সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি ও নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়ে বিএনপির ‘এক দফা’ ঘোষণার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের এক দফা, (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনার অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।
বুধবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত ‘শান্তি সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
কাদের বলেন, ‘বিএনপির খবর জানেন? তাদের এক দফা জানেন? এক দফা হলো, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমাদের দফা একটা, শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়।’
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দেবেন। দেশের জনগণ যাকে ভালোবাসে, জনগণ যে নেত্রীর সততাকে, উন্নয়নকে পছন্দকে করে, যিনি সারারাত জেগে মানুষের কথা ভাবেন, আমাদের এমন নেতা আমরা হারাতে পারি না।’
‘বিএনপি জানে নির্বাচন হলে তারা হেরে যাবে, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তায় তারা ভেসে যাবে। তাই তারা শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে না।’
বিএনপি দেশের কোনো উন্নয়ন প্রকল্প চায়নি অভিযোগ করে কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার অপরাধ তিনি দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি অনেক চেষ্টা করেছে। অনেক লোক আনার চেষ্টা করেছে। ডিসেম্বরের স্বপ্ন গোপীবাগের গরুর হাটে মারা গেছে। আরেকটা স্বপ্ন দেখেছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নয়াপল্টনের কাদা পানিতে আটকে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এক দফা-সংবিধানসম্মত নির্বাচন। কোনো বাধা দেব না। কাউকে আক্রমণ করতে যাব না।’
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিকদের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘ঢাকায় যারা বিদেশি বন্ধুরা এসেছেন, আপনারা চান ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন (অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন)। আমাদেরও লক্ষ্য ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন। আমাদের সেই নির্বাচনে যারা বাধা দিতে আসবে আমরা তাদের প্রতিহত করব। খেলা চলবে নির্বাচন পর্যন্ত।’
সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে কাদের বলেন, ‘যাদের হাতে রক্তের দাগ, তাদের সঙ্গে সংলাপ নয়, তাদের সঙ্গে আপস নয়। আমরা একাত্তরের চেতনার সঙ্গে আপস করতে পারি না।’
‘বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না’
সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এই সমাবেশের কারণে বিএনপির সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। এজন্য আপনাদের (নেতা-কর্মী) ধন্যবাদ জানাই। বিএনপির গণতন্ত্র ছিল কারফিউ গণতন্ত্র। (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা) জিয়াউর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি, কারফিউর মধ্যে মারা গেছে। তারা হত্যার রাজনীতি করে। বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।’
‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ জনগণ মানবে না’
দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অল্প সময়ের নোটিশে আজ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছে। এই উত্তাল তরঙ্গে বিএনপির সব ষড়যন্ত্র ভেসে যাবে।’
আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে।’
বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদেশি বন্ধুরা আমাদের উন্নয়নের সহযোগী। আপনাদের আমরা সম্মান করি। কিন্তু রক্তে লেখা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আপনারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’
‘বিএনপি শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘বিএনপি শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। তাদের নেতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা ২০-২৫ হাজার লোক নিয়ে এক দফা ঘোষণা করেছে। তাদের মোকাবিলা করা হবে।’
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করছে। তারা শেখ হাসিনার পতনের এক দফা ঘোষণা করেছে। ১/১১-এর মতো বাংলাদেশে আর কোনো সরকার হতে দেয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। এটি মেনে নেয়া হবে না। সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। সব সংকট মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব।’
সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘ঢাকায় সন্ত্রাসীরা সমাবেশ ডেকেছে। যারা সমাবেশ করছে, তাদের চেহারা দেশের মানুষ চেনে। তারা আবার অগ্নিসন্ত্রাস করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা এবার যে হাতে আগুন দেবে সেই হাত ভেঙে দেয়া হবে।’
মার্কিন কূটনীতিকদের প্রতি ইঙ্গিত করে সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশের বাইরে ঘটক ধরেছে। সেই ঘটকরা এখনো বাংলাদেশে আছে। ১৯৭১ সালে আমাদের অনেক বন্ধু ছিল। সেই বন্ধুরা এখনো আমাদের সঙ্গে আছে।’
‘বিএনপির এক দফার আন্দোলন বেলুনের মতো ফুটো হয়ে গেছে’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি এক দফা ঘোষণা করেছে। তারা মাঝেমধ্যে এক দফা ঘোষণা করে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার এখনো টিকে আছে। তাদের এক দফার আন্দোলন বেলুনের মতো ফুটো হয়ে গেছে। এবারও ফুটো হয়ে যাবে। কোনো দিন বাস্তবায়ন হবে না।’
দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে। বিদেশি বন্ধুরা দেশে আসায় তাদের উপস্থিতিতে বিএনপি একটা শোডাউন করতে চায়। তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুর্নীতির মামলায় সাজা হওয়া, দুঃশাসন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। জনগণ বিএনপির অপকর্ম ভুলে যায়নি, ভুলতে পারে না।’
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি হেরে গেছে আজকেই। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা জিতবেন।’
আওয়ামী লীগের এ শান্তি সমাবেশ ৩টায় হওয়ার থাকলেও দুপুর ২টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর শাখার নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিস্থলে আসতে থাকেন। রাজধানীর আশপাশের জেলা-উপজেলাগুলো থেকেও সমাবেশে যোগ দেন নেতা-কর্মীরা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, কয়েক লাখ নেতা-কর্মী এ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানান (পাবনা, সিরাজগঞ্জ,৩৩০) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোজাহিদ স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন,“বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করি। ঈদের আনন্দ যেন কোনো দলীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান,নুরুল ইসলাম বরাত, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম,মামুন ও জামাল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন আহমেদ মূন ও সদস্য সচিব লিখন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন কবির, কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি।
তিনি বলেন, সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন দুদকের পিপি ও ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজিজুল হক খান।
নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। নোটিশ প্রেরণকারী নিজেও মর্মাহত হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, কেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে না—এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডভোকেট এ কে এম আজিজুল হক খান, জজ কোর্ট, ময়মনসিংহ, জুবেদ আলী ভবন, কক্ষ নং-৮৫, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি।
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ছাত্রদল।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাতে পুলিশের বিশেষ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্যরা ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদল নেতা এনামুল কবিরের দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার নম্বর ৪৩। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দেরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
শুক্রবার (২২ মে) অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে মহাকাশ ও জিওস্পেশাল গবেষণায় নতুন গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগোপযোগী হয়ে উঠতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে, তখন গুহার মধ্যে পড়ে থাকলে চলবে না।’
নতুন প্রজন্মের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী ও নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।
তিনি আরও বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা খাতে।’
সরকারি ছুটির দিনে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে) বাদ আসর রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে হেঁটে তিনি গুলশানে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দেশজুড়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ছুটির দিনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা আগমন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করতেই মূলত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পূর্বের ধারাবাহিকতায় আজকেও মেয়র ও প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে উপহারের এই চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময়ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ছুটির দিনেও সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কথা বিবেচনা করা এবং প্রটোকল ভেঙে পায়ে হেঁটে কার্যালয়ে আসায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সবাই প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করছেন।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াত ‘ইসলাম ধর্ম’―কে ব্যবহার করে রাজনীতি ও ব্যবসা করছে। তিনি দাবি করেন, দেশে যত ধরনের অপকর্ম হচ্ছে তার পেছনে জামায়াত জড়িত, অথচ এসবের দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিএনপির ওপর।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের মানুষ ইতিহাস এবং বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তাই কোনো ধরনের মিথ্যাচার বা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট করা যাবে না। বর্তমানে জনগণের মূল সমর্থন বিএনপির পক্ষেই রয়েছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটিয়ে তার দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, যারা ইসলামকে ব্যবহার করছে, তারা মূলত ইসলামের বিরুদ্ধেই ভূমিকা রাখছে এবং মিথ্যাচারই তাদের রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আগের সরকারকে কয়েকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির আমলে নির্মূল হওয়া হামের মতো রোগ পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে আবার ফিরে এসেছে। তবে বর্তমান সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একই সঙ্গে দেশের ফার্মাসিস্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আগে ফার্মেসিগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে গেলেও এখন তারা জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে সারারাত সেবা দিচ্ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দুদু বলেন, ইতিহাসের ধারায় তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ১৯৭১ সালে কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল এবং কারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন সেখানে প্রকৃত শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হলে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অপরাধীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শামসুজ্জামান দুদু স্পষ্ট করেন যে, যারা অপকর্ম করছে তারা বিএনপির কেউ নয় এবং অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। কেউ যদি বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাকে অবিলম্বে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোথাও কোনো অপকর্ম হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মানুষ কোনোদিন তাদের ক্ষমতায় বসাবে না।
বুধবার (২০ মে) ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার পর এলজিআরডিমন্ত্রী পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন মন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়। লালগালিচার এই রাজকীয় সংবর্ধনায় তিন মন্ত্রীই এলাকার মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত হন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটা দল আছে, তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। নামটা জানেন তো?’ এ সময় উপস্থিত জনতা চিৎকার করে বলে ওঠেন—‘জামায়াতে ইসলামী’।
মন্ত্রী তখন জনতার উল্লাসের মধ্যে বলেন, ‘নামটা জোরে বলতে হবে। মিথ্যা কথা বলে, ধর্মের কথা বলে এ দেশের রাজনীতি হবে না। সত্য কথা বলে রাজনীতি করতে হবে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুধিজন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক না। বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়।
বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘যে সব জুডিশিয়াল অফিসার সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটের জন্য নিয়োজিত ছিলেন, গেজেট দ্বারা তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কারণ, যেহেতু অর্ডিন্যান্সটি আইনে রূপান্তরিত হয়নি, পার্লামেন্টে পাস হয়নি, সেহেতু ওনারা এটা ফাংশন করেন কীভাবে? সুতরাং, স্বাভাবিকভাবে তারা মিনিস্ট্রিতে অ্যাটাচড হবেন। পরে তাদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘এর মানে এই না যে, এই সেপারেট সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক না। কারণ, সেপারেট সচিবালয়ের বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বা সেপারেশনের জন্য যে সকল বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য আছে, বিএনপি বড় স্টেকহোল্ডার।
তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে যে কমিটি ছিল, সেই কমিটিতে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। যার ফলে বিএনপির তরফে যে বক্তব্যগুলো, সেই বক্তব্যগুলো আসেনি এবং যার ফলে বিএনপি মনে করছে অর্ডিন্যান্সটা কমপ্রিহেনসিভ ছিল না। কাজেই এখন পার্লামেন্টে পরবর্তীতে বিএনপি এটাকে কমপ্রিহেনসিভ বিল আকারে আনবে এবং এটা পরিপূর্ণভাবে কার্যকারিতা লাভ করবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কারণ নেই। এ নিয়ে ভিন্ন রকম মন্তব্যেরও কারও কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’
