উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন। রাজধানীসহ সারা দেশে কোথাও প্রকাশ্যে সমাবেশ করতে না পারলেও ঘরোয়া রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল দলটি। এক দশক পর এবার সরকারের অনুমতি নিয়ে রাজধানীর বুকে সমাবেশ করল জামায়াত। সমাবেশ থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদারের হুমকিও দিয়েছেন দলটির নেতারা। আর এ নিয়েই রাজনীতির অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রশ্ন উঠেছে সরকারবিরোধীদের মনেও।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, নিবন্ধন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতকে অপরাধী করা যায় না। উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত আদেশ আসার আগ পর্যন্ত দল হিসেবে জামায়াতকে সরকার কর্মসূচি করার অনুমতি দিতে পারে। পাশাপাশি সংঘর্ষ ও সহিংসতা এড়াতে জামায়াতকে সমাবেশে অনুমতি দেয়া হয়েছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দিতে হয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের।
জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ায় সন্দেহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটে। কেন জামায়াতকে রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে কারণ জানেন না জোট নেতারা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলছেন, দেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানপন্থার প্রত্যাবর্তনের পথকে সুগম করবে। সরকারের আইনমন্ত্রীর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া উচিত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি দিতে হবে খেসারত। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে এখনই এ বিষয়ে ভাবতে হবে বলেও মত ১৪-দলীয় জোট নেতাদের।
অন্যদিকে দীর্ঘ এক দশক পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া নিয়ে সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। তারা বলছেন, বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলনকে ‘জামায়াতি ব্র্যান্ডিং’ করে দেশি-বিদেশি পক্ষগুলোকে তুষ্ট করতে চায় সরকার। এই ঘটনা সরকারের অসংলগ্ন আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
বিএনপি মনে করছে, কোনো রাজনৈতিক দল ভালো কি মন্দ করল তার বিচার করবে জনগণ। বর্তমানে জামায়াত দেশের সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে বর্তমান সরকার। ফলে বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলন কেউ করলে তার বিরোধিতা বিএনপি করবে না। তবে জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি সরকারের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দৈনিক বাংলাকে বলেন, সমাবেশের অনুমতি দেয়ার ক্ষমতা সরকারের, ক্ষমতা তো বিএনপির হাতে নেই। অনুমতি দেয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে আমি মনে করি। কোনো রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে না দেয়া সংবিধানসম্মত নয়। সভা-সমাবেশ করা সাংবিধানিক অধিকার। কোনো দল ভালো করল কি মন্দ করল তার বিচার করবে জনগণ।
তিনি বলেন, জামায়াত বর্তমানে সমস্যা নয়। বর্তমানে সমস্যা এই অবৈধ সরকার। এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করবে আমরা তো তাদের বাধা দিতে পারি না।
জামায়াতকে সভা করার অনুমতির বিষয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সরকারের কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনৈতিক কারণে। এটি একটি পলিটিক্যাল ডিসিশন, এটি সময়ই আমাদের বলে দেবে। তারা রাজনৈতিক দল, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল সংবিধানের সঙ্গে তাদের গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক, গ্রহণযোগ্য না। তাদের তো অনেক জনসমর্থনও আছে। এ পরিস্থিতির আলোকে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। আপনারা একটু অপেক্ষা করেন, আরও দেখবেন কী হয়।
রাজধানীর রাজারবাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জামায়াতের সমাবেশ এটিই প্রথম নয়। তারা প্রায়ই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে কর্মসূচি পালন করে। সমাবেশ থেকে ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটায়। এবার তারা মাঠে সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু আমরা পারমিশন দিইনি। পরে তারা আবদ্ধ স্থানে অর্থাৎ ইনডোরে মিটিং করতে চেয়েছে। পরে মৌখিকভাবে কমিশনার তাদের অনুমতি দিয়েছেন। তার মানে এই নয় যে আমরা আমাদের নীতি থেকে সরে এসেছি।’
