বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার প্রতিষ্ঠায় গণফোরাম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ’

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৩ ১৫:৩৭

গণফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে হাসিমুখে জীবন বিলিয়ে দেয়া ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ মা-বোনদের। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার, বৈষম্যমুক্ত সমাজ, বাক-স্বাধীনতা, ন্যায় বিচার। সর্বোপরি জনগণের শান্তি ও শোষণমুক্ত সমাজ। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ক্ষমতাসীন সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় গণফোরাম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে সোচ্চার থাকবে গণফোরাম।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী বলেন, গত ১৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার মুখে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের কথা বলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যম জনজীবন অতিষ্ট করে তুলছে। গণফোরাম জনতার পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলব, এটাই আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি পরিষদ সদস্য আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান সিদ্দিকুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ছাত্র সম্পাদক অ্যাড. মো. সানজিদ রহমান শুভ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এ কাদের মার্শাল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজম রুপু, কামাল উদ্দিন সুমন, ইমাম হোসেন, জজ মিয়া, রিয়াদ হোসেন, মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ফরিদুল হক, মো. মাহফুজু আহমেদ, গুলজার হোসেন, মহানগর দক্ষিণের দপ্তর সম্পাদক মরণ কুমার দাস, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস এম সোলায়মান অয়নসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

বিষয়:

অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে: চরমোনাই পীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৩
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় আজ মঙ্গলবার আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম দেশের বর্তমান অবস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বর্তমান শাসনব্যবস্থা দেশটিকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, “গত নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল, তবু আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ এখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। মনে হচ্ছে পাতি শৃগালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি আমরা।”

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আদর্শিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রেজাউল করীম। তিনি দাবি করেন, দলটি তাদের লোগো ও ইশতেহারে ইসলামি ভাবধারা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দলের লোগো থেকে আকিমুদদ্বিন কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। তাই ইসলামী দল বলাও যায় না। গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত যে ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ কথা কোথাও বলেনি। পাশাপাশি জামায়াতের আমির সে সময় বলেছিলেন- তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবেন না, প্রচলিত আইনে চালাবেন। সব মিলিয়ে বলা চলে জামায়াত আর ইসলামী দল নয়।” বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে দলটির অতীত কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। সেখান থেকে ফিরে সংসদে দলের আমির বলেছেন- বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারে সৃষ্ট নয়। তাহলে এতো তেল গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ কেন করলেন? এমন দ্বিমুখি আচরণ কেন?”

বিএনপির কর্মকাণ্ড ও প্রতিশ্রুতির বিষয়েও চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে দলটি বিচ্যুত হচ্ছে। বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিল ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবে না। কিন্তু সে ওয়াদা রাখছে না। সংসদে তারা এরই মধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন দিয়েছে। তারা শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না আসলে আমরা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হবো।”


বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ ধরে অটুট থাকবে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ ধরে অটুট থাকবে।

তিনি বলেন, সম্প্রীতির এই বন্ধন যুগ যুগ ধরে চর্চিত ও লালিত হবে। আমাদের যে জাতীয় দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, সেটাই ধারণ করে।

আজ রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের এই মৃত্তিকার গভীরে আছে আমাদের সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আমাদের ভ্রাতৃত্ব। আমরা একে অপরের সাথে আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেই একটি জাতীয় সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় সত্তার একটা দার্শনিক রূপ দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তা হলো- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এই কাঠামোর মধ্যে, এই ডালির মধ্যে, এই একটি পাত্রের মধ্যে প্রতিটি ধর্ম, সম্প্রদায় ও সমস্ত নৃগোষ্ঠী রয়েছে। প্রত্যেকেই এখানে তার আসন পেতে পারে। প্রত্যেকেরই এখানে জায়গা আছে। প্রত্যেকেই গর্ব করে বলতে পারে আমরা বাংলাদেশি।’

