দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিচারিক আদালতের দেয়া নয় বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রায়ের কপি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ এবং এ কে এম আমিন উদ্দিন। টুকুর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন।
রায়ের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত রায়ে বিচারিক আদালতের সাজা ও অর্থদণ্ড বহাল রেখেছেন। রায়ের কপি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এক প্রশ্নের জবাবে দুদকের এ আইনজীবী বলেন, বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেই তাক আপিল করতে হবে। রায়ে আদালত বলেছেন, রাজনীতিবিদদের ওপর একটা দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে। এ কারণেই রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হয়।
চার কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পত্তির হিসাব ও আয়ের উৎস গোপন করার অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের মার্চে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
কমিশনের উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঞা ওই বছর ২৮ জুন মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ে টুকুকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ১৫ জুন তাকে খালাস দেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আবেদন করলে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি খালাসের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের এই রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে আবেদন করেন টুকু। পরে সেই আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর হাইকোর্ট বিভাগে পুনঃশুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় দিলেন আদালত।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পাথরঘাটায় জমে ওঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নূরুল ইসলাম মনির জনসভা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পাথরঘাটার খলিফার হাট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভাটি শুরু হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা জনসভা থেকে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশ নেন।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমি সবসময় কাজ করেছি। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের ব্যবস্থা সবই করেছি। জেলেদের জন্য চালের কার্ডের ব্যবস্থা করেছি, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত গিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ আমার সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আমার করা উন্নয়নই হলো- আমার নির্বাচনী পোস্টার, আমি যদি কাজ করে থাকি আপনাদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করে থাকি তাহলে আমার কর্মের জন্যই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবার নিয়ম অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবে, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের সকল মৌলিক সেবাগ্রহণ করতে পারবেন। অথচ একটি দল এখন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে; কিন্তু তারা নিজেরা জান্নাতে যাবে কিনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। জনগণ এখন আর মিষ্টি কথায় ভুলবে না। যারা এই বাংলাদেশই চায়নি তারা দেশের মালিকানা চাচ্ছে। তারা বেফাঁস কথাবার্তা বলে মা-বোনদের বেইজ্জতি করছে। আমাদের ইসলামধর্মকে নিয়ে তারা ভণ্ডামি করছে। তাদের সমগ্র দেশের মানুষ বয়কট করবে আপনারা দেখবেন।’
জনসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো মাঠজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও নির্বাচনী আমেজ।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বগুড়ায় আসছেন। তার আগমন ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। পুরো জেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। তাকে এক নজর দেখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মুখিয়ে আছেন। তার জনসভায় লাখের অধিক মানুষের সমাগমের আশা করা হচ্ছে বলে জানান নেতারা।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ তারিখে তিনি রাজশাহীতে বিমানযোগে পৌছাবেন। সেখানে জনসভা শেষে নওগাঁ, পরে তিনি বগুড়া আদমদিঘী ও কাহালু হয়ে বগুড়ায় এসে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন এবং রাত্রী যাপন করবেন। পরের দিন আগামী শুক্রবার বগুড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরবেন, ভোটরদের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন এবং ১০টি ইউনিয়নে ঘুরবেন। পরে তিনি সাবগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যে পিতৃভূমি গাবতলীতে যাবেন, সেখাসে ১২টি ইউনিয়ননের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সাথেকথা বলবেন। শেষে শাজাহানপুর হয়ে তিনি তার পরবর্তী গন্তব্যে পৌছাবেন।
এদিকে জনসভার নির্ধারিত স্থান আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। জেলা বিএনপির নেতারা জানান, তারেক রহমানের এই সফর দলীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে তিনি বগুড়ার জনসাধারণের সামনে দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরবেন।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা জানান, গত ১৭ বছরে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। আমরা চাই সর্বোচ্চ ভোটের মাধ্যমে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা। সারাদেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণে ভোটে তাকে পুরস্কার করতে চাই। তারেক রহমানের সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বগুড়ার মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। আমরা আশা করছি এটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে। তারেক রহমানের সফর আমাদের নতুন শক্তি দিচ্ছে। তার এ সফরকে ঘিরে শুধু বিএনপি নয়, এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি, তারাও সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় যাওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। কিন্তু বিএনপির চেয়ারম্যানের সেই সফর কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