রাজধানীতে অন্য এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘জামায়াতকে দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে বিচার করার জন্য আইন সংশোধন করার কথা আমি আগে বলেছি, সেই প্রক্রিয়া চলমান। সংশোধনের জন্য যে আইন, সেটি কেবিনেটে কিছু দিনের মধ্যে যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই (সমাবেশের) অনুমতি দিয়ে থাকে। ওনারা কী বিবেচনায় দিয়েছেন আমার মনে হয় যে, এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে আপনারা যদি প্রশ্ন করেন সেটি বেটার হবে।’
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি সাংঘর্ষিক, তার কারণ হচ্ছে, বিচার করার পরে যতক্ষণ পর্যন্ত রায় না হয়, দোষী সাব্যস্ত না করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তো আমি বলতে পারব না যে জামায়াত দোষী। বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং বিচারের প্রক্রিয়ায় আমি আজকেই বলব না যে কী হবে। অবশ্যই বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে এই কারণে যে, আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে বিচার করেছি সেখান থেকে যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, দেখা গেছে যে জামায়তকে দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে বিচার করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত আছে; কিন্তু বিচার করার পরেই বলা যাবে তারা দোষী কি না। সে জন্য আমি মনে করি না এটি সাংঘর্ষিক।’
রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জামায়াত এখনো যেহেতু নিষিদ্ধ হয়নি, রাজনৈতিক দল হিসেবে আবেদন করেছে, সে জন্য তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে গতকাল তাদের সমাবেশ থেকে আস্ফালন করে যেভাবে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, এগুলো আসলে বিএনপিরই বক্তব্য। ২০১৪ সালে তারা যেভাবে নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে শত শত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিল, সেটিরই ইঙ্গিত তারা দিয়েছে। বিএনপি জোটের প্রধান শরিক জামায়াতকে দিয়ে তারা এই কথাগুলো বলিয়েছে। তাদের সুযোগ দিলে তারা কী করতে পারে, সেটি তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত অভিন্ন। সরকার মূলত জামায়াতের সহিংস রূপটা জনসমক্ষে ও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাইছে। সেই সঙ্গে যদি বিএনপিও সহিংস হয়ে ওঠে তাহলে তারা আবারও পরাজিত হবে। আমরা যেহেতু সরকারে আছি, আমরা তো নির্বাচন করার পক্ষেই থাকব। যারা বিরোধিতা করবে তাদের কৌশল মোকাবিলায় আমরা পাল্টা কৌশল গ্রহণ করব- এটিই স্বাভাবিক।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, অনুমতি দেয়ার মূল কারণটি হচ্ছে গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচন সামনে। প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক ধারা বা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যারা বিশ্বাস করে, সবাইকে অনুমতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতকেও অনুমতি দেয়া হয়েছে। সরকার যখন জামায়াতকে অনুমতি দিয়েছে, তখন অনেকে সমালোচনা করেছে। এই কথা বলেছে যে, সরকার নিশ্চিত জামায়াতের সঙ্গে কোনো আঁতাত করে জামায়াতকে অনুমতি দিয়েছে। এই কথাটা কিছু দুষ্টু লোক বাজারে ছড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই জামায়াত আমাদের সব থেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী- এইটা ঠিক। কিন্তু গতকাল জামায়াতের এত বড় সমাবেশ থেকে প্রমাণ হয়েছে জামায়াত-বিএনপি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জামায়াতকে বিএনপির থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। জামায়াত যে হুংকার দিয়েছে গতকাল এতে সরকারের বোধগম্য হয়েছে যে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো দূরত্ব নেই। তারা আসলে এক এবং অভিন্ন। আগামী দিনে যে পদ্ধতি অবলম্বন করবে বিএনপি, জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই করবে। এই সতর্কতা গতকালকের সমাবেশ থেকে সরকারের অভিজ্ঞতা হলো বলে আমি মনে করি। এরপর দেখেন কী হয়।’
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা আমাদের কেন জিজ্ঞেস করছেন? আইনমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন। আইনমন্ত্রী বারবার করে বলেছেন যে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি আছে, সেটা নিয়ে সরকার কাজ করছে। তাই যদি হয়, তাহলে জামায়াত কেমন করে প্রকাশ্যে সমাবেশ করে এবং সেই সমাবেশে বিএনপির মতো একই ধরনের উচ্চারণ করে এটা কীভাবে হয় আমি জানি না।’ তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে যতই সমঝোতার চেষ্টা করা হোক, এটা সাপের মুখে চুমু দেয়ার শামিল হবে।
