শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

বিএনপির সঙ্গে জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই গণফোরামের

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক,
প্রকাশিত
প্রতিবেদক,

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের হাত ধরে রাজনৈতিক দল গণফোরামের যাত্রা শুরু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিল দলটি। তবে এবার বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো পরিকল্পনা গণফোরামের নেই বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান।

গতকাল শুক্রবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মিজানুর রহমান। কথপোকথনে উঠে এসেছে দলের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের বিষয়গুলোও।

প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার দলের চাওয়াটা কী? আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে জোট করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: বিএনপির সঙ্গে জোট করার এই মূহূর্তে আমাদের সিদ্ধান্ত নেই। রাজনৈতিকভাবে দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, চাহিদা এবং জনগণের চাহিদা ও যে সংকট আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করব। গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে গণফোরাম অংশগ্রহণ করেছে। কোনো নির্বাচনই বয়কট করেনি। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠেও আছি এবং অবস্থা অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

প্রশ্ন: গত নির্বাচনে আপনার দল বিএনপির সঙ্গে জোট করেই নির্বাচন করেছে। এবার দেখা গেল এখন পর্যন্ত সব দলকে নিয়ে বিএনপি সংলাপ করলেও আপনার সঙ্গে করেনি। কারণ কী বলে মনে করেন?

ডা. মিজানুর রহমান: গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে কারণে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আর ছিল না। এখন নতুন করে আর কোনো মেরুকরণ আমাদের দল থেকে হয়নি। আর বিএনপি আমাদের ডাকল কি ডাকল না সেটার ওপর আমাদের রাজনীতি নির্ভর করে না। আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে আমরা, দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব যে আমরা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী করব?

প্রশ্ন: গত নির্বাচনের পর তো ঐক্যফ্রন্টে যাওয়া নিয়ে দলে মতপার্থক্য হয়েছে। তাহলে ড. কামাল হোসেন কেন ওই নির্বাচনে গিয়েছিলেন?

ডা. মিজানুর রহমান: তখনকার প্রেক্ষাপটে ঐক্যফ্রন্ট করা ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা ছিল একটা সময়ের দাবি। সেটা তো একটি নির্বাচনী জোট হয়েছিল। স্থায়ী কোনো জোট ছিল না। নির্বাচনের পর সেই জোটের অবস্থানটাও শেষ হয়ে যায়।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকারের অধীনে আপনার দল নির্বাচনে যাবে কি?

ডা. মিজানুর রহমান: এটা আসলে সরকারের ওপর নির্ভর করবে। সরকার কতটুকু অবস্থান নেবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হবে– তার ওপর নির্ভর করে। তারপরও নির্বাচন কমিশনের যেসব কথাবার্তা আমরা দেখছি, এটাকে আমরা খুব একটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছি না। যেমন- ইভিএম নিয়ে তাদের বক্তব্য দেশের মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। গণফোরাম একটি নির্বাচনমুখী দল। নির্বাচনের আগে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা কাজ করব।

প্রশ্ন: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে গণফোরাম কি ভেঙে গেছে? আপনাদের তো বহিষ্কার করেছেন মোস্তফা মহসীন মন্টুরা?

ডা. মিজানুর রহমান: গণফোরামের নামে তারা যে কমিটি করেছিল, সে কমিটিতে আমার কোনো সম্মতি ছিল না। তারা যে কমিটি ডিক্লেয়ার করেছে, তার সঙ্গে আমার এবং আমাদের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তারা যে কাউন্সিল করেছে, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- কমিটি ঘোষণা করে যে মিটিংগুলো করেছে, কোনোটাতেই আমার সম্পৃক্ততা কখনো ছিল না। ফলে তারা নিজেরা কারও নাম ব্যবহার করা এবং তাদের বহিষ্কার করা– এটা তাদের নিজস্ব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে আমার এবং আমার দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের যেহেতু কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, সে হিসেবে তাদের এ বিষয়টি ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক।

