গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ‘সুষ্ঠু দেখানোর চেষ্টাতেই’ ভোটের আসল চিত্র উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমীর খসরু এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন বিজয়ী হন।
এই ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু বলেন, ‘এই যে একটা নির্বাচন হয়ে গেল গাজীপুরে, আপনারা দেখেছেন…আমি কিছু বলতে চাই না এই নির্বাচন নিয়ে, কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে আজকে অনেক কথা বলা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘(সরকার) একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দেখানোর চেষ্টা করেছে। ওই চেষ্টার ফলাফলটা আমরা দেখে ফেলেছি। ...কী উঠে এসেছে আমরা দেখেছি সবাই। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের আসল চিত্র, এটাই হচ্ছে ভোটের আসল চিত্র।’
এক দশকেরও বেশি সময় আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া এবং গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নানা চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে এর কঠোর সমালোচনা করেন আমীর খসরু।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আজকে আমরা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করছি। এই ভোটাধিকার নিশ্চিত না করতে পারলে সাংবাদিকদের যে সাংবাদিকতার পরিবেশ, তাদের যে সাংবাদিকতা করার মানদণ্ডে পৌঁছানোর ইচ্ছা আছে, যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না যায়, মানবাধিকার ফিরিয়ে আনা না যায় তাহলে গণতন্ত্র এবং সেসব পরিবেশ ফিরে আসবে না।’
আমীর খসরু বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরে এখন আরেকটা আসছে ‘অত্যাবশ্যকীয় পরিসেবা আইন’। এটা কিন্তু সরকার যেকোনো সংস্থায় ইনভ্লব করতে পারে। আরও আইন আসবে, আরও নিপীড়ন-নির্যাতনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে যদি আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে না পারি, ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ও সংসদ যদি আমরা প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে আগামী দিনে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক কোনো সরকার আপনারা পাবেন না। সেজন্য নিশ্চিতভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলে আমীর খসরু বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান অবস্থা থেকে পরিবর্তন করে এখানে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়া, নির্বাচনী পরিবেশ, সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়া এবং নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা যদি নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।'
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আলোচনা আসছে পরে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার আগে নির্বাচনের আলোচনা একটি ব্যর্থ আলোচনা। যারা নির্বাচনের কথা বলছেন, তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও গণতান্ত্রিক অর্ডার ছাড়া নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা এই সরকারের পক্ষে কাজ করছেন।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ড্রাকোনিয়ান যে আইন, এতে অনেক সাংবাদিক কারাগারের মধ্যে অন্তরীণ অবস্থায় রয়েছেন। যারা ফেসবুকে মতামত দেন তারা এখন কারাগারে। এটাই হচ্ছে ফ্যাসিবাদী শাসন, এটাই হচ্ছে একনায়কতান্ত্রিক শাসন, এটাই হচ্ছে স্বৈরাচারী শাসন।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সারা দেশে মতপ্রকাশে বিশ্বাসী মানুষরাই কারান্তরীণ হন। যেসব গণমাধ্যমে কিছুটা সত্যের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেছে তাদের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’
ডিআরইউর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও রুহুল কবির রিজভী। পরে সাংবাদিকদের নিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান- ‘ঐক্যের সমৃদ্ধি’।
বিকেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন জাতীয় সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।
ডিআরইউর সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মঈনুল আহসান, সহসভাপতি দীপু সারোয়ার এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব কামাল উদ্দিন সুমন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, সাবেক সহসভাপতি আবু দাদরা জোবায়ের, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, প্রবীণ সদস্য মুফতি আহমেদ, খোরশেদ আলম, গাজী আবু বকরসহ ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও ঋণখেলাপির অভিযোগে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়। এনসিপি নেতা ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন। পরবর্তীতে বিএনপি এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন প্রদান করে এবং বর্তমানে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তার পক্ষেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়। একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তাকে বলতে শোনা যায় যে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে অন্য দলকে ভোট দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে। এই চরমপন্থী বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জু একে ‘কথার কথা’ বলে দাবি করেন এবং নিজের ক্লান্তি ও অবসাদকে এই ধরনের মন্তব্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান।
তিনি জানান যে, মূলত জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকা রুহুল কবির রিজভী নিজের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে অর্থ দিয়ে ভোট কেনাকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনি আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে, তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে? নির্বাচনি আচরণবিধির এই লঙ্ঘন একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।”
বিএনপির এই মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, যারা সততা ও ইনসাফের বুলি আওড়ান, তাদের পক্ষ থেকে ভোটের মাঠে এমন অর্থ বিতরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। ঢাকা-১৫ আসনে ওই দলীয় প্রধানের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে দলটির একজন শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে অর্থ দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, তার ভিডিও ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে, দুর্নীতির মাধ্যমে, টাকা ছড়িয়ে, দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে?”
সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমিন নির্বাচনি আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর বিধি-৪ এবং বিধি-২৭ এর আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে জানান, প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তিকে অনুদান বা উপঢৌকন প্রদান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই বিধিলঙ্ঘনের দায়ে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কেবল ঢাকা নয়, খুলনা-১ আসনেও সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থীর টাকা বিলানোর খবর গণমাধ্যমে এসেছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে ওই দলটি এখন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি এবং বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপির নেতা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করে মাহাদী আমিন বলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও বগুড়ার নন্দীগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, যা জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করছে। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিকারে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি দাবি করেন, সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য। পরিশেষে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জনরায়ের শক্তির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের এই অপপ্রচার ও সহিংসতা কেবল তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দেয় এবং সচেতন জনগণ সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধি এবং নির্বাচনি জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও এবং শহীদ মীর মুগ্ধর জমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ। গত নভেম্বরে বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই তরুণ নেতা মনে করেন, এনসিপি যদি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারত, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য ‘শর্টকাট’ পথ বেছে নিতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেললে দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিতে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
মীর স্নিগ্ধ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আগামী নির্বাচন নিয়ে আলাপকালে তিনি এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেনারেশন জেড’-এর একটি বড় অংশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিল। এর প্রধান কারণ ছিল প্রথাগত বা পুরোনো ধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন ও স্বচ্ছ কিছুর প্রতি তরুণদের প্রবল প্রত্যাশা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলটির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সাধারণ ভোটারদের সেই উৎসাহে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। স্নিগ্ধের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যাঁরাই আগে এনসিপিকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, তাঁরা এখন গভীর দ্বিধায় ভুগছেন এবং নতুন করে চিন্তাভাবনা করছেন।
এই অনিশ্চয়তাকে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন মীর স্নিগ্ধ। তিনি মনে করেন, এনসিপির এ পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুল ছিল এই জোটে অংশগ্রহণের বিষয়টি। তাঁর মতে, দলটি যদি এককভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে নির্বাচন করত, তবে হয়তো এই নির্দিষ্ট নির্বাচনে তারা বড় জয় পেত না, কিন্তু আগামীর বাংলাদেশটা ‘এনসিপিময়’ হওয়ার এক জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমান বড় রাজনৈতিক সমীকরণে মিশে গিয়ে দলটি নিজেদের সেই শক্তিশালী স্বকীয়তাকে সংকটে ফেলেছে বলে তাঁর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে মীর স্নিগ্ধ সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনি সাফল্যের জন্য ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় সম্পদ। ক্ষমতার লোভে যদি সেই বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়, তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় তরুণদের একটি বড় অংশ যেখানে এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছিল, সেখানে দলটির এমন কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে এখন খোদ আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মাঝেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্নিগ্ধের এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং সময়ের ব্যবধানেই এর প্রকৃত ফলাফল ও প্রভাব স্পষ্ট হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকাকে সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরের আদলে একটি আদর্শ ও উন্নত সমাজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এই বিশেষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বিশ্বাস করেন, একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঢাকা-৮ আসনকে পুরো দেশের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
গণসংযোগ শুরুর আগে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ এবং একই আসনের অন্যতম প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি বাংলাদেশকে নিয়ে যে সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই এখন তাঁদের প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি ভোটারদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল। এনসিপি এবং জামায়াত উভয় দলই আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি রাজনৈতিক সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি ভুলে সবাইকে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
