‘লুটেরা দুর্নীতিবাজ’ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে একটি ঋণের রাজ্যে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম (একাংশ) সভাপতি মোস্তফা মহসীন মন্টু। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশি রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর কাছে জনগণকে হাজার হাজার কোটি ঋণের টাকায় দায়বদ্ধ করে ফেলেছে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে নির্দলীয় সরকারের অধীন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।’
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম সভাপতি এসব কথা বলেন। গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টির যৌথ কর্মসূচি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করার কারণে এ দেশের জনগণের আস্থা হারিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় ঊর্ধ্বগতি ও লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়হীনতায় কয়লার সংকট হয়েছে।’
গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘গত দুটি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি, আমার ভোট আমিও দিতে পারিনি। আমরা জনগণের সরকার চাই, জনগণের সরকার এলে দুর্নীতি বন্ধ হবে, ঋণখেলাপি বন্ধ হবে, অর্থপাচার বন্ধ হবে ও কয়লার টাকা বাকি থাকা বন্ধ হবে এবং দেশের মানুষ বাঁচবে, মুক্তি পাবে মানুষ।’
মোস্তফা মোহসীন বলেন, ‘একটি প্রতীকের প্রতি এই দেশের জনগণের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তি ভালো হলেও জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেয় না।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মো. বাবুল সরদার চাখারী বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বা বিরোধী মতের প্রার্থী বিজয়ী হলেই যে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সেই চিন্তার কোনো অবকাশ নেই। আমরা দেখেছি, ২০১৪ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিরোধী প্রার্থীরা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে বিনা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে আওয়ামী লীগ। তাই দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামোর প্রতিটি স্তরে আজ চরম গণতন্ত্রহীনতা, দুর্নীতি ও দুঃশাসন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। প্রশাসনে চলছে দলবাজির নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা। পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় ক্যাডারে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই মুহূর্তে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই। চলমান আন্দোলন মাঠপর্যায়ে আরও জোরদার ও তীব্রতর করে জনবিরোধী এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে গণফোরাম ও পিপলস পার্টির ৭ দফা যৌথ কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করে। এগুলো হলো-
১. দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. (বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। গায়েবি মামলা বন্ধ করতে হবে।
৩. রাষ্ট্র-ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার সংস্কার করা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে। একই ব্যক্তি দলীয় প্রধান এবং নির্বাহী প্রধান হতে পারবেন না। একই ব্যক্তি পরপর দুইবারের বেশি রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।
৪. সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা বিধান এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
৫. মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণতন্ত্র, ভোট দেয়ার অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৬. সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করতে হবে।
৭. তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সিন্ডিকেট বাণিজ্যের মূল উৎপাটন করতে হবে। খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, সভাপতি পরিষদের সদস্য ফজলুল হক সরকার, আব্দুল হাসিব চৌধুরীসহ অন্যরা।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পিতা ও পুত্রের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তাদের সম্পদের এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের অর্জিত মোট সম্পদের পরিমাণ তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নের তথ্য অনুযায়ী, বাবা আমিরুল ইসলাম যেখানে ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন, সেখানে ছেলে হান্নান মাসউদ দাখিল করেছেন ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।
আয়ের উৎসের ক্ষেত্রেও বাবা ও ছেলের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। গত এক বছরে হান্নান মাসউদ ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করলেও তার বাবা কৃষি খাত ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সম্মানী মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
নির্বাচনি মাঠে বাবা ও ছেলে ভিন্ন দুটি রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে একতারা প্রতীকে এবং আব্দুল হান্নান মাসউদ এনসিপির হয়ে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন।
পেশায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলামের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার কাছে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া তার মালিকানায় ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং কৃষি ও অকৃষি মিলিয়ে মোট ১৬৮ শতাংশ জমি রয়েছে।
এই বিষয়ে নিজের সম্পদের হিসাবের বাইরে অন্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি আমিরুল ইসলাম।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবারও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবার দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন পুরোনো উপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশীজনদের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি দলটির সকল প্রকার দায় ও দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। মুরসালীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এনসিপি যে নতুন সংবিধান, নতুন রিপাবলিক বা নয়া বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারা সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে ‘ডিকলোনালাইজ’ বা উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য, যেখানে এনসিপি এখন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
