রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

সরকার হটাতে ‘এক সুরে’ থাকতে চায় বিরোধীরা

সরকার হটাতে ‘এক সুরে’ থাকতে চায় বিরোধীরা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ বিএনপির

  • নিজেদের মতো আন্দোলনের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের পরিকল্পনা

আমানউল্লাহ আমান

নিজ দলের আদর্শ ও আন্দোলনের কৌশল ঠিক রেখে সরকার হটাতে নিজেদের এক সুতায় গাঁথার চেষ্টা করছে সরকারবিরোধী ডান, বাম ও মধ্যপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতারা। পাশাপাশি নিরপেক্ষ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি থাকতে পারে অগ্রাধিকারের তালিকায়। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ করছি এবং দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রূপরেখায় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনের বিষয় আসবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনের রূপরেখায় বর্তমান সমস্যা ও সংকট তো থাকবেই। আমাদের মূল সমস্যা সরকারের পরিবর্তন, সেটার জন্যই আমাদের যুগপৎ আন্দোলন। একই ইস্যুতে নিজের নিজের জায়গা থেকে, নিজ নিজ দল থেকে একই সঙ্গে আন্দোলন করব।

এর আগে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেয় বিএনপি। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ১১টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় বিএনপি। সংলাপে বিরতি দিয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোও একই সুরে কথা বলছে। গত ৮ আগস্ট জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করে সাতদলীয় জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। আত্মপ্রকাশের পর থেকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চাইছে জোটবদ্ধ দলগুলো।

জোটের আন্দোলনের রূপরেখা সম্পর্কে জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, যুগপৎ আন্দোলনের ধারণা আমরাই প্রথম দিয়েছি। বিএনপির সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি আলোচনাধীন আছে।  

সিপিবি-বাসদ ঐক্যের প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। সম্প্রতি জোটটির দুটি দল গণতন্ত্র মঞ্চে যোগ দিয়েছে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট আছে। জোটের রাজনীতি নিয়ে সক্রিয় অবস্থানে রাজপথে আছি। বাম এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সমবেত করার চেষ্টা করছি। আগামীতে যারা আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে বিকল্প শক্তির উত্থান চায়, দুঃশাসনের অবসান চায় এবং ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম করতে চায়, একই ধারায় জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম হবে। মূল সংগ্রাম জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা।

সিপিবি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট দ্বি-দলীয় ধারার বাইরে বিকল্প গড়ে তুলতে চায় দাবি করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যাদের (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) বিরুদ্ধে লড়াই করে বিকল্প গড়ে তুলতে চাই, তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং ওনাদের রাজনীতি বাদ দিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে যুগপৎ করবেন কি-না এটা প্রশ্ন হতে পারে।   

সিপিবি-বাসদ সূত্রে জানা যায়, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গণতান্ত্রিক বাম জোটের সম্মিলিত সভা রয়েছে। ওই সভায় জোটের চলমান ঘোষণা ও কর্মসূচিকে আরও সংক্ষিপ্ত আকার দেয়ার প্রস্তাব উঠতে পারে। রাজপথে শক্তি বৃদ্ধিতে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন ৯ সংগঠনের সঙ্গে সূত্রবদ্ধ হওয়ার আলোচনা চলমান রয়েছে।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, বামজোট বর্তমান সরকারের অধীনেই রাজনৈতিক মীমাংসার পথ খুঁজছে বলে মনে হয়েছে। বামজোটের সঙ্গে একটা যুগপৎ কর্মসূচি করেছি। তারা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ নয়। জনগণ এই সরকারের পতন চায়। সেই ক্ষেত্রে বামজোটের সঙ্গে আগামী দিনে যুগপৎ আন্দোলন কতটা হতে পারবে সে বিষয়ে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সন্দিহান। 

