আমানউল্লাহ আমান
বিরোধী দল সাম্প্রতিক সময়ে যে আন্দোলন করছে সেটাকে একটা বৃত্তের ভেতরেই রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। বৃত্তের বাইরে যাওয়া কিংবা সরকারি দলের মূল্যায়নে ‘সীমা লঙ্ঘন’ করলেই বাধার সম্মুখীন হতে হবে তাদের।
বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর থেকেই অনেকটা জোরেশোরে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় আছে আন্দোলনমুখী রাজনৈতিক দলগুলো। রাজপথে কর্মসূচির পাশাপাশি তৎপরতা বাড়িয়েছে ঘরোয়া রাজনীতিতেও। ঘরোয়া তৎপরতায় বাধা না থাকলেও রাজপথের কর্মসূচিতে বাধা আসছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান মনে করেন, সরকারি দল বিরোধী দলকে আন্দোলনে কোনো বাধা দিচ্ছে না। তাদের আন্দোলনে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। কিন্তু তারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। তখন হয়তো পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারি দল মুখে বলে একটা, কাজ করে আরেকটা। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচিগুলো করছি, ওই কর্মসূচিগুলোতে তারা বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, রাজপথে বিএনপি জনগণের সাড়া না পেয়ে সহিংসতা করছে। ওই সব ঘটনায় সরকার ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা নেই। ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, বিএনপিসহ বিরোধীরা আপাতত নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলেও সীমারেখার ভেতরেই রাখতে হবে আন্দোলন। সীমার বাইরে গেলেই বাড়বে রাজনৈতিক চাপ।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্দোলন করার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আসার পর গত ৫ মাসে টানা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দলটির ওই সব কর্মসূচিতে উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছে ক্ষমতাসীন দলকে।
তাদের ধারণা, সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে তারা সাহসী হয়ে উঠতে পারে। পরে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা বেগ পেতে হবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনোবলে। তাই সরকার ও ক্ষমতাসীন দল প্রথম দিকে নমনীয় হলেও এখন কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। আপাতত হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর মনোভাব দেখানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে সতর্ক অবস্থায় থাকছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, এ সব হামলার ঘটনায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করবে হয় আমরা দলীয়প্রধানের কথা শুনছি না অথবা দলীয়প্রধান বাধা না দেয়ার নির্দেশটি শুধু বলার জন্য বলেছেন।
গত ২২ আগস্ট থেকে বিরোধীদের ডাকা বিভিন্ন কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা শুরু হয়। ওই সব হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে কেউ হামলা করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর দিন ১৯ সেপ্টেম্বর একই সুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য ওই দিন তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ হামলায় জড়িয়ে পড়লে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের নেতা-কর্মীদের আবারও সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বলে দিয়েছি শৃঙ্খলাভঙ্গ যেই করবে শেখ হাসিনা তাদের রেহাই দেবেন না।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
কিন্তু এর পর দিনই মুন্সীগঞ্জে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে বড় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের শীর্ষ নেতা ও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারির পরও হামলা-মামলা থামছে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপি যে অবস্থায় আছে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্যই তাদের গোলমাল বাধাতে হয়। বাংলাদেশের ২৯টি জায়গায় বিএনপি সমাবেশ করেছে যেকোনো কারণেই হোক। গোলমাল হলেই সংবাদ হয়। সুতরাং তারাই গোলমাল বাধায়। আমাদের গোলমাল বাধানোর কোনো দরকার নেই। তাই নেতৃবৃন্দ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দলের কেউ জড়িত থাকলে আমরা দেখব।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে বাধা দিইনি। আমরা কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিবৃত্ত করতে চাই না। জনগণের সাড়া না পেয়ে ভিন্ন স্বার্থ হাসিলে আন্দোলনের নামে তারা সহিংসতা করতে চাচ্ছে। আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করলে তো বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে আন্দোলন-আন্দোলন খেলছে বিএনপি। তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন, আন্দোলন নয়। আমরা বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সচেতন করব।
তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্য কথার কথা। তাদের কথার প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, যদি তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আন্তরিকভাবে এসব কথা বলে থাকেন তাহলে আমরা মনে করব তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কিন্তু যেভাবে অসংখ্য মামলা করেছে তাতে মনে হয় না কোনো শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিসর যদি চালু করে এবং দলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেয় তাহলে বোঝা যাবে তাদের আন্তরিকতা আছে।