তিনি বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে একই সমাজে, একই গ্রামে, একই মহল্লায় বসবাস করেছি। নানা ধরনের শক্তি ও চক্রান্তকারীরা এই অটুট বন্ধন ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন ধ্বংস করার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সবার মাঝে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আমরা হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় এবং নৃগোষ্ঠী একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং আমাদের সম্প্রীতি রক্ষা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে, ঈদ-মিলাদুন্নবীতে অংশগ্রহণ করি এবং প্রত্যেকেই সেই উৎসবের আনন্দ ভোগ করি।’

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, আজকে তিনটি ধর্ম সম্প্রদায়ের তিনটি ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে— হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়, খ্রিস্টান ধর্ম সম্প্রদায় এবং বৌদ্ধ ধর্ম সম্প্রদায়। এসব ট্রাস্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের দেবালয় ও উপাসনালয়গুলো যাতে সমৃদ্ধশালী ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় এবং পূজারি ও ভক্তরা সেখানে সুন্দরভাবে প্রার্থনা ও আরাধনা করতে পারেন, সে বিষয়টি ট্রাস্ট দেখবে।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যরা স্ব স্ব সম্প্রদায়ের অত্যন্ত যোগ্য ও দক্ষ মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখবেন, পর্যালোচনা করবেন এবং পরিচালনা করবেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বস্থানীয় মানুষের মধ্যে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। তারা কেউ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নন, তারা বিএনপিতে গোটা জাতির নেতৃত্ব দেন।


ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বিরোধী দল: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লংমার্চের নামে বিরোধী দল ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে বিরোধীরা রাজপথে আন্দোলন করে বেড়ালেও সাধারণ জনগণ তাদের এই ভূমিকা ভালোভাবে দেখছে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দলের মতো সংসদে নিজেদের দাবি বা প্রস্তাব না তুলে তারা রাজপথ বেছে নিয়েছে, যা মূলত সরকারের সার্বিক উন্নয়ন ঢাকা দেওয়ারই অপচেষ্টা।’ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী।

লংমার্চের নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিরোধী দল রাজপথে লংমার্চের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অশ্রাব্য ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে এবং দলকে সেগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে দেখা যাচ্ছে, যা স্পষ্টত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। জনগণের সামনে যেসব শব্দ উচ্চারণ করা যায় না, তা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে বিরোধী দল তাকে দমন-পীড়ন বলে দাবি করে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।

জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল শুধু সমালোচনাই করে যাচ্ছে, অথচ সংকট নিরসনে তাদের গঠনমূলক কোনো প্রস্তাবনা নেই। তারা সংসদে এই বিষয়ে কোনো পরামর্শ না দিয়ে বাইরে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক অর্জনগুলোকে তারা জনগণের সামনে তুলে না ধরে আড়াল করার চক্রান্ত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির পাঁচ দিনব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সার্বিক কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যবহৃত সব বিলবোর্ড ও ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলতে হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, মাহমুদুর রহমান সুমন, আসাদুল করিম শাহীন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, জাহিদুল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


লংমার্চের নামে বিরোধী দল ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে: রিজভী

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দল গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে রাজপথে লংমার্চের নামে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি বা প্রস্তাব পেশ না করে রাজপথ বেছে নেওয়া মূলত সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে আড়াল করার একটি ব্যর্থ অপচেষ্টা মাত্র। সাধারণ মানুষ বিরোধীদের এই নেতিবাচক রাজনীতিকে মোটেও ইতিবাচকভাবে দেখছে না বলে তিনি দাবি করেন।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, লংমার্চের কর্মসূচি পালনকালে বিরোধী দল সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশ্রাব্য শব্দ ব্যবহার করছে, যা স্পষ্টতই অপরাধমূলক এবং কুরুচিপূর্ণ। এই ধরণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা সেটিকে ‘দমন-পীড়ন’ বলে প্রচার করে বিশ্বজুড়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রিজভী মনে করেন, এটি মূলত গণতন্ত্র বিনষ্ট করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

জ্বালানি সংকট এবং দেশের অর্থনৈতিক অর্জন নিয়ে বিরোধীদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক সংবাদগুলো তারা আড়াল করতে চাইছে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে সহযোগিতা না করে তারা কেবল ভিত্তিহীন সমালোচনাতেই লিপ্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা জাতীয় সংসদে গঠনমূলক প্রস্তাব না দিয়ে বাইরে অরাজকতা সৃষ্টির পথ বেছে নিচ্ছে?

