জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা ঘরোয়া আলোচনায় জোট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও বিএনপি এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে না ভোটের হিসাবনিকাশের কারণে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটির পাঁচ শতাংশের আশপাশে ভোট রয়েছে, যে ভোট বিএনপিকে ৭০ থেকে ৮০টি আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়।
এরশাদ সরকারের পতনের পর যেসব নির্বাচন হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে সহযোগী থেকে দুটি নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছে। অন্যদিকে যে নির্বাচনে দুই দল আলাদা ভোট করেছে, সে সময় দুই দলের আসনই অনেক কমে গেছে। অবশ্য এটাও ঠিক যে, সব মহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে জোটে থাকার পরও বিএনপি-জামায়াতের ভরাডুবি হয়েছে। সেই নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগও জোটের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে লড়াইয়ে নামে।
একক শক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগও নেই। তবে তাদের যে পরিমাণ ভোট আছে, সেটি অন্য প্রধান দলের বাক্সে গেলে সেই দলকে শক্তি জুগিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নানা সমালোচনা এবং দেশি-বিদেশি চাপের মধ্যেও জামায়াতের সঙ্গে জোট চালিয়ে গেছে বিএনপি। তবে কয়েক বছর ধরে দূরত্বের মধ্যে এবার দলটির আমির জোট ছাড়ার কথা বলেছেন, যদিও দুই দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।
বিএনপি কেন এই বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ, এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি মুখ খুলবেন না। তিনি এমনও বলেছেন, ‘কিছু না বলা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।’
কুমিল্লার একটি ইউনিটের রুকন সম্মেলনে জামায়াত আমির স্পষ্ট করেই বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট আর নেই। এখন থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তারা আলাদা থাকবেন। প্রশ্ন হলো, জামায়াত সরে গেলে আওয়ামী লীগের মহাজোটের মোকাবিলায় ভোটের ময়দানে বিএনপির অবস্থান কী হবে।
১৯৯১ সালের পর থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রধান দুই দল- আওয়ামী লীগের ভোট প্রতিবার বেড়েছে। বিএনপির ভোট একবার কমেছে এবং সেটি অনেক বেশি। সেই নির্বাচনের পরই দলটি রাজনীতিতে অবস্থান হারায়।
বিএনপির পাশে জামায়াত না থাকলে সমীকরণটা কী হবে- জানতে চাইলে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর চেয়ারম্যান শারমিন মুরশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ ভোট আছে। সেখানে আওয়ামী লীগের ভোট আছে ৪০ শতাংশের মতো। নরমাল ইলেকশন হলে জামায়াত ভোট পাবে ৫ শতাংশের আশপাশে।’ তবে দীর্ঘদিন একটা দল ক্ষমতায় থাকার পর এসব ফল পাল্টে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এসব বিষয়ে পলিটিক্যাল পার্টির গবেষণা থাকা উচিত।’
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান কলিমুল্লাহ মনে করেন, জামায়াতের জোট ত্যাগ বিএনপির জন্য উপকারিও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘জামায়াত অফিশিয়ালি বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করলে শাসক দল আওয়ামী লীগের অ্যাকশন থেকে তারা তুলনামূলকভাবে গা-বাঁচাতে পারবে। তা ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া থাকার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে যে মৌলবাদঘেঁষা দল হিসেবে ট্রিট করার একটা সুযোগ ছিল, সেটা থেকে তাদের মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও বিএনপি যে নির্ভার থেকেছে এমন নয়। গত নির্বাচনের আগে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে জোট করার পরও জামায়াতের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করতে চায়নি। সে সময় বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট আর ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে চালিয়ে গেছে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের এ বিষয়ে ধোঁয়াশায় রেখেছে। এমনকি ভোটের আগে আগে ভারতীয় একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন জানান, জামায়াত জোটে থাকবে জানলে তিনি বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতেন না।
জামায়াতের ভোট যদি বিএনপির বাক্সে না পড়ে, তাহলে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করা আপনাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে না কি?- এমন প্রশ্ন ছিল মির্জা ফখরুলের কাছে। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যদি বলতে কিছু নাই।’
অতীতের নির্বাচনে তো দেখা গেছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হলে আপনারা ভোটে ভালো করেননি। তাহলে কেন জামায়াতের জোট ছাড়ার বিষয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না। এমন প্রশ্নেও ফখরুল কোনো জবাব দেননি। উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনার কি তাই মনে হয় নাকি?’ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে ফোন রাখেন বিএনপি নেতা।
বিএনপির সমর্থন ছাড়া জামায়াত ভোটে যে ‘অচল মাল’ সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যদি দিয়ে কোনো কথার উত্তর নেই। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। নির্বাচনের সময় যখন আসবে তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে জামায়াত সিদ্ধান্ত নেবে।’
১৯৯৬ সালে একা ভোট করে জামায়াতের কেবল তিনটা আসন পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একাদশে বিএনপি কেন ছয়টা আসন পেল?’ ভোটের ১৭ মাস আগে এসব হিসাবনিকাশ ঠিক হবে না বলেও মনে করেন।
ভোটের হিসাবনিকাশ
১৯৭০ সালের নির্বাচনে ৬ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরে যুদ্ধ শেষে নিষিদ্ধ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে দলটি ভোট পায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসন পায় ১০টি।
