বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
১০ আষাঢ় ১৪৩৩

বিএনপি-জামায়াতের বিচ্ছেদ, পাল্টে যাবে ভোটের হিসাব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির লোগো। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:২৩

জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা ঘরোয়া আলোচনায় জোট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও বিএনপি এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে না ভোটের হিসাবনিকাশের কারণে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটির পাঁচ শতাংশের আশপাশে ভোট রয়েছে, যে ভোট বিএনপিকে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়।

এরশাদ সরকারের পতনের পর যেসব নির্বাচন হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে সহযোগী থেকে দুটি নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে। অন্যদিকে যে নির্বাচনে দুই দল আলাদা ভোট করেছে, সে সময় দুই দলের আসনই অনেক কমে গেছে। অবশ্য এটাও ঠিক যে, সব মহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে জোটে থাকার পরও বিএনপি-জামায়াতের ভরাডুবি হয়েছে। সেই নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগও জোটের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে লড়াইয়ে নামে।

একক শক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগও নেই। তবে তাদের যে পরিমাণ ভোট আছে, সেটি অন্য প্রধান দলের বাক্সে গেলে সেই দলকে শক্তি জুগিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারে।

এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নানা সমালোচনা এবং দেশি-বিদেশি চাপের মধ্যেও জামায়াতের সঙ্গে জোট চালিয়ে গেছে বিএনপি। তবে কয়েক বছর ধরে দূরত্বের মধ্যে এবার দলটির আমির জোট ছাড়ার কথা বলেছেন, যদিও দুই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।

বিএনপি কেন এই বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ, এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি মুখ খুলবেন না। তিনি এমনও বলেছেন, ‘কিছু না বলা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।’

কুমিল্লার একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির স্পষ্ট করেই বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট আর নেই। এখন থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তারা আলাদা থাকবেন। প্রশ্ন হলো, জামায়াত সরে গেলে আওয়ামী লীগের মহাজোটের মোকাবিলায় ভোটের ময়দানে বিএনপির অবস্থান কী হবে।

১৯৯১ সালের পর থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রধান দুই দল- আওয়ামী লীগের ভোট প্রতিবার বেড়েছে। বিএনপির ভোট একবার কমেছে এবং সেটি অনেক বেশি। সেই নির্বাচনের পরই দলটি রাজনীতিতে অবস্থান হারায়।

বিএনপির পাশে জামায়াত না থাকলে সমীকরণটা কী হবে- জানতে চাইলে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর চেয়ারম্যান শারমিন মুরশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ ভোট আছে। সেখানে আওয়ামী লীগের ভোট আছে ৪০ শতাংশের মতো। নরমাল ইলেকশন হলে জামায়াত ভোট পাবে ৫ শতাংশের আশপাশে।’ তবে দীর্ঘদিন একটা দল ক্ষমতায় থাকার পর এসব ফল পাল্টে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এসব বিষয়ে পলিটিক্যাল পার্টির গবেষণা থাকা উচিত।’

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান কলিমুল্লাহ মনে করেন, জামায়াতের জোট ত্যাগ বিএনপির জন্য উপকারিও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত অফিশিয়ালি বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করলে শাসক দল আওয়ামী লীগের অ্যাকশন থেকে তারা তুলনামূলকভাবে গা-বাঁচাতে পারবে। তা ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া থাকার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে যে মৌলবাদঘেঁষা দল হিসেবে ট্রিট করার একটা সুযোগ ছিল, সেটা থেকে তাদের মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও বিএনপি যে নির্ভার থেকেছে এমন নয়। গত নির্বাচনের আগে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে জোট করার পরও জামায়াতের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করতে চায়নি। সে সময় বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট আর ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে চালিয়ে গেছে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের এ বিষয়ে ধোঁয়াশায় রেখেছে। এমনকি ভোটের আগে আগে ভারতীয় একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন জানান, জামায়াত জোটে থাকবে জানলে তিনি বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতেন না।

জামায়াতের ভোট যদি বিএনপির বাক্সে না পড়ে, তাহলে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করা আপনাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে না কি?- এমন প্রশ্ন ছিল মির্জা ফখরুলের কাছে। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যদি বলতে কিছু নাই।’

