মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

কূটনীতিকদের সম্মানে বিএনপির ইফতার আজ

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৩ ১৩:৩৬

প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র রমজান মাসে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। ইফতার মাহফিলে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।


নির্বাচিত

বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সংসদে রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আসবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১১
 নিজস্ব প্রতিবেদক

যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সরকার কাজ করতে চায় জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে বিরোধী দলকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের মতো বক্তব্য দিতে শুরু করেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রেসক্লাব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বহু মানুষ আন্দোলন করেছে, বুকের রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছে, অনেকে দৃষ্টি হারিয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক ত্যাগে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হয়েছে। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সব দলের নেতা কর্মীদের ত্যাগকে সম্মান করে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজার মিথ্যা মামলা হয়েছে। বিনা বিচারে নেতাকর্মীদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ ২০ হাজার নেতাকর্মী গুম খুন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় বন্দি রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৮ বছর নির্বাসিত ছিলেন।

দীর্ঘ দিনের আন্দোলন ২৪-এর জুলাইয়ে এসে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়, ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদায় নেয়। জুলাইয়ের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকে গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করার সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি যা যা স্বাক্ষর করেছে তা অবশ্যই পুরন করা হবে। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তা সংসদে আলোচনা হবে। রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে সেটি হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। একটি মহল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটি ঠিক হচ্ছে না। এটি পুরোপুরি ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই কারণ বিএনপি হচ্ছে সেই দল যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে গেছে। এদেশে যতবার স্বৈরাচার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে বেগম খালেদা জিয়া তা পুনরায় মেরামত করেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করেছে তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুক্তবাজার অর্থনীতির পথ তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাইভেট সেক্টরকে সামনে নিয়ে আসা এই কাজগুলো কিন্তু সবই বিএনপি করেছে। এখন আবার দেশ গড়ার নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নষ্ট হওয়া অর্থনীতি সংস্কার করা। ১৭/১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট ও লুটপাটের পর আবার নতুন করে কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে। টাস্কটা হচ্ছে এমন যে ধ্বংস হয়ে যাবে ওখান থেকে বিএনপিকে আবার গড়ে তুলতে হবে। তাই করেছে বিএনপি। যতবার ধ্বংস হয়েছে, রাষ্ট্র ধ্বংস হয়েছে, রাজনীতি ধ্বংস হয়েছে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে। বিএনপি সেখান থেকে আবার শুরু করেছে।

গণভোট নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনটি বিষয় একমত হয়েছে বিএনপি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের একটি প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। সেটিও বিএনপি জনগণের কাছে জবাব দিয়েছে এবং ভোটে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে।

আমরা সরকারে এসেছি এখন আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি। জুলাই ঘোষণার প্রতিটি অংশ অক্ষর আমরা যে স্বাক্ষর করেছি, আমরা সেটা করতে চাই। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কাজ হয়েছে। পার্লামেন্টে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে জুলাই অ্যামেন্ডমেন্ট সংশোধনী কমিটি করা হয়েছে। এখানে এখন শুরু হয়েছে শব্দ নিয়ে ডিবেট ওটাও সংস্কার হবে।

তিনি বলেন, আসুন পার্লামেন্টে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই, কথা বলি কোন কোন জায়গায় সমাধান সম্ভব আমরা তা করব।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের বর্তমান সহসভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেরণা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক অনুষ্ঠানে ওই আত্মপ্রকাশ ঘটে।

সংগঠনের উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান প্রমুখ।

নবগঠিত সংগঠনের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সম্পাদকের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ উল্লাহ মধু ও মুখোপাধ্যায় নির্বাচিত হন ইকবাল হোসেন (সাম্য শাহ)।

