ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে হামলার শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম বলেছেন, তিনি আর জীবনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না। এ সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রামপুরার মহানগর প্রজেক্টে নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে হিরো আলম এ কথা বলেন।
বিকেল ৩টার পর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় হামলার শিকার হন একতারা প্রতীকের এই প্রার্থী। দুষ্কৃতকারীরা তাকে মারধর করে কেন্দ্রছাড়া করে। পরে হিরো আলমকে রামপুরার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে বাসায় ফিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, এই সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। জীবনে আর কোনো নির্বাচন করব না। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।
এদিকে এরই মধ্যে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতে শুরু করেছে। ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাওয়া ১০৮ কেন্দ্রের ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত এগিয়ে আছেন। তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ৬৬ ভোট।
আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিরো আলম পেয়েছেন চার হাজার ৯৪৪ ভোট। ফলে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আরাফাতই জয়ের পথে রয়েছেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে কান্নার রোল শুরু হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, বিএনপির ক্ষমতা চলে গেলে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। কর্মসূচিটির ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
অলি আহমেদ তাঁর বক্তব্যে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকিতা ক্রুশ্চেভের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় ক্রুশ্চেভের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে তাঁর মা কান্নাকাটি করেছিলেন। কারণ, ক্ষমতা চলে গেলে পরিবারের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে তিনি ওই গল্পে উল্লেখ করেন।
অলি আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির ক্ষেত্রেও ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে গেলে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারকে বিএনপির সরকার নয়, শেখ হাসিনার সরকার বলে মন্তব্য করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তাঁর এ বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উদ্ধৃত হয়েছে।
লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে এলডিপির এই নেতা বলেন, দেশকে সঠিক পথে আনার জন্যই তারা এ কর্মসূচি করছেন। এর পেছনে কোনো ক্ষমতার লোভ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ফেসবুকে কে কী লিখল, কে কী মন্তব্য করল—এসবের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলনকে কোনোভাবেই বিপথগামী করা যাবে না।
অলি আহমেদ আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। তাঁরা হরতাল বা অপরাধমূলক কর্মসূচিতে না গিয়ে জনদুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন।
এদিনের উদ্বোধনী সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ জনগণের সামনে তুলে ধরতেই তাঁদের লংমার্চ। অন্যদিকে, জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেন।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে।
অবৈধ ইটভাটায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সারা দেশে থাকা বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। সরকারি নির্মাণকাজে পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. জি কে গউছের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, মো. আব্দুল মান্নান ও সুলতানা জেসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে দেশের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিবেশ দূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে ইটভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যেসব ইটভাটা আইন ও পরিবেশগত অনুমোদন না নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অবৈধ ইটভাটাগুলো যাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ বা অন্য কোনো ধরনের অর্থায়ন না পায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে। এ জন্য কমিটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হবে।
কমিটির মতে, অবৈধ ইটভাটাগুলোকে অর্থায়নের সুযোগ বন্ধ করা গেলে এসব ভাটার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তা সহায়ক হবে। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় বৈঠকে।
এ ছাড়া সারা দেশে বর্তমানে কতগুলো বৈধ এবং কতগুলো অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় ইটভাটাগুলোর অবস্থান, বৈধতা ও কার্যক্রমের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কমিটি মনে করছে, নির্ভুল তালিকা তৈরি হলে অবৈধ ইটভাটা শনাক্ত করা এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
পরিবেশ দূষণ কমাতে সরকারি নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ক্ষেত্রে পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সরকারি নির্মাণকাজে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে প্রচলিত ইটের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কমিটি মনে করে, নির্মাণ খাতে ইটের ব্যবহার কমানো গেলে ইটভাটার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও হ্রাস করা সম্ভব হবে। এ কারণে সরকারি প্রকল্পগুলোতে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ১০১টি প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয়, বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা এবং প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে গত ১৬ বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য চেয়েছে কমিটি। বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার এবং ব্যয়ের ধরন পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে চলতি অর্থবছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ করা বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনাও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ও পরিকল্পিতভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত যেসব অঙ্গীকার রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোকে কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমের কারণে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইটভাটায় অর্থায়ন বন্ধ, অবৈধ ইটভাটার তালিকা প্রণয়ন এবং সরকারি নির্মাণকাজে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ—এই তিন উদ্যোগকে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংসদীয় কমিটি।
রাস্তায় নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাস্তায় চলাচলের সময় নারীরা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতির দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যদি দায়বদ্ধতা থাকে, তাহলে এ বিষয়ে জবাবদিহি করা উচিত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি নিজেকে গণতন্ত্রের আন্দোলনের একজন ভুক্তভোগী ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তাঁর দায়িত্ববোধ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।
