রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

বরগুনা ৩ ভাগে বিভক্ত বিএনপি

বরগুনা ৩ ভাগে বিভক্ত বিএনপি
বিএনপির লগো। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ পাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে দলটির নানা কর্মসূচি পালনেও। একাংশ কর্মসূচিতে সক্রিয় হলেও বাকিরা দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকছেন।

রুদ্র রুহান, বরগুনা

আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, ৯ ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বরগুনা জেলা বিএনপি। এ ছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে ঘোষিত নতুন আহ্বায়ক কমিটিও বিভক্তির আরেক কারণ বলে জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ পাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে দলটির নানা কর্মসূচি পালনেও। একাংশ কর্মসূচিতে সক্রিয় হলেও বাকিরা দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকছেন। এমন অবস্থায় জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি দুর্বল করতে বিভক্ত বিএনপিতে ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই।

জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের কমিটি বিলুপ্ত করে গত ৮ জুন মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আহ্বায়ক ও তারিকুজ্জামান টিটুকে সদস্যসচিব করে বরগুনা জেলা বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। আগস্টে বিএনপির উপজেলা ও পৌর ইউনিটের ১০টি কমিটি ভেঙে দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন শুরু এবং ৯টি ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বর বরগুনা প্রেসক্লাবে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এ জেড এম সালেহ সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বেচ্ছাচারিতা, অগঠনতান্ত্রিক ও অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন উপজেলায় কমিটি গঠন করেছেন’ বলে দাবি করে ওই কমিটির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতা ছাড়াও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা কমিটিগুলো বাতিল করার দাবি জানিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে চলতি মাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।

ওই সংবাদ সম্মেলনের পর দলটির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, ২০১৮ সালের জেলা বিএনপি কমিটি গত চার বছরেও একটি ইউনিটের কমিটি গঠন করতে পারেনি। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ৩ মাসের মধ্যে তারা সে কাজটি করেছেন। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা কমিটি দিয়েছেন। নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিতদের কমিটিতে ঠাঁই না দেয়ায় এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

২০০৯ সালে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে সভাপতি ও এসএম নজরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। ফারুক-নজরুল কমিটি ৯ বছর জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেয়ার পর ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি হঠাৎ সম্মেলন ছাড়াই ফারুক মোল্লার ভাই নজরুল ইসলাম মোল্লাকে সভাপতি ও সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা মো. হালিমকে সাধারণ সম্পাদক করে বরগুনা জেলা বিএনপির ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন ছাড়া কমিটি গঠন করায় মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাসহ বিএনপির একাংশ নজরুল-হালিম কমিটি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর দীর্ঘ ৪ বছর নজরুল-হালিম কমিটি নিজেদের সমর্থক নিয়ে কোনোমতে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, বরগুনা জেলা বিএনপির নেতারা মূলত তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা ও সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান টিটুর একটি গ্রুপ। বর্তমান আহ্বায়ক  কমিটি চাইছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা অথবা বর্তমান আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লাকে আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হোক। এ লক্ষ্যে তারা তরুণদের নিয়ে ইউনিটগুলো তৈরি করছে। অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল আমিন, ফজলুল হক মাস্টার ও কেএম শফিকুজ্জামান চাইছেন নুরুল ইসলাম মনিকে মনোনয়ন দেয়া হোক। নুরুল ইসলাম মনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য।

অপরদিকে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন হাসান, জাফরুল হাসান ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মাইনুদ্দিনসহ একটি অংশ  চায় নজরুল মোল্লাকে মনোনয়ন দেয়া হোক। নজরুল ইসলাম মোল্লা জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি।

মূলত এসব কারণে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত বরগুনা জেলা বিএনপি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব তারিকুজ্জামান টিটু বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জেলা বিএনপিকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। বরগুনায় মামুন মোল্লার জনপ্রিয়তা আওয়ামী লীগের কাছে ভীতির কারণ। আওয়ামীপন্থি বিএনপির কিছু ব্যক্তি আছেন তারা এটিকে মেনে নিতে পারছেন না। তাই ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। 

তারিকুজ্জামান বলেন, তারুণ্যনির্ভর দল গঠনের লক্ষ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির ১০টি ইউনিট পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। সেখানে বিতর্কিতদের ঠাঁই না দেয়ায় দলের একাংশ সমালোচনা করছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, জেলা বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যারা ঘরে বসে রাজনীতি করত তাদের এটা সহ্য হয় না বলেই সমালোচনা করে। এসব কানে না নিয়ে সামনের সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে দল গুছিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিএনপি এখন বরগুনায় বিগত সব সময়ের চেয়েও শক্তিশালী।


বিএনপির সাথে আন্দোলনে ‘চমক’ নিয়ে থাকবে কল্যাণ পার্টি

বিএনপির সাথে আন্দোলনে ‘চমক’ নিয়ে থাকবে কল্যাণ পার্টি
বৈঠক শেষে বিএনপি ও কল্যাণ পার্টির শীর্ষ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

