বিএনপি ও অ্যামিবার মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘অ্যামিবা মাঝে-মধ্যে নিজেকে দ্বিখণ্ডিত করে বাড়ে, সুতরাং বিএনপি আর অ্যামিবার মধ্যে প্রচুর মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ১২ দল আর ৩৬ দলের নাম যদি মির্জা ফখরুল সাহেব মুখস্ত বলতে পারেন আমি উনাকে ধন্যবাদ জানাবো।’
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখন বিএনপির জোটে কত দল সেটা নিয়ে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা মাস্টার্সে অন্তত থিসিস হতে পারে। কারণ তারা কোনো সময় বলে ৩৬ দল, কোনো সময় ৫২ দল, কালকে মিটিং করলো ১২ দল। আবার মির্জা ফখরুল সাহেব কয়েকদিন আগে বলেছেন- আমরা যে জোটটা করেছিলাম সেটা ভেঙে দিয়েছি এখন আবার দেখা যাচ্ছে ১২ দলের সঙ্গে মিটিং করছে।’
সম্প্রতি বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের কাছে গিয়ে বারবার ধর্ণা দেয় তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেছেন- হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও এগুলো করা যাবে না। এগুলো গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করে। তারা যে ক্রমাগতভাবে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করেছে সেই কথাটিই ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে। এটি বিএনপির অপরাজনীতির ওপর বিরাট চপেটাঘাত।’
ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে যেভাবে নির্বিচারে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছে, এর তীব্র নিন্দা জানাই। পৃথিবীর মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশে পান থেকে চুন খসলে বিবৃতি দেয় বা অনেক ক্ষেত্রে বিবৃতি বিক্রি করে আর এই ক্ষেত্রে তারা নিশ্চুপ।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আর যে সমস্ত দেশ মানবাধিকার নিয়ে নানা দেশকে পরামর্শ দেয়, তাদেরও কোনো বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা খুবই দুঃখজনক। ফিলিস্তিনে যখন শিশুরা পাথর ছোড়ে সেটির প্রত্যুত্তরে ইসরাইলি বাহিনী বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়ে, নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে যা অত্যন্ত দুঃখের ও নিন্দাজনক। তবে যারা পৃথিবীতে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে তাদের নীরবতা আরও বেশি দুঃখজনক।’
তথ্যমন্ত্রী ও সরকারকে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের ধন্যবাদ
দেশে চলচ্চিত্র শিল্পের পুণরুত্থানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ, মহাসচিব শাহিন সুমন, সাংস্কৃতিক সচিব শাহিন কবির টুটুল, চলচ্চিত্রগ্রাহক সংস্থার সভাপতি আব্দুল লতিফ বাচ্চু, চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস, সদস্য ইউনুস রুবেল, সম্মিলিত চলচ্চিত্র পরিষদের সদস্য সচিব শাহ আলম কিরণ, এডিটরস গিল্ড সভাপতি আবু মুসা দেবু, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, প্রযোজক অপূর্ব রানা চলচ্চিত্র জগতের ঘুড়ে দাঁড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
চলচ্চিত্র পরিষদ নেতারা তাদের বক্তৃতায় বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আটটি এবং ঈদুল আজহার সময় পাঁচটি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র সারাদেশে দর্শকদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক সিনেমা হল খুলেছে। সরকার সিনেমা হল নির্মাণ ও সংস্কারে এক হাজার কোটি টাকার সহজ ঋণ তহবিল দিয়েছে, বাণিজ্যিক সিনেমায় অনুদান দিচ্ছে। এ সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল। এ জন্য আমরা মন্ত্রী ও সরকারকে কৃতজ্ঞচিত্তে ধন্যবাদ জানাই।’
কাজী হায়াৎ তথ্যমন্ত্রীকে ‘চলচ্চিত্রের বন্ধু’ আখ্যা দেন। সুদীপ্ত দাস সহজ ঋণে দেশব্যাপী সিনেমা হল গড়ে তুলতে অব্যাহত প্রচেষ্টার অঙ্গীকার করেন। ইলিয়াস কাঞ্চন ভালো কনটেন্ট নির্মাণের ও শাহিন সুমন বাণিজ্যিক সিনেমায় অনুদান বৃদ্ধির আহবান জানান। আবু মুসা দেবু তথ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সিনেমা হল রাখার অনুরোধ জানান।
চলচ্চিত্র পরিষদের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভালো কাজের প্রশংসা হলে অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। আমাদের দেশে ভালো কাজের প্রশংসা তেমন হয় না, কোনো ভুল হলে সেটি নিয়েই মাতামাতি হয়।’
তিনি বলেন, ‘বুধবার প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি, সিনেমা হলের সংখ্যা একশ’র নিচে নেমেছিলো, এখন বেড়ে এক পর্দার সিনেমা হল আর সিনেপ্লেক্স মিলে প্রায় দুইশ’ হল চলছে। শুনে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্রের বড় সুহৃদ।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে শুধু সরকারের সহযোগিতাই কাজ করেছে তা নয়, চলচ্চিত্র জগতের সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই শিল্পের সাথে থাকা, শিল্পকে ধরে রাখা, সিনেমা বানানো এবং লোকসান দিয়েও হল বন্ধ করে না দেওয়া এগুলো নিশ্চিতভাবে কাজ করেছে। আমাদের পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলীরা বিশ্বমানের, অনেক আন্তর্জাতিক উৎসবে তারা পুরস্কৃত হয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্বাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট জালিয়াতি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই নির্বাচনী আসনের ফলাফল বাতিল ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে আবেদনটি জমা দেন এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এই অভিযোগপত্রটি গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) লিখেছিলেন পাটওয়ারী।
আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্দিষ্টভাবে ১২টি ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো নানা অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন।
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার দাবি, সুপরিকল্পিত কারচুপি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে জয়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনটি শুরু থেকেই সবার নজরে ছিল। নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। এই ফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এখন আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ে নেমেছে এনসিপি।
মাগুরায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মাগুরা–১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ মনোয়ার হোসেন খান। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে তিনি ছড়িয়ে দিলেন সম্প্রীতির বার্তা।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানসহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়করা। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাগুরা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পরাজিত প্রার্থী অধ্যাপক এম বি বাকের এবং মাগুরা-১ আসনের পরাজিত প্রার্থী সাবেক জেলা আমীর আব্দুল মতিন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মিষ্টিমুখ করান। অপরদিকে পরাজিত দুই প্রার্থী ফুল দিয়ে তাকে বরণ করেন। পুরো পরিবেশ জুড়ে ছিল আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আবহ।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আখতার হোসেন, খান হাসান ইমাম সুজা, আলমগীর হোসেন, আমিনুর রহমান পিকুল, কুতুব উদ্দিন সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচন প্রতিযোগিতার বিষয়, কিন্তু উন্নয়ন সবার। আগামী দিনে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও আধুনিক মাগুরা গড়তে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পরাজিত প্রার্থীরাও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য কালে মাগুরার উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও সৌজন্যের এই দৃশ্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন।
সেসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ তহিদুর রহমান খান শামীম চৌধুরী, একে আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান বিপ্লব রহিম, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ ফজলে রাব্বী তোহা, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, ইয়াছিন আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলেকজান্ডার, সাধারণ সম্পাদক কেএম শফিউল আলম সুমন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক বাচ্চু, বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, নন্দীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল, ভাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, বগুড়া জেলা জিসাসের সাধারণ সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ইস্কান্দার মির্জা মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, পৌর কৃষকদলের সভাপতি সুশান্ত কুমার সরকার শান্ত, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিলন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মজনু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাহীন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক রঙ্গিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান মুসা, কোরবান আলী, পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক রাজু আহমেদ, সদস্য সচিব সিয়ামুল হক রাব্বী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান পলিন ও সাধারণ সম্পাদক নূরনবীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের বাসভবনে পৌঁছান। বাসভবনে পৌঁছালে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন এবং তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এই বিশেষ সাক্ষাতে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতের পক্ষ থেকে আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
উল্লেখ্য যে, এই সাক্ষাতের ঠিক আগের দিন শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি বলেন, “সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি আগামীদিনে দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা চাই।” মূলত জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার পরদিন জামায়াত আমিরের বাসায় তার এই সফর রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
গাজীপুর-১, আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা দলের সাথে বেঈমানি করে দাঁড়িপাল্লার জন্য টাকা বিলিয়েছেন। দাঁড়িপাল্লার জন্য কাজ করেছেন। তাদেরকে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক আদালতে বিচার করা হবে। তিনি আরও বলেন শুধু বিচার করলে হবে না। তাদের দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। তিনি গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর বাস-টার্মিনাল এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-১,আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ের পরে বিজয় মঞ্চে এসব কথা বলেন। পরে বিজয়ী প্রার্থীকে হাজার হাজার নেতা কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা গণসংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানের সভাপতিত্বে বিজয়ী মঞ্চে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়্যেদুল আলম বাবুল, গাজীপুর-১ আসনে বিজয়ী প্রার্থী মজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি হেলাল, বিএনপি উপজেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ, দেওয়ান মোয়াজ্জেম হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানসহ আরও অনেকেই।
