জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিচারিক আদালতের আদেশ ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
জি এম কাদেরের রিভিশন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আব্দুল হাফিজের একক বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে জিএম কাদেরের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুল জারি করেছেন আদালত। এ আদেশের ফলে আপাতত তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই।’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টিতে বিভেদ দেখা দেয়। এরশাদের স্ত্রী ও দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের বিরোধ অনেকটাই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকালে রওশন দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আহ্বান করলে উভয়পক্ষের তরফ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসে। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশনকে সরাতে সচেষ্ট হন কাদেরপন্থিরা। যদিও পরে রওশন সম্মেলন স্থগিত করলে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার পথ খোলে। পরে দুজন একসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে বলেন তারা ঐক্যবদ্ধ।
ওই বিরোধ চলাকালে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টি থেকে জিয়াউল হক মৃধাকে জি এম কাদেরের সিদ্ধান্তে বহিষ্কার করা হয়। তার তিন দিন আগে বহিষ্কার করা হয় রওশনপন্থি আরেক নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।
মৃধা এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ না করে চ্যালেঞ্জ করেন জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান হওয়ার সিদ্ধান্তকেই। তিনি চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়েই মামলা করেন।
মৃধার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর জি এম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অস্থায়ী আদেশ দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন জি এম কাদের। তার আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোট বিচারিক আদালতের আদেশ স্থগিত করেন।
হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন জিয়াউল হক মৃধা। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ বিচারিক আদালতের আদেশই বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তির ভার দেন নিম্ন আদালতকেই।
পরে গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালত জি এম কাদেরের দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার আদেশই বহাল রাখেন।
ওই আদেশের রিভিশন চেয়ে হাইকোর্টে ফের আবেদন করেন জি এম কাদের। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আজ এ আদেশ দিলেন।
মামলার বাদী ও জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধাকে আট সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছেন আদালত।
মৌলভীবাজারের (শেরপুর) আইনপুরে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। সমাবেশ চলাকালীন মাগরিবের আজানের সময় হলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সমাবেশ মঞ্চেই নামাজ আদায় করেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে বিকেল থেকেই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখছিলেন।
জনসভা উপলক্ষে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে সমবেত হন। এই সমাবেশ থেকেই মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
প্রার্থীরা হলেন— মৌলভীবাজার-১ আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব। মাগরিবের নামাজের পর পুনরায় সমাবেশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিক বরাদ্দের পর উৎসব মুখর পরিবেশে যশোরের সীমান্ত―বর্তী উপজেলা শার্শায় বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের নির্বাচনী এক মিছিল অনুষ্টিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে বেনাপোল বল্ড ফিল্ড থেকে চেকপোষ্ট পর্যন্ত বড় একটি মিছিল অনুষ্টিত হয়।
মছিলে বেনাপোল পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিএনপি যুবদল ছাত্রদল মহিলাদল সহ সহযোগিদলের হাজার হাজার নেতা কমী মিছিলে অংশ গ্রহন করেন। নির্বাচনী মিছিলে নেতাকর্মীরা ব্যানার প্লেকার্ড নিযে যোগদেন ।
এসময উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষ প্রতিকের বিএনপির এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন.পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দীন ও সাধারন সম্পাদক আবু তাহের ভারতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
যশোর ৮৫ শার্শা ১ আসনে বিএনপি. জামাত জাতীয় পাটি ও ইসলামি শাসন তন্ত্রের ৪ জন প্রার্থী প্রতিন্দিতা করছেন।
৮৫ যশোর-১ (শার্শা উপজেলা)মোঃ নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি), মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান(জামায়াতে ইসলামী), মোঃ বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন),জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি জিএম কাদের)। এ আসনে বিএনপি ও জামাত ইসলামি বাংলাদেশ এর কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নাই।