বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, ১৬ জন বহিষ্কার

ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,

রাজধানীর ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। দুই পক্ষের হামলা-পাল্টাহামলার জেরে কমিটি স্থগিত করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়া সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে ১৬ জনকে।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার মধ্যরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া নেত্রীদের মধ্যে ১০ জন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আর চারজন কর্মী।

তারা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অপরাধে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আর এটির প্রাথমিক প্রমাণও পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলো।

স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীরা হলেন ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এস এম মিলি ও সাদিয়া জাহান সাথী। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখি এবং কর্মী রাফিয়া নীলা, নোশিন শার্মিলী, জান্নাতুল লিমা ও সূচনা আক্তার।

কীসের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হলো- এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত কমিটি করেছিলাম, তারা তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। তাই আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি বডি মিলে এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলবে বলে জানান লেখক ভট্টাচার্য।

শনিবার রাতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের এক সহসভাপতিকে মারধর করেন কলেজ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এর প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৪৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ২৫ জন। সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ।

১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে: মায়া

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে চাঁদপুর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ওসমান গনি পাটওয়ারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৫:৫৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাজপথে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

তিনি বলেন, আমরা ১০ ডিসেম্বর পাড়া মহল্লায় পাহারা দেব। কারণ, বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভ্যাস খারাপ। তাদের হাত দুটো পকেটে থাকে না, বাইরে থাকে। তারা কোন জায়গায় কোন আকাম করে বসে, কোন জায়গায় মানুষের দোকানপাটে হাত দেয়, সেজন্য আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ১০ তারিখ সারা দিন আমরা রাজপথে থাকব, মানুষের পাশে থাকব, জনগণের পাশে থাকব। জনগণের জান-মাল রক্ষার্থে তাদের পাশে থাকব। এতে কোনো অপরাধ নেই।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ওসমান গনি পাটওয়ারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপিকে সমাবেশ করতে হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই যেতে হবে। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। রাস্তাঘাটে মিটিং করে মানুষের জান-মালের ক্ষতি করলে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে, আমরা হাতে চুড়ি পরে বসে থাকব না।

মায়া বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ প্রায় ৫০ বছর। এর মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল মাত্র সাড়ে ২২ বছর। বাকি ২৮-২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। এরা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। এই ২৯ বছর অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে, জেলে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের রক্তে ভেজা পতাকা নিচে নামিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের গাড়িতে, বাড়িতে তারা বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছে। এখন যত সন্ত্রাসী আছে, তাদের হাতে বাঁশের মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব সরকারকে রক্ষা করা। সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা। সরকারের ওপর যদি কোনো আঘাত আসে, তাহলে কর্মীদের সবার আগে রাস্তায় নামতে হবে সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য।

এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের দলের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। আরও বলেছে, তারেক রহমান শিশু মুক্তিযোদ্ধা। এত বড় রাজনৈতিক দলের নেতা এভাবে যদি ইতিহাস বিকৃত করে, তাহলে এ দেশের অবস্থা কী হবে? তাদের হাতে যদি ক্ষমতা যায়, তারা কী করবে বলতে পারেন? এটা বাঁদরের হাতে খুন্তি দেয়া না? এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে, ইতিহাস রক্ষা করতে হবে।

ইতিহাস রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি ইতিহাস বিকৃত করে, তাহলে সে যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে। তাই আপনারা সজাগ থাকবেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পবিত্র দায়িত্ব দেশ রক্ষা করা, মানুষের জান-মাল রক্ষা করা।

ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মো. জাহাঙ্গীল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের উপদেষ্টা মো. মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী বীর প্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মো. তাহের হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।


নয়াপল্টনের বিকল্প প্রস্তাব আ.লীগকে দিতে হবে: বিএনপি

নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য বিকল্প জায়গার প্রস্তাব না দিলে নয়পল্টনেই বিএনপি সমাবেশ করবে।

দলটি বলছে, নয়াপল্টনে শনিবারের সমাবেশ করার অনুমতি না দিলে বিকল্প ও গ্রহণযোগ্য জায়গার প্রস্তাব আওয়ামী লীগ বা সরকারকে দিতে হবে।

বুধবার দলটির এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়েছে।

রাজধানীতে সমাবেশ করার মতো ফাঁকা জায়গাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারই বন্ধ করেছে জানিয়ে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো বন্ধ করতে চায়।

নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যদি সরকার মনে করে আমাদের (সমাবেশ) করতে দেবে না, আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি, আমাদের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। এটা কোনো রকম লগি-বৈঠার মিটিং নয়, এটা কোনো মানুষ হত্যার মিটিং নয়, এটা কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মিটিং নয়। এটা হলো একটা শান্তিপূর্ণ মিটিং, জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে, জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, জনগণের পেটে ভাতের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই সমাবেশ।’

‘বাধার সৃষ্টি করলে যদি কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে সরকার দায়ী থাকবে, এ কথা আমরা পরিষ্কার বলে দিতে চাই।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি বিভাগীয় শহরগুলোতে করেছে। তার ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে সমাবেশ ডাকা হয়েছে। বিএনপি নয়াপল্টনে ওই সমাবেশ করতে চায়, কিন্তু সড়কে সমাবেশ করতে দিতে নারাজ সরকার। পুলিশ অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, তবে সেখানে যেতে চায় না বিএনপি। তারা নয়াপল্টনের বিকল্প হিসেবে আরামবাগ চাইলেও সেটিও একরকম নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির এই সমাবেশ নিয়ে এখন রাজনীতির ময়দানে তুমুল আলোচনা চলছে।

সমাবেশের তিন দিন বাকি থাকতে বিএনপি যে প্রচার চালাচ্ছে, সেই লিফলেটে সমাবেশস্থলের নামও উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, বিকল্প প্রস্তাব আওয়ামী লীগকেই দিতে হবে। গ্রহণযোগ্য এবং বিকল্প প্রস্তাব আওয়ামী লীগ অথবা সরকারকেই দিতে হবে। অথবা আমাদের প্রস্তাবকে মেনে নিতে হবে, আমরা সভা করব। আমাদের কার্যক্রম চলছে, আমাদের কার্যক্রম চলবে, এটা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। ঢাকায় সমাবেশ আমরা করব।’

সরকার যদি বিকল্প আর কোনো প্রস্তাব না দেয় তাহলে কী হবে, জানতে চাইলে আব্বাস বলেন, ‘যদি গ্রহণযোগ্য পছন্দনীয় জায়গা বের না করে তাহলে পল্টনই আমাদের পছন্দের জায়গা। পল্টনেই হবে সমাবেশ।’

পুলিশ বাধা দিলে কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, আমাদের কাজ আমরা করব। তবে পুলিশ যেন দলীয় না হয়ে যায়, পুলিশ যেন কোনো দলের হাতিয়ার না হয়ে যায়। তাদেরকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তাদেরকে মনে রাখতে হবে তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের চাকরি করেন, আওয়ামী লীগের চাকরি তারা করে না।’

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে নয়াপল্টনে বোমাবাজির আশঙ্কা নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেন আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় এসেছে, বিএনপি-জামায়াত বোমাবাজি করবে। গত তিন মাস ধরে সভা করছি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছি, কোনো ঝামেলা হয়নি, এখন আমরা বোমাবাজি করব? আমরা বলতে চাই, যদি কোনো ধরনের ঘটনা ঘটে, এর জন্য সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগ দায়ী হবে। এটা আওয়ামী লীগ করছে। বোমাবাজির ঘটনা সৃষ্টি করছে, জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখনও তারা সভা-সমাবেশ নষ্ট করার জন্য একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। গণসমাবেশ ঘিরে একটি রিকশার টায়ার বার্স্ট হলেও দায় সরকারের।’

মির্জা আব্বাস বলেন, পুলিশ যদি বলে কোনো দল সড়কে সমাবেশ করতে পারবে না, তাহলে তারা মেনে নেবেন। তবে আপাতত তাদের সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশ করলে সরকারের বক্তব্য হলো এটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। ছাত্রলীগের লোকেরা যখন মিটিং করে, তখন পুলিশ বলে দিচ্ছে এই রাস্তা থেকে এই রাস্তা, এই রাস্তা থেকে এই রাস্তা বন্ধ থাকবে। সেখানে কোনো রকম ঝামেলা হয় না। আমরাও এরকম চাই। আমরা যখন নয়াপল্টনে মিটিং করব, তখন পুলিশ দয়া করে কিছু রাস্তা, যেখান দিয়ে পাবলিক চলাচল করতে পারবে সেটা বলে দিক। বলে দিক, আপনারা এই রাস্তায় চলাচল করবেন, এই রাস্তা বন্ধ থাকবে। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।

