সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার নির্দেশনা নেই: কাদের

বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার নির্দেশনা নেই: কাদের
ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলায় কেন্দ্রের কোন নির্দেশনা নেই। এই বাইরে গিয়ে দলের কেউ যদি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আজ সোমবার দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি বলছে, কুমিল্লায় ও ঢাকায় হামলা হয়েছে। কিন্তু গতকাল বরিশালে আর চট্টগ্রামে মারামারি করেছে কারা? বরিশালে তারা নিজেরা নিজেদের ওপর হামলা করেছে, চট্টগ্রামেও চেয়ার ছোড়াছুড়ি করেছে। এটা মাত্র একটা কাগজে দেখেছি। তাদের নেগেটিভ নিউজও ছাপে না অনেকে। বলতে চায় না। কেন জানি না। বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখছি আমরা।

সভায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মামারিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলো তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে এখানে-ওখানে দু-একটা ঘটনা ঘটিয়ে আজকে সরকারের দুর্নাম, আওয়ামী লীগের দুর্নাম। এগুলো যারা করবে সহ্য করা হবে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ফখরুল সাহেব, ‘কতো রবি জ্বলে রে, কেবা আখি মেলে রে।’ শুনেছি পাকিস্তান ফিরে পেতে চান। এই মুক্তিযুদ্ধের দেশে আমরা আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে পাকিস্তানপন্থীদের হাতে তুলে দেব না। এই শপথ আমরা নিচ্ছি।

কাদের বলেন, আবার বলে পাকিস্তানের নাম শুনলেই আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হয়। হ্যাঁ গাত্রদাহ হয়। গাত্রদাহ তো হবেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমি স্বাধীন। আমার গাত্রদাহ হবে না?


ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, ১৬ জন বহিষ্কার

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, ১৬ জন বহিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

রাজধানীর ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলার জেরে কমিটি স্থগিত করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়া সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার মধ্যরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া নেত্রীদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

কীসের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হলো- এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছিলাম, তারা তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলবে বলে জানান লেখক ভট্টাচার্য।

শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ।


বৃত্তের ভেতরে আন্দোলন, বাইরে গেলে বাড়বে চাপ

বৃত্তের ভেতরে আন্দোলন, বাইরে গেলে বাড়বে চাপ
প্রতীকী ছবি
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
  • তারা মুখে বলে একটা, কাজ করে আরেকটা: ফখরুল

  • গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিবৃত্ত করতে চাই না: ফারুক খান

আমানউল্লাহ আমান

বিরোধী দল সাম্প্রতিক সময়ে যে আন্দোলন করছে সেটাকে একটা বৃত্তের ভেতরেই রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। বৃত্তের বাইরে যাওয়া কিংবা সরকারি দলের মূল্যায়নে ‘সীমা লঙ্ঘন’ করলেই বাধার সম্মুখীন হতে হবে তাদের।

বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর থেকেই অনেকটা জোরেশোরে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় আছে আন্দোলনমুখী রাজনৈতিক দলগুলো। রাজপথে কর্মসূচির পাশাপাশি তৎপরতা বাড়িয়েছে ঘরোয়া রাজনীতিতেও। ঘরোয়া তৎপরতায় বাধা না থাকলেও রাজপথের কর্মসূচিতে বাধা আসছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান মনে করেন, সরকারি দল বিরোধী দলকে আন্দোলনে কোনো বাধা দিচ্ছে না। তাদের আন্দোলনে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। কিন্তু তারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। তখন হয়তো পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারি দল মুখে বলে একটা, কাজ করে আরেকটা। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচিগুলো করছি, ওই কর্মসূচিগুলোতে তারা বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, রাজপথে বিএনপি জনগণের সাড়া না পেয়ে সহিংসতা করছে। ওই সব ঘটনায় সরকার ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা নেই। ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, বিএনপিসহ বিরোধীরা আপাতত নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলেও সীমারেখার ভেতরেই রাখতে হবে আন্দোলন। সীমার বাইরে গেলেই বাড়বে রাজনৈতিক চাপ।

সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্দোলন করার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আসার পর গত ৫ মাসে টানা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দলটির ওই সব কর্মসূচিতে উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছে ক্ষমতাসীন দলকে।

তাদের ধারণা, সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে তারা সাহসী হয়ে উঠতে পারে। পরে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা বেগ পেতে হবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনোবলে। তাই সরকার ও ক্ষমতাসীন দল প্রথম দিকে নমনীয় হলেও এখন কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। আপাতত হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর মনোভাব দেখানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে সতর্ক অবস্থায় থাকছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, এ সব হামলার ঘটনায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করবে হয় আমরা দলীয়প্রধানের কথা শুনছি না অথবা দলীয়প্রধান বাধা না দেয়ার নির্দেশটি শুধু বলার জন্য বলেছেন।

গত ২২ আগস্ট থেকে বিরোধীদের ডাকা বিভিন্ন কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা শুরু হয়। ওই সব হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে কেউ হামলা করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর দিন ১৯ সেপ্টেম্বর একই সুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য ওই দিন তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ হামলায় জড়িয়ে পড়লে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের নেতা-কর্মীদের আবারও সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বলে দিয়েছি শৃঙ্খলাভঙ্গ যেই করবে শেখ হাসিনা তাদের রেহাই দেবেন না।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

কিন্তু এর পর দিনই মুন্সীগঞ্জে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে বড় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের শীর্ষ নেতা ও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারির পরও হামলা-মামলা থামছে না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপি যে অবস্থায় আছে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্যই তাদের গোলমাল বাধাতে হয়। বাংলাদেশের ২৯টি জায়গায় বিএনপি সমাবেশ করেছে যেকোনো কারণেই হোক। গোলমাল হলেই সংবাদ হয়। সুতরাং তারাই গোলমাল বাধায়। আমাদের গোলমাল বাধানোর কোনো দরকার নেই। তাই নেতৃবৃন্দ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দলের কেউ জড়িত থাকলে আমরা দেখব।  

তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে বাধা দিইনি। আমরা কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিবৃত্ত করতে চাই না। জনগণের সাড়া না পেয়ে ভিন্ন স্বার্থ হাসিলে আন্দোলনের নামে তারা সহিংসতা করতে চাচ্ছে। আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করলে তো বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে আন্দোলন-আন্দোলন খেলছে বিএনপি। তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন, আন্দোলন নয়। আমরা বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সচেতন করব।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্য কথার কথা। তাদের কথার প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, যদি তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আন্তরিকভাবে এসব কথা বলে থাকেন তাহলে আমরা মনে করব তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কিন্তু যেভাবে অসংখ্য মামলা করেছে তাতে মনে হয় না কোনো শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিসর যদি চালু করে এবং দলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেয় তাহলে বোঝা যাবে তাদের আন্তরিকতা আছে।

সরকার ও ক্ষমতাসীনদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সতর্ক বার্তার পরেও মুন্সীগঞ্জে কী ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে গেল। ছেলেটা মারা গেল। অন্যান্য জায়গাতেও এ রকম ঘটনা ঘটছে। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচিগুলো করছি, ওই কর্মসূচিগুলোতে তারা বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আছে। আমাদের কর্মসূচি করতে দিন। গণতন্ত্র তখনই রক্ষা পাবে যদি সরকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চায়।  