ঢাকা-রংপুর লং মার্চের কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতেই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি দাবি করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দুটি ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, একটি ভোটের ফলাফল নিয়ে সরকার গঠনের পর অন্য ভোটের রায়ও অস্বীকার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্যই তারা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের দেওয়া ওই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের ঘোষিত আট দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
লং মার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাত মাসের সরকারের সময়ে কেন লং মার্চ—এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। সে কারণে এবার দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে নিজেদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিম হত্যার ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বগুড়াবাসীর উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী দিনের গণআন্দোলনে বগুড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও সংস্কারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা রাজপথের আন্দোলন থেকেই রাজনৈতিকভাবে উঠে এসেছেন এবং রাজপথেই থাকবেন। তাঁর ভাষ্য, তারা বাইরে থেকে এসে ক্ষমতায় বসেননি; জনগণের সঙ্গে রাজপথে থেকেই আন্দোলন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, রাজপথে থাকব, যেমনটা ২৪-এ ছিলাম।’ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। ঘোষিত আট দফা দাবি সামনে রেখে কর্মসূচিটি রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে মূলত জননিরাপত্তা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আট দফা দাবির বিষয়গুলো উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যের পর লং মার্চের কর্মসূচি রংপুরের দিকে এগিয়ে যায়।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এসডিজি অর্জনে বিশ্ব অনেকটা পিছিয়ে আছে। এখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ আয়োজিত ‘এসডিজি মোমেন্ট’ অনুষ্ঠানে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসডিজি মোমেন্টের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Together, We Can Do It’। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগ, অংশীদারিত্ব ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
এসডিজি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের প্রচেষ্টার পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের এসডিজি মোমেন্টে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে কার্যকর সমাধান বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, অর্থায়নের ঘাটতি, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, ঋণসংকট, সংঘাত ও বৈষম্য এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন বলে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক তাঁর এসডিজি মোমেন্টের ভিডিও বার্তার তথ্য জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হুমকি-ধমকি কিংবা কোনো ধরনের নাটককে তারা পরোয়া করেন না। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জীবন দেবেন, কিন্তু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। একই দিনে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চটি শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে বহরটি বগুড়ায় পৌঁছায়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। গত দুই দিন বহু নাটক করা হয়েছে। আমরা কোনো নাটকের পরোয়া করি না। রাস্তায় নেমেছি জনগণের জন্য। প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না।’
লং মার্চে অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের ডাক দিয়েছেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে বগুড়ার মাটিডালীকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছে। এ জন্য তিনি উপস্থিত জনতাকে অভিনন্দন জানান।
লং মার্চের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, তাদের কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এত আগে বিরোধী দল লং মার্চ করছে কেন। এর জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতায় বসার আগেই জনগণকে অপমান করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না হলে এই লং মার্চের প্রয়োজন হতো না।
গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর দাবি অনুযায়ী গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা গণভোট চেয়েছিলেন, তারা এখন অবস্থান পরিবর্তন করলেন কেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনের প্রয়োজন হয়েছে।
সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, তিনটি সংসদ অধিবেশন পার হয়ে গেলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকার দুর্নীতি বন্ধ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার এক কোটি মানুষের চাকরির কথা বলেছিল; কিন্তু তাঁর অভিযোগ, চাকরির পরিবর্তে এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল; এখনো একই দাবিতে মানুষকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের কারণেই লং মার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হয়েছে।
কৃষকদের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষকের নির্ধারিত ১ হাজার ৪০০ টাকার সার অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও গ্রাহকদের বেশি বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার যদি জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জনগণের অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এ সময় তিনি মন্ত্রীর রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবং বিদ্যুৎ খাতে ব্যর্থতার অভিযোগ করেন।
তরুণদের চাকরি ও বৈষম্যের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সেই আন্দোলনের পর তরুণদের চাকরির অধিকার ও বৈষম্যহীনতার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সন্তানদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও জীবন দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
প্রশাসনে বৈষম্য ও বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে শোষণ করার সুযোগ দেওয়া হলে তারা বসে থাকবে না। এ কারণেও লং মার্চের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আগামীর কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এবারের লং মার্চ ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে হচ্ছে। ভবিষ্যতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে লং মার্চ করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ জন্য নেতাকর্মীদের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে কর্মসূচির সময় কেউ কেউ তাঁকে ‘এক দফা’র কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