‘কিন্তু তারা সেটা না করে বিএনপির বেলায় করে এক রকম, আওয়ামী লীগের বেলায় করে আরেক রকম। ছাত্রলীগের বেলায় করে এক রকম, ছাত্রদলের বেলায় করে আরেক রকম। এমন তো হতে দেয়া যায় না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এমন যদি করা হয় যে, কেউ রাস্তায় মিটিং করতে পারবে না, আমরা একশ ভাগ মেনে নেব। তবে সেই নিয়ম সবার জন্য হতে হবে। আপাতত আমরা আমাদের সমাবেশের জন্য যে আবেদন করেছি, সে আবেদনের স্থানটা ঠিক আছে। আমরা সেখানেই সমাবেশ করব।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের আলোচনার বিষয়ে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অনেক নতুন নতুন কর্মকর্তা হয়েছে তো, ঢাকায় কোথায় কোথায় মাঠ আছে, কোথায় কোথায় মাঠ ছিল, এটা তারা জানে না। কোথায় কোথায় সভা করতে হবে, এটা তারা জানে না। আমাদের এমন এমন সব জায়গার কথা বলছে, যেখানে এক সময় মাঠ ছিল, এখন নাই।’

‘উত্তরার কথা বলে, ওখানে তো মাঠই নেই এখন, মার্কেট হয়ে গেছে। ফুলবাড়ীয়াতে মাঠ ছিল, আমরা সেখানে মিটিং করেছি, এখন তো মাঠ নেই, মার্কেট হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগই তো করেছে, আমরা তো করি নাই।’

আব্বাস বলেন, ‘জনসভা করার, কথা বলার যে অধিকারগুলো আছে, আছে সেটাকে বন্ধ করে দেয়ার জন্য সকল মাঠ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক পল্টন ময়দান, মুক্তাঙ্গন... ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে আমি ভাসানীর সভা দেখেছি, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সভা দেখেছি। এখানে আমাদের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সভা দেখেছি, বহু সভা দেখেছি ছোটবেলা থেকে। বাবার সঙ্গে গিয়েছি মিটিংগুলোতে। এখন সেখানে সভা করার জায়গা নাই, আউটার স্টেডিয়াম করে ফেলেছেন।’

বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে পুলিশ দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ তুলে আব্বাস বলেন, ‘পুলিশের ভয়ে আতঙ্কে আমাদের কর্মীরা বাসায় ঘুমাতে পারছে না।’

‘তারা সরকারের পেটোয়া বাহিনী, প্রাতিষ্ঠানিক বাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে, তারা বাসায় থাকতে পারছে না, পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্যসচিব আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এস এ মালেক: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ফরিদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ডা. এসএ মালেকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার এক শোক বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ডা. এস এ মালেক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন। মরহুম মালেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন ও ৬-দফা আন্দোলনসহ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, মরহুম মালেক মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে মারা যান এস এ মালেক


আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এস এ মালেক আর নেই

ডা. এস এ মালেক।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এস এ মালেক আর নেই।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বাসস জানিয়েছে, এস এ মালেকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা আনন্দ কুমার সেন।

তিনি জানান, এস এ মালেক দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বুধবার জোহরের নামাজের পর কলাবাগান মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর পর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এস এ মালেক ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ফরিদপুর-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।

স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে রেখে গেছেন এস এ মালেক।

বিষয়:

সমাধান খুঁজছে সরকার, অনড় বিএনপি

বিএনপির দলীয় লোগো।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ কোথায় হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। বিএনপি যেখানে সমাবেশ করতে চায়, সরকার সেখানে করতে দিতে চায় না। অন্যদিকে সরকার সমাবেশের জন্য যে স্থান বরাদ্দ দিয়েছে, সেখানে বিএনপি সমাবেশ করতে চায় না।

সমাবেশ করার জন্য বিএনপির হাতে আছে আর তিন দিন। ঢাকায় সমাবেশ সফল করতে দলটি যে লিফলেট বিতরণ করছে, সেখানে সমাবেশ বেলা দেড়টায় উল্লেখ করা হলেও কোথায় হবে সেটা বলা হয়নি। তবে বিএনপি বলছে, শত বাধা উপেক্ষা করে ঢাকায় গণসমাবেশ হবে। গত ৫ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সমাবেশ করতে হবে। সেখানেই ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই রাস্তায় সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।

