আমানউল্লাহ আমান
বিরোধী দল সাম্প্রতিক সময়ে যে আন্দোলন করছে সেটাকে একটা বৃত্তের ভেতরেই রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। বৃত্তের বাইরে যাওয়া কিংবা সরকারি দলের মূল্যায়নে ‘সীমা লঙ্ঘন’ করলেই বাধার সম্মুখীন হতে হবে তাদের।
বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর থেকেই অনেকটা জোরেশোরে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় আছে আন্দোলনমুখী রাজনৈতিক দলগুলো। রাজপথে কর্মসূচির পাশাপাশি তৎপরতা বাড়িয়েছে ঘরোয়া রাজনীতিতেও। ঘরোয়া তৎপরতায় বাধা না থাকলেও রাজপথের কর্মসূচিতে বাধা আসছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান মনে করেন, সরকারি দল বিরোধী দলকে আন্দোলনে কোনো বাধা দিচ্ছে না। তাদের আন্দোলনে বাধা না দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে। কিন্তু তারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। তখন হয়তো পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারি দল মুখে বলে একটা, কাজ করে আরেকটা। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচিগুলো করছি, ওই কর্মসূচিগুলোতে তারা বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, রাজপথে বিএনপি জনগণের সাড়া না পেয়ে সহিংসতা করছে। ওই সব ঘটনায় সরকার ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা নেই। ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, বিএনপিসহ বিরোধীরা আপাতত নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলেও সীমারেখার ভেতরেই রাখতে হবে আন্দোলন। সীমার বাইরে গেলেই বাড়বে রাজনৈতিক চাপ।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আন্দোলন করার সুযোগ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আসার পর গত ৫ মাসে টানা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দলটির ওই সব কর্মসূচিতে উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছে ক্ষমতাসীন দলকে।
তাদের ধারণা, সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকলে তারা সাহসী হয়ে উঠতে পারে। পরে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা বেগ পেতে হবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনোবলে। তাই সরকার ও ক্ষমতাসীন দল প্রথম দিকে নমনীয় হলেও এখন কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। আপাতত হামলার ঘটনাগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর মনোভাব দেখানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে সতর্ক অবস্থায় থাকছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, এ সব হামলার ঘটনায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করবে হয় আমরা দলীয়প্রধানের কথা শুনছি না অথবা দলীয়প্রধান বাধা না দেয়ার নির্দেশটি শুধু বলার জন্য বলেছেন।
গত ২২ আগস্ট থেকে বিরোধীদের ডাকা বিভিন্ন কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা শুরু হয়। ওই সব হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, অতিউৎসাহী হয়ে কেউ হামলা করে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পর দিন ১৯ সেপ্টেম্বর একই সুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য ওই দিন তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ হামলায় জড়িয়ে পড়লে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের নেতা-কর্মীদের আবারও সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বলে দিয়েছি শৃঙ্খলাভঙ্গ যেই করবে শেখ হাসিনা তাদের রেহাই দেবেন না।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাতেই দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
কিন্তু এর পর দিনই মুন্সীগঞ্জে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে বড় সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় আহত একজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের শীর্ষ নেতা ও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারির পরও হামলা-মামলা থামছে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিএনপি যে অবস্থায় আছে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্যই তাদের গোলমাল বাধাতে হয়। বাংলাদেশের ২৯টি জায়গায় বিএনপি সমাবেশ করেছে যেকোনো কারণেই হোক। গোলমাল হলেই সংবাদ হয়। সুতরাং তারাই গোলমাল বাধায়। আমাদের গোলমাল বাধানোর কোনো দরকার নেই। তাই নেতৃবৃন্দ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দলের কেউ জড়িত থাকলে আমরা দেখব।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে বাধা দিইনি। আমরা কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন নিবৃত্ত করতে চাই না। জনগণের সাড়া না পেয়ে ভিন্ন স্বার্থ হাসিলে আন্দোলনের নামে তারা সহিংসতা করতে চাচ্ছে। আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করলে তো বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে আন্দোলন-আন্দোলন খেলছে বিএনপি। তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন, আন্দোলন নয়। আমরা বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সচেতন করব।
তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্য কথার কথা। তাদের কথার প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, যদি তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আন্তরিকভাবে এসব কথা বলে থাকেন তাহলে আমরা মনে করব তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কিন্তু যেভাবে অসংখ্য মামলা করেছে তাতে মনে হয় না কোনো শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিসর যদি চালু করে এবং দলগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেয় তাহলে বোঝা যাবে তাদের আন্তরিকতা আছে।