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতায় ভোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব পড়ে, সেটি বোঝা গেছে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে।
এরশাদ পতনের পর নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের লেখা একটি বইয়ের তথ্য বলছে, তাদেরকে অঘোষিতভাবে ৩৫ আসনে সমর্থন দেয় বিএনপি। আর বিএনপিকে শতাধিক আসনে ভোট দেয় দলটি। সেই নির্বাচনে বিএনপি আসন পায় ১৪০টি, জামায়াত পায় ১৮টি। আর আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে বিএনপি পায় মোট ভোটের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ আর নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ পায় ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। জামায়াতের বাক্সে পড়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বাভাবিক হারের দ্বিগুণের বেশি ভোট পাওয়াতেই এটা স্পষ্ট হয় যে, নেপথ্যে কিছু একটা ছিল।
২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক জোটই করে দল দুটি। সঙ্গে ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে আসা একটি অংশ এবং কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর মোর্চা ইসলামী ঐক্যজোট। এই সম্মিলিত শক্তিতে আওয়ামী লীগকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেয় তারা। বিএনপি একাই পায় ১৯৩টি, জামায়াত পায় ১৭টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি পায় চারটি, ইসলামী ঐক্যজোট পায় দুটি আসন। ওই বছর আওয়ামী লীগ আসন পায় ৬২টি। এর মধ্যে উপনির্বাচনে দলটি আরও চারটি আসন হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আসন দাঁড়ায় ৫৮তে। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের পার্থক্য ছিল কমই। বিএনপি পায় ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ, আর আওয়ামী লীগ ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ। জামায়াতের আসন ১৭টি হলেও তাদের ভোট ছিল ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সব দল একক শক্তিতে যে ভোট করে, তাতে জামায়াতের ভোট কমে যায়। ওই বছর জামায়াত মোট ভোটের ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ পায়, আসন নেমে আসে ৩টিতে।
ভোটের ৩৭ দশমিক ৪০ শতাংশ পড়ে আওয়ামী লীগের বাক্সে, আসন পায় ১৪৬টি। বিএনপি ১১৬টি আসন পায় ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে। অর্থাৎ এই নির্বাচনেও যদি বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতা থাকত, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ভোট পেতে পারত।
২০০৮ সালের পর নতুন সমীকরণ
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগও ভোটে নামে জোটের শক্তি নিয়ে। নৌকা ও জাতীয় পার্টির সম্মিলিত ভোটে পাত্তা পায়নি বিএনপির জোট। ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ আসন পায় ২৩০টি। বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়ে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ, আসন হয় ৩০টি।
জাতীয় পার্টিও পায় ২৭টি আসন। ভোট দাঁড়ায় ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ছিল আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি। ওই নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট পড়ে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। আসন কমে হয় দুটি।
সমালোচনা গায়ে মাখেনি বিএনপি
নানা সময় ভোটের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে কয়েকটি আসনে জামায়াত এককভাবেই লড়াই করতে পারে। এর মধ্যে আছে উত্তরে দিনাজপুর ও নীলফামারী, গাইবান্ধায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় দুটি করে, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জে একটি করে।
খুলনা বিভাগে সাতক্ষীরার চারটি, যশোরে দুটি, খুলনা ও ঝিনাইদহে একটি করে আসনে লড়াই করতে পারে তারা।
বরিশাল বিভাগে পিরোজপুরে একটি আসনে এবং চট্টগ্রাম বিভাগে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে একটি আসনে লড়াই করার শক্তি আছে তাদের। তবে এর বাইরে ৫০ থেকে ৬০টি আসনে ১০ থেকে ২০ হাজার ভোট আছে দলটির।
জামায়াতের এই ভোটের বিষয়টি হিসাবনিকাশ করেই বিএনপি ১৯৯৯ সালে জোট করে। সেই জোটে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি ও কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দলগুলোর জোট ইসলামী ঐক্যজোটও ছিল। ভোটের আগে আগে এরশাদ বেরিয়ে যাওয়ার পর দলে ভাঙন ধরে এবং দলের একাংশ জোটে থেকে যায়। দেশ বিদেশে নানা চাপের মুখেও এই জোট চালিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি, যদিও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কই তাদের কাল হওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলের মূল্যায়নে। ওই নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ১০টি কমিটি গঠন করা হয় বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনার জন্য। এর মধ্যে ৯টি কমিটিই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধতাকে দায়ী করে, যা ছিল বিএনপির তৃণমূল নেতাদের অভিমত।
নির্বাচনের পর বিএনপির তরুণ নেতারাও প্রকাশ্যেই দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে দাবি তোলেন জামায়াত ছাড়ার।
২০০১ সালে এই জোট জেতার পর ১৯৭১ সালের খুনে বাহিনী আল বদরের দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী করার পর সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। সেই সরকারের পাঁচ বছরের শাসন শেষে নানা ঘটনাপ্রবাহে জরুরি অবস্থা জারি হলে, ২০০৭ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে দাবি ওঠে, তাতে চাপে পড়ে জামায়াত এবং তার জোটসঙ্গী হিসেবে বিএনপিও। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করে বাজিমাত করে আওয়ামী লীগ।
এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং আরও কিছু ছোট ছোট দলের সম্মিলিত ভোটও বিএনপি জোটকে হারাতে ভূমিকা রেখেছে।
সেই নির্বাচনের পর বিএনপি ও তার জোট আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। মাঝে ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে নেমে ব্যাপক সহিংসতার পর সমালোচিতও হয়। তবে ভোট ঠেকাতে পারেনি।
