আওয়ামী লীগ এখন জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতায় থাকতে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে তারা (আওয়ামী লীগ) আজ পরাজিত হয়ে বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার সকালে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আমীর খসরু। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে শেরে বাংলা জাতীয় যুব স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
আমীর খসরু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সফরে বেরিয়েছেন। তারা আজ সম্পূর্ণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার এ সফর হচ্ছে ক্ষমতায় থাকার শেষ চেষ্টা। তিনি দেশে-দেশে, দুয়ারে-দুয়ারে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু দেশের মানুষের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করা যায়, এটা আওয়ামী লীগ বিশ্বাসই করতে পারে না।’
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীল মন্তব্য করে আমীর খসরু আরও বলেন, ‘এখন তাদের (আওয়ামী লীগ) নির্ভরশীলতা হচ্ছে প্রশাসনের ওপর। তাদের (প্রশাসন) ওপর ভর করে যদি আবার ক্ষমতায় থাকতে পারে বা যেতে পারে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে সরকার বলি না। কারণ এখানে কিছু দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তারা মিলে রেজিম করেছে, তারা দেশটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ সংঘবদ্ধ চক্র এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য ধরনা দিচ্ছে। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই— বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যত দেশেই ঘুরে বেড়ান না কেন, কোনো লাভ হবে না। পরাজিত হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ জয়ী হয়েছে, ভাষা আন্দোলনে মানুষ জয়ী হয়েছে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জয়ী হয়েছে...তাদের বিরুদ্ধে কোনো শক্তি লড়ে জয়ী হতে পারে না।’
সারাবিশ্ব বাংলাদেশের ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে কারা ভোট চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল, আগামীতে কারা যুক্ত হতে পারে তা দেশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করছে। সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের ওপর নজর রাখছে।’
শেরে বাংলা জাতীয় যুব স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি আখতারুল আলম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ।
নওগাঁ পৌরসভার আরজি-নওগাঁ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সমবেত জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন যে, আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করা প্রত্যেক মুমিনের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য, কারণ এই জয়লাভের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালে জবাবদিহি করা সম্ভব হবে। জনসভায় তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, ‘সবার ঈমানি দায়িত্ব দাঁড়িপাল্লাকে জয়লাভ করানো। দাঁড়িপাল্লায় যদি ভোট না দেন, কিয়ামতের দিন কী উত্তর দেবেন? শেখ মুজিব কি কাউকে জান্নাতে নিতে পারবে? পারবে না। জান্নাতে নিতে পারবেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। অন্তত কবরে গিয়ে যেন বলতে পারেন—আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি।’
দলের সাংগঠনিক আদর্শ ও লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি সদস্য পরকালে আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ এবং তারা সমস্বরে ‘আমরা দ্বীন কায়েম করব, দ্বীনের পথে চলব’—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভোটকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, জনগণের সমর্থন পেয়ে যারা দেশের কল্যাণে কাজ করে না, তারা মূলত আমানতের খিয়ানতকারী। তিনি ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করে বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমরা সব সময় ন্যায় ও সৎ ব্যক্তির পক্ষে।’ ব্যারিস্টার কবিরের মতে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা কেবল ক্ষমতার মোহে নয়, বরং জনসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মহান লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, নির্বাচিত হওয়ার পর আমানতের খেয়ানত করলে নিজ দলের সদস্যের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস একমাত্র জামায়াতই রাখে।
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, শহীদ জিয়াউর রহমান কিংবা খালেদা জিয়ার আমলের বিএনপির সাথে বর্তমান বিএনপির কোনো মিল নেই। ভবিষ্যতে কোনো চাঁদাবাজ, চোরাকারবারি কিংবা অসৎ ব্যক্তির হাতে দেশের শাসনভার ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ভোট চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষকে যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই ভোট কারচুপি বরদাশত করা হবে না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুসলিম পরিচয়ের কারণে ভারতে গিয়ে ক্রিকেট খেলতে না পারার মতো বৈষম্যের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে না, তাদের ভোট দেওয়া ধর্মীয় নাফরমানির শামিল। উক্ত নির্বাচনী সভায় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েমসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি স্থানীয় যুব বিভাগের একটি পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার ফাজেলপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর পক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, "চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে।" একটি বিশেষ দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, "আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলে গঠনের মাধ্যমে এক বাক্স নীতিতে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে। তারা পাকা ধানের ভেতর মই দিয়ে ধান নষ্ট করে ফেলল। তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে না। তারা ইসলামের লেবেল লাগিয়ে আমাদের ধোঁকা দিয়েছে।"
