সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ মাঘ ১৪৩২
জাপায় ফের গৃহদাহ

চাচার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাতিজা, সম্মিলিত জোটে বিদিশা

আপডেটেড
২৯ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:২২
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত
আমানউল্লাহ আমান
প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৩ ১৫:২১

জাতীয় পার্টিতে ফের গৃহদাহ শুরু হয়েছে। এতদিন দেবর জি এম কাদেরের সঙ্গে ভাবি রওশন এরশাদের দ্বন্দ্বে এবার যুক্ত হয়েছেন রওশনপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। সম্প্রতি সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে দলকে চাঙা করতে সারা দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রওশনপন্থিদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। এ উপলক্ষে আয়োজিত জরুরি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাদ এরশাদ। এদিকে এরশাদের মৃত্যুর আগেই বিবাহবিচ্ছেদ নেয়া বিদিশা সিদ্দিকও জাতীয় পার্টির উত্তরাধিকার দাবি করছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডকে পাত্তা দিচ্ছেন না জাতীয় পার্টিতে জি এম কাদেরের অনুসারী নেতারা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং দল তৈরি করার যে সংস্কৃতি, তাতে এই দলটা কতটুকু টিকে থাকবে, সেটা আগামী নির্বাচনে বোঝা যাবে। আগে ছিল দলের ভেতর, এখন ঘরের ভেতর গৃহদাহ। এই ধরনের দল গণতন্ত্রের বিকাশে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। বড় দলগুলো চায় যত বেশি ছোট দলকে নিজেদের পক্ষে রাখা যায়। তাই তাদের একটি অংশ হয়তো চাচ্ছে যত বেশি শক্ত অবস্থান নেয়া যাবে, তত বেশি ভাগ নেয়া যাবে। আরেকটা অংশ হয়তো ভাবছে চাপের মধ্যে রাখি, না হলে হয়তো কিছুই পাব না। এদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এদের কোনো আইকন নেই। যতদিন পর্যন্ত তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, ততদিন উনি কোনোভাবে চালিয়েছেন। উনি চলে যাওয়ার পর কেউ কাউকে মান্য করে না, মান্য করার সংস্কৃতিও নেই।

জি এম কাদেরপন্থি নেতারা মনে করছেন, জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে রওশন-জি এম কাদেরের মাঝে একটা প্রতিযোগিতা রয়েছে। তার অংশ হিসেবেই সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সমঝোতা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রওশনের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে তিনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চাচ্ছেন না। রওশনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির একটি গ্রুপ মিশে গেছে, যারা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। রওশনকে সামনে রেখে সরকারের সুদৃষ্টি পেতে চায়। তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।

ওই নেতারা বলছেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভা মনে করে, এখন যেভাবে চলছে, সেভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার কোনো অর্থ নেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে সম্মানজনকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হতে পারে। বিএনপির সঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জাতীয় পার্টির ৮০ শতাংশ নেতা-কর্মী জি এম কাদেরের সঙ্গে আছে। সেই হিসাবে সাংগঠনিকভাবে জি এম কাদের অনেক শক্তিশালী।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে- রওশন এরশাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডাম তো কথা বলতে পারেন না ঠিকভাবে। ওই দিন দেখলাম রাঙ্গা ভাই জোর করে ওনাকে দিয়ে এ কথা বলালেন। এইটা আমাদের প্রেসিডিয়াম সভা অনুমোদন করে না। নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া।’

দলীয় সূত্র বলেছে, গত রোববার রাজধানীর বারিধারায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের মুখপাত্রের বাসভবনে ঈদ পুনর্মিলনী ও জরুরি সভা করে রওশনপন্থি জাতীয় পার্টির জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। ওই সভায় মে মাসকে সাংগঠনিক মাস ঘোষণা করে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা সফরের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর জুনের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে প্রতিনিধি সভা করার পক্ষে চূড়ান্ত মত গ্রহণ করা হয়। জেলা সফর সম্পন্ন করার জন্য চারটি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দলে বিভক্তি এনে কেউ লাভবান হবেন না। উল্টো দলের ক্ষতি হবে, কর্মীরা বিপদে পড়বে। আমাদের দলের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির রাজনীতি যে মানুষের জন্য তা আমরা তুলে ধরছি। আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যারা জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে নিজেদের আলাদা দাবি করে, তাদের এসব করে লাভ হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিছু লোক এমন করছে। যারা জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে চায়, নিজেদের পকেটে রাখতে চায় তারা এসব করছে। আমি তো মূল ধারার কাউকে এমন করতে দেখছি না। এসব করে লাভ হবে না।’

এ প্রসঙ্গে রওশনপন্থি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ্ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বর্ধিত সভা আগামী মাসে হবে। ম্যাডাম চাচ্ছেন সবাইকে নিয়ে সম্মেলন করে নির্বাচনের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে। কিন্তু ওনারা (জি এম কাদের) কেন চাচ্ছেন না তা আমি জানি না।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি হবে না।’

জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরপন্থিরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এখন পর্যন্ত ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা ঠিক হবে আরও পরে। ঈদের পর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠক ডাকার কথা রয়েছে। সেখানে মূলত জাতীয় পার্টি এককভাবে নাকি জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে তা ঠিক করা হবে। জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া, অন্যটি হচ্ছে জাতীয় পার্টিসহ অন্য কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া। অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে জি এম কাদের তার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জি এম কাদেরপন্থি এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান-আমেরিকা সফরের পর আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা সরকারের অনুকূলে থাকবে, সেটার পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যাবে। তখন পরিস্থিতি বলবে সরকারের সঙ্গে থাকব, নাকি ভিন্ন চিন্তা করব। আর সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জি এম কাদের তার রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক করবেন। তবে মুখে বিরোধিতা করলেও এখন পর্যন্ত জি এম কাদেরও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেই আসছেন।

জি এম কাদেরপন্থিরা বলছেন, রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের নিয়মিত কথা হয়। তার পক্ষ থেকে অনেক সুপারিশ আসে, যেগুলো জি এম কাদের মেনে চলছেন। এরপর রওশনপন্থি হয়ে যারা দ্বন্দ্ব তৈরি করে রাখছেন, তাদের বিষয়টিও দলের প্রেসিডিয়াম সভা ডেকে সুরাহা করা হবে। এই ক্ষেত্রে রওশন এরশাদ যদি প্রেসিডিয়ামের সভায় নেয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হন, তাহলেও তার বিষয়ে কী করণীয় তাও পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিত যাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের কাউকে ফিরিয়ে না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন জি এম কাদের।

রওশনপন্থি নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ পরপর দুবার রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছে। ফলে সেই কৃতজ্ঞতা থেকে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে আগামীতেও সরকার গঠন করার সম্ভাবনা বেশি আওয়ামী লীগেরই। তাই রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা আগামী নির্বাচনেও সরকারের সঙ্গে থাকবেন। আর এখন যারা রওশন এরশাদের সঙ্গে আছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করা। এ জন্য জি এম কাদেরকে চাপে রেখে দলে ফেরা এবং সমঝোতা করাই মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া জি এম কাদেরের সঙ্গে যারা আছেন, তারাও অনেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।

এদিকে ২০২১ সালে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করলে তখন জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নতুন করে আবির্ভাব ঘটে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের। তখন তার সঙ্গে ছিলেন কাজী মামুনুর রশীদসহ দলছুট অনেক নেতা-কর্মী। এরপর ওই বছরের ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ জাতীয় পার্টির ‘নতুন কমিটি’ ঘোষণা করেন। সেই অনুষ্ঠানে এরশাদের আরেক ছেলে সাদ এরশাদ যোগ দেন। ওই কমিটিতে রওশনকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানও করা হয়। সে সময় রওশনের সঙ্গে বিদিশার সখ্য গড়ে ওঠে। রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি রওশনকে দেখতেও যান বিদিশা। কিন্তু ওই বছরের ৪ নভেম্বর বিদিশা নিজেকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে তারা জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে বিদিশা সিদ্দিক ২০১৭ সালে এরশাদ ঘোষিত ৫৮ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান। এই জোটকে নিয়ে সরকারের সঙ্গে থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

বিদিশা সিদ্দিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশে জাতীয় পার্টিকে আড়াই বছর ধরে পুনর্গঠন করছি। আমি মনে করি তরুণদের ছাড়া রাজনীতি এগোতে পারবে না। আগামীতে তরুণদের নিয়ে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী। জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনে সারা দেশে ৪৭টি জেলায় কমিটি আছে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শিগগিরই জেলা সফরে নামব।’ তিনি জানান, এরশাদ ঘোষিত ৫৮ দলীয় সম্মলিত জাতীয় জোটে এখন ৬০ দল আছে এবং ওই জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা ১০০টি আসনকে লক্ষ্য করে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে সরকার সহযোগিতা করবে। তার পরও আলাপ-আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।’


যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দুঃশাসন কায়েম করতে চায় তাদের বয়কট করুন: নূরুল ইসলাম মনি

পাথরঘাটা কেএম পাইলট হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে বক্তৃতাকালে নূরুল ইসলাম মনি । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনা -২ (বেতাগী-বামনা- পাথরঘাটা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংকট, অস্থিরতা এবং সংকট মোকাবিলার জন্য ৩১ দফা পথরেখা দিয়েছেন। তিনি চান আপনারা ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকেন। তাই আমার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়েছেন। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধানের শীষকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাই। যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দুঃশাসন কায়েম করতে চায় তাদের বয়কট করুন। আপানারা ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে ধানের শীষে ভোট দিন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাথরঘাটা কেএম পাইলট হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশটি মিছিলে-স্লোগানে হয়ে উঠে উৎসবমুখর। মাঠের আশপাশের এলাকাতেও দেখা যায় জনস্রোত। মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়- ‘জিতবে এবার ধানের শীষ, এমপি হবেন মনি ভাই’।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক বেতন দেবেন। দেশবাসী তার নেতৃত্বে দিশা খুঁজে পেয়েছে। কারণ, তারা জানে-তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গণতন্ত্র ফিরবে, দুঃশাসনের অবসান হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমি যদি যোগ্য হই, তাহলে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী। আপনারা আমাকে চেনেন, আমার কাজ জানেন। আমি যদি উন্নয়ন করে থাকি, তাহলে আমাকে ধানের শীষে ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, একাত্তরে জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেসময় তারা দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছিল, ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল। তাদের কারণে অনেককে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। আজ তারা মানুষকে বেহেস্তের কথা বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চায়। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দুঃশাসন কায়েম করতে চায়। তাদেরকে বয়কট করুন।

