মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

বিএনপি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করলে আ.লীগ সরকারে কেন: ফখরুল

বিএনপি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করলে আ.লীগ সরকারে কেন: ফখরুল
ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিন, দেখেন তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না

  • জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতা নেই, তাই মন্ত্রীরা উদ্ভট কথা বলার সাহস দেখায়

বিএনপির বড় বড় ব্যবসায়ীরা যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারে থেকে কী করছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি মন্ত্রীরা বলছেন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং দলের বড় ব্যবসায়ীরা। কথা হলো এখনও যদি আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করি, তাহলে তারা (আ.লীগ) সরকারে আছে কেন।

ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে রোববার বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের উদাসীনতা ও চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যদি বিএনপি এসব (দ্রব্যমূল্য) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে তারা পদত্যাগ করে ক্ষমতা দিচ্ছে না কেন। বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিন, দেখেন তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না।’

তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের যেভাবে দাম বেড়েছে এতে সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনিসহ প্রতিটি দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ শুধু হিমশিম খাচ্ছে না, মানুষ অসহায় হয়ে গেছে।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের সঙ্গে তামাশা করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ সরকার যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেনি, সে কারণে জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। ফলে মন্ত্রীরা উদ্ভট কথা বলার সাহস দেখায়।’

জনগণের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘সরকার সব রাষ্ট্রযন্ত্র, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে জনগণের কণ্ঠরোধ করছে৷ সংবাদকর্মীদের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা দেয়া হচ্ছে। ছয় শ’র বেশি সংবাদকর্মীর নামে মামলা ও ২০০ সংবাদকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ ফেসবুকে সরকারবিরোধী কথা নিয়ন্ত্রণ করতেও নীতিমালা করা হচ্ছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিনসহ আরও অনেকে।



হাত খরচের টাকা না পেয়ে লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

হাত খরচের টাকা না পেয়ে লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
ভাঙচুরের শিকার লেগুনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গত এক সপ্তাহে সাতটি লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ

  • ঝামেলা মিঠিয়ে দেওয়ার নামে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগেরও চাঁদা দাবি

হাত খরচের জন্য মাসে দেড় লাখ টাকা চেয়ে না পাওয়ায় লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে গত এক সপ্তাহে তিন দফায় সাতটি লেগুনা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে লেগুনা মালিক সমিতির এক সদস্য।

অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তায় কয়েক দফায় সাতটি লেগুনা ভাঙচুর, চালকদের মারধর এবং নীলক্ষেত স্ট্যান্ডে লেগুনা দাঁড়াতে দেননি ছাত্রলীগের নেতারা। সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে ১০-১২ তরুণ লাঠিসোঁটা নিয়ে চারটি লেগুনায় ভাঙচুর চালান এবং চালকদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা নিয়ে চলে যান বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। নীলক্ষেত থেকে এসব লেগুনা মূলত চকবাজার, খোলামোড়া এবং গুলিস্তান যায়।

লেগুনা মালিক সমিতির এক সদস্য অভিযোগ করেছেন, ‘১০-১২ দিন আগে সন্ধ্যায় এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোনেম শাহরিয়ার মুন হলের পাশে একটি চায়ের দোকানে লেগুনা মালিক সমিতির কয়েকজন নেতাকে চায়ের দাওয়াত দেন। এ দিনই মূলত তারা দেড় লাখ টাকা হাত খরচ দাবি করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির সদস্য রফিক। নীলক্ষেত থেকে চকবাজার রোডে তার দুটি লেগুনা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বসার পর হল ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা এখন নতুন কমিটি পাইছি। আমাদের কিছু হাত খরচ দিয়েন। এরপর আমাদের একজন বলেন, কত দিতে হবে ভেঙে বলেন। তখন রিয়াজ ভাই বলেন, দেড় লাখ টাকা দিয়েন। এই কথা শুনে আমাদের সবাই উঠে চলে আসছি। তাদের প্রোগ্রাম থাকায় তারাও চলে যায়। এই ঘটনার চার-পাঁচ দিন তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। তারাও কোনো ঝামেলা করেনি। কিন্তু চার-পাঁচদিন যেতে না যেতেই তারা গাড়ি ভাঙচুর এবং চালকদের মারধর করা শুরু করেন। স্ট্যান্ডে কোনো গাড়িই তারা রাখতে দেন না।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২৫ তারিখ রিয়াজ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে তাদের সঙ্গে বসতে বলেন। বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে বসার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ না বসায় তারা শুক্রবার ফের ভাঙচুর চালান। গত এক সপ্তাহে তিন দফায় তারা আমাদের সাতটি লেগুনা ভাঙচুর করেছেন।’