১৪-দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী আপাদমস্তক অর্থাৎ নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী একটি দল। সুতরাং তার নিবন্ধন যখন বাতিল হয়ে গেছে, উচ্চ আদালতে যেহেতু একটা মামলা আছে দল নিষিদ্ধ করার, সেখানে জামায়াতকে সভা করার অনুমতি দেয়াটা আমরা সঠিক মনে করছি না।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার পাকিস্তানপন্থার আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের রাস্তা পরিষ্কার করবে।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, সরকার যা করেছে সেটি আত্মঘাতী।
তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী দৈনিক বাংলাকে বলেন, এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জঙ্গিবাদের উত্থান নতুন করে ঘটবে। যেখানে নিবন্ধন নেই ওদের, নিবন্ধনবিহীন দল জামায়াতের প্যাডে কীভাবে তারা অনুমতি পায়? আজকে হোক, কালকে হোক এর খেসারত সরকারকে দিতে হবে। এর জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যারা আছে, তাদের এখনই চিন্তা করার সময়।
এই বিশেষ মুহূর্তে অনুমতি দেয়ার পেছনে অবশ্যই কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন ১৪-দলীয় জোটের একজন নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা সরকার বলবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যাখ্যা দেয়া উচিত। যতই বলুক যে বিএনপি ওদেরকে (জামায়াত) নামাইছে, ঠিক আছে ওদেরকে নামাইছে। তুমি (সরকার) তো অনুমতি দিয়েছ। সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।’
জামায়াত নিয়ে সরকারের ভেতরে অস্থিরতা আছে বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ব্যাপারটা বিস্ময়কর। সরকার এতটাই দ্বিধান্বিত যে, কী করবে বুঝতেই পারছে না। কারণ জামায়াতের লোকজন যখন অনুমতি চাইতে গেছে, তখন তাদের গ্রেপ্তার করা হলো। আবার দেড় ঘণ্টার মধ্যে ছেড়েও দিয়েছে। পরে সমাবেশের অনুমতিও দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এর চাইতে সরকারের অস্থিরতা বেশি কী দেখবেন? রাজনৈতিকভাবে তারা একটা সমস্যাও মোকাবিলা করতে পারেনি। তারা আবার গায়ের জোরে নির্বাচন করতে চায়।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘গণতন্ত্র মঞ্চ সে রকম লড়াই করতে চায়, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে। এটাকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ করা হবে না। জামায়াতকে তারা এতদিন কেন অনুমতি দেয়নি? এই প্রশ্নগুলো মানুষের মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এর উত্তর চাই।’
জামায়াতকে সমাবেশ করার অনুমতির বিষয়টি সরকারের অসংলগ্ন আচরণ বলে মনে করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক বললেন, বিএনপির উসকানি ও মদদ পেয়ে জামায়াত সমাবেশ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- আপনি তাদের ১০ বছর পর অনুমতি (সমাবেশ) দিয়েছেন, আবার বলছেন বিএনপি তাকে উসকানি দিয়ে রাজপথে নামাচ্ছে। সরকার যে অসংলগ্ন আচরণ করছে, নানা বিষয়ে সরকারের যে অস্বস্তি, এটা তার বহিঃপ্রকাশ।’
সরকার যেকোনো চলমান আন্দোলনকে ‘জামায়াতি ব্র্যান্ডিং’ করছে বলে মনে করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটা হলো, ১৫ বছর ধরে আমরা সরকারের একটি রাজনৈতিক অবস্থান দেখছি পাচ্ছি। সেটি হলো জামায়াতকে তাদের শত্রু বলে চিহ্নিত করে আসছে। তারা যেকোনো আন্দোলনকে জামায়াতি নাম দিয়ে ব্র্যান্ডিং করেছে।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের আন্দোলন হচ্ছে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আন্দোলন, সংবিধান সংস্কার করার আন্দোলন। সেই আন্দোলনকে আবারও জামায়াতি ব্র্যান্ডিং দেয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে, যেটা আজকের সংবাদমাধ্যমে এসেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জামায়াতকে অগ্নিসন্ত্রাসের জন্য নামানো হয়েছে। এর মানে বিরোধী দলের পুরো আন্দোলনকে আবারও জামায়াতের ব্র্যান্ডিং করে, সন্ত্রাসের ব্যান্ডিং করে সরকার তার দেশি এবং বিদেশি পক্ষগুলোকে তুষ্ট করতে চাচ্ছে।’
সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পুনর্গঠিত এই কমিটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবিনকে সদস্যসচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ঘোষিত এই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আ ন ম সাইফুল ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা সঞ্চার এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত রাখার উদ্দেশ্যেই নতুন করে এই আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার সম্ভাবনা জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতার লোভের কারণেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘সীরাত গবেষক সংবর্ধনা ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ইসলামী দলগুলোকে, বিশেষ করে কওমি ঘরানার দলগুলোকে এক মঞ্চে আনার আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীসহ আরো কয়েকটি দলও যুক্ত ছিল।
জামায়াতের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে এমনটি বুঝতে পেরেই জামায়াত দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসলামি দলগুলোর মধ্যকার সেই ঐক্যের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা গেলেই কেবল দেশে প্রকৃত শান্তি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। অথচ গত ৫৫ বছর ধরে যে নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হতে দেখা গেছে, সেই একই পুরোনো নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা করা সম্পূর্ণ অমূলক ও অযৌক্তিক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে পীর সাহেব চরমোনাই পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের মানুষকে সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তি দিতে হলে ইসলামের সুমহান নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের আর কোনো বিকল্প নেই।
চাঁদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদসহ ৬২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ নভেম্বর) জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এ ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় পুরানবাজারের দক্ষিণ শ্রীরামদী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাদিরা নূর বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আরও ৬১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঁদপুর সদর মডেল থানা থেকে ৩১ জন, ফরিদগঞ্জ থানা থেকে ৬ জন, শাহরাস্তি থানা থেকে ৬ জন, হাজীগঞ্জ থানা থেকে ৭ জন এবং মতলব উত্তর থানা থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা ও ১৬৬টি ইয়াবাসহ ১২ চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘কোনও ডিসেম্বরেই “আপা” দেশে আসার সুযোগ নেই। এলেও তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে।’
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত নবীনবরণ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনও ঘুমিয়ে পড়েনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঘুমিয়ে পড়েনি। আপনাদের সেটার প্রমাণ দিতে হবে। আপনারা শুধু নোয়াখালী বিভাগ চাই বলে আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ নিয়ে ভাববেন, পুরো বিশ্ব নিয়ে ভাববেন- এর নামই বিশ্ববিদ্যালয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বে কোথায় কী চিন্তা হচ্ছে, কী ঘটছে- একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে সেসব বিষয়ে জানতে হবে। গ্লোবাল মার্কেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। চাকরির বাজার শুধু দেশে নয়, পুরো বিশ্বে নিজেকে কোথায় প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।’
৭ নভেম্বর প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘৭ নভেম্বরকে আমরা ধারণ করি। ৭ নভেম্বর বিপ্লব, কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়? বর্তমান সরকার যা তাদের পক্ষে যায়, সেটাকে বিপ্লব বলে, আর যা তাদের পক্ষে যায় না কিংবা যেখানে তাদের নেতৃত্ব ছিল না, সেটাকে বিপ্লব না বলে কেবল আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দেয়।’
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আমরা ৭ নভেম্বরকেও বিপ্লব মনে করি, আবার জুলাই বিপ্লবকেও বিপ্লব মনে করি, ঠিক কি না বলেন?’
আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে কারও ফিরে আসার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বর মাসে নাকি কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন, আপনারা কি জানেন? আমরা কি প্রস্তুত আছি? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবার কি আছি? এবার প্রতিরোধ আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?’
বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি, আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা ওসমান হাদির ভাষায় বলেছিলাম- শত্রুর প্রতিও আমরা ইনসাফ করবো, ন্যায়বিচার করবো। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনও বিচার পাইনি। ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি, জুলাইয়ের শহীদ ভাইবোনদের হত্যার বিচার পাইনি। জনগণ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে এক বিবৃতিতে দলটি এই আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান। এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। তার স্মৃতির প্রতি এনসিপি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিকাশ ও এ দেশের জনগণের আত্মত্যাগকে বারবার আঞ্চলিক পরাশক্তি আত্মসাৎ করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অকুতোভয় জনগণ কখনো সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান, কখনো জুলাই বিপ্লবের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়ে আধিপত্য ও দাসত্বের জিঞ্জির নস্যাৎ করে দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামরিক শাসকদের মধ্যে বিরলতম ব্যক্তিত্ব জিয়াউর রহমান যিনি সামরিক পটভূমি থেকে উঠে এসে একদলীয় বাকশালী রাজনীতি বাতিল করে দেশে বহুদলীয় রাজনীতি পুনঃস্থাপন করেছেন।
এনসিপি জানান, জিয়াউর রহমান বাকশালি কাঠামোর মধ্যে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী করে গণতন্ত্র প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন। এই গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট কাঠামো সুযোগ পাওয়া মাত্রই সেই পঞ্চম সংশোধনীকে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ইতিহাসে থেকে কোনো ঐতিহাসিক, রাষ্ট্রনৈতিক কিংবা সাংবিধানিক শিক্ষা নেয়নি। তারা জুলাই সনদের মতো সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনকে আবারও অষ্টাদশ সংশোধনীর মধ্যে সংকুচিত করতে চাচ্ছে যা ভবিষ্যতে যেকোনো সময় আদালত বা পরবর্তী সংসদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিএনপির কাছে আহ্বান, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষুদ্র খোপে আঁটানোর অপচেষ্টা থেকে সরে আসুন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের গণভোটের গণরায়কে সম্মান করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। জুলাই বিপ্লবের বদৌলতে প্রাপ্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে গণরায় অস্বীকার করলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় একদিন দাঁড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ‘জামায়াতের নেতারা একের পর এক নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন। সাতক্ষীরার গাজী নজরুলের ঘটনা এখনো আলোচিত। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ার এমপি জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার অডিও রেকর্ড আমার কাছে এসেছে। আমি সেটির ফ্যাক্ট চেক করে সত্যতাও পেয়েছি।’ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশলবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের হাতে দেশের নারীরা নিরাপদ নয়। এসব ঘটনা বারবার সামনে এলেও জামায়াত তাদের এসব এমপিদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এভাবে আদর্শের বাইরে গিয়ে চলতে থাকলে জামায়াত ধ্বংস হয়ে যাবে।
জামায়াত ও এনসিপির আদর্শ তেল ও জলের মতো উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এটা কখনো একটার সঙ্গে আরেকটা মিশে না। তারা একসঙ্গে রাজনীতিও করতে পারে না। এটা তাদের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে মেলে না।’
এনসিপি ও জামায়াতের সম্পর্ক টিকবে না দাবি করে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এনসিপি নতুন দল হিসেবে সংসদীয় রাজনীতি করার জন্য জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়েছিল। সেই সময় ডা. তাসনিম জারার মতো তরুণ নেতৃত্বরা এনসিপি থেকে বের হয়ে যান। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট তরুণ নেতৃত্বরা মেনে নিতে পারেনি। এখন আবার সামান্তা শারমিন এনসিপি থেকে বের হয়ে গেলেন। এনসিপি যদি জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে না আসে, তাহলে সামান্তা শারমিনদের মতো যারা গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব আছেন, তারা এভাবেই এনসিপি থেকে দিনে দিনে বের হয়ে আসবে। নাহিদ ইসলামকে বলব, জামায়াত থেকে বের হয়ে রাজনীতি করুন।’
এর আগে ঢাকা থেকে সকালে ঝিনাইদহে এসে পৌঁছান রাশেদ খাঁন। পরে শহরের পাগলাকানাই মোড়ে সায়াদাতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম ওয়াজেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহিদ জোয়ার্দ্দার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় উগ্রবাদ সৃষ্টি করে জামায়াত ইসলামী নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায় উল্লেখ করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, তাদের দমন করতে না পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