এসময় তিনি উপস্থিত হাজারো জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন-আপনারা কি তাদের ভোট দেবেন? জবাবে জনতা ‘না’ ‘না’ স্লোগানে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. সুলতান সাহেবকে আপনারা কয়জন চেনেন? তিনি অতীতে এই এলাকায় কী উন্নয়ন করেছেন, তা বলতে পারবেন কি? এই কলেজ মাঠ আমি করেছি, এখানে শতবার এসেছি। অথচ তিনি কয়বার এসেছেন, আপনারাই বলুন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যে ভয় পান, সেটা পাবেন না। আমরা সবাই সমান। আপনাদের জীবন, জানমাল ও ধর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এবং আমি এমপি হলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

আগামী নির্বাচনের দিন সকাল ছয়টায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট দিয়ে ফলাফল না জেনে কেউ বাড়ি ফিরবেন না।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার আমলে কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই হয়নি। ভবিষ্যতেও থাকবে না। এ বিষয়ে আমার জিরো টলারেন্স।


জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নারী নেত্রীদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। জামায়াত আমিরের ভ্যারিফায়েড ‘এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দাবি ওঠে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্র জমা দেন নারী নেত্রীরা। এ সময় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের বলেন, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।

লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জামায়াত আমিরের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা মন্তব্য ছিল কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী। পরে দলটির পক্ষ থেকে একে ‘হ্যাকিং-এর ফল বলে দাবি করা হলেও, একটি ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের মত।

তারা আরও বলেন, কথিত হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে হ্যাকিংয়ের দাবি সন্দেহজনকই থেকে যাচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকিং অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধিতা দেখা যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানার সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আওলাদ হোসাইন জুনাইদ অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের জামিন মঞ্জুর করেন।

নারী নেত্রীরা বলেন, গত কয়েক দশকে গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের শ্রম ও মর্যাদাকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আবেদনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার, নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।


ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: তারেক রহমান

রাজধানীর রূপনগরের শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক    

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গীবত নয়, আমাদের লক্ষ্য দেশ পুনর্গঠন। প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে তারেক রহমান ঘোষণা করেন, যারা চাকরির জন্য বিদেশে যান, তাদের প্রায়ই জমিজমা বিক্রি করতে হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটা যেন করতে না হয়, সেই লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের দেশ গড়ার সুযোগ দিন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার রূপনগরের শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন ১২ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

১৬ বছরে দেশে মেগা প্রজেক্ট হলেও মানুষের ভাগ্যের কোনো মেগা পরিবর্তন হয়নি, বরং মেগা দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদ ও আওয়ামী লীগ আমলে অধিকারের জন্য লড়াই করা শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদের সেই অধিকার প্রয়োগ করবে। সেদিন আমাদের সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে, কাদের দিয়ে আমরা দেশ পরিচালনা করব।

রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদী-বালুঘাট হয়ে জসীমউদদীন পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটি ঢাকা শহর গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে যে কোনো সময় চলাচল করতে পারবেন, শিশুরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, আমি এই এলাকারই সন্তান, শৈশব থেকে এখানেই বড় হয়েছি এবং আমার সন্তানদের জন্মও এই এলাকাতেই। সে কারণেই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ আমি গভীরভাবে অনুভব করি।

নারীদের স্বাবলম্বী করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা নারীদের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দিতে চাই। পাশাপাশি কৃষকদের উন্নয়নের জন্য দেওয়া হবে ‘কৃষি কার্ড’।

ঢাকা-১৬ আসনের বাসিন্দাদের জন্য সুসংবাদ দিয়ে তিনি বলেন, এই আসনে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যাতে এলাকার মানুষ এখানেই উন্নত সুচিকিৎসা পায়। এছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করলে যুব সমাজের জন্য প্রতিটি জেলায় এবং ঢাকার প্রতিটি এলাকায় ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে।

ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে খাল খনন এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। বলেন, যেকোনো মূল্যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার মাধ্যমেই আমরা আমাদের পরিকল্পনার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেব।