সরকার ও ক্ষমতাসীনদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সতর্ক বার্তার পরেও মুন্সীগঞ্জে কী ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে গেল। ছেলেটা মারা গেল। অন্যান্য জায়গাতেও এ রকম ঘটনা ঘটছে। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচিগুলো করছি, ওই কর্মসূচিগুলোতে তারা বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আছে। আমাদের কর্মসূচি করতে দিন। গণতন্ত্র তখনই রক্ষা পাবে যদি সরকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চায়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সূত্রগুলোর দাবি, বিরোধীদের আন্দোলন করতে না দেয়াটা আওয়ামী লীগ বা সরকারের উদ্দেশ্য না। কোথাও কোথাও প্রশাসন, পুলিশ ও দলের নেতা-কর্মীদের অতি উৎসাহী তৎপরতায় হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে। বিএনপির দলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশও আছে ওই সব হামলার ঘটনায়। বিরোধীদের আন্দোলনকে একটা রাজনৈতিক গণ্ডির ভেতরে রাখাই সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের মূল চাওয়া। যাতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হয়।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বিএনপি যাতে মাঠে দৃশ্যমান হতে পারে সেই কৌশলেই আগাচ্ছে তারা। তাই বিএনপি ও বিরোধীদলগুলোর জন্য আন্দোলনের সীমারেখা বেঁধে দিতে চায় আওয়ামী লীগ। সীমারেখার বৃত্তে আবদ্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলীয় কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকছে আওয়ামী লীগও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা, ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট ও ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা, মামলায় সাজা হওয়ার পরও কোনো জনসম্পৃক্ত আন্দোলন করতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তারা ছিল অনেকটা সংশয়ে। পুরো প্রভাব নিয়ে মাঠে থাকতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বয়কট করেছে লাগাতারভাবে। সব মিলিয়ে বিএনপি এখন একটা গণ্ডির ভেতরেই আছে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, কোণঠাসা বিএনপির কর্মসূচি পালনে বাধা নেই। কিন্তু কর্মসূচিতে উপস্থিতির ওপর ভর করে বিএনপি অন্য কোনো পথে যাতে না যায় সে জন্য চাপ অব্যাহত থাকবে। চাপের কৌশল হিসেবেই শক্তি দেখানোর জন্য কোথাও কোথাও হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে করে ভয় পেয়ে বিরোধীকর্মীদের মাঠে উপস্থিতি কমে এলে ক্ষমতাসীনদেরই লাভ। আন্দোলন যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সতর্ক।
সরকারি দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন ছাড়া দেশে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আর নির্বাচনের এখনো ১৪ মাস বাকি। বিএনপি যদি এখনই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে দেয় তাহলে নির্বাচন এগিয়ে আসতে আসতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সাংগঠনিকভাবে আরও ভেঙে পড়বে। শেষ দিকে দুর্বল বিএনপি সব দাবি ছেড়ে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে বলে আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের ধারণা। তাই উভয় দিকেই লাভ দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।
সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।
বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।
তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
কয়েকদিনের টানা ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল রাজধানীর জনজীবন। অবশেষে সেই অস্বস্তি কাটিয়ে রোববার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীতে নেমেছে বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি। মুষলধারে ঝরে পড়া বৃষ্টিতে ঢাকার তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে।
দুপুর ১টার পর থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে। বিকাল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে নামে বৃষ্টি। রাজধানীর সচিবালয়, ইসলামপুর, নয়াবাজার, বংশাল, পল্টন, শাহবাগ, গুলিস্তান ও উত্তরাসহ প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই একযোগে বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এমন বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মাঝে আনন্দের ছোঁয়া দেখা গেছে। তীব্র গরমে যারা ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, বৃষ্টির শীতল হাওয়া তাদের জন্য এক দারুণ উপহার হিসেবে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও রাজধানীবাসীকে বৃষ্টি ঝরার আনন্দ উদযাপনের ছবি ও অনুভূতি প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে।
তবে বৃষ্টির এই স্বস্তির পাশাপাশি বরাবরের মতোই কিছু ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে। হুট করে বৃষ্টি নামায় ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের গতি কমে গেছে, ফলে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং রিকশা ও সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে গত কয়েকদিন ধরে যে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছিল, এই বৃষ্টির ফলে তা অনেকটাই কেটে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী আরো বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
সাময়িক কিছু নাগরিক ভোগান্তি থাকলেও, তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে এই বৃষ্টিকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত হিসেবেই দেখছেন ঢাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?
মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাশেদ খাঁন জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক কঠোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, খুব শীঘ্রই দলটির রাজনৈতিক পতন ঘটবে এবং এর জন্য মূলত তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উগ্র আচরণ ও অযোগ্যতাই দায়ী থাকবে।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন এই মন্তব্য করেন। দলটির কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া কুরুচিপূর্ণ বার্তার একটি চিত্র তুলে ধরে তিনি লেখেন, “জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ভাষা দেখেন। ঠিক প্রতিদিন এমন অসংখ্য গালিগালাজ মেসেজ করে আমার আইডি ও পেজের ইনবক্সে পাঠায়। আমি কেন ওদের যৌক্তিক সমালোচনা করি, জাস্ট একটা নমুনা দিলাম।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গালিগালাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে বাকরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ওরা ভাবে মা-বাপ তুলে গালি দিলে আমি ওদের গালির ভয়ে চুপ হয়ে যাবো। মূলত, আমাকে থামিয়ে দিতে গালিই ওদের হাতিয়ার। কিন্তু, এই গালিবাজরা বুঝতেছে না, সামনে ওদের করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমরা ইতোপূর্বে শুধু সরকারি দলের পতন দেখেছি। কিন্তু, এবার ভিন্নতা ঘটবে।”
জামায়াতে ইসলামীকে ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য বিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে রাশেদ খাঁন বলেন যে, তাদের পতনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সংসদে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, “তাদের অযোগ্যতা সংসদে দৃশ্যমান। তারা যত মুখ খুলবে, ততো তাদের ভুল ও অযোগ্যতা বের হয়ে আসবে। আর এভাবে খুব শিগগির ইতিহাসের সব থেকে ঘৃণ্য বিরোধীদল জামায়াতের নির্মম পতন হবে। আর এই পতনের জন্য দায়ী থাকবে তাদের মূর্খ নেতাকর্মীরা।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতার এমন সরাসরি আক্রমণ জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীতে ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আটক তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সামনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়ো হন। সেখান থেকে তারা মহাখালী বাস টার্মিনালের দিকে একটি ঝটিকা মিছিল শুরু করেন।
টার্মিনাল এলাকায় মিছিলটি পৌঁছালে মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রীও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যান।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন মিছিল করেছে। তারা ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সাক্ষাৎ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।
উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল নেতারা এবং কর্মীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। উপউপাচার্যরা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’ উপউপাচার্যরা আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের সহযোগিতা লাগবে।’ উপস্থিত সবাইকে মাননীয় উপউপাচার্যরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা বিষয়ে উপউপাচার্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন নেতারা।
শাখা ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপউপাচার্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ছাত্রদলের নেতারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রশিবিরের গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের তীব্র প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং মিছিলজুড়ে তারা ছাত্রশিবিরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গুম ও অপহরণের সাজানো নাটক তৈরি করছে, যা প্রকৃতপক্ষে গুমের শিকার হওয়া আসল ভুক্তভোগীদের চরম অবমাননার শামিল।
এছাড়া অনলাইনে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা দোষারোপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
একই সাথে শিবিরের গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের যে প্রমাণ মিলছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাতে ছাত্রদল রাজপথে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে এবং তখন কারও রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টের ওপর ঘটে যাওয়া একটি সাইবার জটিলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তাঁর লেখালেখির কারণে জামায়াত-শিবিরের নাকি খুব ক্ষতি হচ্ছে, আর সে কারণেই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম বা অভিযোগ করে তাঁর ফেসবুক আইডি আট দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট দিন পর শনিবার তিনি পুনরায় তাঁর আইডিতে পোস্ট করার সুযোগ পেলেও কপিরাইট ক্লেইমগুলোর এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তিনি কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন যার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা কপিরাইট ক্লেইম করা হয়নি, বরং তুরস্ক থেকে জামায়াত-শিবিরের নিয়োগকৃত লবিস্ট টিম এই কাজ পরিচালনা করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির মূলত কোনো ধরনের ভিন্নমতে বিশ্বাস করে না। তাঁর আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ এবং তাঁর মা-বাবাকে তুলে গালিগালাজ করাই দলটির এমন মানসিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
জামায়াত-শিবির তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় তারা যদি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠিনভাবেই নেবে বলে তাঁর আশঙ্কা।