ফয়জুল হাকিম বলেন, সাম্রাজ্যবাদী মদদপুষ্ট এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের জন্য নিশ্চয়ই যুগপৎ আন্দোলন আগামী দিনে হতে পারে। বিএনপি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে কতগুলো মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সরকারের পতনের জন্য ও আধিপত্যবিরোধী বিষয়ে যদি তারা ঐকমত্য পোষণ করে তাহলে একটা যুগপৎ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাম জোট সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য’র নেতৃত্বাধীন ঐক্য ন্যাপ, ১৪ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়া শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ বাম জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছে। এই আলোচনায় মোস্তফা মহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামও যুক্ত ছিল বলে জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গণতন্ত্র মঞ্চ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে, আমরাও করব। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আন্দোলনের মাঠে যারা আছে তাদের সঙ্গে দেখা হবে। মাঠের আন্দোলনেই নির্ধারণ হবে যুগপৎ হবে- না ঐক্য হবে।

ক্ষমতাসীন জোটে থাকা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বা যুগপৎ আন্দোলনের কথা ভাবছেন না বলে দাবি করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, তারা সরকারের শরিক। তারা সরকারকেই ধারণ করে। এই মুহূর্তে তাদের সঙ্গে কোনো আন্দোলনের কথা ভাবছি না।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, সামনে দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের পর জোট গঠন বা যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।  

ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী জোটের বাইরে অবস্থান করছে মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সুব্রত চৌধুরীর গণফোরাম। দলটি সরকারবিরোধী আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্যের সঙ্গে থাকবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়- এই দাবির ভিত্তিতে বিএনপিসহ বৃহত্তর ঐক্যের সঙ্গে থাকবে গণফোরাম।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। দফায় দফায় দলীয় কোন্দলের মুখে পড়ে গণফোরাম। পৃথক দুই অংশের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

তার দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গণফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। দলকে সুসংগঠিত করার বিষয়ে ভাবছি। জোট বা যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। দল গুছিয়ে নিয়ে এ বিষয়ে অগ্রসর হবেন বলেও জানান তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল যুক্তফ্রন্ট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটটি ভেঙে যায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয় যুক্তফ্রন্ট। বর্তমানে দুজন সংসদ সদস্য রয়েছে দলটির।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পযবেক্ষণ করছেন জানিয়ে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মাঠ অনেকটা উত্তপ্ত। এই উত্তপ্ত মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে কোনো লাভ আছে? সময়মতো সিদ্ধান্ত নেব। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দলীয়ভাবে যা করণীয়, তা করব। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে না যাওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।


আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান
সায়েম আমীর ফয়সল সামি
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমীর ফয়সল সামি। যার দল ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গী ছিল।

জাকের পার্টির দাবি ফয়সল সামি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ফয়সল সামি ওই উপ-কমিটির সদস্য নন।

আসনটিতে সাজেদা চৌধুরীর দুই ছেলেসহ মোট ১৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট মহাজোটে ছিল জাকের পার্টি। দলটির নেতাদের দাবি আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের এখনও ‘সমঝোতা’ রয়েছে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনটি প্রথমে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় বাদ যায় জাকের পার্টির প্রধান। সেখানে প্রার্থী করা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ সাজেদা চৌধুরীকে।

জানতে চাইলে জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম হায়দার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সায়েম আমীর ফয়সল সামি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য। আমরা তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আছিই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দলের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।’

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক শাম্মী আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, “সায়েম আমীর ফয়সল সামি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য নন। তিনি আমাদের সাথে কাজ করতে চান।”

ফয়সল সামির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নু, সাজেদা চৌধুরীর বড় ও নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছেলে আয়মন আকবর, ছোট ছেলে শাহাদাব আকবর, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান জুয়েল, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মেজর (অব.) আতমা হালিম, সাব্বির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চর যশোহরদী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ মিয়া, জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক আবদুস সোবহান, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এয়ার কমোডর (অব.) কাজী দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, লায়েকুজ্জামান, নগরকান্দার কালাচাঁদ চক্রবর্তী।

গত ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ১৩ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে: ওবায়দুল কাদের

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ব্যাপারে সতর্ক  থাকতে হবে: ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আগামী ১৪ মাস পরে নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অশুভ চক্র সক্রিয় আছে। যারা হিন্দুদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভারত সরকারকে জানিয়ে দিতে চায়, এ কাজটা আওয়ামী লীগ করেছে। আওয়ামী লীগের হাতে মাইনরিটি নিরাপদ নয়, এই মেসেজটা দিতে চায়। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আজ রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার সরকার একাধারে ১৩ বছর ক্ষমতার মঞ্চে আসীন আছে। এই ১৩ বছরে মাত্র একবার দুর্গাপূজা টার্গেট হয়েছে। সনাতন ধর্মালম্বীদের বাড়িঘর টার্গেট হয়েছে। মন্দির টার্গেট হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি দোকানপাটে পর্যন্ত হামলা হয়েছে।