সরকার ও ক্ষমতাসীনদের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সতর্ক বার্তার পরেও মুন্সীগঞ্জে কী ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে গেল। ছেলেটা মারা গেল। অন্যান্য জায়গাতেও এ রকম ঘটনা ঘটছে। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা কর্মসূচিগুলো করছি, ওই কর্মসূচিগুলোতে তারা বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা বারবার বলেছি, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আছে। আমাদের কর্মসূচি করতে দিন। গণতন্ত্র তখনই রক্ষা পাবে যদি সরকার গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চায়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সূত্রগুলোর দাবি, বিরোধীদের আন্দোলন করতে না দেয়াটা আওয়ামী লীগ বা সরকারের উদ্দেশ্য না। কোথাও কোথাও প্রশাসন, পুলিশ ও দলের নেতা-কর্মীদের অতি উৎসাহী তৎপরতায় হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে। বিএনপির দলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশও আছে ওই সব হামলার ঘটনায়। বিরোধীদের আন্দোলনকে একটা রাজনৈতিক গণ্ডির ভেতরে রাখাই সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের মূল চাওয়া। যাতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হয়।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে বিএনপি যাতে মাঠে দৃশ্যমান হতে পারে সেই কৌশলেই আগাচ্ছে তারা। তাই বিএনপি ও বিরোধীদলগুলোর জন্য আন্দোলনের সীমারেখা বেঁধে দিতে চায় আওয়ামী লীগ। সীমারেখার বৃত্তে আবদ্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলীয় কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকছে আওয়ামী লীগও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা, ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট ও ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও করে বিএনপি রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি রক্ষা, মামলায় সাজা হওয়ার পরও কোনো জনসম্পৃক্ত আন্দোলন করতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও তারা ছিল অনেকটা সংশয়ে। পুরো প্রভাব নিয়ে মাঠে থাকতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো বয়কট করেছে লাগাতারভাবে। সব মিলিয়ে বিএনপি এখন একটা গণ্ডির ভেতরেই আছে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, কোণঠাসা বিএনপির কর্মসূচি পালনে বাধা নেই। কিন্তু কর্মসূচিতে উপস্থিতির ওপর ভর করে বিএনপি অন্য কোনো পথে যাতে না যায় সে জন্য চাপ অব্যাহত থাকবে। চাপের কৌশল হিসেবেই শক্তি দেখানোর জন্য কোথাও কোথাও হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে করে ভয় পেয়ে বিরোধীকর্মীদের মাঠে উপস্থিতি কমে এলে ক্ষমতাসীনদেরই লাভ। আন্দোলন যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ সতর্ক।
সরকারি দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন ছাড়া দেশে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আর নির্বাচনের এখনো ১৪ মাস বাকি। বিএনপি যদি এখনই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে দেয় তাহলে নির্বাচন এগিয়ে আসতে আসতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। সাংগঠনিকভাবে আরও ভেঙে পড়বে। শেষ দিকে দুর্বল বিএনপি সব দাবি ছেড়ে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে বলে আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের ধারণা। তাই উভয় দিকেই লাভ দেখছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
দেশের বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় উপদ্রুত অঞ্চলের দুর্গত মানুষকে দ্রুত উদ্ধার, তাঁদের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শুক্রবার (১০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বন্যাদুর্গত বিভিন্ন জেলার বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রদলের এই জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়, গত কয়েকদিনের টানা অতিভারী বর্ষণ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ধেয়ে আসা তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন জনপদ প্লাবিত হয়ে এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গৌরবময় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্বিপাক কিংবা মানবিক সংকটে একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল ও দায়িত্বশীল ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সবসময় সবার আগে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও উপদ্রুত অঞ্চলের বন্যাদুর্গত সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায়, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এবং সুষম ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নসহ সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের অনতিবিলম্বে মাঠে নেমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো—
১. বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে গবাদিপশুকেও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।
৩. স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।
৪. যারা বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবেন, তাদের ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।
৬. সব ক্ষেত্রে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৭. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হবে।
৮. বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পুনর্নির্মাণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
৯. বন্যার পর টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। এ জন্য ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নিতে হবে।
১০. ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির পুরো বিষয়টি সমন্বয় করবেন। বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর যাবতীয় তথ্য ইউনিটভিত্তিক কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে, তিনি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত হতে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নেওয়া এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। সেখানে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।” উল্লেখ্য যে, গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি এবং তার দলের সদস্যবৃন্দ নিজ উদ্যোগেই ফিরে যেতে চান। আদালতের কাছে নিজেদের সোপর্দ করার মাধ্যমে তারা মূলত বর্তমান কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন যখন স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে। নির্বাসিত হওয়ার পর এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করলেন।
