শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩১ মাঘ ১৪৩২

আর ১৫ দিন পর বিদ্যুতের কষ্ট থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
৭ জুন, ২০২৩ ২০:৩২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৩ ২০:২৬

লোডশেডিংয়ে দেশের মানুষের কষ্ট হচ্ছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের কষ্টটা আমি উপলব্ধি করতে পারি। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। দুই-একদিনের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। আর ১৫ দিন পর কষ্ট আর থাকবে না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দুর্ভাগ্য যে অস্বাভাবিক গরম পড়েছে। বাংলাদেশে ৪১ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা হবে, তা আমরা ভাবতে পারি না। আর বৃষ্টি নেই। সেখানেও আরেকটা কষ্ট। এ কষ্টটা সবার হচ্ছে। তা আমরা জানি। তারপরও আমরা বারবার বসে এ কষ্টটা লাঘব করার চেষ্টা করছি।’

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সহিংসতা করলে আমেরিকা ভিসা দেবে না, দেশটির নতুন এ ভিসানীতির দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আন্দোলন করবে, সংগ্রাম করবে। আর আমাদেরকে উৎখাত করবে। একদিকে ভালো হয়েছে, সেটা হলো এখন যদি জ্বালাও-পোড়াও করে, অগ্নিসন্ত্রাস করে, মানুষ খুন করে তাহলে আমেরিকার ভিসা পাবে না। যাদের কথায় নাচে তারাই খাবে। আমাদের কিছু করা লাগবে না। ওইটা নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নাই।’

বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচির দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘তারা কিছু লোক জোগাড় করবে, বসে থাকবে, আন্দোলন করবে। আমি বলে দিয়েছি যত আন্দোলন করতে চাইবে করুক। আমরা কিছু করবো না।’

২০১৩, ১৪, ১৫ সালের মতো দলটি যেন আগুনসন্ত্রাস করতে না পারে সে দিকে নজর রাখার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের চোখ, ক্যামেরা সবসময় ঠিক রাখতে হবে। কারণ ওদের আবার ওই দোষ আছে তো। একটা উসকানি দিয়ে তারপর ছবি উঠিয়ে ওই বাইরের কাছে কাঁদতে থাকবে।’

বিএনপি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বাস করে কোথাও থেকে এসে নাগরদোলা চাপিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। কেউ দেবে না, ব্যবহার করে। ব্যবহার করবে, কিন্তু ক্ষমতা দেবে না, এটা হলো বাস্তবতা, বাস্তব কথা। ক্ষমতা একমাত্র জনগণই দিতে পারে। জনগণের সেই অধিকার, সচেতনতা আমরাই দিতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্রের কথা বলে, ভোটের অধিকারের কথা বলে। খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করেছিল। কত ভোট পড়েছিল? ২, ৩ শতাংশ ভোট পড়ে নাই। কিন্তু ঘোষণা দেয়া হলো সব ভোট নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার নিয়ে এখন সচেতন। সেই সচেতনতা আমরা সৃষ্টি করেছি। বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার কেউ যদি কেড়ে নেয়, মানুষ তাদের ছেড়ে দেয় না। খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করেছিল বলেই এই দেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছিল, আন্দোলন করেছিল। এর ফলে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। এই কথাটা সবার মনে রাখা উচিত।’

জনগণ ভোট দিতে পারলে আওয়ামী লীগ কোনোদিন পরাজিত হয়নি
২০০১ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছিল মন্তব্য করে দলটির সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে সবসময় জয়ী হয়েছে। জনগণ ভোট দিতে পারলে আওয়ামী লীগ কোনোদিন পরাজিত হয়নি। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটেই এসেছে। তার বাইরে কখনো ক্ষমতা দখল করেনি। আজকে তারা বলে ভোটারবিহীন। কে ভোটারবিহীন? ভোটারবিহীন তো ছিল খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান। ভোটারবিহীন ছিল এরশাদ। এটা তারা ভুলে গেছে?’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যে নির্বাচন (২০০৭ সালে ভোটগ্রহণের আগে বাতিল হওয়া নির্বাচন) ঘোষণা দিয়েছিল সেখানেও তাদের অনেককেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ ওই ভোট চুরি করা মানে নাই। আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, খালেদা জিয়ার পতন ঘটেছে। কাজেই দুই দুইবার ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়ার পতন ঘটেছে।’

বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা শুনলে মনে হাসি পায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওরা আবার গণতন্ত্রের কথা কয়। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করেছে আওয়ামী লীগ। শুধু গণতন্ত্র না, জনগণের ভোটের অধিকার সুরক্ষা করেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে এসেছে।’

বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের কারণে দেশে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা এসেছিল বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জরুরি অবস্থা এসে ভোটার তালিকা সংশোধন করেছে এটা ঠিক। আমাদের দাবিই ছিল এটা। স্বচ্ছ ব্যালট বক্স। এটাও আমাদের দাবি ছিল। নির্বাচন কমিশন যেন নিরপেক্ষ হয় এর জন্য আমরা আইন করে দিয়েছি। তার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নির্বাচিত হচ্ছে, আমরা সরকার করছি না। তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও আমরা দিয়েছি। যাতে জনগণের ভোটের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এই দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যাতে থাকে তার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগই করেছে। হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে আমরা সংবিধান সংশোধন করে গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত করেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে পারলেও দুর্ভাগ্য একদিকে করোনা ভাইরাসের তিনটা বছরে সবকিছুর চলাচল বন্ধ। অর্থনীতি স্থবির। উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এরপর এলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা পাল্টা নিষেধাজ্ঞায় প্রতিটি দ্রব্যের দাম বেড়ে গেল। প্রত্যেকটা দেশে মুদ্রাস্ফীতি।’

কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারব এটা জেনেই বাজেট দিয়েছি
বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যারা জ্ঞানী-গুণী আছেন বুদ্ধি বেচে জীবিকা নির্বাহ করেন যাহারা-বুদ্ধিজীবী। অনেক পড়াশোনা জানে এটা ঠিক। অনেক কিতাব পড়ে। ওই কিতাবই পড়েছে। আমি বিদ্যুৎ দিয়েছি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে তারা বক্তৃতা করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। সেটার সুযোগ নেয়। প্রাইভেট টেলিভিশন আওয়ামী লীগ দিয়েছে। সেই সুযোগ নিয়ে টকশো করে বলে দেবে- এই বাজেট আওয়ামী লীগ কোনোদিনই বাস্তবায়ন করতে পারবে না। আমি স্পষ্ট করতে চাই, কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারব এটা জেনেই বাজেট দিয়েছি।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সীমিত আয়ের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু লোক আছে সুযোগটা নেয়, মজুদ করে রাখে। পেঁয়াজ উৎপাদন যখন করেছি তখন দাম হু হু করে বেড়ে গেল। আমদানি করার কারণে ওমনিই দাম কমে গেছে। মজুতদাররা অপকর্ম না করলে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়েই আমাদের হতো। আমরাও জানি কখন কোন জবাবটা দিতে হয়, কখন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়।’


ফেনীতে তিন আসনেই বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে দিবাগত গভীর রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে ৫৬.৪১ শতাংশ, ফেনী-২ আসনে ৫১.৮৭ শতাংশ এবং ফেনী-৩ আসনে ৫৪.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ফেনী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট। ফেনী-২ আসনে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ইগল প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। এদিকে ফেনী-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট।

উল্লেখ্য যে, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটাররা সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটও দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ফেনী-১ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৯,৫৪৯ ও ‘না’ ৬০,০৫৮ ভোট; ফেনী-২ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৮,৭৩২ ও ‘না’ ৭২,৫৩৩ ভোট এবং ফেনী-৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৬১,৩২১ ও ‘না’ ১১৪ ভোট পড়েছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও নির্বাচনকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ফেনীর তিনটি আসনে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। এই নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনে সব মিলিয়ে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


জুলাই সনদে যা যা সই করেছি, সব পূরণ করবো: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ‘জাতীয় জুলাই সনদে’ বিএনপি যেসব অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, সরকার গঠনের পর তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়কালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকে ‘জনগণের ভালোবাসার বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের রাজনীতি করেছে এবং জনগণও ব্যালটের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিয়েছে। সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাস্তায় যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের সঙ্গে নিয়েই বিএনপি সরকার গঠন করবে। তিনি আরও জানান, দলের ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাবনাকে আরও বিস্তৃত করে জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

দেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক উত্থান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব সরাসরি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেন। তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখার ফলেই উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। বিরোধী দলকে কাজ করতে না দেওয়া এবং নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভোটের ফলাফলে জনগণ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু, সৎ ও কল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণ সব অপপ্রবণতা রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে।

বিজয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি নেতাকর্মীদের বেদনাহত করছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের আজীবন সংগ্রামী নেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, যা দলের জন্য অত্যন্ত বেদনার। তবুও তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বেসরকারি ফলে ৭ নারী প্রার্থীর বিশাল জয়

ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা অব্যাহত রয়েছে এবং শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ২৫৮টি আসনের বেসরকারি তথ্যানুযায়ী সাতজন নারী প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মোট ৮৫ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে এখন পর্যন্ত এই সাতজন জয়ের মালা পরেছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট। সিলেট-২ আসনে বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা) ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন, যা তার নিকটতম প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিবের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি। এছাড়া নাটোর-১ আসনে বিএনপির ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর–৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহমেদ নিজ নিজ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, যেখানে ৮৪ জন নারীর মধ্যে ৬৬ জন দলীয় ও ১৯ জন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েছেন এবং হিজড়া জনগোষ্ঠী থেকেও একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৭৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশই পেশাগতভাবে কর্মজীবী। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও সামগ্রিক বিচারে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সাফল্য এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


জামায়াতের উত্থানের পেছনে আওয়ামী লীগ দায়ী: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, দেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক উত্থানের একক দায়ভার আওয়ামী লীগের। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন এবং বিরোধী মতকে দমন করার ফলেই রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যখনই গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং মূলধারার রাজনৈতিক শক্তিকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়, তখনই উগ্রবাদী বা ভিন্নমতের শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন না দেওয়ার কারণেই জামায়াতের এই উত্থান ঘটেছে।

তবে বিএনপির মহাসচিব মনে করেন, ভোটের ফলাফলে জনগণ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছে এবং বিএনপি ইতোমধ্যেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল জুলাই সনদের বিষয়েও দলের অঙ্গীকার পুনর্ব ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর জুলাই সনদে যেসব প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সরকার গঠনের পর তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নাহিদ-হাসনাতসহ ৬ আসনে জয়ী এনসিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এখন পর্যন্ত ছয়টি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে অভিনন্দন জানানো হয়। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এই তালিকায় রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), সদস্য সচিব আখতার হোসেন (রংপুর-৪), দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪) এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬)। এছাড়াও কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং নারায়াণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আব্দুল্লাহ আল আমিন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ঘোষিত আসনগুলো ছাড়াও আরও একাধিক নির্বাচনী এলাকায় এনসিপি মনোনীত প্রার্থীরা জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন। এই অবস্থায় চূড়ান্ত ফলাফল হাতে না আসা পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নেতাকর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এদিকে, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সার্বিকভাবে উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু হলেও পরবর্তী পর্যায়ে অসাধু উপায়ে ফলাফলে কারচুপির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মূলত স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করার স্বার্থে এবং জনগণের রায় রক্ষা করতে এনসিপি নেতৃবৃন্দ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকার ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।


বিএনপি ও তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে এখন সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বিএনপির এই ঐতিহাসিক সাফল্যে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেন, "পাকিস্তান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ইসলামাবাদ নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।" এ সময় তিনি ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আরও বলেন, "আমি আশা করি ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ এই অঞ্চলজুড়ে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বাধীন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।"

তার এই বার্তা বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

এদিকে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থান নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।


ফেনী-১ খালেদা জিয়ার আসনে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে রফিকুল আলম মজনু বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন ফেনীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক। ১২১টি ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত গণনা শেষে বিএনপির এই প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট।

এ আসনে মোট ৩ লাখ ৮১ হাজার ১৬২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৯১ এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৯ জন। উল্লেখ্য যে, ফেনী-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিল, যেখান থেকে তিনি টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর এই আসনে রফিকুল আলম মজনুকে দলের পক্ষ থেকে মনোনীত করা হয়। এক শৌর্যপূর্ণ জয়ের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, "এই আসনটি বেগম খালেদা জিয়ার আমানত। তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।" একইসঙ্গে তিনি নির্বাচনে তাকে বিজয়ী করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সাধারণ ভোটার, সমর্থক ও নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।


ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাণীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর বনানীতে একটি ‘ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক’ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (বাওয়া) উদ্যোগে বনানীর কে ব্লকের ২৪ নম্বর (লেকপাড়) সড়কের ১৮ নম্বর ভবনে স্থাপিত এই ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাওয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান।

বাওয়া জানিয়েছে, দেশকে সব প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছে। প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ঢাকা শহরে আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের জরুরি সেবা দিতে বিনা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পরিচালনা করছে সংগঠনটি।

বাওয়ার নেতারা বলেন, নতুন এই ক্লিনিকের মাধ্যমে পথপ্রাণীসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আহত কিংবা অসুস্থ প্রাণীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে তাদের প্রাণহানি কমবে। একই সঙ্গে প্রাণী সুরক্ষায় মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। উদ্বোধন শেষে তারেক রহমান ক্লিনিকের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাওয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক প্রাণীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানে কাজ করবে।


 ‘টাকাকাণ্ডে’ জামায়াতের একাধিক নেতা আটক

* রাজধানীতে ভোট কিনতে গিয়ে জামায়াত নেতার কারাদণ্ড * ঠাকুরগাঁও জামায়াত আমির ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক * কুমিল্লায় ভোট কিনতে গিয়ে আটক জামায়াত নেতা   * শরীয়তপুরে ব্যাগভর্তি টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক, ২ বছরের কারাদণ্ড * সিরাজগঞ্জে ভোট কিনতে গিয়ে জনতার ধাওয়ায় পালালেন জামায়াত নেতা * ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের টাকা দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় * বগুড়ায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে আটক জামায়াতের কর্মী   
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভোটের আগের দিনও এই ‘টাকাকাণ্ড’ পিছু ছাড়েনি দলটিকে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নগদ টাকাসহ নেতাকর্মী আটকের ঘটনায় দেশবাপী সমালোচার মুখে পড়ে দলটি। এদিন ঢাকার সূত্রাপুরে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সময় থানা জামায়াতের নায়েবে আমিরকে আটক করেছে সাধারণ জনগণ। তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইদিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান আটক হন। কুমিল্লার মুরাদনগরে ভোট কিনতে গিয়ে টাকাসহ আটক হন জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালী। এছাড়া শরীয়তপুরের নড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ব্যাগভর্তি নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ গোলাম মোস্তফা নামে একজন জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে জামায়াতের এক নেতার টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া জামায়াত নেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গত শনিবার রাজধানীর মিরপুরে নির্বাচনী গণসংযোগের সময় পান বিক্রেতাকে ১ হাজার টাকার নোট গুঁজে দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ওই সময় শাহরিয়ার কবিরের হাতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের (ঢাকা-১৫ আসন) নির্বাচনী প্রচারপত্র ছিল।

ঢাকা: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সূত্রাপুরের ৪৪ নং ওয়ার্ড একটি চালের দোকানে থানা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. হাবিব ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দেন। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

নীলফামারী: সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তার ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন একটি তথ্য তারা জানতে পারেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করীম বুধবার বিকালে বলেন, জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন প্রধানের ব্যাগের টাকার পরিমাণ মোট ৭৪ লাখ।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

কুমিল্লা: ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে মুরাদনগরে জামায়াত নেতা হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নিয়ামতকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হেলালী ধামঘর গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে এবং উপজেলার সালিয়াকান্দি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতা হেলালী প্রাইভেট কারে করে নিয়ামতকান্দি গ্রামে যান। সেখানে তিনি কয়েকজন ভোটারকে টাকা দেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে।

খবর পেয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান ঘটনাস্থলে গিয়েয় অভিযুক্তকে বহনকারী প্রাইভেট কারটি জব্দ করেন। গাড়ির চালকসহ জামায়াত নেতাকে মুরাদনগর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: কামারখন্দের ঝাঐল ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান মোস্তাক সরকার; যিনি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর আমির। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবামাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা মোস্তাক সরকার একজনকে টাকা দিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে গিয়ে কিছু লোকজন তার ভিডিও করতে থাকে। তখন সেখানে একজনের হাতে টাকাও দেখা যায়। ভিডিও দেখে তিনি সেই টাকা হাতের মুঠো থেকে কোমরে গুজে ফেলেন।

এ সময় ওই জামায়াত নেতা দৌড়ে পালাতে থাকেন। স্থানীয়রাও তার পিছু ধাওয়া করেন। পেছন থেকে তাকে থামতে বললেও তিনি থামেননি।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, কামারখন্দে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জামায়াত নেতার দৌড় দিয়ে পালানোর ভিডিওটি দেখেছি। শুধু কামারখন্দে নয়, তারা বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের কাজ করছে।

শরীয়পুর: গতকাল বিকেলে নড়িয়া পৌরসভার বৈশাখীপাড়া ১নম্বর ওয়ার্ডের জলিল মাস্টারের বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছেন- এর ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এসময় বাড়ি থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, একটি ল্যাপটপ, কিছু খালি খাম এবং টাকা বিতরণ সম্পর্কিত কাগজপত্র উদ্ধার ও মাস্টার গোলাম মোস্তফাকে আটক করা হয়। তিনি জপসা ইউনিয়নের শহীদ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং রাজনগর এলাকার বাসিন্দা।

এই ঘটনায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর কে এম মকবুল হোসেন, জামায়াত নেতা মাহফুজ আলম ও হাসান আল মান্নানকে আটক করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া: নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে গত সোমবার টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগে জামায়াতের কর্মীদের আটকে রাখার পর বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, মধ্যরাতে গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে বেশ কিছু লোকের সমাগম দেখে সেখানে যান তারা। সেখানে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার সৈয়দপুর (নীলফামারী), মুরাদনগর (কুমিল্লা), নড়িয়া (শরীয়তপুর), কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ), নাটোর ও নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি।


অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে বুধবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে রওনা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান তুষার জানান, “জ্বর, ঠাণ্ডা এবং শ্বাসকষ্টের কারণে আজ বিকালে রহুল কবির রিজভীকে রাজধানী স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।” বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর সহকারী আরও জানিয়েছেন যে, “রিজভী সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন”।


ভোটকেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দুই জামায়াত এজেন্টকে সশ্রম কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার মীরপুর শহিদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ ও ভোটগ্রহণে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অপরাধে জামায়াতের ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের দুই এজেন্টকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— মেহেদি হাসান খাদেম (৩২) এবং রাইহান হোসেন (২৩)। সাজা প্রদানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

আদালতের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ওই দুই এজেন্ট কেন্দ্রের পোলিং অফিসার মোছা. সুমনা ইসলামের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই অপরাধে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৩(২)(বি)’ অনুযায়ী কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এদিকে নির্বাচনী দায়িত্বে চরম অবহেলা ও বিধি লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. সুমনা ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বহিষ্কৃত এই পোলিং অফিসার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী।


তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন চার প্রার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এই প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এস এম আবুল কালাম আজাদ, ডাব প্রতীকের শামীম আহমেদ, আনারস প্রতীকের মো. রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর হুমায়ুন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর প্রার্থীরা তাকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাকালে এস এম আবুল কালাম আজাদ ও শামীম আহমেদ সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজেদের অবস্থানের কথা জানান। অন্য দুই প্রার্থী মো. রাশেদুল হক ও মঞ্জুর হুমায়ুন মুঠোফোনের মাধ্যমে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন। মূলত দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলীয় সংহতির কথা বিবেচনা করেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


জামায়াত টাকা ছড়াচ্ছে, ইসিতে বিএনপির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে অর্থ বিলি করছে বলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য গিয়াসউদ্দিন রিমন। নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতার কাছে টাকা পাওয়াটা প্রশ্নবিদ্ধ। লক্ষ্মীপুরেও একই ঘটনা। বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের রিপোর্ট আছে। জামায়াতের নেতাদের টাকা ছড়ানোর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ রকম নিউজ ও ভিডিও ইসিতে জমা দিয়ে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জানা যায় যে, বুধবার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন পুলিশের হাতে আটক হন। বিমানবন্দর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশিকালে তাঁর ব্যাগ ও দেহে বড় অঙ্কের অর্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটককৃত নেতার ভাষ্যমতে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কিছুটা বেশি এবং তিনি দাবি করেন যে, ‘আমি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এই টাকা বহন করছিলাম। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।’ তিনি অর্থের বৈধ উৎস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই পুরো ঘটনাকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


banner close