গতবারের দুর্গাপূজায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ১১ বছর যখন শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তাতে এবারও শান্তিপূর্ণ হবে; এ রকম চিন্তা-ভাবনা থেকে সতর্কতার কিছুটা অভাব ছিল। কোথাও কোথাও রাজনৈতিকভাবে আমরা অসতর্ক ছিলাম, এ কথা সত্য। চৌমুহনীতে ছিল ভয়াবহ অবস্থা। একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানায়।

তিনি নির্বাচনের প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভোটে হিন্দুদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইতে যান। নিজেদের বিপদ মনে করে ভোট প্রার্থী হন। কিন্তু হিন্দুরা যখন বিপদে পড়ে, তখন কোথায় থাকেন? আমি সে কথা এবারও বলছি।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সারা বাংলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রস্তুত আছে। তারা সতর্ক পাহারা আছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবার অনেক শক্তিশালী অবস্থানে। তাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সক্রিয় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজাটা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মণ্ডপ পরিদর্শনে এসেছি। কিছু কথা বলছি, এ কারণে হিন্দু ভাইবোনেরা ভয় পাবেন না। আতঙ্কিত হবেন না। এবার আমরা প্রস্তুত। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের সব অপরাধীর বিচার শেখ হাসিনা করেছেন। এমনকি নিজের দলের লোকেরাও রেহাই পায়নি। যারা হিন্দুদের বাড়িঘরে, মণ্ডপে হামলা করে, যে পরিচয়ই হোক, এই দুর্বৃত্তদের ক্ষমা নেই।

বিরোধী দলের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান, শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম-কর্ম করতে দিন। সংলাপ করছেন করুন। এটা আপনাদের নিজেদের ব্যাপার। কিন্তু আমি বলব দুর্গোৎসব দশমী পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আপনাদেরও ভূমিকা আছে। আপনারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। রাজনীতিও করবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।


সাজেদা চৌধুরীর আসনে দুই ছেলেসহ মনোনয়ন চান ১৭ জন

সাজেদা চৌধুরীর আসনে দুই ছেলেসহ মনোনয়ন চান ১৭ জন
আয়মন আকবর ও শাহদাব আকবর। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর ২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৭ জন। সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর ও আয়মন আকবর মায়ের আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবিদার হয়েছেন।

এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও আছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নু, জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমীর ফয়সল সামি, মো. জামাল হোসেন মিয়া, বিপুল ঘোষ, ছাব্বির হোসেন, আবদুস সোবহান, এ টি এম এ হালিম, মো. সাইফুজ্জামান চৌধুরী জুয়েল, মো. মনিরুজ্জামান সরদার, কালাচাঁদ চক্রবর্তী, কাজী দেলোয়ার হোসেন, এবিএম শফিউল আলম, মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, মো. ইউসুফ ও মো. লায়েকুজ্জামান মোল্যা।


বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই গণফোরামের

বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই গণফোরামের
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের হাত ধরে রাজনৈতিক দল গণফোরামের যাত্রা শুরু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিল দলটি। তবে এবার বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো পরিকল্পনা গণফোরামের নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান।

গতকাল শুক্রবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মিজানুর রহমান। কথপোকথনে উঠে এসেছে দলের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের বিষয়গুলোও।

প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের চাওয়াটা কী? আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে জোট করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: বিএনপির সঙ্গে জোট করার এই মূহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। রাজনৈতিকভাবে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চাহিদা এবং জনগণের চাহিদা ও যে সংকট আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠেও আছি এবং অবস্থা অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে আপনার দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেই নির্বাচন করেছে। এবার দেখা গেল এখন পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে বিএনপি সংলাপ করলেও আপনার সঙ্গে করেনি। কারণ কী বলে মনে করেন?

