শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

আওয়ামী লীগ যতদিন, দুর্ভোগ ততদিন: ফখরুল

আওয়ামী লীগ যতদিন, দুর্ভোগ ততদিন: ফখরুল
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন জনগণের দুর্ভোগ থাকবে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বনানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ফখরুল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, মানুষের দুর্ভোগও বাড়বে। জ্বালানি ও পানিসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। সরকারের দুর্নীতি এখন আকাশচুম্বী। এই সরকার এরই মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে।

বিএনপিকে রাজপথে মোকাবিলা করা হবে- সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা সবসময় পুরোনো বক্তব্যই দিয়ে যাচ্ছে। রাজপথে পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। আগামী দিনেও জনগণের আন্দোলনে পরাজিত হবে। 

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্যসচিব আমিনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর প্রমুখ।


নিক্সন চৌধুরীর আসনে যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত

নিক্সন চৌধুরীর আসনে যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা এবং ভাঙ্গা পৌর যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাহাদা0ত হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাকে ও তার ‘মদদদাতা’ মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

এরপরই ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছে জেলা যুবলীগ। পাশাপাশি ভাঙ্গা পৌরসভা এবং সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা যুবলীগের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান ওরফে মিঠু স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, বার বার নির্দেশনা দেওয়ার পরও যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও জেলার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করায় দলীয় সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।

জেলা আহ্বায়ক এ চিঠি দিয়ে গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজ করেছেন দাবি করে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুন অর রশিদ বলেন, হয়ত বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে খুশি করার জন্য এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক। জেলা যুবলীগ একটি আহ্বায়ক কমিটি। এর মেয়াদ তিন মাস। তিন মাস পার হওয়ার পর ওই কমিটির আর কোনো বৈধতা থাকে না। এ জন্য এ সিদ্ধান্ত গায়ের জোরে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তবে এমনটা মানতে নারাজ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান মিঠু। তিনি বলেন, ‘ভাঙ্গা যুবলীগ কেন্দ্রীয় ও দলীয় কোনো কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করে না। হঠাৎ করে তারা বর্ধিত সভা করল, কিন্তু তা জেলা কমিটিকে জানায়নি। তা ছাড়া ওখানে যুবলীগের মধ্যে ভাগ রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ওই তিন উপজেলা যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় নেতা নিক্সন চৌধুরী ও সাহাদাতের বহিষ্কার চাওয়ার ক্ষমতা উপজেলা কমিটির নেই।’

জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘ওই কমিটিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর ছিল। এ কারণে কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা আহ্বায়ক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নেই।’

সাহাদাতকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এই অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।


সরকার হটাতে ‘এক সুরে’ থাকতে চায় বিরোধীরা

সরকার হটাতে ‘এক সুরে’ থাকতে চায় বিরোধীরা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ বিএনপির

  • নিজেদের মতো আন্দোলনের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা

আমানউল্লাহ আমান

নিজ দলের আদর্শ ও আন্দোলনের কৌশল ঠিক রেখে সরকার হটাতে নিজেদের এক সুতায় গাঁথার চেষ্টা করছে সরকারবিরোধী ডান, বাম ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা। পাশাপাশি নিরপেক্ষ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থাকতে পারে অগ্রাধিকারের তালিকায়। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করছি এবং দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রূপরেখায় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনের বিষয় আসবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনের রূপরেখায় বর্তমান সমস্যা ও সংকট তো থাকবেই। আমাদের মূল সমস্যা সরকারের পরিবর্তন, সেটার জন্যই আমাদের যুগপৎ আন্দোলন। একই ইস্যুতে নিজের নিজের জায়গা থেকে, নিজ নিজ দল থেকে একই সঙ্গে আন্দোলন করব।

এর আগে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ১১টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় বিএনপি। সংলাপে বিরতি দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোও একই সুরে কথা বলছে। গত ৮ আগস্ট জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে সাতদলীয় জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। আত্মপ্রকাশের পর থেকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চাইছে জোটবদ্ধ দলগুলো।

জোটের আন্দোলনের রূপরেখা সম্পর্কে জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলনের ধারণা আমরাই প্রথম দিয়েছি। বিএনপির সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি আলোচনাধীন আছে।  