নির্বাচিত হলে ঢাকা শহরকে একটি ‘নিরাপদ শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নগরীতে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। বলেন, ইনশা আল্লাহ, আমার দল আপনাদের ভোটে এবং এই দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হলে আমরা সমগ্র দেশের শহর, বিশেষ করে এই ঢাকা শহরকে একটি নিরাপদ শহরে রূপান্তরিত করতে চাই। যে শহরে মা-বোনেরা নিশ্চিন্তে যেকোনো সময় হাঁটতে পারবেন, মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি করতে পারবে। আমরা ঢাকাকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে।

খেলার মাঠ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই এলাকার খেলার মাঠের সংকটের কথা এখানে আগে বলা হয়েছে। আমি আপনাদের জানাতে চাই, ইনশা আল্লাহ বিএনপি ১২ তারিখে সরকার গঠন করলে শুধু এই এলাকাতেই নয়, ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। যাতে আমাদের সন্তানেরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে, আর আমাদের মুরুব্বি, মা-বোনেরা বিকেলবেলা বা প্রয়োজনের সময় হাঁটাচলা করতে পারেন।

দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান সারা দেশে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করছি। আমি এই এলাকারই সন্তান। ছোটবেলা থেকে এখানেই বড় হয়েছি। আমার সন্তানেরা এখানেই জন্ম নিয়েছে, আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোও এই এলাকাতেই হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি এলাকার মুরুব্বি, মা-বোন ও ভাইদের কাছে বিনীতভাবে ধানের শীষে ভোট চাইছি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা ইনশা আল্লাহ ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন, এই প্রত্যাশা করি।’ এসময় তিনি ইসিবি চত্বর থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত সড়ক প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

নির্বাচনি প্রচারণার প্রথম দিনে তারেক রহমান ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালমাঠে, ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুরে, ঢাকা-১৪ আসনে মিরপুর মডেল থানার বিপরীতে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ঢাকা-১৩ আসনে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাতারপুরে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন।


হিন্দুরা সংখ্যালঘু নয়, বাংলাদেশি নাগরিক: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা সংখ্যালঘু নয়ম বাংলাদেশি নাগরিক। এ সময় অধিকার আদায়ের জন্য তাদের নিজের পায়ের ওপর দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গলিমবাবুর হাটে নির্বাচনী সভায় তিনি এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার যে অধিকার আছে, ঠিক তেমনি আপনারও সমান অধিকার আছে। আমি আপনাদের এ কথা জোড় দিয়ে বলতে চাই-আপনারা নিজের অধিকারের জন্য নিজের পায়ের ওপর দাঁড়ান। কেউ এসে আপনাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করবে এটার সাহস কেউ যেন না পায়।’

এসময় সংস্কার ও পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য সকলকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কে কে সংস্কার চায়, কে কে চায় না; যারা চায় তারা বলবে ‘হ্যাঁ’, আর যারা চায় না তারা ‘না’ বলবে।’

বিএনপি সংস্কার চায় মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা সংস্কার ও পরিবর্তন চাই। দরজাটা ঠিক হোক, জানালাটা ঠিক হোক, চাই না? চাই তো। আমার দেশ এক ব্যক্তির শাসনে নষ্ট না হোক, আগের মত ফ্যাসিস্ট না হোক। জবাবদিহিতা থাক। এটিকেই আমরা বলছি ‘হ্যাঁ’ ভোট।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের দুইটা ব্যালট দেয়া হবে; একটাতে থাকবে এমপির ভোট, আরেকটা গণভোটের। তুমি সংস্কার চাও কি চাও না? আপনি যদি সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দেন তাহলে সংস্কারটা হবে, আর যদি না ভোট দেন তাহলে হবে না। তাহলে তো আবার পেছনে পড়ে যাব। এজন্য সবাই আমরা সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ ভোটে সিলটা মারব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ভোটে সিদ্ধান্ত হবে, এই বাংলাদেশটা কী আগের মত চলবে, নাকি নতুনভাবে সুন্দর করে চলবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান ইয়াং তরুণ, টগবগে যুবক। সবাই দেখেছেন তো। যে প্রধানমন্ত্রী হবে তাকে আমার চাই একজন তরুণ। যে নতুন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কাজ করবে। তাই তারেক রহমানের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস সব সময় মনে রাখবেন; আমরা বিএনপি, আমি মির্জা আলমগীর আপনাদের পাশে আছি সব সময়। অতীতে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আর এখানে আমার ভাইয়েরা আছে, তারা সবাই আপনাদের পাশে আছেন।’


বরগুনায় এগিয়ে ধানের শীষের মনি ও নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি, বরগুনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার দুইটি আসনেই নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম, হাটবাজার ও এমনকি চরাঞ্চল পর্যন্ত সবখানেই প্রার্থী ও সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে, এই দৃশ্যমান তৎপরতার আড়ালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ সাধারণ ভোটারদের আচরণে এক ধরনের নাটকীয় নীরবতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে কথা কম বললেও ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে তাদের আগ্রহ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ এবং এই নীরব ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার জেলার দুইটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

জেলার ছয়টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জেলাটিতে সংসদীয় আসন সংখ্যা দুইটি। যদিও ইতোপূর্বে জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন ছিল। ভৌগলিক ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেটাই ছিল যৌক্তিক।

জেলা নির্বাচন অসিসের তথ্যমতে, জেলার দুইটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা আট লক্ষ ৫১ হাজার ৭৯০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার চার লক্ষ ২৩ হাজার ১৯৬ জন এবং মহিলা ভোটার চার লক্ষ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন। এছাড়া, ১৫ জন হিজরা ভোটার রয়েছে। পাশাপাশি, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন দুইটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১০৯, বরগুনা-১ আসন :

দেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ১০৯, বরগুনা-১ আসনটি গঠিত হয়েছে। ২০০৮ সালে নতুন করে আসন বিন্যাসের আাগে বরগুনা সদর উপজেলাটি বরগুনা-১ আসনের অংশ ছিল এবং আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে ছিল বরগুনা-৩ আসন।

বর্তমানে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৮৬ জন। এরমধ্যে দুই লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৯২ জন পুরুষ এবং দুই লক্ষ ৬০ হাজার ৮৩ জন মহিলা ভোটার রয়েছে। এছাড়া, আসনটিতে ১১ জন হিজরা ভোটার রয়েছে।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বরগুনা-৩ আসনে প্রথমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং উপনির্বাচনে বিএনপির মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম সরোয়ার টুকু নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর পাল্টে গেছে এখানকার রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। আওয়ামী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অত্যাচার এবং ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় বরগুনায় মাদক ব্যবসার ব্যাপক প্রসার ঘটায় মানুষ আওয়ামী লীগ থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যে কারণে অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় পার্টি-জেপি থেকে মো. জামাল হোসেন বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারে আসনটিতে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা পুরো শক্তি নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়ন থেকে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে তার বেশ সুনাম রয়েছে। ভোটারদের সাথেও তার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া, ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান তালুকদারের পাশাপাশি তাকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি মতিয়ার রহমান তালুকদারের মনোনয়ন চূড়ান্ত করলে নজরুল মোল্লা তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। এবার মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই নজরুল মোল্লা তার নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন। নানা কৌশলে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। তিনি জয়ের ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদী।

এই আসনটিতে ভোটের দিক থেকে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন। বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী করা হয়েছে দলটির বরগুনা জেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহকে। তিনি আসনটিতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বর্তমানে চরমোনাই দরবার শরীফ সমর্থিত বরগুনার পীর হিসেবে দায়িত্ব পালন সুবাদে বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল করেছেন। তার বাবা মাওলানা আব্দুর রশিদও বরগুনা পীর এবং ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে জয়ের ব্যাপারে তিনিও খুব আশাবাদী।

এছাড়া, এ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসাইনকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট থেকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেড় হাজারেরও কম ভোট পেয়েছিলেন। বর্তমানে শুধু মাইকিং ছাড়া মূলত তার কোন প্রচার-প্রচারণা বা তৎপরতা চোখে পড়ছে না। আর জাতীয় পার্টি-জেপির মো. জামাল হোসেনের কোনও মাইকিংও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে। ধানের শীষ ও হাতপাখার কর্মীরা ভোট সংগ্রহে পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের ধারনা, বিএনপির মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা অথবা ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহর মধ্যে যেকোনো একজনই বরগুনা-১ আসনে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। তবে সার্বিক বিবেচনায় বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এগিয়ে রয়েছেন।

১১০, বরগুনা-২ আসন :

জেলার পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ১১০, বরগুনা-২ আসনটি গঠিত হয়েছে। ২০০৮ সালের আগে বেতাগী উপজেলাটি বরগুনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসনটি গঠিত ছিল। পরবর্তীতে সীমানা পুনঃনির্ধারণের পর বেতাগী উপজেলাকে বরগুনা-২ আসনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়।

বর্তমানে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লক্ষ ৩৪ হাজার ৮০৪ জন। এরমধ্যে এক লক্ষ ৬৬ হাজার ৩০৪ জন পুরুষ এবং এক লক্ষ ৬৮ হাজার ৪৯৬ জন মহিলা ভোটার রয়েছে। এছাড়া, আসনটিতে চারজন হিজরা ভোটার রয়েছে।

২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নূরুল ইসলাম মনি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালেও তিনি স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মূলত তিনিই এ আসনটিকে বিএনপির দুর্গে পরিণত করেছিলেন। পরবর্তীতে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে এ আসনে আওয়ামী লীগের গোলাম সবুর টুলু, শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও সুলতানা নাদিরা এমপি নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর পাল্টে গেছে এখানকার নির্বাচনী হিসাব নিকাশ। পুনরায় নিয়ন্ত্রণ চলে আসে নূরুল ইসলাম মনির হাতে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপির নূরুল ইসলাম মনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া, জামায়াতের ডা. সুলতান আহমদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলনের মো. মিজানুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজি লাঙ্গল প্রতীকে, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাব্বির আহমেদ ডাব প্রতীকে, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সৈয়দ নাজেস আফরোজ সিংহ প্রতীকে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান লিটন কাঁঠাল প্রতীকে, এনপিপির মোঃ সোলায়মান আম প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জামান জাহাজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলাম মনি। তিনি এ আসন থেকে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং প্যানেল স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন তিন বার সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। অনুন্নত এ এলাকায় তিনি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। এলাকার জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি কোস্ট গার্ড বিল সংসদে পাস করিয়েছেন। এখানে মূলত তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই বিএনপিকে অন্যসব দল থেকে এগিয়ে রেখেছে। তিনি আশা করছেন, আগামী নির্বাচনে আসনটি দলকে উপহার দিতে পারবেন।

আসনটিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য ডা. সুলতান আহমেদকে প্রার্থী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনি আশা করছেন, জনগণের যে ভালোবাসা পেয়েছেন তা তাকে জয়ী হতে সাহায্য করবে।

আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের কিছু রিজার্ভ ভোট রয়েছে। দলটির জেলা সভাপতি মুফতি মো. মিজানুর রহমানকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি বেশ জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনিও বেশ আশাবাদী।

এ আসনে জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) অন্য ছয় প্রার্থীর তেমন কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এমনকিত তাদের কোনও প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়ছে না।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কর্মীরা ভোট সংগ্রহে দিন রাত পরিশ্রম করছেন। তাদের ধারনা, বিএনপির নূরুল ইসলাম মনি অথবা জামায়াতে ইসলামীর ডা. সুলতান আহমদের মধ্যে যেকোনো একজনই বরগুনা-২ আসনে বিজয়ী হবেন। তবে নূরুল ইসলাম মনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তাই এবারের নির্বাচনে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন তারা।

বরগুনার বিভিন্ন উপজেলার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সৎ, যোগ্য এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য নিবেদিত প্রাণ প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবেন। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যার চিন্তায় ও মননে অপরিসীম দেশপ্রেম রয়েছে, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যার পরিষ্কার অবস্থান থাকবে এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তারা। বিশেষ করে, তরুণ ভোটাররা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার জন্য।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে ভোট শব্দটি মানুষ ভুলে গিয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের ভোটদানের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


মৃত্যুর আগেরদিন পর্যন্ত পাশে থাকতে চাই, মাদারীপুরে জাহান্দার আলী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর-২ (রাজৈর-মাদারীপুর) আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) শহরের প্লানেট কমিউনিটি সেন্টার হলরুমে তার পক্ষের নির্বাচনী এজেন্টদের উদ্দেশে বললেন, আমি আমার ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে আপনাদের পাশে থেকেছি, ধর্ম-বর্ণ, জাত-পাত, ধনী-গরীব, সাদা-কালো নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সাথে মিশেছি। আমাকে আপনারা প্রায় ৪ যুগ যাবৎ চেনেন-জানেন, জানামতে মানুষের যতটুকু সম্ভব উপকার করেছি, আমার হাতে কোনো মানুষের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি, আপনাদের আমি যতটুকু সময় দিয়েছি তার অর্ধেক সময়ও আমার পরিবারকে দিতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে আর মাত্র এক-দুদিন প্রচার-প্রচারণার কাজ চলার পরে আচরণবিধি অনুযায়ী তা বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের যে কোনো জায়গার চাইতে মাদারীপুরে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রয়েছে, আমরা ইনশাআল্লাহ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে, এ সময় আমাদের বসে থাকলে চলবে না, আমাদের অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, ভোট বানচালের ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো সহ কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি বা তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে ভোটারদের পাশে থাকতে হবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া সহ সাহস জোগাতে হবে, ভোটার ও ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে এবং ভোট শেষে ভোট গণনা সহ ফলাফল সাথে নিয়েই ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।


বগুড়া-৪ আসন: জমে উঠেছে প্রচারণা, মর্যাদার লড়াইয়ে মাঠে ৪ প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

আর মাত্র ক’দিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ নির্বাচনে মর্যাদার লড়াইয়ে লড়ছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের নেতাকর্মীরা। এই আসনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা সবচেয়ে জোরালোভাবে চোখে পড়ছে। দুই দলের প্রার্থীরাই দিনভর গ্রাম থেকে গ্রাম, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে হাতপাখা ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রচারণা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

জানা যায়, কাহালু উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। বগুড়া-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এই আসনের মানুষ বরাবরই বিএনপির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ধানের শীষে সিল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে সাধারণ ভোটররা। এবারের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ বিজয়ী হবে ইনশাঅল্লাহ। তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন বলেও জানান।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, আমি মানুষের সাড়া পাচ্ছি। সততা, ন্যায় ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এবার দাঁড়িপাল্লার জয় হবে ইনশাঅল্লাহ।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক বলেন, আমি আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সাধারণ মানুষের সমস্যা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে চাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী বলেন, ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমি নির্বাচন করছি। ভোটারদের সাড়াও পাচ্ছি। ইতিহাস বলছে, বগুড়া-৪ আসনটিতে স্বাধীনতার পর ১২টি জাতীয় সংসদ ও ২টি জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনসহ মোট ১৪টি নির্বাচন হয়েছে। এলাকার ভোটাররা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।


ইরানকে নতুন ৫ শর্ত দিলেন ট্রাম্প

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ আলোচনার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এমন চাপের মধ্যে ইরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করাতে সমর্থ হয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছেন।

শর্তগুলো কি?

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। সেগুলো হলো—

১। সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরানো।

২। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া

৩। ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া।

৪। মিসাইল পোগ্রাম বা উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া।

৫। সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে যেসব সশস্ত্র মিত্র বাহিনী আছে তাদের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্সের মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দাবি হলো, যেটি ইরানের মানতে খুবই কষ্ট হবে, সেটি হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘এসব মিসাইল একমাত্র রক্ষাকবচ যেগুলো শত্রুদের হাত থেকে ইরানের সরকারকে রক্ষা করছে। এসব মিসাইল ছাড়া ইরান খালি এবং ইসরাইলের আকাশ শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ইরানের কোনো সরকারই এ থেকে রক্ষা পাবে না।’

ইরান শর্ত না মানলেই হবে হামলা

ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দেওয়া সেগুলো শুধুমাত্র মানাই অসম্ভব নয়, এগুলো দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দ্বিতীয় হামলা চালাবে।

ইরানকে সহায়তায় প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি

ইরানে মার্কিন হামলা হলে দেশটিকে রক্ষায় সহায়তা করতে প্রস্তুত হাজার হাজার ইরাকি। এনিয়ে ইতোমধ্যে হাজার হাজার ইরাকি একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের অন্তত ৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ইরাক ও পূর্বদিকের প্রতিবেশী দেশ (ইরান), এবং তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে’ বিনা পারিশ্রমিকে’ রক্ষা করতে তারা প্রস্তুত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এবং ইরানকে সহায়তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আমরা আমাদের প্রস্তুতি ঘোষণা করছি। সেইসঙ্গে আমরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রে মার্কিন হস্তক্ষেপকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যেই ইরাকের হাজার হাজার নাগরিক এমন ঘোষণা দিলো। এর আগে একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে অতর্কিত হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানে সরকার পতন ও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে ইরানের উপকূলীয় জলসীমার কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো অবস্থান করছে। ইসরায়েলও জানিয়েছে, যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত।

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করবেন নেতানিয়াহু

আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠক করবেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই বৈঠকে ইরান নিয়ে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প আলোচনা করবেন বলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।

গত শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, সামনে তাদের মধ্যে আরও আলোচনা হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স, ট্রাম্পের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং দাবি হলো, যেটি ইরানের মানতে খুবই কষ্ট হবে, সেটি হলো তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘এসব মিসাইল একমাত্র রক্ষাকবচ যেগুলো শত্রুদের হাত থেকে ইরানের সরকারকে রক্ষা করছে। এসব মিসাইল ছাড়া ইরান খালি এবং ইসরায়েলের আকাশ শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ইরানের কোনো সরকারই এ থেকে রক্ষা পাবে না।

ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দেওয়া সেগুলো শুধুমাত্র মানাই অসম্ভব নয়, এগুলো দেওয়া হয়েছে যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আর বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেটি অনুযায়ী প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দ্বিতীয় হামলা চালাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো হওয়া মার্কিন বাহিনী যদি হামলা চালায় তবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারের গণমাধ্যম আল জাজিরাকে এমনটি জানিয়েছেন। এসব হামলাকে ঘাঁটিগুলো যেখানে অবস্থিত সেই দেশগুলোতে আক্রমণ হিসেবে দেখা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার পরদিন আরাগচি এসব মন্তব্য করেছেন।

এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয়েই পারমাণবিক আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করে তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর পর ওমানেই প্রথম তেহরান ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। আর মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।

আরাগচি জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা কবে হবে, তার তারিখ নির্ধারিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকেই আলোচনা হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আশপাশে নৌ ও বিমান বহরসহ বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে সরে আসতে হবে, এর পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও আশপাশের অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে; অন্যথায় ফের ইরানের হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।


ত্রিশালে ধানের শীষের সুবাতাস ছড়াচ্ছেন মোস্তেকা আনোয়ার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বইছে ভোটের হাওয়া। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের পক্ষে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তার সহধর্মিণী মোস্তেকা আনোয়ার।

নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত সময়ে মোস্তেকা আনোয়ার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের আনাচে-কানাচে দিন-রাত গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে তার সরব উপস্থিতি এবং আন্তরিক আলাপচারিতা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন এবং বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীর পক্ষে তার সহধর্মিণীর এই জোরালো প্রচারণা এবং জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে এক ধরনের ইতিবাচক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রচারণা চলাকালে নারী ভোটার রাবেয়া খাতুন (৪৫) বলেন, ডা. লিটন সাহেবের বউ নিজে আমদের ঘরে আইসা খোঁজখবর নিছেন। তার কথা আর ব্যবহার দেইখা আমরা খুব খুশি। ১২ তারিখ কেন্দ্রে গিয়া আমরা ধানের শীষেই দিব।"

নতুন ভোটার সুমি আক্তার (২৩) তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন "নতুন ভোটার হিসেবে ভোট নিয়া আমার খুব আগ্রহ। মোস্তেকা আপা যখন আমদের সাথে কথা বললেন, মনে হইলো তিনি আমদের পরিবারের একজন। তিনি নারীদের অধিকার আর এলাকার উন্নয়নের কথা বলছেন। উনার প্রচারণায় আমরা মহিলারা অনেক সাহস পাইছি।" গণসংযোগকালে মোস্তেকা আনোয়ার বলেন, "মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও সাড়া আমি পাচ্ছি, তাতে ইনশাআল্লাহ ১২ই ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয়ের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। ত্রিশালের মানুষের সুখে-দুঃখে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন সবসময় পাশে ছিলেন এবং আগামীতেও আপনাদের পাশে থাকবেন।


নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে: জাইমা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান বলেছেন, ‘পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে, ছাত্র নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত নারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ‘পাইপলাইন’ তৈরি করতে হবে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলে যোগ্য নারী নেতৃত্বকে সামনে আনা সম্ভব হবে না।

রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনীতি ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পৃক্ততা না থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয় না। উপযুক্ত অভিভাবকত্ব ও সহায়তা ছাড়া নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারে না। পুরুষদের জন্য নানা সুযোগ থাকলেও নারীরা এখনো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই নারীদের জন্যও কার্যকর সংযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনীতিতে অর্থনৈতিক বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে নারী নেত্রীদের জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। এতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের মেধা কাজে লাগিয়ে একটি ভিন্নধর্মী রাষ্ট্র গড়তে হলে চিন্তায় পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেই নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ থাকা প্রয়োজন যাতে নারী নেত্রী বা কর্মীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে দল দায় নেয় এবং তাদের পাশে দাঁড়ায়।


লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান ইফতেখার আহসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইফতেখার আহসান হাসান। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ইফতেখার আহসান হাসান তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন নেতা। তিনি একসময় জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী।

ইফতেখার আহসান হাসান বলেন, জাতীয় পার্টি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দল। যারা এই চেতনায় বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য লাঙ্গলই ভরসার প্রতীক। তিনি আরও বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’ জাতীয় পার্টি আজও সেই আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করছে।

একসময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুমিল্লা-১ আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গণসংযোগকালে ভোটারদের কাছ থেকে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান ইফতেখার আহসান হাসান।

গণসংযোগ ও পথসভায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম হাজারি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সাদেক, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হক নাইমসহ ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন: মির্জা আব্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর আচরণ ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আরামবাগ এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি করে তাকে অশান্তিতে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণাকে শিষ্টাচারবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “১১ দলীয় জোটের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমি যেন নির্বাচনের দিন ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারি এই দোয়া চাই।”

মির্জা আব্বাস দাবি করেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী এমন কিছু অশালীন কথা বলছেন যার মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকায় মারামারি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনো ধরনের উসকানিতে তিনি পা দেবেন না। তবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে একটি কৃত্রিম সংকট বা ‘সিনক্রিয়েট’ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আরামবাগের গণসংযোগ শেষে তিনি ফকিরাপুল এলাকায় প্রচার চালান এবং বিকেলে কমলাপুর কালভার্ট রোড থেকে বাবে রহমত উটখামার পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার মতে, ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তার দায় অন্য দলের ওপর চাপানোর নীল নকশা তৈরি করছে, কারণ তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন।

যাদের দেশ পরিচালনার ন্যূনতম অভিজ্ঞতা নেই, তারা কীভাবে নির্বাচনের পর ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেয়—সেই প্রশ্ন তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে নিজেদের লোক বসানো আছে বলেই তারা এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই কর্মকর্তারা প্রয়োজনে তাদের ইচ্ছেমতো নির্বাচনের ফল পরিবর্তন বা ম্যানিপুলেট করার কাজ করবেন। নির্বাচনী মাঠের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে আসার এবং সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।


মণিরামপুরে বিএনপি নেতা মফিজুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের মণিরামপুরে উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুর রহমান মফিজের সুস্থতা কামনায় পৌরসভার ৫ নং তাহেরপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে তার দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মণিরামপুর কারিমিয়া ক্যাডেট স্কিম কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আহসান কবীর।

দোয়া মাহফিলে ৫ নং তাহেরপুর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিন কুমার বাবু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান, ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমান, মণিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম এনামুল হক, সাবেক শিক্ষক মুজিবুর রহমান, শিক্ষক শাহজাহান আলী, সাংবাদিক ও শিক্ষক জি এম ফারুক আলম, তাহেরপুর আকুঞ্জী মসজিদের মুহতামিম আক্তারুজ্জামান এবং পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কাজী ইমরানসহ শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, মফিজুর রহমান মফিজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত এবং চিকিৎসাধীন। গত বুধবার হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ঢাকায় সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মোমেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।


banner close