বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আমার বাবা কি এই দেশ দেখতে যুদ্ধ করেছিলেন: ইশরাক

ইশরাক হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড
২৭ মার্চ, ২০২৩ ১৭:২৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৭ মার্চ, ২০২৩ ১৭:০১

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। স্বাধীনতার এত বছর পরও সত্য কথা বললে গ্রেপ্তার হতে হয়। ভোটের অধিকারে রাজপথে নামলে গুলি করা হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন করলে লাশ হতে হয়। তখন ভাবি, আমার বাবা কি এই বাংলাদেশ দেখার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন?’

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিউট মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ইশরাক এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য দেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে, দুই লাখ মা-বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে, সে গণতন্ত্রকে এরা পদদলিত করেছে। ভোটাধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। রক্তের বিনিময়ে যেমন এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, প্রয়োজনে আরও রক্তের বিনিময়ে এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবো। তবু এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ব্যারিস্টার শাহাজাহান ওমর, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামসহ অনেকে।


খালেদার জন্য বিএনপি ৪৮ মিনিটও আন্দোলনে দাঁড়াতে পারেনি: কাদের

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির নেতারা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ৪৮ মিনিটও আন্দোলনে দাঁড়াতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে গত রোববার বিএনপির বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টা আলমিটোম প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘(বিএনপির মহাসচিব) মির্জা ফখরুলের চোখে কান্না। খালেদা জিয়ার জন্য কান্না। খালেদা জিয়া এত বছর জেলে। আর এখন আমাদের ৪৮ ঘণ্টা আলটিমেটাম দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার জন্য, তার অসুস্থতার জন্য যতটা কথা বলেছে তার চেয়ে বেশি রাজনীতি করেছে। বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার চেয়ে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বেশি রাজনীতি করতে চেয়েছে এবং সেটাই তাদের উদ্দেশ্য। তারা খালেদা জিয়ার জন্য ৪৮ মিনিটও আন্দোলনে দাঁড়াতে পারেনি।’

মার্কিন ভিসানীতি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে মাতৃৃভূমিতে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছি। একাত্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থামাতে পারেননি। আজও নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে থামানো যাবে না। আমরা কারও নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করি না। আমরা পরোয়া করি আমাদের সংবিধান। আমাদের সংবিধানকে আমরা পরোয়া করি। আমরা চলব আমাদের সংবিধান অনুযায়ী। কোনো দেশের নিষেধাজ্ঞা আমরা মানি না মানব না।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা ওয়াশিংটনে আছেন। তৈরি হয়ে যান। ক্যাপ্টেন আসবেন, খেলা হবে। রাজপথ কে দখল করে দেখা যাবে। খেলা হবে। লাল সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয়ের মিছিল অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে চলবে।’

শান্তি সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদ। সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ।


খালেদার কিছু হলে বিএনপির নেতাদেরই দায় নিতে হবে: হানিফ

মাহবুবউল আলম হানিফ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার কিছু হলে বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরই দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করছেন তিনি।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে হানিফ এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এতিমের টাকা আত্মসাৎ মামলায় খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কারা? ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার করেছিল, আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। সেই মামলায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারায় কারাগারে ছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় আজ তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপির উচিত ছিল শেখ হাসিনার এই মহানুভবতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কিন্তু তারা করবে না। কারণ এরা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। তাদের মাঝে সভ্যতা নেই, গণতন্ত্র নেই।’

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশ না পাঠালে দায়-দায়িত্ব সব আওয়ামী লীগের—বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘কেন? দায় আওয়ামী লীগের কেন হবে? আপনারা যদি মনে করেন তার উন্নত চিকিৎসা দরকার, তাহলে কেন আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছেন না। সকাল-বিকেল রাস্তায় বসে নাটক বন্ধ করেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আপনারা নাটকবাজি করছেন। যদি খালেদা জিয়ার কিছু হয় তাহলে এর দায়-দায়িত্ব বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বহন করতে হবে, অন্য কারও নয়।’

নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন ভিসানীতি ঘোষণার কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘মহাশক্তিধর রাষ্ট্র ভিসানীতি ঘোষণা করেছে। এ ভিসা দেশের কতজনের প্রয়োজন আছে? মানুষ কি এই ভিসানীতির পরোয়া করে? আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। তাহলে কীসের ভিসানীতি? আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান তাহলে যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছে, নাশকতার হুমকি দিচ্ছে তাদের বলুন আন্দোলন-আন্দোলন খেলা বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে। তাহলে তো আর ভিসানীতি, স্যাংশনের প্রয়োজন পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘যদি ভিসানীতির আড়ালে কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চান তাহলে সেই ষড়যন্ত্র কীভাবে প্রতিহত করতে হয় দেশের মানুষ জানে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, শেখ হাসিনার কর্মী। আমরা একাত্তর সালে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কোনো হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। যদি কেউ ষড়যন্ত্র করতে চান সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে নির্ধারিত সময়ে সংসদ নির্বাচন করে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে আমরা আবারও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে আছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এক মাস পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে আশা করি। সংসদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার জন্য সারাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে আছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করব না। কীভাবে একটি সফল নির্বাচন করতে হয় আওয়ামী লীগ জানে। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগকে জয় যুক্ত করবে।’

শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদ। সঞ্চালনা করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ।


উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হোন: মতিয়া

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে বক্তব্য দেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উন্নয়নযাত্রা অব্যাহত রাখতে (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী।

সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখতে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। এটাই আমরা চাই, সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন বাংলাদেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকে।

সরকার পতনের হুমকি দিয়ে বিএনপি আবারও নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, দলটির হুমকিতে আওয়ামী লীগ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়। বিএনপি কর্মগুণে নিজেরাই নিজ দলের জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য শাজাহান খান বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলে, যেন মামা বাড়ির আবদার।

তিনি বলেন, বিএনপির জনসমর্থন নেই অথচ বলে গণ-অভ্যুত্থানের কথা। এটা দলটির রাজনৈতিক অজ্ঞতা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দাবি করেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র করতেই বিএনপি নানা ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে, আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বিএনপি একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করে যাচ্ছে। তবে সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হচ্ছে দেশে যাতে কেউ শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে না পারে। জনজীবনে নিরাপত্তা যাতে কেউ বিনষ্ট করতে না পারে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূরুল আমিন রুহুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আব্দুর রহমান প্রমুখ।

বিষয়:

শুনেছি আমাকেও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে: রাঙ্গা

মশিউর রহমান রাঙ্গা
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:৪২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপি ও দলটির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন বলে শুনেছেন।

ঢাকার একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে আলাপকালে রাঙ্গা বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাকেও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি অখুশি নই। আমার আমেরিকার ১০ বছরের ভিসা আছে। আমার এখন যাওয়ার কোনো ইচ্ছাও নেই, সুযোগও নেই। সামনে নির্বাচন।’

‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়া’ ব্যক্তি-সংস্থার বিরুদ্ধে সম্প্রতি ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় থাকছেন দেশের সরকার ও বিরোধী দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগের সদস্য ও তাদের নিকটতম পারিবারিক সদস্যরা।

তবে নির্দিষ্ট করে কারও নাম প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। সরকার ও বিরোধী বিভিন্ন দলের সদস্যরা এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রতিপক্ষের ওপর কার্যকর হবে বলেই বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছেন।

ভিসানীতির বিষয়ে রাঙ্গা বলেন, ‘এটা আমেরিকার নিজস্ব বিষয়। আমার দেশে যদি কাউকে আসতে না দেই, যদি মনে করি এই লোকগুলো আমাদের জন্য ক্ষতিকর তাহলে বলার কিছু নাই। আমি মনে করি এটা দেশের জন্য ভালো। আমি এটাকে ভালোই বলছি।’

তবে ভিসানীতির কোনো প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়ার সুযোগ নেই এবং কারণও নেই বলে মনে করেন তিনি।


খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে আইনি অবস্থান থেকে সরকারের কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড শর্তযুক্তভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তাই তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে আইনের অবস্থান থেকে সরকারের আর কিছু করার নেই।’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুললে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করতে হয়। পরে সেখান থেকে আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে আসে। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর নির্ভর করে।

আমি আগেও বলেছি, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এর ক্ষমতাবলে শর্তযুক্তভাবে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত হয়েছে এবং মুক্তি দেয়া হয়েছে। সেটি প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায়।

এখন আইনের যে পরিস্থিতি তাতে পরিবর্তন আনতে হলে খালেদা জিয়ার যে আগের শর্তযুক্ত মুক্তি, সেটিকে বাতিল করতে হবে। বাতিল করে সহাবস্থানে যাওয়ার পর আবার অন্য বিবেচনা করা যাবে।’