অতীতের নির্বাচনে তো দেখা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে আপনারা ভোটে ভালো করেননি। তাহলে কেন জামায়াতের জোট ছাড়ার বিষয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না। এমন প্রশ্নেও ফখরুল কোনো জবাব দেননি। উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনার কি তাই মনে হয় নাকি?’ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে ফোন রাখেন বিএনপি নেতা।

বিএনপির সমর্থন ছাড়া জামায়াত ভোটে যে ‘অচল মাল’ সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যদি দিয়ে কোনো কথার উত্তর নেই। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। নির্বাচনের সময় যখন আসবে তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে জামায়াত সিদ্ধান্ত নেবে।’

১৯৯৬ সালে একা ভোট করে জামায়াতের কেবল তিনটা আসন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একাদশে বিএনপি কেন ছয়টা আসন পেল?’ ভোটের ১৭ মাস আগে এসব হিসাবনিকাশ ঠিক হবে না বলেও মনে করেন।

ভোটের হিসাবনিকাশ

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ শেষে নিষিদ্ধ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে দলটি ভোট পায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসন পায় ১০টি।

বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতায় ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটি বোঝা গেছে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে।

এরশাদ পতনের পর নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ের তথ্য বলছে, তাদেরকে অঘোষিতভাবে ৩৫ আসনে সমর্থন দেয় বিএনপি। আর বিএনপিকে শতাধিক আসনে ভোট দেয় দলটি। সেই নির্বাচনে বিএনপি আসন পায় ১৪০টি, জামায়াত পায় ১৮টি। আর আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি পায় মোট ভোটের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ আর নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ পায় ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। জামায়াতের বাক্সে পড়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়াতেই এটা স্পষ্ট হয় যে, নেপথ্যে কিছু একটা ছিল।

২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক জোটই করে দল দুটি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে আসা একটি অংশ এবং কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যজোট। এই সম্মিলিত শক্তিতে আওয়ামী লীগকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেয় তারা। বিএনপি একাই পায় ১৯৩টি, জামায়াত পায় ১৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি পায় চারটি, ইসলামী ঐক্যজোট পায় দুটি আসন। ওই বছর আওয়ামী লীগ আসন পায় ৬২টি। এর মধ্যে উপনির্বাচনে দলটি আরও চারটি আসন হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আসন দাঁড়ায় ৫৮তে। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের পার্থক্য ছিল কমই। বিএনপি পায় ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ, আর আওয়ামী লীগ ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ। জামায়াতের আসন ১৭টি হলেও তাদের ভোট ছিল ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন সব দল একক শক্তিতে যে ভোট করে, তাতে জামায়াতের ভোট কমে যায়। ওই বছর জামায়াত মোট ভোটের ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ পায়, আসন নেমে আসে ৩টিতে।

ভোটের ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ পড়ে আওয়ামী লীগের বাক্সে, আসন পায় ১৪৬টি। বিএনপি ১১৬টি আসন পায় ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে। অর্থাৎ এই নির্বাচনেও যদি বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতা থাকত, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট পেতে পারত।

২০০৮ সালের পর নতুন সমীকরণ

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগও ভোটে নামে জোটের শক্তি নিয়ে। নৌকা ও জাতীয় পার্টির সম্মিলিত ভোটে পাত্তা পায়নি বিএনপির জোট। ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ আসন পায় ২৩০টি। বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়ে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ, আসন হয় ৩০টি।

জাতীয় পার্টিও পায় ২৭টি আসন। ভোট দাঁড়ায় ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ছিল আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি। ওই নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট পড়ে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। আসন কমে হয় দুটি।

সমালোচনা গায়ে মাখেনি বিএনপি

নানা সময় ভোটের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে কয়েকটি আসনে জামায়াত এককভাবেই লড়াই করতে পারে। এর মধ্যে আছে উত্তরে দিনাজপুর ও নীলফামারী, গাইবান্ধায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় দুটি করে, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জে একটি করে।

খুলনা বিভাগে সাতক্ষীরার চারটি, যশোরে দুটি, খুলনা ও ঝিনাইদহে একটি করে আসনে লড়াই করতে পারে তারা।

বরিশাল বিভাগে পিরোজপুরে একটি আসনে এবং চট্টগ্রাম বিভাগে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে একটি আসনে লড়াই করার শক্তি আছে তাদের। তবে এর বাইরে ৫০ থেকে ৬০টি আসনে ১০ থেকে ২০ হাজার ভোট আছে দলটির।