ডা. মিজানুর রহমান: গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কারণে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আর ছিল না। এখন নতুন করে আর কোনো মেরুকরণ আমাদের দল থেকে হয়নি। আর বিএনপি আমাদের ডাকল কি ডাকল না সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি নির্ভর করে না। আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে আমরা, দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যে আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী করব?

প্রশ্ন: গত নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া নিয়ে দলে মতপার্থক্য হয়েছে। তাহলে ড. কামাল হোসেন কেন ওই নির্বাচনে গিয়েছিলেন?

ডা. মিজানুর রহমান: তখনকার প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্ট করা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ছিল একটা সময়ের দাবি। সেটা তো একটি নির্বাচনী জোট হয়েছিল। স্থায়ী কোনো জোট ছিল না। নির্বাচনের পর সেই জোটের অবস্থানটাও শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের অধীনে আপনার দল নির্বাচনে যাবে কি?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা আসলে সরকারের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কতটুকু অবস্থান নেবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হবে– তার ওপর নির্ভর করে। তারপরও নির্বাচন কমিশনের যেসব কথাবার্তা আমরা দেখছি, এটাকে আমরা খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি না। যেমন- ইভিএম নিয়ে তাদের বক্তব্য দেশের মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের আগে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রশ্ন: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে গণফোরাম কি ভেঙে গেছে? আপনাদের তো বহিষ্কার করেছেন মোস্তফা মহসীন মন্টুরা?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের নামে তারা যে কমিটি করেছিল, সে কমিটিতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। তারা যে কমিটি ডিক্লেয়ার করেছে, তার সঙ্গে আমার এবং আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- কমিটি ঘোষণা করে যে মিটিংগুলো করেছে, কোনোটাতেই আমার সম্পৃক্ততা কখনো ছিল না। ফলে তারা নিজেরা কারও নাম ব্যবহার করা এবং তাদের বহিষ্কার করা– এটা তাদের নিজস্ব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আমার এবং আমার দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যেহেতু কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, সে হিসেবে তাদের এ বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে গণফোরাম জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হতে পারেনি। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিটা হয়ে গেছে কালোটাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর। নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি তো এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আমরা শুরু থেকে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে গণফোরাম কখনো বিচ্যুত হয়নি। আমরা একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা দলের শুরু থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আছি।


ভোটে টানতে ২৯ দলে নজর আ.লীগের

ভোটে টানতে ২৯ দলে নজর আ.লীগের
আওয়ামী লীগের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
  • সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন

আমানউল্লাহ আমান

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আয়োজিত সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলোকে ঘিরেই প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের ছক কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯ দলের মধ্যে বিএনপিসহ ৯টি দল সংলাপে অংশ নেয়নি। প্রাথমিকভাবে এই ৯টি দলকে ছকের বাইরে রাখলেও তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলে ধারণা ক্ষমতাসীন দলের।

তার পরও নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ না নেয়া দলগুলোকে ছকের বাইরে রেখে বাকি ২৯টি দলকে মাথায় রেখে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে দেশের মানুষের কাছে রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতরাও যাতে নির্বাচনে অংশ নেন সে বিষয়েও নজর আছে দলটির।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলো নির্বাচনমুখী বলে মনে করছি। বিএনপিসহ ৯টি দল সংলাপে অংশ নেয়নি। যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছে তারা নির্বাচনেও অংশ নেবে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। ইভিএম ও কিছু কিছু বিষয়ে তাদের আপত্তি থাকলেও তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।’

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ আওয়ামী লীগের বিরোধী দলগুলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়নি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দল ও জোট। যুক্তফ্রন্ট নাম নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র মনে করছে, সে ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও আওয়ামী লীগের হাতে খেলার জন্য বি. চৌধুরী, তার নেতৃত্বাধীন দল ও জোট হতে পারে তাদের জন্য তুরুপের তাস।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব আবদুল মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের এখনো ১ বছর আছে। আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে। আমরা চাই একটা সুষ্ঠু ভোট হোক। মানুষ তার ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে। নির্বাচন কমিশন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য অনেক অগ্রসর হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন করা উচিত। নির্বাচন না করলে রাজনৈতিক ব্যবস্থা শূন্যতায় পড়ে যাবে। তখন গণতন্ত্র অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইভিএমটা আমরা সমর্থন করব না। ইভিএমের ওপর আমাদের আস্থা নেই। ইভিএমের ওপর একটা সন্দেহ থাকে, সেটা আমরা রাখতে চাই না।’