নিজের ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির সাথে পরামর্শ করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।” আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তবে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বর্তমান প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া রয়টার্স সংগ্রহ করতে পারেনি।
উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ শাহকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুকে দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানার সই করা এক বহিষ্কারাদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আতাউল্লাহ শাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, ‘আতাউল্লাহ শাহর বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলীয় গঠনতন্ত্র ও প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী তাকে এনসিপির গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদসহ দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।
গত ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মিনি কক্সবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের জন্য সমবেত হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়, বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রাঙ্গণে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘দেশব্যাপী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন এবং দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই সরকারের আমলে অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না।’
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় অ্যাবের নেওয়া পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
অ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
দুই ধাপে আয়োজিত এ কর্মসূচির প্রথম পর্বে সকাল ১০টায় পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় সাভারের ডেইরি ফার্ম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার নাম যেন ছিল গৌড় চন্দ্রের জীবন। প্রায় দুই দশক আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করার পর থেকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উত্তর পাথালিয়া গ্রামের শ্রী গৌড় চন্দ্র অসহায়ত্ব আর সীমাহীন কষ্টকে সঙ্গী করেই দিন কাটিয়ে আসছিলেন। একটি হুইলচেয়ার না থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ছিল তার কাছে এক দুঃসহ সংগ্রাম।
অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য ও নগদা শিমলা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তারেক খাঁন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে গৌড় চন্দ্রকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেন।
হুইলচেয়ারটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গৌড় চন্দ্র। বহুদিন পর নিজের চলাফেরার নতুন আশার আলো দেখতে পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসীও তারেক খাঁনের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এমন সহায়তায় আনন্দ প্রকাশ করেন।
এদিকে একই গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তার অংশ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা তারেক খাঁনের কাছে সেটি সংস্কারের আবেদন জানান। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনে তিনি নিজ অর্থায়নে অতি শিগগিরই রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এগিয়ে আসার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তাদের প্রত্যাশা, এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজের বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে, নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে—দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, আপনারা দাবি করেছেন। বর্তমানে এ সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
আন্দোলনের পর্দার আড়ালের কিছু বিষয় তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ও আমার নেতা তারেক রহমান, দুজনেই নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর কী মহিমা, যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মতো একটা অভ্যুত্থান সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হতো না। এটাই হচ্ছে পর্দার অন্তরালের কথা।
তিনি আরও বলেন, কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি, ২৪ ঘণ্টা কো-অর্ডিনেশন করে আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে আমরা অর্গানাইজ করে এই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে এই আন্দোলনের একটা পর্যায় পর্যন্ত আমরা নিয়ে এসেছি। ৩ তারিখ ৪ তারিখ আমরা যখন নৈতিক সমর্থন প্রদান করি, তারপরের থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটা আন্দোলন ছিল, সেখানে সমর্থন দিয়ে তারপরের থেকে। যেদিন আমরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত পৌঁছালাম, সেদিন আমার নেতা বলেছেন, ‘দফা এক, দাবি এক—স্বৈরাচারের পদত্যাগ। অন্য কোনোভাবে সমস্যার সমাধান হবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকে যারা জুলাই যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দাবি করেন, তাদের অনেকেই সেদিন বলেছিল, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নাই। আমাদের দাবি বৈষম্যহীন, এই ছাত্র আন্দোলনের দাবি কোটা বৈষম্য দূর করতে হবে’। সেটাই ছিল তাদের বক্তব্য। আমরা জানি স্বৈরাচারকে গদিতে রেখে বৈষম্যহীনতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাদেরকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু তাদের সেই সাহস ছিল না। আমরা রাজনৈতিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শত সহস্র শহীদের রক্তের এই স্রোতের মধ্য দিয়ে আমরা এই জায়গায় এসেছি আজকে।
তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাড়ে চার শতাধিকই ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত বড় গণহত্যার পরও হত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তারা জুলাই যোদ্ধাদেরকে অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে। উল্টো তারা প্রবাসে বসে এই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি তকমা’ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্মরণসভায় তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে। এছাড়া ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও ৭২টি মামলা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশ কর্মকর্তা হাবিব ও সুদীপ রায়ের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তৎকালীন আইজিপি মামুন এবং আশুলিয়া ও রামপুরার হত্যা মামলার আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হলেও তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য বাদীপক্ষ আপিল করবে বলে তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ইতিহাস কিন্তু তাই। যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করত, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি যেয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে উৎখাত করেছে।
তিনি বলেন, সুতরাং চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়। রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার উদ্দেশ্য ভালো না। আমরা এই মহান ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ধারণ করব, স্মৃতিকে ধারণ করব, অনাগত কালে ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মরা যেন দেখে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদীদের পতন কীভাবে হয়েছিল, ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আচরণ যেন ভবিষ্যতের কোনো সরকার না করে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।
সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান দেখেছিলাম, সেই চেতনার প্রতিফলন এখনকার রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখছি না। বরং জুলাইয়ের চেতনার নামে এখন নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাটে-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ইস্যুতে জি এম কাদের বলেন, শুধু একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া বা দমন করলেই দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে, যার দায়ভার সরকার এড়াতে পারে না।
জিএম কাদের বলেন, দেশের তরুণ সমাজ আজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাদের সামনে কর্মসংস্থান নেই, ভবিষ্যৎ নেই, যার ফলে তারা মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরবেন। যে ভালো কাজ করবে তাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, আর যে অন্যায় করবে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। রাজনীতিবিদদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানো গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি দেশের গণতন্ত্রের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ওপর। তাই সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন দিতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলস কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না এবং এগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মধ্যে এমন একটি ভূখণ্ড দেখিয়েছিলেন, যে ভূখণ্ডে সবার আশ্রয় হয়, প্রত্যেকটি জাতিসত্তার আশ্রয় হয়। সেই ভূখণ্ডটির নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একটি রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যেখানে ধর্ম, জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়–নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদায় আশ্রয় পায়। সেই রাষ্ট্রচিন্তার নাম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।
জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ‘বাঙালি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার পায়ের নিচে কোনো বৃত্তিকার স্পর্শ পাই না। কারণ প্রশ্ন আসবে, আপনি কোথাকার বাঙালি? আমেরিকার বাঙালি, না ফ্রান্সের বাঙালি, না পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি, না ত্রিপুরার বাঙালি? কিন্তু ‘বাংলাদেশি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে অপূর্ব এক ধরনের প্রেরণা বুকের মধ্যে জেগে ওঠে যে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশের মানুষ। আমাদের আলাদা পতাকা আছে, আলাদা মানচিত্র আছে, আলাদা জাতীয় সংগীত আছে, আলাদা ভাষা আছে। আর যে কোনো বিপদে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওই আন্দোলনে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ছিল। সেদিন মুসলমান গুলি খেয়েছে, হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে। আজ সারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এখানে এসেছেন। সমতলের সাঁওতাল, রাজবংশীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ যেমন আছেন, তেমনি পাহাড় থেকেও অনেকে এসেছেন। সবাই এক কাতারে, এক ব্যানারের নিচে মিলিত হয়েছেন।
দেশের মানুষের এই ভ্রাতৃত্ব কেউ ভাঙতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীন সত্তা রক্ষায় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, একসঙ্গে লড়াই করবে, দেশ গড়বে এবং যেকোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে।
অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তার আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দেবালয়ে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়েছে। এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ তাকে অভিভূত করেছে। তিনি এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা, তাদের আয়কর দিতে হবে না। এ ছাড়া মুদির দোকানে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা খাতের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী করে বলেন, এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। কেন এত শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব হলো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে, সে ব্যবস্থা নেওয়া।