বিজয় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর-রশিদ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ বিএনপির সর্বস্তরের নেতা কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিজয় মঞ্চের সকল বক্তব্যরাসহ নেতা কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করায় গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী ও চাপাইর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এইচএম শওকত ইমরানকে অতি-শীঘ্রই দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী কড়িহাতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পাকিয়াব গ্রামের অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোবারক হোসেনের বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খোঁজখবর নিতে আসেন গাজীপুর জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহ রিয়াজুর হান্নান।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সবার কথা শুনেন এবং সবাইকে আন্তরিক ভাবে শান্তনা দেন। পাশাপাশি দোষীদের ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহার এবং যে কোনো উস্কানিতে যথেষ্ট ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে সবাইকে সতর্ক করে দেন।
এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কড়িহাতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ লুতফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম মোল্লা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন প্রমুখ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশটাতো সংসদ থেকেই পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ। সংসদে একটা দল সরকারি দল হিসেবে আরেকটা বিরোধী দল হিসেবে থাকবে। সমাজে এক চাকায় কোনো গাড়ি চলে না মিনিমাম দুই চাকা লাগে। সরকারি দল যদি ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনা করে আমাদের সহযোগীতা থাকবে। জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমরাতো জনগণের পক্ষে অবস্থান নিব। এবং আমাদের অবস্থান হবে ক্লিয়ারকার্ড।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন নির্বাচনের সময় আমরা যে কথাগুলো বলেছি। এগুলো আমাদের মুখের কথা ছিল না বুকের কথা। তিন শর্ত আমরা চাইবো সবাই মানোক। নাম্বার ওয়ান এই সোসাইটি আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দুই নাম্বার হচ্ছে বিচার বিভাগ বিচার বলতে কিছুই নাই। দেখেন না, এতগুলো ঋণ খেলাপি কিভাবে (সংসদ নির্বাচনে) চান্স পায়। এদের হাতে কিভাবে দেশ নিরাপদ হবে, হবে নাতো। কারণ এরা তো সব সময় নিজের স্বার্থ দেখে। এই জায়গাটাই (সংসদে) এমন মানুষ যাওয়া দরকার যে নিজের স্বার্থ দেখবে না ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখবে। ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থ দেখলে কেউর ঋণ খেলাপি হয় না। ঋণ খেলাপি হলে আবার কি হবে নেতা হতে চায়। লজ্জিত হওয়া উচিত। জনগণের টাকা আমার পকেটে ঢুকে আছে আমি দিতে পারছি না। কারো উপর সামান্য অবিচার হলেই কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করব। এমনকি সরকারি দলের কারো উপরও অবিচার হলেও আমরা প্রতিবাদ করব। অবিচার আমরা মেনে নেব না কোন অবস্থাতেই।
সন্ধ্যায় তারেক রহমানের দেখা করা নিয়ে প্রশ্ন করলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আরেক সাহেব কি নিয়ে আলাপ করবে এটা উনার মনের ব্যাপার। আমি তো উনার মনের ব্যাপার বলতে পারব না। উনি আসলে আমার সাথে আলাপ করলে দেশ এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা আলাপ করব।
শক্তিশালী বিরোধীদল নিয়ে প্রশ্ন করলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ চলতে হলেতো সরকারি দল ও বিরোধী দল লাগবেই। সরকারি দল বিরোধীদল হাতে হাত রেখেই চলবে যদি দেশ সঠিক পথে চলে। যদি বেঠিক পথে চলে তাহলে ওই চাকা চালাবো না।
জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, জাতীয় পার্টিতো এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে এরাতো এখন ভূগোলে নাই। কেন নয় তারা (জাতীয় পার্টি) তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এখন তারা শুধু ভোটের জগত থেকে যান নাই, জনগণের মন থেকে উঠে গেছেন। এটা ওই কারণেই কারণ তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেন নাই। জামাত ইসলামি ওই ভুল করবেন না।
এর আগে তিনি জামায়াতের কর্মী আব্দুস ছালাম ও শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন ।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন।
এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট জালিয়াতি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই নির্বাচনী আসনের ফলাফল বাতিল ও স্থগিতাদেশ চেয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন।
আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে আবেদনটি জমা দেন এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এই অভিযোগপত্রটি গত শনিবার লিখেছিলেন পাটওয়ারী।
আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্দিষ্টভাবে ১২টি ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফলকে প্রভাবিত করা হয়েছে। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো নানা অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন।
এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার দাবি, সুপরিকল্পিত কারচুপি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে জয়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনটি শুরু থেকেই সবার নজরে ছিল। নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। এই ফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই এখন আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ে নেমেছে এনসিপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নির্বাচন কমিশনে গেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। তারা ৩০টি নির্বাচনী আসনে ফলাফল শিটে ঘষামাজা ও কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে ভোট পুনরায় গণনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আজ রবিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এই প্রতিনিধি দলটি উপস্থিত হন।
১১ দলীয় জোটের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, বেশ কিছু আসনে পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করা হয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে যে ৩০টি আসনে পুনঃগণনার আবেদন করা হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসনগুলো হলো— ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্ধারিত এই বিশেষ বৈঠক শেষ করে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং সেখানে তাদের অভিযোগের সপক্ষে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার কথা রয়েছে। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই আসনগুলোতে পুনরায় ভোট গণনা অত্যন্ত জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ বিজয় বাংলাদেশের। এ বিজয় গণতন্ত্রের। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। এ সময় তিনি আরও বলেছেন, যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রতিশোধ বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ পাওয়া দলটির চেয়ারম্যান। বিজয়ের পর এটা তারেক রহমান প্রথম সংবাদ সম্মেলন। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সূচনা বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাপনী বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
এ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যে কোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বে-আইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দলমত ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক—কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্নমত—প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
তারেক রহমান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। সরকারি দল বা বিরোধী দল—সকলের জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে কেউ যেন সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতামূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। সব সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারাদেশে জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছিল দলীয় ইশতেহার। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব।’ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সারাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের। এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়েছিলেন। স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনোই আপস করেননি। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল অবিচল। আমরা আল্লাহর দরবারে মরহুম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করছি।
তারেক রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে—এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।
বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শত নির্যাতন নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি আমি আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদ্যাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
মানবিক দেশ গড়তে ভিন্নমতসহ সবার সহযোগিতা চাই:
তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনমনে সৃষ্ট সব সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।
বিএনপিকে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেতে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশ্রয় নিতে হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা। সেটাতে আমরা সফল হয়েছি
চীন-ভারত সম্পর্কে যা বললেন তারেক রহমান :
চীন-ভারত-পাকিস্তান সবার সঙ্গে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে বিএনপি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আপনার পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে রক্ষা করে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।