এই পরিস্থিতির মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একটা সমাধান হয়ে যাবে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এক সেমিনারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে। এ নিয়ে মনে কেউ দ্বিধা রাখবেন না। ১০ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে। সেই কর্মসূচি নিয়ে জনগণ মাঠে নেমে পড়বেন। বিজয়ের পর আন্দোলনকারী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।’

বিএনপি সমাবেশের জন্য নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের স্থানকে বেছে নিয়েছিল। পরে বিকল্প হিসেবে আরামবাগ খেলার মাঠের কথা বলেছে। অন্যদিকে সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দিয়ে রেখেছে। এখানে করতে না চাইলে তুরাগে ইজতেমা মাঠ বা পূর্বাচল বাণিজ্য মেলার মাঠে বিএনপিকে সমাবেশ করার কথা বলছে।

বিএনপির অনড় অবস্থানের মধ্যে সরকার মনে করছে সমাবেশের স্থান নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছ, সেটার সমাধান হয়ে যাবে। সচিবালয়ে গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠকের পর সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘(সমঝোতা) হয়ে যাবে। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে মেঘ, ঘন মেঘ ঘনীভূত হয়, আবার চট করে চলে যায়।’ সরকার বিএনপিকে আরামবাগে সমাবেশ করার অনুমতি দেবে কি না, এ প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘যেটাই হোক, একটা সমাধান হবে। জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, আমরা সরকারে আছি, আমরা কেন দেশের অশান্তি চাইব? আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এমন কাজ আমরা করব? দরকার তো নেই।’

নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে না দেয়ার ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর বিএনপি মতিঝিলের কাছে আরামবাগ মাঠকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে সেখানে সমাবেশ করতে দেয়ার ব্যাপারে সরকার বা পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি।

গত শনিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যৌথভাবে নতুন ভেন্যু খোঁজার কথা বলেছিল। বিএনপি বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিসি মতিঝিল ও বিএনপি নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তারা ঢাকার কয়েকটি স্পট ভিজিট করেছিলেন। বিএনপি আরামবাগ মাঠকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ডিসি মতিঝিলের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিএনপির প্রস্তাবটি কমিশনারের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে এখনো বিকল্প ভেন্যুর কথা চিন্তা করা হয়নি। তিনি বলেন, রাস্তা বাদ দিয়ে বিএনপি যদি উন্মুক্ত মাঠ খোঁজে, তাহলে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মাঠ অথবা পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠেও সমাবেশ করতে পারে। সেখানে গেলে ডিএমপির পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদও বলেছেন, ‌‌‌‌‘ভেন্যু পাল্টালে সেখানেও জমায়েত সড়কেই হবে। আবার সেই এলাকাটি (আরামবাগ) আরও বেশি সংবেদনশীল। কারণ এর আশপাশেই দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের অবস্থান। মতিঝিল ঢাকার ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি। এটা কেন তাদের এত পছন্দ? যেখানে অনেক ব্যাংক, বিমা আছে, অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আছে। এটা কেন তাদের এত পছন্দ। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে।’

অবশ্য বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাইনি। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনিরাপদ। সেখানে আমরা কোনো প্রোগ্রাম করব না।’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন পার্কে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে এ্যানী বলেন, ‘সেখানে অনেক ষড়যন্ত্র লুক্কায়িত রয়েছে। সেগুলো আমরা জানি ও বুঝি। সেটা নিরাপদ নয়। যে কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বেছে নিইনি।’


সমাবেশ হবেই কোনো দ্বিধা নেই: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সমাবেশস্থল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ হবেই বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন সমাবশে নিয়ে কোনো ‘দ্বিধা’ নেই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল লেক শোরে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘ভায়োলেন্স অ্যান্ড পলিটিক্স অব ব্লেমিং’ বিষয়ে এই গোলটেবিলের আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের মানুষ জেগে উঠেছে, এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। সরকার নার্ভাস হয়ে পড়েছে। এ কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে যাতে আমরা সমাবেশ করতে না পারি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে। এ নিয়ে মনে কেউ দ্বিধা রাখবেন না। ১০ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে। সেই কর্মসূচি নিয়ে জনগণ মাঠে নেমে পড়বেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমাদের জয় হবেই। বিজয়ের পর আন্দোলনকারী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন হবে।’

সরকার সচেতনতার সঙ্গে বিদেশে টাকা পাচার করেছে অভিযোগ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘ব্যাংক লুটপাট করে ছারখার করে দিয়েছে। দেউলিয়ার পথে দেশ। যে জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিল মুক্তির জন্য, আজ সেই জাতির কী করুণ পরিণতি!’