দেশব্যাপী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রাজধানীর ডেমরায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ সময় ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণও করেন নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ডেমরা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন রতনের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিন আওয়ামী লীগ বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলটি ডেমরা- রামপুরা সড়কের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে আমুলিয়া মডেল টাউনে গিয়ে শেষ হয়। আর মীরপাড়া এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করা হয়। এসব কর্মসূচি তো অংশগ্রহণ করেন ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডেমরা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ আতিক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আনোয়ার সর্দার, ডেমরা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হানিফ মিয়া, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল মাহমুদ, সদস্য মাসুম, থানা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফাহিম প্রমুখ।
পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত পথসভায় জয়নাল আবেদীন রতন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ছাত্রজনতা ও বিএনপির গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের দোষররা এখনো দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাই দেশকে বাঁচাতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডাকে সারা দিয়ে অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
খুলনা মহানগরীর সদর থানা এলাকায় সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩৫–৪০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে সদর থানার এসআই তপন কুমার পাল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন, রনবীর বাড়ৈ সজল, অনুপ সরকার, মৃদুল, মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তায়েফুল ইসলাম তাজ, প্রসেনজিৎ, মো. শহিদুল ইসলাম, রাহাত আলী মোড়ল, অনিক হাসান পারভেজ, গৌতম সরকার কাকন, আছাফুর ঢালী, গোপাল চন্দ্র সাহা, মো. আক্তার শিকদার, মনিরুল ইসলাম মনি, রাজিব আহমেদ, জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রিয়াজ এবং মো. রফিকুল ইসলাম পিন্টু। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার (১ জুলাই) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৫টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে সদর থানাধীন তারের পুকুরসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে আসামিরা একত্রিত হন। সেখানে তারা বর্তমান সরকারকে উৎখাত, মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অন্যান্য জেলার সঙ্গে খুলনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে সড়কে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। একই সঙ্গে আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘ছাত্রলীগ’ ও আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আসামিরা পালিয়ে যান। পরে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আসামিদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে।
পুলিশের এজাহারে দাবি করা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনকে পুনরায় সংগঠিত করার লক্ষ্যে গোপনে বৈঠক, অর্থ ও কর্মী সংগ্রহ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন।
সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, রাতে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ফের মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনিকে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরের দিকে তাঁকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
এর আগে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, প্রায় ৫ মাস আগে দীপু মনিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আনা হয়। তিনি আগে থেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত রোববার রাত থেকে অসুস্থ বোধ করায় সোমবার (২৯ জুন) ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করতে হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দুপুরের দিকে তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়। দুপুর ১টার দিকে তিনি কারাগারে পৌঁছান।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, দীপু মনি কিডনিসংক্রান্ত সমস্যাতেও ভুগছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। সকাল ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হন দীপু মনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
বিগত ১৮ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিল বলেই বাংলাদেশ চীনের মতো উন্নত হতে পারেনি উল্লেখ করে বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই কিন্তু দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র। আমরা ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই। কিন্তু ভারতের দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। বিজিবি সীমান্তে এখন সাহস ফিরে পেয়েছে।
তিনি বলেন, আজ যারা বলে বিএনপি সরকার ভারতের দালালী করছে, তারা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি ভারতের দালালী করলে চীন সফরে না গিয়ে সরকারপ্রধান আগে ভারত সফর করতেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, জামায়াতের নেতারা, এনসিপির নেতারা আজ সরকার পতনের হুমকি দেয়। আপনারা ১৭ বছর দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলতে পারেননি। আপনারা বড় বড় কথা বলছেন। হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে। আমি বলতে চাই, হাসনাত আবদুল্লাহ ইউনুস সরকারের সময় সরকারি সব বরাদ্দ তার এলাকায় নিয়ে গেছে, এটা কি দুর্নীতি নয়?
পুশইন ইস্যু নিয়ে রাশেদ খান বলেন, বিজিবি এখন সাহসের সঙ্গে কথা বলছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিজিবি সীমান্তে চোখে চোখ রেখে জবাব দিচ্ছে। বিএনপি কোনো দেশের দালালি করে না।
তিনি বলেন, বিএনপি ভারতের দালালী করে না, পাকিস্তানের দালালিও করে না। আজ শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা পাকিস্তানে গিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা নিয়ে দেশে ফিরে বিএনপিকে বলছে ভারতের দালাল। তাহলে আপনারা (শিবির-জামায়াত) কি পাকিস্তানের দালাল?