স্বৈরাচার সরকার হটাতে গণআন্দোলনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, “কোনো স্বৈরাচার সরকার আপসে ক্ষমতা ছাড়েনি। আগামী নির্বাচন ‘শেখ হাসিনামুক্ত’ নির্বাচন হতে হবে। তার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। অতীতের নির্বাচনগুলোতে প্রমাণ হয়েছে, শেখ হাসিনার অধীনে নির্দলীয় অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, ভবিষ্যতে হতে পারে না।”
শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। গণআন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। পাকিস্তান আমলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব খানকে বিদায় করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও এরশাদকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করা হয়েছে। তাই সময় অতি সন্নিকটে, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। অনতিবিলম্বে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় দিয়ে মানুষকে মুক্ত করব।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জাতির স্বার্থে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিএনপি যখন বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল তখন এ সরকার তাদের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী দিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছে। সব বাধা উপেক্ষা করে প্রতিটি কর্মসূচি জনগণ সফল করেছে।’
সরকার মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে প্রচার করে অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ৭৫ সালেও একইভাবে তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছিল। এরাই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, পদদলিত করেছে।’
সরকার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পারছে না উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘তাদের সিন্ডিকেটের লোকেরা দেশের মানুষের পকেটের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করার জন্য এ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। আজকে মধ্যবিত্ত গরিব হয়ে যাচ্ছে। পেট চালাতে পারছে না। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। এই অবস্থা বাংলাদেশের মানুষ সবাই ঐক্যবদ্ধ। এই সরকারের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।’
মানববন্ধনে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্যরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে মহিলাদের অংশগ্রহণে উঠান বৈঠক হয়েছে। সোমবার দুপুরে গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে সৈয়দপুর খেলার মাঠে এ বৈঠক হয়।
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম খান তারেকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর কন্যা ডা. সাফওয়াত বিনতে সালাম সাবা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ইদ্রিস মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল সরকারসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, পরাজিত শক্তি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দিতে হবে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার গোমদণ্ডী ফুলতল মোড়ে এনসিপির নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সামনে আছে। যে দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছিলাম।
সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। এখন আমাদের রক্ত দিতে হবে না। শুধুমাত্র ব্যালেটে সীল দিতে হবে। গণ ভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে যা অর্জন করেছি তা রক্ষা করতে পারবো।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ১৭ বছর ধরে সংস্কার সংস্কার করে আসছিল। যখন সংস্কারের সময় আসলো তখন তাদের কথা বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক এ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক জুবায়ের হাসান আরিফ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বদরুল হক, বোয়ালখালী এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন প্রমুখ।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের দর্জি পাড়ায় শহীদ ইশমামের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতৃবৃন্দরা।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য ২১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বহিষ্কৃতরা হলেন- বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ফকির, টাঙ্গাইল জেলাধীন কালিহাতী উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইঞ্জি. আব্দুল হালিম, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. মো. মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
উল্লিখিত নেতাদের দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শেরপুর-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন দেশের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জামায়াতের নেতৃবৃন্দ গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সাথে বৈঠক করেছেন। এখন বৈঠক করবেন বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সঙ্গে। বৈঠক করেন কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু গোপনে কেন? এটা আমাদের চিন্তিত করেছে। নিশ্চয় এর মধ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে।’ তিনি মনে করেন, এই গোপনীয়তা রাজনৈতিক মহলে নানা সন্দেহের উদ্রেক করছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জোট ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে রেজাউল করিম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিকে আমরা ইসলামের একটি বাক্স মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ জোট থেকে আমরা আলাদা হয়েছি, কারণ সেই ইসলামের বাক্সটি ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’ পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই ইসলামী নিয়ম-আদর্শ অনুযায়ী। কিন্তু তারা যে নিয়মনীতি চালু করতে চায়, তা আমেরিকার নিয়মনীতি। এসব নীতিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয় না। এটি সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি। আমরা যে কারণে একসঙ্গে ছিলাম, সেই কারণেই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি।’ ইসলামী আন্দোলনের আমির দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তারা একা হয়ে যাননি বরং মহান আল্লাহ এবং দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের পাশে রয়েছে।
উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি খন্দকার মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মুফতি শহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বহু নেতাকর্মী বক্তব্য প্রদান করেন। চরমোনাই পীরের ভাষণ শেষে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তালেব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশাল পথমিছিল বের করা হয়, যা শ্রীবরদী বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের মাধ্যমে হাতপাখা প্রতীকের সমর্থনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার মাধ্যমেই সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার দুর্গম বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আবদুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়া শক্তি যাদের মধ্যে কখনোই কোনো রাজনৈতিক চরিত্র বিদ্যমান ছিল না।
আওয়ামী লীগের প্রতি এখনো যারা সহানুভূতি রাখেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন। কারণ, আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। তারা বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং নিজেদের দেশ ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে।’
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন যে, শেখ হাসিনা একা পালিয়ে গেলেও দলের সাধারণ কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তিনি কর্মীদের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘সবার তো আর দিল্লি যাওয়ার সুযোগ হয়নি, শেখ হাসিনাও সবাইকে নিয়ে যেতে পারেনি। দেশে যারা রয়ে গেছে, আমাদের অনেক ভাই-বন্ধু, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত ছিলেন, তারা রাজনীতি করতেই পারেন। সেটি তাদের স্বাধীনতা। তবে আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকুন।’ তিনি প্রত্যাশা করেন যে সাবেক আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভুল এখন ভেঙেছে এবং তারা এখন থেকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবেন।
একই সঙ্গে ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট চাওয়া একটি দলের সমালোচনা করে তিনি জনগণকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটিকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। তিনি জামায়াত নেতার এই বক্তব্যকে ‘রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনা’ এবং ‘পদ্ধতিগত নারীবিদ্বেষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে নাছির উদ্দিন নাছির উল্লেখ করেন, জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা কেবল ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপমান নয়; বরং এটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতি ও উচ্চশিক্ষার ইতিহাসের প্রতি চরম ধৃষ্টতা। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ডাকসুর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা জামায়াতের দেউলিয়া রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
ছাত্রদল সম্পাদক অভিযোগ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্টতই নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মানসিকতার পরিচায়ক। তিনি একাত্তরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ইতিহাস মিশে আছে, তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি এই দলটি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে তারা নারীদের গৃহবন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দাঁয় দেশ পরিচালনা করবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি থামিয়ে দেবে।
বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্রদল সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনায় যারা লম্বা বিবৃতি দেন, জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পর তাদের রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে বর্তমান ডাকসু এখন ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। তিনি একে ডাকসুর জন্য লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন নাছির উদ্দিন। তিনি সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে বয়োজ্যেষ্ঠদের লাঞ্ছিত করা এবং শিশুদের কান ধরে ওঠবস করানোর মতো অমানবিক আচরণের অভিযোগ আনেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, সর্বমিত্র চাকমা ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত এবং তার এসব স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ‘জুলুমবাজের’ ঠাঁই হতে পারে না উল্লেখ করে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের শহীদ আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমানের ধমনীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত প্রবাহিত। তাই দেশপ্রেমিক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকবে।
সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কখনোই প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র বা দেশপ্রেম ছিল না। তারা বাংলাদেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে এবং বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেকে বাঁচাতে একাই পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার সব কর্মী বা সমর্থক দেশ ছাড়ার সুযোগ পাননি। যারা দেশে রয়ে গেছেন, তাদের রাজনীতি করার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীলদের ভুল পথ পরিহার করে স্বাধীনতাপন্থি শক্তির পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ মহল ধর্মের দোহাই দিয়ে কিংবা ‘জান্নাতের টিকিট’ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি ভোটারদের এসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার অনুরোধ জানান। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যে নেতা নিজের কর্মী-সমর্থকদের বিপদে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, জনগণ আর এমন নেতা চায় না। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আওয়ামী লীগ করত, শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিত এবং নৌকায় ভোট দিত, তাদের সবাইকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতৃত্বের পুনরাবৃত্তি দেশবাসী আর দেখতে চায় না।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোট দেওয়া নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার, কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার জনগণকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অধিকার চাইতে গিয়ে মানুষকে জেল খাটতে হয়েছে, মারধর ও গুলির শিকার হতে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে টিকতে না পেরে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিগত দিনের সেই দুঃশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
গণসংযোগে মির্জা ফখরুল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দলের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, আমরা আমানতের খেয়ানত করি না। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, চাকরি বা নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ বাণিজ্য বরদাস্ত করা হবে না। স্কুলের শিক্ষক কিংবা দপ্তরি নিয়োগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চাকরির জন্য আমরা নিজেরা যেমন কোনো টাকা নেব না, তেমনি অন্য কাউকেও নিতে দেব না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, যারা একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে এবং এ দেশের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, তারা এখন আবার ভোট চাইতে আসছে। যে দল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ না করার জন্য তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। পথসভায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ অবশেষে নিজের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলমান নানা গুঞ্জন ও সমালোচনার জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা ‘ভাই ব্যবসা’ করতে নয়, বরং নিজের ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই তিনি রাজনীতির মাঠে নেমেছেন। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন যে, প্রচলিত পথে ন্যায়বিচার পাওয়া ক্রমশ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠছে। বিচার আদায়ের এই সংগ্রামকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, মাত্র ২০ টাকার একটি ফরম পূরণ করে তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েই কেবল হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো কার্যকরভাবে আদায় করা সম্ভব।
নিজের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে স্নিগ্ধ জানান, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। বরং ভাই মুগ্ধসহ জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিনা পারিশ্রমিকে ‘জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দিনরাত কাজ করেছেন। তিনি স্মরণ করেন, পাবলিক বাসে চড়ে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ফাইলের পেছনে ছুটতে গিয়ে তাঁকে অনেক ধকল সইতে হয়েছে। এমনকি এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নিজের পেশাগত জায়গা অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং থেকেও নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারও থমকে গিয়েছিল। তবু তিনি হাল ছাড়েননি, কারণ তাঁর কাছে ভাইয়ের হত্যার বিচার এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মুখ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ঘিরে ওঠা ‘ভাই ব্যবসা’ বা ভাইয়ের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন স্নিগ্ধ। তিনি প্রশ্ন রাখেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া কাউকে অসৎ বা সুবিধাবাদী বলা কতটা যৌক্তিক? তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজে এমন একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে যে দায়িত্ব পালন বা রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মানেই অসৎ উদ্দেশ্য থাকা। স্নিগ্ধ জোর দিয়ে বলেন, যদি তিনি ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ বা আখের গোছানোর চিন্তা করতেন, তবে রাজনীতির এই কণ্টকাকীর্ণ পথ বেছে নিতেন না। রাজনীতিকে যারা ব্যবসায় পরিণত করেছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়, এটি জনগণের অধিকার আদায়ের মাধ্যম। তিনি মূলত সেই প্রচলিত ধারার বাইরে এসে ভাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করতেই এই পথে পা বাড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু স্যার মার্ক টালির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই শোক জানান এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
শোকবার্তায় তারেক রহমান উল্লেখ করেন, স্যার মার্ক টালির প্রয়াণের সংবাদে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত। তিনি মার্ক টালিকে বাংলাদেশের একজন ‘সত্যিকারের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির প্রতিনিধি হিসেবে মার্ক টালির অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান লেখেন, মার্ক টালি তাঁর বলিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, ত্যাগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বিশ্ববাসীর কাছে সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর সাংবাদিকতা ছিল সততা, মানবিকতা এবং সত্যের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধায় গাঁথা, যা সাংবাদিকতা জগতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় আরও বলেন, একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে মার্ক টালির সংহতি ও সাহসী ভূমিকা এ দেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। বাংলাদেশের প্রতি তাঁর এই ঐতিহাসিক ও নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য জাতি হিসেবে আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং বিবিসিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, বরেণ্য এই সাংবাদিক রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ভারতের দিল্লির সাকেত ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো—দুর্নীতি। বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে—এ দেশের মানুষের কাছে এটি হচ্ছে আমাদের অঙ্গীকার। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পোলোগ্রাউন্ডে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত সময়ে যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন, যেই হোক না কেন, এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে, তাদেরও ছাড় দিইনি।
তিনি বলেন, আজ দেশের জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিন আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করব, যেন দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ যেন নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে তিনি দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে আসেন।
‘আইন সবার জন্য সমান। অপরাধীর পরিচয় কোনো দল দিয়ে নয়, অপরাধীর পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই দুর্নীতি যেই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।’
তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে সমতল ও পাহাড়ি এলাকার মানুষ একসাথে বাস করে। আমরা সবাইকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ওপর আস্থা রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনি প্রচার যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করলেন চট্টগ্রাম থেকে। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় জনসভা করে নির্বাচনী যাত্রা করেন তারেক রহমান।
এ সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা ছিলেন। মঞ্চে প্রথম সারিতে ছিলেন—বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য উদয় কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ নোমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সারোয়ার নিজাম, চট্টগ্রাম—৮ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এস এম ফজলুল হক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, খাগড়াছড়ির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, কক্সবাজারের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ম্যামাসিং, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহবায়ক জেরি প্রো চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নারীবিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরে আরা সাফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দ্বীপন দেওয়ান তালুকদার।
মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন—চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ।
এদিকে, নির্বাচনী মহাসমাবেশ ঘিরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নগরের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে এই জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
দলের নেতাকে দেখতে আর তার বক্তব্য শুনতে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ নির্বাচনী সমাবেশ ঘিরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ।
জনসভা ঘিরে রোববার ভোর থেকে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ উপচে জনস্রোত আছড়ে পড়েছে আশপাশের সড়কগুলোতে। মিছিলে মিছিলে মুখরিত পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকার পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে ধানের শীষের প্রতীক। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে বন্দরনগরীতে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্যকে দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে ব্যানার ফেস্টুন, রঙ বেরঙের পোশাক পরে মিছিল নিয়ে লোকজন আসেন সমাবেশস্থলে। এতে পুরো এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগেই আমরা আজ একত্র হয়ে কথা বলতে পারছি। একটি দল যারা একাত্তরে স্বাধীনতা চায়নি যাদের কারণে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন এবং ২ লাখ মা বোন তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছেন সেই দলটি আজ বিভিন্ন চক্রান্ত করে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তারায় নেমেছে। যারা একাত্তর সালে এই দেশ চায়নি, তারা এখন দেশের মালিকানা চায়। তারা ভোট চায়।
বরগুনা-২ (বামনা- বেতাগী- পাথরঘাটা) আসনে ডৌয়াতলা ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভায় ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি জনতার উদ্দেশে তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ধানের শীষের পক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। বিএনপির প্রতি বিশেষ করে আমাদের চেয়াম্যান তারেক রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। তারা ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি খুবই ভালো। আমরা বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ। তবে একটি দল এই সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তারা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চায়। ধানের শীষের গণজোয়ারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ার বইছে। এই গণজোয়ার দেখে একাত্তরের বিরোধী শক্তি বিভিন্ন ভন্ডামিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে শিরক তো করছেই তার সাথে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সাথে চরম মাপের ভণ্ডামি করছে। আপনারা এসব ভণ্ডদের কাছ থেকে দূরে থাকবেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছর আমাদের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন আবার একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আপনাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আপনাদের ভোটের অধিকার কেউ যেন কেড়ে নিতে না পারে।
মনি বলেন, আমি তিনবারের এমপি ছিলাম। আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থনে আবারও আপনাদের পাশে থেকে এগিয়ে যেতে চাই। তিনবার এমপি থাকাকালীন যা উন্নয়ন করেছি, যে কাজ করেছি, স্বাধীনতার পর থেকে যারা এমপি ছিল সব এমপি মিলিয়েও আমার করা কাজের ধারে কাছে নেই। আমি যদি অতীতে কাজ করে থাকি তাহলে এইবারও ইনশাল্লাহ আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং আপনাদের প্রতি আমার সেই বিশ্বাস আছে।
সভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, এই জনসভা ঘিরে গোটা উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। স্কুল মাঠে ছিল নেতাকর্মী, সমর্থকদের উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। নেতাকর্মীরা দলবেঁধে মিছিল নিয়ে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।
সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তরুণরা মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এদের জন্য আমাদের মায়া হয়।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বেকার ভাতা দেব না। রাষ্ট্রের টাকা থাকলেও দেব না। এতে বেকারত্ব কমবে না, আরও বাড়বে। আমরা ভাতা নয়, কাজ দেব। তিনি বলেন, তরুণদের শক্তিতেই দেশ এগিয়ে যাবে, আর সেই লক্ষ্যেই যুবকদের এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, দায়িত্ব পেলে সারাদেশকে ফুলের মতো সাজানো হবে। যে দেশ নিয়ে মানুষ গর্ব করবে। আমরা চাঁদাবাজি করব না, দুর্নীতি করব না, প্রশ্রয়ও দেব না। নিশ্চয়ই মানুষ এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাকে ভোট দেবে।
ভোট কারচুপির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, পাহারা দিতে হবে ভোটের। কেউ ভোট দখল করতে এলে প্রতিরোধ করতে হবে।
বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের হাতে তুলে দেন। একইসঙ্গে ঢাকা-৮ আসনের জোট প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতেও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নষ্ট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের রাজনীতি বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনে জোটপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সংস্কারের চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতে। গণভোটের রায়ের মাধ্যমেই অনেকের ভ্রান্ত স্বপ্ন ভেঙে দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম চাঁদাবাজি শেষ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিতে ভোট দিলে পরিত্রাণ মিলবে।
এই প্রার্থী হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে এনে রাষ্ট্রের গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন এবং ১২ তারিখে চাঁদাবাজ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, পুরান ঢাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে নানা দিক থেকে বঞ্চিত। এখানে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। তিনি জামায়াত আমিরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে ঢাকা-৬ আসনকে চাঁদাবাজমুক্ত করবেন। এই আশ্বাস চাই।
সভায় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নতুন বাংলাদেশে গরিব ও বড়লোকের মধ্যে বিচারের কোনো বৈষম্য থাকবে না। তিনি বলেন, মার্কা দেখে নয়, যারা দালালি করবে না তাদের ভোট দিন।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় মহানগরী ও স্থানীয় নেতারা।