নুরুল হক নূর বলেন, এনসিপি দেশের রাজনীতিতে এখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডক্টর ইউনুস যেসব ছাত্র নেতাকে হাইলাইটস করেছিল, তারা বিদেশি শক্তির গুটি হিসেবে এদেশে কাজ করছে। সম্প্রতি সময়ে এইসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ছাত্ররা রাজপথ গিয়েছিল, এখানেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। দেশের এ সংকটে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পত্রিকার খবর অনুযায়ী বাংলাদেশে চার কোটির উপরে শিক্ষিত বেকার আছে, তাহলে সেই দেশে কল্যাণকর রাজনীতি কীভাবে করবেন। জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছে তাদের জন্য আমরা কি করতে পেরেছি। দেশে গ্যাস, বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় সংকট তাহলে আপনি রাজনীতি করবেন কোথায়। বিএনপি বলেছিল এক কোটি বেকারকে চাকরি দেবে- কিন্তু আমরা মনে করি; তারা দিতে পারবে না। বিদেশিরা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে না। তাহলে কর্মসংস্থান হবে কীভাবে? বিএনপি যে অঙ্গীকার (নির্বাচনি ইশতেহার) করেছিল, অলরেডি তা ভঙ্গ করা শুরু করেছে। প্রধান বিচারপতি যদি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে তাহলে সেই দেশের বিচার বিভাগ কিভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে?

তিনি বলেন, একাত্তরের আকাঙ্ক্ষা আমরা এখনো পূরণ করতে পারি নাই। ৯০ নির্বাচনের পরেও এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় নাই। বিদেশি একটা শক্তি এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. ইউনুস সরকারকে নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু তিনি সে আশা পূরণ করতে পারেন নাই। জুলাই অভ্যুত্থানের তৃতীয় শ্রেণির কর্মীদের তিনি মাস্টারমাইন্ড এবং উপদেষ্টা বানিয়ে দিয়েছিলেন। বিগত সময়ে এ দেশের ছাত্ররা দেশে আন্দোলন সংগ্রাম করেও কখনোই ক্ষমতায় বসেন নাই। সারা দেশের ছাত্ররা ড. ইউনূস সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, কিন্তু তিনি গুটিকয়েক ছাত্রকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের মানুষের জুলাই আকাঙ্ক্ষাকে বেহাত করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ফ্যাসিবাদের কয়েকজন দোসর চাকরিচ্যুত করেছেন এবং বিচারের আওতায় এনেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের রাজনীতিতে ভবিষ্যতে সংকট দেখতে পাচ্ছি। এ সংকট কাটাতে দেশের টপ লেভেলে রাজনীতিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।

সাইফুল হক বলেন, যারা এনসিপি গঠন করেছে- তারা রাজনীতিকে টি-টোয়েন্টি খেলা মনে করছেন। তাদের বলব- রাজনীতিতে অনেক লড়াই সংগ্রাম আছে, আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। তারা গালাগালিকে রাজনীতির একটা অংশ বানিয়ে নিয়েছে। এনসিপির এই তরুণ নেতাদের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লোভ জাগিয়ে তুলেছিল। এনসিপি গোটা একটা প্রজন্মকে রাজনীতির নামে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা মনে করছে এলাম-দেখলাম-জয় করলাম, এটা রাজনীতি হতে পারে না। এনসিপি যেটা করছে এটা অপরাজনীতি। এনসিপি কে বলব আপনারা ধৈর্য ধরুন, রাজনীতি একটা লম্বা পথ। বিএনপি অনেক ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছে। বিএনপিকে বলব জামাত এবং এনসিপির জন্য রাজনীতির মাঠ খালি করে দিয়ে টেকসই রাজনীতি করা সম্ভব নয়। একটা গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে এ দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিএনপির এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।


নির্বাচিত

দেশে আবারও একটা ভয়ের পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা–কর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি ইঙ্গিত করে দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে আবারও ভয়ের পরিবেশ ফিরে আসছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।‘সম্প্রীতির জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজক এনসিপি ও বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন।

আলোচনা সভায় এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা একটা ভয়ের পরিবেশ আবারও দেখতে পাচ্ছি। বিরোধী মতকে দমন–পীড়ন করার পুরোনো কায়দা আমরা এই সরকারের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।’

এ সময় দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে এই ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে জুলাই সনদের সঠিক বাস্তবায়ন, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশে সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা।

সরকার এসব ইস্যুতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে এনসিপি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান দলটির আহ্বায়ক। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে এবং দেশের বর্তমান সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু থেকেই অসাম্প্রদায়িক চরিত্র বিদ্যমান ছিল উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সব সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে নয়, বরং দল-মতনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে সংখ্যালঘুদের ওপর যেসব নির্যাতন ও সহিংসতার খবর আসছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