বৈঠকে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনের প্রতিনিধি, নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন সিলজে ফাইন ওয়াননিবো, অস্ট্রেলিয়া সেকেন্ড সেক্রেটারি ডানকান কুলোচ এবং ইরাকের প্রতিনিধি অংশ নেন।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবশে করছে বিএনপি। ঢাকায় এই সমাবশে হবে ১০ ডিসেম্বর।

বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। ২০ নভেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে। তবে পুলিশ তাদেরকে অনুমতি দিয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। তবে তাতে রাজি নয় দলটি।

এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে পুলিশের কাছে আরামবাগ বরাদ্দ চেয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে ডিএমপির পক্ষ বলা হয়েছে রাস্তায় কোনোভাবেই সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আশা করছেন বিএনপি শেষ পর্যন্ত সমাবেশস্থল নিয়ে সমঝোতায় আসবে।

সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার চাপার উপর ১৩ বছর ক্ষমতায় টিকে আছে। আমরা যে দাবি নিয়ে সমাবেশ করছি সেটা জনগণের দাবি। এ কারণে সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীর যে সাধারণ জনগণের উপস্থিতি বেশি।’

ভোট চোরদের জনগণ পছন্দ করে না বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভোট চোর হিসাবে আওয়ামী লীগকে বোঝায় এটি সাধারণ জনগণও জানে। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ভোট চোরকে ভোট দিয়েন না। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েন না। এখন আমাদের চূড়ান্তভাবে নাড়া দিতে হবে। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘৯টি বিভাগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে বিএনপি। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়েছে সেটা দেখাতে পারবেন না। সরকার নার্ভাস হয়ে পড়েছে। সে কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে যাতে আমরা সমাবেশ করতে না পারি।’

আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিএনপির শরিক দলগুলোর মধ্যে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপ (ভাসানী) চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপাস পার্টি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমও এতে অংশ নেন।

এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের আবদুল্লাহ আবু সাইয়িদ ও সুব্রত চৌধুরী, জাগপা চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমানও এতে অংশ নেন।


বিএন‌পির সমা‌বেশস্থলের সমাধান হ‌বে: ওবায়দুল কা‌দের

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশস্থল নিয়ে যে ‘সংকট’ তৈরি হয়েছে শিগগিরই তার সমাধান আসবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

স‌চিবাল‌য়ে মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স‌ঙ্গে বৈঠ‌কের পর তি‌নি সাংবা‌দিক‌দের এ কথা বলেন।

বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ না করলে তাদেরকে কোথায় সমাবেশের অনুম‌তি দেয়া হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ক‌রে কিছু বলেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

সমা‌বেশস্থল নি‌য়ে এক প্র‌শ্নে কা‌দের ব‌লেন, ‘(সমাধান) হয়ে যাবে। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে মেঘ ঘনীভূত হয় আবার চট করে চলে যায়।’

বিএনপির সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ না করলে সরকার ছাড় দে‌বে কি না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেটাই হোক এটার সমাধান হবে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিএনপির ধারাবাহিক যে সমাবেশ হচ্ছে, তা শেষ হবে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশের মধ্য দিয়ে।

এই সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিএনপি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। ২০ নভেম্বর বিএনপি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে। তবে পুলিশ বলেছে, বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে হবে।

এদিকে বিএনপির নেতারা নয়াপল্টনের বদলে আরামবাগেও সমাবেশ করতে চায় বলে মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছ।