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও জানান, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পাঁচ দিনব্যাপী সকল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই উপলক্ষে তিনি দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেন। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিবেশ রক্ষায় যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে লাগানো সকল বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আহ্বান বিএনপির

বিএনপির লগো। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংসদীয় বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে গিয়ে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সহায়ক নয় বলে মনে করে বিএনপি। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের কর্মসূচিকে ‘অনুচিত’ মন্তব্য করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। সংকট সমাধানে গঠনমূলক আলোচনা ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার জন্য চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংসদের বিতর্ক দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে অহেতুক ও দ্রুত সংসদীয় বিতর্ক রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে সচেতন মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু সরকারি দলকে ‘ফাঁদে ফেলার’ উদ্দেশে সংসদীয় রাজনীতি পরিচালনা করা যায় না। কৃত্রিম বা ভাসা-ভাসা সমালোচনার পরিবর্তে-‘সুনির্দিষ্ট’ ও ‘বাস্তবসম্মত’ পরামর্শ নিয়ে এলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিরাজমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতগুলো এখন চাপে রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না নেওয়াকে তিনি শুধু দুর্নীতি নয়, জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা হিসেবেও উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন। বর্তমান সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান ও নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আরেকটি অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চের সিদ্ধান্তকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লংমার্চের মতো কর্মসূচি আরও কিছুদিন পরে হলে ভালো হতো। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারকে আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম আরও বলেন, সরকারি দল থেকে রাজপথে পাল্টা কোনো সংঘাতময় কর্মসূচি দেওয়া হবে না। জনগণই এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ভালো-মন্দ বিচার করবে। দেশের বর্তমান সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের আগামী অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত গণতন্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আগের সরকারের সময় গণতন্ত্রের বিভিন্ন স্তম্ভ ধ্বংস এবং দেশের বিপুল সম্পদ নিঃশেষ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাবেক সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন উৎস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসাবাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে সোলার সিস্টেম স্থাপনে মানুষকে উৎসাহিত করতে কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কথা সংসদে ঘোষণা করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নূরুল ইসলাম মনি।

এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকট নিরসনে সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দিতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। বিরোধী দলকে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ দিন বাংলাদেশ শিল্পকলায় এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন, ঠিক আছে; কিন্তু আপনারা একটা বিকল্প বলুন—আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।’

দলটির এ জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধী দলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।’


মানুষ বলছে আর কখনো বিএনপিকে ভোট দেব না: অলি আহমদ

১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

“মানুষ এখন বলছেন, তারা আর কখনো বিএনপিকে ভোট দেবেন না” দাবি করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, সরকার গঠনের পর থেকেই জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অলি আহমদ বলেন, ‘আমার ৮৮ বছর বয়সে আমি কখনো শুনিনি, একটা সরকার গঠন হওয়ার পর লোকে বলে এই সরকার টিকবে না। মানুষ এটা কখন বলে? সারাক্ষণ দেখছি নারীরা, পুরুষেরা নিজের জুতা নিজের কপালে মারছে, বলছে আর কখনও বিএনপিকে ভোট দেব না।’

লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে এলডিপির সভাপতি বলেন, ‘আপনারা এত সকালে এখানে একত্রিত হয়ে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। আমি আমার এলডিপির পক্ষ থেকে, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আপনারা এত সকালে যেভাবে এই বিশাল জনসভার আয়োজন করেছেন, এটা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব না।’

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তিনি চাইলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোরে ঘুম থেকে ওঠার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। কারণ উনারা এবাদত করেন, অনেক দেরিতে ঘুমান।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পুরোনো বক্তব্য প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘ফখরুল সাহেব এই বিল্ডিংয়ের পিছনে রয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাড়। এখন ফখরুল সাহেব কী বলবেন?’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে অলি আহমদ বলেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেব যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বেগম জিয়ার অনুরোধে তাকে আমি তার নিজের এলাকায় নিয়ে গেছিলাম। আমি তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলি না, সবাই তাকে শিলং সালাহউদ্দিন বলে নতুন একটা টাইটেল দিয়েছে। তিনি একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, সুন্নত এবং কোরআনের বাইরে আমি কোনো কাজ করব না। এখন আমি উনাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আগের জায়গায় আছেন? থাকলে আমাদের সঙ্গে সমস্যাটা কোথায়?’

