বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সংসদের বিলুপ্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে এক দফা দাবিতে আগামী ২৭ জুলাই রাজধানী ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সেদিন দুপুর দুইটায় এই মহাসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হবে। তবে সমাবেশস্থল কোথায় হবে তা ঘোষণা দেয়া হয়নি।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার বিকেলে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ থেকে দলের নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির তিন সংগঠন- যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না তা সমস্বরে সবাই বলতে শুরু করেছে। শুধু আমরা না, জাতীয় পার্টি, যারা সংসদে আছেন, তারা পর্যন্ত বলছেন পরিষ্কার করে যে এই সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ইসলামী শাসনতন্ত্র দল, তারাও পরিষ্কার করে বলেছে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।’
২৭ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘোষণার সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী এবং কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ, সংসদের বিলুপ্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এক দফা দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হচ্ছে আগামী ২৭ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা সবাই এই শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে অংশ নেবেন এবং এই সরকারের পদত্যাগের গতিকে ত্বরান্বিত করবেন। আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার, ভোটাধিকার গড়ার সংগ্রাম করছি। তরুণেরা, যুবকেরা জেগে উঠুন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।’
সমাবেশে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আর কাল বিলম্ব না করে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করুন, ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নতুন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন ভাবে নির্বাচন করুন। এই নির্বাচন কমিশন, আওয়ামী লীগ যা বলে, সরকার যা বলে, তাই করে। তার নিজস্ব কিছু নেই, একেবারে দাসানুদাস।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এটা ব্যতিক্রম সমাবেশ, তরুণরা জেগে উঠেছে সমাবেশের মাধ্যমে। আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা নিশ্চিত, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জিততে পারবে না। ১০ টার বেশি আসন পাবে না। সরকার গণতন্ত্রবিরোধী হলেও তারা বাইরে দেখাতে চায় যে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ না করলে এবং ২০ লাখ টাকা না দিলে কারও চাকরি হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ঢাকা ছাড়া কোথাও বিদ্যুতের দেখা পাওয়া যায় না। কৃষক ভাইয়েরা সেচের জন্য বিদ্যুৎ পান না।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর চিকিৎসার বেহাল অবস্থা, হাসপাতালে সিট নেই। মশা মারার ব্যবস্থা নেই। তারা জনগণের পকেট থেকে টাকা কাটতে ব্যস্ত। এ সরকার ভীরু, কাপুরুষ। তারা নির্বাচনে ভয় পায়। আমরা এ মুহূর্তে নির্বাচন চাই, কিন্তু তোমাদের অধীনে নয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’
বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা ফের শুরু হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত সাত মাসে ৫০টি গায়েবি মামলা, ১ হাজার ৭০১ জন আসামি। এটা কিসের আলামত? ওদিকে বিদেশিদের বলছে যে ভালো নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে নতুন কৌশল শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মামলা শেষ করে দ্রুত সাজা দেয়া শুরু করেছে। সব ডিসি-এসপি পছন্দমতো নিয়োগ দিয়েছে। উদ্দেশ্য এবার দিনের আলোয় কৌশল করে ভোট নিয়ে যাবে। কিন্তু এবার এটা হবে না।’
শনিবার দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই সমাবেশ শুরু হয়। এর আগে গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। শনিবার ভোর থেকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করেন। সমাবেশস্থলের গেট ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও বিশেষ বক্তা ছিলেন ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিল্টন, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার নেই, স্বাধীনতাও বিপন্ন। এই তারুণ্যের নেতৃত্বে আরেকটি যুদ্ধ হওয়া দরকার।’
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবেই হবে।’
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাশেদ খাঁন জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক কঠোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, খুব শীঘ্রই দলটির রাজনৈতিক পতন ঘটবে এবং এর জন্য মূলত তাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উগ্র আচরণ ও অযোগ্যতাই দায়ী থাকবে।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন এই মন্তব্য করেন। দলটির কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া কুরুচিপূর্ণ বার্তার একটি চিত্র তুলে ধরে তিনি লেখেন, “জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ভাষা দেখেন। ঠিক প্রতিদিন এমন অসংখ্য গালিগালাজ মেসেজ করে আমার আইডি ও পেজের ইনবক্সে পাঠায়। আমি কেন ওদের যৌক্তিক সমালোচনা করি, জাস্ট একটা নমুনা দিলাম।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গালিগালাজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে বাকরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “ওরা ভাবে মা-বাপ তুলে গালি দিলে আমি ওদের গালির ভয়ে চুপ হয়ে যাবো। মূলত, আমাকে থামিয়ে দিতে গালিই ওদের হাতিয়ার। কিন্তু, এই গালিবাজরা বুঝতেছে না, সামনে ওদের করুণ পরিণতি অপেক্ষা করছে। আমরা ইতোপূর্বে শুধু সরকারি দলের পতন দেখেছি। কিন্তু, এবার ভিন্নতা ঘটবে।”
জামায়াতে ইসলামীকে ইতিহাসের অন্যতম ঘৃণ্য বিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে রাশেদ খাঁন বলেন যে, তাদের পতনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সংসদে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, “তাদের অযোগ্যতা সংসদে দৃশ্যমান। তারা যত মুখ খুলবে, ততো তাদের ভুল ও অযোগ্যতা বের হয়ে আসবে। আর এভাবে খুব শিগগির ইতিহাসের সব থেকে ঘৃণ্য বিরোধীদল জামায়াতের নির্মম পতন হবে। আর এই পতনের জন্য দায়ী থাকবে তাদের মূর্খ নেতাকর্মীরা।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতার এমন সরাসরি আক্রমণ জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজধানীর মহাখালীতে ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আটক তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সামনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী জড়ো হন। সেখান থেকে তারা মহাখালী বাস টার্মিনালের দিকে একটি ঝটিকা মিছিল শুরু করেন।
