বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়: সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ৩১ দফা

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৩ ১৬:৫০

সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দফাগুলো ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল, সেই রাষ্ট্রের মালিকানা আজ তাদের হাতে নেই। বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই রাষ্ট্রকে মেরামত ও পুনর্গঠন করতে হবে। জনগণের হাতে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জয়লাভের পর বর্তমান ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ হটানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের সমন্বয়ে একটি ‘জনকল্যাণমূলক জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা

# বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার হীন উদ্দেশে অনেক অযৌক্তিক মৌলিক সাংবিধানিক সংশোধনী এনেছে। একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠন করে সব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করে এসব রহিত/সংশোধন করা হবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। সংবিধানে গণভোট ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

# প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এজন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। এজন্য একটি ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা হবে।

# বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে একটি ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

# সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।

# পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

# বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চ-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।

# আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিবেচনা করা হবে।

# রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সব কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।

# সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে সব রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে নিয়োগ দেয়া হবে।

# বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচারব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিসিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত হবে (সংবিধানের ভাষা)। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ইতোপূর্বেকার ‘সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে শুধু জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করে বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে।

# দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে।

# গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিদের সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এর প্রয়োজনীয় সংশোধন, বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সব কালাকানুন বাতিল করা হইবে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সব সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

# দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। গত দেড় দশকব্যাপী সংগঠিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের বাইরে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ‘দুদকের’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে।

# সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেয়া হবে। গত দেড় দশক ধরে সংগঠিত সব বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা হবে।

# অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, করপোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ করা হবে। উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিসিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলো সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব স্ব প্রতিবেদন দাখিল করবে, যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

# ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’- এ মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সব জাতিগোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

# মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। শিশুশ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকলসহ সব বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও কর্মের নিরাপত্তা এবং দেশে বিমানবন্দরসহ সব ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত সেবাপ্রাপ্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওর-বাঁওড়, মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

# বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করার লক্ষ্যে জনস্বার্থবিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। আমদানিনির্ভরতা পরিহার করে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জি-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিল্পখাতের বিকাশে বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ, সুযোগ ও প্রণোদনা দেয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

# বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারপরিক স্বার্থের স্বীকৃতি ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী দ্বি-পাক্ষিক ও বহু-পাক্ষিক সমস্যাদির সমাধান করা হবে। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক ঢাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া সম্ভব হবে।

# দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।

# ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে যেন তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারিমুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদশূন্য না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশ বলে সাসপেন্ড/বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না।

# ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেয়া হবে। এ তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

# যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা দেয়া হবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচি নেয়া হবে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

# জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশুদের জীবনমান বিকাশের নিমিত্তে যুগোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

# বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হইবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদান খাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে।

# স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ও ‘বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়’- এ নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের’ আদলে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যকার্ড চালু করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য স্বাস্থ্যকার্ড চালু করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

# কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বিমা, পশু বিমা, মৎস্য বিমা এবং পোল্ট্রি বিমা চালু করা হবে। কৃষিজমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সংশ্লিষ্ট রপ্তানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতকে প্রণোদনা দেয়া হবে।

# দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সারাদেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশের সমুদ্রবন্দর ও নৌবন্দরসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে।

# জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল নেয়া হবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে। নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন পুনর্খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সামুদ্রিক সম্পদের বিজ্ঞানসম্মত জরিপ ও মজুদের ভিত্তিতে তা আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

# তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেয়া হবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হবে।

# এক জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষিজমি নষ্ট না করে এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ভাঙ্গুড়ায় ঈদ উপহার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো হয়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানান (পাবনা, সিরাজগঞ্জ,৩৩০) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোজাহিদ স্বপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন,“বিএনপি সবসময় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি করি। ঈদের আনন্দ যেন কোনো দলীয় নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই ঈদ উপহার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,“বর্তমান সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক কাজ। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ চলমান থাকবে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান,নুরুল ইসলাম বরাত, পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন , উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম,মামুন ও জামাল, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সরকার হুমায়ুন আহমেদ মূন ও সদস্য সচিব লিখন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হুমায়ূন কবির, কৃষক দলের সভাপতি আখিরুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে দলীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।


শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি: রিজভী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি।

তিনি বলেন, সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে জায়মা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটি পাঠিয়েছেন দুদকের পিপি ও ময়মনসিংহ জজ কোর্টের আইনজীবী এ কে এম আজিজুল হক খান।

নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। নোটিশ প্রেরণকারী নিজেও মর্মাহত হয়েছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, কেন তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে না—এ বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিশে যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যাডভোকেট এ কে এম আজিজুল হক খান, জজ কোর্ট, ময়মনসিংহ, জুবেদ আলী ভবন, কক্ষ নং-৮৫, ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি।


ঝিনাইদহে এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ ২২ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ছাত্রদল।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। এর আগে শুক্রবার (২২ মে) রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান নেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাতে পুলিশের বিশেষ পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যান্যরা ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদল নেতা এনামুল কবিরের দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার নম্বর ৪৩। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলার এজাহারনামীয় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি হয়: ড. আব্দুল মঈন খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দেরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

শুক্রবার (২২ মে) অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে মহাকাশ ও জিওস্পেশাল গবেষণায় নতুন গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ সময় সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুগোপযোগী হয়ে উঠতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যখন মহাকাশে মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে, তখন গুহার মধ্যে পড়ে থাকলে চলবে না।’

নতুন প্রজন্মের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় সময়োপযোগী ও নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা খাতে।’


পায়ে হেঁটে রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি ছুটির দিনে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২২ মে) বাদ আসর রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে হেঁটে তিনি গুলশানে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দেশজুড়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ছুটির দিনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা আগমন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করতেই মূলত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পূর্বের ধারাবাহিকতায় আজকেও মেয়র ও প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে উপহারের এই চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময়ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ছুটির দিনেও সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কথা বিবেচনা করা এবং প্রটোকল ভেঙে পায়ে হেঁটে কার্যালয়ে আসায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ও ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সবাই প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত আন্তরিক ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করছেন।


দেশে যত অপকর্ম হচ্ছে সব জামায়াত করছে: শামসুজ্জামান দুদু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াত ‘ইসলাম ধর্ম’―কে ব্যবহার করে রাজনীতি ও ব্যবসা করছে। তিনি দাবি করেন, দেশে যত ধরনের অপকর্ম হচ্ছে তার পেছনে জামায়াত জড়িত, অথচ এসবের দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিএনপির ওপর।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশের মানুষ ইতিহাস এবং বর্তমান বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তাই কোনো ধরনের মিথ্যাচার বা অপপ্রচার চালিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট করা যাবে না। বর্তমানে জনগণের মূল সমর্থন বিএনপির পক্ষেই রয়েছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটিয়ে তার দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, যারা ইসলামকে ব্যবহার করছে, তারা মূলত ইসলামের বিরুদ্ধেই ভূমিকা রাখছে এবং মিথ্যাচারই তাদের রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আগের সরকারকে কয়েকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও তারা ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির আমলে নির্মূল হওয়া হামের মতো রোগ পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে আবার ফিরে এসেছে। তবে বর্তমান সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একই সঙ্গে দেশের ফার্মাসিস্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আগে ফার্মেসিগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে গেলেও এখন তারা জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে সারারাত সেবা দিচ্ছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দুদু বলেন, ইতিহাসের ধারায় তারা কখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ১৯৭১ সালে কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল এবং কারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। বর্তমানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন সেখানে প্রকৃত শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হলে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

অপরাধীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শামসুজ্জামান দুদু স্পষ্ট করেন যে, যারা অপকর্ম করছে তারা বিএনপির কেউ নয় এবং অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। কেউ যদি বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়, তাকে অবিলম্বে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোথাও কোনো অপকর্ম হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।


এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মানুষ কোনোদিন তাদের ক্ষমতায় বসাবে না।

বুধবার (২০ মে) ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার পর এলজিআরডিমন্ত্রী পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন মন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়। লালগালিচার এই রাজকীয় সংবর্ধনায় তিন মন্ত্রীই এলাকার মানুষের ভালোবাসায় অভিভূত হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটা দল আছে, তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। নামটা জানেন তো?’ এ সময় উপস্থিত জনতা চিৎকার করে বলে ওঠেন—‘জামায়াতে ইসলামী’।