‘গণগ্রেপ্তার’র নিন্দা গণফোরাম-গণসংহতির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে বিরোধীমতের সভা-সমাবেশ কেন্দ্র করে সরকার ‘গণগ্রেপ্তার’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে গণফোরাম ও গণসংহতি আন্দোলন। মঙ্গলবার আলাদা বিবৃতিতে দুই সংগঠনের নেতারা গ্রেপ্তারদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বিবৃতিতে বলেন, বিগত দুইদিন জনতার ওপর নিপীড়নের এই গণগ্রেপ্তারে গণফোরাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জজ মিয়া ও লালবাগ থানার আহ্বায়ক বাবুল হোসেনসহ পাঁচজন কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা শক্তি সবসময়ই জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে ভয় পেয়ে নিপীড়ন-নির্যাতন, হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। অবিলম্বে বিরোধীমতের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা ও মিথ্যা মামলা বন্ধ না করলে গণআন্দোলন গড়ে তুলে জনতার আদালতে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিচার হবে।

অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ও আন্দোলন ঠেকাতে সরকারের নানা অপকৌশল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।


ছাত্রলীগকে গুজবের জবাব দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে এর জবাব ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘জবাব দেয়া বেশি কিছু না। তারা যেটা লিখবে, সেখানে তারা অতীতে কী করেছে, সেটা লিখে দিলেই হয়। এরপর আর তারা অপপ্রচার করবে না। এটা ছাত্রলীগ ভালোভাবেই করতে পারবে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। আজকে সকালেও একটার উদ্বোধন করলাম। জাপান, চীন, ভারত, সৌদি আরব ও সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। যারাই বিনিয়োগ করতে চায়, তাদের জায়গা ও নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘একটা শ্রেণি গুজব ছড়াচ্ছে। তারই ফলশ্রুতিতে (কিছু লোক) ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এটা চোরের সঙ্গে সখ্য কি না জানি না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিটি ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা আছে। অতএব গুজবে কান দেবেন না।’

এসময় খাদ্য ও বিদুৎ জ্বালানি ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকেই মেধাবী। পড়াশোনা করে বিসিএসসহ সব পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশ নিয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হবে। শুধু রাজনীতি নয়, পাশাপাশি সব জায়গায় নিজেদের অবস্থান রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে কোনো মুহূর্তে অক্কা নিতে পারি। সেভাবে জনমত সৃষ্টি করতে হবে- যেন এদেশে আর কখনো খুনি ও স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সম্মেলনের মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানান। ছবি: ফোকাস বাংলা

‘ওরা মনে হয় ভূতের রূপ নিয়েই আসে’
বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি। তারা এদেশের উন্নয়ন কখনোই দেখবে না। মানুষ সামনের দিকে এগোয়, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পেছনে যায়, ভূতের মত। ওরা মনে হয়- ভূতের রূপ নিয়েই আসে আমাদের দেশে।’

ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ সব সময় মানুষের পাশে থাকে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। কোভিড ১৯; যখন বাবা-মা ভাই-বোন করোনায় মৃত্যুবরণ করলে লাশ ফেলে চলে যায় বা আক্রান্ত হলে ছেড়ে চলে যায়- তখন তাদের পাশে ছিল ছাত্রলীগ। তাদের চিকিৎসা দেয়া, খাদ্যের ব্যবস্থা করার কাজটি করেছে ছাত্রলীগের নেতারা।’

‘সিলেটে বন্যার দুঃসময়েও মানুষের পাশে ছিল এই ছাত্রলীগ। ওই দুর্গম এলাকায়ও তারা ছুটে গেছে, মানুষের পাশে থেকেছে। কৃষকের ধান কাটায়ও অগ্রবর্তী ছিল ছাত্রলীগ। সবার আগে তারা কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। পরে কৃষক লীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অনেকেই মাঠে নেমেছে। তবে ছাত্রলীগই আগে নেমেছে। সব সময় ছাত্রলীগ অগ্রসেনা।’

‘ভোট ‍চুরির কালচার জিয়ার’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের ভোট চুরি করলে মানুষ ছেড়ে দেয় না, এটা খালেদা জিয়ার মনে থাকা উচিত। আমাদের অপবাদ দেয়া হয়- ভোট চুরির। আমরা ভোট চুরি করতে যাবো কেন? জনগণ স্বতঃফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়। ভোটচুরি, ভোট কারচুপির এই কালচার কে দিয়েছে? জিয়াউর রহমান। হ্যাঁ, না ভোট দিয়ে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। ‘না’র ব্যালট পাওয়া যায়নি। সব ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল।’