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বরের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের একটি ঘোষণা আছে। সেখানে বলা আছে, যদি কোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হয় তখন সে দেশের সরকারের দায়িত্ব তাকে বিদেশে পাঠানো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘আরও একটা কথা জাতিসংঘে বলা আছে। সেটি হচ্ছে, আমাদের দেশের আইন অগ্রাধিকার পাবে এবং সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের আইনে যে অবস্থানে তাকে ৪০১ ধারায় যে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আমি বহুবার বলেছি, এই আইনের অবস্থায় এটার কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন আছে। আমরা আদালতকে শ্রদ্ধা করি।’

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। এরপর ছয় মাস পর পর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার। সবশেষ কয়েক দিন আগে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতির বিষয়ে আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১)-এর ধারার ক্ষমতাবলে শর্ত যুক্তভাবে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায়। এখন আইনের যে পরিস্থিতি, তাতে যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে খালেদা জিয়াকে আগে যে শর্তযুক্ত মুক্তি, সেটিকে বাতিল করতে হবে।

বাতিল করে স-অবস্থানে (আগের অবস্থায়) যাওয়ার পর আবার অন্য বিবেচনা করা যাবে। আইন অনুযায়ী, এখন যে অবস্থান, আইনের সেই অবস্থান থেকে সরকারের আর কিছু করার নেই।

বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে রোববারও এক সমাবেশ থেকে আলটিমেটাম দিয়েছেন বিএনপির নেতারা।


ভিসানীতিতে সরকারের মাথা নষ্ট: ফখরুল

রাজধানীর ধোলাইখালে সোমবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধাদানে দায়ী বা জড়িত’ ব্যক্তি-সংস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা বিধিনিষেধে সরকারের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আজকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের উৎকণ্ঠার কথা প্রকাশ পেয়েছে। সচিবালয়সহ সর্বত্র একই আলোচনা।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে ফখরুল এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এই সমাবেশ করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কারচুপি করেছে। আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু না হলে দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহল মেনে নেবে না।’

‘আমেরিকার ভিসানীতিতে সরকারের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। আজকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের উৎকণ্ঠার কথা প্রকাশ পেয়েছে। সচিবালয়সহ সর্বত্র একই আলোচনা।’

সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের রাজনীতি নষ্ট করেছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের মনে থাকার কথা। ১৯৭৫ সালের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। তখন শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানুষের কথা বলার অধিকার বন্ধ করেছেন। দেশের সব পত্রিকা বন্ধ করে রেখেছিল। এবার সেই সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিভিন্ন কায়দা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন বাতিল করেছে। কিন্তু এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক সময় আওয়ামী লীগের দাবি ছিল। তারাই এ আইন তৈরি করেছে। আজ তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য জোর করে এ আইন বাতিল করেছে।’

গ্রেপ্তার করে আন্দোলন থামানো যাবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সমাবেশ শুধু আজকে করছি না। গত এক বছর থেকে সারাদেশে সভা সমাবেশ করে আসছি। সারাদেশে আমাদের ২০ জন নেতা-কর্মী তাদের বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন। এ ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৬ বছরে আমাদের অসংখ্যা নেতা-কর্মীকে গুম করেছে। গ্রেপ্তার, গুম, খুন করে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যের এই সরকারের বিরুদ্ধে এক বছর যাবৎ আন্দোলন করছি। আন্দোলনে ইতোমধ্যে ২২ জন শহীদ হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য একটাই, গণতন্ত্রকামী মানুষকে আন্দোলন থেকে দূরে রাখা এবং একদলীয় নির্বাচন করা।’

সমাবেশে প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার স্মৃতিচারণ করে ফখরুল বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারও সঙ্গে তিনি আপস করেননি। আরেক নেতা পিন্টুকে জেলের ভেতর হত্যা করেছে। আজকে যারা বন্দি আছেন, তাদের মুক্ত করেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করব।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘৩০ বছর আগের মামলায় বিএনপির নয়জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। এক নেতাকে ৭০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এগুলো করে ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো আবারও তারা ভোটবিহীন নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। সারা পৃথিবী বলছে গত দুটি নির্বাচন চুরি করেছো... এবার নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। সরকার বলছে যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। অবশ্য তা দেশের মানুষ তো দূরের কথা, পাগলও বিশ্বাস করে না।’

সরকারকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চাঁদপুরে ছয় হাজার কোটি টাকার বালু খেয়ে ফেলেছে। আর কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে দেশের অবশিষ্টগুলোও খেয়ে ফেলবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আগেও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। তারা একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। এবার তারা কৌশল বদলেছে। আদালতকে ব্যবহার করে তারা তত্ত্বাবধায়ক প্রথা বাতিল করে অবৈধ ক্ষমতাকে জায়েজ করে নিয়েছে। বিচারকের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে আটজনই এ প্রথা বাতিলের বিপক্ষে বলেছিলেন। তারপরও গায়ের জোরে করেছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বিএনপি একা করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ দাবিতে ২২ জনকে পুড়িয়ে মেরেছে আজকের আওয়ামী লীগ।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ঢাকা দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ অন্যরা।


বিএনপিকে ৩৬ দিনের আলটিমেটাম দিলেন কাদের

ওবায়দুল কাদের সোমবার রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘আগুনসন্ত্রাস ও নাশকতার রাজনীতি’ ছেড়ে বিএনপিকে ‘সঠিক পথে’ ফিরে আসতে ৩৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে বিএনপি সঠিক পথে না এলে তাদের অপরাজনীতির কালো হাত ভেঙে দেয়া হবে।

সোমবার রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শান্তি সমাবেশ থেকে বিএনপিকে শেষ বার্তা দিলাম, সর্বশেষ বার্তা, ৩৬ দিনের আলটিমেটাম দিলাম, ৩৬ ঘণ্টা নয়। ৩৬ দিনের মধ্যে অপরাজনীতি, আগুনসন্ত্রাস, নাশকতার রাজনীতি ছাড়তে হবে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। যদি এ সময়ের মধ্যে বিএনপি সঠিক পথে না আসে, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের অপরাজনীতির কালো হাত গুঁড়িয়ে দেব, ভেঙে দেব।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে রোববার দলটির দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘তারা তাদের নেত্রীর জন্য কিছুই করতে পারেনি। শেখ হাসিনার দয়া ও মহানুভবতায় খালেদা জিয়া বাসায় বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘ফখরুলের লজ্জা করে না। আজকে ৩৬ ঘণ্টা আলটিমেটাম দিচ্ছে, কিন্তু ৩৬ মিনিটও বিএনপি খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করতে পারেনি। বাংলাদেশের কোথাও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ৩৬ মিনিটও আন্দোলন হয়নি। আজকে আওয়ামী লীগকে আলটিমেটাম দিচ্ছে।’

‘৩৬ দিনের আলটিমেটাম দিলাম, ঠিক হয়ে যান। কোমর তো ভেঙে গেছে, হাঁটুও ভেঙে গেছে গোলাপবাগের গরুর হাটে, গর্তে পড়ে কোমর ভেঙে গেছে। ফখরুল এখন ঠিক হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। বিএনপির নেতারা এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। বাজার খারাপ, লোক আসে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি যদি অস্ত্র নিয়ে আসে ওই হাত ভেঙে দিতে হবে। যদি আগুন নিয়ে আসে ওই হাত পুড়িয়ে দিতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর।’

আওয়ামী লীগ সরকার কারও ভিসানীতির তোয়াক্কা করে না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বার্তা দিয়ে দিচ্ছি, কারও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা আমরা করি না। বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি কারও নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করার জন্য নয়। এ দেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছি কারও নিষেধাজ্ঞা মানার জন্য নয়। আমার গণতন্ত্র আমি করবো। আমার নির্বাচন আমি করবো। তুমি কে? সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে আটলান্টিকের ওপার থেকে নিষেধাজ্ঞা দেবে? এ দেশ গ্যাবনের আলী বঙ্গোর দেশ নয়। এ দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ।’

‘আমি জানি সারা দুনিয়ার কোথাও গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত নয়। আজকে যারা নিষেধাজ্ঞার কথা বলে, তাদের নিজেদের দেশেই গণতন্ত্র ত্রুটিমুক্ত নয়, মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পতাকা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। কিছুই তারা করতে পারছে না।’

সরকার দেশের জনগণকেই কেবল পরোয়া করে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘জনগণ ছাড়া কোনো নিষেধাজ্ঞা, ভিসানীতি আমরা মানি না, মানবো না। আমার নির্বাচন আমি করবো, আমার নিয়মে আমি করবো। সংবিধান কীভাবে নির্বাচন করতে হবে বলে দিয়েছে। কারও খবরদারিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র চলবে না। কারও খবরদারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন চলবে না।’

বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ওপর ভর করেছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমরা ভর করেছি জনগণের ওপর। ভিসা-টিসা বাস্তবে দেখা যাবে। এটাই আমাদের ক্ষমতার ভিত্তি, উৎস। জনগণের সঙ্গে ক্ষমতায় আছি, আগামী জানুয়ারিতে নৌকায় করে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবো।’

আপস নয়, রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে বলে জানিয়ে দেন কাদের। তিনি বলেন, ‘রাজপথে এসে অবস্থান নেবেন, সেই খেলা আর খেলতে দেওয়া হবে না। সুযোগ একটাই; নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনে যদি না আসেন খেলার আগেই হেরে যাবেন।’

নির্বাচন যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনা ছাড়া কারও অধীনে নির্বাচন মেনে নেবে না, নির্বাচন হবে না।’

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট ও দুঃখ দূর করার জন্য বিদেশিদের কাছে তদবির করে বেড়াচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের আজ শেখ হাসিনার মতো ঈমানদার নেতা আছেন, আল্লাহর আশীর্বাদ ততদিন বাংলাদেশের জনগণের ওপর আছে। হতাশ হবেন না। সাময়িক কষ্ট চলে যাবে, সুদিন আবার আসবে।’

‘আওয়ামী লীগ যখন খেলবে তখন ফাউল করলে পা ভেঙে যাবে’, যোগ করেন কাদের।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির পলাতক দণ্ডিত নেতা তারেক রহমানের ওপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কী হলো ফখরুল সাহেব?’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি দল মাথা গরম করব না। ওরা করুক তাফালিং। এই তাফালিং আর কয়দিন? লাফাইতে লাফাইতে আবার বসে যাবে।’

মন্ত্রী জানান, ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন হবে। তার আগে ৭ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন হবে। ওইদিন রাজধানীর দিয়াবাড়িতে সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শবনম জাহান শিলা ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।


ভিসানীতির আড়ালে ষড়যন্ত্র হলে দেশবাসী বরদাশত করবে না: হানিফ

মাহবুবউল আলম হানিফ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, বিএনপির এই চক্রান্তে সুশীল সমাজের কিছু মানুষ উসকানি দিয়ে কথা বলছেন। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য ভিসানীতি অসম্মানজনক। কিন্তু সেই সময়েও তারা উসকানি দিচ্ছেন। আর ভিসানীতির আড়ালে ষড়যন্ত্র হলে দেশবাসী বরদাশত করবে না।

সোমবার রাজধানীর আজমপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে বক্তৃতায় হানিফ এসব কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন হতে পারে। দেশের মানুষ নির্বাচনমুখী। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে কি না, সেটা আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফয়সালা হবে। ঠিক এ সময়ে বিএনপি এবং তার দোসররা নির্বাচন বাধাগস্ত করার জন্য অশান্ত পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত করে যাচ্ছে।’

তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। আপনারও (পশ্চিমা বিশ্ব) অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান। তাহলে আপনাদের আর আমাদের পার্থক্য কোথায়? কোনো পার্থক্য নেই। তাহলে কেন নাটক করা হচ্ছে? ভিসানীতির আড়ালে যদি কোনো ষড়যন্ত্র হয়, সেই ষড়যন্ত্র কীভাবে প্রতিহত করতে হয়, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সেটা ভালো করে জানে।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নেতারা জানে নির্বাচনে এলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসবে না। কারণ তারা ক্ষমতায় থাকতে একদিকে হাওয়া ভবন বানিয়ে লুটপাট করেছে আর আরেকদিকে হত্যা, সন্ত্রাস করেছে। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় এমপিসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মী হত্যা করেছিল। দেশকে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের চারণভূমি বানিয়েছিল। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেছিল। যার কারণে দেশের মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতার বাইরে থাকতেও বিএনপি সহিংসতা করেছে। নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য সহিংসতা করেছিল। পেট্রোল বোমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে জনগণের কাছে ধিকৃত হয়েছে। এই সন্ত্রাসী দলকে দেশের জনগণ আর কখনো গ্রহণ করবে না।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করছে কিন্তু তাদের নেতা কে? তাদের নেতা (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান চুরি, সন্ত্রাস, লুটপাট ও হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়ে পলাতক। দেশের মানুষ কোনো চোর, সন্ত্রাসীকে দেখতে চায় না বলে তারা এখন ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে।’