মৃত স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে রাজধানী ঢাকার কলাবাগানের বাসার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সোয়া ৯টায় তিনি সেখানে পৌঁছান।
এ সময় প্রিজন ভ্যানে রাখা দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন দীপু মনি। তার স্বজনরাও আবেগপ্রবণ হয়ে যান।
দিপু মনির পক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল সাংবাদিকদের জানান, এই বাড়িতেই দীপু মনির সঙ্গে মরহুম তৌফিক নেওয়াজের প্রথম দেখা হয়েছিল। সেখানে প্রথম ও পরবর্তী সময়ে গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা এবং বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন ডা. দীপু মনির মেয়ে তনী দীপাভলী নেওয়াজ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই প্যারোলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) চিকিৎসা অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন দীপু মনি। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুন্সীগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ না করা হলে দেশে উগ্রবাদ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন নির্বাচিত সরকারকে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রয়োজন হলে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে এবং বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বলেছে, আল-কায়েদা বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। জামায়াত-শিবির অস্ত্র পরিচালনাকারী ক্যাডার করে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত-শিবির মজলুম থাকলেও গত ছয় মাসে তারা জালেম সংগঠনে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উগ্রবাদী এই গোষ্ঠীকে এখন থেকেই প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে। তা না হলে ভাইরাসের মতো তারা ছড়িয়ে পড়বে এবং সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।
জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগ একই ধরনের ফ্যাসিস্ট বলেও মন্তব্য করেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত-শিবির সুযোগ না পেয়েও যে ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে তাদের অতীতের রগকাটা, ধর্ষণ ও দখলদারত্বের ইতিহাস সামনে এসেছে।
বর্তমান সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করে নুরুল হক বলেন, জামায়াত ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রকৃতপক্ষে তারা ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা চায়। তাদের কোনোভাবেই সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। সুযোগ পেলে তারা জাতির জন্য ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্যের সমালোচনা করে নুরুল হক বলেন, বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন ও কুরুচিপূর্ণ বিষয় থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আমির হামজার পক্ষে দলটির দেওয়া বিবৃতিরও সমালোচনা করেন নুরুল হক। তার দাবি, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে আমির হামজার বিকৃত মানসিকতাকে জামায়াত সমর্থন দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমির হামজা, সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামসহ জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডে দলটির নৈতিক অধঃপতন প্রমাণিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের পরও জামায়াত নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে দাবি করলে তা প্রহসনে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বানও জানান নুরুল হক।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি আরও দাবি করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জামায়াতে ইসলামী ছয় মাস না যেতেই বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিষোদ্গার শুরু করেছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই দলটি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে তিনি এ অভিনন্দন জানান।
পেস্টে শফিকুর রহমান বলেন, আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। আগামী দিনগুলোতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জামায়াত আমির নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় যা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের কর্তা সিইসি এ এমএম নাসির উদ্দিন। ঘোষিত ফল অনুসারে, ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সিইসির ঘোষণার পর টেবিল চাপড়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্যরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ আসন থেকে উঠে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা।
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রত্যাশা ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু তা হয়নি।
প্রতিযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি মুখে এক কথা বললেও ভিন্ন কাজ করছে এবং তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে পদটি আরও সম্মানিত হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তা করছে না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের তাগিদ দিয়ে তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর তার মেয়ে তানি দীপাবলি নেওয়াজের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বাবার মরদেহ ঢাকায় রেখে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকেই মায়ের মুক্তির জন্য মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি করেন দীপাবলি। দুপুর ১২টার দিকে তিনি মুন্সীগঞ্জ কারাগারে মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর দুপুর পৌনে ২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে চার দিনের জন্য মায়ের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জমা দেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করে প্রশাসন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপু মনি প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তার স্বামীর মরদেহের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৬০টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রফেসর ইউনূস জাতির সাথে প্রতারণা করে গেছেন। জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার সব ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন।সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তনের সুযোগ নষ্ট করার দায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বলে মন্তব্য করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরকে কীভাবে ভোট দেয়? ছাত্ররা তাদের মেডিকেলে ডিসকাউন্ট রেটে চিকিৎসা করাতে পারবে এই কারণে? কিংবা যদি ধরেন একটা বিশেষ সুবিধা নিয়ে। তাহলে সরি টু সে, এই তরুণদের দিয়ে দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন আমি দেখি না।’’
জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, ‘‘প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সরাসরি আসলে (সংসদ নির্বাচনে) নারী দেয় নাই। তারা যদি সরকার গঠন করত..। কারণ ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তো এই গোষ্ঠীকেই ক্ষমতায় আনার জন্য ডিসিদেরকে সেট করেছিল। আজকে যারা একটা উগ্র চিন্তাধারার, বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে নাই, সেরকম একটা দল হচ্ছে পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল।’’
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায় আর নেই। গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত বিবিধ শারীরিক জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র অরবিন্দু রায়।
পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, আজ বুধবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৯ নম্বর মঙ্গলপুর ইউনিয়নের মোস্তফাবাদ গ্রামে নিজ পারিবারিক শ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সতীশ চন্দ্র রায়ের বর্ণাঢ্য জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর বিরল উপজেলার মোস্তফাবাদ গ্রামে। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি রাজনীতির আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে জনসেবায় যুক্ত হন। পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নিলেও পরবর্তীতে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তিনি দিনাজপুর-৭ এবং দিনাজপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রথমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সতীশ চন্দ্র রায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় উভয় পর্যায়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর প্রয়াণে দিনাজপুরসহ জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিণী, তিন পুত্র ও দুই কন্যাসহ অগণিত গুণগ্রাহী, সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক অনুসারী রেখে গেছেন।
বিএনপি হাঁটছে ফ্যাসিস্ট সরকারের পথে, পরিণতি সেদিকেই যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, নীতিগত দ্বিধা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং বাস্তব ফলাফলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সুস্পষ্ট সাফল্য দেখা যায়নি।
‘সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন’ নিয়ে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন তো করেইনি, বরং গণভোটের প্রশ্নে সম্পূর্ণ নেতিবাচক ভূমিকায় সরকার অবস্থান নিয়েছে।’
জুলাই সনদের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো থাকলেও গত ছয় মাসে এগুলোর কোনো একটিরও বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।’
চলমান জ্বালানিসংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন পরওয়ার। তাঁর ভাষায়, ‘প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে।’
সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রথম ছয় মাসেই প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ জোরালো হয়েছে।’ পদোন্নতি, পদায়ন, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দলঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘সরকার আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নের তথ্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ে জামায়াতের মূল্যায়নে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সামগ্রিক মূল্যস্তর এখনো বেশি। ফলে খাদ্য, বাসাভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
ব্যাংকিং খাতেও সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তাঁর অভিযোগ, সরকারের প্রথম ছয় মাসেও খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকের তারল্যসংকট, আমানতকারীদের আস্থাহীনতা এবং উচ্চ সুদের চাপ থেকে বের হওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা আগের বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।
পররাষ্ট্রনীতিতেও কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’কে পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হিসেবে ঘোষণা করলেও ছয় মাসে এটিকে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি কাঠামোতে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গুম প্রতিরোধ আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। দলের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেমেডি অব এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিলেও খসড়ার কয়েকটি বিধান নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি আটটি ‘আহ্বান’ জানায় জামায়াতে ইসলামী। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ, গ্যাস ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মধ্যপ্রাচ্য, জ্বালানি কূটনীতি, শ্রমবাজার এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্য, পরিমাপযোগ্য ফলাফলসহ পূর্ণাঙ্গ পররাষ্ট্রনীতি কাঠামো প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় বাজার সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, অস্বাভাবিক মুনাফা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।