প্রশ্ন: ২৯ বছর ধরে গণফোরাম জনগণের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত হতে পারেনি। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

ডা. মিজানুর রহমান: আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিটা হয়ে গেছে কালোটাকা ও পেশিশক্তিনির্ভর। নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি তো এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। আমরা শুরু থেকে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে গণফোরাম কখনো বিচ্যুত হয়নি। আমরা একটি নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা দলের শুরু থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আছি।

জনগণের জানমালের পাহারায় আওয়ামী লীগ: মায়া

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:৫৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ঢাকা শহরে প্রত্যকটি অলিগলি, রাস্তায়, মোড়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ ও শ্রমিক লীগের ভাই-বোনেরা পাহারায় রয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মায়া বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় পাড়া মহল্লায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেত্রী। আমরা সেই কাজটি করছি।

এ সময় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া আরও বলেন, ‘বিএনপির অভ্যাস খারাপ। দোকানপাট খোলা দেখলেই হাত দিবে। তাই জনগণের জানমালের রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মী পাহারাদারের কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ বিকাল পর্যন্ত দুষ্টু লোকদের (বিএনপি) সভা শেষ না হওয়ার পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকব। আমরা মিডিয়ার সহযোগিতা চাই।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিজয়ের মাসকে কলঙ্কিত করতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই মাসের পবিত্রতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আন্দোলনের নামে তারা সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছে। আল্লাহর রহমতে, শেখ হাসিনার সঠিক সিদ্ধান্তে তাদের এই ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে, নস্যাৎ হয়ে গেছে।’

‘তারা ১০ ডিসেম্বর ঢাকা শহর দখল করবে বলেছিল। খালেদা জিয়া আজ সরকার দখল করবে বলেছিল। সেই পরিকল্পনা নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ঢাকাবাসী তাদের এই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে।’

‘আজকে খেয়াল করে দেখেন তারা নাকি পুরানা পল্টনে ১০ লাখ লোকের সমাবেশ করবে। কেউ বলেছে ২৫ লাখ লোক করবে। আজকেই সরকার পতন হবে। তারা জানে না আওয়ামী লীগের সরকার, শেখ হাসিনার সরকার কচু পাতার পানি নয়। এই সরকারকে হঠাতে গেলে মাজা ভাঙ্গা বিএনপির পক্ষে কোনোভাবে সম্ভব না। তারা কাগজে বাঘ। খেয়াল করে দেখেন, কালকে মঞ্চ করতে লোকও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজকে তারা জনসভা করছে, সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে, শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা করতে চায়।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছিলাম, এখনও বলি, শান্তিপূর্ণ যে কেউ সমাবেশ করবে আমরা সহযোগিতা করব। সেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। তারা আজকে সভা করছে।’

বিষয়:

গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির সমাবেশ শুরু

গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির সমাবেশ মঞ্চ। ছবি: ওসমান গনি
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:৫১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার নির্ধারিত সময় বেলা ১১টার আগে থেকেই জেলার নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে এ সমাবেশ শুরু হয়।

গত শুক্রবার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশের দিন সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদের আসতে দেখা যায়। এখনো বিভিন্ন জায়গা থেকে সমাবেশস্থলে আসছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

সকালে দেখা যায়, সায়েদাবাদের জনপথ মোড় থেকে মানিক নগর বিশ্বরোড, কমলাপুর পর্যন্ত সড়কে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে পানি নিয়ে আসা হচ্ছে।

অন্য বিভাগীয় সমাবেশের মতো ঢাকাতেও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য ফাঁকা চেয়ার রাখা হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা জোরদারে গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশস্থলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চানো হচ্ছে বলে র‍্যাবের মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিএনপি এই সমাবেশ নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে করতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

এর মধ্যে নয়াপল্টনে জড়ো হওয়া বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। সংঘর্ষে নিহত হন একজন। এরপর পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে বিএনপির কয়েকশ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে, পরে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে।