জিয়ারত ও পথসভা শেষে তিনি শাহবাগ এলাকায় গিয়ে স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের দৈনন্দিন অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি কাজ করবেন বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে পাটোয়ারীর এই ‘মদিনা সমাজ’ গঠনের ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা শাখার সাতজন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় রায়পুর শহরের একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়ার হাতে ফুল দিয়ে তারা এই যোগদান সম্পন্ন করেন।
ছাত্রদলে নতুন করে যোগদানকারী নেতাকর্মীরা হলেন— মো. সাব্বির, মো. আল-আমিন, মো. রায়হান, মো. আকাশ, তুহিন, তানজিল হোসেন ও মো. সিয়াম। তারা সকলেই রায়পুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং বিগত সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। অনুষ্ঠানে নবাগত এই তরুণদের বরণ করে নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা তাদের দেশপ্রেম ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতেই তরুণ প্রজন্মের এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, ছাত্রদলে যোগ দেওয়া নবীন কর্মীরাও আগামীর যেকোনো রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম ও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে দেশের স্বার্থে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশীদ হিরু, রায়পুর পৌরসভা বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানি, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। এছাড়াও জেলা জজ আদালতের পিপি মনিরul ইসলাম হাওলাদার, আইনজীবী গাজী আমিন উল্যাহ, এমরান হোসেন এবং স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে তরুণদের এই অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র টেকসই হবে না। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা অসম্ভব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি স্তরে নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে তার এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত।’
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হতে হয়েছে। ‘আয়নাঘর’ নামক বন্দিশালাকে তিনি ‘জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান’ আখ্যায়িত করেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ‘১৪ শতাধিক’ মানুষের মৃত্যু এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং আহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার সময়কালের নারী শিক্ষার অগ্রগতিকে আরও বেগবান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা অব্যাহত থাকবে। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন এবং নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘ইলেকট্রিক পরিবহন’ চালু করা হবে। সাইবার বুলিং ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শহরগুলোতে নারীদের জন্য পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান তার ভাষণে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার কথা বলেন। বিশেষ করে ড্রপআউট (ঝরে পড়া) শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে হাইস্কুল (মাধ্যমিক) পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ভোকেশনাল (বৃত্তিমূলক) শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি সিলেবাসে তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তারেক রহমান বলেন, সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ কথাটি পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং ইমাম, মোয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত হলো নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ। স্থানীয় পরিষদের মাধ্যমে এই অধিকার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের হাতে কুক্ষিগত থাকলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’
পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দেশের টাকা দেশে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে, তা রোধ করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতা দেয়ার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থের কোনো সংকট হবে না। আমরা সেই পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের পকেটে ফিরিয়ে দিতে চাই।’
প্রশাসন পরিচালনার বিষয়ে বিএনপির নীতি স্পষ্ট করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চলবে কেবল সংবিধান মোতাবেক। আমরা এমন এক রাষ্ট্র গড়তে চাই যেখানে শাসকরা নিজেদের মালিক মনে করবে না, বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে শাসক শ্রেণি সরকারি পদ-পদবিকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ফোকলা করে দিয়েছে।
দেশ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে পারলে প্রথম দিন থেকেই আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব। আমাদের লড়াই কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার।’
তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘বেকারত্ব দূরীকরণ এবং মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’
ভাষণের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে চাই।’
ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ তারিখ থেকে আপনাদের নির্বাচিত এমপিরা আপনাদের দায়িত্ব নেবেন। তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।
