মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • এনইসি সভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

  • মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগাপ্রকল্পগুলো নিয়ে সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘একেবারে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে আমরা তৈরি করছি। তারা (সমালোচক) অর্বাচীনের মতোই একেকটা কথা বলবে, আর মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, এটা কিন্তু গ্রহণ করা যায় না।’

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গণভবনপ্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভার সভাপতিত্ব করেন সরকারপ্রধান।

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের উদ্দেশ করে সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সমালোচকদের দরকার না থাকলেও দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে।’ যারা বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা উচিত বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ধারণা, ‘এর মধ্য দিয়ে সমালোচকরা বুঝতে পারবেন বিদ্যুৎ কতটা প্রয়োজনীয়।’

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে ছড়ানো নানা কথার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের সমালোচনা ৪০ হাজার কোটি টাকা নাকি আমরা ধার করেছি। যারা এই কথাগুলো বলছেন, তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পদ্মা সেতুর একটি টাকাও কারও কাছ থেকে আমরা ঋণ নিইনি, ধার করিনি। এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। এটা তাদের জানা উচিত ‘

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক কথা। তারপর আসলো পদ্মা সেতুর রেললাইন ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে নির্মাণ করার কী দরকার ছিল? কারা চলবে এ রেললাইনে? আমি অপেক্ষা করছি, রেললাইন যখন চালু হবে, তখন তারা চলে কি না। এই মানুষগুলোকে আমার মনে হয় ধরে নিয়ে দেখানো দরকার যে রেল সেতুতে মানুষ চলে কি না।’

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের অর্থনীতি বেগবান হবে বলেও মনে করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই একটা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের যে জেলাগুলো, অঞ্চলগুলো আছে, সেখানে অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা আসবে, এই মানুষগুলোর চলাচল, পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে- সেটা তারা একবার ভেবে দেখছেন না। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। আর এখন রেলে করে তারা চলে আসবেন। আর এই রেল সেতু তো মোংলা পোর্ট পর্যন্ত সংযুক্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পায়রা পোর্ট যখন আমরা করব, পায়রা পোর্ট পর্যন্ত যাতে সংযুক্ত হয় তার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে খুব বেশি প্রয়োজন নেই বলে আমরা একটু ধীর গতিতে যাচ্ছি।’

রূপপুর নিয়ে সমালোচনা কেন

সবচেয়ে বেশি টাকার সরকারি প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল যে আমাদের করতেই হবে। আজকে আমরা সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন যখন শুরু হবে, সেটা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে ‘

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি আরও সচল হবে। এটা তো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটা নিয়ে এত সমালোচনা কেন। এটা নিয়ে কারা কথা বলছেন? যারা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলবে, আমার মনে হয় তাদের বাড়ির বিদ্যুৎগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। তারা জেনারেটর চালিয়ে চলুক। সেটি বোধহয় ভালো। তাহলে তারা বুঝবে, বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে কি না।‘

গরিব মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ গেছে এটা সমালোচকদের পছন্দ নয় কি না- এই প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারাই খাবেন, ভালো থাকবেন আর আমার গরিব মানুষগুলো ধুঁকে ধুঁকে মরবেন এটাই তারা চায়?’

স্যাটেলাইট দেশবাসীর প্রয়োজন আছে

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের সময়ও নানা সমালোচনা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তখনও তারা বলেছে এটার কী দরকার ছিল? যা করবেন তাতে বলবে, এটার কী দরকার ছিল? তাদের জন্য দরকার না থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে। তবে আমি মনে করি, আমাদের করা সব সুযোগ সুবিধা ব্যবহারও করবেন, আবার সমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তও করবেন, এটা বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু জানে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কতগুলো নাম আর চরিত্র আছে, এদেরকে আমরা চিনি। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে।’

‘মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ফিরেছি’

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪১ বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফেরেন। নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই ফিরেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ফিরে আসি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে যে জাতির জন্য আমার বাবার সারাটা জীবন কষ্ট করে গেছেন, জেল খেটেছেন…আমরা তো পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যে বয়সে ছেলে মেয়ে বাবার হাত ধরেই স্কুলে যায় সেই সুযোগ তো আমাদের হয়নি।’

বাবার স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমরা জ্ঞান হওয়ার পর থেকে জানি আমার আব্বা জেলে। তারপর হয়ত এক বছর, দেড় বছর, তারপর আবার জেলে। জেলখানায় দেখা। এইভাবেই আমাদের জীবন কেটেছে। কিন্তু তিনি যা করেছিলেন এ দেশের মানুষের জন্য কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য।’

যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো নিশ্চিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন বাংলার মাটিতে ফিরে আসি, আমি এসেছি একটা লক্ষ্যই সামনে নিয়ে, এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। কারণ এটিই ছিল আমার বাবার স্বপ্ন। আমি আসার পর সারা বাংলাদেশে ঘুরেছি। ঘুরতে চেয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই কিন্তু আমি পেয়েছি বাংলাদেশের সব মানুষের ভালোবাসা, আস্থা বিশ্বাস।’