জামায়াতের এই ভোটের বিষয়টি হিসাবনিকাশ করেই বিএনপি ১৯৯৯ সালে জোট করে। সেই জোটে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ও কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর জোট ইসলামী ঐক্যজোটও ছিল। ভোটের আগে আগে এরশাদ বেরিয়ে যাওয়ার পর দলে ভাঙন ধরে এবং দলের একাংশ জোটে থেকে যায়। দেশ বিদেশে নানা চাপের মুখেও এই জোট চালিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি, যদিও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কই তাদের কাল হওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলের মূল্যায়নে। ওই নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি কমিটি গঠন করা হয় বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনার জন্য। এর মধ্যে ৯টি কমিটিই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধতাকে দায়ী করে, যা ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিমত।

নির্বাচনের পর বিএনপির তরুণ নেতারাও প্রকাশ্যেই দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দাবি তোলেন জামায়াত ছাড়ার।

২০০১ সালে এই জোট জেতার পর ১৯৭১ সালের খুনে বাহিনী আল বদরের দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী করার পর সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। সেই সরকারের পাঁচ বছরের শাসন শেষে নানা ঘটনাপ্রবাহে জরুরি অবস্থা জারি হলে, ২০০৭ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে দাবি ওঠে, তাতে চাপে পড়ে জামায়াত এবং তার জোটসঙ্গী হিসেবে বিএনপিও। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে বাজিমাত করে আওয়ামী লীগ।

এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং আরও কিছু ছোট ছোট দলের সম্মিলিত ভোটও বিএনপি জোটকে হারাতে ভূমিকা রেখেছে।

সেই নির্বাচনের পর বিএনপি ও তার জোট আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। মাঝে ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে নেমে ব্যাপক সহিংসতার পর সমালোচিতও হয়। তবে ভোট ঠেকাতে পারেনি।


নির্বাচিত

বিরোধীদলের কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যায়: রুহুল কবির রিজভী

রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ জুন, ২০২৬ ২১:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তোলা বিরোধীদলের নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই আসলে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে কোনো ধরনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং সরকার রপ্তানি বাড়াতে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেবে।

এ ছাড়া সংসদে জুয়া নিষিদ্ধ করার জন্য বিল উত্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড নির্মূলে বর্তমান সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে এবং নির্বাচনের প্রাক্কালে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

বিরোধী দলের রাজনৈতিক আচরণের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেখা যাচ্ছে: রিজভী

রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে নতুন ফ্যাসিবাদের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে, অথচ তাদের নিজেদের রাজনৈতিক আচরণের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না। বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রিজভী বলেন, এই সফরের মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত যুগোপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আর কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল অবস্থায় রাখা হবে না বরং একটি শক্তিশালী ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দাবি করেন, “বর্তমানে দেশে গুম নেই, ক্রসফায়ার নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাও নেই।” তিনি আরও জানান যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আইনের শাসন এবং প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের এই উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক যাত্রায় সকল মহলের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


নির্বাচিত

ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির কথা বলে বিএনপি এখন সেই পথেই হাঁটছে: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে ফ্যাসিবাদের সকল খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবে সরকার গঠনের পর তাদের বক্তব্যের সুর বদলে গেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার দীর্ঘ আন্দোলনের পর জাতি যে মুক্তি পেয়েছিল, সেই আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার বিএনপি আজ ক্ষমতায় থাকলেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত চার মাসে দেশজুড়ে ৬০০-এর বেশি মানুষ নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এমনকি বিএনপি নিজেদের কর্মীদের খুনের ঘটনায়ও কোনো দরদ দেখাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত আমির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লজ্জার বিষয় বিএনপি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছেন।”

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, জেলা প্রশাসক নিয়োগ এমনকি খেলার মাঠ পর্যন্ত দলীয়করণের মাধ্যমে বিএনপি কার্যত একদলীয় শাসন ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।” সংসদে জামায়াত প্রতিটি জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিমধ্যে খোদ বিএনপির ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব। মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না।” তিনি অবিলম্বে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, আন্দোলনের প্রতীক শরীফ উসমান হাদি হত্যার বিচার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। একইসাথে ইসলামের আদর্শকে নির্মূল করার যেকোনো অপচেষ্টা থেকে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে সমাজে যে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় শাসনের ‘ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে দেশবাসী পুনরায় একটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।