মন্ত্রী তখন জনতার উল্লাসের মধ্যে বলেন, ‘নামটা জোরে বলতে হবে। মিথ্যা কথা বলে, ধর্মের কথা বলে এ দেশের রাজনীতি হবে না। সত্য কথা বলে রাজনীতি করতে হবে।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুধিজন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পৃথক সচিবালয়ের জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি: বিএনপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেছেন, পৃথক সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক না। বুধবার (২০ মে) এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিলুপ্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়।

বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ‘যে সব জুডিশিয়াল অফিসার সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েটের জন্য নিয়োজিত ছিলেন, গেজেট দ্বারা তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কারণ, যেহেতু অর্ডিন্যান্সটি আইনে রূপান্তরিত হয়নি, পার্লামেন্টে পাস হয়নি, সেহেতু ওনারা এটা ফাংশন করেন কীভাবে? সুতরাং, স্বাভাবিকভাবে তারা মিনিস্ট্রিতে অ্যাটাচড হবেন। পরে তাদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর মানে এই না যে, এই সেপারেট সচিবালয় বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, এটা ঠিক না। কারণ, সেপারেট সচিবালয়ের বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বা সেপারেশনের জন্য যে সকল বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য আছে, বিএনপি বড় স্টেকহোল্ডার।

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে যে কমিটি ছিল, সেই কমিটিতে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। যার ফলে বিএনপির তরফে যে বক্তব্যগুলো, সেই বক্তব্যগুলো আসেনি এবং যার ফলে বিএনপি মনে করছে অর্ডিন্যান্সটা কমপ্রিহেনসিভ ছিল না। কাজেই এখন পার্লামেন্টে পরবর্তীতে বিএনপি এটাকে কমপ্রিহেনসিভ বিল আকারে আনবে এবং এটা পরিপূর্ণভাবে কার্যকারিতা লাভ করবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কারণ নেই। এ নিয়ে ভিন্ন রকম মন্তব্যেরও কারও কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

এটা আদালত অবমাননার শামিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আদালত অবমাননা হবে কেন? সংসদে এটা এখনো পাস হয়নি। বিএনপি তো বলেনি যে, এটা আর করবে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিল আকারে এমনভাবে আনবে, যাতে পরে এ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক বা সমালোচনার সুযোগ না থাকে। এখানে আদালত অবমাননার কিছু নেই।’


শহীদ জিয়ার শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে দলটি। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

ঘোষিত এই কর্মসূচি আগামী ২৫ মে শুরু হয়ে ১ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকায় কর্মসূচি পালনে কিছুটা নমনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ‘প্রয়োজনে কেউ এক-দুই দিন পরে কর্মসূচি পালন করতে পারবেন’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


এনসিপি ছাড়লেন ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম পদত্যাগ করেছেন। রোববার নিজের ফেসবুকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।

সর্দার আমিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন।

এনসিপি ছাড়ার কারণ জানিয়ে সর্দার আমিরুল ইসলাম লেখেন, ‘গত বছরের জুন মাসে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে মধ্যপন্থি রাজনীতির নয়া শক্তি হিসেবে এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে ডানপন্থি জোটে যোগদানের সিদ্ধান্ত আমার উৎসাহ উদ্দীপনাকে ম্রিয়মাণ করে। তবে এই সিদ্ধান্তকে রণকৌশল বিবেচনা করে জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলের পক্ষে কার্যক্রম অব‍্যাহত রাখি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থার বাড়ন্ত লক্ষ্য করি। ফলশ্রুতিতে শেষ দুই মাস রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বরাবর পদত্যাগপত্র পেশ করি।’


নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ: চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী

* পিতার স্মৃতিবিজরিত খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন * চাঁদপুরসহ ২০ জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ * কৃষককে পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন সরকারপ্রধান * সবাই চাইলে কুমিল্লাকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি * সমাবেশস্থলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর ও কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টির সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে আমরা বিএনপি জনগণের জন্য, দেশের জন্য ইনশাল্লাহ কাজ করে যাব। এর থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হবে না। শনিবার (১৬ মে) বিকাল পৌনে ৫টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাটসংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন।

সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা যখন খাল কাটা শুরু করেছি, আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেয়া শুরু করেছি, যখন ইমাম-মোয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানী ভাতা দেয়া শুরু করেছি, বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি- তখন কিছুসংখ্যক মানুষ এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে। এর বিরোধিতা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই পরিষ্কারভাবে হাজারো মানুষের সামনে আমি বলে দিতে চাই, আমরা মানুষের পক্ষ থেকে যেই সমর্থন পেয়েছি, আমরা এক এক করে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এ কাজ বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আমাদের কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের মানুষই তাদের সেই পরিকল্পনা অবশ্যই রুখে দেবে। তাই আসুন, যে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, আমরা সেসব কাজে নেমে পড়ি।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আমরা সবাই এলার্ট থাকব, সচেতন থাকব। ওই বিভ্রান্তকারীদের বিভ্রান্তির ফাঁদে আমরা পা দেব না।

প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যাতে খাল খনন কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে, মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি সেই কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে কৃষক কার্ড কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছে দেবার যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। আমরা দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য যে সব কর্মসূচি নিয়েছি সেগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত করতেন না পারে, সে ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।

দেশ গঠনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য একটাই। এ দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে, এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে এবং সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। বিএনপি সব সময় একটি কথা বলে থাকে, জনগণই হচ্ছে বিএনপির সব রাজনৈতিক শক্তির উৎস এবং সেই জন্যই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এসব কর্মসূচি শুরু করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচির কাজ শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছিলেন। কাজেই এখন আমাদের এ দেশকে গড়ে তোলার পালা। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে ইনশাআল্লাহ আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন: চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গতকাল বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন মিল কারখানা তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়।

চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ফলক উন্মোচনের পরে খালের পাড়ে নেমে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে তারেক রহমান।

কৃষককে পাশে বসিয়ে কথা শুনলেন প্রধানমন্ত্রী : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বিশাল সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সমাবেশ থেকে সাইফুল ইসলাম লিটন নামের এক সাধারণ কৃষককে ডেকে নিজের পাশে বসান সরকারপ্রধান, কথা বলেন তার সঙ্গে। অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার সুখ-দুঃখের কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এমন অভূতপূর্ব ও সাধারণ আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক সাইফুল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমাকে এমন একটি অনন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসতে পারা এবং নিজের কথা সরাসরি তাকে বলতে পারা আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন ও প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশ ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে সমাবেশস্থলে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। এছাড়া চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী: জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি হয়ে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে। দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে দেশ— এবং দেশটা সবার। গতকাল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথসভায় তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় উপস্থিত জনতা ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’ দাবি তুললে তিনি বলেন, সবাই একমত হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে উপস্থিত সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এর আগে সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিলে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। সাড়ে ১০টার মধ্যেই সভাটি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বড় সমাবেশে রূপ নেয়।

পথসভায় বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের যেসব পরিকল্পনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম তার ভিত্তিতে মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। যে ওয়াদা করেছি তা বাস্তবায়ন করব।

সভায় জনতার পক্ষ থেকে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে। সবাই যদি এই দাবির সঙ্গে একমত হন, তাহলে বাস্তবায়ন হবে।


একযোগে এনসিপির ২২ নেতার পদত্যাগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্যঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে চার নেতার পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে যে চার নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, তারা হলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, মাহতাব উদ্দীন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ। সংবাদ সম্মেলনে তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করে দলটি। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এই কমিটি অনুমোদন দেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির মোট ২২ নেতার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাফসান জানির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিখিত আকারে এই ২২ নেতার সইসহ পদত্যাগপত্র এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন বরাবর পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, একটি বড় কমিটি অনেকের হয়তো প্রত্যাশানুযায়ী হয়নি। আবার কেউ নিজে পছন্দের পদ পেয়েছেন। কিন্তু তার পছন্দের ব্যক্তিরা হয়তো বাদ পড়েছেন। তাই মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। তবে তাদের জন্য কমিটির দরজা সব সময় খোলা থাকবে।


banner close