দেশ পরিচালনায় সৎ ও ঈমানদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘দেশ ভালো চালানোর জন্য ঈমানদার লোকদের বেছে নিতে হবে। বেইমান, মুনাফেক আর বিদেশি দালালদের দিয়ে দেশ চলবে না।’

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা কেন এখানে একত্রিত হয়েছি? আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে বলেছি, আপনি যদি জনগণের দাবি-দাওয়া মেনে না নেন, ১১ দলের পক্ষ থেকে আপনাকে বাধ্য করা হবে। সেটা হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে। আমরা আমাদের প্রথম রাউন্ড শেষ করেছি, দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু। এখনো বসে আছেন, সঠিক পথে চলেন। না হলে অন্যান্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পলায়ন করেছে, তাদের পথ আপনাকে অনুসরণ করতে হবে।’

লং মার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা আমাদের সঙ্গে যাবেন সবাইকে অনুরোধ করবো অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লং মার্চ করবো। কারণ আমরা সন্ত্রাসী দল নই। আমরা রিজওয়ানার দল নই। রিজওয়ানার দল বুঝছেন তো? আমরা সত্যিকার অর্থে মুসলমানের দল। সবাই কোরআন-সুন্নাহ মেনে চলে, আল্লাহর আইন মেনে চলে, সুশাসন মেনে চলে।’

একই সঙ্গে লং মার্চের পথে কেউ বাধা দিলে তা শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের মিছিল হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল। আপনার, আমাদের গন্তব্যে পৌঁছার পথে যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে, সেটা অধিকতর শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে এখানে আমরা মেজবান খেতে আসছি, এটা না। আমরা মেজবান খাইতে আসিনি। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আসছি এবং সেটা ইনশাআল্লাহ আমার নবীর দয়ায় আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’


বিএনপি সরকার প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে: ডা. শফিকুর রহমান

ছবি: ফেনীতে লংমার্চে ডা. শফিকুর রহমান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটের আগে বিএনপি জনরায় মেনে নেয়ার ওয়াদা করেছিলো উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ৭০ ভাগ ভোটারের গণরায় গণভোট না মেনে বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে গ্যাস বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় থাকলেও সরকার দলের মন্ত্রী ও এমপিরা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করছে।

নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কালো মেঘ নয়, বজ্রপাত আসলেও ১১ দলীয় জোট জনগণকে নিয়ে রাজপথে থাকবে।’

নতুন করে দেশে ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এখনও সময় আছে সংশোধনের।’ সময় শেষ হলে আওয়ামী লীগের চেয়েও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও বিএনপি সরকারকে হুঁশিয়ারি করেন।

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়া-মুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? ফেনীসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ, আপনারা সে সমাবেশে যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন।’

‘দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’—উল্লেখ করেন তিনি।


 ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ শুরু

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ মোট ছয় দফা দাবিতে শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোট। লং মার্চ যাত্রার আগে সকাল ৭টায় উক্ত স্থানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জোটের উত্থাপিত দাবিসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকট নিরসন এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন করা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ও সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির অবসান ঘটানোর দাবিও তোলা হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।

এই যাত্রাপথে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের পাশে ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে একাধিক পথসভা আয়োজনের কথা রয়েছে। পরিশেষে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এক বিশাল জনসভার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. আমির শফিকুর রহমান দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ ও মহাসমাবেশের এই রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন।

জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে, ১০ অক্টোবর খুলনা অভিমুখে এবং ২৪ অক্টোবর ট্রেনযোগে সিলেট অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ধারাবাহিক এই কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায়ে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় এক বিশাল মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।


বিএনপির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় অভিন্ন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদার কথা বলে। এই আদর্শকে ধারণ করেই বিএনপি দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় অভিন্ন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর তাঁত বোর্ড ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতিতে উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। তাঁর সময় অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্প ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এসব খাত।