নুর অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী তরুণদের ওপর ভর করে বিজেপির মতো পদ্ধতিতে দেশকে উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
তিনি জামায়াতের কোল থেকে নেমে প্রগতিশীল রাজনীতি করতে এনসিপিকে পরামর্শ দেন। জুলাই-পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারে থাকলেও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে পিছপা হবেন না। তিনি আরও জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ এককভাবে অংশ নেবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের’ চেষ্টা করলে কেউই লাভবান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্যই এসব করা হচ্ছে। পলাতক শক্তিও আত্মগোপনে থেকে নানা কাজ করছে।’ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি বিরোধী দলের সংহতি প্রকাশের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাদের গোপন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন রিজভী। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দলীয় কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীসহ সারা দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে শোভাযাত্রা (র্যালি) হবে। সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তার দাবি, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এসব ঘটনায় উসকানি দিয়ে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকরাও এই অরাজকতার সঙ্গে জড়িত।’ প্রতিবেশী দেশ থেকেও উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়াামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সংক্ষিপ্ত সফরে উপজেলা কেন্দ্রীয়া জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়া শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শেখ হাসিনা দেশের কোনো কাজই করে নাই। শুধু ব্রিজ আর ফ্লাইওভার করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকের টাকা খালি করে দিয়েছে । বলছে নিজস্ব টাকা দিয়ে করছে। ঢাকা থেকে ময়ামনসিংহ বিদ্যুৎ লাইন এটাও করে নাই। আমরা এসে ১০ মাসে করলাম এখন ময়ামনসিংহে লোডশেডিং কমে গেছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ভোটেইতো আমরা নির্বাচিত হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। এখন এই যে সরকার আপনারা বসাইছেন, এ সরকার তো আপনাদের সরকার। কড্ডা থেকে জামতৈল পর্যন্ত রাস্তাটি প্রশস্ত করা হবে এটা টেন্ডার হয়ে গেছে টেন্ডার ড্রপ হলেই দ্রুত কাজ শুরু হয়ে যাবে।
জ্বালানি তেলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনাদেরকে বুঝতে হবে আজকে দেশের কি পরিস্থিতি। যে জায়াগা থেকে জ্বালানি নিয়ে আসে তেল-গ্যাস পেট্রোল যেখান থেকে আসে সেখানে যুদ্ধ লিপ্ত হয়েছে। ফলে সারা বিশ্বে আজকে জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে এই জ্বালানি ক্রাইসিস এর মধ্যেও আমরা দেশের যাতে বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ ঠিক থাকে আমরা বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা এভাবে যদি দিতে থাকি তাহলে যে সামাজিক প্রকল্পগুলো আছে যেমন রাস্তাঘাট করা, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়াা স্কুল উন্নত করা, টাকা যদি আমরা সব এখানে খরচ করি তাহলে এই যে কাজগুলো কিভাবে হবে, আপনার যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি কিভাবে পার করব।
বিদ্যুতের বিষয়ে টুকু আরো বলেন, আমরা একটা সহজ পদ্ধতি পেয়েছি আল্লাহর দেওয়া সূর্য। সে সূর্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করব। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সোলার বসান। বিদ্যুতের বিলও কম থাকবে প্রিপেইড মিটার নিয়ে জ্ঞান জ্ঞান করা লাগবে না। কিছুই করা লাগবেনা। আপনার বিদ্যুৎ আপনি উৎপাদন করবেন আপনি ব্যবহার করবেন তার জন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।
নারী অধিকার ও দলীয় গণতন্ত্র, জামায়াতের সঙ্গে জোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেছেন তবে এটি দলকে খুব বেশি বেকায়দায় ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেছেন, পদত্যাগের আগে দীর্ঘ সময় ধরে সামান্তা দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। তার পদত্যাগ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের পেছনে প্রধান চারটি কারণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ১১ মাস ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।
সামান্তা বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল। শাসক পরিবর্তনের বদলে শাসনকাঠামোর পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুরোনো রাজনৈতিক পক্ষগুলো এক হয়ে নির্বাচনকে আবারও ক্ষমতা বদলের নির্বাচনে পরিণত করার চেষ্টা করেছে।’