মুরসালীন তাঁর ভিডিও বার্তায় আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশে যে শাসন ব্যবস্থা চলে আসছে, তা মূলত জনবিরোধী ও নিপীড়নমূলক। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আশা করা হয়েছিল যে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমিক ও নারীরা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসবে। কিন্তু এনসিপি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং অত্যন্ত সচেতনভাবে এই বীর নারী ও শ্রমিকদের পর্দার আড়ালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র রচনার সময় থেকেই আপসকামিতা শুরু হয়েছিল। যদিও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে সনদে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, কিন্তু পরবর্তীতে এনসিপি নিজেদের দুর্বলতার কারণে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশীজনদের সাথে বিভিন্ন কোলাবরেশনে যেতে বাধ্য হয়েছে। মুরসালীনের মতে, জনগণকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করতে না পারাই দলটির এই দুর্বলতার প্রধান কারণ।
নিজের দীর্ঘ দেড় দশকের সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে খান মুহাম্মদ মুরসালীন জানান, তাঁর পূর্বপুরুষরাও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তিনিও সেই আদর্শিক লড়াইটি চালিয়ে যেতে চান। তিনি মনে করেন, এনসিপির বর্তমান চলার পথ এবং তাঁর নিজস্ব গণরাজনৈতিক ধারা এখন সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে। তবে দল থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না বরং আবারও জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে রাজপথে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এনসিপিতে একের পর এক শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের এই ঘটনা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও আদর্শিক বিচ্যুতিকে আরও প্রকট করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। খুব শীঘ্রই রাজপথে আবারও সবার সাথে দেখা হবে বলে তিনি তাঁর ভিডিও বার্তার ইতি টানেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া আজীবন আপসহীন ছিলেন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি কখনোই কারো সাথে কোনো আপস করেননি। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত নেত্রীর কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাবর উল্লেখ করেন যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনায় র্যাব গঠন করা হয়েছিল। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, বিএনপির শাসনামলে র্যাবকে এক ঘণ্টার জন্যও দলীয় বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কেউ কোনো প্রমাণ দিতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে কোনো অন্যায় সংঘটিত হলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হতো না, যা নেত্রীর কঠোর ন্যায়পরায়ণতারই বহিঃপ্রকাশ ছিল।
খালেদা জিয়ার দেশপ্রেমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নেত্রীর মধ্যে যে বিরল গুণাবলী ছিল, তা সমসাময়িক অন্য কারো মধ্যে দেখা যায়নি। দীর্ঘ সময় তাঁর সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুবাদে তিনি এই দেশপ্রেমকে খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন। বাবর আরও মন্তব্য করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার সেই আদর্শিক গুণাবলী এখন তাঁর পুত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।
রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আবেগ থেকে তিনি নেত্রীর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান বাবর। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই তিনি জিয়ারতে অংশ নিয়েছেন এবং এটি ছিল তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নিবেদন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি মূলত নিজের আবেগ ও ভালোবাসার টানেই নেত্রীর স্মৃতিবিজড়িত স্থানে ছুটে এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দেখানো পথই আগামী দিনে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের মূল প্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন যে, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত তিনটি আসনে তাঁর বিকল্প হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, এখন তারাই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসন থেকে দলের প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। তবে তাঁর গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দল আগেই এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী মনোনীত করে রেখেছিল। এখন তাঁর প্রয়াণের পর আইনগতভাবেই ওই বিকল্প প্রার্থীরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, ফেনী-১ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রফিকুল আলম মজনু, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম লড়বেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ওই আসনগুলোতে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আইনে এর কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু মনোনয়নপত্রের বৈধতা যাচাই এবং প্রতীক বরাদ্দের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই নির্বাচন পেছানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে এবং তাঁর পরিবর্তে বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে তারাই দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানসিক অবস্থা এবং নেতৃত্বের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রিয়জন হারানোর শোক থাকলেও তারেক রহমান একজন অত্যন্ত শক্ত মনোবলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এবং দলের স্বার্থে তাঁকে দৃঢ় থাকতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন যে, অসীম শোকের মধ্যেও তারেক রহমান নিজেকে শক্ত রেখে জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বর্তমানে সারা দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে এবং দলটির নেতাকর্মীরা শোকাতুর পরিবেশেই নির্বাচনী কার্যক্রমের আইনি বিষয়গুলো সম্পন্ন করছেন। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এখন দলের পুরো মনোযোগ নির্বাচন এবং চেয়ারপারসনের অসমাপ্ত রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো পূরণের দিকে থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, নিকটজন হারানোর গভীর শূন্যতা থাকলেও দেশের মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আজ পুরো বাংলাদেশই তাঁর পরিবার হয়ে উঠেছে। তিনি তাঁর মা এবং জীবনের প্রথম শিক্ষক বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করার কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তবে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি এবং অগণিত নেতাকর্মীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁকে এই কঠিন সময়ে একাকীত্ব অনুভব করতে দেয়নি।
তারেক রহমান তাঁর বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কেবল তাঁর গর্ভধারিণী মা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা। জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। শোকের এই মুহূর্তে তিনি তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান এবং অকালপ্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান, যারা সশরীরে উপস্থিত থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা প্রমাণ করে যে দেশের সীমানার বাইরেও তাঁর মায়ের প্রতি বিশ্বনেতাদের কতটা গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা ছিল।