‘জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়িত হয়নি’

যে চেতনা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল, সেই চেতনা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে আলোচনা সভায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল ও আর্চবিশপ হাউসের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও।

টমাস রোজারিও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথা বিএনপি মুখে বললেও সেটা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ হয়। সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ করেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সরকার যাতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। তিনি বলেন, এটা দেশের ১৭ কোটি মানুষের দাবি।

ঐতিহাসিকভাবে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে বলে আলোচনা সভায় উল্লেখ করেন বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল।

তবে ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের বলেন, যেই চেতনা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সেটা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ও ধর্মীয় উপাসনালয় আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কোনো গণমাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে তেমন আলোচনা নেই।

আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বলেন, জুলাইয়ের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ার। যেখানে ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে সবার অধিকার সমান থাকবে।

চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাসরুর বলেন, ‘বিভিন্ন পক্ষ এখনো চেষ্টা করছে জুলাইকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করার। কিন্তু ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যারা জুলাইয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন, তারাই সাক্ষী জুলাই ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন। কাজেই বিষয়টি আমাদের সঠিকভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটার ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা ও দখল করেছে বিগত আওয়ামী লীগ। কিন্তু এসব ঘটনার বিচার হয়নি। তিনি বলেন, ‘নতুন যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি বা যেই বাংলাদেশের কথা আমরা বলছি, সেটা এখনো অর্জিত হয়নি।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাস। সঞ্চালনা করেন জাতীয় যুবশক্তির সহসভাপতি প্রলয় কুমার পাল ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ধর্ম ও সম্প্রীতিবিষয়ক সম্পাদক জয় বিশ্বাস।


নির্বাচিত

নোয়াখালীতে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, আহত ৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের দিনার দোকান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সংঘর্ষ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে পিএল একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক শিবিরকর্মীকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। খবর পেয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার মধ্যস্থতায় চায়ের দোকানে দুই পক্ষের বৈঠক বসে। জামায়াত নেতাদের দাবি, আলোচনার চলাকালেই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতাকর্মীরা শিবিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে রাত পৌনে ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন নেতাকর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হন।

সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ থেকেই পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। জামায়াত নেতৃবৃন্দের দাবি, বিএনপি নেতারা নিজেদের কার্যালয় নিজেরা ভেঙে শিবিরের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বের দাবি, শিবির বহিরাগতদের ডেকে এনে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং তাদের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা করেছে। বর্তমানে আহতদের বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে দুজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

যারা একাত্তরকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনো বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,‘আমি সব সময় একটা কথা বলি, যারা একাত্তরকে ভুলে যেতে চায় বা ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনো বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। কারণ, বাংলাদেশে বিশ্বাস করতে হলে আমাদের অবশ্য অবশ্যই একাত্তরকে সামনে আনতে হবে। সেটা নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।’

একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।’

সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদের সমস্যা ও দাবি সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। সরকার আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগের ইতিহাসও স্মরণ রাখতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ প্রমুখ।


নির্বাচিত

উপদেষ্টারা দেশের বারোটা বাজিয়ে চলে গেছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তাঁদের কোনো উপদেষ্টা বানানোর পরিকল্পনা নেই, কারণ আগের সব উপদেষ্টারা দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এনসিপির এই নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ পরিচালনা করার সক্ষমতা তারেক রহমানের নেই এবং তিনি ছয় মাসের দেশ পরিচালনার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। যে পরীক্ষায় কেউ একবার ব্যর্থ হয়, তাঁকে পুনরায় সেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যের চাঁচাছোলা ধরণ ও তা নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনা প্রসঙ্গে পাটওয়ারী জানান, তিনি একটু এভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত এবং তা সবাইকে কিছুটা সহ্য করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় বসলে শাসকদলকে সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত বেপরোয়া হওয়া যাবে না।

বক্তব্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করে হুংকার দিচ্ছেন এবং দেশে ফেরার কথা বলছেন; কিন্তু তিনি বাংলাদেশের যেকোনো দিক দিয়ে ফেরেন না কেন, দেশের জনগণ তাঁর ফাঁসি নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া স্থানীয় অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে কোম্পানীগঞ্জের বন্ধ হয়ে যাওয়া পাথর কোয়ারিগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।