তার মতে, এনসিপি জোট গঠনের মধ্যদিয়ে সেই প্রচেষ্টার অংশ হয়েছে। পদত্যাগের বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘নির্বাচনের সময় জোট গঠনের সিদ্ধান্তে সামান্তার দ্বিমত ছিল। তবে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তিনি দলে ছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে।’ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই দলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তুষার আরও বলেন, ‘সামান্তা ও রাজনৈতিক পরিষদের কয়েকজন সদস্য দল পুনর্গঠনের সময় পরিষদে থাকতে চাননি।’ পুনর্গঠনের পর তিনি দলীয় সভায় অংশ নেননি বা বক্তব্য দেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সামান্তা ব্যক্তিগতভাবে দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে তাতে সমর্থন পাননি।
তুষার আরও বলেন, ‘নতুন পুনর্গঠন কমিটি গঠনের সময় সামান্তাকে আবারও দলে থাকতে চান কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি আপত্তি জানাননি। এখন পদত্যাগ করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এ সিদ্ধান্ত ঠেকানোর কিছু নেই।’
উল্লেখ্য, এনসিপির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন সামান্তা শারমিন। গত ২৩ অক্টোবর কমিটি পুনর্গঠনের পর তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে মানুষের আয় সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে অবিলম্বে বাজারে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজধানীর উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মিছিলে শত শত নারী হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা রাজপথে নেমেছেন। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি ন্যায্য। তাদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ করতে হবে। যথাসময়ে বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ন্যায্য আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় অগ্নিসংযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন স্বার্থ হাসিলের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত ও আতাউর রহমান সরকার। এ সময় জামাল উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি বাড্ডার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিলটি বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম এমপি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে এ মুহূর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করছে এনসিপি।’ নাহিদ ইসলাম এমপি আরও বলেন, ‘বিএনপি সারা দেশে দমন নিপীড়ন চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’
গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে দমন নিপীড়নের মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলন দমানো যাবে না। পুলিশ শ্রমিক কলোনিতে গিয়ে শ্রমিকদের ধরপাকড় করছে গ্রেপ্তার করছে নির্যাতন চালাচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনকে দমাতে বিএনপি তাদের গুণ্ডাবাহিনী মাঠে নামিয়েছে। একই কায়দায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দেশের সহিংসতা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে বিএনপিও দমন নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।’
বিএনপি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণেও ব্যর্থ হয়েছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি একক প্রার্থী দেবে বলে জানান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম এমপি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্ত শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
লিখিত পোস্টে তিনি জানান, দীর্ঘ ১১ মাস ধরে দলের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রাম ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরও এনসিপি তার প্রারম্ভিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক ধারা থেকে সরে আসায় তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, সংস্কারের প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনকে তিনি দলের অন্যতম প্রধান বিচ্যুতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংস্কারের প্রকৃত পরিপন্থী এবং তাদের সঙ্গে জোট করার কারণে এনসিপি উদার গণতান্ত্রিক জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি পরিবর্তনকামী রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ না দিয়ে বড় দলের লেজুড়বৃত্তি করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলটি অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা, আত্মত্যাগ ও সম্মুখসারির লড়াইয়ের স্বীকৃতি না দিয়ে, বরং দলীয় কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ন্যায্য হিস্যা ও মর্যাদা অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে এনসিপি একটি নারীবিরোধী ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চতুর্থত, নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন না করে এবং পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটি পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা এড়িয়ে চলার পথ বেছে নিয়েছে।
বর্তমান বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তোলার নতুন প্রচেষ্টায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সামান্ত শারমিন।