ব্যাংকিং খাতে আস্থা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনা, প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা এবং দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে যেকোনো দলীয় বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকার প্রথম ছয় মাসে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো শক্তিশালী অর্জন জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষায়, ‘জনগণ সরকারকে সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নয়, সমাধান দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। আগামী সময়ে সরকার যদি প্রথম ছয় মাসের ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখাতে না পারে, তাহলে জনগণের হতাশা ও আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।’
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগে ইনামুল মোল্লা নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে প্রাথমিকভাবে তার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলীয় সূত্রমতে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগটির তদন্ত চলছে এবং তদন্তে এর সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
২৬ বছর বয়সী ইনামুল মোল্লা বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামির আমির পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই ওয়ার্ডের কুশডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. আকরাম মোল্যার ছেলে এবং বোয়ালমারী বাজারে অবস্থিত মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতালের অভ্যর্থনাকারী হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার কুশাডাঙ্গা গ্রামের কুটিপাড়ার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ইনামুল মোল্লার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল, যা সম্প্রতি উভয় পরিবারসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ইনামুল মোল্লার দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইনামুলের কর্মস্থল মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতালের ম্যানেজার রেজাউল করিম জানিয়েছেন, গত দুদিন আগে ওই নারীর স্বামী প্রবাস থেকে তাকে ফোন করে ইনামুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়টি জানান। একই সঙ্গে ইনামুল ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় তার বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়েও তিনি জানতে চান।
পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী জানিয়েছেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের ভিত্তিতেই ইনামুল মোল্লাকে প্রাথমিকভাবে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দলীয়ভাবে এই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় দল কখনো বহন করবে না এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাকে দলীয় সব পদসহ দল থেকেই স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
যারা পালিয়ে যায়, তার আর দেশে ফিরতে পারে না- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্ট হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হিটলার বা মুসোলিনির মতো একনায়কদের সাথেও তাঁর তুলনা করা চলে না। আজ রোববার দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট হলে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মুসোলিনি, হিটলারের সঙ্গেও শেখ হাসিনার তুলনা চলে না। তাদের অন্তত নিজস্ব দেশপ্রেম ছিল। তারা জার্মানি বা ইতালিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। আর শেখ হাসিনা নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার নেশায় তিনি দেশজুড়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন এবং জনগণের অসীম শক্তির কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী মত দমনে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তাকে তিনি আধুনিক যুগের চরম দুঃশাসন হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তৎকালীন পরিস্থিতি স্মরণ করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রবল প্রতাপে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্নমতের কোনো স্থান ছিল না। তিনি শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘শিক্ষকরা চাকরি করে যে বেতন পান, তা দিয়েই সংসার চালান। অথচ কথা বলার কারণে শিক্ষকসহ অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। এভাবে ক্ষোভ জমতে জমতে তার বিস্ফোরণ ঘটেছে জুলাইয়ে। জুলাই হচ্ছে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।’ তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের এই চেতনা মূলত হৃদয়ের এক গভীর বন্ধন, যা নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমণ রোধ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
বিগত সরকারের শিক্ষা নীতির কড়া সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে মেধা ধ্বংসের এক সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চলেছে। শিক্ষার মান কমিয়ে কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে প্রশ্নপত্র লিখে এলেও তাকে পাস করানো হয়েছে, জিপিএ ৫ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যার যতটুকু মেধা, তার ফলাফল ততটুকুই হওয়া উচিত। এটি নিশ্চিত করতে হবে। যুগে যুগে এটাই হয়ে এসেছে।’ এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলকে তিনি বাস্তবধর্মী ও মেধার যথার্থ প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন।