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণার প্রথম দিনেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি দাবি করেছেন, সরকারের ভেতরে থাকা একটি বিশেষ মহল সুনির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজধানীর শান্তিবাগ স্কুল এবং পুরাতন রমনা থানা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, যখন রাষ্ট্রের কোনো প্রধান নির্দিষ্ট কাউকে ইঙ্গিত করে তার বিজয়ের আগাম বার্তা দেন, তখন বুঝতে হবে তাদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় জয়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে অনেক কিছু না বললেও তিনি অনেক কিছুই জানেন এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণ করতে পারবেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষ যেভাবে শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষায় কথা বলছেন, নিজের বয়স এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তিনি তার প্রত্যুত্তর দিতে পারছেন না। তবে প্রতিপক্ষ যা-ই বলুক, তাতে নিজের কোনো রাজনৈতিক ক্ষতি দেখছেন না মির্জা আব্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণকে তিনি তার নিজের সন্তানের আচরণের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ওই প্রার্থী এমন সব জায়গায় আঘাত করে কথা বলছেন যাতে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া দেখানোর বয়স পার হয়ে গেছে। তিনি প্রতিপক্ষকে তার ছেলের চেয়েও কম বয়সী উল্লেখ করে বলেন, নিজের ছেলে যেমন বাসায় দুষ্টুমি করে, তিনিও ধরে নিয়েছেন ওই প্রার্থী ছেলের মতোই দুষ্টুমি করছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা ও ফলাফল নিয়ে নিজের শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন ঢাকা-৮ আসনের এই প্রার্থী। তিনি সরাসরি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বা নির্বাচন প্রভাবিত করার আশঙ্কার কথা জানান। তার মতে, সরকারের একটি মহল বিশেষ কিছু প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য সক্রিয় হতে পারে এবং সেখানে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে অপচেষ্টা যে হবে তা তিনি নিশ্চিত। তবুও সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মির্জা আব্বাস জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন এবং এবারও যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে ইনশাআল্লাহ তিনি জয়লাভ করবেন। দলীয় কর্মীদের মনোবল দেখে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছেন। বুধবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আল মদিনা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই দলবদল সম্পন্ন করেন। এলডিপি থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে বরণ করে নেন উপজেলা পর্যায়ের বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী। দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবু সেলিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম জাহেদ চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী নুরুল আলম নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন যে তিনি অতীতেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে তিনি বিএনপির রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান। তিনি বিএনপিকে এ দেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়টি দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আগামী নির্বাচনে এই আসনটি তাকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনও বিএনপিতে যোগদানকারীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমেই লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের আগেই একটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে এবং মুসলমানদের দিয়ে শিরক করাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা নির্বাচনের আগে মানুষকে এভাবে প্রতারিত করছে, তারা নির্বাচনের পরে কী ধরনের আচরণ করবে তা সহজেই অনুমেয়। এই হঠকারিতা ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তারেক রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ দেখেছে কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই করা হয়েছে। তিনি বিগত নির্বাচনগুলোকে আমি-ডামি নির্বাচন এবং নিশিরাতের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, এই তথাকথিত নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখন সময় এসেছে মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠার।
দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শুধু ভোট বা কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে দিলেই হবে না, মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকের পাশে দাঁড়াতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী-পুরুষকে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবসমাজকে কাজে লাগানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেটের এই বিশাল জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফেরার পথে তিনি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন ছয়টি জেলার আরও ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্যে প্রথমেই তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরবর্তীতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত ১৬ বছরের শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের মানুষ কেবল ব্যালট ছিনতাই, আমি-ডামি প্রার্থী আর নিশিরাতের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত দিনে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক এবং ভোটাধিকার নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গত দেড় দশকে বিএনপিকে অনেক নেতাকর্মী হারাতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে এই দেশকে কার্যত অন্য দেশের কাছে বন্ধক দিয়ে রাখা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্লোগান তোলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, এমনকি অন্য কোনো দেশও নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বিগত সরকারের উন্নয়নের বয়ানকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি দেশের এই লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সার্বিক অবস্থার গুণগত পরিবর্তন ও উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বক্তব্যে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা দেশ থেকে পালিয়েছে এবং জনগণের অধিকার হরণ করেছে, তারাই সিলেটের সন্তান ইলিয়াস আলীর মতো হাজার হাজার মানুষকে গুম ও হত্যা করেছে। নেতাকর্মীদের গুম ও খুনের মিথ্যা মামলা দিয়ে জর্জরিত করে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের আজকের এই সমাবেশ সম্ভব হয়েছে চব্বিশের আন্দোলনে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। তার মতে, একাত্তরের অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী জনতা পুনরায় রক্ষা করেছে।
তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টেক ব্যাক বাংলাদেশ বা দেশ পুনরুদ্ধারের মিশনের অর্ধেক পূর্ণ হয়েছে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এখন ধানের শীষকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পথে মূল যাত্রা শুরু হবে। নারীদের উন্নয়নে বিএনপির অতীত অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দল আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবারের প্রধান নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য পৃথক কৃষক কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি হন এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, সত্যিকারের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারলেই কেবল নাগরিকরা তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে পারে। এমনকি শহরের উন্নয়ন বা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো কাজগুলোর জন্যও একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে তার দলের নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনাগুলো তরুণদের সামনে তুলে ধরেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে ইচ্ছুক, তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের বা পিপিপি মডেলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের নানা প্রান্তের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং দেশকে নিয়ে নিরন্তর ভাবনার ফসল হিসেবেই তিনি এসব পরিকল্পনা সাজিয়েছেন।
এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের সঙ্গে এই কথোপকথন নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপিকে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই জনসভাকে ঘিরে পুরো সিলেট নগরী যেন এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
জনসভা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ভোর থেকেই সিলেট বিভাগ ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে স্রোতের মতো নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে প্রবেশ করতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সবার গন্তব্য ছিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, যা দুপুরের আগেই জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর সিলেটে কোনো জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখছেন এবং কর্মীরা অধীর আগ্রহে তাদের নেতার বার্তা শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এর আগে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এরপর তিনি মাজার জিয়ারতসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করল, যা দেশের রাজনীতির মাঠে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট সফরের শুরুতেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সিলেটের একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে এই বিশেষ আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন এবং তাদের ভাবনাগুলো শুনছেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আগামীর বাংলাদেশ গঠন, রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, এই মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ সমাজের প্রত্যাশা ও ভাবনাগুলো শোনা। দেশ গড়ার কাজে তরুণদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় এবং তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো কী, সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেই বিএনপি চেয়ারম্যান এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণরা মূলত সাধারণ শিক্ষার্থী, যারা সরাসরি তাদের মতামত দলীয় প্রধানের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তারেক রহমান অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শুনছেন এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবসমাজের ক্ষমতায়ন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন।
এই মতবিনিময় পর্ব শেষ করেই তারেক রহমান সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। দীর্ঘ সময় পর সিলেটে এসে তিনি প্রথমেই তরুণদের সঙ্গে সময় কাটানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণদের সঙ্গে এই সেশন শেষ করে তিনি জনসমুদ্রে ভাষণ দেবেন, যেখানে নির্বাচনী ইশতেহার ও দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান পূণ্যভূমি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর পর বিএনপি প্রধানের এই সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে পুরো নগরীজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।
দলীয় প্রধানের আগমন উপলক্ষে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠসহ পুরো সিলেট নগরী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। গতকাল বুধবার রাত থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশস্থলে এসে জড়ো হন এবং অনেকে মাঠেই রাত্রিযাপন করেন। আজকের এই জনসভায় তারেক রহমান সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং নির্বাচনী দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখবেন। মঞ্চ ও মাইকসহ যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সস্ত্রীক সিলেটে পৌঁছান তারেক রহমান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তারসহ দলের শীর্ষ নেতারা। সিলেটে পৌঁছেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং সেখানে নফল নামাজ আদায় করেন। এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর গভীর রাতে তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলামে অবস্থিত তার শ্বশুরবাড়িতে যান এবং সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুরুব্বিদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। সিলেটের প্রবাসী-অধ্যুষিত বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রতিটি জেলায় উন্নত ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন, যাতে যুবকরা দক্ষ হয়ে বিদেশে গিয়ে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে পারে। এছাড়া তিনি কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার কথা জানান। গত ১৬ বছরে মানুষের কেড়ে নেওয়া বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