বরগুনা-২ (বামনা- বেতাগী-পাথরঘাটা) সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের মানুষকে ভালোভাবে বেঁচে থাকার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপি বলে। কারণ বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, জনগণের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান, জনগণের অর্থের সংস্থান হয় না। এসব কিছুর জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার। অতীতে আমি এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব। দল সরকারে এলে মানুষ যাতে ভালো থাকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এই জনসভায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সভাস্থল নবীন-প্রবীণের আনন্দ -উল্লাসে ‘মনি ভাই- ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্র্যাক রেকর্ড আমরা অতীতে দেখেছি। তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা ছিল না এবং এখন যারা অপশাসন কায়েম করতে চাচ্ছে তাদের তো নেই-ই । কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, জনগণের পেটের খাবার, কর্মসংস্থান, জনগণের অর্থের সংস্থান হয় না। এসব কিছুর জন্য পরিকল্পনা লাগে। জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কীভাবে আমরা দেশকে পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করব। এসব পরিকল্পনার কথা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবার বলেছেন। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে গৃহিণীদের মাসিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন, যাতে সংসার পরিচালনায় তারা স্বস্তি পান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার কথা বলেছেন। যে কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং বছরে অন্তত একটি ফসলের জন্য বিনামূল্যে উপকরণ দেওয়া হবে।
মনি বলেন, তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসগামীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন। কাজেই দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে।
তিনি জনসভায় উপস্থিত হাজারো জনতার কাছে প্রশ্ন রাখেন-এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা কি আপনারা অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন? এসময় জনতার কণ্ঠে ‘না’ ‘না’ আওয়াজে প্রকম্পিত হয় বিদ্যালয় মাঠ।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, এলাকার সব উন্নয়নে আমার অবদান রয়েছে। পূর্বে যদি ভালো কাজ করে থাকি, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। আগামী ১২ তারিখ সকাল ৬টায় আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কেন্দ্রে গিয়ে ফলাফল না নিয়ে কেন্দ্র ছাড়বেন না।
নূরুল ইসলাম মনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে গণ্য করা হবে; যেখানে প্রতিটি নাগরিক তাদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নিয়ে পূর্ণ মর্যাদার সাথে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের এমন ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
পরিশেষে বরাবরই মতো পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে সবার শান্তি এবং কল্যাণ কামনার জন্য দোয়ার মধ্য দিয়ে জনসভা শেষ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে—নাউজুবিল্লাহ। একটা নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিলে কি কেউ বেহেশতে যেতে পারে? দেশের প্রখ্যাত আলেমরাও এসব অপপ্রচারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজি বাজার, পারপুগি, মহেষালী এলাকার পথসভায় এসব কথা বলেছেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাবুনগরী সাহেব জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া নাজায়েজ বলেছেন এবং চরমোনাইয়ের পীর জামায়াতে ইসলামীকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এমন একটি দলকে ভোট দিয়ে আমরা আমাদের ঈমান নষ্ট করতে পারি না। তাই আমি মা-বোন ও ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাই—কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।
১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সুন্নিজোট প্রার্থী মাওলানা এস এম শাহজাহান বলেছেন, সুফিবাদী সুন্নি জনতা একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আনোয়ারা উপজেলার চাতরী এলাকায় একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে বসন্তের কোকিল হয়ে অনেকেই সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু করোনা বা দুর্যোগের সময়ে অতীতে কখনো তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে ভোট দিয়ে ইতিহাস রচনা করবে।’
মাওলানা এস এম শাহজাহান আরও বলেন, ‘সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হানাহানি বা মারামারিকে প্রশ্রয় দেয় না। তারা সবসময় শান্তিপ্রিয় এবং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের ভিত্তিতে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চায়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই অঞ্চলে প্রায় ১৩০টি পীর-আউলিয়ার মাজার, দরগাহ ও খানকা রয়েছে। আমরা পীর-আউলিয়ার অনুসারী। অথচ ৫ আগস্টের পর অসংখ্য মাজারে হামলা হয়েছে। সুন্নিপন্থি অনেক আলেমকে মসজিদের ইমামতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অন্যায়ের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হলে মোমবাতি প্রতীকে ভোট দিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ড. এম এ অদুদ, স ম হামেদ হোছাইন, এস এম জাহাঙ্গীর, এম এ মাবুদ, ডি আই এম জাহাঙ্গীর, নাজিম উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, মাওলানা ইদ্রিস আলকাদেরী, হাফেজ আবদুর রহিম, মফিজ উল্লাহ, হাফেজ নুরুল আলম।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক গণসংযোগ, জনসভা ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—জামায়াতসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলের তুলনায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততায় এগিয়ে রয়েছেন।