নির্বাচিত

দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচার হওয়া এবং লুট করা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যবহার করে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর জনগণের জীবন থেকে শান্তি ও অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দুঃশাসন চালিয়েছিল, তারা আজ নানা কায়দায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, “যারা জনগণের জীবন থেকে সুন্দর ভোর কেড়ে নিয়েছিলো, যারা সূর্যের আলো কেড়ে নিয়েছিলো... তারা আজকে নানা কায়দায়, নানাভাবে পচা পানি-পানার মধ্য দিয়ে উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।” রিজভী দাবি করেন, শেখ হাসিনা জনগণের ম্যান্ডেট কেড়ে নিয়ে যে রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিলেন, সেই অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিগত দিনের দমন-পীড়নের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য জাতীয়তাবাদী নেতাকে গুম করা হয়েছে এবং বহু নেতাকর্মীকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই গুমের রাজত্ব কি জনগণ আবার ফিরে পেতে চাইবে? দেশ আজ শান্তি, সমৃদ্ধি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার কোনো চক্রান্তই সফল হবে না।

রিজভী আরও সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তি এবং দেশের জনগণ আজ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। তিনি দেশবিরোধী ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল মহলের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে প্রতিদিন সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে ভেজা এই জাতিকে কোনোভাবেই কারো ‘গোলাম’ বানানো যাবে না। সকল প্রকার অশুভ কর্মকাণ্ডকে জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


নির্বাচিত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী আখ্যা দিয়ে তাদের সকল কার্যক্রম কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দেন। মিছিলে ‘রাস্তা-ঘাটে নামিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘কুত্তা লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের জনগণ হত্যা, গুম, নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর দেখতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তারা যদি কোনোভাবে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করে, তাহলে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের আলোকে যেকোনো অগণতান্ত্রিক ও জনবিরোধী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে স্বৈরাচার বাংলাদেশের জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, হত্যা, গুম ও খুন করেছে, তাদেরকে বাংলাদেশের মাটিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি আমাদের পাহারা দিতে হবে। ছাত্রলীগ যাতে বাংলাদেশ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ ২৩ তারিখ (আজ) থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করবে। তাদের মোকাবিলার জন্য আমাদের ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে হবে।’


নির্বাচিত

সংসদের সবাইকে আম উপহার দিলেন জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।

অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।

বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।

সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।

বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপির এমপির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।

তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।

নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।

একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।

তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে এনসিপির দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।

দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুন, ২০২৬ ১৭:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।

অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

তীব্র ভ্যাপসা গরমের পর রাজধানীতে ঝুমবৃষ্টি, জনজীবনে স্বস্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়েকদিনের টানা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল রাজধানীর জনজীবন। অবশেষে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে রোববার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীতে নেমেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি। মুষলধারে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে ঢাকার তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে।

দুপুর ১টার পর থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে। বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে নামে বৃষ্টি। রাজধানীর সচিবালয়, ইসলামপুর, নয়াবাজার, বংশাল, পল্টন, শাহবাগ, গুলিস্তান ও উত্তরাসহ প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই একযোগে বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এমন বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মাঝে আনন্দের ছোঁয়া দেখা গেছে। তীব্র গরমে যারা ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, বৃষ্টির শীতল হাওয়া তাদের জন্য এক দারুণ উপহার হিসেবে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও রাজধানীবাসীকে বৃষ্টি ঝরার আনন্দ উদযাপনের ছবি ও অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।

তবে বৃষ্টির এই স্বস্তির পাশাপাশি বরাবরের মতোই কিছু ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে। হুট করে বৃষ্টি নামায় ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের গতি কমে গেছে, ফলে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং রিকশা ও সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল, এই বৃষ্টির ফলে তা অনেকটাই কেটে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

সাময়িক কিছু নাগরিক ভোগান্তি থাকলেও, তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে এই বৃষ্টিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত হিসেবেই দেখছেন ঢাকাবাসী।


নির্বাচিত

‘নির্বাচনের আগে আমার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ফ্ল্যাট কেনার জন্যে’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৬ ২২:০৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?

মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।


নির্বাচিত

আরেকটি বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে: খুলনায় জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।

জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

ড. ইউনূস কখনোই আমাকে মাস্টারমাইন্ড বলেননি: মাহফুজ আলম

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।

পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।

একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।


নির্বাচিত

banner close