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে নির্বাচন বয়কট করার কারণেই কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছিল। এখন যদি এই সরকার, সেই সরকার এগুলো বলে নির্বাচন বয়কট করা হয় তা হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নতির জায়গায় অবনতি হবে। ওইটা সঠিক পদক্ষেপ হবে না। যেভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে সেই পন্থায় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। সবাইকে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, গত নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছিল বিএনপি। ওই জোট নির্বাচনে অংশ নেয়ায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার রাজনৈতিক সুযোগ নেই। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে দলটি। তাই আন্দোলনের নাম নিয়ে যতই রাজপথ গরম রাখার চেষ্টা করুক বিএনপির শেষ গন্তব্য নির্বাচন। দল ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বাঁচাতেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।

দল বাঁচাতে বিএনপি নির্বাচনে আসবে মন্তব্য করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টিসহ কিছু ইসলামি দল নির্বাচনে আসবে। বিএনপি না এলেও দেশের মানুষ রাজনীতিবিদ হিসেবে যাদের চেনেন তারা যদি নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না। আর তারা এলে তো নির্বাচন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ থেকে ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন হবে না বলে বিরোধীদের আশ্বস্ত করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো পুরোপুরি তৎপরতা শুরু হয়নি। রাজনৈতিক মাঠ পর্যবেক্ষণ করে একটি ছক প্রাথমিকভাবে দলীয় চিন্তায় আছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গী ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের ধরে রেখে রাজনীতির মাঠে নতুন মিত্রদের সঙ্গে হতে পারে সখ্য ও সমঝোতা। জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ স্বাভাবিকই আছে। জোটের বাইরে যেসব দল নির্বাচনে সঙ্গী হতে পারে তাদের সঙ্গেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে সম্প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন জোট শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। জাতীয় প্রেসক্লাবে দলটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে প্রধানমন্ত্রী ঘুরে এলেন, কিন্তু মূল সমস্যাগুলোর কোনো আশাবাদী সমাধান দেখছি না।’

অন্যদিকে ১৪ দলকে সক্রিয়, দৃশ্যমান ও সম্প্রসারণ করার দাবি তুলে জোটের অপর শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত-তালেবানি শক্তির পুনরুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য যে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে, অস্বাভাবিক-অসাংবিধানিক সরকার আনার যে অপচেষ্টা চলছে, তা প্রতিহত করতে হলে আওয়ামী লীগকে একলা চলো নীতি পরিহার করতে হবে। ১৪ দলকে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত সক্রিয়, দৃশ্যমান ও অপরাপর অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল শক্তিকে ১৪ দলের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। 

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক নেতারা মাঝেমধ্যে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দিলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে যাবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের ভাষ্য মতে, সরকারের সুযোগ-সুবিধার ভাগবাঁটোয়ারার পাশাপাশি রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য জোটের শরিক নেতারা মাঝেমধ্যেই সরকারের সমালোচনা করছেন। এটা অনেকটা অভিমানও বলা যেতে পারে।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, রাজনীতির মাঠে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটের পরিধি বৃদ্ধি বা সমঝোতার দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড প্রকাশ না পেলেও অন্তরালে এ সব কাজ চলছে। নির্বাচনে অংশ নিতে পারে এমন দলগুলোর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহল, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর আলাদাভাবে যোগাযোগ আছে। যদিও সংলাপে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থার কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগকে একলা ফেলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দিকে ওই সব রাজনৈতিক দল যাবে না বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশ নিতে ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠিত ওই সংলাপ বর্জন করে বিএনপিসহ ৯টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয় সংলাপে। পরে সংলাপে অংশ নেয়ার জন্য সময় চেয়ে ইসিকে চিঠি দেয় দুটি রাজনৈতিক দল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সংলাপে অংশ নেয়নি।