যুগপৎ আন্দোলনের জন্য বিএনপির দেয়া প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ পার্টি। কল্যাণ পার্টি বলছে, বিএনপির সাথে তাদের আন্দোলনে ‘চমক’ আছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলন কর্মসূচি ও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে দ্বিতীয় দফা সংলাপের আমন্ত্রণে দুই দলের শীর্ষ নেতারা আজ রোববার বৈঠক করেন।  

আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্দলীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা, নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তিসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির আন্দোলনের বিষয়েও আমরা একমত হয়েছি। একই সঙ্গে সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলন বেগবান করা ইস্যুতে বিএনপি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম দফা সংলাপে জাতীয় ঐক্য করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য ছিল, এখন দ্বিতীয় দফায় সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনে আমাদের সঙ্গে একমত কল্যাণ পার্টি। যে ২৩ দলের সঙ্গে প্রথম দফায় সংলাপ হয়েছিল, তারা ছাড়াও অন্য যেকোনো দল এ দফায় সংলাপে আসতে পারে।’

দ্বিতীয় দফা সংলাপের পরই যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা আসবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আপনারা জানতে পারবেন।’

এ সময় কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনের দিন-তারিখ প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে, চমক আছে, অপেক্ষা করুন। এবার বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। বিজয় আমাদের হবেই। রাজপথে আমাদের দেখতে পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, ধর্মীয় নেতাদের নির্যাতন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছি।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে অন্যদের সাথে কল্যাণ পার্টিও রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর আগে বিএনপি এখন জোটের ভেতর-বাইরের দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে বিএনপি সংলাপ করে যাচ্ছে। রোববার বিকালে কল্যাণ পার্টির সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসে বিএনপি। 

বিএনপির পক্ষে সংলাপে আরও অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আর কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন, অতিরিক্ত মহাসচিব নুরুল কবির পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সোহেল মোল্লা, আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিব, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাহবুবুর রহমান শামিম, উত্তরের সেক্রেটারি জামাল হোসেন, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু হানিফ ও উত্তরের সেক্রেটারি আবু ইউসুফ।


আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান
সায়েম আমীর ফয়সল সামি
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমীর ফয়সল সামি। যার দল ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গী ছিল।

জাকের পার্টির দাবি ফয়সল সামি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ফয়সল সামি ওই উপ-কমিটির সদস্য নন।

আসনটিতে সাজেদা চৌধুরীর দুই ছেলেসহ মোট ১৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট মহাজোটে ছিল জাকের পার্টি। দলটির নেতাদের দাবি আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের এখনও ‘সমঝোতা’ রয়েছে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনটি প্রথমে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় বাদ যায় জাকের পার্টির প্রধান। সেখানে প্রার্থী করা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ সাজেদা চৌধুরীকে।

জানতে চাইলে জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম হায়দার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সায়েম আমীর ফয়সল সামি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য। আমরা তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আছিই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দলের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।’

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক শাম্মী আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, “সায়েম আমীর ফয়সল সামি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য নন। তিনি আমাদের সাথে কাজ করতে চান।”

ফয়সল সামির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নু, সাজেদা চৌধুরীর বড় ও নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছেলে আয়মন আকবর, ছোট ছেলে শাহাদাব আকবর, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান জুয়েল, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মেজর (অব.) আতমা হালিম, সাব্বির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চর যশোহরদী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ মিয়া, জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক আবদুস সোবহান, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এয়ার কমোডর (অব.) কাজী দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লায়েকুজ্জামান, নগরকান্দার কালাচাঁদ চক্রবর্তী।

গত ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ১৩ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: ওবায়দুল কাদের

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ব্যাপারে সতর্ক  থাকতে হবে: ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আগামী ১৪ মাস পরে নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অশুভ চক্র সক্রিয় আছে। যারা হিন্দুদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভারত সরকারকে জানিয়ে দিতে চায়, এ কাজটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগের হাতে মাইনরিটি নিরাপদ নয়, এই মেসেজটা দিতে চায়। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আজ রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সরকার একাধারে ১৩ বছর ক্ষমতার মঞ্চে আসীন আছে। এই ১৩ বছরে মাত্র একবার দুর্গাপূজা টার্গেট হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়িঘর টার্গেট হয়েছে। মন্দির টার্গেট হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি দোকানপাটে পর্যন্ত হামলা হয়েছে।

গতবারের দুর্গাপূজায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ১১ বছর যখন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তাতে এবারও শান্তিপূর্ণ হবে; এ রকম চিন্তা-ভাবনা থেকে সতর্কতার কিছুটা অভাব ছিল। কোথাও কোথাও রাজনৈতিকভাবে আমরা অসতর্ক ছিলাম, এ কথা সত্য। চৌমুহনীতে ছিল ভয়াবহ অবস্থা। একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়।