মন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নরসিংদীর সন্তান মরহুম আবদুল মোমেন খানের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রাথমিক সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে নরসিংদীতেও বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস করি।

বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।


লংমার্চ সরকার উৎখাতের আন্দোলন নয়, নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি: পরওয়ার

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লংমার্চও শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সরকার উৎখাতের জন্য লংমার্চ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধীদল নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। ‘সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না’,

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এতে অংশ নেবেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চে বাধা না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, বিরোধীদলের বৃহৎ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার যেন জনগণের আস্থা ধরে রাখে।

বিরোধীদলের কর্মসূচিতে সরকারি দল, তাদের সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করলে সরকার আরও জনআস্থা হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।

তবে সরকার সে পথে হাঁটবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

গত ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গন থেকে ১১ দলীয় ঐক্য চার বিভাগে লংমার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে রংপুর, খুলনা ও সিলেট অভিমুখে আরও তিনটি লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।

আগামীকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। সর্বশেষ সমাবেশ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে। পথসভাগুলো সংক্ষিপ্ত রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়।


চিকিৎসা শেষে আজ দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তাঁকে বহনকারী বিমানটি রাত ৯টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শায়রুল কবির খান জানান, মির্জা আব্বাস বর্তমানে অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন এবং চিকিৎসকদের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিলেন মির্জা আব্বাস। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ১৫ মার্চ শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর অধিকতর সুশ্রূষার জন্য তাঁকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষে আজ তিনি নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করছেন।


স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত ৯ দফা দাবি নিয়ে ইসিতে জামায়াতের প্রতিনিধিদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি জানিয়েছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে এই দাবি জানায় দলটি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কিছু বিষয়ে সম্মতির কথা জানালেও কয়েকটি ক্ষেত্রে কমিশনের ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশে ক্ষোভ জানান গোলাম পরওয়ার।

নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণাসংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন। তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমঅধিকারের নীতির পরিপন্থি এবং বৈষম্যমূলক। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার না হলে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানান তিনি।

দ্বিতীয় দাবিতে জামায়াত বলেছে, সরকার যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে, সেসব দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাদের মতে, নিষিদ্ধ দলের পদধারী ব্যক্তির নির্বাচনে অংশগ্রহণও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়নি দলটি।

ইসি সচিবালয়ে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তির নিয়োগ নিরপেক্ষ নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে জামায়াত। বিষয়টি সরকারকে জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রশাসককে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায় দলটি।

জামায়াতের দাবি, তফশিল ঘোষণার পর প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন ওই নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। পাশাপাশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। ফলে দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না। আগ্রহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগুলোর নিজস্বভাবে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ওই ঐক্যের কোনো বাধ্যবাধকতা বা সমঝোতার শর্ত নেই।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৯ দফা দাবি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।


এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হবে গ্যাস সরবরাহ: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সমস্ত প্রতিকূলতা ও সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, দেশে বর্তমানে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট চলছে তা মূলত একটি বৈশ্বিক সমস্যার অংশ। তবে সরকার এ নিয়ে নিষ্ক্রিয় নয় বরং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজছে। তিনি জানান, মহেশখালী টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে, যা মেরামতের কাজ চলছে। এই সংকট নিরসনে নির্ধারিত বাজেটের বাইরেও বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই আজ সুসংগঠিত। তিনি তার অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। সংকট আসবেই, তবে তা মোকাবিলা করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বহু জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। বর্তমান সরকার জনগণের দেওয়া ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো এরই মধ্যে কার্যকর করা শুরু হয়েছে।

দল ও সরকারের সমন্বয় প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ব্যাখ্যা করেন যে, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে, তাই দলের যোগ্য নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাঁর মতে, দল ও সরকার দুটি আলাদা সত্তা হলেও তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে জনস্বার্থে কাজ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার যদি সততার সাথে কাজ করে এবং উদ্ভূত সংকটগুলো যদি কৃত্রিম না হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষ তা অনুধাবন করে সরকারের পাশে থাকবে। জনগণের স্বার্থে পরিচালিত এই সরকার কখনো জনকল্যাণের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


banner close