মায়ের অসম্পূর্ণ কাজ ও জনসেবার মহান দায়িত্ব এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন যেভাবে নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন, সেই উত্তরাধিকার তিনি এখন নিজের কাঁধে গভীরভাবে অনুভব করছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দেন যে, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকেই তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে সেই দীর্ঘ পথযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। পরিশেষে তিনি তাঁর মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ, উদারতা এবং দেশপ্রেমের উদাহরণ থেকেই জাতি ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রেরণা ও শক্তি খুঁজে পাবে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাহিত করার কথা রয়েছে। ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মাহমুদুল হাসান সারাজীবন আদর্শ টাঙ্গাইল গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অনবদ্য অবদানের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে মাহমুদুল হাসান কয়েক দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১২ সালের উপ-নির্বাচনেও তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান যখন অন্য দল থেকে আসা নেতাদের জন্য তাঁর দলের দরজা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই সেই পথ ধরে দল ছাড়লেন তাঁরই নিজ দলের সহসভাপতি সাধনা মহল। গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে আলোচিত সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম আমজনতার দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার পরপরই পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন তিনি। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি দল ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফেসবুক পোস্টে সাধনা মহল সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও মন্তব্যের ঘরে ভক্ত ও অনুসারীদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, হিরো আলমের অর্জন, কর্মজীবন কিংবা তাঁর সস্তা জনপ্রিয়তার সাথে সাধনা মহলের রাজনৈতিক আদর্শের কোনো মিল নেই। তিনি মনে করেন না যে, হিরো আলমের মতো কেউ মজলুম বা সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে তিনি দলের একটি ‘রাজনৈতিক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, বড় ধরনের ক্ষতির আগেই দলটি তাদের এই সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ পাবে।
আলোচনার এক পর্যায়ে হিরো আলমকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য উঠলে সাধনা মহল স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরণের সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে হিরো আলমের মতো ব্যক্তিদের সংসদে পাঠানোর প্রচেষ্টাকে তিনি অবাস্তব ও নীতিবিবর্জিত বলে মনে করেন। তাঁর মতে, রাজনীতির মাঠ ও সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয়তা এক নয়, এবং জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য যে পরিপক্কতা প্রয়োজন তা হিরো আলমের মাঝে অনুপস্থিত।
উল্লেখ্য, হিরো আলম গত রবিবার সন্ধ্যায় তারেক রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আমজনতার দলে যোগ দেন এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এই দল থেকেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের শীর্ষ পর্যায়ের এই নারী নেত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধনা মহলের প্রস্থান আমজনতার দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই নিয়ে এক ধরণের অস্বস্তি বিরাজ করছে। মূলত নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করা দলটিতে শুরুতেই এমন বিভক্তি এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের মানবিক ও ব্যক্তিগত দিকগুলো তুলে ধরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক অভিভাবকই ছিলেন না, বরং তিনি তাঁর সহযোদ্ধা ও নেতাকর্মীদের গভীর মাতৃস্নেহে আগলে রাখতেন। ডা. জাহিদ স্মরণ করেন যে, বেগম জিয়ার আতিথেয়তা ছিল কিংবদন্তিতুল্য; তাঁর বাসভবনে গিয়ে কোনো কিছু না খেয়ে কেউ ফিরে এসেছেন—এমন ঘটনা কখনোই ঘটত না।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ডা. জাহিদ আরও বলেন, বেগম জিয়া সবসময় দেশ, দেশের মানুষ এবং স্বাধীনতার সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা করতেন। তিনি অত্যন্ত জনবান্ধব নেত্রী ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয় এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দিতেন না। একজন সচেতন রোগী হিসেবে চিকিৎসকদের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থার কথা উল্লেখ করে ডা. জাহিদ জানান, শারীরিক অবস্থা যতোই জটিল হোক না কেন, তিনি সবসময় চিকিৎসকদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী চলার চেষ্টা করতেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর এই ধৈর্য ও সহযোগিতা চিকিৎসকদের মুগ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যাসহ লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৮০ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেত্রী। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তাঁর এই চিরবিদায়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন একটি যুগের অবসান ঘটল, তেমনি শোকাতুর হয়ে পড়েছে পুরো বাংলাদেশ। বর্তমানে তাঁর মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতালেই রাখা হয়েছে এবং আগামীর দাফন ও জানাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে তাঁর পরিবার ও দল।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ের পর দলের পরবর্তী করণীয় এবং জানাজা-দাফনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে জরুরি বৈঠকে বসেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নিতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে আজ ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মায়ের অন্তিম সময়ে তাঁর শয্যাপাশেই ছিলেন তারেক রহমান। হাসপাতাল থেকে তিনি প্রথমে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনে যান এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁর আগমনের আগেই স্থায়ী কমিটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ সভাস্থলে উপস্থিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জরুরি সভায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন এবং রাষ্ট্রীয় ও দলীয় শোক পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিএনপি দেশজুড়ে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে দলের পরবর্তী সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই গুলশান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার শোকাতুর নেতাকর্মী ও সমর্থক। কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক অভিভাবকের বিদায়ে পুরো এলাকায় এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থায়ী কমিটির সভা শেষে আজ বিকেলেই বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। মূলত শোককে শক্তিতে পরিণত করে সুশৃঙ্খলভাবে এই বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করাই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘদিন পর আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন বিএনপির পক্ষ থেকে আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, এ জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ তারা আবারও আমাকে এ আসন থেকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার হাতে তার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সংবাদকর্মীদের এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে চাই- এখানে আমি মনোনীত হয়ে জনগণের কাজ করার একটা সুযোগ পেয়েছি। যদি আমরা সুযোগ পাই, জনগণের ভালোবাসায় যদি নির্বাচিত হতে পারি তবে নিশ্চয়ই এই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন, সামাজিক, পরিবেশকে উন্নত করা, এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করা, আমাদের আর্থ সামাজিক ব্যবস্থাকে উন্নত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বৃদ্ধি করার চেষ্টা করব। এছাড়াও মানুষের কর্মসংস্থানকে সৃষ্টি করা- এই বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্ব আরোপ করব। এর পাশাপাশি কৃষকদের যেসব সমস্যা সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।
মনোনয়নপত্র জমা শেষে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীর্ষে ভোট দেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকার জনগণের কাছে আমার আবেদন ও অনুরোধ থাকবে- আপনারা দয়া করে এই অঞ্চলে পূর্বে আমাকে যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, এখনো সেইভাবে সমর্থন দিয়ে আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য সাহায্য করবেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসিফ মাহমুদ নিজেও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আসিফ মাহমুদ সরাসরি প্রার্থী না হলেও এনসিপির মনোনীত প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার লক্ষে কাজ করবেন। এ লক্ষে তাঁকে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দলটির মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। মূলত মাঠ পর্যায়ের প্রচার ও কৌশল নির্ধারণে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আসিফ মাহমুদের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ গত কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন ছিল যে তিনি ঢাকা-১০ বা অন্য কোনো আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে পারেন। এমনকি তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের খবরও এসেছিল। তবে আজ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি জানালেন, ব্যক্তি হিসেবে সংসদ সদস্য হওয়ার চেয়ে দলকে সংগঠিত করা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত করাকেই তিনি এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী আসিফ মাহমুদ গত ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। গত ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরদিন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সাথে সাথে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়। সম্প্রতি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ করেছেন। নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে আসার মাধ্যমে তিনি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এক ভিন্নধর্মী কৌশল বেছে নিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মূলত একটি শক্তিশালী তারুণ্যের প্রতিনিধিত্ব গড়ে তোলাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ বা এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে রাজপথে লড়াই করেছি, সেই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির সংস্কার প্রয়োজন। এনসিপি সেই পরিবর্তনের লক্ষ্যেই কাজ করবে।”
এ সময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে তার দলের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে আসিফ মাহমুদ গতকাল পর্যন্তও সিদ্ধান্তহীন ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি ঢাকা-১০ আসনে (ধানমন্ডি-নিউমার্কেট-কলাবাগান-হাজারীবাগ) মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। আজ বিকেল ৫টায় ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এ বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন এবং ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ কার্যকর হয়।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমিতে ফেরার পর আজ প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তিনি সেখানে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের মাঝে এক অভাবনীয় আবেগ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ দেড় যুগ পর প্রিয় নেতার এই সশরীরে আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় তাঁর সাথে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিবুননবী খান সোহেলসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের সুবিধা ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আজ এখানে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই। রাস্তা বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অনেক অসুবিধা হবে। তাই আমাদের উচিত হবে রাস্তাটি যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়া, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে।” তাঁর এই সময়োপযোগী নির্দেশনার পর নেতাকর্মীরা রাস্তা ছেড়ে দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেন।
দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “সবাই দোয়া করবেন। আমাদের যার যতটুকু অবস্থান আছে, সেখান থেকে আসুন আমরা দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যখন আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়া হবে, তখন তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। প্রিয় নেতার এমন সাবলীল ও দায়িত্বশীল আচরণ নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল তিনি গুলশান কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছিলেন এবং আজ নয়াপল্টনে দলের প্রধান সাংগঠনিক কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ডে পূর্ণাঙ্গভাবে সক্রিয় হলেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের ফলে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নয়াপল্টনের এই ঐতিহাসিক কার্যালয়ে সশরীরে ফিরলেন তারেক রহমান।