সুবিধা ভোগ করেছেন। তাকে বড় ধরনের কোনো আইনি হয়রানির মুখে পড়তে হয়নি। উল্টো দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একের পর এক এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ন্যায়বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত জেলা আমিরের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগীরা।
‘২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১-এর রাজাকার!’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিয়ে জামায়াতের আজকের আয়োজন দেখে জনগণ এমন মন্তব্য করছে’।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনকারীদের সবাইকে রাজাকারের সন্তান বললেও মেজর আখতারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো। ফেস দ্য পিপল আয়োজিত আলোচিত সেই টকশোতে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাঁকেও মেজর আখতারুজ্জামান রাজাকারের বাচ্চা বলে আক্রমণ করেছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন করছে জামায়াত-শিবির ও রাজাকারের সন্তানেরা বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
রাশেদ লেখেন, সে সময় ফেস দ্য পিপলের সাগর ভাই মেজর আখতারুজ্জামানকে প্রশ্ন করেছিলেন, এরা সবাই রাজাকারের বাচ্চা কি না। জবাবে মেজর আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট, এরা শতভাগ রাজাকারের সন্তান!’
রাশেদ বলেন, সেই জুলাইয়ের গাদ্দার ও গণহত্যার মদতদাতা মেজর আখতারুজ্জামান এখন জামায়াত নেতা হয়ে গেছেন। জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল বলা মেজর আখতারুজ্জামান এখন সুন্দর করে ‘নারায়েতকবির’ স্লোগান দিতে শিখে গেছেন। আর এতেই তিনি পাকা ঈমানদার ও জনগণের নেতা হয়ে গেছেন? ধর্ম ব্যবসা শিখে গেলে এ সমাজে রাজনীতি করতে আর কী লাগে? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাও যদি ক্ষমা চেয়ে জামায়াতে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে তিনিও কি দলটিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন?
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘জামায়াতের আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে আজকে যখন মেজর আখতারুজ্জামান বলছিলেন, ইয়াহিয়া খানই তো ঠেকাইতে পারেনি, তোমরা কি ঠেকইবা!’
এ প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, মেজর আখতারুজ্জামান ‘ইয়াহিয়া খান ও ৭১-এর প্রসঙ্গে’ যেতেই হয়তো জামায়াতের আমির জিহ্বায় কামড় দিচ্ছিলেন আর ভাবছিলেন, ‘আরে কী কয়, কী কয়, এখনো পাক্কা জামায়াত তো হতে পারলি না!’ অথচ জামায়াতের আমির তাঁকে নিয়ে প্রশংসা করে বলেছেন, মেজর আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নেতা নন, পুরো বাংলাদেশের মানুষের নেতা। এরপরও তাঁর ৭১ প্রসঙ্গ টেনে আনার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন রাশেদ।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন আবারও বলেন, ‘যাই হোক, মেজর আখতারুজ্জামানকে নিয়ে জামায়াতের আজকের আয়োজন দেখে জনগণ মন্তব্য করছে, ২৪-এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১-এর রাজাকার!’
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা উসকে দিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা এ শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে মনে হয়। এ ব্যাপারে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের মধ্যে দেওয়া পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, ‘পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না।’
ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার জন্য গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
এ পরিস্থিতিতে মালিক-শ্রমিকসহ সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।