টার্মিনাল এলাকায় মিছিলটি পৌঁছালে মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রীও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা পালিয়ে যান।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন মিছিল করেছে। তারা ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সাক্ষাৎ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।
উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল নেতারা এবং কর্মীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। উপউপাচার্যরা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’ উপউপাচার্যরা আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের সহযোগিতা লাগবে।’ উপস্থিত সবাইকে মাননীয় উপউপাচার্যরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা বিষয়ে উপউপাচার্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন নেতারা।
শাখা ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপউপাচার্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ছাত্রদলের নেতারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রশিবিরের গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের তীব্র প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং মিছিলজুড়ে তারা ছাত্রশিবিরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গুম ও অপহরণের সাজানো নাটক তৈরি করছে, যা প্রকৃতপক্ষে গুমের শিকার হওয়া আসল ভুক্তভোগীদের চরম অবমাননার শামিল।
এছাড়া অনলাইনে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা দোষারোপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
একই সাথে শিবিরের গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের যে প্রমাণ মিলছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাতে ছাত্রদল রাজপথে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে এবং তখন কারও রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টের ওপর ঘটে যাওয়া একটি সাইবার জটিলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তাঁর লেখালেখির কারণে জামায়াত-শিবিরের নাকি খুব ক্ষতি হচ্ছে, আর সে কারণেই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম বা অভিযোগ করে তাঁর ফেসবুক আইডি আট দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট দিন পর শনিবার তিনি পুনরায় তাঁর আইডিতে পোস্ট করার সুযোগ পেলেও কপিরাইট ক্লেইমগুলোর এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
তিনি কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন যার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা কপিরাইট ক্লেইম করা হয়নি, বরং তুরস্ক থেকে জামায়াত-শিবিরের নিয়োগকৃত লবিস্ট টিম এই কাজ পরিচালনা করেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির মূলত কোনো ধরনের ভিন্নমতে বিশ্বাস করে না। তাঁর আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ এবং তাঁর মা-বাবাকে তুলে গালিগালাজ করাই দলটির এমন মানসিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
জামায়াত-শিবির তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় তারা যদি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠিনভাবেই নেবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।
গোলাম মাওলা রনি ব্যাখ্যা করেন, এই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথম অংশটি হলো শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপ, যারা ওই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় বড় সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয় অংশটিতে ছিলেন আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য, যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে কিংবা যারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এছাড়া এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র এই সময়ে জড়িত ছিল, যারা বিভিন্ন ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজেদের মতো করে খরচ করেছে।
অর্থনৈতিক লুটপাটের অভিযোগ তুলে এই কলামিস্ট বলেন, বিগত সরকারের আমলে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। এই অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সাথে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের লাখ লাখ কোটি টাকা শেষ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।
ভিডিওর শেষ অংশে তিনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার কারণে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই বর্তমানে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সাথে সমঝোতা বা একীভূত হয়েছে, একাংশ নিজেদের চেহারা লুকিয়ে ফেলেছে এবং বাকি অংশটি বিচার এড়াতে ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদে নিজেদের পারফরম্যান্স বাড়াতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, গত অধিবেশনে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এবার জামায়াতের এমপিদের ইসলামী ব্যাংকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোর্সের বা সিলেবাসের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখন জামায়াতের এমপিরা রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। তাদের রাতদিনের প্রশিক্ষণ যেন মুহূর্তেই বৃথা হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে সংসদে ভালো করতে হলে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেই রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায়, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াতের ৬৮ জন এমপির এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা তার পোস্টে আরও বলেন, আগে মানুষের ধারণা ছিল জামায়াতের লোকেরা বেশি শিক্ষিত এবং তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও বেশ উন্নত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের বড়ই অভাব রয়েছে। তাই শেখার যেহেতু কোনো শেষ নেই এবং শিখতে কোনো লজ্জাও নেই, জামায়াতের এমপিরা নির্দ্বিধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্লাস করতে পারেন।