হাত খরচের টাকা না পেয়ে লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

হাত খরচের টাকা না পেয়ে লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে
ভাঙচুরের শিকার লেগুনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গত এক সপ্তাহে সাতটি লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ

  • ঝামেলা মিঠিয়ে দেওয়ার নামে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগেরও চাঁদা দাবি

হাত খরচের জন্য মাসে দেড় লাখ টাকা চেয়ে না পাওয়ায় লেগুনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে গত এক সপ্তাহে তিন দফায় সাতটি লেগুনা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে লেগুনা মালিক সমিতির এক সদস্য।

অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তায় কয়েক দফায় সাতটি লেগুনা ভাঙচুর, চালকদের মারধর এবং নীলক্ষেত স্ট্যান্ডে লেগুনা দাঁড়াতে দেননি ছাত্রলীগের নেতারা। সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে ১০-১২ তরুণ লাঠিসোঁটা নিয়ে চারটি লেগুনায় ভাঙচুর চালান এবং চালকদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা নিয়ে চলে যান বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। নীলক্ষেত থেকে এসব লেগুনা মূলত চকবাজার, খোলামোড়া এবং গুলিস্তান যায়।

লেগুনা মালিক সমিতির এক সদস্য অভিযোগ করেছেন, ‘১০-১২ দিন আগে সন্ধ্যায় এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোনেম শাহরিয়ার মুন হলের পাশে একটি চায়ের দোকানে লেগুনা মালিক সমিতির কয়েকজন নেতাকে চায়ের দাওয়াত দেন। এ দিনই মূলত তারা দেড় লাখ টাকা হাত খরচ দাবি করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির সদস্য রফিক। নীলক্ষেত থেকে চকবাজার রোডে তার দুটি লেগুনা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বসার পর হল ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা এখন নতুন কমিটি পাইছি। আমাদের কিছু হাত খরচ দিয়েন। এরপর আমাদের একজন বলেন, কত দিতে হবে ভেঙে বলেন। তখন রিয়াজ ভাই বলেন, দেড় লাখ টাকা দিয়েন। এই কথা শুনে আমাদের সবাই উঠে চলে আসছি। তাদের প্রোগ্রাম থাকায় তারাও চলে যায়। এই ঘটনার চার-পাঁচ দিন তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। তারাও কোনো ঝামেলা করেনি। কিন্তু চার-পাঁচদিন যেতে না যেতেই তারা গাড়ি ভাঙচুর এবং চালকদের মারধর করা শুরু করেন। স্ট্যান্ডে কোনো গাড়িই তারা রাখতে দেন না।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ গত ২৫ তারিখ রিয়াজ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে তাদের সঙ্গে বসতে বলেন। বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে বসার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ না বসায় তারা শুক্রবার ফের ভাঙচুর চালান। গত এক সপ্তাহে তিন দফায় তারা আমাদের সাতটি লেগুনা ভাঙচুর করেছেন।’

এই লেগুনা মালিক বলেন, ‘এর মধ্যে আবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরাও ডিস্টার্ব করা শুরু করছেন। তাদের সামনেই আমাদের গাড়িগুলো চলে। চার-পাঁচ দিন আগে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমি এবং খোলামোড়া রোডের সভাপতি মানিক ভাই বসেছি।

‘সে সময় তারা বলেছেন, তাদের কলেজের পাশ থেকে ভার্সিটির পোলাপান গাড়ি খেদিয়ে দেবে সেটি তারা হতে দেবেন না। ছাত্রলীগ সভাপতি জয় আল নাহিয়ান খান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তারা এই ঝামেলা মিটিয়ে দেবেন বলে বলেছিলেন। তবে তাদের দাবি ছিল, আমরা যেন তাদের দেখি। আমরা বলেছি, আপনারা ভার্সিটির ঝামেলাটা বন্ধ করতে পারলে আমরা আপনাদের দেখব। কিন্তু তারা এটি বন্ধ করতে পারেনি।’

এ সব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে রফিক বলেন, ‘শুনেছি, মালিক সমিতির পক্ষ হয়ে খোলামোড়া রোডের সভাপতি মানিক ভাই এবং ইকবাল ভাই লালবাগ থানার ওসি স্যারকে জানাইছে। এখন বাকিটা জানি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি প্রতিবারই কল কেটে দেন।

সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। এই ঘটনার সঙ্গে হল ছাত্রলীগ জড়িত নয়। লেগুনা মালিকদের সঙ্গে আমরা কখনো বসিইনি। এই লেগুনা মালিকদের আমরা চিনিও না। কোনো দিন দেখিনি। কথাও হয়নি।’

লেগুনা মালিক সমিতির সঙ্গে বসেছেন কি না- এমন প্রশ্নে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সভাপতি শারমিন সুলতানা সনি বলেন, ‘আমরা তাদের ডাকিওনি আর বসিওনি।’

সার্বিক বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি আমরা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’


বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ফিনল্যান্ডের

বাংলাদেশের টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফিনল্যান্ড।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত ফিনল্যান্ড-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মিরেল্লা মারিনের শুভেচ্ছা পত্র হস্তান্তর করেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

রিতভা কাউক্কু-রন্ডে বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানি নকিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে।