৮ দফা দাবিকে কোনো একক দল বা ব্যক্তির দাবি নয় বলে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এসব দাবি জনগণের দাবি। তাঁর বক্তব্য, সরকার ৮ দফা মেনে নিলে এক দফার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু ৮ দফা বাস্তবায়ন না হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে তারা বাধ্য হতে পারেন।
নারীদের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, লং মার্চের পথে হাজার হাজার নারী রাস্তায় নেমে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কুমিল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দম্পতির ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও বক্তব্যে আনেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। কর্মসূচির ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয় রয়েছে।
বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ের পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, দুই নেতার কারও আহ্বানেই বর্তমানে সাধারণ মানুষের সাড়া মিলছে না। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতের আমির আগের লংমার্চে বলেছিলেন, জাতির প্রয়োজনে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। আর শনিবারের লংমার্চ থেকে তিনি বলেছেন, আট দফাও প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। অথচ এর মধ্যে জামায়াতের দাবি ছয় দফা থেকে কীভাবে আট দফায় পরিণত হলো, সে বিষয়টি সাধারণ মানুষ জানে না—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, যে নেতৃত্ব দাবিদাওয়া নির্ধারণে বারবার পরিবর্তন আনছে, সেই নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
শনিবার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের একটি পথসভায় বলেন, তাঁদের ছয় দফা এখন আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী দাবি আরও বাড়তে পারে। আবার প্রয়োজন হলে সব দফা বাদ দিয়ে এক দফা ঘোষণারও প্রয়োজন হতে পারে।
রাশেদ খাঁন এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, লংমার্চে জনগণের সাড়া কেমন হবে, তা আগের দিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত কর্মসূচি থেকেই কিছুটা বোঝা গেছে। তাঁর দাবি, ওই কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের তুলনায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি বেশি মনে হয়েছে। কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উপস্থিতি না থাকার কারণ এনসিপি অনুসন্ধান করেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের আগের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের আগে নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, জামায়াতের নেতৃত্বকে দেশের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না। কিন্তু পরবর্তীতে নাহিদ ইসলাম জামায়াতের আমিরের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন—এমন দাবি করে তিনি বলেন, এরপর থেকেই দুই নেতার কারও আহ্বানে জাতি আর সাড়া দিচ্ছে না।
তবে রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্য ও মূল্যায়ন। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে শনিবারের লংমার্চকে জনগণের দাবি আদায়ের কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের দাবির সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে এবং দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে ঢাকামুখী লংমার্চের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে হবে।
এভাবে একই সময়ে জামায়াতের দাবির পরিবর্তন এবং এনসিপির কর্মসূচিতে জনসম্পৃক্ততা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, স্বৈরাচার বিদায় হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দল সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, এমন ধারণা থেকে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। গণতন্ত্র অগ্রযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে নেতা-কর্মীদের রাজপথে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি এবং খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মরহুম আজিজুল হাসান দুলুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেগম রেহানা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু ও হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ।
অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, শেখ হাফিজুর রহমান মনি ও অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আনাম খান ও চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন।
আলোচনা সভা শেষে মরহুম আজিজুল হাসান দুলুর রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা মো. আবু নাঈম কাজী।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জনগণের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন। দেখা হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।” তিনি বলেন, লংমার্চের পথে মানুষের কাছ থেকে এক দফার দাবির প্রতি সমর্থন পাওয়ার কথা তারা দেখেছেন। সরকার আট দফা দাবি মেনে নিলে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে এক দফার কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
জামায়াত আমির বলেন, তাঁরা এখন ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে রংপুরের দিকে যাচ্ছেন। এক দফার কর্মসূচি এলে তখন সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১১ দলীয় ঐক্যের দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্যতম প্রধান দাবি।
এদিকে একই পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি কৃষকদের সার পাওয়া নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সরকার সার সরবরাহে ব্যর্থ হলেও কৃষিমন্ত্রী সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করছেন। যদি সংকট না থাকে, তাহলে কৃষক কেন রাস্তায় নামছেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে গুলশানে মিছিল করলেও রাজনৈতিকভাবে কিছু করতে পারছে না। সামনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা না দিলে তাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
হাটিকুমরুলের পথসভায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলম।
শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে লংমার্চের বহর সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পৌঁছায়। সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই লংমার্চ গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ঘোষিত দাবিগুলো আদায়ের কর্মসূচি। দলটির নেতারা কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাখার কথাও জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তিনি। তাঁর আগে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশন ও কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তারেক রহমানের এবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে ধারার সূচনা, ১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, এবার সেই ধারায় যুক্ত হচ্ছেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘের সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all’। অর্থাৎ আস্থা পুনরুদ্ধার ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ গড়ে তোলার বিষয়টি এবারের অধিবেশনের কেন্দ্রীয় আলোচনার অংশ।