নির্বাচিত

উপদেষ্টারা দেশের বারোটা বাজিয়ে চলে গেছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এক সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, তাঁদের কোনো উপদেষ্টা বানানোর পরিকল্পনা নেই, কারণ আগের সব উপদেষ্টারা দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক উবায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এনসিপির এই নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ পরিচালনা করার সক্ষমতা তারেক রহমানের নেই এবং তিনি ছয় মাসের দেশ পরিচালনার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। যে পরীক্ষায় কেউ একবার ব্যর্থ হয়, তাঁকে পুনরায় সেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যের চাঁচাছোলা ধরণ ও তা নিয়ে সৃষ্ট সমালোচনা প্রসঙ্গে পাটওয়ারী জানান, তিনি একটু এভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত এবং তা সবাইকে কিছুটা সহ্য করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় বসলে শাসকদলকে সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা রাখতে হবে, তবে অতিরিক্ত বেপরোয়া হওয়া যাবে না।

বক্তব্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়েও কড়া বার্তা দেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করে হুংকার দিচ্ছেন এবং দেশে ফেরার কথা বলছেন; কিন্তু তিনি বাংলাদেশের যেকোনো দিক দিয়ে ফেরেন না কেন, দেশের জনগণ তাঁর ফাঁসি নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া স্থানীয় অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে কোম্পানীগঞ্জের বন্ধ হয়ে যাওয়া পাথর কোয়ারিগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে বিএনপির পরিণতি: সারজিস আলম

সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির বহরে হামলার পর বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি সাংবাদিকদের সামনে এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে বিএনপির পরিণতিও শেখ হাসিনার চেয়ে ভয়াবহ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ওপর দিয়ে ভালো হওয়ার ভান করলেও ভেতরে-ভেতরে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের মতো বেপরোয়া সন্ত্রাসী বাহিনী হয়ে উঠেছে ছাত্রদল। তারেক রহমান কিংবা স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সবুজ সংকেত ছাড়া যুবদল ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা এ ধরনের হামলায় সাহস পেত না বলে দাবি করেন তিনি। হামলাকারীদের হাতে রড ও চাপাতি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের খাবারের জায়গায় পৌঁছামাত্র তাদের ওপর অমানুষিক হামলা চালানো হয়।

ছাত্রদলকে ‘চোখপিপাসু’ আখ্যা দিয়ে সারজিস বলেন, শেখ হাসিনা ছিলেন রক্তপিপাসু, আর বর্তমানের কিছু সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছে চোখপিপাসু। এর আগে হবিগঞ্জে তাদের এক কর্মীর চোখ তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং আজও চোখে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইটের আঘাত চালানো হয়। গাড়িতে এমনভাবে অতর্কিত হামলা করা হয়েছে যে, ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বড় ধরনের প্রাণহানির সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

এনসিপির এই নেতা স্পষ্ট জানান, শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি যদি নতুন করে আরেকটি একচ্ছত্র স্বৈরাচার কায়েম করতে চায় এবং অন্য কোনো দলকে রাজনীতির সুযোগ না দেয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। তারেক রহমান তাঁর পেটোয়া বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে সারজিস বলেন, তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেবেন।


নির্বাচিত

গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিস আলমের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং একটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা পৌনে তিনটার দিকে গোলাপগঞ্জ শহরের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সভা শেষে পদযাত্রার অংশ হিসেবে তারা সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একদল ব্যক্তি ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বহর লক্ষ্য করে পেপসির বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী বহর ও স্থানীয় কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এনসিপি নেতারা এই অতর্কিত হামলার জন্য বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।

এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যার ধারাবাহিকতায় সিলেটে দলটির এই ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।


নির্বাচিত

বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগে যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি এজাহার হিসেবে প্রহণ করতে পটুয়াখালী সদর থানার ওসির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে একমাত্র আসামি করা হয়েছে শহিদুল ইসলামকে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

মামলায় বলা হয়, প্রায় সাত বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে শহিদুল ইসলামের দেওয়া কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং নিজের বোন দেখাশোনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে গত ২৪ মার্চ সকালে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয় উল্লেখ করে এজাহারে আরও বলা হয়, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে।