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, "তারা গোপনে গোপনে পাশের দেশের সঙ্গে মিটিং করে আমাদের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। যারা ভাইদের সঙ্গে প্রতারণা করে এদের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ইসলামকে এরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে জবাই করবে। এরা ইসলামের আশা চিন্তার ফসলকে নষ্ট করেছে।" শরিয়াভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তরুণ ও সর্বস্তরের জনগণকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারি না। এখন একটা বাক্সই ইসলামের পক্ষে যেটা হাতপাখার বাক্স।
তরুন ভোটারদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। মা বোন মুরব্বিদের বলবো একবারের জন্য হাতপাখায় ভোট দিয়ে দেখেন। ফতুল্লার মাটি ইসলামের পক্ষের ঘাঁটি।" সমাবেশে মুফতি ইসমাইল সিরাজী ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, লোকমান হোসেন জাফরি, দেলোয়ার হোসেন সাকী এবং মুফতি রেজাউল করিম আবরারসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
রাতের আঁধারে ভোটারদের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে একটি বিশেষ দল, যাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনে জাল ভোট প্রদানের দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করা বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
দিনব্যাপী এই জনসংযোগকালে আমিনুল হক ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা ও ভোট ভিক্ষা করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসীকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, জনগণের বিপুল সমর্থনে তিনি যদি নির্বাচিত হতে পারেন, তবে স্থানীয় সকল সমস্যা নিরসনে জনগণকে সাথে নিয়েই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মূলত আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দোয়া ও সমর্থন চাওয়ার মধ্য দিয়েই আজ তার নির্বাচনী প্রচারণা অতিবাহিত হয়।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সঠিক সরকার গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসলে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে যদি ক্ষমতায় নিয়ে আসেন এই দেশ টিকবে না।” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে, মানুষের ভোটাধিকারের লড়াই করতে গিয়ে তাকে ১১১টি মামলা ও এগারোবার কারাবরণ করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চুরি-ডাকাতির জন্য নয়, ভোটাধিকার ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে গেছি। তার জন্য কোনো দুঃখ নাই, কষ্ট নাই।” বিগত সরকারের পতন ও তৎকালীন শাসকের পলায়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সেই শাসক সবাইকে ফেলে নিজের প্রাণ বাঁচাতে একাই পালিয়ে গেছেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরত্বগাথার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন যে, যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছিল, তারা এখন সুন্দর সুন্দর কথা বললেও অতীতের ভুল স্বীকার করছে না। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে চাই।” বিশেষ করে জাষ্ঠিভাঙ্গায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর অতীতে চালানো হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিচারণ করে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সঠিক সরকার গঠন করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং এলাকার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের সঙ্গে বিএনপি গোপন চুক্তি করেছে বলে এক জামায়াত নেতার দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এর কড়া জবাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন।
শনিবার সকালে গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বর্ণনা করেন। দলের অবস্থান পরিষ্কার করে মাহদি আমিন বলেন, ‘এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই, পুরোটাই অপপ্রচার। সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই বিএনপির রাজনীতি।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলমান প্রথম নির্বাচনী সফরে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং চেয়ারম্যানের সফরসূচি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আজ রাতে চট্টগ্রাম যাবেন তারেক রহমান। কাল চট্টগ্রামসহ ৪ জেলায় জনসভায় বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।’ মূলত দেশীয় সার্বভৌমত্ব অটুট রাখা এবং আসন্ন জনসভাগুলোকে সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে গত দুই দিনে জামায়াত-ই-ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজারে দলীয় কার্যালয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন।
এর আগে বুধবার জেলার অন্য তিনটি আসনেও একইভাবে ধানের শীষের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে আরও আড়াই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে শামিল হন। উজলকুড় ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সাবেক অফিস সেক্রেটারি আ. কাদের তার দল ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম একজন কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ায় এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থা রেখে তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।”