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সূত্রগুলোর দাবি, বিরোধীদের আন্দোলন করতে না দেয়াটা আওয়ামী লীগ বা সরকারের উদ্দেশ্য না। কোথাও কোথাও প্রশাসন, পুলিশ ও দলের নেতা-কর্মীদের অতি উৎসাহী তৎপরতায় হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে। বিএনপির দলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশও আছে ওই সব হামলার ঘটনায়। বিরোধীদের আন্দোলনকে একটা রাজনৈতিক গণ্ডির ভেতরে রাখাই সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের মূল চাওয়া। যাতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হয়।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বিএনপি যাতে মাঠে দৃশ্যমান হতে পারে সেই কৌশলেই আগাচ্ছে তারা। তাই বিএনপি ও বিরোধীদলগুলোর জন্য আন্দোলনের সীমারেখা বেঁধে দিতে চায় আওয়ামী লীগ। সীমারেখার বৃত্তে আবদ্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলীয় কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকছে আওয়ামী লীগও।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা, ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট ও ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা, মামলায় সাজা হওয়ার পরও কোনো জনসম্পৃক্ত আন্দোলন করতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তারা ছিল অনেকটা সংশয়ে। পুরো প্রভাব নিয়ে মাঠে থাকতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বয়কট করেছে লাগাতারভাবে। সব মিলিয়ে বিএনপি এখন একটা গণ্ডির ভেতরেই আছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, কোণঠাসা বিএনপির কর্মসূচি পালনে বাধা নেই। কিন্তু কর্মসূচিতে উপস্থিতির ওপর ভর করে বিএনপি অন্য কোনো পথে যাতে না যায় সে জন্য চাপ অব্যাহত থাকবে। চাপের কৌশল হিসেবেই শক্তি দেখানোর জন্য কোথাও কোথাও হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে করে ভয় পেয়ে বিরোধীকর্মীদের মাঠে উপস্থিতি কমে এলে ক্ষমতাসীনদেরই লাভ। আন্দোলন যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সতর্ক।

সরকারি দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন ছাড়া দেশে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আর নির্বাচনের এখনো ১৪ মাস বাকি। বিএনপি যদি এখনই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে দেয় তাহলে নির্বাচন এগিয়ে আসতে আসতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সাংগঠনিকভাবে আরও ভেঙে পড়বে। শেষ দিকে দুর্বল বিএনপি সব দাবি ছেড়ে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে বলে আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের ধারণা। তাই উভয় দিকেই লাভ দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।


মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলা, শাওনের মৃত্যুতে মামলা নেই

মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই  মামলা,  শাওনের  মৃত্যুতে মামলা নেই
মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে এক যুবদল কর্মীর মৃত্যু হয়। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত যুবদলকর্মী শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলা হয়নি। যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। সমস্যা হবে- এমন আশঙ্কায় পরিবার মামলা করতে চাইছে না। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, পরিবার মামলা করবে।

এদিকে গত বুধবারের ওই সংঘর্ষের পর গত তিন দিনে মুন্সীগঞ্জে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অফিস ও কারখানায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে গত বুধবার বিকেলে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা-কর্মীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শাওন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান।

নিহত শাওন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার মুরমা এলাকার ছোয়াব আলীর ছেলে। পেশায় ছিলেন অটোরিকশা চালক। যুবদলের কর্মীও ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার রাত ১০টায় দ্বিতীয় জানাজার পর তার মরদেহ মুরমা জামে মসজিদ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শাওনের ছোট ভাই সোহান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মামলা করে ভেজালে পড়তে চাই না। মামলা করলে সমস্যা হবে। এ জন্য আমরা কোনো মামলা করিনি, জিডিও করিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের থানায় ডাকা হয়েছে। কিন্তু আমরা মামলা করব না। থানায় যাব কেন? বিএনপি মামলা করতে বললেও মামলা করব না। আমাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

তবে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম বলেন, ‘শাওনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে। আমরা যোগাযোগ করছি। আজকের (শনিবার) মধ্যে মামলা হয়ে যাবে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, আজকের মধ্যে যেন মামলা হয়। কারণ এগুলো নিয়ে দেরি করা যায় না।’

বুধবার বিকেলে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৬৫ জনের নামোল্লেখ করে এবং আরও কয়েক শ অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। ঘটনার দিন আটক ২৪ জনকে ওই দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এরপর গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বিএনপির নেতাদের অফিস-কারখানায় হামলার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজনের বিরুদ্ধে কয়েক দফায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীর কারখানা ও অফিসে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় মুন্সীগঞ্জের দয়াল বাজারের মাল্টি ফিশিং নেট কারখানায় কিছু লোক মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে হামলা চালায়।