এ নিয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখনো আদালতের আদেশের কপি হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


নির্বাচিত

হবিগঞ্জ ছাড়লেন নাহিদ-হাসনাতরা, জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির নেতারা। অভিযোগ দায়ের শেষে তারা মৌলভীবাজারের উদ্দেশে ফিরে যান।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন এনসিপির নেতারা। পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে তারা আবার হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন।

পরে মুছাই এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং সংসদ সদস্য মাহমুদা আক্তার মিতুসহ দলের নেতারা।

রাত ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে অভিযোগ দায়ের করেন এনসিপির নেতারা। অভিযোগের বাদী হন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে তাদের গাড়িবহর পুলিশ আটকে রাখে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামলা করতে হবিগঞ্জ থানায় যেতে চাইলে পুলিশ তাতেও বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসেই অভিযোগ দিতে বাধ্য হন তারা। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়ে বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছে।

এদিকে, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। একই দিন বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে জেলা যুবদল।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা ১৪৪ ধারা অমান্য করে শহরে প্রবেশ করে সমাবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কামাইছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করে এনসিপি। ওই ঘটনায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।


নির্বাচিত

জামায়াত ছাড়া এনসিপি রাজনৈতিক এতিম: আবু হানিফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াত ছাড়া এনসিপি রাজনৈতিক এতিম,বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে আবু হানিফ বলেন, জামায়াত কে ছাড়ছে এনসিপি,এমন একটা সংবাদ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আসলেই কি জামায়াত কে ছাড়ছে এনসিপি? মোটেও এমন না, তবে এই সংবাদের পিছনে উদ্দেশ্য ভিন্ন।

তিনি বলেন, একটু পিছনের দিকে গেলে খেয়াল করবেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপির শীর্ষ নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিতো।এর পিছনে ছিলো জামায়াত যেন তাদের গুরুত্ব দেয়। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বেশ ভালোই গুরুত্ব দিয়েছে এনসিপিকে।

‘ফলে এনসিপির ৬ জন সংসদ জামায়াতের ভোটে নির্বাচিত হয়। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এনসিপির তৃণমূলে আসলে তেমন ভিত্তি নাই। বরং জামায়াত এনসিপি কে প্রাণ দিয়ে রেখে।’

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত থেকে আরও বেশি সুবিধা যেন পায় সেজন্যই এনসিপি জামায়াতকে ছাড়ার কথা বলছে। বাস্তবতা হলো জামায়াত ছাড়া এনসিপি রাজনৈতিক এতিম। ফলে এনসিপি জামায়াতকে কখনই ছাড়বে না।


নির্বাচিত

জিয়া পরিবারের নেতৃত্বে ১৭ বছরের আন্দোলনেই তৈরি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি: রুহুল কবির রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছরের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘১৭ বছরের নিরন্তর রক্তঝরানো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিপুল শক্তি নিয়ে ছাত্র-জনতার বিস্ফোরণ ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বেরিয়ে যে অভিনব প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি করে, তা ভুলে যাওয়ার নয়; সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো ইতিহাস। অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীর আত্মত্যাগ এবং আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে এক ভয়ংকর রক্তপিপাসু দানবীয় ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট পতনের পর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বাক্-স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্ভয়ে চলাচলের নিশ্চয়তা। এসব অধিকারের জন্য বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১৭ বছর ধরে লড়াই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই সমাজে আরেকটি আন্দোলনের পটভূমি তৈরি হয়। যেটির ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রী, জনতা ও শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব গণজাগরণ আমরা দেখতে পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট। সেদিন অবসান ঘটে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের। সে কারণে আমরা একটি নতুন ধারণাও পেয়েছি। জুলাইয়ের এই বিপ্লবকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মিলিয়ে একটি সংগ্রাম ও রক্তঝরানো গণঅভ্যুত্থানের মাস হিসেবে ঘোষণার কথা আমরা শুনেছি এবং জানতে পেরেছি।

রিজভী বলেন, এ উপলক্ষে গত বছর বিএনপি যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছিল। এবারও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন এবং সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব জানান, দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচিগুলো আরও সুসংগঠিতভাবে পালনের লক্ষ্যে আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি)-এ একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close