পরিশেষে তিনি জানান, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। বিরোধী দল হিসেবে তারা দুর্বল হলে দেশের মানুষ সংসদে পুনরায় আওয়ামী লীগের শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করবে, যা মোটেও কাম্য নয়।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপির নেতা আবু সাইদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তাকে সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জানা যায়, আবু সাইদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে গঠিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোনীত হন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি ঢাকার তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং মতিঝিল থানা যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্বপরিবারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। তারা ইনসাফ করতে পারলে দেশের চিত্র ভিন্ন হতো। মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়াবাজেট’ প্রস্তাবনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করছি, তা বাস্তবায়নের জন্য সততা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সততা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকার যত বড় বাজেটই দিক না কেন, সেটি কার্যকর হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থা বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়ায় নানা ত্রুটি রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে বিরোধী দল।
বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছি, তার আসল বিচারক হবে জনগণ। বাজেটের প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে যায়, তাহলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ একটি গণমূখি সেবায় পরিনত করবো নতুন জেলা পরিষদ জেলা প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বহু আকাঙ্ক্ষার পর অবশেষে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ এর প্রশাসক হলেন সাতক্ষীরা ১ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
তিনি গত শনিবার (৬ জুন) দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনুষ্ঠানিক ভাবে এসময় জেলা পরিষদ এর চত্বরে বিএনপির নেতা কর্মীসহ সাধারণ জনতার ভিড়ে তিল ধরনের ঠাই ছিল না,এক নজর দেখার জন্য এবং প্রিয় মানুষ হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুল দিয়ে শুভ কামনা জানানোর জন্য ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। এসময় পুরো এলাকায় কম্পিত হয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে, সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বেশ বেগ পেতে হয় নিরাপত্তা নিয়ে।
দায়িত্ব গ্রহণ করে হাবিবুল ইসলাম হাবিব গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন,সাতক্ষীরা জেলা বাসির জন্য আমার অফিসের দোয়ার সব সময় খোলা থাকবে। সকলের সহযোগিতা নিয়ে দূর্নীতি মুক্ত রাখা হবে এবং জেলা পরিষদকে সচ্ছতা ও জবাবদিহি রাখবো।
তিনি আরো বলেন আমাদের সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সকলে দোয়া করবেন শুধু তাই নয় জার হাত দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) গঠিত হয় তিনি হলেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
আমিসহ আমরা সবাই জিয়ার সৈনিক, তাই দেশকে ভালো বেশে আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান এর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো নানান ভাবে সড়যন্ত্র করছে, ঐ সড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য বিএনপি তথা জিয়ার সৈনিকদের এক হওয়ার বিকল্প নেই।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরো বলেন আমাদের সাতক্ষীরা আমাদের কে সুন্দর করে সাজাতে হবে এবং আমাদের নতুন প্রজন্মকে সুন্দর বাসযোগ্য স্থান তৈরি করতে সকলের ঐক্যের বিকল্প নেই। আমি প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানকে সাতক্ষীরা বাসির পক্ষ থেকে হাজারও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই,কারণ তিনি আমাকে যোগ্য মনে করে এই চেয়ারে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা শিকার করি। প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ অক্ষুন্ন রাখবো ইনশাআল্লাহ। আগামীতে পৌরসভার ভোট, উপজেলার ভোট এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর ভোটে বিএনপির একক প্রার্থী থাকবে এটা দলের চেয়ারম্যান এর নির্দেশ, শুধু তাই নয় সকল প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্সনে কারচুপি করে সাতক্ষীরার চার চারটি আসনে আমাদের ফেল করানো হয়েছে। সাতক্ষীরা বাসিকে জান্নাত এর কথা বলে জামায়াতের নেতারা ধর্ম ব্যাবসা করছে এ থেকে সকলে সজাগ থাকতে হবে তাহলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ঘরে আসবে। বিএনপির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, থাকলে দলের ক্ষতি হবে এতে রাষ্ট্রের মানুষের ক্ষতি হবে তাই সেই দিক বিবেচনা করে সমাজকাঠামোয় উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য নবাগত জেলা পরিষদ এর প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাতক্ষীরা ১ আসন তালা কলারোয়া থেকে বার বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়।
তিনি বিগতদিনে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে সুনাম এর সহিত দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি ২০২৬ সাতক্ষীরা ১ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপত্র নিয়ে অল্প ভোট এর ব্যাবধানে পরাজিত হয় জামায়াতের প্রার্থীর কাছে।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরার রাজনীতিতে সর্বজনীন শ্রদ্ধাশীল ব্যাক্তি এবং জনসেবাই তার ব্যাপক ভূমিকা থাকার কারণে পতিত ও ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের কুদৃষ্টির নজরে পড়ে সেই হিংসাত্মককে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন বীরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা গাড়ি বহর হামলা মিথ্যা মামলার আসামী হয়, সেই মামলায় ৫০ জনকে আসামী করে কলারোয়া থানায় একটি মামলা হয় এবং সেই মিথ্যা মামলায় হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে অন্যায় ভাবে ৭০ বছরের সাজা দেয়া হয়।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃতীয় দফায় আরও ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় এনিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬৫ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। এর আগে, রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাত থেকে সোমবার (৮ জুন) ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রলীগের হাজার খানেক নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার সূত্র ধরে পরের দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে পাল্টা কালাদরাপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করে এবং তার একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে বাঁধেরহাটের ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই সদর উপজেলার নোয়ান্নই ও কালাদরাপ ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ।
ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আরও জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।