সিপিবি-বাসদ ঐক্যের প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। সম্প্রতি জোটটির দুটি দল গণতন্ত্র মঞ্চে যোগ দিয়েছে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট আছে। জোটের রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় অবস্থানে রাজপথে আছি। বাম এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সমবেত করার চেষ্টা করছি। আগামীতে যারা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে বিকল্প শক্তির উত্থান চায়, দুঃশাসনের অবসান চায় এবং ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম করতে চায়, একই ধারায় জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম হবে। মূল সংগ্রাম জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা।

সিপিবি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বিকল্প গড়ে তুলতে চায় দাবি করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যাদের (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) বিরুদ্ধে লড়াই করে বিকল্প গড়ে তুলতে চাই, তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ওনাদের রাজনীতি বাদ দিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে যুগপৎ করবেন কি-না এটা প্রশ্ন হতে পারে।   

সিপিবি-বাসদ সূত্রে জানা যায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গণতান্ত্রিক বাম জোটের সম্মিলিত সভা রয়েছে। ওই সভায় জোটের চলমান ঘোষণা ও কর্মসূচিকে আরও সংক্ষিপ্ত আকার দেয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে। রাজপথে শক্তি বৃদ্ধিতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন ৯ সংগঠনের সঙ্গে সূত্রবদ্ধ হওয়ার আলোচনা চলমান রয়েছে।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, বামজোট বর্তমান সরকারের অধীনেই রাজনৈতিক মীমাংসার পথ খুঁজছে বলে মনে হয়েছে। বামজোটের সঙ্গে একটা যুগপৎ কর্মসূচি করেছি। তারা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ নয়। জনগণ এই সরকারের পতন চায়। সেই ক্ষেত্রে বামজোটের সঙ্গে আগামী দিনে যুগপৎ আন্দোলন কতটা হতে পারবে সে বিষয়ে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সন্দিহান। 

ফয়জুল হাকিম বলেন, সাম্রাজ্যবাদী মদদপুষ্ট এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের জন্য নিশ্চয়ই যুগপৎ আন্দোলন আগামী দিনে হতে পারে। বিএনপি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে কতগুলো মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সরকারের পতনের জন্য ও আধিপত্যবিরোধী বিষয়ে যদি তারা ঐকমত্য পোষণ করে তাহলে একটা যুগপৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাম জোট সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য’র নেতৃত্বাধীন ঐক্য ন্যাপ, ১৪ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ বাম জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছে। এই আলোচনায় মোস্তফা মহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামও যুক্ত ছিল বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গণতন্ত্র মঞ্চ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, আমরাও করব। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আন্দোলনের মাঠে যারা আছে তাদের সঙ্গে দেখা হবে। মাঠের আন্দোলনেই নির্ধারণ হবে যুগপৎ হবে- না ঐক্য হবে।

ক্ষমতাসীন জোটে থাকা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বা যুগপৎ আন্দোলনের কথা ভাবছেন না বলে দাবি করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, তারা সরকারের শরিক। তারা সরকারকেই ধারণ করে। এই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে কোনো আন্দোলনের কথা ভাবছি না।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, সামনে দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের পর জোট গঠন বা যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।  

ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী জোটের বাইরে অবস্থান করছে মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরীর গণফোরাম। দলটি সরকারবিরোধী আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্যের সঙ্গে থাকবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়- এই দাবির ভিত্তিতে বিএনপিসহ বৃহত্তর ঐক্যের সঙ্গে থাকবে গণফোরাম।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। দফায় দফায় দলীয় কোন্দলের মুখে পড়ে গণফোরাম। পৃথক দুই অংশের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

তার দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গণফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। দলকে সুসংগঠিত করার বিষয়ে ভাবছি। জোট বা যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। দল গুছিয়ে নিয়ে এ বিষয়ে অগ্রসর হবেন বলেও জানান তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল যুক্তফ্রন্ট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটটি ভেঙে যায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয় যুক্তফ্রন্ট। বর্তমানে দুজন সংসদ সদস্য রয়েছে দলটির।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পযবেক্ষণ করছেন জানিয়ে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মাঠ অনেকটা উত্তপ্ত। এই উত্তপ্ত মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে কোনো লাভ আছে? সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দলীয়ভাবে যা করণীয়, তা করব। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে না যাওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।


বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার নির্দেশনা নেই: কাদের

বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার নির্দেশনা নেই: কাদের
ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলায় কেন্দ্রের কোন নির্দেশনা নেই। এই বাইরে গিয়ে দলের কেউ যদি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আজ সোমবার দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি বলছে, কুমিল্লায় ও ঢাকায় হামলা হয়েছে। কিন্তু গতকাল বরিশালে আর চট্টগ্রামে মারামারি করেছে কারা? বরিশালে তারা নিজেরা নিজেদের ওপর হামলা করেছে, চট্টগ্রামেও চেয়ার ছোড়াছুড়ি করেছে। এটা মাত্র একটা কাগজে দেখেছি। তাদের নেগেটিভ নিউজও ছাপে না অনেকে। বলতে চায় না। কেন জানি না। বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখছি আমরা।

সভায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মামারিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে এখানে-ওখানে দু-একটা ঘটনা ঘটিয়ে আজকে সরকারের দুর্নাম, আওয়ামী লীগের দুর্নাম। এগুলো যারা করবে সহ্য করা হবে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ফখরুল সাহেব, ‘কতো রবি জ্বলে রে, কেবা আখি মেলে রে।’ শুনেছি পাকিস্তান ফিরে পেতে চান। এই মুক্তিযুদ্ধের দেশে আমরা আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে পাকিস্তানপন্থীদের হাতে তুলে দেব না। এই শপথ আমরা নিচ্ছি।

কাদের বলেন, আবার বলে পাকিস্তানের নাম শুনলেই আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হয়। হ্যাঁ গাত্রদাহ হয়। গাত্রদাহ তো হবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমি স্বাধীন। আমার গাত্রদাহ হবে না?


বিএনপির সমাবেশ শেষে লাঠি হাতে ওরা কারা

বিএনপির সমাবেশ শেষে লাঠি হাতে ওরা কারা
লাঠি ও স্ট্যাম্প হাতে মোটরসাইকেলে মহড়া। ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সারা দেশে দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশের পরপরই সেখানে হেলমেট পরে মোটরসাইকেলে করে উপস্থিত হন কয়েকজন যুবক। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবকরা লাঠি ও স্ট্যাম্প হাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে তারা বিএনপিকে মাঠে থাকতে দেবেন না বলেও স্লোগান তোলেন। তবে হেলমেট পরে থাকায় তাদের কেউ চিনতে পারেননি।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব একে এম কিবরিয়া স্বপন, শহর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি ও সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বিএনপির কর্মসূচিতে একের পর এক হামলার ঘটনাকে বর্বরোচিত এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য চরম নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা নেতা-কর্মীদের নামে ‘মিথ্যা’ মামলা দায়েরেরও নিন্দা জানান।

জানা যায়, বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ শেষ হওয়ার ১০ মিনিটি পর কয়েকটি মোটরসাইকেলে লাঠি ও স্ট্যাম্প নিয়ে মহড়া দেন কয়েকজন যুবক। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে আবারও সেখানে এসে উপস্থিত হন। এরপর প্রেস ক্লাবের হলরুমের সামনে কার্নিশ বারান্দায় দাঁড়িয়ে জয় বাংলা ও বিএনপিকে মাঠে থাকতে দেওয়া হবে না বলে স্লোগান দিতে থাকেন।


রংপুরে বিএনপির বিক্ষোভ

রংপুরে বিএনপির বিক্ষোভ
রংপুরে বিএনপির বিক্ষোভ। ছবি: দৈনিক বাংলা
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে রংপুর মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এ সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচিতে জনগণের উপস্থিতি দেখে সরকার ভয় পেয়ে পোষা বাহিনী দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। পুলিশ বাহিনী আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে। তারা যেন আমাদের উস্কানি না দেয়। পুলিশ আমাদের প্রতিপক্ষ নয়, তাই বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের গুলি চালানোর ফলও ভাল হবে না।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুর হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জীম ও মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়নসহ অনেকে।