আওয়ামী লীগ এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতায় থাকতে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে তারা (আওয়ামী লীগ) আজ পরাজিত হয়ে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার সকালে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আমীর খসরু। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে শেরে বাংলা জাতীয় যুব স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
আমীর খসরু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সফরে বেরিয়েছেন। তারা আজ সম্পূর্ণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার এ সফর হচ্ছে ক্ষমতায় থাকার শেষ চেষ্টা। তিনি দেশে-দেশে, দুয়ারে-দুয়ারে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু দেশের মানুষের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করা যায়, এটা আওয়ামী লীগ বিশ্বাসই করতে পারে না।’
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল মন্তব্য করে আমীর খসরু আরও বলেন, ‘এখন তাদের (আওয়ামী লীগ) নির্ভরশীলতা হচ্ছে প্রশাসনের ওপর। তাদের (প্রশাসন) ওপর ভর করে যদি আবার ক্ষমতায় থাকতে পারে বা যেতে পারে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে সরকার বলি না। কারণ এখানে কিছু দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তারা মিলে রেজিম করেছে, তারা দেশটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ সংঘবদ্ধ চক্র এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য ধরনা দিচ্ছে। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই— বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যত দেশেই ঘুরে বেড়ান না কেন, কোনো লাভ হবে না। পরাজিত হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ জয়ী হয়েছে, ভাষা আন্দোলনে মানুষ জয়ী হয়েছে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জয়ী হয়েছে...তাদের বিরুদ্ধে কোনো শক্তি লড়ে জয়ী হতে পারে না।’
সারাবিশ্ব বাংলাদেশের ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে কারা ভোট চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল, আগামীতে কারা যুক্ত হতে পারে তা দেশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করছে। সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের ওপর নজর রাখছে।’
শেরে বাংলা জাতীয় যুব স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি আখতারুল আলম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, তার দল আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিভাগ চালু করবে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের ভুক্তভোগী পরিবার ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে বিএনপি সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন তারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও আহতদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের দেখভালের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষায়িত বিভাগ খোলার পরিকল্পনা তার দলের রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছেন। তাই একাত্তর যদি হয় স্বাধীনতা অর্জনের বছর, তবে চব্বিশ হলো সেই স্বাধীনতা রক্ষার বছর।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন। স্বজন হারানো বেদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র দুইভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে। প্রথমত, আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রাষ্ট্র বহন করবে এবং দ্বিতীয়ত, তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক অধিকার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য পরিবার আজ সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই ১৪শ'র বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন তাদের এক বা উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞকে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান আগামীর নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দেশবাসী একটি জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এমন শোক সমাবেশ আর আহাজারি চলতেই থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গণতন্ত্রকামী মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামীতে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি ও নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে ও সন্ধায় তারা গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আসেন। তারা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হয় সারাহ কুকের। বৈঠকে সারাহ কুক জানিয়েছেন- তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে দুই দেশের উন্নয়ন ও বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করতে চায় যুক্তরাজ্য।
তিনি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন নিয়েও ব্রিটিশ হাইকমিশনার কথা বলেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তিনি।
এরআগে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত।
বিকেল ৪টায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি গুলশান কার্যালয়ে আসেন। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নেপালের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যান ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কীভাবে উন্নয়ন করা যায় ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও একটি দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনোরকমের সুযোগ আমরা দেব না। কোনো রকমের ষড়যন্ত্র করবেন না। আপনাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না; দেশে গণতন্ত্র অবশ্যই ফিরে আসবে।
তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে শান্তির জন্য আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। নির্বাচন কমিশন এবং একটি রাজনৈতিক দল মনে করেছে এটা আমাদের দুর্বলতা। নাহ্… এটা আমাদের ভদ্রতা। তারপর থেকে নির্বাচন কমিশন এবং একটি রাজনৈতিক দল যেভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় এবং পারতপক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চায় বিভিন্ন কৌশলে।’
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিভীষিকাময় দিনের বা রাতের অবসান হয়েছে। যেসব মানুষ তাদের স্বজন হারিয়েছেন, মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন, তাদের সত্যিকারভাবে যদি বলতে হয় আসলে আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষাবোধ আমাদের কাছে নেই। তবে বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে থাকবে বিএনপি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিগত আন্দোলন নিপীড়নে গুম খুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করে আমরা ‘বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক’।
এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়ত কিছুটা স্তিমিত হয়েছে, কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন করে অপর মিথ্যা মামলার হয়রানি যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই ঘুম হয়েছে, আরেক ভাই তার জায়গায় গিয়ে রাজপথের আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপোষহীন ভূমিকা রাখতে পারে সেই দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ দলকে দমন করে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের শিকার আমার সামনে বসা হাজারো প্রিয় মুখ আপনাদেরকে আত্মত্যাগ আপনাদের বুক ভরা কষ্ট আমরা যারা আজ পেছনে রয়ে গিয়েছি আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবো যাতে এটি বৃথা না যায়।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা ঘুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন। তাদের প্রতি আগামী দিনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখছি। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই আপনাদের ভুলে যেতে পারে না।
শহীদদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়ত বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তারপরও বলতে কষ্ট হচ্ছে, আমরা দেখেছি নির্বাচনের কমিশনের রিসেন্টলি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।
রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমতো রাষ্ট্রীয় সহায়তা হাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা প্রিয়, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে। যাতে যে গণতন্ত্রের পথ তৈরি হয়েছে সেটি যেন বাধাগ্রস্ত হয়।
আমি অনুরোধ করব আপনারা এবং বাংলাদেশের দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তাদের আজ সজাগ থাকার জন্য। যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন, তারা যাতে সফল না হতে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্যাতিত মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলক একটি সরকার গঠন করা। শহীদ পরিবারগুলোর ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান, যাতে দেশের চলমান গণতান্ত্রিক যাত্রা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকেই।
জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না– সম্প্রতি দলটির আমিরের সঙ্গে দেখা করার পর গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছিলেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মার্থা দাস। এরপর থেকেই কঠোর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনীতির মাঠে-ময়দানে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে এটি কৌশলগত অবস্থান কি না? খবর বিবিসির।
বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর অনেক আগে থেকেই দলটির দর্শন ও মতাদর্শে কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে।
তবে জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য, দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে দল পরিচালনা করা হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোকেই গুরুত্ব দেবেন তারা।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক শেষে ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস সাংবাদিকদের সেদিন বলেছিলেন, ‘জামায়াতের ইসলামীর আমির মহোদয়ের সাথে আমরা কথা বলেছি। উনি যে আশ্বাসগুলো দিয়েছেন সেটাই আবার আমি একটু রিপিট করতে চাই। যেটা তিনি জাতির উদ্দেশে বলেছেন সেটা হলো, যদি মহান সৃষ্টিকর্তা ওনাদের এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন তাহলে এই বাংলাদেশে শরিয়াহ ল অর্থাৎ শরিয়াহ আইন তিনি বাস্তবায়ন করবেন না’।
এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে নেতারা দলটির নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন করছে না কি তা কেবলই নির্বাচনকে সামনে রেখে বলা হচ্ছে, এনিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মতে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে আগের তুলনায় অনেক গুণগত পরিবর্তন এসেছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির সমাবেশের কথা টেনে আনেন। বলেন, জামায়াতের আমির মাটিতে পরে যাওয়ার পর সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলছিলেন।
আর এই বিষয়টি আগের কোনো নেতার মুখে শোনা যায়নি। একইসাথে প্রথম বারের মতো এবারের নির্বাচনে দুইজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। ফলে এই বিষয়গুলোকে ‘নতুন বন্দোবস্ত’ হিসেবেই দেখছেন বাবর।
শরিয়াহ আইন করার বিষয়ে দলীয় প্রধানের বক্তব্যকেও একই দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও তারা ‘ফ্যানাটিক মুসলমান না’।
ফলে শরিয়াহ আইনের বিষয়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীতো বটেই, মুসলিমদের দিক থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। ‘এটা হয়তো জামায়াত বুঝতে পেরেছে আর তাই মানুষের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে চাচ্ছে’ বলে মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
তবে জামায়াতের আরেকজন কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান আকন্দ অবশ্য দাবি করছেন শরিয়াহ আইনবিষয়ক মন্তব্যটি শফিকুর রহমান ‘এই ভাষায় বলেননি’।
‘তিনি বলেছেন জামায়াতে ইসলাম যদি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে জনগণের মতামত, ইচ্ছা এবং অপিনিয়নের ভিত্তিতেই আইন প্রণয়ন এবং কোনো পরিবর্তন করতে হলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই পরিবর্তন করা হবে। এখানে আমরা শরিয়াহ আইন প্রণয়ন করব না এই ধরনের কোনো বক্তব্য আমাদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি’, বলেন তিনি।
যদিও জুবায়ের জানিয়েছেন, জামায়াতের আমির সেদিন বলেছিলেন, ‘আমাদের সংবিধান এবং বিদ্যামান যে আইনি কাঠামো আছে, সেখানে সব নির্দেশনা আছে। বাংলাদেশ এই বিদ্যমান আইন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই পরিচালিত হবে’।
এর আগে তাদের গঠনতন্ত্রে ‘আল্লাহ-প্রদত্ত ও রসুল-প্রদর্শিত ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টাকে তাদের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তা বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা’-এর কথা বলা হয়।
যদিও ২০১৩ সালে সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আবারও শক্তিশালীভাবে দৃশ্যমান হয় জামায়াত। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ দলগুলোর তালিকায় এগিয়ে আছে তারা। আর জয়ের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে দলটি। যার একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া। তবে এই সিদ্ধান্ত জামায়াতের গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক নয় বলেই জানিয়েছেন আকন্দ।