ফিনল্যান্ড জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন।

প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থানীয় জনগণ অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সীমান্তে কোনো ধরনের বিদ্রোহ মেনে নিব না।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ১৮০০ সশস্ত্র ক্যাডার সেই সময় তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেন বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ অনেক হাই-টেক পার্ক স্থাপন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো এসব হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করতে পারে।

বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আগে বিদেশ থেকে সার সংগ্রহ করতো, কিন্তু এখন যুদ্ধের কারণে শিপিং খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে কোনো আবাদি জমি অনাবাদি থাকবে না।

সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের অনারারি কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ আজিজ খান উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ফিনল্যান্ডের

বাংলাদেশের টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফিনল্যান্ড।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু-রন্ডে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত ফিনল্যান্ড-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সান্না মিরেল্লা মারিনের শুভেচ্ছা পত্র হস্তান্তর করেন। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

রিতভা কাউক্কু-রন্ডে বলেন, বাংলাদেশ এবং ফিনল্যান্ডের বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ কোম্পানি নকিয়ার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে।

ফিনল্যান্ড জাতিসংঘের সংস্থাগুলোতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন।

প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য স্থানীয় জনগণ অনেক কষ্ট পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সীমান্তে কোনো ধরনের বিদ্রোহ মেনে নিব না।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭ সালে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং ১৮০০ সশস্ত্র ক্যাডার সেই সময় তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেন বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ অনেক হাই-টেক পার্ক স্থাপন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো এসব হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ করতে পারে।

বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে, ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আগে বিদেশ থেকে সার সংগ্রহ করতো, কিন্তু এখন যুদ্ধের কারণে শিপিং খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে কোনো আবাদি জমি অনাবাদি থাকবে না।

সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের অনারারি কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ আজিজ খান উপস্থিত ছিলেন।


সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি সাদা দলের

সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি সাদা দলের
সাদা দলের মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। কিন্তু সেটি না করে উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের পক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাদা দলের শিক্ষকরা। 

গতকাল বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই মন্তব্য করেন তারা। এছাড়াও সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে সাদা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খানের সঞ্চালনায় ও সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের সাদা দলের সাবেক আহবায়ক অধ্যাপক এমরান কাইয়ুম, কলা অনুষদের আহবায়ক মো আল আমিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান এই দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, ‘ক্যম্পাসে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ছাত্রদলের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার; ছাত্রলীগের হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসাবে উপাচার্যকে ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করা; শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ পরিবেশ তৈরীতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।’

মানববন্ধনে অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন অবশ্যই নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে মদদ দিচ্ছে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা কোন দায়িত্ব পূর্ণরূপে পালন করেননি। প্রক্টর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রথম দফায় হামলার ঘটনার পর আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রথম দফায় ব্যবস্থা নেয়া হলে পরবর্তী সংঘাত এড়ানো যেতো। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে ক্যাম্পাসে সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের এই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উপাচার্যের সাথে একাধিকবার সাক্ষাত করেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি। যেটুকু করেছে তাও সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছে। যেসকল শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছে তাদের ওপরই মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’





ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার মামলা

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার মামলা
ছাত্রলীগ ছাত্রদল সংঘর্ষের ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামী করা হয়েছে

  • শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এই মামলা দায়ের করেছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে মারধরের অভিযোগ এনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ ১৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। 

একইসঙ্গে মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে । মামলাটি করেছেন ছাত্রলীগের শহীদুল্লাহ হল শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

শনিবার (২৮ মে) রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদূত হাওলাদার দৈনিক বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নষ্ট ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে অজ্ঞাতনামা ৪০০ জনকে আসামী করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, ‘ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে মধুর ক্যান্টিন থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে ফেরার পথে দোয়েল চত্বর এলাকায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় শহীদুল্লাহ হলের আট দশ নেতাকর্মীসহ ফজলুল হক ও জগন্নাথ হলের আরও অনেকেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। আহত নেতাকর্মীদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী চিকিৎসা শেষে এজহার দায়ের করতে দেরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’

ফৌজদারি আইনের ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৪২৭ ও ১০৯ ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই মামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনতাবদ্ধে লাঠিসোঁটা, লোহার রডসহ হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর জখম ও দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখিত ছাত্রদলের ১৮ নেতা হলেন, ‘ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক আক্তার হোসেন ও সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল ও সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব হোসেন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ইরফান আহমেদ, সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহিনুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফয়সাল দেওয়ান ও সিনিয়র সহসভাপতি শামীম পালোয়ান। 

মামলার বিষয়ে বাদী শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ‘দৈনিক বাংলাকে’ বলেন, ‘গত ২৪ মে মধুর ক্যান্টিন থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীদেরকে হলে ফেরার পথে দোয়েল চত্বরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমার আট থেকে দশ কর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর। এছাড়াও শহীদুল্লাহ হলের গেইট ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনার বিচার ও আইনের আশ্রয় নিতে মামলা করেছি।’

মামলার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদূত হাওলাদার ‘দৈনিক বাংলাকে’ বলেন, ‘শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা মামলাটি নিয়েছি। উপ-পরিদর্শক আল আমিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’