কারখানার মালিক ও পঞ্চসার বিএনপির সদস্যসচিব আয়াত আলী দেওয়ান অভিযোগ করেন, ‘আমার স্টাফরা জানিয়েছে, চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার লোকরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে ও বন্দুকের ভয় দেখিয়ে কারখানা থেকে ৬-৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ দিতে থানায় যেতে পারিনি। কারণ আমাদের নামে মামলা আছে।’

এর আগে বুধবার রাতেও জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. নিজামউদ্দিনের সুতার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনাতেও গোলাম মোস্তফার দিকে ইঙ্গিত করে কারখানার মালিক বলেছিলেন, কিছু নব্য আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ব্যাপারে বেশ কয়েক বার গোলাম মোস্তফার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, কেউ যদি এরকম কারও বাসা, অফিস বা কারখানায় হামলা করে, তা হলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশ আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে।


জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছে: কাদের

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছে: কাদের
ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভাষণ বাঙালি জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ইতিমধ্যেই বিশ্বসভায় স্বীকৃত এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমরা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও ভিশনারি নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে জ্ঞানভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়দীপ্ত ভাষণ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে আজ শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ, কল্যাণকর ও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার অন্তর্নিহিত লক্ষ্যে হলো- বাংলাদেশকে জলবায়ু-সহিষ্ণু ব-দ্বীপে রূপান্তরিত করা। এ দেশের জনগণের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি কল্যাণকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাঙালি জাতির স্বাপ্নিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনা সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

বিশ্ব নেতাদের সামনে সফল রাষ্ট্রনায়কোচিত বার্তা ও দিক-নির্দেশনা তুলে ধরায় শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানান কাদের।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের সামনে দুর্যোগের সংকটপূর্ণ সময়ে সমাধানের সূত্র তুলে ধরেছেন বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

কাদের আরও বলেন, শুধু বর্তমান সংকট সমাধানের বার্তাই নয় বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠার দিক-নির্দেশনা থাকায় শেখ হাসিনার ভাষণ বিশ্বসভায় বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মহামারি থেকে উত্তরণে টিকা প্রদান করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এর কোভ্যাক্স ব্যবস্থা এবং সহযোগী দেশসমূহকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গৃহীত সময়োপযোগী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি থেকে মানবজাতিকে রক্ষার জন্য জলবায়ু নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া আর ভাঙার দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


১৪ দলীয় শরিক দলগুলোকে জোট ছাড়ার আহ্বান আম্বিয়ার

১৪ দলীয় শরিক দলগুলোকে জোট ছাড়ার আহ্বান আম্বিয়ার
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে দলটির সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় শরিক দলগুলোকে জোট ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। আজ শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে দলটির সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ২০০৫ সালে ২৩ দফার ভিত্তিতে আদর্শিক ১৪ দলীয় জোট গঠন হয়েছিল। ১৪ দলীয় জোট এখন সাইরাস প্লাটফর্ম। ওখানে সব দল অন্যের কাজ করে। তাই জোট শরিক দলগুলোকে বলব গণতন্ত্র ও আদর্শের রাজনীতি করতে চাইলে জোট ছেড়ে সংগ্রাম করুন।

এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মেনন ভাই মাঝে মাঝে গরম কথা বলেন। কিন্তু পরে আবার ঘরের ভেতর গিয়ে বসে থাকেন।

বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি বলেন, ২০১৮ সালের মতো আরেকটা নির্বাচন করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। আমি মনে করি পঁচাত্তরের বাকশাল গঠনের চেয়েও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হবে এ রকম নির্বাচন করা। সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে জাতীয় সংসদকে দুইকক্ষ করার প্রস্তাব দেন আম্বিয়া।

বাংলাদেশ জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মহসীন মন্টু, সিপিবি সভাপতি শাহ আলম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ।