বাংলাদেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটিকে যথাযথ বলছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে, এটা যথাযথ করেছে। তাদের বিচার থেকে শুরু তাদের প্রতি যে... সেটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত অপমানজনক এবং লজ্জাজনক। এই অবৈধ সরকার দেশে এই অবস্থা তৈরি করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।’
জাতীয় কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মজয়ন্তীতে কবির কবরে বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খোকন বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, ডিসি ও এসপি সবাইকে বহাল রেখে আবারও একতরফা নির্বাচন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত করতে দেয়া হবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এটি প্রতিরোধ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। সরকার সেখানে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা আশা করব, সরকার সংঘাতের পথ পরিহার করে জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেবে। আমাদের দাবি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও চাচ্ছে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।’
‘খবর আছে’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন, এ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের খবর না, খবর আছে আওয়ামী লীগের। কারণ জনগণ ফুঁসে উঠেছে। জনগণ এবার দিনের ভোট রাতে করতে দেবে না। জনগণের দাবি, নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন। না হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র না, সকল দেশ বাংলাদেশকে বয়কট করবে। আমরা কি বিশ্বের কাছ থেকে এক ঘরে হয়ে থাকব? তাই আমাদের প্রত্যাশা সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। জনগণের এই দাবি আদায়ের জন্য আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান ঠেকাতে ঢাকার কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে উল্টো তাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিগত সাড়ে ১৬ বছরের জুলুম-নির্যাতন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ শহীদ ও ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তদন্তেও প্রমাণিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তাকে আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তির স্পষ্ট অবমাননা। জামায়াত প্রত্যাশা প্রকাশ করে যে, ভারত সরকার তাদের অনড় অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে অবিলম্বে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।
একই সাথে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের তাগিদ দিয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি ও জাতিসংঘের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে দেশের মুক্তিকামী জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো পুরোনো বা নব্য ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না এবং একটি বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন প্রধান লক্ষ্য।
জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও তৃণমূলভিত্তিক করার লক্ষ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনক্রমে খুলনা মহানগর ও খুলনা জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট খুলনা মহানগর কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিয়াজ আহমেদ তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন।
মহানগর কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহসভাপতি এ. কে. এম. শফিকুল হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, এস. এম. আবু সাইদ, বনানী সুলতানা ঝুমু, এ. এ. কে. আলমগীর, খাইরুল আলম, কাউসারী জাহান মঞ্জু; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস. এম. রায়হান আলমগীর, নুরুন নাহার নাজমুন নেছা জেবা, ফখরুল ইসলাম শিবলু, গাজী হাসান রুমি; সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল রহমান মিলন; সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান; কোষাধ্যক্ষ সোহেল হোসেন; দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ হোসেন; প্রচার সম্পাদক সৈকত সোহাগ; মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা পারভীন পলি; সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক শেখ জাহিদ হোসেন; ক্রীড়া সম্পাদক ইউনুছ মিয়া; আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারহানা বিনতে হাসান; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সোয়েব খান; তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এনরোজ খান বাহার; শিল্প, চারু ও কারুকলাবিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম; সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান জুয়েল। নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন আদনান হাসান, তানভীর মনিরুজ্জামান মানিক, মাহবুব হোসাইন, মোহাম্মদ সবুর, সুলতান মাহমুদ জনি এবং রনি সানা।
অন্যদিকে, খুলনা জেলা কমিটিতে সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোল্লা মেজবাউল ইসলাম।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন মুন্সী; সহসভাপতি হাফিজুর রহমান শেখ, শিকদার গোলাম রসূল, শেখ ফেরদৌস হোসেন, শিহাবুল ইসলাম শিহাব; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মোড়ল, সাদ্দাম হোসাইন, নাজমুছ সাকিব, রাসেল আহমেদ রিপন, ফয়সাল আহমেদ; সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন; সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইমরান, মোহাম্মদ জামাল মোল্লা; দপ্তর সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির; সহদপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাদী; প্রচার সম্পাদক মিরাজ মল্লিক; সহ-প্রচার সম্পাদক সোহাগ; স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. তৌকির আহমেদ; কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ শেখ; ক্রীড়া সম্পাদক মোস্তায়িন বিল্লাহ এবং মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মোছাম্মৎ তাসলিমা বেগম।
জাতীয় নির্বাচনকালীণ সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি নড়াইল বিএনপির ছয়জন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিস্কৃত নেতৃবৃন্দরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, সদর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিলু শরীফ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.মশিয়ার রহমান সান্টু।
দলের হাই কমান্ডের কাছে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাজাপ্রাপ্ত ওই সকল নেতৃবৃন্দের ওপর থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদেরকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচির অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয় এখন থেকে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নেতৃবৃন্দ কার্যকরী ভূমিকা রাখবেন বলে দল আশা প্রকাশ করে।
জানাযায়,জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে প্রথমে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জননেতা মো. মনিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন । সেই মোতাবেক মনিরুল ইসলাম দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড মনিরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনিরুল ইসলাম তা প্রত্যাখান করে তার অনুসারিদের নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। যে কারণে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড.ফরিদুজ্জামান নির্বাচনে তৃত্বীয় স্থান অর্জন করেন।
গ্যাস সংকট, লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দান থেকে মিছিলটি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবির, জেলা এবি পার্টির সভাপতি সুলতান মো. শামসুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মোমেন ফকিরসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, ‘দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট ও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে দফায় দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।’ দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে আহ্বান জানান নেতারা।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পতন শুরু হয়েছে, সামনে আরও পতন হবে। আপাতত আপনাদের পতন সামলান বালে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচালের চেষ্টা করেছে। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে মব সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জুলাই কারাবন্দিদের মুক্তি দিবস উপলক্ষে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, গতকাল এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে প্রোগ্রামটি বানচাল করার উদ্দেশ্যে এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মব সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও তারা একই ধরনের মব রাজনীতি করেছে, গতকালও সেটির পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা আতঙ্কিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে। যারা নিজেদের বিরোধী দল হিসেবেই সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না, তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখছে!
প্রধানমন্ত্রীর এ সহকারী আরও বলেন, সচিবালয় ঘেরাওয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অচল করার একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। জামায়াত ও এনসিপির চিন্তার মধ্যেই রাষ্ট্র অচল করার দুরভিসন্ধি রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সচিবালয় ঘেরাও হয়নি, অথচ এখন তারা সেটিই করছে।
এনসিপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, অন্যের অবদান অস্বীকার করলে মানুষ আপনার অবদানও মনে রাখবে না। আজ মানুষ এনসিপির অবদানও আর শুনতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণে নির্বাচন করতে চান এবং আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলাম সাদিক কায়েমকে (প্রার্থী) ঘোষণা করেছে। দেখেন, এটিকে কেন্দ্র করে আগামীতে জামায়াত এবং এনসিপির ভাঙন হয় কি না। নিজেদের ভাঙন সামলান। এরপরে না হয় সরকারি দলের পতন ঘটাবেন। তবে আপাতত আপনাদের পতন শুরু হয়েছে, এই পতন সামলান।
জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বে বাংলাদেশে দ্বিতীয় কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। গণঅভ্যুত্থান এত সস্তা বিষয় নয়, যোগ করেন সাবেক এ ছাত্র নেতা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সৌজন্য ও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে নাহিদ ইসলামের সাথে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংগঠনটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেলের প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং এনসিপির পেশাজীবী সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) আহ্বায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের নানা দিক হাইকমিশনারের কাছে তুলে ধরেন।
এনসিপির নেতৃবৃন্দের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জোরদারকরণ, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
একই সাথে একটি সুস্থ, জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন উপস্থিত দুই পক্ষ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর পাকা করার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের এই দুর্নীতির কারণে অনেক শহীদদের কবরের চিহ্ন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি গিয়ে দেখি কবরের কোনো চিহ্নও নেই। তারা কবরের টাকা মেরে খেয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, বিগত প্রশাসনের অনিয়মের এমন অনেক দালিলিক প্রমাণ বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করলে তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে।
প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করা থেকে বিরত ছিল, যার ফলে বর্তমান বিএনপি সরকারকে এই বিশাল কাজ শুরু করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চিত যোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে তিনি সভায় আশ্বস্ত করেন।
আলোচনা সভায় ইশরাক হোসেন দাবি করেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির কোনো গণহত্যার রেকর্ড নেই এবং দলটি সবসময়ই দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি মনে করেন, অতীতের কিছু রাজনৈতিক শক্তির ইতিহাস কলঙ্কিত হওয়ার কারণেই তারা বিভিন্ন স্মৃতি মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তবে দেশের সাধারণ মানুষ জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বিস্মৃত হবে না বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে শহীদদের মর্যাদা রক্ষাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, "দেশে গ্যাস, হাম ও ডেঙ্গুসহ সব ধরনের সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তার অঙ্গীকার মোতাবেক জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি কাজ করছেন। কিন্তু সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশের বিরুদ্ধে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।" বৃহস্পতিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও তাঁকে ব্যর্থ করতে নানা চক্রান্ত হয়েছে। এখনো তেমন চক্রান্ত হচ্ছে।" চলমান অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে তিনি অতীতে দেশনায়কদের বিরুদ্ধে হওয়া গভীর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা হিসেবে অভিহিত করেন।
ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "ভারত শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে। কারণ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং নানা খুনের মামলা, দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। সে একটি দেশে পালিয়ে গেছে।" শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ও সাজার কথা উল্লেখ করে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য করেন এই নেতা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। বুধবার সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “জামায়াত এবং শিবির—এই দুই দলকে মোকাবিলা করার জন্য একা ছাত্রদলই যথেষ্ট। আমার যুবদল লাগবে না, স্বেচ্ছাসেবক দল লাগবে না, বিএনপিও লাগবে না। শুধু ছাত্রদলই যথেষ্ট।” ছাত্রদল সভাপতি হুঁশিয়ারি দেন যে, শিবির যদি অস্ত্রের রাজনীতি ও ‘মব’ সংস্কৃতি অব্যাহত রাখে, তবে তাদের চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
রাকিবুল ইসলাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সেখানে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, শিবিরের পাশাপাশি জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও এই সহিংসতাকে সমর্থন করছেন এবং ছাত্রদলের অস্তিত্ব বিলীন করার হুমকি দিচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও শিবিরের নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক আচরণ করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। ছাত্রদল সভাপতি মনে করিয়ে দেন যে, ছাত্রদল কখনো আত্মগোপন করে রাজনীতি করেনি এবং যেকোনো আঘাতের সমুচিত জবাব দিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব আরও জানান যে, নিউমার্কেট থানা শিবিরের এক নেতা ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিবকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। শিবিরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শুধু হুমকি দিলেই হয় না, তা বাস্তবায়নের ক্ষমতাও থাকতে হয়। তিনি দাবি করেন যে, বুধবারও ঢাকায় শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। ছাত্রদল সভাপতি স্পষ্ট করে দেন যে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কায়দায় কোনো রাজনৈতিক অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না।
বর্তমানে জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় ছাত্রদল সারা দেশে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই ধৈর্যকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা শান্ত থাকলেও যদি শিবির ভবিষ্যতে আবারও ‘মববাজি’ বা অস্ত্রের আস্ফালন দেখায়, তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কঠোর জবাব তাদের আবারও পেতে হবে। মূলত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ সুসংহত রাখা এবং সহাবস্থানের রাজনীতি নিশ্চিতেই ছাত্রদল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুধবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। রিজভী দাবি করেন যে, যদিও ইতিহাসে নাৎসি হিটলার বা মুসোলিনির মতো নিষ্ঠুর শাসকদের কথা জানা যায়, তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের এক মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর মতে, ওই ফ্যাসিস্টরা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করলেও নিজ দেশের উন্নতির স্বপ্ন দেখত, কিন্তু শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠন।
রিজভী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে হিটলার বা মুসোলিনির মতো শাসকরা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ হত্যা করলেও তারা শেখ হাসিনার মতো ব্যাংক লুটপাট, টাকা পাচার কিংবা শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের সাথে জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, “হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো টাকা পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা সরকারি জমি দখল করেনি। তারা ভয়ংকর খুনি ও ফ্যাসিস্ট হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল।” রিজভীর অভিযোগ, শেখ হাসিনা পুরো জাতিকে শোষণ করে নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার হীন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন।