ঢাকা ১৭ আসনের পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন।
নীলফামারীর সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে গোড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে কীর্তনীয়া পাড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নীলফামারী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক, সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল, সাবেক সভাপতি আ খ ম আলমগীর সরকার বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, নীলফামারী জেলাকে রংপুর বিভাগের মধ্যে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাইপাস সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়, বিনোদন কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক ইউপি সদস্য আকবর আলী, শিক্ষক হুমাউন কবির, ব্যাবসায়ী জিয়া ইসলামসহ তিনজন বিএনপিতে যোগদান করেন। জনসভায় স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন যে দেশের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে এবং সবকিছুর জন্য তাকে দায়ী করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষের নানামুখী অভিযোগের জবাব দেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমি চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটাও নাকি হুমকি। এটাও আমার দোষ। কোথায় কী হয়ে যায়, সব দোষ মির্জা আব্বাসের।’
প্রতিপক্ষের উস্কানি ও প্রচারণার ধরন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি তাদের কথায় ভীত। যে যত কথাই বলুক, আমি তাদের ফাঁদে পা দেব না। আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই। আমার ভোট আমি চাইব, তুমিও ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছ, আর কী করবে, সেটা বলো। তোমরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।’ নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও এলাকার মানুষের সঙ্গে নাড়ির টানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়। পরে আর পাওয়া যায় না। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না আমাকে পাওয়া যায়নি। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এ এলাকার মানুষ হাত তুলে সমর্থন দিয়েছে। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি।’
সাবেক এই মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত স্বচ্ছতা ও জনসেবার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি অনেকবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। কিন্তু যা পারবো না, তা কখনো আশ্বাস দিইনি। মিথ্যা আশ্বাস দিই না। আমি ফেরেশতা না, তবে কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা বলি না।’ নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কী? আমি জেলে থাকাকালেও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আজ লম্বা লম্বা কথা বলছেন, কয়জনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়েতে গেছেন? আবার বলেন, আমার এলাকা।’
চাঁদাবাজির অভিযোগ ও প্রতিপক্ষের হুমকির জবাবে তিনি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ‘একজন বলছে, চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। চাঁদাবাজদের কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।’ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ভাবটা এমন যেন বিএনপি ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে, বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ। দেশে এখন থেকেই অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।’ মালিবাগ ও গুলবাগ এলাকায় গণসংযোগ শেষে তিনি মৌচাক ও রাজারবাগ পুলিশ গেট পর্যন্ত পদযাত্রা করেন এবং বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন।
নাটোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে নিয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য রঞ্জিত কুমার সরকারকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এিই তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রঞ্জিত কুমার সরকার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং তার বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হয়ে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। এই কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নির্দেশে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানা, একজন বিএনপি নেতা হয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য রঞ্জিত কুমার সরকারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যারা দলীয় নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলস্টেশনসংলগ্ন কড়ইতলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর নির্বাচনি সভায় রঞ্জিত কুমার সরকার তার বক্তব্যে নাটোর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে নিজেরা দুর্নীতি করবো না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না। সবাইকে নিয়ে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়বো। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে।
গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটার দিকে মাগুরা আদর্শ কলেজ মাঠে জামায়াতের পথ সভায় কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজদের টাকা এনে দেশের উন্নয়ন করা হবে। নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। পাঁচ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে পাল্টে দেওয়া হবে।
মাগুরা জেলা জামায়াতের আমীর দশ দলীয় জোটের মাগুরা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মুস্তারসিদ বিল্লাহ বাকেরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা- ১ আসনের দশ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আব্দুল মতিন সহ জোটের নেতারা।
রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুনরায় ডিম হামলার শিকার হয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে অভিযুক্ত করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার ফকিরাপুল মোড়ে পারাবাত হোটেলের নিচ তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাস ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা করিয়েছেন। আজকের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হলো মির্জা আব্বাস এখনো সন্ত্রাসের রাজনীতি ছাড়তে পারেননি। তার বাহিনীর এই কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের সামনে তার আসল চেহারা উন্মোচন করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, "দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপরাধে মির্জা আব্বাসকে অবিলম্বে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের অনুরোধ জানাচ্ছি।" তিনি এই ঘটনার বিচারভার জনগণের ওপর অর্পণ করে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, "আমি এই হামলার বিচার দেশের সাধারণ মানুষের কাছে দিলাম। ১২ তারিখের নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমেই এই গুণ্ডামির জবাব দেবেন। ঢাকা-৮ আসনের সচেতন জনগণ ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজেদের রায় জানিয়ে দেবেন।"
এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম জানান, কলেজে একটি পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় এই হামলার সূত্রপাত হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামিল আবদুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের অনুসারীরাই শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে এই অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। ওই সময়কার ভিডিও চিত্রে এক পক্ষকে ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং অন্য পক্ষকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়, যা পুরো ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
এদিকে নাহিদ ইসলাম এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে বলেন, "আজকে যেটা হয়েছে, সেটি খুবই দুঃখজনক। এটি অস্বীকারের চেষ্টা আরও বেশি ন্যক্কারজনক। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করেছে। মির্জা আব্বাসের নির্দেশে তারেক রহমানের সম্মতিতে এই ঘটনা ঘটেছে। একদিকে মঞ্চে উঠে ভালো ভালো কথা বলবেন, অন্যদিকে বিরোধীদের সন্ত্রাসী কায়দায় দমন করবেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসন করবেন, সেটি হতে দেব না।" তিনি একই সাথে নির্বাচন কমিশন, কলেজ প্রশাসন এবং বিএনপির নিকট এই ঘটনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, অন্যথায় রাজপথে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। সামগ্রিক বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান জানান যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছে।
ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি কার্ডের তথ্য ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডকে ষড়যন্ত্র ও কারচুপির অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, দু-একটি রাজনৈতিক দল তারা তাদের ভোটের রাজনীতিতে বিভিন্ন অপপ্রচার, মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নম্বর নিচ্ছে বিকাশে টাকা দেওয়ার জন্য। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, যাতে সেই এনআইডি নম্বর দিয়ে তারা এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে ভোটের মাঠে কারচুপি করতে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের বেনারসিপল্লিতে নির্বাচনী জনসংযোগকালে গণমাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেন।
নির্বাচনী মাঠে অবৈধভাবে অর্থের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে গত দুই দিনের। তাঁরা কিছু কিছু জায়গায় গিয়ে বিকাশে টাকাটা দিয়েছে। বিকাশে না দিতে পেরে অনেক জায়গায় দেখা গেছে, তারা হাতে হাতে ৫০০ টাকা করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে জামায়াতের কর্মীরা ক্ষেত্রবিশেষে বিএনপির নাম ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই বিষয়ে এলাকাবাসীকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে–ই হোক না কেন, যদি আমার নামও বলে যে এনআইডি কার্ড বা মোবাইল নম্বর দেন। তখনো যাতে এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর না দেওয়া হয়। কারণ জামাত (জামায়াতে ইসলামী) এ কাজটি করছে।
জামায়াতের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে অবগত করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তারা আমাদের নাম ধরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। গিয়ে বলছে, বিএনপি থেকে আমরা আসছি। আপনার এনআইডি নম্বর দেন, আপনার মোবাইল নম্বর দেন। এ ধরনের মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা করছে। এ জন্যই আমি বলতে চাই, যদি আমার নামও ব্যবহার করে, কেউ কোনো এনআইডি নম্বর বা মোবাইল নম্বর দেবেন না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমিনুল হক জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে বিএনপি দমন-পীড়নের বদলে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির রাজনীতি কায়েম করবে। এদিন তিনি মিরপুরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা, ঝুটপট্টি ও বেনারসিপল্লিতে গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালান।