এরপর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে গোলাপবাগে সমাবেশের অনুমতি পায় পুলিশ। সমাবেশ গোলাপবাগে হলেও নয়াপল্টনেও পুলিশ পাহারা বসিয়েছে।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করছে। তার ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা দেয় দলটি।

বিষয়:

খালেদা জিয়ার বাসার পাশে বেড়েছে পুলিশ প্রহরা

খালেদা জিয়ার বাসাার সামনে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পুলিশ চেকপোস্ট বসেছিল এক সপ্তাহ আগেই। তবে শনিবার রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের দিন বিএনপি চেয়ারপারসের খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার দুই পাশে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর রোডে ওই ভবনের কাছে গোয়েন্দা পুলিশও অবস্থান করছে।

খালেদা জিয়ার বাসার কাছে গোয়েন্দা পুলিশের অবস্থান। ছবি: দৈনিক বাংলা

তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে পারেনি দৈনিক বাংলা। আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার বাসার সামনে পুলিশের চেকপোস্ট

খালেদা জিয়া বিএনপির সমাবেশে যোগ দেবেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুজব ছিল। বিএনপির মধ্যমসারির কিছু নেতার বক্তব্যের সূত্র দরেই এই গুজব ডানা মেলে। সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের ঘোষনা দেন।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এখনো তিনি সুস্থ নন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত খালেদা ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দী ছিলেন। প্রথমে তাকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও পরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয় সরকার। যখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে তখন তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান। তখন থেকে খালেদা জিয়া গুলশানের ভাড়া বাসায় আছেন।

তবে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে নিরপত্তা নিয়ে ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ করছে গোলাপবাগ মাঠে। গত কয়েকদিন কিছু ঘটনা ঘটেছে, তাই সমাবেশ ও মানুষের নিরাপত্তা অতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। নয়াপল্টনে নাশকতা হতে পারে, এমন গোয়েন্দা তথ্য আছে। তাই রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপদ মনে হলে খুলে দেয়া হবে। সমাবেশ করে বিএনপির সবাই চলে না যাওয়া পর্যন্ত পুলিশ নিরাপত্তা দিবে।


স্লোগানে মুখরিত বঙ্গবন্ধু এভিনিউ

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:৫৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীতে বিএনপির মহাসমাবেশের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাহস এবং শক্তি যোগাতে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও।

শনিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন তারা। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে স্লোগানে যোগ দিতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় নেতাদেরও।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, ‘আমরা সহিংসতায় বিশ্বাস করি না, আমরা স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘যে অশুভ শক্তি সহিংসতা ছড়াতে চায়, তারাই চারদিন আগে রাস্তা দখল করে বসে ছিল। তারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে ভিন্ন পথে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করবে। তাদের সেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত কখনোই টিকবে না।’

যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী বলেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করুক বা জনগণের জানমলের নিরাপত্তা রক্ষা করে সমাবেশ করুক তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হলে, বোমাবাজি-অগ্নিসন্ত্রাস করলে সমুচিত জবাব দেয়ার জন্যে যুবলীগ প্রস্তুত রয়েছে। এটা শেখ পরশের নির্দেশ।’

নানা নাটকীয়তার পর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে আসা নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠ। জমায়েত মাঠ ছাড়িয়ে রাস্তায়।

শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত শুক্রবার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

নিরাপত্তা জোরদারে গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশস্থলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে র‍্যাবের মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।


গোলাপবাগ মাঠ ছাড়িয়ে রাস্তায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা

সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদের আসতে দেখা যায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৩:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নানা নাটকীয়তার পর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে আসা নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠ। জমায়েত মাঠ ছাড়িয়ে রাস্তায়।

শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত শুক্রবার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশের দিন সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীদের আসতে দেখা যায়। সায়েদাবাদের জনপথ মোড় থেকে মানিক নগর বিশ্বরোড, কমলাপুর পর্যন্ত সড়কে বিএনপি নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে পানি নিয়ে আসা হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদারে গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশস্থলে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে র‍্যাব। র‍্যাবের মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: গোলাপবাগে সমাবেশ করতে ডিএসসিসিরও সায় পেল বিএনপি

পল্টনে সমাবেশ করতে পারছে না, এখানেই বিএনপির পরাজয়: কাদের

অনুমতি পেয়েই গোলাপবাগ মাঠে ভিড় বিএনপি কর্মীদের

আশরাফুল আলম নামের একজন বিএনপি কর্মী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সায়েদাবাদ এসে জড়ো হয়ে একসঙ্গে মিছিল নিয়ে সমাবেশের দিকে এসেছি।’

শহিদুল ইসলাম নামের মৎসজীবি দলের এক কর্মী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সমাবেশের জন্য দুইদিন আগেই ঢাকা এসেছি। সকালে গাবতলি থেকে গোলাপবাগ আসতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার হয়েছি।’

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় সমাবেশ করতে চাইলেও তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয় সরকার। কিন্তু বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিতে বলে পুলিশকে। বিএনপি আরামবাগে সমাবশে করতে চাইলেও পুলিশের সাফ বক্তব্য, রাস্তায় দলটি জমায়েত করেত পারবে না।

গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। আটক হন কেন্দ্রীয় নেতাসহ তিন শতাধিক কর্মী।

পুলিশের অভিযোগ, বিএনপি নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হচ্ছিল। সেখানে অবস্থানের জন্য চাল-ডাল মজুদ করেছিল, রেখেছিল হাতবোমা।

এই সমাবেশের আগে দুদিন ধরে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে তল্লাশি করছে পুলিশ। বিএনপিকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাও পাহারা বসিয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে।

এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সমাবেশস্থল নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা চলতে থাকে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আইন সম্পাদক কায়সার কামাল জানান, গোলাপবাগ মাঠে তাদের সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানান ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদও।

পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, গোলাপবাগ মাঠে শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে। তার এই ঘোষণার পর থেকেই গোলাপবাগ মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

গণসমাবেশ উপলক্ষে আসা নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠ ছাড়িয়ে সড়কেও দেখা গেছে। ছবি: দৈনিক বাংলা

সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীরা সরকার বিরোধী স্লোগান ছাড়াও নেতাদের মুক্তির দাবিতে সরব।

এদিকে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়ের করা হয়েছে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের। আছে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির উপস্থিতি। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী নেতা-কর্মীরা।

এদিকে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। রিকশা এবং সিএনজি চালিত অটোরিক্সার প্রধান্যই বেশি। এরজন্য ভোগান্তি পড়তে হয়েছে অনেককেই। মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সারাহ সাদিয়া দৈনিক বাংলাকে বলে, ‘আজকে বাস নেই বললেই চলে। সিএনজি চালকরা ভাড়াও চাইছেন অন্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি।’

বিষয়:

গোলাপবাগে সমাবেশ করতে ডিএসসিসিরও সায় পেল বিএনপি

বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:৪৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসামবেশের জন্য গোলাপবাগ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

শুক্রবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স গোলাপবাগ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকরামুজ্জামান শর্ত সাপেক্ষে এই অনুমতি দেন।

সমাবেশ চলাকালে সভাস্থলের যে কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হলে বিএনপি দায়ী থাকবে এ শর্তে তারা অনুমতি দেয়।

এরআগে, ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোলাপবাগ মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনে বিএনপির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন পায়নি ডিএসসিসি। আবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোলাপবাগ খেলার মাঠের উন্নয়নে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (মেগা)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিগগিরই এ মাঠ উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করার পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং প্রকল্পের এ পর্যায়ে গোলাপবাগ খেলার মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শহরে সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু এই সমাবেশের আয়োজনস্থল নিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও অনিশ্চয়তা ছিল। বিএনপি প্রথমে এই সমাবেশ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় করতে চাইলেও তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয় সরকার। কিন্তু বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিতে বলে পুলিশকে। এর মধ্যে আলোচনায় আসে আরামবাগ মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠ।

এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে।

এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সমাবেশস্থল নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা চলতে থাকে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, গোলাপবাগ মাঠে তাদের সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানান ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদও।

পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, গোলাপবাগ মাঠে শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে। তার এই ঘোষণার পর থেকেই গোলাপবাগ মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা নাগাদ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী জড়ো হন মাঠটিতে।

কিন্তু ডিএসসিসির এই বিজ্ঞপ্তির পর গোলাপবাগ মাঠেও বিএনপির সমাবেশ আয়োজন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমতি পাওয়ায় সমাবেশ করতে তাদের আর আইনি বাধা থাকলো না।

বিষয়:

গোলাপবাগ মাঠ চেয়ে ডিএসসিসিতে বিএনপির চিঠি

গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ইনসেটে ডিএসসিসিকে দেয়া বিএনপির চিঠি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:২১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকা বিভাগীয় গণসামবেশের জন্য গোলাপবাগ মাঠ চেয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। শুক্রবার রাতে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত এক চিঠিতে এ আবেদন করা হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে আগামীকাল (১০ ডিসেম্বর) বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজনের জন্য গোলাপবাগ মাঠ বরাদ্দের অনুরোধ করা হয়। এসময় এই মাঠে গণসমাবেশের জন্য ঢাকা মেট্র্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি পাওয়া গেছে বলে সেই আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এরআগে, ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোলাপবাগ মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনে বিএনপির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন পায়নি ডিএসসিসি। আবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোলাপবাগ খেলার মাঠের উন্নয়নে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (মেগা)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিগগিরই এ মাঠ উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করার পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং প্রকল্পের এ পর্যায়ে গোলাপবাগ খেলার মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শহরে সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু এই সমাবেশের আয়োজনস্থল নিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও অনিশ্চয়তা ছিল। বিএনপি প্রথমে এই সমাবেশ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় করতে চাইলেও তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয় সরকার। কিন্তু বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিতে বলে পুলিশকে। এর মধ্যে আলোচনায় আসে আরামবাগ মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠ।

এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে।

এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সমাবেশস্থল নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা চলতে থাকে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, গোলাপবাগ মাঠে তাদের সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানান ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদও।

পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, গোলাপবাগ মাঠে শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে। তার এই ঘোষণার পর থেকেই গোলাপবাগ মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা নাগাদ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী জড়ো হন মাঠটিতে।

কিন্তু ডিএসসিসির এই বিজ্ঞপ্তির পর গোলাপবাগ মাঠেও বিএনপির সমাবেশ আয়োজন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু মাঠটির কর্তৃপক্ষ ডিএসসিসি, সে কারণে তাদের অনুমতি ছাড়া এখানে সমাবেশ করতে পারবে না বিএনপি।


আবেদন পায়নি ডিএসসিসি, গোলাপবাগ মাঠ নিয়েও ‘সংশয়’

১০ ডিসেম্বর বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনে বিএনপির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন পায়নি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ। করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া সেখানে সমাবেশ আয়োজনে সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও পুলিশের ‘সংকেত’ পেয়ে এরই মধ্যে সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার রাতে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোলাপবাগ মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনে বিএনপির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন পায়নি ডিএসসিসি। আবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোলাপবাগ খেলার মাঠের উন্নয়নে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (মেগা)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিগগিরই এ মাঠ উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করার পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং প্রকল্পের এ পর্যায়ে গোলাপবাগ খেলার মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজন করা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শহরে সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু এই সমাবেশের আয়োজনস্থল নিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও অনিশ্চয়তা ছিল। বিএনপি প্রথমে এই সমাবেশ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় করতে চাইলেও তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয় সরকার। কিন্তু বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিতে বলে পুলিশকে। এর মধ্যে আলোচনায় আসে আরামবাগ মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠ।