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়ে রিজভী সতর্ক করে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের অনুসারীরা এখনো বিপুল অর্থ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বহুদলীয় ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের আগমন না ঘটে।’ গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় চোরাগলি দিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে, তারা যা যা করেছে, আমরা তার বিপরীত করব। তারা দলীয়করণ করেছে, আওয়ামীকরণ করেছে, দেশের রাজকোষ শূন্য করেছে, ব্যাংক লুটপাট করেছে এবং দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। এসবের বিপরীত কাজ করতে পারলেই আমরা সফল হব। তাহলেই গণতন্ত্র আমাদের মাটির গভীরে প্রোথিত হবে এবং রাষ্ট্র একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভাটি সমাপ্ত হয়।
মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর কাছ থেকে রাজনীতি শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এই লক্ষে তাঁর বাসভবনে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে মেঘনা আলম এই তথ্য জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ফেসবুক পোস্টে মেঘনা আলম সরাসরি অভিযোগের সুরে লেখেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আমার কাছে রাজনীতি শিখতে আমার বাসায় আসতে চান। অথচ যখন প্রশ্ন করলাম, অনলাইনে হয়রানি করা লোক কি এনসিপির? তখন মুখে তার কুলুপ এঁটে গেল।” মেঘনার এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি অনলাইনে যে ধরণের হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তার পেছনে এনসিপির কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা থাকার বিষয়ে তিনি সন্দেহ পোষণ করছেন এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেই প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
মেঘনা আলমের এমন দাবির পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে হয়রানির বিষয়ে তাঁর সরাসরি অভিযোগ এনসিপির জন্য একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। যদিও মেঘনা আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন, তবে এই বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিবাদ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সর্বস্তরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।
শনিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন’ উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, রাজনীতিতে কঠিন সময় আসে। যারা সেই কঠিন সময় পার হতে পারেন, চাপ সহ্য করতে পারেন এবং নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও টিকে থাকতে পারেন, তারাই বাংলাদেশের মানুষের সত্যিকারের হৃদয়ের নেতা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের সত্যিকারের হৃদয়ের নেতা।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেন ‘আপসহীন নেত্রী’র স্থান পেয়েছেন, তার কারণ তার আপসহীন অবস্থান। তার জীবনে বিভিন্ন সময়ে অনেক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সেই চাপে অনেকেই ভেঙে পড়েছেন এবং নতি স্বীকার করেছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি। ‘উনার নতি স্বীকার না করার কারণে আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছিলাম। উনি যদি নতি স্বীকার করতেন, আমরা তো দাঁড়াতে পারতাম না।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শক্ত ও আপসহীন অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার আন্দোলন-সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের রাজনীতির পেছনে তিনি চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে গেছেন।
আমির খসরু বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ধ্বংস ও জীবননাশের জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হলেও তিনি সবকিছু অতিক্রম করে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে টিকে ছিলেন। মৃত্যুর আগে ও পরে বাংলাদেশের মানুষ তাকে যে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই স্বীকৃতির মাধ্যমে তিনি বিদায় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় আসছে বলে সবকিছু সহজ হয়ে গেছে-এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিষয়টি মনে রাখতে এবং ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এনে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও তার আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এবং দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খান।
রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এবং দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে সবসময় পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য একটা আনন্দের দিন। এই দিনে সেই নেত্রী জন্ম নিয়েছিলেন যিনি বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশকে বারবার তাঁর নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে অবস্থান তৈরি করেছে, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা সেই পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়।’
বিএনপিকে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ আজকের এই দিনে আমরা সবাই এই শপথ নেব, বিএনপিকে আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা আধুনিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যা সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ যখন বিএনপি সরকার গঠন করেছে, প্রতিটি মানুষের আশা, এই সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে নীতি ছিল, তিনি যে ‘ভিশন ২০৩০’ দিয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তারই দলের কর্মসূচি হিসেবে ৩১ দফা, তাকে বাস্তবায়িত করবার জন্য আগামী দিনগুলোতে কাজ করে যাবে। দলকে শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ্ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেশত নসিব এবং তার আত্মাকে শান্তি দান করেন। একইসঙ্গে আমরা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্যও দোয়া করি, মহান আল্লাহ্ তাআলা যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আব্দুল মঈন খান।
মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্যসচিব মাওলানা আবুল হোসেইন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।