একই ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মোল্লা মহসিন দলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে একজন সৎ, নির্ভীক ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।”
নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শুধু রামপাল নয়, গত দুদিনে জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন যোগ দেওয়া কর্মীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং তারেক রহমানের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। বুধবার যোগদানকালে অন্য তিনটি আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাজির হোসেন, কপিল কৃষ্ণ মন্ডল এবং সোমনাথ দে উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের বরণ করে নেন।
দীর্ঘ দুই দশক পর শনিবার রাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সফরে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল রবিবার ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
এই সফরকে কেন্দ্র করে পলোগ্রাউন্ডে বর্তমানে মঞ্চ তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে এবং প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে পুরো শহর তোরণ ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। নেতাকর্মীদের উদ্দীপনা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা বলেন, “চট্টগ্রামে তারেক রহমানের আসার বিষয়টা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে চাচ্ছিলাম। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। সমগ্র চট্টগ্রামবাসী উৎসবমুখর পরিবেশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।”
এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ অতীতের বিশাল জনসমাগমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানকে ঘিরে এবার জনসভা মাঠ ছাড়িয়ে রাজপথেও জনস্রোতে পরিণত হবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক কোকোর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে দলীয় ও পারিবারিকভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনের শুরুতে সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত করবেন এবং দুপুর ২টায় পুনরায় কবর জিয়ারত করবেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম। বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এছাড়া বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়াঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এবং ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে যান। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যারা ভারতের পক্ষের শক্তি ছিল তারা ভারতে পালিয়েছে। আরেকটি শক্তি বিদেশি শক্তির গোলামি করে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি করে রাজনীতি করছে। আমরা বাংলাদেশের শক্তি, বাংলাদেশের মানুষের পক্ষের শক্তি। আমাদের স্লোগান হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জুমার নামাজের আগে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের উত্তর মানিকপুর গ্রামে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের মালিকানা ফেরত পেয়েছি, অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্ত করতে পেরেছি, সেই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে করে আমরা সবাই মনে করি আমরা প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের মালিক। সুতরাং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে, মুক্তভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’
উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, প্রগতির সবকিছুর জন্য বিএনপি আজীবন সংগ্রাম করে গিয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী, সাম্যভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাভিত্তিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। সেই প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা প্রত্যেকেই আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন দেবেন।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি প্রগতির বিকল্প নাম বিএনপি। গণতন্ত্রের বিকল্প নাম বিএনপি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। সকল কিছুর ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়নে আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে তুলে ধরব। বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভবিষ্যতে আমরা একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধিশালী ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করব।’
পথসভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলা সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেন। তাকে ঘিরে ছোট ছোট শিশু কিশোররাও আনন্দে মেতে উঠেন।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে যেন আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান হলে সবার একই পরিণতি হবে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছে। শহীদদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে প্রচারণার শুরুতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট এলাকায় লবণশ্রমিকদের কাছে যান তিনি।
লবণমাঠে নিয়োজিত শ্রমিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমরা লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছিলাম। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে আবার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এখন অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের বলে আপাতত লবণ আমদানি বন্ধ করেছি।’
নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি ছাড়া কেউ জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করে না। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি লবণচাষিদের স্বার্থে কাজ করবে। চাষিদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে রায় দিতে হবে।’
বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদের বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ, গণতান্ত্রিকভাবে যদি আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেন, তাহলেই একমাত্র এলাকার সমস্যা নিয়ে তার কাছে যেতে পারবেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাষানটেকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন।
১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকার সমস্যা যদি সমাধান করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। ভোট দিয়ে তার নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একইসঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ, সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।’ এ সময় জনসভা মঞ্চে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে ভাষানটেকের মৌলিক সমস্যার কথাও শোনেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শোনে সমাধান করবেন।’
এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড, ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এ ছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যাওয়া বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে।’ নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করাসহ তাদের ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষ। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারাদেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয়-স্বজনকেও অনুরোধ করবেন, ধানের শীষে ভোট দিতে।’
বক্তব্য শুরুর আগে ভাষাণটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় একজন ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী, ছাত্রদের সঙ্গে ভাষাণটেকের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তিনি। নির্বাচিত হলে তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত হন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক উপস্থিত হন। বাদ মাগরিব কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এদিকে সমাবেশে নেতা-কর্মীদের ঢল নেমেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেল থেকেই ভাসানটেক বিআরপি মাঠ ও আশপাশের সড়কে যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিতে শুরু করেন। জনসভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেতা-কর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেতা-কর্মী মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, এটা ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত। আমি মনে করি যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের প্রতিটি দলই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। কেউ সরাসরি, কেউ ইনডাইরেক্টলি (পরোক্ষভাবে)। আমি প্রথমত মনে করি, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লবটাকে আন্তর্জাতিকভাবে বলা হয়, এটা রেজিম চেঞ্জ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: সমাজের করণীয়’ শীর্ষক সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ফরহাদ মজহার।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। জামায়াত যদি বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন চালু করতে চায়, তাহলে সেটা করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে ফরহাদ মজহারের মন্তব্য জানতে চান তিনি।
এ কথা তিনি শুরু থেকে বললেও সাংবাদিকেরা গুরুত্ব দেননি বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ মজহার। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি গণ অধিকার পরিষদ ও গণঅভ্যুত্থানের আগেও আমি বলেছি যে বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে সরানো এটা কোনো ইস্যু নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রই সরিয়ে দেবে। আমাদের কাজ হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্র কী করে আমরা গঠন করব। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র একটা ভূরাজনৈতিক শক্তি এবং পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক আইন বলে কিছু নাই। দেখেছেন ট্রাম্পের যে আচরণ। এই রূঢ় বাস্তবতা, এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে আমার চিন্তা, আমি ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে বেঁচে থাকব কী করে? আমার প্রশ্ন খুব সহজ। আমি ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে ডাল-ভাত দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাই না।’
প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘আপনারা অনেকে ভারতবিরোধিতার কথা বলেন, ভারতের আধিপত্য আমি স্বীকার করি। কিন্তু আপনারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কথা বলেন না কেন? কী জন্য বলেন না? জামায়াত তো বলে নাই, গাজাতে (ফিলিস্তিনের) এই যে স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) যাচ্ছে, আমার সেখানে আপত্তি আছে। তবে বোঝা গেল জামায়াতের সঙ্গে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের একটা নীতি, একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই বক্তব্যটা দিচ্ছে। এটা আমি ভয়ঙ্কর অশনিসংকেত হিসেবে দেখি।’
সভায় বক্তব্যে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে ছাত্র-জনতা ও সৈনিকদের মৈত্রীর ভিত্তিতে। সৈনিকেরা কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তান। তাদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বিপজ্জনক।’
গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক সামরিক উদ্যোগে অংশ নেওয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের জীবনধারণ নিশ্চিত করার মতো একটি রাষ্ট্র গঠন কিন্তু সেই লক্ষ্য উপেক্ষিত হয়েছে। এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘লুটপাটতন্ত্র উৎখাত না করে নির্বাচন করলে সেই সরকার জনগণের হবে না।’ সে কারণে নির্বাচন নয়, আগে রাষ্ট্র গঠনের কথা বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ মজহার।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, এসব সংকট প্রাকৃতিক নয়, বরং কাঠামোগত ও রাজনৈতিক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, এটি লুটপাটমূলক ব্যবস্থার প্রমাণ। তিনি বলেন, উৎপাদন না করেও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকেরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিচ্ছে। আইন পরিবর্তন না করে এই সংকট দূর হবে না।
বিশুদ্ধ পানির সংকট রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা, নদী দখল ও বাণিজ্যিক লুণ্ঠনের ফল বলে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘জনগণের জীবনধারণের মৌলিক শর্ত- খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও জমির ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই প্রকৃত রাজনীতি। নির্বাচন এখন লুটপাটের ভাগ–বাঁটোয়ারার রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। জনগণের রাজনীতি মানে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা।’
গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ নামের একটি সংগঠন এই সভা আয়োজন করে। সভায় আলোচনকদের মধ্যে আহমেদ ফেরদৌস, ভাববৈঠকীর সংগঠক মোহাম্মদ রোমেল উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বেতাগী, বামনা ও পাথরঘাটা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘নেতৃত্ব মানে শুধু মঞ্চে দাঁড়ানো নয়, মানুষের মাঝে মিশে যাওয়া। আমি আমার নির্বাচনী এলাকার গণমানুষের মাঝে মিশে যেতে চাই।’
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারও জনতা, নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগ দেন। এ সময় স্লোগান ও পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। সভায় উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করা হয়েছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উন্নয়ন হয়েছে। বাড়ি-গাড়ি- সবই হয়েছে।’ ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট না চেয়েও পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ছিল। তারপরেও আমি জয়ী হয়েছিলাম মানুষের ভালোবাসার ভোটে। ওই সময় আমি বামনা-পাথরঘাটায় যে উন্নয়ন করেছিলাম, তা স্বাধীনতার পরে কেউ করতে পারেনি। তবে শুনেছিলাম হাসিনার আমলে এখানে অনেক উন্নয়ন হয়েছে; কিন্তু যা দেখলাম তাতে হাসিনার জন্যও দুঃখ হয়েছে, আপনাদের জন্য আরও বেশি দুঃখ হয়েছে। কারণ, এখানের রাস্তাঘাট ভাঙা। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন হয়েছে। মানুষ দুঃখ-কষ্টে আছে। এত উন্নয়ের কথা বলে, ফাঁকি দিয়েছে। কিন্তু তারা নিজের পেট ভরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে, বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে জনগণ ও প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’ তিনি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে গুপ্ত হামলা চালানো হচ্ছে।’ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নানা ধরনের অরাজকতা সংঘটিত করছে।’
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে (৪২) গুলি করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘হাসান মোল্লার হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার বিকল্প নেই। তা না হলে তারা আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ক্রমবর্ধমান অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে অবশ্যই দেশে ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল টহরী বাজারে গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন একমাত্র ধানের শীষ করতে পারবে আর কেউ করতে পারবে না। আমরা সেই জিয়ার সৈনিক, খালেদা জিয়ার সৈনিক। যাদের আপন ভেবে মানুষ কাঁদে।’
ভোটারদের সজাগ করে তিনি বলেন, ‘সামনের মাসে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। একটা দল ভোট চাইতে আসছে আপনাদের কাছে। দাঁড়িপাল্লার কথা বলছে। তারা কখনো কী সরকারে গেছে? আপনাদের জন্য কোনো কাজ করছে? করে নাই। আমরা কাজ করছি। আমরা (বিএনপি) পরীক্ষিত দল। আপনাদের কাছে ভোট চেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন। আমরা সরকারে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করেছি।’
এ সময় সরকারে থাকাকালীন যেসব উন্নয়ন করেছেন সেসব উন্নয়ন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো এখন আর কেউ নেই। তাই সবাই ধানের শীষে ভোট দেবেন।’
মির্জা ফখরুল উপস্থিত ভোটারদের কাছে জানতে চান গত পনেরো বছরে আপনারা কি কেউ ভোট দিতে পেরেছেন। জবাবে ভোটাররা বলেন পারিনি। তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়েগেছে। আবার কখনো ভোটটা নিয়ে চলেগেছে। এই ছিল গত পনেরো বছর। এখন একটা সুযোগ আসছে, আমাদের হাসিনা আপা চলে গেছে ভারতে। চলেগেছেন ভালো করছেন। কিন্তু আপনাদের যারা সমর্থন করত তাদের বিপদে ফেলেগেছেন। আমরা বলছি যারা নিরঅপরাধ তাদের কেউ বিপদে পড়বে না। আমরা আছি তাদের পাশে। যারা অন্যায় করেনি তাদের কোনো শাস্তি হতে দেব না। আমি আমার এলাকার হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করি। আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। সবাইকে সমান নিরাপত্তা দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু লোক হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে চাই। কিন্তু আমাদের ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা হিন্দু-মুসলিম একসাথে বসবাস করি।’