এই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে।

এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সমাবেশস্থল নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা চলতে থাকে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, গোলাপবাগ মাঠে তাদের সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানান ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদও।

পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, গোলাপবাগ মাঠে শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে।

তার এই ঘোষণার পর থেকেই গোলাপবাগ মাঠে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা নাগাদ কয়েকশ’ নেতা-কর্মী জড়ো হন মাঠটিতে।

কিন্তু ডিএসসিসির এই বিজ্ঞপ্তির পর গোলাপবাগ মাঠেও বিএনপির সমাবেশ আয়োজন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু মাঠটির কর্তৃপক্ষ ডিএসসিসি, সে কারণে তাদের অনুমতি ছাড়া এখানে সমাবেশ করতে পারবে না বিএনপি।

বিষয়:

সরকার ভীত হয়ে ষড়যন্ত্র করছে: মোশাররফ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তার পাশে অন্য নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ঢাকায় বিএনপির শনিবারের সমাবেশ নিয়ে সরকার ভীত হয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে তা সত্ত্বেও ‘জনগণের সমাবেশ জনগণই সফল’ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ সমাবেশ আয়োজনে পুলিশের সহযোগিতাও কামনা করেন।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নিয়ে গত কয়েক দিনের টানাপোড়েন শেষে শুক্রবারই দলটিকে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই অনুমতি পাওয়ার পরপরই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

এতে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজ দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করতে মাঠ, মাইক ব্যবহারের ব্যবস্থা, অনুষ্ঠানস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তার দেয়ার জন্য একটি চিঠি নিয়ে যায়। কাল (শনিবার) বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে।’

সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা মোশাররফ বলেন, ‘এই স্বৈরাচার গায়ের জোরের ক্ষমতায় টিকে থাকা সরকারকে জবাব দেয়ার জন্য আমরা ঢাকাবাসীসহ সবাইকে এ সমাবেশ যোগ দেয়ার আহ্বান জানাই।’

সমাবেশে কী হবে, এ প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘(বিএনপির চেয়ারপারসন) খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা, লোডশেডিং কমানো, একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা-এসব দাবিতে ঢাকার বাইরের বিভাগীয় সমাবেশ হয়েছে। আগামী দিনে এই সরকারের বিদায়ের জন্য কতগুলো দফা ঘোষণা করা হবে। যুগপৎভাবে বিএনপির ঘোষিত ১০ দফা আদায়ের জন্য সবাই (কর্মসূচিতে) অংশ নেবে।’

বিএনপির পছন্দের জায়গাতে সমাবেশ হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব পুলিশের কাছে বিএনপিই দিয়েছে। এটা আমাদেরই প্রস্তাব। তারা সম্মতি দিয়েছে।’

কয়েকটি ময়দানের আলোচনার পর অবশেষে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এত গড়িমসির পর গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গড়িমসির একটাই উদ্দেশ্য ছিল যেন এ সমাবেশে জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে না পারে। অন্যদিকে পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে, আটক করেছে, পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনী নেমেছে। এই সমাবেশকে ব্যাহত করার জন্য, জনগণকে নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।’

ঢাকার সমাবেশ যেন সফল না হয়, এ জন্য সরকার ভীত হয়ে হীন ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির আগের বিভাগীয় সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। এখন ঢাকার সমাবেশ যেন সফল না হয় সেজন্য সরকার এসব করেছে। গত ১৫ দিন ধরে সরকারি বাহিনীগুলো ও সন্ত্রাসীরা ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিভাগীয় অঞ্চলসহ সারা দেশে মহড়া দিচ্ছে, যেন সমাবেশ সফল না হয়। এগুলো ঘটছে পুলিশের সামনেই। পুলিশ এসব নিয়ে নির্বিকার।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এই ঘটনার প্রতিবাদ করার ভাষা নেই। এই ঘটনার মাধ্যমে বর্তমান স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের চরম বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। বিএনপির সব নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের নিন্দা জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিনা উসকানিতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। একজন নিহত, অসংখ্য আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলি-টিয়ারশেল এতই ছিল, মনে হয়েছে যেন যুদ্ধক্ষেত্র। এ ঘটনা নজিরবিহীন।’

সমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান অতিথি, দুজনই (ফখরুল-আব্বাস) গ্রেপ্তার, তাদের বাদ দিয়ে এই সমাবেশ হচ্ছে- এসব প্রসঙ্গে মূল্যায়ন জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এ সমাবেশকে ভন্ডুল করার জন্য সরকার এসব করছে। এটা এখন আর দলীয় কোনো সমাবেশ নয়। এটা জনগণের সমাবেশ। জনগণই সমাবেশকে সাফল্যমণ্ডিত করে। আমরা কে থাকলাম, না থাকলাম, এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আগামীকালের সমাবেশের ব্যানার দেখেই জানা যাবে, কে সভাপতি, কে প্রধান অতিথি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সমাবেশের আগে বিএনপির নেতাদের গ্রেপ্তার করার মানে হলো সরকার তার পেশিশক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখাতে এসব করছে। এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। আজকে এই সারিতে আমাদের যাদের দেখছেন, হয়তো আগামীকালের সমাবেশে গিয়ে হতাশ হতে পারেন। কারণ একই ঘটনা সরকার আমাদের সঙ্গেও করতে পারে, এ আশঙ্কা আছে।’

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে, এর দায় কার, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ করব। অতীতে করেছিও। এখন ভবিষ্যতের রূপরেখা শোনার জন্য নেতা-কর্মীরা আগামীকাল গোলাপবাগ মাঠে আসবেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা কোনো সহিংস আচরণ করবেন না। তবে এটা সরকার করবে। এর দায়ও সরকারকে নিতে হবে।’

নয়াপল্টন কার্যালয় পুলিশ খুলে দেবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এখন আমরা আগামীকালের সমাবেশ নিয়ে কথা বলছি। এটা নিয়েই আমাদের মনোযোগ।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


পল্টনে সমাবেশ করতে পারছে না, এখানেই বিএনপির পরাজয়: কাদের

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৮:২৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে বলেও করতে পারছে না উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা পল্টনে সমাবেশ করতে পারেনি। তাদের আন্দোলন কর্মসূচির অর্ধেক পরাজয় হয়ে গেছে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘(প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার কর্মীরা আজ প্রস্তুত। রাতে খেলা হবে ব্রাজিলের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়া, আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ড। বাংলাদেশেও খেলা হবে। সব অপশক্তি বনাম আওয়ামী লীগের মধ্যে। আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। আগুন নিয়ে এলে খেলা হবে। অনেক ছাড় দিয়েছি আর নয়।’

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি আজ বলে সরকার নাকি ভয় পেয়েছে। সরকার ভয় পেয়েছে? এখানে নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে সভা। আমরা পরাজিত হয়েছি? পল্টন ময়দানে সমাবেশ আমরা করবোই; এ কথা যারা বলেছিল, তারা এখন কোথায়? তাদের পরাজয় হয়েছে, অর্ধেক পরাজয় হয়ে গেছে। পল্টনে সমাবেশ করতে পারেনি। আন্দোলন কর্মসূচির পরাজয় এখানেই।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা এদেশে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র গিলে খেয়েছে, যদি বাংলাদেশ তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়, গোটা বাংলাদেশ তারা গিলে খাবে।’

কোনো কোনো মিডিয়া বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি স্বপ্ন দেখছে, দিবাস্বপ্ন। দুঃস্বপ্ন দেখছে৷ তাদের এই রঙিন খোয়াব অচিরেই কর্পুরের মত উড়ে যাবে।’

(ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে) আগামী শনিবার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকারও আহ্বান জানান কাদের।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আহমেদ হোসেন, আফজাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।