এই লেগুনা মালিক বলেন, ‘এর মধ্যে আবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরাও ডিস্টার্ব করা শুরু করছেন। তাদের সামনেই আমাদের গাড়িগুলো চলে। চার-পাঁচ দিন আগে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমি এবং খোলামোড়া রোডের সভাপতি মানিক ভাই বসেছি।

‘সে সময় তারা বলেছেন, তাদের কলেজের পাশ থেকে ভার্সিটির পোলাপান গাড়ি খেদিয়ে দেবে সেটি তারা হতে দেবেন না। ছাত্রলীগ সভাপতি জয় আল নাহিয়ান খান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তারা এই ঝামেলা মিটিয়ে দেবেন বলে বলেছিলেন। তবে তাদের দাবি ছিল, আমরা যেন তাদের দেখি। আমরা বলেছি, আপনারা ভার্সিটির ঝামেলাটা বন্ধ করতে পারলে আমরা আপনাদের দেখব। কিন্তু তারা এটি বন্ধ করতে পারেনি।’

এ সব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে রফিক বলেন, ‘শুনেছি, মালিক সমিতির পক্ষ হয়ে খোলামোড়া রোডের সভাপতি মানিক ভাই এবং ইকবাল ভাই লালবাগ থানার ওসি স্যারকে জানাইছে। এখন বাকিটা জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি প্রতিবারই কল কেটে দেন।

সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। এই ঘটনার সঙ্গে হল ছাত্রলীগ জড়িত নয়। লেগুনা মালিকদের সঙ্গে আমরা কখনো বসিইনি। এই লেগুনা মালিকদের আমরা চিনিও না। কোনো দিন দেখিনি। কথাও হয়নি।’

লেগুনা মালিক সমিতির সঙ্গে বসেছেন কি না- এমন প্রশ্নে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি বলেন, ‘আমরা তাদের ডাকিওনি আর বসিওনি।’

সার্বিক বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি আমরা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’


বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ফিনল্যান্ডের

বাংলাদেশের টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফিনল্যান্ড।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত ফিনল্যান্ড-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মিরেল্লা মারিনের শুভেচ্ছা পত্র হস্তান্তর করেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

রিতভা কাউক্কু-রন্ডে বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানি নকিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে।

ফিনল্যান্ড জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন।

প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থানীয় জনগণ অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সীমান্তে কোনো ধরনের বিদ্রোহ মেনে নিব না।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ১৮০০ সশস্ত্র ক্যাডার সেই সময় তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেন বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ অনেক হাই-টেক পার্ক স্থাপন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো এসব হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করতে পারে।

বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আগে বিদেশ থেকে সার সংগ্রহ করতো, কিন্তু এখন যুদ্ধের কারণে শিপিং খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে কোনো আবাদি জমি অনাবাদি থাকবে না।

সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের অনারারি কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ আজিজ খান উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ফিনল্যান্ডের

বাংলাদেশের টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফিনল্যান্ড।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত ফিনল্যান্ড-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মিরেল্লা মারিনের শুভেচ্ছা পত্র হস্তান্তর করেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

রিতভা কাউক্কু-রন্ডে বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানি নকিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে।