দীর্ঘদিন পর ভোটমুখী পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সক্রিয় মাঠ উপস্থিতি, ধারাবাহিক জনসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ দলটির অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে জামায়াতসহ অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় বিএনপির প্রচারণা কার্যক্রম বেশি চোখে পড়ছে বলে মত দিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্যে শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, ‘কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরীহ মা-বোনদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব শিল্পকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’ পাশাপাশি নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার পরিমাণ ও আওতা বৃদ্ধি এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ তার মতে, যারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। যারা দেশ চায়নি, স্বাধীনতা চায়নি, তারাই আজ ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
কাপাসিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, ‘বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জমির মূল্যও বৃদ্ধি পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং চাঁদাবাজিমুক্ত, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়ে তোলা হবে।’ একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় ভোটাররা জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ কাপাসিয়ার গর্ব। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ফকির মজনু শাহ সেতু নির্মাণ এবং ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কের নকশা প্রণয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, জীবদ্দশায় রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন হান্নান শাহ। তার কনিষ্ঠ পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান বাবার জীবদ্দশাতেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। তারা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে মরহুম হান্নান শাহের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
জনসভায় শাহ রিয়াজুল হান্নান মরহুম পিতার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, নির্বাচিত হলে কাপাসিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবেন।’ পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি এবং নির্বাচিত হলে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন।
রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাহমুদ হাসান নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আনোয়ার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের জাঙ্গীর এলাকার কুদরত আলীর ছেলে ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩০০ ফিট সড়কের ল্যাংটার মাজার এলাকায় একটি ট্রাক ইউ-টার্ন নিচ্ছিল। এ সময় কাঞ্চন সেতুগামী মোটরসাইকেলটি বেপরোয়া গতিতে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত ট্রাকের পেছনের অংশে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহমুদ হাসানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পূর্বাচল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হারুনুর রশিদ জানান, পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফিট সড়কে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী এলাকা। স্থানীয় চায়ের স্টলগুলোতে নির্বাচনী ঝড় ওঠেছে। প্রার্থী ও প্রতীকের জয়পরাজয় নিয়ে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ভোটাররা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে শেষ হাসি হাসবেন বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। ভোটের লড়াইয়ে তাঁর ধারেকাছে কেউ থাকবেন না।
রূপগঞ্জ উপজেলা নিবাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার এ আসনে ভোটার রয়েছে চার লাখ আট হাজার ৮২৯ জন। এর মধে পুরুষ দুই লাখ সাত হাজার ৮৪৯ জন আর দুই লাখ ৯৭৭ জন নারী ভোটার। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৯টি।
ভোটাররা জানান, দিপু ভূঁইয়ার দাদা গোলবক্স ভূঁইয়ার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তৎকালীন রূপগঞ্জের অনেক স্কুল, রাস্তাঘাট তার দাদা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এটা মানুষ এখনো ভোলেনি। তার পিতা মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারমান। সে সুবাদে তার পিতার পরিচিতি রয়েছে রূপগঞ্জে। তার ব্যক্তিগত একটা ভোটব্যাংক রয়েছে। তার চাচা সুলতানউদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য। তার হাত ধরে রূপগঞ্জে রাস্তাঘাট আর শিল্প বিপ্লব ঘটতে শুরু করে। তারও বক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে। তার আরেক চাচা সোবহান ভূঁইয়া ছিলেন মুড়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারমান।এখানেও তার ভোটব্যাংক রয়েছে।
ভোটাররা বলেন, দিপু ভূঁইয়া নিজে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ার কারণে রূপগঞ্জের শিল্প-কারখানার ভাসমান শ্রমিকদের ভোট তিনি পারবেন।
গুতুলিয়া এলাকার ভোটার করিম শেখ, হোসেন মিয়া, আবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা ভূঁইয়াগো টেকা-পয়সা খাইয়া বড় অইছি। জীবন বাঁচাইছি। অহন ভোট আমরা ওনারেই দিমু। আর দিপু ভূঁইয়া ভালা মানুষ।’ নারী ভোটাররা জানান, রূপগঞ্জের নারী ভোটের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দিপু ভূঁইয়া পাবেন। কারণ দেড় বছর ধরেই তিনি নারীদের নানা সমস্যা সমাধান করে আসছেন।
কুলসুম বেগম, আফিয়া খাতুন, রেজিয়া বেগম বলেন, ‘উনি ভালা মানুষ। উনার বাপ-দাদা-চাচারা ভালা মানুষ আছিল। আমরা ভোট তারেই দিমু। উনি কইছে আমাগো গ্যাস দিব।’
নির্বাচনে জয় নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, ‘আমার বাবা-চাচারা রূপগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। আমিও সেই পথের পথিক হতে চাই। আমার কোনো অভাব নেই। কোনো চাহিদা নেই। শুধু রূপগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জনই আমার রাজনীতিতে আসা।’