বিএনপিকে ‘ছাগলের তিন বাচ্চার মতো লাফালাফি না করার পরামর্শ’ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্তে সুশীল সমাজের কিছু মানুষ উসকানি দিয়ে কথা বলছেন। একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য ভিসানীতি অসম্মানজনক। কিন্তু সেই সময়েও তারা উসকানি দিচ্ছেন।’

মার্কিন ভিসানীতির অন্তরালে কী আছে জাতি জানতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, শেখ হাসিনার কর্মী। এই ভিসানীতির অন্তরালে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে তাহলে দেশবাসী তা কখনো বরদাশত করবে না।’

দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজপথে থাকুন। নির্বাচন বানচাল করার পশ্চিমা অপতৎপরতা রুখে দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিজয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।’

শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম এমপি। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শবনম জাহান শিলা ও যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি।


ডাক এলেই রাস্তায় নামতে হবে: দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘এখন আর ঘরে থাকা যাবে না। ঘরে থাকার সময় নেই। দল থেকে যখনই ডাক আসবে, যে যেখানে যেভাবেই থাকেন না কেন রাস্তায় নেমে আসতে হবে।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক দোয়া মাহফিলে শামসুজ্জামান দুদু এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি ও তার আশু রোগমুক্তির কামনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করেন ‘৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতারা’।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘যে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতার জন্য এক সাগর রক্ত দিয়েছে সেই দেশের স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী আজ জেলে। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জীবনে কোনো নির্বাচনে হারেননি। এ রকম একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে একটা বর্বর সরকার আটক করে রেখেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই জালিম সরকার আমাদের নেত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। আমি এটাকে হত্যাই বলবো, কারণ এটা কোনো মামলা নয়। সাজার তো প্রশ্নই ওঠে না। নিজেদের আদালত দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। নেত্রীকে মুক্ত করতে এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

শামসুজ্জামান দুদু আরও বলেন, ‘নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রীরাও লাঠি হাতে হল থেকে বেরিয়ে এসেছিল। আর ছাত্ররা তো জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। সেই লড়াইটার কথা আমাদের স্মরণ করতে হবে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের বীররা আছে, তার সঙ্গে বর্তমান সময়ের বীররাও আছে। তাদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।’

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলনসহ ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।


খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে পিঠের চামড়া থাকবে না: অলি আহমদ

কর্নেল অলি আহমদ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসায় বেশি দেরি করা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।

তিনি বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। বর্তমান সরকার ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে তার লিভার পরিবর্তন করা অতীব জরুরি। অন্যথায় অপ্রত্যাশিতভাবে যে কোন সময় বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যেতে পারেন। এ জন্য সরকারকে জবাবদিহিতা করতে হবে। জনগণকে মোকাবিলা করতে হবে। হয়তো অনেকের পিঠের চামড়াও থাকবে না। সাবধান বেশি দেরি করা উচিত হবে না।’

সোমবার রাজধানীর পূর্ব পান্থপথস্থ এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এলডিপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তিনি কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে, সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং সংবিধানকে কার্যকর করতে হবে।’

দেশে গণতন্ত্র নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বহুদিন থেকে সরকারকে সতর্ক করে আসছি যে, দেশে গণতন্ত্র নাই, আইনের শাসন নাই, সুশাসন নাই, ন্যায় বিচার নাই। দেশের জনগণ পুলিশ ও মাস্তানদের হাতে জিম্মি এবং প্রতিনিয়তি হয়রানির শিকার হচ্ছে। মৌলিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। দিনের বেলা নির্বাচন হয় না। আর যদি নির্বাচন দিনের বেলা হয়ও তবে তা হয় নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন। জনগণ ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায় নাই। সমগ্র দেশ মাস্তান বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। মনে হয় আমরা অসভ্য সমাজে বসবাস করছি।’

কর্নেল অলি বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যত দ্রুত সম্ভব এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। দেশকে আওয়ামী লীগের হাত থেকে স্বাধীন করতে হবে। অন্যথায় আত্মসম্মান নিয়ে এদেশে বসবাস করা সম্ভব নয়। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় বিভিন্ন দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করি এবং স্বাধীন বাংলাদেশ নিশ্চিত করি।’

বিষয়:

তাপসের বক্তব্য মহল্লার সন্ত্রাসীদের মতো: রিজভী

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য রাখেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নুর তাপসের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তাপসের বক্তব্য পাড়া মহল্লার সন্ত্রাসীদের মতো। তাদের কথায় মনে হয় আমরা প্রজা আর তারা জমিদার।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের অভাবে দেশে চলছে এক মানবতাহীন অন্ধকার যুগ। দেশকে ফ্যাসিজমের অন্ধকারে নিমজ্জিত করে এক ব্যক্তি। এক দলের দুঃশাসনে গণতন্ত্রকামী মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে নামিয়ে আনা হয়েছে। গণতান্তিক বিশ্ব থেকে শেখ হাসিনার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন পৃথিবীর সব স্বৈরশাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার পারস্পরিক প্রীতির সম্পর্ক।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, ভিন্ন মত, বিরোধী কন্ঠস্বর এখন শেখ হাসিনার শত্রুপক্ষ বলেই অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসকদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মাখামাখি। তাই আওয়ামী লীগের মতো একটি দল তাদের অধীনে এমন কোনো নির্বাচন হতে দেবে না, যেখানে তাদের পরাজয় হয়। সুতরাং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটাধিকার প্রয়োগই একমাত্র পূর্বশর্ত।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বলেছেন, ‘ছেলের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করলে করবে, তাতে কিছু আসে যায় না’। তাহলে প্রধানমন্ত্রী ছেলের সম্পদের কথা স্বীকার করলেন। তাহলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ ও অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করলে জনগণ বুঝতে পারতো আসল ঘটনাটা কী।’’

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমেরিকার নিজেদের সুশাসন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ নিয়ে তাদের বিপক্ষরাও কখনো প্রশ্ন তোলেনি। স্বাধীনতার পর থেকেই তারা গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশ সাধন করেছে। সেই দেশের সরকার ইচ্ছা করলেও কারও ন্যায়সঙ্গত সম্পদ, বাড়ি ঘর বা অর্থকড়ি বাজেয়াপ্ত করতে পারে না। শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ দেশের লক্ষ কোটি টাকা পাচারের আরও অনেক লুকায়িত ঘটনার আভাস পাওয়া যায়। যাদের আমলে সরকারি ট্রেজারি থেকে শুরু করে অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়, সেই দেশের লুটেরা গোষ্ঠী ক্ষমতাকে গায়ের জোরে আঁকড়ে ধরে রাখবে এটাই স্বাভাবিক।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত সময় মাত্র এক ঘণ্টা। এই এক ঘণ্টার বক্তব্য দেয়ার জন্য একটা হতদরিদ্র দেশের মানুষগুলোর খাবারের পয়সায় ১৬৭ জনের বিশাল বহর নিয়ে ১৮ দিনের লম্বা সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতেই প্রমাণিত হয় শেখ হাসিনার উন্নয়নের বুলি দিয়ে মানুষকে ফতুর করার উন্নয়ন। সেটি বুঝতে বা অনুধাবন করতে বেশি জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্রে তার এই এক ঘণ্টার কর্মসূচির বাইরে আর কোনো কর্মসূচি আছে বলে কোনো সূত্র থেকেই জানা যায়নি। গরিব মানুষের টাকা নয়ছয় করতে প্রধানমন্ত্রীর একটুও বিবেকে বাধে না।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা মরণকামড় দেয়ার জন্য নানাবিধ নিপীড়নের যন্ত্র গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের ওপর নামিয়ে এনেছেন। দেশব্যাপী চলছে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তারের হিড়িক, হামলা ও ভাঙচুরের মতো নিষ্ঠুর ঘটনা। তিনি মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে সংকটাপন্ন করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলো উপেক্ষা করে ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের আচরণ করছেন বলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, আদালত, বিচারক সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর তল্পিবাহকে পরিণত করা হয়েছে। বিচারের নামে ক্যামেরা ট্রায়াল ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আদালতে সাজানো সাক্ষীর মুখে শেখানো বুলি শিখিয়ে এবং দীর্ঘক্ষণ আটকিয়ে রেখে কক্ষে কক্ষে কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পের আদলে নির্দয় ব্যবহার করা হচ্ছে। জার্মানির নাৎসী নেতা হিটলারের সহযোগী গোয়েরিং ঘোষণা করেছিলেন ‘হিটলারই হলো আইন’। এখন শেখ হাসিনার তল্পিবাহকরা মনে করছেন শেখ হাসিনাই হলো আইন।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রাক্কালে আদালত প্রাঙ্গণে ফ্যাসিবাদের নমুনা ফুটে উঠতে শুরু করেছে। রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে গ্রেপ্তার করে প্রায় ৫ মাস ধরে হয়রানি করা হচ্ছে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে। গতকাল রাজশাহীতে বাকশালী আদালত একটি সাজানো মিথ্যা মামলায় তিন বছরের সাজা দিয়েছে। অথচ উক্ত মামলায় এফআইআর এ তার কোনো নাম ছিল না, তাছাড়া বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। দেশ থেকে বিরোধী দলের তালিকা মুছে দেয়ার জন্যই এখন সারাদেশব্যাপী আজ্ঞাবাহী আদালত দিয়ে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া শুরু হয়েছে। আমি এই সাজার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি।’