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজের পিঠা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আসেন। কিন্তু শুরুতেই গেটে তাকে কলেজের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে অনেক ধস্তাধস্তি হয় সেখানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে একের পর ডিম নিক্ষেপ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে আপত্তিকর ও বেফাঁস মন্তব্যের জেরে বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনের সদস্য বা রুকন পদ থেকেও তাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বরগুনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলায় আয়োজিত এক জনসভায় বক্তৃতাকালে শামীম আহসান দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার ওই বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দলের নীতি ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এর ফলে জনমনে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা কর্মপরিষদের জরুরি সিদ্ধান্তে তাকে সহকারী সেক্রেটারিসহ দলের সব ধরণের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বরগুনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার হৃদয়ের স্পন্দন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কখনোই কাম্য নয়। শামীম আহসানের বক্তব্যে দল বিব্রত এবং আমরা এ জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে দলের অন্য কোনো নেতা বা কর্মী যাতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি না করেন, সে ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করতে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ, গাজীপুর এবং রাজধানীর উত্তরায় দিনব্যাপী গণসংযোগ ও জনসভায় অংশ নেবেন। আজ দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী সফর শুরু হবে। দিনের প্রথম কর্মসূচিতে তিনি ময়মনসিংহে যাবেন। সেখানে দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। ময়মনসিংহের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঢাকার পথে রওয়ানা হবেন এবং পথিমধ্যে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে যোগ দেবেন।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছয়টায় গাজীপুরের রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। এরপর সেখান থেকে রাজধানীর প্রবেশমুখ উত্তরায় আসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সন্ধ্যা সাতটায় উত্তরা আজমপুর ঈদগাহ মাঠে দিনের সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। টানা কর্মসূচি শেষে রাত আটটার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরবেন বলে দলীয় শিডিউলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে তারেক রহমান ক্লান্তিহীনভাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আজকের এই তিন জনসভাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই, কারণ একাত্তরই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি, অথচ যারা শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে, আজ তারা আবার দেশ শাসনের জন্য ভোট চাচ্ছে। তাদের ভোট দিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না। আমরা ১৯৭১ সালকে মাথায় তুলে রাখতে চাই। কারণ ওটাই আমাদের ও বাংলাদেশের অস্তিত্ব।’ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বিডি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এ কথা বলেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে একটি ভয় কাজ করে—তারা সংখ্যালঘু, তাদের ওপর নির্যাতন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে, এই দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিষ্কার করে বলে গেছেন—এই দেশের সংখ্যালঘু কেউ নাই সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশের সবাই সমান নাগরিক। তাই কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সবাই বুক উঁচু করে দাঁড়াবেন, আমরা আপনাদের পাশেই থাকব।’
বিএনপি মহাসচিব প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপি সবসময় আপনাদের অধিকার রক্ষা করবে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার, বিশেষ করে মা-বোনদের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আপসহীন থাকবে।’
এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যে সময় কোনো রাস্তা ছিল না ঘাট ছিল না, বিদ্যুৎ ছিল না সেই সময় আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছিলেন। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যা করেছিলাম গত ১৫ বছরে তার সংস্কার পর্যন্ত হয়নি। বর্তমানে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসলে ধুলা-বালি খেতে হয়। আমি খেটে খাওয়া মানুষের এমপি ছিলাম আপনাদের সমর্থন আর ভালোবাসায় খেটে খাওয়া মানুষের এমপি হয়েই আপনাদের পাশে থেকে বাকি জীবন সেবা করে যেতে চাই।
বরগুনা - ২ (পাথরঘাটা- বামনা- বেতাগী) আসনের ৪নং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বরগুনা- আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় গত ১৫ বছরে কোন উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি আমার মেধা-শ্রম দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি বরগুনা- ২ কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জাহাজ রিপেয়ারিং কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে চাই। আমার মৎসজীবী ভাইদের পাশে আবারও দাঁড়াতে চাই ইনশাল্লাহ।
নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে আরো বলেন,যারা এখনো মানুষের হক মেরে খান যারা সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত তারা ভালো হয়ে যান। আমি কোনো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজকে কোনোরকম অন্যায় কাজ করতে দেব না। গত ১৫ বছর সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট পতিত স্বৈরাচার। আমি যদি নির্বাচিত হই যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন ইনশাল্লাহ আমি বাকি জীবন পূর্বে ও যেমন আপনাদের কল্যাণে কাজ করেছি ভবিষ্যতেও আপনাদের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, যারা দেশ চায়নি, যাদেরকে আপনারা কখনো চোখে ও দেখেননি তারা এখন দেশের মালিকানা চায়। তারা আপনাদের অধিকার ভোট চায়।
জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় নিয়ে আপনারা ঘরে ফিরবেন। একটি চক্র ভোট চাওয়ার নামে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় পরিণত করার পাঁয়তারা করছে। তাদের থেকে সাবধানে থাকবেন।
জনসভায় সর্বস্তরের জনগণ থেকে শুরু করে বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।