আওয়ামী লীগের শাসনকালকে ফ্যাসিবাদের উত্থান হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, দলটির প্রধান লক্ষ্য ছিল জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা এবং এর জন্য তারা জনগণের রক্ত ঝরাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। ১৯৭২-৭৫ এবং ২০০৯-২৪ এই দুই মেয়াদে শিশু থেকে শুরু করে ছাত্র-শিক্ষক, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের ‘পারমাণবিক বিস্ফোরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা শেখ হাসিনা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
রিজভী আরও বলেন, পাতানো ও ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেষ্টার ফলে বৈশ্বিক মহলেও আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধুহীন হয়ে পড়েছিল। জনগণের শক্তির কাছে ফ্যাসিবাদ টিকতে পারে না—জুলাই আন্দোলনই তার প্রমাণ। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমেছিল, সেই অদময় চেতনা ভবিষ্যতেও যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। মূলত একটি স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ই ছিল তাঁর আলোচনার মূল সুর।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন বিপ্লবের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করতেন, তাহলে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। দেশের এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে আর আমরা বসে থাকব, তা হতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। সেই বিপ্লবের জন্য আমি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১-দলীয় জোটের এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতাসীনদের হুঁশিয়ার করে বলেন যে, পাপে একসময় পচন ধরে এবং সেই পাপের ভারেই সরকারগুলোর পতন হয়। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম আপসহীন।” জেল-জুলুম কিংবা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে, জাতির মুক্তির প্রয়োজনে ফাঁসির রশিকেও তারা বরণ করে নেবেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, যারা একসময় জুলুমের শিকার ছিলেন, তারা ক্ষমতায় গিয়ে আজ জুলুমের পুনরাবৃত্তি করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা সহ্য করবো না।”
জনগণের রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের জনমতকে উপেক্ষা করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ওপর আপসের চাপ ও প্রলোভন আসছে, কিন্তু তারা জনগণের অধিকার রক্ষায় অবিচল থাকবেন। শিক্ষাঙ্গনে ‘গণরুম ও গেস্টরুম’ সংস্কৃতির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ছাত্র-শিক্ষক ও জনতাকে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যেখানেই অন্যায় হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ‘ফ্যাসিবাদী চর্চা’ ও ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরে দাম বাড়ানোর কৌশল অত্যন্ত দুঃখজনক। অতীতে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেছে, তাদের স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তিনি একটি মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। মূলত একটি মর্যাদাপূর্ণ ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সমাবেশের মূল দাবি ছিল।
নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। দুই বছর আগে সংঘটিত এ আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসে বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে ছাত্রশিবিরের মাসব্যাপী উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শিশু থেকে তরুণ, সবাইকে এই ইতিহাস জানাতে হবে। প্রতীকী কবর ও স্মৃতি প্রদর্শনী ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আয়োজন মানুষকে আন্দোলনের আত্মত্যাগ উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।
তিনি আরো বলেন, ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশা করেন। বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সবার জন্য দোয়া করে তিনি তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কিন্তু আমরা তা চাই না, কারণ আপনারাও মজলুম ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনো স্বৈরাচার বা দমনমূলক শাসন মেনে নেয় না। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা গণভবনের দিকে অগ্রসর হয়েছিল পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা এবং ছাত্রশিবিরের ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে জনগণ অতীতের মতোই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের কঠিন সময়েও নেতাকর্মীরা ভয়-ভীতি ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, যাদের কমিশনার-মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা জুলাই বিক্রি করে উপদেষ্টা হয়েছিল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, উনারাদের তো জুলাই বিক্রি করতে হবে। কারণ জুলাই ছাড়া আমরা এখানে যারা বসা, আমাদের সবার পরিচয় আছে। কিন্তু জুলাই ছাড়া তো তাদের কোনো পরিচয় নেই। আমরা এখানে যারা বসা আমাদের কোনো না কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে। কিন্তু জুলাই ছাড়া তো তাদের চেনে না বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, ক্রিকেট খেলার একটা উদাহরণ আমি পার্লামেন্টে বলেছিলাম যে ছয় বলে হয়তো ১২ রান তারা করেছে, কিন্তু বাকি ৩০০ রান তো আমরা করেছি। সুতরাং জুলাই ব্যাপারটা তারা বিক্রি করবে। তারা বিক্রি করে এই আন্দোলনকেই ছোট করবে।
আওয়ামী লীগের কথা মনে রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বা অন্যদের কথা বলতে বলতে আমরা যেন আসল ভিলেনের কথা ভুলে না যাই—যারা বাংলাদেশের সিস্টেমকে করাপ্টেড করেছে, যারা ১৭ বছর আমাদের ঘুমাতে দেয়নি, যাদের অত্যাচারে এই জুলাই এসেছে।