তিনি নির্বাচনের প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভোটে হিন্দুদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে যান। নিজেদের বিপদ মনে করে ভোট প্রার্থী হন। কিন্তু হিন্দুরা যখন বিপদে পড়ে, তখন কোথায় থাকেন? আমি সে কথা এবারও বলছি।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সারা বাংলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রস্তুত আছে। তারা সতর্ক পাহারা আছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবার অনেক শক্তিশালী অবস্থানে। তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সক্রিয় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজাটা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মণ্ডপ পরিদর্শনে এসেছি। কিছু কথা বলছি, এ কারণে হিন্দু ভাইবোনেরা ভয় পাবেন না। আতঙ্কিত হবেন না। এবার আমরা প্রস্তুত। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের সব অপরাধীর বিচার শেখ হাসিনা করেছেন। এমনকি নিজের দলের লোকেরাও রেহাই পায়নি। যারা হিন্দুদের বাড়িঘরে, মণ্ডপে হামলা করে, যে পরিচয়ই হোক, এই দুর্বৃত্তদের ক্ষমা নেই।

বিরোধী দলের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান, শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম-কর্ম করতে দিন। সংলাপ করছেন করুন। এটা আপনাদের নিজেদের ব্যাপার। কিন্তু আমি বলব দুর্গোৎসব দশমী পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আপনাদেরও ভূমিকা আছে। আপনারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। রাজনীতিও করবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।


সাজেদা চৌধুরীর আসনে দুই ছেলেসহ মনোনয়ন চান ১৭ জন

সাজেদা চৌধুরীর আসনে দুই ছেলেসহ মনোনয়ন চান ১৭ জন
আয়মন আকবর ও শাহদাব আকবর। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর ২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৭ জন। সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর ও আয়মন আকবর মায়ের আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবিদার হয়েছেন।

এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নু, জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমীর ফয়সল সামি, মো. জামাল হোসেন মিয়া, বিপুল ঘোষ, ছাব্বির হোসেন, আবদুস সোবহান, এ টি এম এ হালিম, মো. সাইফুজ্জামান চৌধুরী জুয়েল, মো. মনিরুজ্জামান সরদার, কালাচাঁদ চক্রবর্তী, কাজী দেলোয়ার হোসেন, এবিএম শফিউল আলম, মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, মো. ইউসুফ ও মো. লায়েকুজ্জামান মোল্যা।


বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই গণফোরামের

বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই গণফোরামের
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের হাত ধরে রাজনৈতিক দল গণফোরামের যাত্রা শুরু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিল দলটি। তবে এবার বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো পরিকল্পনা গণফোরামের নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান।

গতকাল শুক্রবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মিজানুর রহমান। কথপোকথনে উঠে এসেছে দলের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের বিষয়গুলোও।

প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের চাওয়াটা কী? আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে জোট করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: বিএনপির সঙ্গে জোট করার এই মূহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। রাজনৈতিকভাবে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চাহিদা এবং জনগণের চাহিদা ও যে সংকট আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠেও আছি এবং অবস্থা অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে আপনার দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেই নির্বাচন করেছে। এবার দেখা গেল এখন পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে বিএনপি সংলাপ করলেও আপনার সঙ্গে করেনি। কারণ কী বলে মনে করেন?

ডা. মিজানুর রহমান: গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কারণে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আর ছিল না। এখন নতুন করে আর কোনো মেরুকরণ আমাদের দল থেকে হয়নি। আর বিএনপি আমাদের ডাকল কি ডাকল না সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি নির্ভর করে না। আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে আমরা, দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যে আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী করব?

প্রশ্ন: গত নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া নিয়ে দলে মতপার্থক্য হয়েছে। তাহলে ড. কামাল হোসেন কেন ওই নির্বাচনে গিয়েছিলেন?

ডা. মিজানুর রহমান: তখনকার প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্ট করা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ছিল একটা সময়ের দাবি। সেটা তো একটি নির্বাচনী জোট হয়েছিল। স্থায়ী কোনো জোট ছিল না। নির্বাচনের পর সেই জোটের অবস্থানটাও শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের অধীনে আপনার দল নির্বাচনে যাবে কি?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা আসলে সরকারের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কতটুকু অবস্থান নেবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হবে– তার ওপর নির্ভর করে। তারপরও নির্বাচন কমিশনের যেসব কথাবার্তা আমরা দেখছি, এটাকে আমরা খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি না। যেমন- ইভিএম নিয়ে তাদের বক্তব্য দেশের মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের আগে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রশ্ন: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে গণফোরাম কি ভেঙে গেছে? আপনাদের তো বহিষ্কার করেছেন মোস্তফা মহসীন মন্টুরা?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের নামে তারা যে কমিটি করেছিল, সে কমিটিতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। তারা যে কমিটি ডিক্লেয়ার করেছে, তার সঙ্গে আমার এবং আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- কমিটি ঘোষণা করে যে মিটিংগুলো করেছে, কোনোটাতেই আমার সম্পৃক্ততা কখনো ছিল না। ফলে তারা নিজেরা কারও নাম ব্যবহার করা এবং তাদের বহিষ্কার করা– এটা তাদের নিজস্ব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আমার এবং আমার দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যেহেতু কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, সে হিসেবে তাদের এ বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে গণফোরাম জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হতে পারেনি। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিটা হয়ে গেছে কালোটাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর। নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি তো এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আমরা শুরু থেকে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে গণফোরাম কখনো বিচ্যুত হয়নি। আমরা একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা দলের শুরু থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আছি।