এটা আদালত অবমাননার শামিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আদালত অবমাননা হবে কেন? সংসদে এটা এখনো পাস হয়নি। বিএনপি তো বলেনি যে, এটা আর করবে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিল আকারে এমনভাবে আনবে, যাতে পরে এ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ না থাকে। এখানে আদালত অবমাননার কিছু নেই।’
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত এই কর্মসূচি আগামী ২৫ মে শুরু হয়ে ১ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকায় কর্মসূচি পালনে কিছুটা নমনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ‘প্রয়োজনে কেউ এক-দুই দিন পরে কর্মসূচি পালন করতে পারবেন’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। রোববার নিজের ফেসবুকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সর্দার আমিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন।
এনসিপি ছাড়ার কারণ জানিয়ে সর্দার আমিরুল ইসলাম লেখেন, ‘গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মধ্যপন্থি রাজনীতির নয়া শক্তি হিসেবে এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে ডানপন্থি জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার উৎসাহ উদ্দীপনাকে ম্রিয়মাণ করে। তবে এই সিদ্ধান্তকে রণকৌশল বিবেচনা করে জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কার্যক্রম অব্যাহত রাখি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার বাড়ন্ত লক্ষ্য করি। ফলশ্রুতিতে শেষ দুই মাস রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বরাবর পদত্যাগপত্র পেশ করি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না। শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যখন খাল কাটা শুরু করেছি, আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেয়া শুরু করেছি, যখন ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি, বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি- তখন কিছুসংখ্যক মানুষ এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে। এর বিরোধিতা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই পরিষ্কারভাবে হাজারো মানুষের সামনে আমি বলে দিতে চাই, আমরা মানুষের পক্ষ থেকে যেই সমর্থন পেয়েছি, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এ কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা অবশ্যই রুখে দেবে। তাই আসুন, যে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আমরা সেসব কাজে নেমে পড়ি।
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা সবাই এলার্ট থাকব, সচেতন থাকব। ওই বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেব না।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে খাল খনন কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে, মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি সেই কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে কৃষক কার্ড কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দেবার যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমরা দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য যে সব কর্মসূচি নিয়েছি সেগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত করতেন না পারে, সে ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।
দেশ গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য একটাই। এ দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সব সময় একটি কথা বলে থাকে, জনগণই হচ্ছে বিএনপির সব রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সেই জন্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি শুরু করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিলেন। কাজেই এখন আমাদের এ দেশকে গড়ে তোলার পালা। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে ইনশাআল্লাহ আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন: চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।
চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পরে খালের পাড়ে নেমে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান।
কৃষককে পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বিশাল সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে ডেকে নিজের পাশে বসান সরকারপ্রধান, কথা বলেন তার সঙ্গে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার সুখ-দুঃখের কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এমন অভূতপূর্ব ও সাধারণ আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক সাইফুল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমাকে এমন একটি অনন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসতে পারা এবং নিজের কথা সরাসরি তাকে বলতে পারা আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশ ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে সমাবেশস্থলে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এছাড়া চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী: জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে। দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে দেশ— এবং দেশটা সবার। গতকাল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় উপস্থিত জনতা ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’ দাবি তুললে তিনি বলেন, সবাই একমত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে উপস্থিত সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এর আগে সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। সাড়ে ১০টার মধ্যেই সভাটি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বড় সমাবেশে রূপ নেয়।
পথসভায় বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম তার ভিত্তিতে মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। যে ওয়াদা করেছি তা বাস্তবায়ন করব।
সভায় জনতার পক্ষ থেকে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে। সবাই যদি এই দাবির সঙ্গে একমত হন, তাহলে বাস্তবায়ন হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্যঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে চার নেতার পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে যে চার নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, তারা হলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ। সংবাদ সম্মেলনে তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করে দলটি। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন দেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির মোট ২২ নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাফসান জানির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিখিত আকারে এই ২২ নেতার সইসহ পদত্যাগপত্র এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন বরাবর পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, একটি বড় কমিটি অনেকের হয়তো প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি। আবার কেউ নিজে পছন্দের পদ পেয়েছেন। কিন্তু তার পছন্দের ব্যক্তিরা হয়তো বাদ পড়েছেন। তাই মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। তবে তাদের জন্য কমিটির দরজা সব সময় খোলা থাকবে।