‘তারা বুদ্ধিজীবী না, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষও জিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কথা বলেছিল। এখনো অনেকে আছেন; খালেদা জিয়া-তারেক জিয়ার সঙ্গে। মানিলন্ডারিং, অস্ত্রকারবারি ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার আসামি তারেক। খালেদা এতিমের টাকার আত্মসাতের মামলার আসামি। এই অপরাধীদের সঙ্গে এখন অনেক জ্ঞানী-গুণীও গণতন্ত্রের কথা বলে। তারা বুদ্ধিজীবী না, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। এরা খালেদা-তারেকের সঙ্গে গিয়ে মিলেছে।’

১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘১৫ আগস্ট আমরা হারিয়েছি আপনজন। বাংলাদেশের হারিয়েছিল তার উন্নয়নের সব সম্ভাবনা। আর খুনিদের দেয়া হয়েছিল মর্যাদা, বানিয়েছিল দেশের প্রতিনিধি। তাদের যোগ্যতা কী; জাতির পিতার খুনি।’

মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ফোকাস বাংলা

বিএনপির কাজই হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা
বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়ার পেটোয়া বাহিনী সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে দেয়। ঢাবিতে রাতের অন্ধকারে ভিসিকে সরিয়ে নতুন আরেকজনকে বসিয়ে দিয়ে ভিসির পদটাও দখল করে নেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকসহ বহু নেতা-কর্মী হত্যা করে। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনে সারা দেশ ছিল নির্যাতিত। শুধু ক্ষমতায় থাকাকালেই নয়, ক্ষমতার বাইরে থেকেও তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কথা সবার জানা। ২০১৩-১৪ সালে প্রায় তিন হাজার মানুষকে দগ্ধ করে তারা। বাস-লঞ্চ-রেল কোনো কিছুই তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাজই হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। এর প্রতিবাদে আমি ছাত্রলীগের হাতে বই-খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম- শিক্ষা শুধু নিজেরাই গ্রহণ করবে না, গ্রামে গিয়ে নিরক্ষর মানুষকে শিক্ষা দেবে। তারা সেটিই করেছি। আমাকে রিপোর্টও দিয়েছে। আমাদের পেটোয়া বাহিনী লাগে না।’

ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে কাদের জানান, সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। সেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আগ্রহীদের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগেই এই শাখার কমিটি ঘোষণা করা হবে।


২৪ ডিসেম্বরের আগে ছাত্রলীগের কমিটি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলনে নেতা-কর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:০৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিও দেয়া হবে।

মঙ্গলবার ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানিয়েছেন।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। সেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের পদে আগ্রহীদের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।

এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনের আগেই এই কমিটি ঘোষণা করবেন।

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় মনোয়নয়নপত্র জমা দিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ৮৪০ জন নেতা।

তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২৫৫ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে ২৪৫ জন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে ৩৪০টি আবেদন জমা পড়েছে।


সমাবেশকে ইস্যু করে বিশৃঙ্খলার চেষ্টায় বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বিএনপির সমাবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপি আগামী ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, প্রকৃতপ‌ক্ষে তারা (বিএনপি) কো‌নো জনসভা কর‌তে চায় না। তারা এটা‌কে ইস্যু বানিয়ে দে‌শে বিশৃঙ্খল প‌রি‌স্থি‌তি তৈরির চেষ্টায় রয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, পু‌লি‌শের স‌ঙ্গে আলাপকা‌লে বিএন‌পি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চে‌য়ে‌ছে। সেখা‌নে তা‌দের জনসভা করার অনুম‌তি দেয়া হ‌য়ে‌ছে। সেখা‌নে জনসভা কর‌তে তা‌দের এত অনীহা কেন? তারা রাস্তায় জনসভা করে ভাঙচুর কর‌তে চায়। এটি কো‌নোভা‌বে দা‌য়িত্বশীল রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের কাজ হ‌তে পা‌রে না।

নয়া পল্ট‌নে সমা‌বে‌শের অনুম‌তি না পেলে ম‌তি‌ঝিল এলাকায় সমা‌বেশ কর‌তে চায় বিএন‌পি— এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী ব‌লেন, ম‌তি‌ঝিল ঢাকা শহ‌রের সব‌চে‌য়ে ব্যস্ততম সড়‌কের এক‌টি। ম‌তি‌ঝি‌লের রাস্তা কেন তা‌দের এত পছন্দ? সেখা‌নে অনেক ব্যাংক-বীমা আছে, অনেক ব্যবসা প্র‌তিষ্ঠান আছে, এটি কেন তা‌দের এত পছন্দ? এর পেছ‌নে এক‌টি গভীর ষড়যন্ত্র ও দূর‌ভিস‌ন্ধি আছে।