ফিনল্যান্ড জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন।

প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থানীয় জনগণ অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সীমান্তে কোনো ধরনের বিদ্রোহ মেনে নিব না।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ১৮০০ সশস্ত্র ক্যাডার সেই সময় তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেন বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ অনেক হাই-টেক পার্ক স্থাপন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো এসব হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করতে পারে।

বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আগে বিদেশ থেকে সার সংগ্রহ করতো, কিন্তু এখন যুদ্ধের কারণে শিপিং খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে কোনো আবাদি জমি অনাবাদি থাকবে না।

সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের অনারারি কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ আজিজ খান উপস্থিত ছিলেন।


সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি সাদা দলের

সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি সাদা দলের
সাদা দলের মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। কিন্তু সেটি না করে উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের পক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাদা দলের শিক্ষকরা। 

গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই মন্তব্য করেন তারা। এছাড়াও সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে সাদা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খানের সঞ্চালনায় ও সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের সাদা দলের সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক এমরান কাইয়ুম, কলা অনুষদের আহবায়ক মো আল আমিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান এই দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, ‘ক্যম্পাসে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ছাত্রদলের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার; ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসাবে উপাচার্যকে ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করা; শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ পরিবেশ তৈরীতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।’

মানববন্ধনে অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন অবশ্যই নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে মদদ দিচ্ছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কোন দায়িত্ব পূর্ণরূপে পালন করেননি। প্রক্টর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রথম দফায় হামলার ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রথম দফায় ব্যবস্থা নেয়া হলে পরবর্তী সংঘাত এড়ানো যেতো। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে ক্যাম্পাসে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের এই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উপাচার্যের সাথে একাধিকবার সাক্ষাত করেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। যেটুকু করেছে তাও সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছে। যেসকল শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছে তাদের ওপরই মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’





ছাত্রদল ঠেকাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মহড়া

ছাত্রদল ঠেকাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মহড়া
কার্জন হল এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মোটরসাইকেল মহড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান

  • প্রস্তুত রাখা হয়েছে রড, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের প্রবেশ ঠেকাতে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলকে প্রতিহত করতে রড, লাঠিসোটাও প্রস্তুত রাখা হয়। এছাড়াও মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, শহীদ মিনার, কার্জন হল এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা যায়।

 
শনিবার (২৮ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্যাম্পাস ঘুরে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। তবে জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলোর কর্মসূচী থাকায় শনিবার ক্যাম্পাসে আসেনি বলে জানিয়েছে ছাত্রদল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদের এক বক্তব্যের পর গত এক সপ্তাহে কয়েক দফায় ছাত্রলীগ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। এতে ছাত্রদলের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

সংঘর্ষের প্রতিবাদে ২৮ মে সারাদেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ইউনিটে ও ২৯ মে দেশের সকল উপজেলা, থানা পৌরসভা ও কলেজে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালনের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল। ওই কর্মসূচীর প্রেক্ষিতে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারে এমন ধারণা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ। বিভিন্ন দলীয় স্লোগানে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেয় তারা।

এর আগে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের জেরে গত রবিবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়। মারধরের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাড়ে দশটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে শহীদ মিনার এলাকায় ছাত্রদলের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পরে দোয়েল চত্বর ও শহীদুল্লাহ হল এলাকায় কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এদিন ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাসহ ৩০ জন আহত হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় হাইকোর্ট মোড় এলাকায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। আহত হয় অন্তত ২১ নেতাকর্মী আহত হয়। গত এক সপ্তাহের কয়েক দফায় চেষ্টা করেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি ছাত্রদল।

এই বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক আক্তার হোসেন জানান, ‘ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সেই কাজে সহায়তা করছেন। একারণেই শনিবার ক্যাম্পাসে আমাদের কোনো কর্মসূচি না থাকলেও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে ছাত্রলীগ।’