তবে দলটির নেতারা সব ধর্ম, বর্ণ বা মতের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে দেখা যায়নি জামায়াতকে। এর আগে সরকার গঠন করলে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়ে জামায়াতের আমিরের দেয়া মন্তব্যও বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নেতৃত্বশূন্য আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিকে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ঘিঘাট গ্রামে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানান।
বিএনপির সাবেক প্রয়াত চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে স্থানীয় ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ দোয়া অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতারা উপস্থিত হয়ে বিএনপিকে সমর্থন জানান।
স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম ভূঁইয়া সভায় সভাপতিত্ব করেন। সাহাদাতুজ্জামান মুন্নার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আব্দুল বাতেনের বাড়ি আঙিনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিল ও অনুষ্ঠানে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, দূর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ সরকার, বিএনপি নেতা সাব্বির আহমেদ, খালেদ হোসেন খান, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, উপজেলা যুবলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সাহাদাত হোসেন সেলিম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাইয়ুম মোল্লা মেম্বার, উপজেলা তাঁতি লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীলিপ, যুবদল নেতা মোস্তাক আহমেদ, পরাগ, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব শিবলু আলম সোহেল প্রমুখ।
উপস্থিত আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের চার শতাধিক নেতা-কর্মী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক — এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভূমিকা নিয়ে ফরিদপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খার হাট ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভা শেষে মমিনখার হাট বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সাক্ষাৎ করে মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপি'র সংসদ সদস্য প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কনিষ্ঠ পুত্র আরশিয়ান আহমেদ।
জাতীয়তাবাদী প্রবাসীদল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও মমিন খারহাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা প্রিন্স আলীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এলাকার তরুণ যুবসমাজের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিয়ান আহমেদ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণ প্রজন্মের সচেতন ও সাহসী সিদ্ধান্তের ওপর। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হলো।
মত বিনিময় সভায় চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি প্রবাসী দল ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি ও মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মির্জা প্রিন্স আলি, মমিন খার হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বেপারি, জেলা ছাত্রদলের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সমাজসেবক চৌধুরী ফারদাদ ইউসুফ, কাউছার মিয়া, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মিজানুর রহমান বেপারি সহ তরুণ ভোটরগন উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক। তার চিন্তা, কাজ, দক্ষতা এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।’
রাজধানীতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোকসভায় আব্দুল মঈন খান এ কথা বলেন।
ড. মঈন খান বলেন, ‘আজকে আপনারা আমাকে যার সম্পর্কে বলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তার বিষয়ে বলার যোগ্যতা আমার আছে কি না—তা নিয়েই আমি ভাবছিলাম। বেগম খালেদা জিয়ার বিশাল ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উদার মানসিকতা এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অপরিসীম ভালোবাসার কথা বলতে গেলে দিনের পর দিন কথা বলেও শেষ করা যাবে না।’
আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কথা বলতে গেলে অনেক সময় আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। তার শূন্যতা ও অবদান স্মরণ করলে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। আজ আমরা কীভাবে আমাদের অনুভূতি প্রকাশ করব, সেটাই যেন জানি না।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ৯০-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৬-৮৮ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় অনেকেই সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়, তার সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘তিনবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। একটি দিনও তিনি আমাকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশ দেননি। সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। এটাই ছিল তার গণতন্ত্রচর্চার প্রকৃত উদাহরণ।’
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়ার উদারতা ও সহনশীলতার একটি ঘটনার উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, ‘একজন সিনিয়র সচিবকে মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার আগে তিনি মন্ত্রীর মতামত জানতে চেয়েছিলেন, যা তার নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত।’
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল মঈন খান আরও বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। একবার আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি কেন এসব মামলায় কোর্টে যান? তিনি বলেছিলেন—ওরা অন্যায় করতে পারে, কিন্তু আমি আইনের বাইরে যেতে পারি না। এই কথার মধ্যেই প্রকাশ পায় আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়কসুলভ মানসিকতা। এই কারণেই আমি দৃঢ়ভাবে বলি—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন- প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চাকারী এক মহান রাষ্ট্রনায়ক।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এই শোক সভায় এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বিষয়ক জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে এই সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে তা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, “জাতিসংঘ এ দফায় আসছে না মানে পরে আসবে। তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটা আমরা পেয়ে যাব। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোবে।” উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন প্রতিবেদন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ-সহ ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠনের আশঙ্কা, উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানোয় দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়ে বিদ্যমান সংকটগুলো তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, “যে স্তরে বাংলাদেশ যেতে চায়, সেখানে অন্যান্য দেশের ব্যাংকঋণের সুদ ৫ শতাংশের নিচে, অথচ দেশে তা প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা থাকলেও এখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুশাসন ও অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে। এসব সমস্যা রেখে কেবল নামমাত্র এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের লাভ কী?” ব্যবসায়ীদের এই দাবির কথা সরকার জাতিসংঘকে জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি, যদিও নেপাল বা লাওসের মতো দেশগুলো তাদের উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ এখনও নেয়নি।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সুফল কৌশলে কোনো একটি নির্দিষ্ট দল তাদের নিজেদের ঘরে তোলার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের কোনো কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জেলার হাকিমপুর উপজেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ডা. জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ও সরকার পতনের আন্দোলন সফল হওয়ার পেছনে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা দেশবাসী ভালোভাবেই অবগত আছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের ফসলকে কেউ যদি একা ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে এ দেশের মানুষ কখনোই তা মেনে নেবে না বা হতে দেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যুত্থানে দেশের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওই দিন স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুরুতে এটি ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থাকলেও পরবর্তীতে সাধারণ জনতার অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাই এই আন্দোলন এবং বিজয় সবার। তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি শ্রদ্ধা ও সালাম জানান এবং যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তাকে ততটুকু সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
পলাতক স্বৈরাচারী সরকারের বিচার দাবি করে ডা. জাহিদ বলেন, বিগত সময়ে তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, বিশেষ করে গুম, খুন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হতে হবে। এছাড়া যারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে, সেই অর্থ ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে লাগানোর দাবি জানান তিনি। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, উপদেষ্টা আকরাম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হকসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন এবং কার্যক্রমে অংশ নেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এদিন দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, এই শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা সেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিনব্যাপী পালিত হবে।
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামী ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এই আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনোই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন গতানুগতিক রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং তার ব্যক্তিত্বে নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। তার রাজনৈতিক পরিচালনায় যেমন ছিল ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা, তেমনি তার আচরণের মধ্যে ছিল মাতৃসুলভ শাসন ও স্নেহের এক অপূর্ব ভারসাম্য। এই দুই গুণের সংমিশ্রণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক। আলাল উল্লেখ করেন, চরম অসুস্থতা এবং নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েও বেগম জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সবসময় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এত অবহেলার পরেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া কেবল তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের কথা স্মরণ করে আলাল বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসী কল্যাণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে বেগম জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি অভিযোগ করেন, যারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, তারা অনেকেই যা করতে পারেননি, বেগম জিয়া তা করে দেখিয়েছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সেই চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে বিএনপি সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়েই দেশে প্রথম ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু হয়, যা আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছিল। সে সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ।
শাসনামলের সততা ও কঠোরতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে আলাল আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন আপসহীন নেত্রী, যিনি অনিয়মের অভিযোগে নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীদেরও ছাড় দেননি। দলের ভেতরে থেকেও কেউ অপরাধ করলে বা অনিয়মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।
নেত্রকোণা জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী তাদের দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে নেত্রকোণা-২ (সদর–বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
নেত্রকোণা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে এই বিশাল কর্মীগোষ্ঠী বিএনপিতে যোগ দেন। যোগদানকারী অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ওই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, সহসভাপতি শাজাহান মিয়া এবং দপ্তর সম্পাদক জুলহাস মিয়াসহ আরও অনেকে। এ সময় নবাগত নেতাকর্মীদের হাতে ফুল দিয়ে তাদের দলে উষ্ণভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা জানান, তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদর্শ এবং স্থানীয় নেতা অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপির হাত ধরেই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
উক্ত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেত্রকোণা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেরুল আলম রাজু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তিনি ২৪-এর গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।