ফজরের পরই ঢাকায় নেতা-কর্মীদের পাহারা বসাতে বললেন নানক

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৮:২৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আগামী শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ফজরের নামাজ পড়েই নেতা-কর্মীদের ঢাকা শহর পাহারা দিতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকেলে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সমাবেশে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বিএনপির ঘোষণা অনুসারে, শনিবার বেলা ১১টায় তাদের এই সমাবেশ শুরু হবে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ওদের (বিএনপির) গাত্রদাহ রয়েছে, ওরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবে না। এত অনুনয়-বিনয় করলাম শুনলো না। এখন কোথায় যেতে হচ্ছে, গোলাপবাগ মাঠে!’

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে ঢাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নানক বলেন, ‘আমার ঢাকাবাসী ভাইয়েরা। আপনাদের আতঙ্কের কোনো কারণ নাই। আওয়ামী লীগ পাহারা দেবে। কোনো আতঙ্কের কারণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ওরা যদি কারও গায়ে হাত দেয়, ওই হাত ভেঙে দিতে হবে, পুড়িয়ে দিতে হবে। ফজরের নামাজ পড়ে পাহারা দিতে হবে। ওরা যেন কোনো উচ্চবাচ্য করতে না পারে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘ওই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে একটা রাজনৈতিক সংকট রয়েছে। সেটা হচ্ছে খালেদা জিয়া।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি আঙুল বাকা করতে হবে হয়, তাহলে ওদের পাকিস্তান যেতে হবে। পাকিস্তানও ওদের নেবে না। তাহলে কী করতে হবে? ওদের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দিতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আহমেদ হোসেন, আফজাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিষয়:

ফখরুল-আব্বাস কারাগারে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নয়াপল্টনে সংঘর্ষের মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে আদালতে তুলে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই নেতাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম। অন্যদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের বাসা থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

দুপুরে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছিলাম। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ৮ তারিখে পল্টন থানায় যে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

দেশের বিভিন্ন শহরে সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু এই সমাবেশের আয়োজনস্থল নিয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্তও অনিশ্চয়তা ছিল। বিএনপি প্রথমে এই সমাবেশ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় করতে চাইলেও তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয় সরকার। কিন্তু বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিতে বলে পুলিশকে। এর মধ্যে আলোচনায় আসে আরামবাগ মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠ।

এর মধ্যে গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ওই ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করে। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ফখরুল-আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


অনুমতি পেয়েই গোলাপবাগ মাঠে ভিড় বিএনপি কর্মীদের

গোলাপবাগ মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:১৯
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

বিএনপির সমাবেশের আয়োজনস্থল হিসেবে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠ চূড়ান্ত হতেই সেখানে জড়ো হচ্ছেন দলটির কর্মী-সমর্থকরা। স্লোগানে স্লোগানে সরগরম হয়ে উঠেছে মাঠের আশপাশের এলাকা। আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টায় মাঠটিতে বিএনপির সমাবেশ শুরু হবে।

শুক্রবার বিকেল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা গোলাপবাগ মাঠে আসতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাগম বাড়ছে দ্রুত। মাঠে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উৎফুল্ল দেখা গেছে।

দেশের বিভিন্ন শহরে সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু এই সমাবেশের আয়োজনস্থল নিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্তও অনিশ্চয়তা ছিল। বিএনপি প্রথমে এই সমাবেশ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় করতে চাইলেও তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্দিষ্ট করে দেয় সরকার। কিন্তু বিএনপি সেখানে সমাবেশ করতে রাজি না হয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিতে বলে পুলিশকে। এর মধ্যে আলোচনায় আসে আরামবাগ মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়াম ও মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠ।

এর মধ্যে গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে।

এর মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সমাবেশস্থল নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা চলতে থাকে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, গোলাপবাগ মাঠে তাদের সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। সেখানে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানান ডিবির প্রধান হারুন অর রশিদও।

পরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, গোলাপবাগ মাঠে শনিবার বেলা ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে।


banner close