১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে ওই দিনের অধিবেশনে তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।
জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে তৎকালীন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানা অসাম্য, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার বৈষম্য এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
আন্তর্জাতিক উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বহু মানুষের দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে বসবাসের বাস্তবতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
সেই সময় বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রশ্নটি জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরা ছিল বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘ ভাষণের ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপরও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি।
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ স্মারক সভায় বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। জাতিসংঘের নথিতে তাঁর বক্তব্যে ফারাক্কা ইস্যু এবং বাংলাদেশের পানির অধিকার নিয়েও বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
২০০২ সালে শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনেও তিনি অংশ নেন। পরে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর বক্তব্য ছিল। জাতিসংঘের নথিতে ২০০৫ সালের সাধারণ বিতর্কসহ একাধিক কার্যক্রমে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে।
ফলে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে তাঁর রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশের অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
দারিদ্র্য বিমোচন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্থান পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রোহিঙ্গা সংকটও এবারের সফরে অগ্রাধিকার পাবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি পুরো অধিবেশনের বিভিন্ন প্লেনারি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ফলে একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন এবং একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন—যা বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি মোকাবিলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আয়োজন রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা হবে।
এর ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের বক্তব্যের দিনটিও বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা সামনে থাকার একটি সময়। জাতিসংঘের সরকারি সূচিতেও ওই দিন সাধারণ বিতর্কের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে।
জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পৃক্ততার ইতিহাস চার দশকের বেশি সময়ের। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণ দিয়ে যার সূচনা, ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য এবং পরবর্তী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়, এবার ২০২৬ সালে সেই মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
তবে সময় বদলেছে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতাও বদলেছে। ১৯৮০-এর দশকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার কার্যকারিতা।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্যও বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরবেন—এমনটাই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ তাই শুধু পারিবারিক ধারাবাহিকতার দিক থেকেই নয়, বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।
জনগণের দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াতে আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৮ কোটি মানুষের জন্য আমাদের এ লড়াই। জনগণের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, নব্য স্বৈর শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-রংপুর লং মার্চে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসের পথসভায় প্রধান অতিথির তিনি একথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা মানলেন না? ১৪শ শহীদদের সাথে কেন বেইমানি করলেন, কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি! আপনারা বলেছিলেন— অনির্বাচিত কাউকে কোথাও বসাবেন না; কিন্তু আপনারা সব জায়গায় প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা একটা কথাও রাখেননি; সব জায়গায় ধোঁকা দিয়েছেন। জাতি যা চেয়েছিল তা আপনারা দিতে পারছেন না, আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন।
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, ইসলামী ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি আব্দুল আলিম প্রমুখ।
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রে নিজেকে এখনও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার গণমাধ্যম-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যাবতীয় দাফতরিক কাগজপত্র ও আইনি হিসেবে তিনি এখনও জামায়াতের সদস্যপদেই বহাল রয়েছেন এবং তাঁকে নিয়ে দলের নেতারা বাইরে কী বলছেন সে সম্পর্কে তাঁর কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এনে গত ২২ জুলাই ৭৫ বছর বয়সী তিনবারের এই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পরবর্তীতে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় দলটি। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে, যার ফলে সংসদে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
গাজী নজরুলের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর সঙ্গে সংগঠনের আর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা অবশিষ্ট নেই। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে দলের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে তাঁর সদস্যপদ থাকা বা না থাকার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর অঞ্চলের আসনগুলো দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার বেলা ১১টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাঁর আত্মোৎসর্গের ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী এলাকায় দলের মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তির বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘রংপুরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান খুবই ভালো। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির যে সাংগঠনিক অবস্থা ও জনপ্রিয়তা তাতে রংপুরের মাটিতে ছয়টি আসনেই বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হবে, এটা অবিশ্বাস্য।’
নির্বাচনের পূর্বে মাঠ প্রশাসন সাজানোর ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রংপুর ও খুলনা বিভাগে প্রশাসনিক সেটআপ এমনভাবে জামায়াতিকরণ করা হয়েছে, যাতে করে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিলেও জামাতের প্রার্থীকে পাস দেখানো হবে। অথচ জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এবং বুকে পাথর চাপা দিয়ে জামায়াতের আমির সেই নির্বাচন মেনে নিয়েছেন।’