আজকের কর্মসূচি অনুযায়ী, সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারেও তার পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের এই দীর্ঘ রোডমার্চ নির্বাচনী মাঠে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। দলটির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই গানের সুর ও কথার মূর্ছনায় সারা দেশে ধানের শীষের পক্ষে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি হবে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই থিম সংয়ের উদ্বোধন করা হয়।
বিএনপির এই নতুন নির্বাচনী গানে দলের জনপ্রিয় স্লোগানগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে সুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। গানের কথায় ভোট দিবেন কীসে ধানের শীষে এবং সবার আগে বাংলাদেশ-এর মতো স্লোগানগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, যা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনের আগমুহূর্তে ডিজিটাল প্রচারণার অংশ হিসেবে এই গানটি প্রকাশ করা হলো, যা দলের প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
থিম সং উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি তার বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী দর্শনের গভীরতা তুলে ধরতে বিজ্ঞানের উপমা ব্যবহার করেন। রিজভী বলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে যেমন প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রনের বন্ধন অত্যন্ত অবিচ্ছেদ্য ও দৃঢ়, ঠিক তেমনি তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এক দৃঢ় রাষ্ট্রীয় দর্শনে বিশ্বাস করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই দর্শনের প্রতীক হলো ধানের শীষ, যা বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিগত সময়ে শেখ হাসিনা অনেক চেষ্টা করেও যেমন এই প্রতীককে মুছে দিতে পারেননি, তেমনি ভবিষ্যতেও আর কেউ তা পারবে না। কারণ ধানের শীষ প্রতীকটি মানুষের হৃদয়ের গভীরে গেঁথে আছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই থিম সংয়ের মাধ্যমে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার ও নতুন জাগরণ তৈরি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমীন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নতুন এই থিম সংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় গতি আসার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় গণভোট ইস্যুতে সামগ্রিকভাবে ‘হ্যা’ এর পক্ষে অবস্থান নেবে বিএনপি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় ও নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা সিলেট থেকে শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট পৌঁছে গভীর রাতে হজরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরসঙ্গী আছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
এ সময় মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসনের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণার আগে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ কাম্য নয়। বিএনপি থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হচ্ছে না।
নির্বাচনের পূর্বমূহুর্তে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিধ্বংসী মওদুদীবাদী জামায়াতের জোট থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী হাফিজাহুল্লাহ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা হেফাজতের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট পরিবর্তিত বাংলাদেশে সহীহ আকীদা বিশ্বাসী ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে ইসলামপন্থীদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছি। মওদুদীবাদী জামায়াতকে বাদ দিয়ে এক হওয়ার আহ্বান করেছি। ঈমান, আকীদা বাদ দিয়ে কারো সাথে জোট না করতে সতর্ক করেছি।
আলহামদুলিল্লাহ! মওদূদিবাদী জামায়াতের খপ্পড় থেকে বের হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে রাজনৈতিক পথচলা তৈরি করতে পারায় বিশেষ মোবারকবাদ জানাই। ইসলামি রাজনীতিতে হকপন্থিদেরর একক পথচলা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলেন, ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য এই পথচলা আগামীতে ভালো অবস্থা তৈরি করবে ইনশাআল্লাহ।
আমীরে হেফাজত আরও বলেন, জামায়াতের সাথে থাকার কারণে এ দেশের ইসলামপন্থার বড় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পীর সাহেব চরমোনাইর একক পথচলার সিদ্ধান্ত সেই ক্ষতির পথ অনেকটাই বন্ধ করবে বলেই আমি মনে করি, ইনশাআল্লাহ। এই সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারায় ইসলামী আন্দোলনের আমীর এবং এই দলকে বিশেষ মোবারকবাদ জানাই।
আমীরে হেফাজত তার বিবৃতিতে আরও বলেন, হেফাজত বরাবরের ন্যায় আগামী নির্বাচনেও কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নিবেনা। তিনি বলেন,যারা নিরেট ইসলামপন্থাকে ধারণ করে জনগণ তাদেরকেই ভোট দেবেন বলে আমি আশাবাদী। যারা ইসলামের নামে মওদুদীবাদ এবং বিভিন্ন ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করে তাদেরকে আগামী নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে আগামী নির্বাচনে উলামায়ে দেওবন্দ তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকল অনুসারী একই সাথে পথ চলবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।