‌মন্ত্রী বলেন, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃ‌ষ্টির চেষ্টা কর‌লে আইনশৃঙ্খলা বা‌হিনীর পাশাপা‌শি আওয়ামী ল‌ীগ নেতা-কর্মীরাও তা‌দের প্র‌তিহত কর‌বে।

তি‌নি ব‌লেন, সরকার দে‌শে কাউকে বিশৃঙ্খলা কর‌তে দে‌বে না। আমা‌দের দল ও দ‌লের নেতা-কর্মী‌দেরও কর্তব্য আছে, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃ‌ষ্টির অপ‌চেষ্টা চালা‌লে দ‌লের নেতা-কর্মীরা দে‌শের মানুষ‌কে সঙ্গে নি‌য়ে তা‌দের নি‌য়ে প্র‌তিহত কর‌বে। ১০ ডি‌সেম্বরের সমা‌বেশ নি‌য়ে বিএন‌পি ‘মাতামা‌তি’ ক‌রে বি‌ভিন্ন মহ‌লের দৃ‌ষ্টি আকর্ষ‌ণের চেষ্টা কর‌ছে ব‌লেও দা‌বি ক‌রেন তথ্যমন্ত্রী।


১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

বিএনপির দলীয় লোগো।
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছে দলটির স্থায়ী কমিটি। গত সোমবার রাত সাড়ে আটটায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন মির্জা আব্বাস। এ সময় তারা সমাবেশকে কেন্দ্র করে বেআইনি গ্রেপ্তার, বাড়িঘরে তল্লাশি বন্ধ ও গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানান।

বিষয়:

১৩ বছরে ১৩ মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি, আবার সরকার পতনের ডাক দেন

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৪৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকায় সমাবেশে সরকারের পতনের ডাক দেয়া হবে বলে বিএনপির নেতাদের হুঁশিয়ারির জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৩ বছরে ১৩ মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি, আবার সরকার পতনের ডাক দেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে বক্তৃতাকালে কাদের এ কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে বিএনপি। তারা প্রথমে এই কর্মসূচি নয়াপল্টনে করতে চাইলেও পুলিশ তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি হয়নি। বরং বিকল্প স্থান পেতে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সমাবেশ ঘিরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতারা সরকারকে নানা ধরনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির ডাকে ভুয়া সমাবেশ হয়। বাস্তবে সমাবেশ হয় আওয়ামী লীগের ডাকে। সেটা রূপ নেয় মহাসমাবেশে, এটা হলো বাস্তবতা। বিএনপির ৮টা সমাবেশ এক করলে আওয়ামী লীগের ১টা সমাবেশের সমান হবে না। আওয়ামী লীগের সমাবেশে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের প্রথম যৌবনের প্রেম। ছাত্রলীগ আমাদের বার্ধক্যের নিঃশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মকে নিয়ে ভাবেন, সেজন্য তার টার্গেট ২১০০ সাল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগের কর্মীরা, বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরে সবচেয়ে সাহসী নেতার নাম কী? শেখ হাসিনা। গত ৪৭ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম কী? শেখ হাসিনা। গত ৪৭ বছরে জনপ্রিয় নেতার নাম কী? শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর গত ৪৭ বছরে সফল কূটনীতিকের নাম কী? শেখ হাসিনা।

কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের দুশ্চিন্তায় প্রতিদিন মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমান। তিনি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

বিএনপির হুমকি-ধমকির বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, ১০ ডিসেম্বরের হাঁকডাক! পতন করবেন সরকারের! পতন! ১৩ বছরে ১৩ মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। আগামীকাল থেকে সব পাড়া-মহল্লা, জেলায়, মহানগরে, ইউনিয়নে, থানায়, সব জায়গায় সতর্ক পাহারা থাকবে নেতাকর্মীদের।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক। এরা কারা? বাংলাদেশ নালিশ পার্টি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ‘বড় ভাইদের মেনটেইন’ প্রথা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান কাদের।


banner close