সরকার-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মূলত কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আপনাকে- এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অর্থনীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উন্নয়ন কেমন হবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবো। যদি এমন কিছু থাকে, যা বাংলাদেশের পক্ষে হবে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা করতে পারি না। আমি নিশ্চিত, পারস্পরিক স্বার্থই প্রথম অগ্রাধিকার, যা আমরা অনুসরণ করব। চীন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তারা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার মতো জায়গা আমরা অবশ্যই তৈরি করবো। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তা বাংলাদেশের উপকারে আসে, অর্থনীতির সহায়ক হয়, আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেব। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপির সরকার কাজ করবে কিনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আপনি জানেন, সার্ক প্রতিষ্ঠা করা কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোগ ছিল। আমরা চাই এটি সচল হোক। আমরা আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব, আমরা চেষ্টা করব সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে।
শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণ চাইবে কিনা বিএনপি এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উদার গণতন্ত্রের জয় হয়েছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ইতিহাসে পরিবর্তনের শুভ সূচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করছে।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬ লাখ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। যারা পরিবর্তন চান, তারা ব্যালটের মাধ্যমে রায় দিয়েছেন। এই নির্বাচনে উদার গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে নেতার হাত শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এর ভূমিধস বিজয় পরবর্তী ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ড্যাব নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা মতবিনিময় করেন।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শহীদ ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে নেতৃবৃন্দ বিএনপির এই বিজয়কে বাংলাদেশের বিজয়, বাংলাদেশের জনগণের ও গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বিজয় ধরে রাখা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়া, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা, স্বাস্থ্যখাতে জনগণ ও রোগীদের জন্য কল্যাণমূলক পরিবর্তন আনা, অতি উৎসাহী হয়ে কিছু না করা, ধৈর্য ধারণ, সততা, স্বচ্ছতার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা, মানবিক, অধিকার ও জবাবদিহিমূলক বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নসহ বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ বিগত সময়ে যারা অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ বিএনপির বিরাট বিজয়ে তিনশত সংসদীয় আসনে ড্যাব নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই বিজয়ে যে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারর্সন জননেতা জনাব তারেক রহমান এর ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানের সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএমইউ ড্যাবের সম্মানিত মহাসচিব ও বিএমউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ড্যাবের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বিএমইউর ড্যাবের সভাপতি ও পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কেনান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ডা. শাহিদুল হাসান বাবুল, ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোঃ মেহেদী হাসান, বিএমইউর ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ আতিয়ার রহমান, ডিন অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী, অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, নিউরোলজি সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, আইকিউএসি এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম, বিএমইউর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ দেলোয়ার হোসেন টিটু, চীফ এ্যাস্টেট অফিসার ডা. মোঃ এহতাশামুল হক (তুহিন), পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, ইউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুস সালাম, ডা. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ হাসনুল আলম, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) নাছির উদ্দিন ভূঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমন, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ আবু নাছের, উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. শরীফ মোঃ আরিফুল হক, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি ইয়াহিয়া খাঁন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, সহকারী রেজিস্ট্রার মোশাররফ হোসেন, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক শামীম আহম্মদ, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক শারমিন আক্তার প্রমুখসহ ড্যাবের কেন্দ্রীয় ও বিএমইউ ড্যাবের নেতৃবৃন্দ, বিএমইউর বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যাওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় তারেক রহমান জামায়াত আমিরের বাসায় যাবেন এবং পরবর্তীতে রাত ৮টায় তিনি নাহিদ ইসলামের বাসভবনে উপস্থিত হবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, তারেক রহমান মূলত নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ে জন্য তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। এই সফরের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌজন্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।