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘শুধু পুলিশ ও আইন আদালত দিয়েই নয়, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়ে বিরোধী দলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এর সেবামূলক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালিকের নির্দেশে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে বনানীতে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কেউ অনিয়মের অভিযোগ তুলতে পারেনি। স্বল্প খরচে আধুনিক চিকিৎসা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম অর্জন করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শুধু দখলের উদ্দেশ্যেই কোনো প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি তালা মেরে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেয়ার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলা দেয়া হচ্ছে উল্লেখে করে রিজভী বলেন, ‘গত ২৮ ও ২৯ জুলাই থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৩৩৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৫ জন, মোট আসামি ১৪ হাজার ৩৬০ জন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত হন ১ হাজার ৫৪০ জন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন,আব্দুস সালাম আজাদ, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, আমিরুল ইসলাম আলিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

খালেদা জিয়ার কিছু হলে পরিণতি শুভ হবে না: আব্বাস

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মির্জা আব্বাস
আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৫:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) কিছু হলে পরিণতি শুভ হবে না।’

সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় ৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ জানাবো, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা চলে গেছে। আর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে যেন দেশনেত্রীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা কথা আমি আবারও বলছি, এই অবস্থায় দেশনেত্রীর যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে আপনাদের কারও কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা রাখবো না। আমি দুঃখিত, আমি একটু বোধহয় আবেগপ্রবণ হয়ে গেছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আসলে ওনাকে গ্রেপ্তার করে অসুস্থ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হবে, এটাই ছিল তাদের প্ল্যান। সেই প্ল্যান এখন কার্যকর করছে। আর না হলে কীভাবে অমানুষের মতো, অমানবিকতার মতো একটা কথা বলেন, খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই, আইনের জটিলতা আছে।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে পৃথিবীর কোনো আইন-টাইন কাজে লাগে না। যখন জীবন বাঁচানোর প্রয়োজন হয়, তখন তার জন্য যে চিকিৎসা দরকার, সেটা করা দরকার। এটা হলো মানবিক আইন। আন্তর্জাতিক জেনেভা কনভেনশনের একটা আইন আছে, সেই আইনে উনি চিকিৎসা পেতে পারেন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।’


আমিনবাজারে বিএনপির সমাবেশ স্থগিত, পুলিশের বিরুদ্ধে মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেটেড ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৪:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার পতনের একদফা দাবিতে রাজধানীর দুই প্রবেশমুখ ধোলাইখাল ও আমিনবাজারে সমাবেশ করার কর্মসূচি ছিল বিএনপির। সোমবার দুপুরের পর এই সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গতকাল রোববার রাতে সমাবেশের জন্য তৈরি করা মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আমিনবাজারে চিশতি ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন বিএনপি সমাবেশের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করে। এটি ভাঙচুর করা হয়েছে।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোর্স নিয়ে এই মঞ্চ ভাংচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাভার থানার ওসি রাত দেড়টার দিকে আমাকে ফোন করে বলেন- আপনারা আগামীকাল সমাবেশ করতে পারবেন না। আমরা সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে দিচ্ছি। আমি ওসিকে জিজ্ঞেস করলাম, রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে মঞ্চ তৈরির স্থান পরিদর্শন করেছে। তখন তো পুলিশ কিছু জানায়নি। রাত দেড়টার দিকে কেন মঞ্চ ভেঙে দেয়ার কথা বলছেন? ওসি বলেন- আওয়ামী লীগ সমাবেশ করতে পারেনি, আপনারাও এখানে সমাবেশ করতে পারবেন না।’

নিপুণ রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমিনবাজারের আজকের সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার একইস্থানে আমরা সমাবেশটি করব।’

এদিকে আজ দুপুরের পর রাজধানীল ধোলাইখালে বিএনপির আরেক সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিষয়:

banner close